hsc

বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য তথ্য

একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি - বাংলা - সাহিত্যপাঠ | NCTB BOOK
7k
Please, contribute by adding content to বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য তথ্য.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

স্তবকটি পড়ে নিচের চারটি প্রশ্নের প্রাসঙ্গিক উত্তর দাও

এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- সবচেয়ে সুন্দর করুণ:

সেখানে সবুজ ডাঙা ভ'রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;

সেখানে গাছের নাম কাঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;

সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ;

সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে- সেখানে বরুণ

কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;

সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,

সেখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট তরুণ;

সেখানে লেবুর শাখা নুয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের উপর;

সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;

বঙ্গোপসাগর
একটি দিঘির নাম
ভিন্ন একটি উপসাগর
গঙ্গা যেখানে সাগরে মিশেছে
অনুচ্ছেদটির শূণ্যস্থান পূরণ করঃ

জসীমউদ্দিন পল্লিকবি হিসেবে সমাধিক পরিচিত । তাঁর নকসী কাথার মাঠ' কাব্যটি-(২১)- হয়েছে । তাঁর জনপ্রিয় ও অধিক সমাদৃত গ্রন্থ – (২২)- । সাহিত্য কৃতির স্বীকৃতি হিসেবে – (২৩) — তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করে । তাঁর 'কবর' কবিতটি স্কুল পাঠ্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয় তাঁর - (২৪)। 

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ

10.3k

বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ সম্পর্কে পণ্ডিতেরা ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের শাসক ও ধর্মমতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে কেউ কেউ যুগবিভাগ করেছেন। বলে এই মতানৈক্য প্রত্যক্ষ করা যায়। প্রাচীন ও আধুনিক কালের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস রচনার গৌরব পণ্ডিত রামগতি ন্যায়রত্নের প্রাপ্য। ১৮৭৩ সালে তিনি "বাঙ্গালা ভাষা ও বাঙ্গালা সাহিত্যবিষয়ক প্রস্তাব' গ্রন্থে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ও উনিশ শতকের সাহিত্য সম্বন্ধে ধারাবাহিক আলোচনা করেন। তাঁর ইতিহাস তিনটি অংশে বিভক্ত হয়েছিল :

১. আদ্যকাল অর্থাৎ প্রাক-চৈতন্য পর্ব। এই অংশে বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস ও কৃত্তিবাসের আলোচনা আছে,

২. মধ্যকাল অর্থাৎ চৈতন্যযুগ থেকে ভারতচন্দ্রের পূর্ব পর্যন্ত,

৩. ইদানীন্তন কাল – ভারতচন্দ্র থেকে রামগতি ন্যায়রত্নের সমকালীন কবি সাহিত্যিকদের বিবরণ রয়েছে।

১৮৯৬ সালে প্রকাশিত 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থে ড. দীনেশচন্দ্র সেন বাংলা সাহিত্যের বিস্তৃত ইতিহাস তুলে ধরেন এবং সেখানে বিভিন্ন সাহিত্যসৃষ্টির বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করে বাংলা সাহিত্যকে কয়েকটি যুগে বিভক্ত করেন।

ড. দীনেশচন্দ্র সেন যুগবিভাগ করেছেন এ ভাবে :

ক. হিন্দু-বৌদ্ধ যুগ (৮০০ থেকে ১২০০ সাল), খ. গৌড়ীয় যুগ বা শ্রীচৈতন্য পূর্ব যুগ,

গ. শ্রীচৈতন্য সাহিত্য বা নবদ্বীপের প্রথম যুগ,

ঘ. সংস্কার যুগ এবং ঙ. কৃষ্ণচন্দ্রীয় যুগ অথবা নবদ্বীপের দ্বিতীয় যুগ।

ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সামনে তথ্যের অভাব ও গবেষণার অপূর্ণতা বিদ্যমান ছিল। বলে তিনি যুগ লক্ষণ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারেন নি। প্রাচীন যুগকে তিনি যে অর্থে হিন্দু-বৌদ্ধযুগ বলে চিহ্নিত করেছেন তা একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ দিয়ে প্রমাণিত হয়। না। কোন সঠিক সূত্র প্রয়োগে তিনি যুগবিভাগ করেন নি; কোথাও ধর্ম, কোথাও শাসক তাঁর যুগবিভাগে আদর্শ হয়েছে বলে তা সুষ্ঠু হতে পারে নি ।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের যে যুগবিভাগ করেছেন তা হল : ক. প্রাচীন বা মুসলমানপূর্ব যুগ (৯৫০-১২০০ সাল),

খ. তুর্কি বিজয়ের যুগ (১২০০-১৩০০),

গ. আদি মধ্যযুগ বা প্রাকচৈতন্য যুগ (১৩০০-১৫০০),

ঘ. অন্ত্য মধ্যযুগ (১৫০০-১৮০০), চৈতন্য যুগ বা বৈষ্ণবসাহিত্য যুগ (১৫০০- ১৭০০) ও নবাবি আমল (১৭০০-১৮০০) এবং

ড. আধুনিক বা ইংরেজি যুগ (১৮০০ সাল থেকে)।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ধর্ম কাজে জয়লাভ
ন্যায় পথে সাফল্য
জয়ী হতে হলে ধর্ম দরকার
কোনোটিই নয়

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন বা আদি যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রি)

3.7k

বাংলা সাহিত্যের সামগ্রিক ইতিহাসকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে। এর প্রথম যুগের নাম প্রাচীন যুগ। তবে কেউ কেউ আরও কয়টি নামে এ যুগকে অভিহিত করেছেন। সে নামগুলো হল : আদ্যকাল, গীতিকবিতার যুগ, হিন্দু-বৌদ্ধ যুগ, আদি যুগ, প্রাক-তুর্কি যুগ, গৌড় যুগ ইত্যাদি। তবে প্রাচীন যুগ নামটির ব্যবহার ব্যাপক ও যথার্থ যুক্তিসঙ্গত ।

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ। চর্যাপদের প্রায় সমসাময়িক কালে বাংলাদেশে যে সব সংস্কৃত-প্রাকৃত-অপভ্রংশ সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের প্রত্যক্ষ উপকরণ নয়। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলো সম্পর্কে ১৯০৭ সালের আগে কোন তথ্যই জানা ছিল। না। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন

Content added By

বাঙালা জাতির উদ্ভব

1k

বাংলার পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে প্রাচীন ও নব্য প্রস্তরযুগ এবং তাম্রযুগের নিদর্শন পাওয়া গেছে বলে ঐতিহাসিকেরা উল্লেখ করেছেন। এ সকল যুগে বাংলার পার্বত্য সীমান্ত অঞ্চলেই মানুষ বাস করত এবং ক্রমে তারা অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমান বাঙালি জনগোষ্ঠী বহুকাল ধরে নানা জাতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। এর মূল কাঠামো সৃষ্টির কাল প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে মুসলমান অধিকারের পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীকে দু ভাগে ভাগ করা যায় : ক. প্রাক-আর্য বা অনার্য নরগোষ্ঠী এবং খ. আর্য নরগোষ্ঠী। এদেশে আর্যদের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত অনার্যদেরই বসতি ছিল । এই প্রাক-আর্য নরগোষ্ঠী বাঙালি জীবনের মেরুদণ্ড। আর্যদের আগমনে সে জীবন উৎকর্ষমণ্ডিত হয়ে ওঠে।

বৈদিক যুগে আর্যদের সঙ্গে বাংলাদেশবাসীর কোন সম্পর্ক ছিল না। বৈদিক গ্রন্থাদিতে বাংলার নরনারীকে অনার্য ও অসভ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলার আদিম অধিবাসী আর্যজাতি থেকে উদ্ভূত হয় নি। আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠী মূলত নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয়—এই চার শাখায় বিভক্ত ছিল ।

নিগ্রোদের মত দেহগঠনযুক্ত এক আদিম জাতির এ দেশে বসবাসের কথা অনুমান করা হয়। কালের পরিবর্তনে তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব এখন বিলুপ্ত। অস্ট্রো-এশিয়াটিক বা অস্ট্রিক গোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে বলে গবেষকগণের ধারণা। কেউ কেউ তাদের 'নিষাদ জাতি' বলেন। প্রায় পাঁচ-ছয় হাজার বছর পূর্বে ইন্দোচীন থেকে আসাম হয়ে বাংলায় প্রবেশ করে অস্ট্রিক জাতি নেগ্রিটোদের উৎখাত করে । এরাই কোল ভীল সাঁওতাল মুণ্ডা প্রভৃতি উপজাতির পূর্বপুরুষ হিসেবে চিহ্নিত। বাঙালির রক্তে এদের প্রভাব আছে। বাংলা ভাষার শব্দে ও বাঙালি জীবনের সংস্কৃতিতে এরা প্রভাব বিস্তার করেছে। অস্ট্রিক জাতির সমকালে বা কিছু পরে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে দ্রাবিড় জাতি এদেশে আসে এবং সভ্যতায় উন্নততর বলে তারা অস্ট্রিক জাতিকে গ্রাস করে। অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় জাতির সংমিশ্রণেই সৃষ্টি হয়েছে আর্যপূর্ব বাঙালি জনগোষ্ঠী। এদের রক্তধারা বর্তমান বাঙালি জাতির মধ্যে প্রবহমান।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

তারাপদ রায়
নীহাররঞ্জন রায়
সুকুমার রায়
লোকনাথ রায়

বাংলা ভাষার উদ্ভব

1.1k

বাংলাদেশের অধিবাসীরা প্রথম থেকেই বাংলা ভাষায় কথা বলত না। বাংলা প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষাগোষ্ঠীর অন্যতম ভাষা হিসেবে বিবর্তিত হয়েছে। তাই প্রাক- আর্য যুগের অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর ভাষার সঙ্গে তা সংশ্লিষ্ট নয়। তবে সেসব ভাষার শব্দসম্ভার রয়েছে বাংলা ভাষায়। অনার্যদের তাড়িয়ে আর্যরা এ দেশে বসবাস শুরু করলে তাদেরই আর্যভাষা বিবর্তনের মাধ্যমে ক্রমে ক্রমে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে।

বাঙালি জাতি যেমন সঙ্কর জনসমষ্টি, বাংলা ভাষাও তেমনি সঙ্কর ভাষা। বর্তমান বাংলা ভাষা প্রচলনের আগে গৌড় ও পুণ্ড্রের লোকেরা অসুর ভাষাভাষী ছিল বলে অষ্টম শতকে রচিত 'আর্যমঞ্জুশ্রীমূলকল্প' নামক সংস্কৃত গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। এই অসুর ভাষাভাষী লোকেরা ছিল সমগ্র প্রাচীন বঙ্গের লোক। অসুর ভাষাই অস্ট্রিক বুলি । ড. মুহম্মদ এনামুল হক মন্তব্য করেছেন, ‘বর্তমান বাংলা ভাষা প্রচলিত হইবার পূর্বে আমাদের দেশে যে এই অসুর ভাষা বা অস্ট্রিক বুলি প্রচলিত ছিল, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই।' অস্ট্রিক বুলির কিছু শব্দ ও বাকরীতি এখনও বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়।

বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেছেন, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছর আগে এই মূল ভাষার অস্তিত্ব ছিল । আনুমানিক আড়াই হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দে মূল ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেসব প্রাচীন শাখার সৃষ্টি হয়, তার অন্যতম হল আর্য শাখা। এ থেকেই ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি। এর কাল ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। ভারতীয় আর্য ভাষার তিনটি স্তর :

ক. প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা (বৈদিক-সংস্কৃত), খ্রিস্টপূর্ব দ্বাদশ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ

শতাব্দী পর্যন্ত। খ. মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা (পালি, প্রাকৃত ও অপভ্রংশ), খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় দশম শতক পর্যন্ত ।

গ. নব্য ভারতীয় আর্যভাষা (বাংলা, হিন্দি, মারাঠি, আসামি ইত্যাদি) খ্রিস্টীয় দশম

শতক থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত ।

ভারতীয় আর্যভাষার এই স্তরবিভাগ থেকে দেখা যায় যে, প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার স্তরে বৈদিক ও সংস্কৃত ভাষা প্রচলিত ছিল। জনতার প্রভাবে এ ভাষা পরিবর্তিত হয়ে মধ্যভারতীয় আর্যভাষার স্তরে আসে। প্রথম পর্যায়ে পালি এবং পরে প্রাকৃত ভাষা নামে তা চিহ্নিত হয়। অঞ্চলভেদে প্রাকৃত ভাষা কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে যায়। এর একটি ছিল মাগধি প্রাকৃত। এ ভাষার প্রাচ্যতর রূপ গৌড়ী প্রাকৃত । তা থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের মাধ্যমে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। এই পর্যায়ের অন্যান্য ভাষা হল মৈথিলি, মাগধি, ভোজপুরিয়া, আসামি ও উড়িয়া। বাংলা ভাষার জন্মকাল কেউ কেউ দশম শতক বলে নির্ণয় করেছেন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তিকাল খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী। কম পক্ষে হাজার বছরের পুরানো বাংলা ভাষা উৎপত্তির পর থেকে নানা পর্যায়ে পরিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। বাংলা ভাষার বিবর্তনের ইতিহাসে আদি মধ্য ও আধুনিক—এই তিন যুগের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করা যায়। আদি বা প্রাচীন যুগের বাংলা ভাষার কাল দ্বাদশ শতক পর্যন্ত বিস্তৃত। এ সময়ের প্রধান নিদর্শন চর্যাপদ। এর ভাষা থেকে তখন পর্যন্ত তার পূর্ববর্তী অপভ্রংশের প্রভাব দূর হয়ে যায় নি, এমন কি প্রাকৃতের প্রভাবও তাতে বর্তমান ছিল। তবে এখানেই বাংলা ভাষা তার স্বতন্ত্র মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ইন্দো ইউরোপীয় > ইন্দো ইরানীয় > প্রাকৃত > আর্য > বাংলা
ইন্দো ইউরোপীয় > ইন্দো ইরানীয় > ভারতীয় আর্য > প্রাকৃত > বাংলা
ইন্দো ইউরোপীয় > ইন্দো ইরানীয় > প্রাকৃত > ভারতীয় আর্য > বাংলা
কোনটিই নয়

বাংলা লিপির উদ্ভব

3.5k

বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপি থেকে উৎপন্ন। শুধু বাংলা নয় সকল ভারতীয় লিপিই এই ব্রাহ্মী লিপি থেকে জন্মলাভ করেছে। ব্রাহ্মী লিপি ভারতের মৌলিক লিপি। সিংহলি, ব্রহ্মী, শ্যামী, যবদ্বীপী ও তিব্বতি লিপির উৎসও ব্রাহ্মী লিপি। সম্রাট অশোকের অনুশাসন সুগঠিত ব্রাহ্মী লিপিতেই উৎকীর্ণ। ব্রাহ্মী লিপির সমসাময়িক কালে উত্তর- পশ্চিম ভারতে খরোষ্ঠী লিপির প্রচলন ছিল। পরে ব্রাহ্মী লিপি সে স্থান অধিকার করে।

অষ্টম শতাব্দীতে ব্রাহ্মী লিপি থেকে পশ্চিমা লিপি, মধ্যভারতীয় লিপি ও পূর্বী লিপি—এই তিনটি শাখার সৃষ্টি হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি থেকে উদ্ভব হয়েছে মধ্যভারতীয় ও পূর্বী লিপির এবং দক্ষিণী ব্রাহ্মী লিপি থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের নাগরী লিপির উদ্ভব হয়েছে। পূর্বী লিপি থেকেই বাংলার জন্ম। নাগরী লিপি বাংলা অক্ষরের চেয়ে পুরানো নয়। উত্তর-পশ্চিমা লিপি ষষ্ঠ শতক থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লিপিকে স্থানচ্যুত করে। তবে সপ্তম শতকে উত্তর-পূর্ব ভারতে পূর্বী লিপি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। নাগরী লিপি পূর্বভারতে কিছুকাল প্রাধান্য বজায় রেখেছিল, কিন্তু পূর্ব-ভারতে পূর্বী লিপি অক্ষত থাকে এবং একাদশ-দ্বাদশ শতকের মধ্যেই এই পূর্বী লিপি থেকে বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে।

সেন যুগে বাংলা লিপির গঠনকার্য শুরু হলেও পাঠান যুগে তার মোটামুটি আকার লাভ করে। ১৮০০ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস স্থাপিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময়ে হাতে লেখা হয়েছে বলে বাংলা লিপি নানা পরিবর্তনের মাধ্যमে হয়েছে। ছাপাখানার প্রভাবে পরবর্তীকালে বাংলা লিপির তেমন কোন পরিবর্তন ঘটে। নি। উড়িয়া, মৈথিলি ও আসামি লিপির ওপর বাংলা লিপির প্রভাব বিদ্যমান। আমি ও বাংলা অক্ষরের মধ্যে গুটিকয়েক অক্ষর ছাড়া কোন পার্থক্য নেই। বাংলা জনগোষ্ঠী বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভক্ত হলেও, বাংলা লিপির কোন ব্যবধান সৃষ্টি হয় নি ।

শব্দসম্ভার

বাংলা ভাষার শব্দসম্ভারকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায় :

১. তৎসম, ২. অর্ধতৎসম, ৩, তদ্ভব, ৪. দেশি ও ৫. বিদেশি শব্দ।

১. তৎসম শব্দ : যেসব শব্দ পরিবর্তন ছাড়াই সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। সেগুলো তৎসম শব্দ। যেমন: চন্দ্র, সূর্য, হস্ত, পদ ইত্যাদি। ২. অর্ধতৎসম শব্দ : যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে কিছুটা বিকৃত হয়ে বাংলায় এসেছে

সেগুলো অর্ধতৎসম শব্দ। যেমন : গিন্নি, পিরীত, অঘ্রান, গেরাম ইত্যাদি । ৩. তদ্ভব শব্দ : যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে সেগুলো তদ্ভব শব্দ। যেমন : হাত, পা, ছাতা, পাখা ইত্যাদি ।

৪. দেশি শব্দ : যেসব শব্দ এদেশের আদিম অধিবাসী অনার্যদের ভাষা থেকে

বাংলায় এসেছে সেগুলো দেশি শব্দ। যেমন : ঢেঁকি, ডোঙা, খড়, চুলা ইত্যাদি। ৫. বিদেশি শব্দ : যেসব শব্দ বিদেশি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে সেগুলো বিদেশি শব্দ। যেমন : কলম, চেয়ার, চিনি, বেগম ইত্যাদি।

বাংলা বর্ণমালা গড়ে উঠেছে এগারটি স্বরবর্ণ এবং ঊনচল্লিশটি ব্যঞ্জনবর্ণ নিয়ে। সাকুল্যে এই পঞ্চাশটি বর্ণের সাহায্যে সৃষ্টি হয়েছে সোয়া লক্ষের মত শব্দের—যার পঞ্চাশ হাজার তৎসম শব্দ, আড়াই হাজার আরবি-ফারসি, শ চারেক তুর্কি, হাজার খানেক ইংরেজি, দেড় শ পর্তুগিজ-ফরাসি, আর কিছু শব্দ বিদেশি, বাদবাকি শব্দ তত্ত্বৰ ও দেশি ।

উপসংহারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথায় বলা যায়, 'বাংলাদেশের ইতিহাস খণ্ডতার ইতিহাস। পূর্ববঙ্গ পশ্চিমবঙ্গ, রাঢ় বরেন্দ্রের ভাগ কেবল ভূগোলের ভাগ নয়; অন্তরের ভাগও ছিল তার সঙ্গে জড়িয়ে, সমাজের মিলও ছিল না। তবু এর মধ্যে এক ঐক্যের ধারা চলে এসেছে সে ভাষার ঐক্য নিয়ে। আমাদের যে বাঙালি বলা হয়েছে তার সংজ্ঞা হচ্ছে, আমরা বাংলা বলে থাকি।'

Content added By

চর্যাপদ

1.3k

প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ। এর ভাষা ও বিষয়বস্তু দুর্বোধ্য এবং এর কবিরা ছিলেন বৌদ্ধ সাধক। এতে বিধৃত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা। এ সময়ের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গোষ্ঠী কেন্দ্রিকতা ও ধর্মনির্ভরতা। ধর্মের বিষয়টি সমাজজীবনের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রিত করেছে, তাই সাহিত্যে ধর্মের কথা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রাচীন যুগের সময়কাল-

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে৬৫০-১২০০ খ্রি.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে৯৫০-১২০০ খ্রি.
ড. সুকুমার সেনের মতে৯০০-১৩৫০ খ্রি.

চর্যাপদ: বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য/কবিতা সংকলন চর্যাপদ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদিযুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। ডক্টর হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে ১৯০৭ সালে 'চর্যাচর্য বিনিশ্চয়' নামক পুঁথিটি আবিষ্কার করেন। চর্যাপদের সাথে 'ডাকার্ণব' ও 'দোহাকোষ' নামে আরও দুটি বই নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে আবিষ্কৃত হয়। ১৯১৬ সালে সবগুলো বই একসাথে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশ করেন।

বাংলার পাল বংশের রাজারা ছিলেন বৌদ্ধধর্মালম্বী। তাদের আমলে চর্যাগীতিগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে পদগুলো রচিত। পাল বংশের পরে আসে সেন বংশ। সেন বংশ হিন্দুধর্ম এবং ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসাবে গ্রহণ করে। ফলে বৌদ্ধ সিদ্ধচার্যেরা এদেশ হতে বিতাড়িত হয় এবং নেপালে আশ্রয় গ্রহণ করে। তাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলাদেশের বাহিরে নেপালে পাওয়া গেছে।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী - উইকিপিডিয়া
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

চর্যাপদের শব্দগুলো অপরিচিত, শব্দ ব্যবহারের রীতি বর্তমানের রীতি থেকে ভিন্ন --এর কবিতাগুলো পড়ে বুঝতে কষ্ট হয়। এজন্য চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যা ভাষা'ও বলে। চর্যাপদের কবিতাগুলো গাওয়া হত। তাই এগুলো একইসাথে গান ও কবিতা।

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তার 'বাঙলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ' (Origin and Development of Bengali language) নামক গ্রন্থে ধ্বনি তত্ত্ব ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, পদসংকলনটি আদি বাংলা ভাষায় রচিত। কেউ কেউ একে মৈথিলি, উড়িয়া বা আসামি ভাষা বলে দাবি করেন। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, সেকালের বাংলা, উড়িয়া বা আসামি ভাষার পার্থক্য ছিল সামান্যই। উল্লেখ্য যে, চর্যাপদ উড়িষ্যা, বিহার, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের নিজ নিজ ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসাবে বিবেচিত।

এতে মোট ৫১ টি পদ'রয়েছে। কয়েক পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সর্বমোট সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া গেছে। ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে উদ্ধার করা হয়েছে অর্থাৎ এর শেষাংশ পাওয়া যায়নি। ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদগুলো পাওয়া যায়নি। চর্যাপদের মোট পদকর্তা ২৪। অনেকের মতে, আদি চর্যাকার লুইপা। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীনতম চর্যাকার শবরপা এবং আধুনিকতম সরহ বা ভুসুকু। কাহ্নপা সর্বাধিক ১৩ টি পদ রচনা করেন।

রাজশাহী কলেজ গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুর্লভ চর্যাপদ এর অংশবিশেষ

চর্যাপদের কবি / পদকর্তা-

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে২৩ জন
ড. সুকুমার সেনের মতে২৪ জন

পদকর্তা: লুই, শবর, ককুরী, বিরুআ, গুণ্ডারী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, আজদেব, ঢেণ্টণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জঅনন্দি, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী। পদকর্তাদের নামের শেষে সম্মানসূচক 'পা' যোগ করা হয়। যেমন: লুই থেকে লুইপা, শবর থেকে শবরপা।

কাহ্ন : ১৩ টি পদ রচনা করেন।

ভুসুকু : ৮ টি পদ রচনা করেন।

সরহ : ৪ টি পদ রচনা করেন।

লুই, শান্তি ও শবরী: ২ টি করে পদ রচনা করেন।

বাকিরা : ১ টি করে পদ রচনা করেন।

লাড়ীডোম্বী : কোন পদ পাওয়া যায়নি।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থের মতে, পদ সংখ্যা ৫০টি এবং প্রাপ্ত পদ সাড়ে ছেচল্লিশটি।

ড. সুকুমার সেনের 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থের মতে, পদ সংখ্যা ৫১টি।

চর্যাপদের যে পদ পদ পাওয়া যায়নিঃ

২৩ নং অর্ধেক, ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদ।

যেসব পদ পাওয়া যায়নি সেগুলোর রচয়িতাঃ

২৩- ভুসুকুপা, ২৪- কাহ্নপা, ২৫- তান্তীপা, ৪৮- কুকুরীপা।

চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতাঃ

লুইপা। তিনি ২টি পদ রচনা করেন। যথা: ১, ২৯। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, তিনি রাঢ় অঞ্চলের বাঙালি কবি হিসেবে পরিচিত। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, তিনি শবরপার শিষ্য ছিলেন। লুইপাকে আদি চর্যাকার হিসেবে ধরে নেয়া হয়।

চর্যাপদের প্রথম পদটিঃ

কাআ (শরীর) তরুবর পঞ্চ বি ডাল।

চঞ্চল চীএ পইঠো কাল ॥

দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ।

লুই ভণই (বলে) গুরু পুচ্ছিঅ জাণ ॥

সঅল সহিঅ কাহি করিঅই।

সুখ দুখেতে নিচিত মরিঅই ॥

এড়ি এউ ছান্দক বান্ধ করণক পাটের আস।

সুনুপথ ভিতি লেহু রে পাস ॥

ভণই লুই আমহে ঝাণে দিঠা।

ধমণ চমণ বেণি পিত্তি বইঠা ॥

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বা আলো-আঁধারির ভাষা।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, এর ভাষার নাম 'বঙ্গকামরূপী'। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

চর্যাপদের অনুবাদক

ভাষা

অনুবাদক

অনূদিত নাম

তিব্বতিকীর্তিচন্দ্র-
হিন্দিরাহুল সাংকৃত্যায়নদোহাকোষ (১৯৫৭)
ইংরেজিহাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদমিস্টিক পোয়েট্রি অব বাংলাদেশ (২০১৭)
সংস্কৃতপ্রবোধচন্দ্র বাগচী-
চিত্রঃ কাহ্নপার নকশা

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

চিত্তরঞ্জন দাশ
চন্ডীদাশ
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অমিয় চক্রবর্তী
কায়কোবাদ
আব্দুল হাকিম

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ( ১২০১-১৮০০ খ্রি)

7.1k

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত সময় মধ্যযুগ বলে চিহ্নিত। এর মধ্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশে তুর্কি বিজয়ের মাধ্যমে মুসলমান শাসনামলের সূত্রপাতের পরিপ্রেক্ষিতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টি হয় নি অনুমান করে এ রকম সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলার সেন বংশের শাসক অশীতিপর বৃদ্ধ লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়া বিনা বাধায় জয় করে এদেশে মুসলমান শাসনের সূত্রপাত করেন। ১৩৪২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ গৌড়ের সিংহাসন দখল করে দিল্লির শাসনমুক্ত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর পুত্র সেকান্দর শাহের আমলে বড়ু চণ্ডীদাসের আবির্ভাব হয়। বড়ু চণ্ডীদাসের কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

আশ্রমের সিড়ি
তপোবনের বৃক্ষ
আশ্রমবাসী
আশ্রমের চেয়ার
বাংলা ভাষার স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য
অনুবাদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য
শাসনকর্তা হিসেবে
সালতানাত প্রতিষ্ঠার জন্য

বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ (১২০১-১৩৫০)

707
Please, contribute by adding content to বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ (১২০১-১৩৫০).
Content
Content added By

বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ পরবর্তী মধ্যযুগ

865

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আনুমানিক ১২০০ সাল থেকে চৌদ্দ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত কাল সৃজনহীন ঊষরতায় আচ্ছন্ন বলে মনে হয় ।

বলা হয়ে থাকে, ক্ষমতালোভী বিদেশাগত মুসলমান আক্রমণকারীরা বিবেচনাহীন সংগ্রাম শাসন আর শোষণের মাধ্যমে দেশে এক অস্বস্তিকর আবহাওয়ার সৃষ্টি করেছিল। চারুজ্ঞান বিবর্জিত জঙ্গীবাদী বস্তুবাদী শাসকদের অত্যাচারে সাহিত্য সৃষ্টি করার মত সুকুমার বৃত্তির চর্চা অসম্ভব হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংঘর্ষের ফলে বাঙালির বহির্জীবনে ও অন্তর্জীবনে ভীতি বিহ্বলতার সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু মুসলমান শাসনের সূত্রপাত এদেশের জন্য কোন কল্যাণ বহন করে এনেছিল কিনা তা সর্বাগ্রে পর্যালোচনা করে বিতর্কের অবতারণা করা উচিত ছিল।

প্রকৃত পক্ষে বাংলা সাহিত্যবর্জিত তথাকথিত অন্ধকার যুগের জন্য তুর্কিবিজয় ও তার ধ্বংসলীলাকে দায়ী করা বিভ্রান্তিকর। এ সময়ের যে সব সাহিত্য নিদর্শন মিলেছে এবং এ সময়ের রাজনৈতিক অবস্থার যে সব তথ্য লাভ করা গেছে তাতে অন্ধকার যুগের অস্তিত্ব স্বীকৃত হয় না। অন্ধকার যুগের দেড় শ বছর মুসলমান শাসকেরা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন এ কথা সত্য নয়। ইলিয়াস শাহি আমলের পূর্ব পর্যন্ত খিলজি বলবন ও মামলুক বংশের যে পঁচিশ জন শাসক বাংলাদেশ শাসন করেছিলেন তাঁদের কারও কারও রাজত্বে সাকুল্যে পনের-বিশ বৎসর মাত্র দেশে অশান্তি ছিল, অন্যদের বেলায় শান্ত পরিবেশ বিদ্যমান ছিল বলে ইতিহাস সমর্থন করে। তৎকালীন যুদ্ধবিগ্রহ দিল্লির শাসকের বিরুদ্ধে অথবা অন্তর্বিরোধে ঘটেছে বলে তা ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে নি। ফলে তাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার কোনও কারণ ঘটে নি। বরং এদেশে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামি শিক্ষাদীক্ষা, ধর্মকর্ম, আচারব্যবহার, আহারবিহার প্রভৃতির প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশবাসীর মধ্যে ইসলামি পরিবেশ গড়ে উঠছিল ।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য

1.2k

সর্বজনস্বীকৃত খাঁটি বাংলা ভাষায় রচিত মধ্যযুগের প্রথম কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। এটির রচয়িতা মধ্যযুগের আদি বা প্রথম কবি বড়ু চণ্ডীদাস। হাতে লেখা পুঁথিখানির প্রথমে দুটি পাতা, মাঝখানে কয়েকটি পাতা ও শেষের পাতাটি নেই। পুঁথিখানিতে গ্রন্থের নাম, রচনাকাল ও পুঁথি-নকলের দিনক্ষণ কিছুই উল্লেখ নেই। এজন্য কবির পরিচয়, গ্রন্থনাম ও রচনাকাল অংশ পাওয়া যায়নি। তবে পুঁথির সাথে একটি চিরকূট পাওয়া গিয়েছে, তাতে 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ব্ব' বলে একটা কথা লিখিত আছে। 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামটি রাখেন বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।

১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের নিকটবর্তী কাকিল্যা (কালিয়া) গ্রামের শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশীয় দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় নামক এক ব্রাহ্মণের বাড়ির গোয়ালঘরের মাচার ওপর থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং পুঁথিশালার অধ্যক্ষ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এটি উদ্ধার করেন। বসন্তরঞ্জন রায়ের উপাধি- 'বিদ্বদ্বল্লভ'।

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচনাকাল-

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহরর মতে১৪০০ সালে
গোপাল হালদারের মতে১৪৫০-১৫০০ সালের মধ্যে

বসন্তরঞ্জন রায় ১৯১৬ সালে (১৩২৩ ব.) 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে এটি প্রকাশ করেন। বর্তমানে এটি ২৪৩/১, আচার্য প্রফুল্ল রায় (কলকাতা) রোডের বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের পুঁথিশালায় সংরক্ষিত আছে। এ কাব্যের মুখবন্ধ লেখেন রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী এবং লিপিকাল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে খণ্ড ও চরিত্রঃ

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে ১৩ টি খণ্ড। যথা: ১. জন্ম খণ্ড, ২. তাম্বুল খণ্ড, ৩. দান খণ্ড, ৪. নৌকা খণ্ড, ৫. ভার খণ্ড, ৬. ছত্র খণ্ড ৭. বৃন্দাবন খণ্ড, ৮. কালিয়দমন খণ্ড, ৯. যমুনা খণ্ড, ১০. হার খণ্ড, ১১. বাণ খণ্ড, ১২. বংশী খণ্ড, ১৩. বিরহ খণ্ড।

চরিত্র: রাধা (জীবাত্মা বা প্রাণিকুল), কৃষ্ণ (পরমাত্মা বা ঈশ্বর) ও বড়ায়ি (রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতি)।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের অপর নাম 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ'। 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামটি রাখেন বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ।

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের কাহিনি সংক্ষেপেঃ

জন্ম খণ্ড: কৃষ্ণ ও রাধা উভয়ে ঈশ্বরের ইচ্ছায় মর্ত্যে মানবরূপে জন্ম নিয়েছে। কৃষ্ণ পাপী কংস রাজাকে বধ করার জন্য দেবকী ও বাসুদেবের সন্তান হিসেবে জন্ম নেয়। জন্মের পরেই বাসুদেব গোপনে কৃষ্ণকে অনেক দুরে বৃন্দাবনে জনৈক নন্দ গোপের কাছে রেখে আসে। সেখানেই দৈব ইচ্ছায় রাধা আরেক গোপ সাগর গোয়ালার স্ত্রী পদ্মার গর্ভে জন্ম নেয়। দৈব নির্দেশেই বালিকা বয়সে নপুংসক আইহন বা আয়ান গোপের সঙ্গে রাধার বিয়ে হয়। আয়ান গোচারণ করতে গেলে রাধাকে বৃদ্ধা পিসি বড়ায়ির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

তাম্বুল খণ্ড: অন্য গোপ বালিকাদের সাথে রাধা মথুরাতে দই- দুধ বিক্রি করতে যায়। বড়ায়িও যায় তার সাথে। বৃদ্ধা বড়ায়ি পথে রাধাকে হারিয়ে ফেলে এবং রাধার রূপের বর্ণনা দিয়ে কৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করে, এমন রূপসীকে দেখেছে কিনা? রাধার রূপের বর্ণনা শুনে কৃষ্ণ পূর্বরাগ অনুভব করে। সে বড়ায়িকে বুঝিয়ে রাধার জন্য পান ও ফুলের উপহারসহ প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু বিবাহিতা রাধা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

দান খণ্ড: কৃষ্ণ দই-দুধ বিক্রির জন্য মথুরাগামী রাধা ও গোপীদের পথ রোধ করে। তার দাবী নদীর ঘাটে পারাপার-দান বা শুল্ক দিতে হবে, অন্যথায় রাধার সঙ্গে মিলিত হতে দিতে হবে। রাধা কোনভাবেই এ প্রস্তাবে রাজি হয় না। এদিকে তার হাতে কড়িও নেই। রাধা নিজের রূপ কমাবার জন্য চুল কেটে ফেলতে চাইলো; কৃষ্ণের হাত থেকে বাচাঁর জন্য বনে দৌড় দিল। কৃষ্ণ পিছু ছাড়বার পাত্র নয়। অবশেষে কৃষ্ণের ইচ্ছায় কর্ম হয়।

নৌকা খণ্ড: পরবর্তীতে রাধা কৃষ্ণকে এড়িয়ে চলে। কৃষ্ণ নদীর মাঝির ছদ্মবেশ ধারণ করে। একজন পার করা যায় এমন একটি নৌকাতে রাধাকে তুলে সে মাঝ নদীতে নৌকা ডুবিয়ে দেয় এবং রাধার সঙ্গ লাভ করে। নদীতীর উঠে লোকলজ্জার ভয়ে রাধা সখীদের বলে যে, নৌকা ডুবে গিয়েছে, কৃষ্ণ তার জীবন বাঁচিয়েছে, কৃষ্ণ না থাকলে সে ডুবে মারা যেত।

ভার খণ্ড: শরৎকালে শুকনো পথঘাট, তাই হেঁটেই মথুরাতে গিয়ে দুধ-দই বিক্রি করা যায়। কিন্তু রাধা আর বাড়ির বাইরে আসে না। আগের ঘটনাগুলো সে শাশুড়ি বা স্বামীকেও ভয়ে ও লজ্জায় খুলে বলেনি। রাধা অদর্শনে কৃষ্ণ কাতর। সে বড়ায়িকে দিয়ে রাধার শাশুড়িকে বোঝায়, ঘরে বসে থেকে কি হবে, রাধা দই-দুধ বেঁচে কটি পয়সা তো আনতে পারে। শাশুড়ির নির্দেশে রাধা বাইরে বের হয়। কিন্ত প্রচণ্ড রোদে কোমল শরীরে দুধ-দই বহন করতে গিয়ে রাধা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এসময় কৃষ্ণ ছদ্মবেশে মজুরি করতে আসে। পরে ভার বহন অর্থাৎ মজুরির বদলে রাধার আলিঙ্গন কামনা করে। রাধা এই চতুরতা বুঝতে পারে। সে কাজ আদায়ের লক্ষ্যে মিথ্যা আশ্বাস দেয়। তাই কৃষ্ণ আশায় আশায় রাধার পিছু পিছু ভার নিয়ে মথুরা পর্যন্ত আসে।

ছত্র খণ্ড: দুধ-দই বেচে মথুরা থেকে এবার ফেরার পালা। কৃষ্ণ তার প্রাপ্য আলিঙ্গন চাইছে। রাধা চালাকি করে বলে, 'এখনো প্রচণ্ড রোদ। তুমি আমাদের মাথায় ছাতা ধরে বৃন্দাবন পর্যন্ত চলো। পরে দেখা যাবে।' কৃষ্ণ ছাতা ধরতে লজ্জা ও অপমান বোধ করছিল। তবু আশা নিয়েই কৃষ্ণ ছাতা ধরেই চলল। কিন্তু তার আশা পূর্ণ করেনি রাধা।

বৃন্দাবন খণ্ড: রাধার বিরুদ্ধ আচরণ কৃষ্ণের ভাবান্তর ঘটায়। সে অন্য পথ অবলম্বন করে। কৃষ্ণ কটু বাক্য না বলে, দান বা শুল্ক আদায়ের নামে বিড়ম্বনা না করে, বরং বৃন্দাবনকে অপূর্ব শোভায় সাজিয়ে তুলে। রাধা ও গোপীরা সেই শোভা দর্শন করে কৃষ্ণের উপর রাগ ভুলে যায়। কৃষ্ণ সব গোপীকে দেখা দেয়। পরে রাধার সঙ্গে তার দর্শন ও মিলন হয়।

কালিয়দমন খণ্ড: বৃন্দাবনের উপর দিয়ে যমুনা নদী প্রবাহিত। এ যমুনায় কালিয়নাগ বাস করে। কালিয়নাগের বিষে যমুনার জল বিষাক্ত। কৃষ্ণ কালিয়নাগকে তাড়াতে নদীর জলে ঝাঁপ দেয়। দৈব ইচ্ছায় ও কৃষ্ণের বীরত্বে কালিয়নাগ পরাস্ত হয় এবং দক্ষিণ সাগরে বসবাস করতে যায়। কালিয়নাগের সঙ্গে কৃষ্ণ যখন জলযুদ্ধে লিপ্ত তখন রাধার বিশেষ ব্যাকুলতা প্রকাশ পায়।

যমুনা খণ্ড: রাধা ও গোপীরা যমুনাতে জল আনতে যায়। কৃষ্ণ যমুনার জলে নেমে হঠাৎ ডুব দিয়ে আর ওঠে না। সবাই মনে করে কৃষ্ণ ডুবে গেছে। কিন্তু কৃষ্ণ লুকিয়ে কদম গাছে বসে থাকে। রাধা ও সখিরা জলে নেমে কৃষ্ণকে খুঁজতে থাকে। কৃষ্ণ নদীতীরে রাধার খুলে রাখা হার চুরি করে আবার গাছে গিয়ে বসে।

হার খণ্ড: রাধা কৃষ্ণের চালাকি বুঝতে পারে। হার না পেয়ে রাধা কৃষ্ণের পালিতা মা যশোদার কাছে নালিশ করে। কৃষ্ণও মিথ্যে বলে মাকে। কৃষ্ণ বলে, 'আমি হার চুরি করব কেন, রাধাতো পাড়ার সম্পর্কে আমার মামি।' বড়ায়ি সব বুঝতে পারে এবং রাধার স্বামী আয়ান হার হারানোতে যাতে রাগান্বিত না হয় সেজন্য বলে যে, 'বনের কাঁঠায় রাধার গজমতির হার ছিন্ন হয়ে হারিয়ে গেছে।'

বাণ খণ্ড: কৃষ্ণ রাধার উপর ক্রুদ্ধ হয় মায়ের কাছে নালিশ করার জন্য। রাধাও কৃষ্ণের প্রতি প্রসন্ন নয়। বড়ায়ি বুদ্ধি দিলো, কৃষ্ণ যেন শক্তির পথ পরিহার করে মদনবাণ প্রেমে রাধাকে বশীভূত করে। সে মতো কৃষ্ণ পুষ্পধনু নিয়ে কদমতলায় বসে। রাধা কৃষ্ণের প্রেমবাণে মূর্ছিত ও পতিত হয়। এরপর কৃষ্ণ রাধাকে চৈতন্য ফিরিয়ে দেয়। রাধা কৃষ্ণ প্রেমে কাতর হয় এবং কৃষ্ণকে খুঁজে ফেরে।

বংশী খণ্ড: কৃষ্ণ রাধাকে আকৃষ্ট করার জন্য সময়-অসময়ে বাঁশিতে সুর তোলে। কৃষ্ণের বাঁশি শুনে রাধার রান্না এলোমেলো হয়ে যায়, মন কুমারের চুল্লির মতো পুড়তে থাকে, রাত্রে ঘুম আসে না। ভোর বেলা কৃষ্ণ অদর্শনে রাধা মূর্ছা যায়। বড়ায়ি রাধাকে পরামর্শ দেয়, সারারাত বাঁশি বাজিয়ে সকালে কদমতলায় কৃষ্ণ বাঁশি শিয়রে রেখে ঘুমায়। তুমি সেই বাঁশি চুরি করো, তবেই সকল সমস্যার সমাধান হবে। বড়াইয়ের বুদ্ধি শুনে রাধা তাই করে। কিন্তু কৃষ্ণ বুদ্ধিমান, তাই বাঁশি চোর কে তা বুঝতে তার কষ্ট হয় না। রাধা কৃষ্ণকে বলে, বড়ায়িকে স্বাক্ষী রেখে কৃষ্ণের কথা দিতে হবে যে, 'সে কখনো রাধার কথার অবাধ্য হবে না এবং রাধাকে ত্যাগ করে যাবে না, তবেই বাঁশির সন্ধান মিলতে পারে।' কৃষ্ণ কথা দিয়ে বাঁশি ফিরে পায়।

বিরহ খণ্ড: তারপর কৃষ্ণ রাধার উপর উদাসীনতা প্রকাশ করে। মধুমাস সমাগত, তাই রাধা বিরহ অনুভব করে। রাধা বড়ায়িকে বলে, কৃষ্ণকে এনে দিতে। দুধ-দই বিক্রির ছল করে রাধা নিজেও কৃষ্ণকে খোঁজার জন্য বের হয়। অবশেষে বৃন্দাবনে বাঁশি বাজানো অবস্থায় কৃষ্ণকে পাওয়া যায়। কৃষ্ণ রাধাকে বলে, 'তুমি আমাকে নানা সময় লাঞ্ছনা করেছো, ভার বহন করিয়েছো, মায়ের কাছে আমার নামে বিচার দিয়েছো, তাই তোমার উপর আমার মন উঠে গেছে।' রাধা বলে, 'তখন আমি বালিকা ছিলাম, আমাকে ক্ষমা কর। আমি তোমার বিরহে মৃতপ্রায়। তির্যক দৃষ্টি হলেও তুমি আমার দিকে তাঁকাও।' কৃষ্ণ বলে, 'বড়ায়ি যদি আমাকে বলে যে তুমি রাধাকে প্রেম দাও, তাহলে আমি তোমার অনুরোধ রাখতে পারি।' অবশেষে বড়ায়ি রাধাকে সাজিয়ে দেয় এবং রাধাকৃষ্ণের মিলন হয়। রাধা ঘুমিয়ে পড়লে কৃষ্ণ নিদ্রিতা রাধাকে রেখে কংস বধ করার জন্য মথুরাতে চলে য়ায়। ঘুম থেকে উঠে কৃষ্ণকে না দেখে রাধা আবার বিরহকাতর হয়ে পড়ে। রাধার অনুরোধে বড়ায়ি কৃষ্ণের সন্ধানে যায় এবং মধুরাতে কৃষ্ণকে পেয়ে অনুরোধ করে, 'রাধা তোমার বিরহে মৃতপ্রায়। তুমি উন্মাদিনীকে বাঁচাও।' কিন্তু কৃষ্ণ বৃন্দাবনে যেতে চায় না এবং রাধাকে গ্রহণ করতেও চায় না। কৃষ্ণ বলে, 'আমি সব ত্যাগ করতে পারি, কিন্তু কটুকথা সহ্য করতে পারি না। রাধা আমাকে কটুকথা বলেছে।' ('শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য এখানেই ছিন্ন। পরবর্তী পৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি। তাই এ গ্রন্থের সমাপ্তি কেমন তা জানা যায় না।)

Content added By
Content updated By

বৈষ্ণব সাহিত্য/পদাবলি

990

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য। রাধা- কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদের প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ। জয়দেব-বিদ্যাপতি-চণ্ডীদাস থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত বৈষ্ণব গীতিকবিতার ধারা প্রবাহিত হলেও প্রকৃতপক্ষে ষোল-সতের শতকে এই সৃষ্টিসম্ভার প্রাচুর্য ও উৎকর্ষপূর্ণ ছিল। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল বৈষ্ণব পদাবলি ।

পদাবলি সাহিত্য বৈষ্ণবতত্ত্বের রসভাষ্য। বৈষ্ণব পদাবলি বৈষ্ণবসমাজে মহাজন পদাবলি এবং বৈষ্ণব পদকর্তাগণ মহাজন নামে পরিচিত। বৈষ্ণবমতে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বিদ্যমান। এই প্রেম সম্পর্ককে বৈষ্ণব মতাবলম্বীগণ রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার রূপকের মাধ্যমে উপলব্ধি করেছেন। রাধা ও শ্রীকৃষ্ণের রূপাশ্রয়ে ভক্ত ও ভগবানের নিত্যবিরহ ও নিত্যমিলনের অপরূপ আধ্যাত্মিক লীলা কীর্তিত হয়েছে। বৈষ্ণবদের উপাস্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর আনন্দময় তথা প্রেমময় প্রকাশ ঘটেছে রাধার মাধ্যমে । রাধা মানবী নয়, শ্রীকৃষ্ণরূপ পূর্ণ ভগবৎ-তত্ত্বের অংশ। ভগবানের লীলা চলে। তাঁর স্বরূপভূতা শক্তি রাধার সঙ্গে। বৈষ্ণবেরা ভগবান ও ভক্তের সম্পর্কের স্বরূপ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে কৃষ্ণকে পরামাত্মা বা ভগবান এবং রাধাকে জীবাত্মা বা সৃষ্টির রূপক মনে করে তাঁদের বিচিত্র প্রেমলীলার মধ্যেই ধর্মীয় তাৎপর্য উপলব্ধি করেছেন। ফলে “এক প্রাচীন গোপজাতির লোকগাথার নায়ক প্রেমিক কৃষ্ণ এবং মহাভারতের নায়ক অবতার কৃষ্ণ কালে লোকস্মৃতিতে অভিন্ন হয়ে উঠেন। গোপী-প্রধানা রাধার সঙ্গে তাঁর প্রণয়ই জীবাত্মা-পরমাত্মার প্রণয়লীলার রূপক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে ধর্ম-দর্শনের ও সাধন-ভজনের অবলম্বন হয়েছে।' নীলরতন সেন মন্তব্য করেছেন, 'পদাবলির কাহিনি, তথ্য উপকরণ এবং ভক্তি-ভাবাশ্রিত সৌন্দর্য চিত্রায়ণে বৈষ্ণব কবিরা উপনিষদ, হালের গাথাসপ্তশতী, আভীর ও অন্যান্য জাতির মৌলিক প্রেমগাথা, ভাগবতসহ বিবিধ পুরাণ, বাৎসায়নের কামসূত্র, অমরুশতক, আনন্দবর্ধনের ধ্বন্যালোক, কবীন্দ্রবচনসমুচ্চয়, সদুক্তিকর্ণামৃত, সুভাষিতাবলী, সূক্তিমুক্তাবলী প্রভৃতি প্রাচীন শাস্ত্র, পুরাণ, লোকধর্ম ও

প্রেমগীতিকে আশ্রয় করে ভারতের পূর্বাচার্যদের অনুসৃত পথেই অগ্রসর হয়েছেন। চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) যুগান্তকারী আবির্ভাবের পূর্বেই রাধাকৃষ্ণ প্রেম- লীলার মাধুর্য পদাবলিগানের উপজীব্য হয়েছিল। কিন্তু চৈতন্যদেবের প্রভাবে যে নব্য মানবীয় প্রেমভক্তিধারার বিকাশ ঘটে তা অবলম্বনেই বিপুল ঐশ্বর্যময় পদাবলি। সাহিত্যের সার্থকতর রূপায়ণ সম্ভবপর হয়। চৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্বে কৃষ্ণলীলা। বিষয়ক গানে ভক্তিরসের রং লাগলেও তা থেকে আদিরসের ক্লেদ দূর হয়ে রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা ভক্তহৃদয়ের প্রতিফলন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

Content added By

মঙ্গলকাব্য

1.2k

পঞ্চদশ শতকের শেষভাগ থেকে অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধে মঙ্গলকাব্য রচিত হয়েছিল। পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেব-দেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজা প্রচার ও ভক্তকাহিনি প্রভৃতি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য হলো মঙ্গলকাব্য। বিভিন্ন দেবদেবীর গুণগান এবং পূজা প্রতিষ্ঠার কাহিনি মঙ্গলকাব্যের উপজীব্য। তবে 'মঙ্গল' কথাটি থাকলেও 'চৈতন্যমঙ্গল', 'গোবিন্দমঙ্গল' প্রভৃতি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়; এগুলো বৈষ্ণব সাহিত্যের অংশ। দীনেশ চন্দ্র সেনের মতে, প্রায় ৬২ জন কবি মঙ্গলকাব্য রচনা করেছেন।

মঙ্গলকাব্য

বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্যই মঙ্গলকাব্য। এটি রচনার মূল কারণ স্বপ্নদেবী কর্তৃক আদেশ লাভ। 'মঙ্গল' শব্দের অর্থ কল্যাণ। যে কাব্যে দেবতার আরাধনা বা মাহাত্ম্য-কীর্তন করা হয়; যে কাব্য শ্রবণ করলেও মঙ্গল হয় বা ঘরে রাখলেও মঙ্গল হয় অথবা ৮ দিনে অর্থাৎ এক মঙ্গলবার শুরু হতো এবং পরবর্তী মঙ্গলবার শেষ হতো, তাকেই বলা হয় মঙ্গলকাব্য। মূলত, লৌকিক দেব-দেবী নিয়ে রচিত কাব্যই মঙ্গলকাব্য। মঙ্গলকাব্যের মূল উপজীব্য: দেব-দেবীর গুণগান। এতে স্ত্রী দেবতাদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কাব্যগুলোর নামকরণ করা হত যে দেবতার পূজা প্রচারের জন্য কাব্যটি রচিত সে দেবতার নামানুসারে।

মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনি

চম্পক নগরের অধীশ্বর বণিক চাঁদ সওদাগর। জগতপিতা শিবের মহাভক্ত। চাঁদ জগতপিতা শিবের থেকে মহাজ্ঞান লাভ করেছেন। মানুষের পূজা ব্যতীত দেবত্ব অর্জন সম্ভব নয়, তাই মনসা চাঁদের কাছে পূজা চাইলেন। শিবভিন্ন অপর কাউকে পূজা করতে চাঁদ প্রত্যাখ্যান করলেন। এমনকি পত্নী সনকার মনসার ঘটে হেঁতালদণ্ড দিয়ে আঘাত করেন। পরিণামে মনসা কৌশলে চাঁদের মহাজ্ঞান হরণ করেন এবং ছয়পুত্রকে বিষ দিয়ে হত্যা করেন। তারপর সমুদ্রপথে চাঁদের বাণিজ্যতরী সপ্তডিঙা মধুকর ডুবিয়ে চাঁদকে সর্বস্বান্ত করেন। চাঁদ কোনোক্রমে প্রাণরক্ষা করেন। মনসা ছলনা করে স্বর্গের নর্তকদম্পতি অনিরুদ্ধ-ঊষাকে মর্ত্যে পাঠালেন। অনিরুদ্ধ চাঁদের ঘরে জন্ম নেয় লখিন্দর রূপে, আর উজানী শহরে সাধুবণিকের ঘরে বেহুলারূপে ঊষা জন্ম নেয়। বহুকাল পরে সহায় সম্বলহীন চাঁদ চম্পক নগরে পাগল বেশে আসে। অবশেষে পিতা পুত্রের মিলন ঘটল। বেহুলার সাথে লখিন্দরের বিবাহ স্থির হল। মনসা বৃদ্ধা বেশে এসে ছল করে বেহুলাকে শাপ দিল, 'বিভা রাতে খাইবা ভাতার'। সাতালি পর্বতে লোহার বাসরঘর বানানো হল। ছিদ্র পথে কালনাগিনী ঢুকে লখিন্দরকে দংশন করল। বেহুলা স্বামীর মৃতদেহ নিয়ে কলার ভেলায় ভেসে পাড়ি দিল। বহু বিপদ অতিক্রম করে অবশেষে নেতো ধোবানির সাহায্যে দেবপুরে পৌছে নাচের মাধ্যমে দেবতাদের তুষ্ট করল। তখন দেবতাদের আদেশে মনসা সব ফিরিয়ে দিল। বেঁচে উঠলো লখিন্দর, ভেসে উঠলো চৌদ্দ ডিঙা। চাঁদ পাগলের মত ছুটে আসলো বেহুলার কাছে। এসে শুনলো যে তাকে মনসার পূজা করতে হবে। কিন্তু এ শর্ত চাঁদ প্রত্যাখান করলো। বেহুলা গিয়ে কেঁদে পড়ল চাঁদের পায়ে এবং চাঁদ বেহুলার অশ্রুর কাছে পরাজিত হল। চাঁদ হেলাভরে মুখ ফিরিয়ে বাঁ হাতে একটি ফুল ছুড়ে দিল। মনসা এতেই খুশি। মর্ত্যবাসের মেয়াদ ফুরালে বেহুলা-লখিন্দর আবার ইন্দ্রসভায় স্থান পেল। আর পৃথিবীতে প্রচারিত হলো মনসার পূজা।

মঙ্গলকাব্যের সাধারণ লক্ষণ / বৈশিষ্ট্যগুলো

বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্যই মঙ্গলকাব্য। নিম্নে এর সাধারণ লক্ষণ /বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচিত হলো।
১. প্রায় সব কবি স্বপ্নে দেবতার নির্দেশ পেয়ে কাব্য রচনা করেছেন।
২. প্রথমেই সর্বসিদ্ধিদাতা গণেশের বন্দনা।
৩. কাব্যের অধিকাংশ ঘটনা সাধারণ নয়, অসাধারণ।
৪. মঙ্গলকাব্যের নায়ক-নায়িকারা সবাই শাপভ্রষ্ট দেবতা, শাপান্তে স্বর্গে ফিরে যান।
৫. মর্ত্যে পূজা প্রচারের সময় দেবতাদের আচরণ মানুষের মতো।

মঙ্গলকাব্যর প্রকারভেদঃ

মঙ্গলকাব্য প্রধানত ২ প্রকার। যথা:

ক. পৌরাণিক শ্রেণি:

'গৌরীমঙ্গল', 'ভবানীমঙ্গল', 'দুর্গামঙ্গল', 'অন্নদামঙ্গল', 'কমলামঙ্গল', 'গঙ্গামঙ্গল', 'চণ্ডিকামঙ্গল'।

খ. লৌকিক শ্রেণি:

'শিবমঙ্গল' (শিবায়ন), 'মনসামঙ্গল', 'চণ্ডীমঙ্গল', 'কালিকামঙ্গল' (বিদ্যাসুন্দর), 'শীতলামঙ্গল', 'রায়মঙ্গল', 'ষষ্ঠীমঙ্গল', 'সারদামঙ্গল', 'সূর্যমঙ্গল'।

মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা

মঙ্গলকাব্যে প্রধান শাখা ৪টি। যথা:
ক. মনসামঙ্গল
খ. চণ্ডীমঙ্গল
গ. অন্নদামঙ্গল
ঘ. ধর্মমঙ্গল।

মঙ্গলকাব্যের অংশ

মঙ্গলকাব্যের অংশ ৪টি। যথা:
ক. বন্দনা
খ. আত্মপরিচয় ও গ্রন্থ উৎপত্তির কারণ
গ. দেবখণ্ড
ঘ. নরখণ্ড।

Notes:

  • আদি মঙ্গলকাব্য মনসামঙ্গল। এটি মনসা দেবীর কাহিনি নিয়ে রচিত। এর অপর নাম 'পদ্মপুরাণ'।
  • মঙ্গলকাব্যের / মনসামঙ্গলের আদি কবি কানাহরি দত্ত।
  • সাপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসার অপর নাম কেতকী ও পদ্মাবতী। অস্ট্রিক সমাজের লৌকিক ভয়ভীতি থেকেই এ দেবীর উদ্ভব।
  • সাপের অধিষ্ঠাত্রী মনসা দেবীর কাহিনি নিয়ে মনসামঙ্গল কাব্য রচিত। এ কাব্য মোট ৮ দিনে পরিবেশন করা হতো। শেষ দিনে পরিবেশন করা অংশকে বলা হয় 'অষ্টামঙ্গল'। নিয়তির বিরুদ্ধে মানুষের বিদ্রোহ এ কাব্যকে বিশিষ্টতা দিয়েছে।
  • মনসামঙ্গল কাব্যের প্রতিনিধিস্থানীয় ও শ্রেষ্ঠ কবি হলেন বিজয়গুপ্ত। বরিশাল জেলার ফতেহাবাদের ফুল্লশ্রী গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম সুস্পষ্ট সন-তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা। তাঁর রচিত মনসামঙ্গল কাব্যগ্রন্থের একটি অংশের নাম 'পদ্মপুরাণ'। শ্রাবণ মাসের মনসাপঞ্চমীতে স্বপ্নে দেবীর আদেশ পেয়ে সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনামলে ১৪৯৪ সালে তিনি কাব্য রচনায় প্রবৃত্ত হন।
  • মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন কবির রচিত কাব্য থেকে বিভিন্ন অংশ সংকলিত করে যে পদসংকলন রচনা করা হয়েছিল তাই বাংলা সাহিত্যে বাইশ কবির মনসামঙ্গল বা বাইশা নামে পরিচিত।
  • 'বারোমাসী' বা 'বারোমাস্যা' শব্দের অর্থ পুরো এক বছরের বিবরণ। প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের লৌকিক কাহিনি বর্ণনায় নায়ক-নায়িকাদের বারো মাসের সুখ-দুঃখের বিবরণ প্রদানের রীতি দেখা যায়, একেই 'বারোমাসী' বা 'বারোমাস্যা' বলে।
  • বিপন্ন নায়ক-নায়িকা চৌত্রিশ অক্ষরে ইষ্টদেবতার যে স্তব রচনা করে, তাকে বলে 'চৌতিশা'। ব্যঞ্জনবর্ণ ('ক' থেকে 'হ') পদের আদিতে প্রয়োগ করে 'চৌতিশা' রচিত হতো।
  • মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যান্য কবি / রচয়িতা:
    • নারায়ণ দেব: কিশোরগঞ্জ জেলার বোর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পনের শতকের কবি বলে ধারণা করা হয়। তার রচিত গ্রন্থের নাম 'পদ্মপুরাণ'।
    • দ্বিজ বংশীদাস: মনসামঙ্গল কাব্য ধারার অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাস বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর পিতা। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতোয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
    • ক্ষেমানন্দ: এ ধারার অন্যতম জনপ্রিয় কবি কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ। কেতকাদাস তার উপাধি। তার কাব্যে মুকুন্দরাম ও রামায়ণের কাহিনির প্রভাব সুস্পষ্ট।
  • 'মনসামঙ্গল' কাব্যের ৩ জন কবি হলেন: কানাহরি দত্ত, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই।

চণ্ডীমঙ্গল
  • চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি মানিক দত্ত।
  • চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি ছিলেন। তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'শ্রী শ্রী চণ্ডীমঙ্গল'। তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবি হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁর রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ জমিদার রঘুনাথ রায় 'কবিকঙ্কন' উপাধি প্রদান করেন। মুকুন্দরামের জনপ্রিয় কাহিনিকাব্য 'কালকেতু উপাখ্যান'।
  • চণ্ডীদেবীর কাহিনি এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত। প্রথমটি আখেটিক বা ব্যাধ কালকেতু-ফুল্লরার কাহিনি এবং দ্বিতীয়টি বণিক বা ধনপতি সওদাগরের কাহিনি।
  • চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'সারদামঙ্গল' (১৫৭৯)।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের 'কালকেতু-ফুল্লরা' খণ্ডের কাহিনি

কালকেতু-ফুল্লরার কাহিনি:
দেবীর অনুরোধে শিব তার ভক্ত নীলাম্বরকে শাপ দিয়ে মর্ত্যলোকে পাঠান। নীলাম্বর কালকেতু হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। কালকেতুর যৌবনপ্রাপ্তির পর তার পিতা ধর্মকেতু ফুল্লরার সাথে বিবাহ দেন। ব্যাধ কালকেতুর অতি দরিদ্র কিন্তু সুখী সংসার। এদিকে কালকেতুর শিকারে প্রায় নির্মূল কলিঙ্গের বনের পশুদের আবেদনে কাতর হয়ে দেবী স্বর্ণগোধিকা রূপে কালকেতুর শিকারে যাবার পথে প্রকট রূপ ধারণ করেন। কালকেতু শিকারে যাবার সময় অমঙ্গলজনক গোধিকা দেখার পর কোন শিকার না পেয়ে ক্রুব্ধ হয়ে গোধিকাটিকে ধনুকের ছিলায় বেঁধে ঘরে নিয়ে আসেন। কালকেতু গোধিকাকে ঘরে বেঁধে পত্নীর উদ্দেশ্যে হাটে রওনা হন। হাটে ফুল্লরার সাথে দেখা হলে তাকে গোধিকার ছাল ছাড়িয়ে শিক পোড়া করতে নির্দেশ দেন। ফুল্লরা ঘরে ফিরলে, দেবী এক সুন্দরী যুবতীর রূপে ফুল্লরাকে দেখা দিলেন। ফুল্লরার প্রশ্নের উত্তরে দেবী জানালেন যে, তার স্বামী ব্যাধ কালকেতু তাকে এখানে এনেছেন এবং তিনি এ গৃহেই কিছুদিন বসবাস করতে চান। দেবীকে তাড়াতে ফুল্লরা নিজের বারমাসের দুঃখ কাহিনি বিবৃত করলেন, তবুও দেবী অটল। শেষ পর্যন্ত ফুল্লরা ছুটলেন হাটে, স্বামীর সন্ধানে। উভয়ে গৃহে ফেরার পর দেবীকে বুঝিয়ে বললেও উল্টো দেবী বলে, সে কালকেতুকে ধন-দৌলত দিয়ে গুজরাটের রাজা করতে চায়। একথা শুনে কালকেতু ক্ষিপ্ত হয়ে দেবীকে তির (শর) মারতে চাইলেও পরে সে শর্ত দেয় যে, যদি সে আশ্বিন মাসে যেরূপে চণ্ডী আবির্ভূত হয় এবং মানুষ তাকে পূজা করে, সেরূপ ধারণ করলে তবেই কালকেতু দেবীকে বিশ্বাস করবে। অতঃপর চণ্ডী সেই রূপ ধারণ করে। এরূপ দেখে কালকেতু ও ফুল্লরা মূর্ছা যায়। দেবীর কৃপায় তাদের মূর্ছা ভাঙলে তারা সব বিশ্বাস করে। দেবীর অনুগ্রহে কালকেতু ধনী হয়ে পশু শিকার ত্যাগ করে। বনের পশুরাও নিশ্চিন্তে বসবাস করতে লাগল। দেবীর আশীর্বাদে কালকেতু ৭ ঘড়া ধনলাভ করে বন কেটে গুজরাট নগর পত্তন করেন। গুজরাট নগরে নবাগতদের মধ্যে ভাঁড়ুদত্ত নামে ছিল এক প্রতারক। প্রথমে কালকেতু তাকে বিশ্বাস করলেও প্রজাদের প্রতি অত্যাচার করায় তাকে তাড়িয়ে দেন। ভাঁড়ুদত্ত কলিঙ্গের রাজার কাছে গিয়ে তাকে কালকেতুর বিরুদ্ধে প্ররোচিত করে। কলিঙ্গের সেনাপতি গুজরাট আক্রমণ করে কালকেতুকে বন্দী করেন। কিন্তু দেবীর কৃপায় কালকেতু মুক্তি পান এবং কাল পূর্ণ হলে ফুল্লরাসহ স্বর্গে ফিরে যান।

অন্নদামঙ্গল

অন্নদামঙ্গল ধারার প্রধান কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (১৭১২-১৭৬০)। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি এবং মঙ্গলযুগের শেষ কবি। তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩) কাব্য রচনা করেন। 'সত্য পীরের পাঁচালী' (১৭৩৭-৩৮) তাঁর রচিত অন্যতম গ্রন্থ। ১৭৬০ সালে তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে। 'রায়গুণাকর' ভারতচন্দ্রের উপাধি।

অন্নদামঙ্গল কাব্য টি খণ্ড। যথা:

১. শিবনারায়ণ অন্নদামঙ্গল,

২. বিদ্যাসুন্দর কালিকামঙ্গল,

৩. মানসিংহ-ভবানন্দ অন্নদামঙ্গল। [এ তিনটি খণ্ডেই দেবী অনুদার বন্দনা আছে।]

'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের কাহিনি সংক্ষেপেঃ

নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ৩টি খণ্ডে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন। প্রথম খণ্ডের উপাখ্যানে সতীর দেহত্যাগ ও উমারূপে জন্মগ্রহণ, শিবের সঙ্গে বিয়ে ও ঘরকন্না, অন্নপূর্ণা মূর্তিধারণ, কাশী প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি পৌরাণিক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। এরপরে বসুন্ধর ও নলকুবেরের হরিহোড় ও ভবানন্দ মজুমদাররূপে মর্ত্যে আগমন, দেবীর হরিহোড়ের গৃহে প্রবেশ এবং শেষে হরিহোড়ের গৃহ পরিত্যাগ করে ভবানন্দের গৃহে গমন পর্যন্ত প্রথম খণ্ডের কাহিনি বিদ্যমান। দ্বিতীয় খণ্ড বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি। বর্ধমানের রাজা বীরসিংহের সুন্দরী কন্যা বিদ্যা ও কাঞ্চীর রাজকুমার সুন্দর এর প্রেমকাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় খণ্ডের কাহিনি মানসিংহের যশোর গমন, দেবীর অনুগ্রহে ভবানন্দ মজুমদারের সাহায্যে রাজা প্রতাপাদিত্যের পরাজয় এবং ভবানন্দের দিল্লি গমন। ভবানন্দ সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছে দেবীর প্রশংসা করলে বাদশাহ হিন্দু ধর্মও দেবী সম্পর্কে কটূক্তি করেন এবং ভবানন্দকে বন্দি করেন। পরে দেবীর কৃপায় সম্রাট জাহাঙ্গীর বাধ্য হয়ে ভবানন্দকে মুক্তি দিয়ে 'রাজা' উপাধি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ভবানন্দ কিছুকাল রাজত্ব করে পরলোকগমন করেন। এ খন্ডে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর জাহাঙ্গীর, মানসিংহ ও ভবানন্দসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক চরিত্রের সমাবেশ ঘটিয়েছেন।

ধর্মমঙ্গল

ধর্মমঙ্গল কাব্যে ধর্মঠাকুরের জয়গান ধ্বনিত হয়েছে । ধর্মঠাকুর নামে কোনো এক পুরুষ দেবতার পূজা হিন্দু সমাজের নিচু স্তরের লোকদের বিশেষত ডোম সমাজে প্রচলিত ছিলো। ধর্মঠাকুর প্রধানত দাতা, নিঃসন্তান নারীকে সন্তান দান করেন, অনাবৃষ্টি হলে ফসল দেন, কুন্ঠ রোগীকে রোগ থেকে মুক্ত করেন। ধর্মঠাকুরকে কেন্দ্র করে যে কাব্যধারা রচিত হয় তাই ধর্মমঙ্গল কাব্য।

ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'হাকন্দপুরাণ'। এ কাব্যের আরও দুজন প্রখ্যাত কবি হলেন- রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তী। ঘনরাম চক্রবর্তী অষ্টাদশ শতকের মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠকবি। তাঁর রচিত কাব্যের নাম ‘শ্রী ধর্মমঙ্গল’ ।

ধর্মমঙ্গল কাব্য ২টি পালায় বিভক্ত ।

যথা:

১. রাজা হরিশচন্দ্রের কাহিনি,
২. লাউসেনের কাহিনি।

কালিকামঙ্গল

কালিকামঙ্গল কাব্যে দেবী কালীর স্তুতি করা হয়েছে । এ কাব্য 'বিদ্যাসুন্দর' নামেও অভিহিত যা সাবিরিদ খান কর্তৃক রচিত। সাবিরিদ খান কর্তৃক রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ 'রসুল বিজয়'। প্রকৃতপক্ষে এটি মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। দেবী কালীর মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা এর মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। রাজকুমার 'সুন্দর' ও বীরসিংহের অপরূপা কন্যা 'বিদ্যা'র গুপ্ত প্রণয়কাহিনি এ কাব্যের প্রধান উপজীব্য। এগার শতকের কাশ্মীরের বিখ্যাত সংস্কৃত কবি বিলহন এর কাব্য 'চৌরপঞ্চাশিকা' অবলম্বনে কালিকামঙ্গল বা বিদ্যাসুন্দর কাব্য রচিত।

কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কবি কঙ্ক। সাবিরিদ খান ও রামপ্রসাদ সেন এ কাব্যের বিখ্যাত কবি। রামপ্রসাদ সেন শ্যামাসংগীত রচনায় পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তাঁর উপাধি 'কবিরঞ্জন'।

শিবমঙ্গল কাব্য

কৃষিভিত্তিক সমাজ জীবনে বৈদিক দেবতা রুদ্র শিবের রূপ ধারণ করে। বাঙালি হিন্দুদের জীবনে শিব ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই বাঙালির সুখ-দুঃখ ভরা সংসারের কথা স্থান পেয়েছে শিবমঙ্গল কাব্যে। পৌরাণিক ও লৌকিক উপাদান মিশ্রিত হয়ে শিবমঙ্গল বা শিবায়ন কাব্য রচিত।

  • শিবমঙ্গল কাব্যের প্রথম কবি রামকৃষ্ণ রায়।
  • এ ধারার প্রথম কাব্য দ্বিজ রতিদেব রচিত 'মৃগলুব্ধ' (১৬৭৪)।
  • এ ধারার শ্রেষ্ঠ কাহিনি রচয়িতা রামেশ্বর ভট্টাচার্য। তার রচিত কাব্যের নাম 'শিবকীর্তন'।
  • এ ধারার অন্যান্য কবি- দ্বিজ কালিদাস, দ্বিজ মণিরাম প্রমুখ।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত পঙ্ক্তি:

→ ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’

→ ‘নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?’

→ ‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’

→ ‘বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষণেকে চাঁদ।’

→ 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।' (চণ্ডীমঙ্গল)

কাব্যের নাম

রচয়িতাগণ

প্রধান চরিত্র

মনসামঙ্গলকানাহরি দত্ত, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দচাঁদ সওদাগর, বেহুলা (পুত্রবধূ), লখিন্দর (পুত্র), মনসা (সাপের দেবী), সনকা।
চণ্ডীমঙ্গলমানিক দত্ত, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজ মাধব (স্বভাবকবি), মুক্তারাম সেনফুল্লরা, কালকেতু, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত (ষড়যন্ত্রকারী), মুরারি শীল (ঠগ)।
অন্নদামঙ্গলভারতচন্দ্র রায়গুণাকরঈশ্বরী পাটনী, হিরামালিনী।
ধর্মমঙ্গলময়ূরভট্ট, রূপরাম চক্রবর্তী, ঘনরাম চক্রবর্তী, শ্যাম পণ্ডিতহরিশচন্দ্র, লাউসেন।
Content added By
Content updated By

জীবনী সাহিত্য

1k

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের গতানুগতিক ধারায় জীবনী সাহিত্য এক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। শ্রীচৈতন্যদেব ও তাঁর কতিপয় শিষ্যের জীবনকাহিনি অবলম্বনে। এই জীবনী সাহিত্যের সৃষ্টি। তবে এর মধ্যে চৈতন্য জীবনীই প্রধান। চৈতন্যদের জীবিতকালেই কারও কারও কাছে অবতাররূপে পূজিত হন। তাঁর শেষজীবন দিব্যোন্মাদ রূপে অতিবাহিত হয়েছে বলে তাঁর পক্ষে ধর্মমত প্রচার করা সম্ভব হয় নি। তাঁর শিষ্যরা এ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ধর্মপ্রচার করতে গিয়ে তাঁরা শ্রীচৈতন্যের জীবনকাহিনি আলোচনা করতেন। চৈতন্যের জীবদ্দশায়ই সংস্কৃত শ্লোকে, কাব্যে ও নাটকে এবং বাংলা গানে ও কাব্যে তাঁর চরিতকথা স্থান পেয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর জীবনী সাহিত্য সৃষ্টিতে প্রাচুর্য এসে বাংলা সাহিত্যে স্বাতন্ত্র্য এনেছে। বৈষ্ণব জীবনী সাহিত্যেই রক্ত-মাংসের মানুষ সর্বপ্রথম বাংলা সাহিত্যে একক প্রসঙ্গ হয়ে আত্মপ্রকাশ করল। চৈতন্য-জীবনী গ্রন্থগুলোর সমবেত উপাদান থেকে শ্রীচৈতন্যের নরলীলার দেশ-কাল-চিহ্নিত বিশেষিত স্বভাবের একটি নির্ভরযোগ্য মোটামুটি কাঠামো আবিষ্কার করা সম্ভব ।

আধুনিক জীবনী সাহিত্যের সঙ্গে মধ্যযুগের জীবনী সাহিত্যের পার্থক্য সম্পর্কে অধ্যাপক আহমদ কবির মন্তব্য করেছেন, ‘একালের জীবনীগ্রন্থ বলতে আমরা যা বুঝি, বৈষ্ণব চরিতকাব্যগুলো সেরকম নয়। জীবনচরিতে বাস্তব মানুষের জীবনালেখ্য, কর্ম, কীর্তি ও আদর্শের পরিচয় থাকে, আর থাকে তাঁর দেশকালের ছবি। যে-মানুষ তাঁর কর্ম ও আদর্শের প্রেরণায় বহু মানুষকে প্রভাবিত করেছেন, সে মানুষেরই জীবনী রচিত হয়। ভক্ত ও অনুরাগীরাই এ-জীবনী লিখে থাকেন। এভাবে জীবনী রচিত হয়েছে ধর্মগুরু, দার্শনিক, লেখক, কবি, বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, ত্যাগী মানবদরদী কীর্তিধন্যদের। এঁরা অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব— এঁদের গুণমাহাত্ম্য ও মহিমা অপরকে প্রভাবিত করে। অবশ্য ব্যক্তি দোষেগুণে মানুষ। শুধু গুণের আদরে ব্যক্তিকে ভূষিত করলে ব্যক্তির পূর্ণ ছবি পাওয়া যায় না। ভক্তের লেখায় ব্যক্তির দোষ সাধারণত পরিত্যাজ্য। তবু একালের জীবনীগ্রন্থ অনেকাংশে বস্তুনিষ্ঠ। সন্দেহ নেই যে, একালে মানুষের ভক্তিনিষ্ঠাও অনেক কমেছে এবং মানুষ ক্রমশ বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী হয়ে উঠেছে। তাছাড়া খ্যাতিমান ব্যক্তিদের জীবনসম্পর্কিত তথ্যাদি ও বিবরণ পাওয়ার সুবিধাও হয়েছে। এক্ষেত্রে সংবাদপত্রের খবর, ব্যক্তিগত ডায়েরি, আত্মজীবনী, ঘনিষ্ঠজনের স্মৃতিকথা, ক্যাসেট, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ভিডিও চিত্র ফিল্ম ইত্যাদি একজন লোকমান্য ব্যক্তির জীবনী-প্রণয়নে সহায়তাদান করে। এভাবে গড়ে ওঠে একটি তথ্যনিষ্ঠ সত্য জীবনকাহিনি। একালের জীবনচরিত রক্তমাংসের বাস্তব মানুষেরই বাস্তব জীবনালেখ্য।

ধর্মীয় বিষয় অবলম্বনে সাহিত্যসৃষ্টি মধ্যযুগের বৈশিষ্ট্য। চৈতন্য জীবনী সাহিত্যও এই বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত নয়। কারণ চৈতন্যদেবকে অনেকেই অবতার হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন এবং তাঁকে অবলম্বন করে রচিত কাব্য ভক্তিকাব্য হয়ে পড়েছে। ভক্তেরা চৈতন্যদেবকে মানুষরূপে কল্পনা করেন নি, করেছেন নররূপী নারায়ণরূপে। ফলে জীবনীগ্রন্থ হয়েছে দেব-অবতারের মঙ্গলপাঁচালী। তবে কৃষ্ণলীলার আদলে নরনারায়ণের জীবনলীলা বর্ণনা কালে কবিরা নিজেদের দেশ-কাল-পরিবেশ উপেক্ষা করতে পারেন নি। ড. আহমদ শরীফের মতে, জীবনী সাহিত্য 'ষোল শতকের শাস্ত্রিক সামাজিক ভৌগোলিক অবস্থা ও সাম্প্রদায়িক, প্রশাসনিক, নৈতিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের সংবাদ-চিত্র বহন করেছে। চরিতাখ্যানগুলির সর্বাধিক গুরুত্ব এখানেই।' জীবনী কাব্যগুলো যে সামাজিক ইতিহাস হিসেবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তাতে কোন সন্দেহ নেই।

চৈতন্য জীবনের কাহিনিতে কবিরা অলৌকিকতা আরোপ করেছেন। তবু চৈতন্য ও তাঁর শিষ্যরা বাস্তব মানুষ ছিলেন এবং এ ধরনের বাস্তব কাহিনি নিয়ে সাহিত্যসৃষ্টি বাংলা সাহিত্যে এই প্রথম। এ পর্যন্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের বিষয় ছিল পৌরাণিক গল্প, দেবতার মাহাত্ম্যকাহিনি ও রাধাকৃষ্ণ লীলাবিষয়ক পদাবলি। কিন্তু জীবনী সাহিত্যে সমকালীন ইতিহাস প্রতিফলিত হয়েছে। বাস্তব মানুষের জীবনকাহিনি সাহিত্যের উপজীব্য হয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। চৈতন্য জীবনী সাহিত্য সম্পর্কে ড. অসিতকুমার বন্ধ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন, ইহাতে একজন মহাপুরুষের ভাবজীবনের গভীর ব্যাকুলতা, তাঁহার সর্বত্যাগী পার্ষদগণের পূত জীবনকথা, ভক্তিদর্শন ও বৈষ্ণবতত্ত্বের নিগূঢ় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, বৈষ্ণবসমাজ ও বৈষ্ণবসমাজের বাহিরে বৃহত্তর বাঙালি হিন্দুসমাজ, হিন্দু মুসলমানের সম্পর্ক প্রভৃতি বিবিধ তথ্য সবিস্তারে বর্ণিত হইয়াছে বলিয়াই এই জীবনীকাব্যগুলি শুধু জীবনী মাত্র হয় নাই, – ইহাতে গৌড় বিশেষত নবদ্বীপ, শান্তিপুর, খড়দহ, নীলাচল ও ব্রজমণ্ডলের বৈষ্ণব সমাজের ইতিহাস, বিকাশ, পরিণতি প্রভৃতি ব্যাপারে ঐতিহাসিক তথ্যের যে প্রকার বাহুল্য দেখা যায়, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে তাহার মূল্য বিশেষভাবে স্বীকার করিতে হইবে। মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিবৃত্ত আলোচনা করিতে গেলে চৈতন্য-জীবনীকাব্যগুলির সাহায্য অপরিহার্য।

Content added By

অনুবাদ সাহিত্য

1.3k

সকল সাহিত্যের পরিপুষ্টিসাধনে অনুবাদমূলক সাহিত্যকর্মের বিশিষ্ট ভূমিকা আছে। বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয় না। সমৃদ্ধতর নানা ভাষা থেকে বিচিত্র নতুন ভাব ও তথ্য সঞ্চয় করে নিজ নিজ ভাষার বহন ও সহন ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলাই অনুবাদ সাহিত্যের প্রাথমিক প্রবণতা। ভাষার মান বাড়ানোর জন্য ভাষার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হয়, আর তাতে সহায়তা করে অনুবাদকর্ম। উন্নত সাহিত্য থেকে ঋণ গ্রহণ করা কখনও অযৌক্তিক বিবেচিত হয় নি। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত ভাষার সীমিত শব্দাবলিতে কোন বিশেষ ধ্যানধারণা তত্ত্ব-তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। উন্নত ও সমৃদ্ধ ভাষা-সাহিত্যের সান্নিধ্যে এলে বিভিন্ন বিষয়ের প্রতিশব্দ তৈরি করা সম্ভব হয়, অন্য ভাষা থেকে প্রয়োজনীয় শব্দও গ্রহণ করা যায়। অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্ব সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থের বক্তব্য আয়ত্তে আসে। ভাষা ও সাহিত্যের যথার্থ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রেষ্ঠ ও সম্পদশাহী ভাষায় উৎকর্ষপূর্ণ সাহিত্যসৃষ্টির অনুবাদ একটি আবশ্যিক উপাদান । নতুন বিকাশমান ভাষার পক্ষে অনুবাদ 'আত্মোন্নতি সাধনের এক অপরিহার্য পন্থা ।

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে অনুবাদ সাহিত্যের চর্চা হয়েছিল এবং পরিণামে এ সাহিত্যের শ্রীবৃদ্ধিসাধনে অনুবাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবশ্যস্বীকার্য। সত্যিকার সার্থক সাহিত্য অনুবাদের মাধ্যমে সৃষ্টি করার বিস্তর বাধা থাকলেও ভাষা সাহিত্যের গঠনযুগে অনুবাদের বিশেষ প্রয়োজন অনুভূত হয়। তাই ড. দীনেশ সেন। মন্তব্য করেছেন, “ভাষার ভিত্তি দৃঢ় করিতে প্রথমত অনুবাদ গ্রন্থেরই আবশ্যক।' অনুবাদমূলক সাহিত্যসৃষ্টি ভিত্তি করেই মুখের ভাষা সাহিত্যের ভাষায় উন্নীত হয়ে থাকে । আবার এ ধরনের রচনা সাহিত্যকে সম্প্রসারিত হতে সাহায্য করে। শ্রেষ্ঠ ভাষা থেকে সাহিত্যিক অনুবাদের মাধ্যমে নতুন ভাষা কেবল সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডার ও দক্ষ প্রকাশরীতিই আয়ত্ত করে না, শ্রেষ্ঠতর ভাবকল্পনার সঙ্গেও পরিচিত ও অন্বিত হতে পারে। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অনুবাদ শাখার ভূমিকা থেকে এ কথার তাৎপর্য সহজেই অনুধাবন করা যায় ।

জ্ঞানবিজ্ঞানের বিষয়ের বেলায় শুদ্ধ অনুবাদ অভিপ্রেত। কিন্তু সাহিত্যের অনুবাদ শিল্পসম্মত হওয়া আবশ্যিক বলেই তা আক্ষরিক হলে চলে না। ভিন্ন ভাষার শব্দ সম্পদের পরিমাণ, প্রকাশক্ষমতা ও বাগভঙ্গি অনুযায়ী ভিন্ন ভাষায় ব্যক্ত কথায় সংকোচন, প্রসারণ, বর্জন ও সংযোজন আবশ্যিক হয়। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে যে অনুবাদের ধারাটি সমৃদ্ধি লাভ করে তাতে সৃজনশীল লেখকের প্রতিভা কাজ করেছিল। সে কারণে মধ্যযুগের এই অনুবাদকর্ম সাহিত্য হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে

Content added || updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

গীতালি
গীতিমাল্য
গীতাঞ্জলি
গীতবিতান

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান

1.8k

বাংলাদেশে মুসলমান আগমনের ফল ছিল দু ধরনের—প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ। তের শতকের মুসলমান শাসনের সূত্রপাতের পরিপ্রেক্ষিতে অবহেলিত বাংলা সাহিত্য তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় যে প্রাণচাঞ্চল্য লাভ করেছিল তা হল পরোক্ষ ফল। আবার মুসলমান কবিরা পনের-ষোল শতকে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে প্রত্যক্ষ অবদান সৃষ্টিতে সক্ষম হন। বাংলা সাহিত্যে মুসলমান শাসকগণের উদার পৃষ্ঠপোষকতায় যে নবজীবনের সূচনা হয়েছিল সে সম্পর্কে ড. মুহম্মদ এনামুল হক মন্তব্য করেছেন, “বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে বাংলার মুসলমানদের যতখানি হাত রহিয়াছে, হিন্দুদের ততখানি নহে। এদেশের হিন্দুগণ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্মদাতা বটে; কিন্তু তাহার আশৈশব লালন পালন ও রক্ষাকর্তা বাংলার মুসলমান। স্বীকার করি, মুসলমান না হইলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য মনোরম বনফুলের ন্যায় পল্লীর কৃষককণ্ঠেই ফুটিয়া উঠিত ও বিলীন হইত, কিন্তু তাহা জগতকে মুগ্ধ করিবার জন্য উপবনের মুখ দেখিতে পাইত না, বা ভদ্র সমাজে সমাদৃত হইত না।' পরোক্ষ এই প্রভাবের সঙ্গে মধ্যযুগে মুসলমান কবিগণ মানবিক গুণসম্পন্ন রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান রচনা করে প্রত্যক্ষভাবে বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধি সাধনে অনন্য ভূমিকা রেখে গেছেন।

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মুসলমান কবিগণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান এই রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান বা প্রণয়কাহিনি। এই শ্রেণির কাব্য মধ্যযুগের সাহিত্যে বিশিষ্ট স্থান জুড়ে আছে। ফারসি বা হিন্দি সাহিত্যের উৎস থেকে উপকরণ নিয়ে রচিত অনুবাদমূলক প্রণয় কাব্যগুলোতে প্রথমবারের মত মানবীয় বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। মধ্যযুগের কাব্যের ইতিহাসে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর আধিপত্য ছিল, কোথাও কোথাও লৌকিক ও সামাজিক জীবনের ছায়াপাত ঘটলেও দেবদেবীর কাহিনির প্রাধান্যে তাতে মানবীয় অনুভূতির প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে নি। এই শ্রেণির কাব্যে মানব-মানবীর প্রেমকাহিনি রূপায়িত হয়ে গতানুগতিক সাহিত্যের ধারায় ব্যতিক্রমের সৃষ্টি করেছে। মুসলমান কবিগণ হিন্দুধর্মাচারের পরিবেশের বাইরে থেকে মানবিক কাব্য রচনায় অভিনবত্ব দেখান। রোমান্টিক কবিরা তাঁদের কাব্যে ঐশ্বর্যবান, প্রেমশীল, সৌন্দর্যপূজারী, জীবনপিপাসু মানুষের ছবি এঁকেছেন। ড. সুকুমার সেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের এই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লক্ষ করে মন্তব্য করেছেন, 'রোমান্টিক কাহিনি কাব্যে পুরানো মুসলমান কবিদের সর্বদাই একচ্ছত্রতা ছিল। মুসলমানদের ধর্মীয় আদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দেবদেবীর কল্পনার কোন অবকাশ ছিল না। তাই বাংলা সাহিত্যের ধর্মীয় পরিবেশের বাইরে থেকে এই কবিরা স্বতন্ত্র কাব্যধারার প্রবর্তন করেন। ধর্মীয় বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন এসব কাব্যে নতুন ভাব, বিষয় ও রসের যোগান দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের সাহিত্যের গতানুগতিক ঐতিহ্যের বাইরে নতুন ভাবনা চিন্তা ও রসমাধুর্যের পরিচয় এ কাব্যধারায় ছিল স্পষ্ট। ধর্মের গণ্ডির বাইরে এই শ্রেণির জীবনরসাশ্রিত প্রণয়োপাখ্যান রচিত হয়েছিল বলে তাতে এক নতুনতর ঐতিহ্যের সৃষ্টি হয় ।

রোমান্টিক প্রণয়কাব্যগুলোতে স্থান পেয়েছে বিষয়বস্তু হিসেবে মানবীয় প্রণয়কাহিনি। এই প্রণয়কাহিনি মর্ত্যের মানুষের। ড. ওয়াকিল আহমদ মন্তব্য করেছেন, 'মানুষের প্রেমকথা নিয়েই প্রণয়কাব্যের ধারা, কবিগণ মধুকরী বৃত্তি নিয়ে বিশ্বসাহিত্য থেকে সুধারস সংগ্রহ করে প্রেমকাব্যের মৌচাক সাজিয়েছেন। বাংলা সাহিত্যে তা অভিনব ও অনাস্বাদিতপূর্ব। মুসলমান কবিরাই এ কৃতিত্বের অধিকারী।”

প্রণয়কাব্যগুলোর বিকাশ ঘটেছিল বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের পরিসরে। মুসলমান কবিগণের সামনে দৃষ্টান্ত হিসেবে ছিল হিন্দুপুরাণ পরিপুষ্ট পাঁচালি। এই একঘেঁয়ে ধর্মগীতির ধারা তাঁদের কাছে প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে নি। বরং প্রণয়কাব্য রচনায় মূল্যবান অবদান রেখে তাঁরা বাংলা কাব্যে সঞ্চার করে গেছেন এক অনাস্বাদিত রস। মঙ্গলকাব্যের কাহিনি গ্রথিত হয়েছে দেবদেবীর মাহাত্ম্য বর্ণনার উদ্দেশ্যে। কিন্তু প্রণয়কাব্যের লক্ষ্য ছিল শিল্পসৃষ্টি ও রসসঞ্চার। রোমান্টিক কথা ও কাহিনির অসাধারণ ভাঙার আরবি-ফারসি সাহিত্যের প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় বাংলা সাহিত্যে এই ধারার সৃষ্টি। আর এতে আছে জীবনের বাস্তব পরিবেশের চেয়ে ইরানের যুদ্ধামোদী রাজদরবার ও নাগর সমাজের মানসাভ্যাসের প্রতিফলন।' প্রণয়কাব্যগুলোতে উপাদান হিসেবে স্থান পেয়েছে 'মানবপ্রেম, রূপ-সৌন্দর্য, যুদ্ধ ও অভিযাত্রা, অলৌকিকতা ও আধ্যাত্মিকতা।

বাংলার মুসলমান কবিগণের মধ্যে প্রাচীনতম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর চৌদ্দ শতকের শেষে বা পনের শতকের প্রথমে 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্য রচনা করার মাধ্যমে এই ধারার প্রবর্তন করেন। তারপর অসংখ্য কবির হাতে এই কাব্যের বিকাশ ঘটে এবং আঠার শতক পর্যন্ত তা সম্প্রসারিত হয়। এই দীর্ঘ সময় ধরে মুসলমান কবিগণের স্বতন্ত্র অবদান ব্যাপকতা ও ঔজ্জ্বল্যে বাংলা সাহিত্যকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা সাহিত্যকে আরবি ফারসি হিন্দি সংস্কৃত সাহিত্যের সঙ্গে সংযোগ সাধন করে যে নতুন ঐতিহ্যের প্রবর্তন করা হয় তার তুলনা নেই। পরবর্তী পর্যায়ে দোভাষী পুঁথির মধ্যে এই ধরনের বিষয় স্থান পেলেও তাতে কোন ঔজ্জ্বল্য পরিলক্ষিত হয় না।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
মুহাম্মদ এনামুল হক
আনোয়ার পাশা
আহমদ শরীফ

আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য

1.4k

আরাকান রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের যে বিকাশ সাধিত হয়েছিল তা এদেশের সাহিত্যের ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাঙালি মুসলমান কবিরা ধর্মসংস্কারমুক্ত মানবীয় প্রণয়কাহিনি অবলম্বনে কাব্যধারার প্রথম প্রবর্তন করে এ পর্যায়ের সাহিত্যসাধনাকে স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী করেছেন। ধর্মীয় ভাবভাবনায় সমাচ্ছন্ন কাব্যজগতের পাশাপাশি মুক্ত মানবজীবনের আলেখ্য অঙ্কনের মাধ্যমে মুসলমান কবিগণ সূচনা করেছেন স্বতন্ত্র ধারার। সুদূর আরাকানে বিজাতীয় ও ভিন্ন ভাষাভাষী রাজার অনুগ্রহ লাভ করে বঙ্গভাষাভাষী যে সকল প্রতিভাশালী কবির আবির্ভাব ঘটেছিল তাঁরা তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান অবদানে বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ করেছেন এবং মধ্যযুগের ধর্মনির্ভর সাহিত্যের পাশে মানবীয় প্রণয়কাহিনি স্থান দিয়ে অভিনবত্ব দেখিয়েছেন। আরাকান রাজসভার মুসলমান কবিগণকর্তৃক সৃষ্ট কাব্যরসাস্বাদনের নতুন ধারাটি বাংলা সাহিত্যের মূল প্রবাহ থেকে স্বতন্ত্র এবং ভৌগোলিক দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও তা সর্বজনীন বাংলা সাহিত্যের অভ্যুদয় ক্ষেত্রে এক অবিস্মরণীয় প্রভাব বিস্তার করেছিল।

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমান কবিগণের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের বিষয়টি পণ্ডিতদের দৃষ্টিতে আসতে বিলম্বিত হয়েছে। মুসলমান কবিরা ইসলামি বিষয় অবলম্বনে কাব্যরচনা করায় বৃহত্তর হিন্দুসমাজ তার প্রতি সমাদর দেখায় নি। ফলে হিন্দুসমাজে এসব কবির নাম অজানা ছিল। উনিশ শতকের শেষ দিকে ড. দীনেশচন্দ্র সেন প্রমুখের উদ্যোগে হাতে লেখা পুঁথি সংগ্রহের ব্যাপক প্রচেষ্টা শুরু হলেও মুসলমান কবিদের রচনা উপেক্ষিত থেকেছে। পরবর্তী কালে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মুসলমান কবিগণের পুঁথি আবিষ্কার করে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমান কবিদের বিস্ময়কর অবদানের বিশাল ভাণ্ডার উদ্ঘাটন করেন। বাংলাদেশের গবেষকগণের ঐকান্তিক চেষ্টায় মধ্যযুগের মুসলমান কবিগণ স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণে আরাকানের মুসলিম সংস্কৃতি বাংলাদেশের ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন ও স্বতন্ত্র হয়ে পড়লেও তার মানবিক চেতনাসমৃদ্ধ নতুন সাহিত্যসৃষ্টি যে স্বতন্ত্র ঐতিহ্যের উজ্জ্বলতম প্রকাশ হিসেবে দেখা। দিয়েছিল তা বাংলাদেশের গবেষকগণের ঐকান্তিকতায় সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের বাইরে বার্মার (বর্তমান মায়ানমার) অন্তর্ভুক্ত মগের মুল্লুক আরাকানে বাংলা কাব্যচর্চার বিকাশ বিশেষ কৌতূহলের ব্যাপার বলে মনে হতে পারে। আরাকানকে বাংলা সাহিত্যে 'রোসাং' বা 'রোসাঙ্গ' নামে উল্লেখ করা হয়েছে। বার্মার উত্তর-পশ্চিম সীমায় এবং চট্টগ্রামের দক্ষিণে সমুদ্রের তীরে এর অবস্থান ছিল। আরাকানবাসীরা তাদের দেশকে 'রখইঙ্গ' নামে অভিহিত করত। কথাটি সংস্কৃত 'রক্ষ' থেকে উৎপন্ন বলে মনে করা হয়। আরাকানি ভাষায় 'রখইঙ্গ' শব্দের অর্থ দৈত্য বা রাক্ষস এবং সে কারণে দেশকে বলে 'রখইঙ্গ তঙ্গী' বা রাক্ষসভূমি। 'রখইঙ্গ' থেকেই 'রোসাঙ্গ' শব্দের উৎপত্তি। আইন-ই-আকবরিতে এদেশ 'আখরত্ব' নামে অভিহিত হয়েছে। ড. মুহম্মদ এনামুল হক 'রখইং' শব্দের ইংরেজি অপভ্রংশ 'আরাকান' বলে উল্লেখ করেছেন। আরাকানের অধিবাসীরা সাধারণভাবে বাংলাদেশে 'মগ' নামে পরিচিত। এই 'মগ' বা "মঘ শব্দটি ‘মগধ' শব্দজাত এবং শব্দটি আরাকানি ও বৌদ্ধ শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশ মুসলমান অধিকারে আসার পূর্বে আরাকানে মুসলমানদের আগমন ঘটে। খ্রিস্টীয় আট-নয় শতকে আরাকানরাজ মহাতৈং চন্দয় (৭৮৮-৮১০) এর রাজত্বকালে যে সকল আরবিয় বণিক স্থায়ীভাবে সে দেশে বসবাস শুরু করে তাদের মাধ্যমেই সেখানে ইসলাম ধর্মের প্রচার হয়। একই সময় থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলেও ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটে। ফলে ধর্মীয় বন্ধনের মাধ্যমে এই দুই অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যে ছিল ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। ইতিহাসের সাক্ষ্যে প্রমাণ মিলে যে, আরাকানরাজারা দেশধর্মের প্রভাবের ঊর্ধ্বে একটি সর্বজনীন সংস্কৃতির অধিকারী হয়েছিলেন এবং সেখানে ছিল মুসলমানদের ব্যাপক প্রভাব। মেঃৎ-চৌ-মৌন-এর আমলে ১৪৩০ থেকে ১৪৩৪ সাল পর্যন্ত রোসাঙ্গ গৌড়ের সুলতান জালালুদ্দিন মহম্মদ শাহর করদরাজ্য রূপে বিদ্যমান ছিল।

‘বার্মার মূল ভূখণ্ড ও আরাকানের মধ্যেকার দুরতিক্রম্য পর্বতই আরাকানের স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীন সত্তার এবং সমুদ্রসান্নিধ্য তার সমৃদ্ধির কারণ।' আরাকান রাজ নরমিখলা বার্মারাজার ভয়ে ১৪৩৩ সালে চট্টগ্রামের রামু বা টেকনাফের শত মাইলের মধ্যে অবস্থিত 'মোহ' নামক স্থানে রাজধানী স্থাপন করেন। সে সময় থেকে ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত তিন শ বছর ম্রোহঙ আরাকানের রাজধানী ছিল। এই ম্রোহঙ শব্দ থেকেই রোসাঙ্গ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে অনেকের ধারণা।

রোসাঙ্গের রাজারা ছিলেন বৌদ্ধধর্মাবলম্বী। এই সময় থেকে তাঁরা নিজেদের বৌদ্ধ নামের সঙ্গে এক একটি মুসলমানি নাম ব্যবহার করতেন। তাঁদের প্রচলিত মুদ্রার একপীঠে ফারসি অক্ষরে কলেমা ও মুসলমানি নাম লেখার রীতিও প্রচলিত হয়েছিল। যে সব ইসলামি নাম তাঁরা ব্যবহার করেছেন সেগুলো হল : কলিমা শাহ্, সুলতান, সিকান্দর শাহ্, সলীম শাহ্, হুসেন শাহ প্রভৃতি। ১৪৩৪ থেকে ১৬৪৫ সাল পর্যন্ত দুই শতাধিক বৎসর ধরে আরাকান রাজগণ মুসলমানদের ব্যাপক প্রভাব স্বীকার করে নিয়েছিলেন। এই সময়ের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ড. মুহম্মদ এনামুল হক মুসলিম বাঙ্গলা সাহিত্য' গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন, 'এই শত বৎসর ধরিয়া বঙ্গের (মোগল-পাঠান) মুসলিম রাজশক্তির সহিত স্বাধীন আরাকান রাজগণের মোটেই সদ্ভাব ছিল না, অথচ তাঁহারা দেশে মুসলিম রীতি ও আচার মানিয়া আসিতেছিলেন। ইহার কারণ খুঁজিতে গেলে মনে হয়, আরাকানি মঘসভ্যতা, রাষ্ট্রনীতি ও আচারব্যবহার হইতে বঙ্গের মুসলিম সভ্যতা রাষ্ট্রনীতি ও আচারব্যবহার অনেকাংশে শ্রেষ্ঠ ও উন্নত ছিল বলিয়া আরাকানি রাজগণ বঙ্গের মুসলিম প্রভাব হইতে মুক্ত হইতে পারেন নাই।

আরাকান রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই সময় বাঙালি মুসলমান কবিরা ধর্মসংস্কারের বাইরে মানবীয় প্রেমকাহিনি নিয়ে নতুন কাব্যধারার সূচনা করেন। আরাকানে বিজাতীয় রাজাদের অনুগ্রহে বাংলা ভাষাভাষী কবিরা তাদের সাহিত্যিক অবদান দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন।

মধ্যে মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের অবদান নিয়ে গবেষণা বিলম্বিত হয়েছে, কারণ হিন্দু সমাজ তাদের প্রতি সমাদর দেখায়নি। উনিশ শতকের শেষদিকে ড. দীনেশচন্দ্র সেনের মাধ্যমে কবিদের পুঁথি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হলেও মুসলমান কবিদের রচনা উপেক্ষিত ছিল। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ পরে মুসলমান কবিদের উল্লেখযোগ্য অবদান আবিষ্কার করেন।

আরাকান স্থানটি বাংলাদেশ থেকে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও এর সাহিত্য সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে বিশেষ প্রভাব ফেলে। আরাকানকে 'রোসাং' বা 'রোসাঙ্গ' নামে উল্লেখ করা হয়, এবং এটি বাংলার পূর্বে মগের অঙ্গভুক্ত ছিল। আরাকানে মুসলমানদের আগমন খ্রিস্টীয় আট-নয় শতকে ঘটে।

আরাকান রাজারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও মুসলমানি নাম ব্যবহার করতেন এবং এই সময়ের ঘটনায় ইসলামি সম্পৃক্ততা ছিল। আরাকনের রাজধানী ম্রোহঙ ত্রিশ বছর ধরে আরাকানের রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে।

  • বাংলা সাহিত্যে আরাকানকে 'রোসাঙ্গ' বলা হয় । সপ্তদশ শতকে এ অঞ্চল বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক প্রসারে বিশেষ অবদান রাখে।
  • আরাকান রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।
  • আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।

বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় আরাকান রাজসভার ভূমিকা

শ্রীচৈতন্যের প্রভাবে দেব-দেবীর মাহাত্ম্য কীর্তনে যখন মুখরিত মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য, তখন বার্মার অন্তর্ভুক্ত 'মগের মুল্লুক'-এ আরাকানের বৌদ্ধ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলিম কবিদের কাব্য সাধনার আসরে ধ্বনিত হয়েছিল আরেক নবসুরের আলাপন, ফুটে উঠেছিল দেব-দেবীবিহীন বলিষ্ঠ লৌকিক প্রেমকাহিনি। এ চিত্র একান্তভাবেই মৃত্তিকাঘনিষ্ঠ মানবজীবনের প্রতীক। মায়ানমারের উত্তর-পশ্চিম সীমায় এবং চট্টগ্রামের দক্ষিণে সমুদ্রের তীরে আরাকানের অবস্থান। আরাকানকে বাংলা সাহিত্যে 'রোসাঙ্গ' নামে অভিহিত করা হয়। বাংলায় মোগল-পাঠান সংঘর্ষের ফলে অনেক সম্ভ্রান্ত মুসলমান আরাকানে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং আরাকান রাজসভার উচ্চ পদগুলোয় অধিষ্ঠিত হয়। কারণ, আরাকানের নিজস্ব সভ্যতা ও সংস্কৃতির চেয়ে মুসলিম সংস্কৃতি অতি উঁচু মানের ছিল। মধ্যযুগে ধর্মসংস্কারমুক্ত ঐহিক কাব্যকথার প্রবর্তন করেন মুসলমান কবিগণ এবং তা আরাকান রাজসভাকে কেন্দ্র করে রূপায়িত হয়ে উঠে। আরাকান রাজা শ্রী সুধর্মার সমর সচিব আশরাফ খানের তত্ত্বাবধানে দৌলত কাজী 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন। কোরেশী মাগন ঠাকুর নিজে 'চন্দ্রাবতী' কাব্য রচনা করেন এবং তাঁর সহায়তায় আলাওল 'পদ্মাবতী', সৈয়দ মুহম্মদের নির্দেশে 'হপ্তপয়কর', নবরাজ মজলিসের আদেশে 'সিকান্দরনামা', সৈয়দ মুসার আদেশে 'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' কাব্য রচনা করে বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধি সাধনে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও কবি মরদনের 'নসীরানামা' ও আবদুল করীম খন্দকার 'দুল্লা মজলিস' কাব্য রচনা করেন, যা বাংলা কাব্যসম্ভারকে সমৃদ্ধ করে। একান্ত মানবিক প্রেমাবেদন-ঘনিষ্ঠ এসব কাব্য অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

আরাকান রাজসভার বাংলা সাহিত্য-

সাহিত্যিক

সাহিত্যকর্ম

দৌলত কাজী'লোরচন্দ্রাণী ও সতীময়না' (১৬৫৯)
আলাওল'পদ্মাবতী', 'হপ্তপয়কর', ‘তোহফা’ (নীতিকাব্য), 'সিকান্দরনামা', 'সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল'
কোরেশী মাগন ঠাকুর‘চন্দ্রাবতী’
মরদন 'নসীরানামা'
আবদুল করিম খন্দকার'দুল্লা মজলিস', 'নূরনামা

Content added By
Content updated By

মর্সিয়া সাহিত্য

979

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' নামে এক ধরনের শোককাব্য বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এমন কি তার বিয়োগাত্মক ভাবধারার প্রভাবে আধুনিক যুগের পরিধিতেও তা ভিন্ন আঙ্গিকে এসে উপনীত হয়েছে। শোক বিষয়ক ঘটনা অবলম্বনে সাহিত্যসৃষ্টি বিশ্ব সাহিত্যের প্রাচীন রীতি হিসেবে বিবেচিত। 'মর্সিয়া' কথাটি আরবি, এর অর্থ শোক প্রকাশ করা। আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়। আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্যে স্থান পায়। ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে। এসব আদর্শ অনুসরণ করে বাংলা ভাষায় মর্সিয়া সাহিত্যের প্রচলন হয়। ভারতে বিভিন্ন ভাষায় মর্সিয়া সাহিত্যের প্রচলনের পিছনে পারস্য দেশীয় বণিক, দরবেশ, পণ্ডিত, কবি প্রমুখের অনুপ্রেরণা বিশেষ ভাবে কাজ করেছে।

এসব কাব্যের কোন কোনটি যুদ্ধ কাব্য হিসেবে বিবেচনার যোগ্য। যুদ্ধের কাহিনি নিয়ে কোন কোনটি পরিণতিতে চরম বিয়োগাত্মক রূপ গ্রহণ করেছে। শেষে কাব্য হয়ে উঠেছে মর্সিয়া বা শোক কাব্য। কোথাও কোথাও যুদ্ধকাহিনি নিয়ে রচিত হয়েছে জঙ্গনামা। কারবালার বিষাদময় কাহিনিতে যুদ্ধের ঘটনা যত প্রাধান্য পেয়েছে তার চেয়ে বেশি পেয়েছে শোকের অনুভূতি। এ প্রসঙ্গে ড. গোলাম সাকলায়েন মন্তব্য করেছেন, ‘জঙ্গনামা বা যুদ্ধকাহিনি-সংবলিত কাব্যগুলি মুসলিম কবিসৃষ্ট সাহিত্যধারার মধ্যে নানাকারণে বৈশিষ্ট্যের দাবি করতে পারে। কারবালা-যুদ্ধভিত্তিক কাব্যনির্মাণ সেকালের কবিদের কাছে ফ্যাশান হিসাবে গণ্য হতো এবং সেটা প্রলোভনের ব্যাপারও ছিল। তার কারণ সুস্পষ্ট। মুহরম মাস এলেই বাংলার গ্রামে-গঞ্জে মুসলমানদের মন বেদনাকরুণ পুথিপাঠের আসর বসাতো আর সেইজন্য কবিরাও কারবালার করুণ কাহিনি নিয়ে শহীদে কারবালা, জঙ্গনামা, হানিফার লড়াই ইত্যাদি কাব্য লেখার তাগিদ বোধ করতেন।'

মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্যে কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে। তার কারণ দাক্ষিণাত্যের বাহমনিরাজ্যে- বিজাপুরে-বিদরে-বেরারে-গোলকুণ্ডায়-আহমদনগরে ইরানি বংশজ শিয়ারাই সুলতান ও শাসকগোষ্ঠী ছিলেন। শিয়ারা কারবালা যুদ্ধকে স্মরণ করা অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় পার্বণ বলেই জানে। চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দাক্ষিণাত্যের শিয়াদের ও ইরানি শিয়াদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল, সে সূত্রে ষোল শতক থেকেই চট্টগ্রাম অঞ্চলে 'মাতুল হোসেন' (হোসেন নিধন) কাব্য রচিত হতে থাকে, তারপর শিয়া সাক্ষাতী-শাসিত ইরানে আশ্রিত হুমায়ুনের দিল্লি প্রত্যাবর্তনের পরে দরবারসূত্রে ইরানের ও ইরানীয় প্রভাব প্রবল ও সর্বব্যাপী হতে থাকে। আবার আঠার শতকে সাফাতী রাজত্বের অবসানে ভারতে বাংলায় আশ্রিত শিয়া ইরানিদের প্রভাবে মুহররম তাজিয়াদি সহ একটি জনপ্রিয় জাতীয় পার্বণের মর্যাদায় স্থায়ী প্রতিষ্ঠা পায়।

মোগল আমলে মুর্শিদাবাদ, ঢাকা প্রভৃতি অঞ্চলে শিয়া শাসক ও আমীর ওমরাগণ শাসনকার্য উপলক্ষে এসে বসবাস করতেন। মুসলমানদের মধ্যে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা মর্সিয়া সাহিত্য বিকাশের প্রেরণা দান করেন। তৎকালীন শিয়া শাসকরা কবিগণকে উৎসাহ প্রদান করতেন। অনেক কবি মুর্শিদাবাদের নবাবের মনোরঞ্জনের জন্য মর্সিয়া রচনায় আত্মনিয়োগ করতেন।

মর্সিয়া সাহিত্যের উৎপত্তি সম্পর্কে ড. আহমদ শরীফ মন্তব্য করেছেন, 'যদিও ইমাম হাসান-হোসেনের প্রতি সমকালে হযরত আলীর ভক্ত-অনুগতদের ছাড়া আর কারও তেমন সমর্থন সহানুভূতি ছিল না, তবু কালক্রমে আল্লাহর বান্দা ও রসুলের নাতি বলেই মুসলিম মাত্রই হাসান-হোসেনের ভক্ত-সমর্থক এবং মুয়াবিয়া-এজিদের নিন্দুক হয়ে ওঠে। যেহেতু পরবর্তী কালে মুসলিমমাত্রই রসুলের আত্মীয় বলে তাঁর হতভাগ্য দৌহিত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে, অর্থাৎ পরাজিত পক্ষের সমর্থক হয়ে যায়, যেহেতু নায়ক বিজয়গৌরব হীন, সেহেতু তার প্রধান রস করুণ হতেই হয়—শোকের বা কান্নার আধার বলেই এ বিলাপ-প্রধান সাহিত্যের নাম 'মর্সিয়া সাহিত্য বা শোক সাহিত্য।'

মর্সিয়া সাহিত্যের উৎপত্তি কারবালার বিষাদময় কাহিনি ভিত্তি করে হলেও তার মধ্যে অন্যান্য শোক ও বীরত্বের কাহিনির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। মুসলিম সাম্রাজ্যের খলিফাগণের বিজয় অভিযানের বীরত্বব্যঞ্জক কাহিনিও এই শ্রেণির কাব্যে স্থান পেয়েছে। 'জঙ্গনামা' নামে বাংলা সাহিত্যে এ ধরনের কাব্য রচিত হয়েছে। মর্সিয়া সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ড. গোলাম সাকলায়েন তাঁর 'বাংলায় মর্সিয়া সাহিত্য' গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন, 'এই কাব্যগুলির মাধ্যমে বাঙালি মুসলমান তাঁহাদের প্রাণের কথা প্রতিধ্বনিত হইতে শুনিলেন ও তাঁহারা ইহার মারফত অতীত ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করিতে শিখিলেন। বাংলা মর্সিয়া কাব্যগুলি প্রধানত অনুবাদ সাহিত্য হিসাবেই গড়িয়া উঠে। বাঙালি কবিগণ যদিও মূলত ফারসি ও উর্দু কাব্যগুলির ভাবকল্পনা ও ছায়া আশ্রয় করিয়া তাহাদের কাব্যাদি রচনা করিয়াছিলেন তথাপি এগুলির মধ্যে তাঁহাদের মৌলিকতার যথেষ্ট পরিচয় বিদ্যমান। ফলে এই কাব্যগুলি এক প্রকার অভিনব সৃষ্টি হইয়া দাঁড়াইয়াছে। সুদূর আরব পারস্যের মানুষের কাহিনি কাব্যাকারে লিপিবদ্ধ করিতে গিয়া কবিগণ যে বাগভঙ্গি ও পরিকল্পনার আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছেন তাহা অনেক ক্ষেত্রে অবাস্তব ও উদ্ভট হইয়াছে। ইহাতে মনে হয়, বাঙালি কবিগণ মাটির প্রভাব অতিক্রম করিতে পারেন নাই।'

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' শোককাব্যের একটি জনপ্রিয় শাখা। আরবি শব্দ 'মর্সিয়া' অর্থ শোক প্রকাশ করা, যা আরবি সাহিত্যে উদ্ভব লাভ করে কারবালার যুদ্ধ ও শহীদ ইমাম হোসেনের কাহিনী অবলম্বনে। ফারসি সাহিত্য ও পরে উর্দুতে এর প্রসার ঘটলে, বাংলা ভাষায়ও মর্সিয়া সাহিত্যের জন্ম হয়।

শোক ও যুদ্ধ কাহিনির ভিত্তিতে লেখা এসব কবিতা বাংলায় বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বিশেষ করে ষোল ও সতেরো শতকে। ড. গোলাম সাকলায়েন মন্তব্য করেছেন যে, মর্সিয়া সাহিত্য মুসলিম কবিদের সৃষ্টি ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। তা ছাড়া ড. আহমদ শরীফ মর্সিয়া সাহিত্যের উৎপত্তি ও এর বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

  • মর্সিয়া সাহিত্যের উৎস: কারবালার কাহিনির প্রভাব।
  • শোক ও বিয়োগাত্মক কাহিনির অনুপ্রবেশ।
  • বাঙালি কবিরা ফারসি ও উর্দু কাব্যের ছায়ায় তাদের কাব্য রচনা করেছেন।
  • মাসকুলিন ভাবনা ও সমাজের প্রতি অধিকৃত আবেগ খুঁজে পাওয়া গেছে।

মর্সিয়া সাহিত্য বাংলা মুসলমানদের মধ্যে নানা ধরনের আবেগের প্রতিনিধিত্ব করে এবং সাহিত্যের শৈলীতে এক ধরনের মৌলিকতা প্রতিফলিত করে।

Content added By
Content updated By

লোকসাহিত্য

860

'লোকসাহিত্য' বলতে জনসাধারণের মুখে মুখে প্রচলিত গাথাকাহিনী, গান, ছড়া, প্রবাদ ইত্যাদিকে বুঝানো হয়। সাধারণত কোন সম্প্রদায় বা জনগোষ্ঠীর অলিখিত সাহিত্যই লোকসাহিত্য। 'ডাক ও খনার বচন' কে লোকসহিত্যের আদি নিদর্শন হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

চন্দ্রকুমার দে লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক। অর্থনৈতিক দৈন্যদশার কারণে বেশিদুর পড়ালেখা করতে পারেননি। ফলে নামমাত্র বেতনে চাকরি করেছেন বিভিন্ন জায়গায়। অবশেষে কেদারনাথের মাধ্যমে চন্দ্রকুমার দে দীনেশচন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করেন এবং মাসিক সত্তর টাকা বেতনে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকসাহিত্য সংগ্রাহক পদে নিযুক্ত হন। চন্দ্রকুমার দে সারা বাংলা ঘুরে ঘুরে লোকসাহিত্য ও লোকসংগীত সংগ্রহ শুরু করেন। পরবর্তীতে এসকল সংগৃহীত সাহিত্য দীনেশচন্দ্রের সম্পাদনায় 'মৈমনসিংহ গীতিকা' ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা' নামে প্রকাশিত হয়। ফলে চন্দ্রকুমার দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন এবং লোকসাহিত্য প্রেমীর হৃদয়ে জায়গা করে নেন।

রায়বাহাদুর দীনেশচন্দ্র সেন একাধারে ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোকসাহিত্য বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। দেশের সংস্কৃতির প্রতি গভীর মমতা থাকার কারণে তিনি দেশের অতীতের সাহিত্যকে জনসমক্ষে আনতে ব্যাপক প্রয়াস চালান। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য বিলুপ্তি থেকে উদ্ধার এবং এ সাহিত্য বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে গ্রন্থ প্রণয়নে তিনি অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সম্পাদনায় সংগৃহীত এ লোকসাহিত্য 'মৈমনসিংহ গীতিকা' ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা' নামে প্রকাশিত হয়। ফলে তিনি সর্বত্র প্রভূত প্রশংসা অর্জন করেন এবং লোকসাহিত্যপ্রেমীর হৃদয়ে জায়গা করে নেন।

ছড়া

658

ছড়া মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত ঝংকারময় পদ্য। এটি সাধারণত স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত। এটি সাহিত্যের একটি প্রাচীন শাখা। যিনি ছড়া লেখেন তাকে ছড়াকার বলা হয়। ‘ছেলেভুলানো ছড়া’, ‘ঘুম পাড়ানি ছড়া’ ইত্যাদি ছড়া দীর্ঘকাল যাবৎ প্রচলিত। প্রাচীনকাল থেকে ইংরেজি ভাষায় ননসেন্স রাইম প্রচলিত রয়েছে কারণ ছড়ার প্রধান দাবি ধ্বনিময়তা ও সুরঝংকার, অর্থময়তা নয়।

Content added By

লোকগীতি/লোকগান

803

লোকগীতি: লোকসমাজের মুখে মুখে যে গীত চলে এসেছে। এতে কোন কাহিনী থাকে না। বিশেষ বিশেষ ভাব অবলম্বনে এই শ্রেণীর গান রচিত।

  • হারামণি: বিখ্যাত প্রাচীন লোকগীতি সংকলন। মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন ছিলেন এর প্রধান সম্পাদক।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ড. দিনেশচন্দ্র সেন
স্যার জর্জ হ্যারিসন
মনসুর বয়াতি
আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ

গীতিকা (Ballad)

785

গীতিকা: এক শ্রেণীর আখ্যানমূলক লোকগীতি সাহিত্যে গীতিকা' নামে পরিচিত। ইংরেজিতে তাকে বলা হয় ব্যালাড। Ballad শব্দটি ফরাসি Ballet বা নৃত্য শব্দ থেকে এসেছে।

ইউরোপে প্রাচীনকালে নাচের সাথে যে কবিতা গীত হত তাকেই Ballad বা গীতিকা বলা হত। বাংলাদেশ থেকে সংগৃহিত লোকগীতিগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে ।

ক) নাথ গীতিকা

খ) মৈমনসিংহ গীতিকা

গ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

দক্ষিণবঙ্গের জমিদার
খোয়াজখিজিহের শিষ্য
কুমিরের দেবতা
বাঘের অধিষ্ঠাতা
অংশুমান রায়
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
নজরুল ইসলাম বাবু
শামসুর রাহমান
আপেল মাহমুদ
গোবিন্দ হালদার
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
আব্দুর জব্বার
রুনা লায়লা
আপেল মাহমুদ
সৈয়দ আব্দুল হাদি

নাথগীতিকা/নাথসাহিত্য

714

ক) নাথ গীতিকা: স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন রংপুর জেলার মুসলমান কৃষকদের কাছ হতে সংগ্রহ করে 'মানিকচন্দ্র রাজার গান' নামে প্রকাশ করেন।

Content added By

মৈমনসিংহ গীতিকা

812

খ) মৈমনসিংহ গীতিকা: বৃহত্তর ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বাংশে নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর, বিল, নদ-নদী পণ্ডাবিত ভাটি অঞ্চলে যে গীতিকা বিকশিত হয়েছিল তা 'মৈমনসিংহ গীতিকা' নামে পরিচিত। ডঃ দীনেশচন্দ্র সেন গীতিকাগুলো সংগ্রহ করে 'মৈমনসিংহ গীতিকা' নামে প্রকাশ করেন। 'ময়মনসিংহ গীতিকা' বিশ্বের ২৩ টি ভাষায় অনূদিত হয়।

উল্লেখযোগ্য গীতিকার মধ্য রয়েছে:

ক. 'মহুয়া' পালা: মৈয়মনসিংহ গীতিকার শ্রেষ্ঠ পালা। এটি একটি প্রণয় আখ্যান। রচয়িতা দ্বিজ কানাই।

খ. দেওয়ানা মদিনা: রচয়িতা মনসুর বয়াতি।

গ. কাজল রেখা

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

দ্বিজ মাধব
দ্বিজ কানাই
চন্দ্রবতী
মনসুর বয়াতি
দ্বিজ মাধব
দ্বিজ কানাই
চন্দ্রাবতী
মনসুর বয়াতি

পূর্ববঙ্গ গীতিকা

619

গ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা: পূর্ববঙ্গ গীতিকা নামে পরিচিত গীতিকাগুলো কিছু পূর্ব ময়মনসিংহ থেকে এবং অবশিষ্ট গীতিকা নোয়াখালী, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে সংগৃহিত। ডঃ দীনেশচন্দ্র সেন গীতিকাগুলো সংগ্রহ করে 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা' নামে প্রকাশ করেন।

উল্লেখযোগ্য গীতিকার মধ্য রয়েছে: নিজাম ডাকাতের পালা, কাফন চোরা, কমল সওদাগর।

Content added By

ডাক ও খনার বচন

883

ডাক ও খনার বচন প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মধ্যযুগের শুরুতে এগুলো সমৃদ্ধি লাভ করে। একসময়ে বাংলাদেশে ডাক ও খনার বচন ব্যাপক প্রচলিত ছিল।

ক) ডাকের বচন: বৌদ্ধদের জ্ঞানপুরুষ ডাক। এ বৌদ্ধ সমাজেই ডাকের বচনের উৎপত্তি হয়েছিল। কৃষক ও কৃষাণীরা এগুলো মুখস্থ রাখতেন। ডাক কোন একক ব্যক্তি বিশেষের নাম নাও হতে পারে। হয়ত একাধিক ব্যক্তি কালক্রমে বিশেষ জ্ঞানের যে পদগুলো রচনা করেছেন তাকেই ডাকের বচন বলা হয়। ডাকের বচন 'ডাকের কথা' বা 'ডাক পুরুষের কথা' নামেও পরিচিত। এতে জ্যোতিষ, ক্ষেত্রতত্ত্ব ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। যেমন:

  • ঘরে আখা বাইরে রাঁধে, অল্প কেশ ফুলাইয়া বাঁধে।

খ) খনার বচন: কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে।

খনা: খনার বচন প্রধানত কৃষিভিত্তিক। খনার বচন ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। বৌদ্ধ সমাজে যেমন ডাকের বচনের উৎপত্তি হয়েছিল, তেমনি হিন্দু সমাজে খনার বচনের সৃষ্টি হয়েছিল। এ বচনগুলি জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বিদুষী বাঙালি নারীর রচিত বলে ধরে নেয়া হয়। খনার বচনগুলির মাধ্যমে প্রধানত কৃষি, আবহাওয়া, সমাজের পরিচয় সম্পর্কে বহুবিধ ধারণা পাওয়া যায়। যেমন:

  • কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস।
  • একে তো নাচুনি বুড়ি, তার উপর ঢোলের বাড়ি।
  • কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।
  • আলো হাওয়া বেধ না, রোগ ভোগে মরো না।
  • উনা ভাতে দুনা বল, অতি ভাতে রসাতল।
  • আউশ ধানে চাষ লাগে তিন মাস।
  • আগে খাবে মায়ে, তবে পাবে পোয়ে।
  • গাছে গাছে আগুন জ্বলে, বৃষ্টি হবে খনায় বলে।
  • তেলা মাথায় ঢালো তেল, শুকনো মাথায় ভাঙ্গ বেল।
  • দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।
  • ভাত দেবার মুরোদ নাই, কিল দেবার গোসাঁই।

Content added || updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সুসঙ্গ মানুষকে ভালো করে
যেমন কর্ম তেমন ফল
শুধু চিন্তায় সাফল্য আসে না
এক-কে ছাড়া অন্যের অস্তিত্ব নেই।

লোককথা

671

গদ্যের মাধ্যমে কাহিনি বর্ণিত হলে তাকে লোককথা বা লোককাহিনি বলে। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Folklore. কাহিনিগুলো কাব্যে রূপায়িত হলে 'গীতিকা' এবং গদ্যে বর্ণিত হলে তা 'কথা' নামে পরিচয় লাভ করে। ড. আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মতে, লোককথা ৩ প্রকার। যথা:

১. রূপকথা

২. উপকথা

৩. ব্রতকথা।

রূপকথাঃ

নানা অবাস্তব ও অবিশ্বাস্য কাহিনি নিয়ে রচিত সাহিত্যই রূপকথা। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Fairy Tales. বাস্তব রাজ্যের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো অপুত্রক রাজার দৈব বলে পুত্রলাভ, ভাগ্যান্বেষণে রাজপুত্রের দেশান্তরে গমন এবং বহু বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে সাফল্য অর্জন, পরিণামে রাজকন্যা ও অর্ধেক রাজ্য লাভ করে সুখে কালযাপন- এ ধরণের কাহিনি কাঠামোর উপর রূপকথার ভিত্তি ও প্রকাশ। দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সংগৃহীত রূপকথার নাম 'ঠাকুরমার ঝুলি' (১৯০৭), 'ঠাকুরদাদার ঝুলি' (১৯০৯), 'ঠানদিদির থলে' (১৯০৯), 'দাদামশায়ের থলে' (১৯১৩), 'কিশোরদের মন' (১৯৩৩)। উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর রূপকথা সংগ্রহের নাম 'টুনটুনির বই' (১৯৬৪)।

উপকথা

পশু-পাখির কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই উপকথা। কৌতুক সৃষ্টি এবং নীতি প্রচারের জন্য এগুলোর সৃষ্টি। এতে মানব চরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে। ইংরেজির ঈশপের গল্প, সংস্কৃতে পঞ্চতন্ত্র ও হিতোপদেশ এরূপ নীতিকথার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

ব্রতকথা

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেয়েলি ব্রতের সাথে সম্পর্কিত কাহিনি অবলম্বনে ব্রতকথা নামে এক ধরনের লোককথার বিকাশ ঘটেছে। এসব কাহিনিতে যে ধর্মবোধের কথা বলা হয়েছে তাতে মেয়েদের জাগতিক কল্যাণ নিহিত।

Content added By

কবিগান

678

কবিগান দুই পক্ষের বিতর্কের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হত। দুই দলের মধ্যে প্রতিযোগিতাই এর বৈশিষ্ট্য। কবিওয়ালারা মূলত ছিলেন গায়ক, তাঁরা অর্থের বিনিময়ে জনমনোরঞ্জন করতেন।

কবিওয়ালাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন:

  • গোঁজলা গুঁই: তিনি কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।
  • ভবানী বেনে, ভোলা ময়রা, হরুঠাকুর, কেষ্টা মুচি, এন্টনি ফিরিঙ্গি, রামবসু, রাসু-নৃসিংহ, নিতাইবৈরাগী, শ্রীধর কথক, নীলমণি পাটনী, বলরাম বৈষ্ণব, রামসুন্দর স্যাকরা নামও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
Content added By

কবিওয়ালা ও শায়ের

850

আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে রাষ্ট্রিক, আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের মুখে কলকাতার হিন্দু সমাজে 'কবিওয়ালা' এবং মুসলিম সমাজে 'শায়ের' এর উদ্ভব ঘটে। ১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্রের মৃত্যুর পর থেকে ১৮৬০ সালে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশের পূর্ব পর্যন্ত এই ১০০ বছর বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে উৎকর্ষপূর্ণ কোনো নিদর্শন বিদ্যমান নেই।

আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে।

কয়েকজন কবিয়ালের নামঃ

গোজলা গুই (কবিগানের আদি কবি), ভবানী বেনে, ভোলা ময়রা, হরু ঠাকুর, কেষ্টা মুচি, এন্টনি ফিরিঙ্গী, রামবসু, নিতাই বৈরাগী, নিধু বাবু।

শায়ের

শায়ের আরবি শব্দ এবং এর অর্থ কবি। মুসলমান সমাজে মিশ্র (দোভাষী) ভাষারীতির পুঁথি রচয়িতাদের শায়ের বলা হতো। উল্লেখযোগ্য শায়েরগণ হলেন- ফকির গরীবুল্লাহ, সৈয়দ হামজা, মোহাম্মদ দানেশ, মালে মুহম্মদ, আব্দুর রহিম, আয়েজুদ্দিন।

Content added By

পুঁথিসাহিত্য

594

অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে আরবি-ফারসি শব্দমিশ্রিত এক ধরনের বিশেষ ভাষারীতিতে যে সব কাব্য রচিত হয়েছিল তা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'পুঁথি সাহিত্য' নামে চিহ্নিত। কলকাতার সস্তা ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়ে এই ধারার কাব্য দেশময় প্রচারিত হয়েছিল বলে 'বটতলার পুঁথি' নামেও একে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলেছে। কেউ কেউ এই শ্রেণীর কাব্যকে আরবি-ফারসি শব্দের প্রাচুর্যপূর্ণ ব্যবহারের জন্য 'দোভাষী পুঁথি' নামে অভিহিত করেছেন। কিন্তু এতে মাত্র দুটি ভাষার শব্দ নয়, বাংলা-হিন্দি-তুর্কি ভাষার শব্দের সংমিশ্রণও এতে ঘটেছে।

শায়েরদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন:

  • কবি কৃষ্ণরাম দাস: এই ধারায় প্রথম কাব্য রচনা করেন। 'রায়মঙ্গল' তাঁর কাব্যের নাম।
  • ফকির গরীবুল্লাহ: পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ। মিশ্র ভাষারীতিতে তাঁর রচিত কাব্যগুলো হচ্ছে: 'আমীর হামজা' (প্রথম অংশ), 'জঙ্গনামা',
    'ইউসুফ-জোলেখা', 'সোনাভান', 'সত্যপীরের পুঁথি'।
  • সৈয়দ হামজা: মিশ্র ভাষারীতিতে তাঁর রচিত কাব্যগুলো হচ্ছে: 'আমীর হামজা' (২য় অংশ), 'জৈগুনের পুথি', 'হাতেম তাই'। তার 'মধুমালতী' কাব্যটি পুঁথি সাহিত্যের ধারার অনুসারী নয়, কবি সম্ভবত ফারসি কাব্য থেকে বঙ্গানুবাদ করে এ কাব্যের রূপ দেন।
  • মালে মুহম্মদ, মুহম্মদ খাতের, আব্দুর রহিম নামও বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।
Content added By

টপ্পাগান

632

পুঁথি সাহিত্য ও কবিগানের সমসাময়িক বিভিন্ন গানের পরিচয় মেলে তাদের মধ্য উল্লেখযোগ্য:

কবিগানের সমসাময়িককালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনীসংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ঘটেছিল। হিন্দু টপ্পাগান এর আদর্শ। বাংলা টপ্পাগানের জনক ছিলেন নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত। টপ্পা থেকেই আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার সূত্রপাত বলে অনেকের ধারণা।

বাংলা টপ্পা গানের জনক রামনিধি গুপ্ত।

তাঁর বিখ্যাত গান-'নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা'

Content added || updated By

পাঁচালি গান

718

পুঁথি সাহিত্য ও কবিগানের সমসাময়িক বিভিন্ন কবিতা ও গানের পরিচয় মেলে তাদের মধ্য উল্লেখযোগ্য:

উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে পাচালী গান এদেশে জনপ্রিয় হয়েছিল। পাচালী রচয়িতাদের মধ্য শক্তিশালী কবি ছিলেন দাশরথি রায়।

Content added By

বাউল গান ও লালন শাহ

854

বাউল গান 'বাউল' শব্দটি এসেছে বাউর' শব্দ থেকে যার অর্থ হচ্ছে বাতুল অথবা পাগল। বাউলরা কখনো রীতিবন্ধনের মধ্যে আবদ্ধ থাকতে চান না। তারা সংসারত্যাগী মুক্ত পুরুষ। বাউলদের সাধনাই হচ্ছে সঙ্গীতচর্চা। ‘UNESCO’ বাউল গানকে ২৫ নভেম্বর, ২০০৫ সালে ‘A Masterpiece of the Oral and Intangible Heritage Humanity' বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।

মানবতার বাহক লালন শাহ্ বাউল সাধক ও বাউল কবি হিসেবে খ্যাত। প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালাভ না করলেও নিজের সাধনায় হিন্দু- মুসলমান শাস্ত্র সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান ও ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধি মুক্ত এক সর্বজনীন ভাবরসে ঋদ্ধ বলে তাঁর রচিত গান বাংলায় হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয় ।

লালন শাহ্ অক্টোবর, ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে (১ কার্তিক, ১১৭৯) ঝিনাইদহের হরিশপুর গ্রামে / কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালির ভাঁড়ারা গ্রামে এক হিন্দু কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ।
কথিত আছে যে, তিনি কোন এক সময় এক বাউল দলের সঙ্গী হয়ে গঙ্গাস্নানে যান। পথিমধ্যে বসন্ত রোগাক্রান্ত হলে সঙ্গীরা তাঁকে নদীর তীরে ফেলে যান। সিরাজ শাহ নামক জনৈক বাউল সাধক তাঁকে কুড়িয়ে নেন এবং তার কাছে লালিত-পালিত হন ।

  • লালন সাঁই এর পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল লালনচন্দ্র কর।
  • লালনের একমাত্র যে স্কেচটি প্রচলিত সেটি অঙ্কন করেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
  • সিরাজ শাহের মৃত্যুর পর তিনি কুষ্টিয়ার ছেউরিয়া গ্রামে আখড়া স্থাপন করেন।
  • তিনি আধ্যাত্মিক ও মরমি রসব্যঞ্জনায় সমৃদ্ধ বাউল সংগীতের জন্য বিখ্যাত ।
  • লালনকে বিশ্বসমাজে পরিচিত করণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।রবীন্দ্রনাথ লালনের ২৯৮টি গান সংগ্রহ করে সংরক্ষিত করেন। এর মধ্যে ২০টি গান তিনি ‘প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশ করেন
  • তিনি ১৭ অক্টোবর, ১৮৯০ সালে (বাংলা- ১লা কার্তিক, ১২৯৭) মারা যান ।

কিছু বিখ্যাত বাউ্ল গানঃ

১. খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়...
২. মিলন হবে কত দিনে...
৩. আমি অপার হয়ে বসে আছি...
৪. সময় গেলে সাধন হবে না...
৫. সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে...
৬. কেউ মালা কেউ তসবি গলায়...
৭. আপন ঘরে বোঝাই সোনা পরে করে লেনা দেনা...

Content added By

অবক্ষয় যুগ/যুগ সন্ধিক্ষণ (১৭৬০-১৮৬০ খ্রি.)

2.9k

মধ্যযুগের পরিধি ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত বলে বিবেচনা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে এই যুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের তিরোধানের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা কাব্যের ইতিহাসে মধ্যযুগের অবসান ঘটে। ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতচন্দ্রের মৃত্যুর পর থেকে ১৮৬০ সালে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশের পূর্ব পর্যন্ত এই একশ' বছর বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে উৎকর্ষপূর্ণ কোন নিদর্শন বিদ্যমান নেই। মধ্যযুগের শেষ আর আধুনিক যুগের শুরুর এই সময়টুকুকে 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়েছে। কারও কারও মতে এই সময়টা 'যুগ সন্ধিক্ষণ' নামে আখ্যাত হওয়া উচিত। 'অবক্ষয় যুগ' তথা যুগসন্ধিক্ষণের ফসল হিসাবে হিন্দুদের মধ্যে কবিগান ও মুসলমানদের মধ্যে পুঁথি সাহিত্যের উদ্ভব ঘটে। হিন্দু সমাজে কবিগানের রচয়িতাদের কবিওয়ালা এবং মুসলমান সমাজে মিশ্র ভাষারীতির পুঁথি রচয়িতাদের শায়ের বলা হত।

আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে রাষ্ট্রিক, আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের মুখে কলকাতার হিন্দু সমাজে 'কবিওয়ালা' এবং মুসলিম সমাজে 'শায়ের' এর উদ্ভব ঘটে। ১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্রের মৃত্যুর পর থেকে ১৮৬০ সালে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশের পূর্ব পর্যন্ত এই ১০০ বছর বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে উৎকর্ষপূর্ণ কোনো নিদর্শন বিদ্যমান নেই।

১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের তিরোধানের মাধ্যমে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে এবং ১৮৬০ সালে মাইকেলের সদর্প আগমনের মাধ্যমে আধুনিক যুগের সূচনা ঘটে। এ ১০০ বছর সাহিত্য জগতে চলছিল বন্ধ্যাকাল, ফলে এ সময়টুকুকে বলে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'যুগ সন্ধিক্ষণ'।

যুগ সন্ধিক্ষণের কবি/ অবক্ষয় যুগের কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

যুগসন্ধির কবি হিসেবে
পদ্যকার হিসেবে
নবজাগরণের লেখক হিসেবে
বিদ্রোহী চেতনার জন্য

বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ (১২০১-১৩৫০)

1k

মুসলমান শাসনের সূত্রপাতে দেশে রাজনৈতিক অরাজকতার অনুমান করে কোন কোন পণ্ডিত অন্ধকার যুগ চিহ্নিত করেছেন। এ ধরনের ইতিহাসকারেরা বিজাতীয় বিরূপতা নিয়ে মনে করেছেন, 'দেড় শ দু শ কিংবা আড়াই শ বছর ধরে হত্যাকাণ্ড ও অত্যাচার চালানো হয় কাফেরদের ওপর। তাদের জীবন-জীবিকা এবং ধর্ম-সংস্কৃতির ওপর চলে বেপরোয়া ও নির্মম হামলা। উচ্চবিত্ত ও অভিজাতদের মধ্যে অনেকেই মরল, কিছু পালিয়ে বাঁচল, আর যারা এর পরেও মাটি কামড়ে টিকে রইল, তারা ত্রাসের মধ্যেই দিনরজনী গুণে গুণে রইল। কাজেই, ধন জন ও প্রাণের নিরাপত্তা যেখানে অনুপস্থিত, যেখানে প্রাণ নিয়ে সর্বক্ষণ টানাটানি, সেখানে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার বিলাস অসম্ভব । ফলে সাহিত্য-সংস্কৃতির উন্মেষ-বিকাশের কথাই ওঠে না।' ড. সুকুমার সেনের মতে, “মুসলমান অভিযানে দেশের আক্রান্ত অংশে বিপর্যয় শুরু হয়েছিল। গোপাল হালদারের মতে, তখন 'বাংলার জীবন ও সংস্কৃতি তুর্ক আঘাতে ও সংঘাতে, ধ্বংসে ও অরাজকতায় মূর্ছিত অবসন্ন হয়েছিল। খুব সম্ভব, সে সময়ে কেউ কিছু সৃষ্টি করবার মত প্রেরণা পায় নি।' কেউ মনে করেন এ সময়ে 'বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বারম্বার হরণকারী বৈদেশিক তুর্কিদের নির্মম অভিযান প্রবল ঝড়ের মত বয়ে যায় এবং প্রচণ্ড সংঘাতে তৎকালীন বাংলার শিক্ষা সাহিত্য সভ্যতা সমস্তই বিনষ্ট ও বিলুপ্ত হয়ে যায়। ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, 'শারীরিক বল, সমরকুশলতা ও বীভৎস হিংস্রতার দ্বারা মুসলমানেরা অমানুষিক বর্বরতার মাধ্যমে বঙ্গসংস্কৃতির ক্ষেত্রে তামসযুগের সৃষ্টি করে।' তিনি মনে করেন, 'বর্বর শক্তির নির্মম আঘাতে বাঙালি চৈতন্য' হারিয়েছিল এবং পাঠান, খিলজি, বলবন, মামলুক, হাবশি সুলতানদের চণ্ডনীতি, ইসলামি ধর্মান্ধতা ও রক্তাক্ত সংঘর্ষে বাঙালি হিন্দুসম্প্রদায় কূর্মবৃত্তি অবলম্বন করে কোন প্রকারে আত্মরক্ষা করছিল।' তিনি আরও লিখেছেন, 'তুর্কি রাজত্বের আশি বছরের মধ্যে বাংলার হিন্দুসমাজে প্রাণহীন অখণ্ড জড়তা ও নাম-পরিচয়হীন সন্ত্রাস বিরাজ করিতেছিল ।...কারণ সেমীয় জাতির মজ্জাগত জাতিদ্বেষণা ও ধর্মীয় অনুদারতা।...১৩শ শতাব্দীর প্রারম্ভেই বাংলাদেশ মুসলমান শাসনকর্তা, সেনাবাহিনী ও পীর ফকির গাজীর উৎপাতে উৎসন্নে যাইতে বসিয়াছিল। শাসনকর্তৃগণ পরাভূত হিন্দুকে কখনও নির্বিচারে হত্যা করিয়া, কখনও বা বলপূর্বক ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করিয়া এদেশে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি করিতে আরম্ভ করেন। ... হিন্দুকে হয় স্বধর্মত্যাগ, না হয় প্রাণত্যাগ, ইহার যে কোন একটি বাছিয়া লইতে হইত।' ভূদেব চৌধুরীর মতে, *বাংলার মাটিতে রাজ্যলিপ্সা, জিঘাংসা, যুদ্ধ, হত্যা, আততায়ীর হস্তে মৃত্যু— নারকীয়তার যেন আর সীমা ছিল না। সঙ্গে সঙ্গে বৃহত্তর প্রজাসাধারণের জীবনের উৎপীড়ন, লুণ্ঠন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ধর্মহানির সম্ভাবনা উত্তরোত্তর উৎকট হয়ে উঠেছে। স্বভাবতই জীবনের এই বিপর্যয় লগ্নে কোন সৃজনকর্ম সম্ভব হয় নি।' ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলমানদের সম্পর্কে লিখেছেন, 'শারীরিক বল, সমরকুশলতা ও বীভৎস হিংস্রতার দ্বারা বাংলা ও তাহার চতুষ্পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ইসলামের অর্ধচন্দ্রখচিত পতাকা প্রোথিত হইল। খ্রিঃ ১৩শ হইতে ১৫শ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত—প্রায় দুই শত বছর ধরিয়া এই অমানুষিক বর্বরতা রাষ্ট্রকে অধিকার করিয়াছিল; এই যুগ বঙ্গসংস্কৃতির তামসযুগ, য়ুরোপের মধ্যযুগ The Dark Age-এর সহিত সমতুলিত হইতে পারে।' এ সব পণ্ডিত মুসলমান শাসকদের অরাজকতাকেই অন্ধকার যুগ সৃষ্টির কারণ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

Content added By

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ (১৮০১ খ্রি-বর্তমান)

2.1k

বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের শুরু প্রায় সুনিশ্চিতভাবেই ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ধরা হয়। এ যুগ নানা দিক থেকে বাংলা সাহিত্যের বিকাশ, সমৃদ্ধি হওয়ার যুগ; বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সুবিখ্যাত ও সমাদৃত হওয়ার যুগ।

আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের শুরুতে রাষ্ট্রিক, আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া সাহিত্যে দৃশ্যমান হয় এবং বাংলা সাহিত্যে নতুন রাগিণীর সূচনা ঘটে। পাশ্চাত্য শিক্ষা, সভ্যতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রভৃতির সংস্পর্শে এসে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হল আধুনিক যুগে। এ যুগের প্রতিভূ হলো গদ্য সাহিত্য। প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিষয় ছিল ধর্ম অথবা রাজবন্দনা আর আঙ্গিকে ছিল কেবলই কবিতা। কিন্তু আধুনিক যুগে গদ্যের বিকাশের সাথে সাথে বাংলা সাহিত্যের নব নব শাখা বিস্তৃত হলো। এ সময়ে মানবতাবোধ, যুক্তিবাদ, সমাজসচেতনতা ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, গদ্যের প্রতিষ্ঠা স্বদেশপ্রেম, রোমান্টিক দৃষ্টি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য সাহিত্যে মূর্ত হয়ে উঠে।

আধুনিক যুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য আত্মত্মচেতনা, জাতীয়তাবোধ ও মানবতার জয়জয়কার।

সাহিত্যে আধুনিক যুগ শুরু হয় ১৮০১- বর্তমান। প্রকৃতপক্ষে আধুনিক যুগ শুরু হয় ১৮৬০ সালের দিকে মাইকেল মধুসূদনের আবির্ভাবের মাধ্যমে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

নতুন ছন্দ রচনার জন্য
চলিত রীতির প্রবর্তনের জন্য
সনেটের জন্য
প্রমিত বাংলার জন্য
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
প্রমথ চৌধুরী
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাংলা গদ্যের উৎপত্তি

755

বাংলা সাহিত্যে গদ্যের সূচনা হয় উনিশ শতকে। ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্য সাহিত্যের উদ্ভব ও বিকাশ কালকে ৪ ভাগে ভাগ করেছেন। যথা:

স্তর

সময়কাল

প্রথমসূচনা - ষোড়শ শতাব্দী থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত।
দ্বিতীয়উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সাল পর্যন্ত।
তৃতীয়অভ্যূদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত।
চতুর্থপরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র) থেকে বর্তমান .......

বাংলা গদ্যসাহিত্যের প্রাথমিক নিদর্শন

১৫৫৫ সালে আসামের রাজাকে কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে প্রাথমিক নিদর্শন ধরা হয়।

বাংলা গদ্যসাহিত্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টা

১৭৪৩ সালে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে প্রকাশিত ঢাকার ভূষনার জমিদারপুত্র দোম অ্যান্টনিও রচিত 'ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ'। এটি বাঙালির লেখা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ।

বাংলা কথ্য ভাষার আদি গ্রন্থ

মনোএল দা আসসুম্পসাঁওয়ের রোমান লিপিতে লেখা 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ'। তাঁর রচিত অন্য বইটি হলো 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগোল্লা ই পোরতুগিজ' (১৭৪৩)।

বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ

১৮০০ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে মুদ্রিত মথি রচিত 'মিশন সমাচার'।

Content added By

শ্রীরামপুর মিশন ও ছাপাখান

867

শ্রীরামপুর মিশন ভারতে খ্রিষ্টানদের নিজস্ব প্রথম প্রচার সংঘ। ১৭৯৩ সালে উইলিয়াম কেরী খিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলায় আসেন। তিনি উইলিয়াম ওয়ার্ড ও জোশুয়া মার্শম্যানের সহায়তায় ডেনমার্কের শাসনাধীন পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার শ্রীরামপুরে ১০ জানুয়ারি, ১৮০০ সালে 'শ্রীরামপুর মিশন' প্রতিষ্ঠা করেন। ঐ বছরের মার্চ মাসে শ্রীরামপুর মিশনের প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮০৮ সালে মিশনের মালিকানা ডেনিশদের হাত থেকে ইংরেজদের হাতে চলে যায়। শ্রীরামপুর মিশন থেকে পরবর্তীতে 'রামায়ণ', 'মহাভারত' সহ একাধিক পুস্তক প্রকাশিত হয়। ১৮১৮ সালে এ মিশন থেকে 'দিকদর্শন' ও ‘সমাচার দর্পন’ নামে দুটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ১৮৪৫ সালে শ্রীরামপুর মিশন বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু এ প্রেস ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।

১৭৭৭ সালে জেমস হিকি নামের একজন ভাগ্যান্বেষী প্রথম কাঠের প্রেস তৈরি করে বাংলায় মুদ্রণ ব্যবসা চালু করেন। ওয়ারেন হেস্টিংস এর অনুরোধে ব্রাসি হ্যালহেড বাংলা ব্যাকরণের বই লিখার পর ছাপার যন্ত্র বা বাংলা মুদ্রণ হরফ না থাকায় হেস্টিংস তাঁর অধীনস্ত কর্মচারী চার্লস্ উইলকিন্সকে হরফ তৈরির নির্দেশ দেন। উইলকিন্স পরে পঞ্চানন কর্মকারের সহায়তায় বাংলা মুদ্রণ হরফ তৈরি করেন। ইংরেজরা ছাপাখানা তৈরি করেছিলেন প্রথমত ইংরেজ কর্মচারীদের বাংলা শেখানোর বই ও অভিধান প্রকাশ এবং দ্বিতীয়ত বাইবেলের অনুবাদ প্রকাশের জন্য।

  • ভারতীয় উপমহাদেশে ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৪৯৮ সালে গোয়ায় (এটি ছিলো পর্তুগিজ ভাষার মুদ্রণযন্ত্র)।
  • ১৭৭৮ সালে চার্লস্ উইলকিন্স হুগলিতে প্রথম বাংলা ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি নিজেই বাংলা অক্ষরের নকশা তৈরি করেন বলে তাঁকে বাংলা মুদ্রাক্ষরের জনক বলা হয়।
  • বাংলা অক্ষর খোদাই করেন পঞ্চানন কর্মকার।
  • ১৮০০ সালে উইলিয়াম কেরী জোশুয়া মার্সম্যানের সহযোগিতায় শ্রীরামপুর মিশনে মুদ্রণ যন্ত্র স্থাপন করেন।
  • শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়:
    • গ্রন্থ: 'রামায়ণ', 'মহাভারত' ইত্যাদি।
    • পত্রিকা: 'দিকদর্শন', 'সমাচার দর্পণ' প্রভৃতি।
  • বাংলাদেশে প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৭ সালে রংপুরে 'বার্তাবহ যন্ত্র' নামে ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • ঢাকায় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বাংলা প্রেস’- ১৮৬০ সালে । এখান থেকেই দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' প্রকাশিত হয়।
Content added || updated By

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ

771

বাংলা গদ্যের বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলায় কর্মরত ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্রিটিশ অফিসারদের দেশিয় ভাষা শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে লর্ড ওয়েলেক্সি কর্তৃক ৪ মে, ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে বাংলা বিভাগ চালু হয় ২৪ নভেম্বর, ১৮০১ সালে। বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরী। ১৮১৭ সালে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে এ কলেজের গুরুত্ব হ্রাস পায়। রাজা রামমোহন রায়ের সাহিত্যিক প্রভাবে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের মহিমা ধীরে ধীরে বিলীয়মান হয় এবং ১৮৫৪ সালে লর্ড ডালহৌসির সময়ে কলেজটি বন্ধ হয়ে যায়।

  • বাংলায় কর্মরত ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্রিটিশ অফিসারদের দেশিয় ভাষা শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে লর্ড ওয়েলেস্স্সি কর্তৃক ৪ মে, ১৮০০ সালে কলকাতার লালবাজারে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে বাংলা বিভাগ চালু হয় ১৮০১ সালে। কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কমপ্লেক্সের নামকরণ করা হয়েছে ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নামে। আর এ কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে এর নাম হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালুর মূল উদ্দেশ্য

বাংলায় কর্মরত ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্রিটিশ অফিসারদের বাংলা শিক্ষা দেয়া।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ বন্ধ হয় ১৮৫৪ সালে ।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রী ও বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরী। বাংলা গদ্য বিকাশের যুগে ১৮০১-১৮১৫ সাল পর্যন্ত মোট ৮ জন লেখক ১৩টি বাংলা গদ্য পুস্তক রচনা করেছিলেন। এ ৮ জনের অধিকাংশই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

বাংলা গদ্যের বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকাঃ

বাংলায় কর্মরত ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্রিটিশ অফিসারদের দেশীয় ভাষা শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে লর্ড ওয়েলেট্সি কর্তৃক ৪ মে, ১৮০০ সালে কলকাতার লালবাজারে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে বাংলা বিভাগ চালু হয় ১৮০১ সালে। কলেজটি ইংরেজদের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে চালু হলেও উপজাত হিসেবে বাংলা গদ্য বিকাশে এটি ব্যাপক অবদান রেখেছিল। এ কলেজের বাংলা বিভাগে নিযুক্ত পণ্ডিতগণের মাধ্যমে মূলত বাংলা গদ্যসাহিত্য চর্চার পথ সুগম হয়। বিশৃঙ্খল গদ্যের রূপ ও রীতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা, গদ্যের প্রচলিত রূপ দলিল-দস্তাবেজ, চিঠিপত্র, বৈষ্ণব ও সহজিয়া সাধকদের ধর্মীয় পুস্তিকা থেকে গদ্যকে সাহিত্যের মানদণ্ডে উৎকর্ষ সাধন করা এবং পুস্তক আকারে তা রূপদান করা প্রভৃতি কার্যক্রম এ কলেজের পণ্ডিতদের মাধ্যমে সূত্রপাত ঘটে। কলেজটিতে বাংলা বিভাগ চালুর পর পাঠ্যপুস্তকের অভাব পরিলক্ষিত হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে উইলিয়াম কেরীসহ মোট ৮জন লেখক ১৩টি বাংলা গদ্যপুস্তক রচনা করেন, যার মাধ্যমে বাংলা গদ্য সাহিত্যের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের পথ উন্মুক্ত হয়। কেরী বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন 'কথোপকথন' রচনা করেন। একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোপকথন এ গ্রন্থের উপজীব্য। তিনি 'ইতিহাসমালা' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পগ্রন্থ। রামরাম বসু রচিত রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র ও লিপিমালা; মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলী, বেদান্তচন্দ্রিকা, প্রবোধচন্দ্রিকা; হরপ্রসাদ রায় রচিত পুরুষ পরীক্ষা; গোলকনাথ শর্মা রচিত হিতোপদেশ; চণ্ডীচরণ মুনশি রচিত তোতা ইতিহাস প্রভৃতি গদ্যগ্রন্থ বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উইলিয়াম কেরীর গ্রন্থ রচনাঃ

  • 'কথোপকথন' (১৮০১): এটি বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন, যা ৩১টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত। গ্রন্থটি শতভাগ মৌলিক নয়। এটি দ্বিভাষিক (বাংলা ও ইংরেজি) গ্রন্থ।
  • 'ইতিহাসমালা' (১৮১২): এটি বাংলা ভাষার প্রথম গল্পগ্রন্থ। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রায় ১৫০টি গল্প সংগ্রহের পর তা অনুবাদ করে এ গ্রন্থে সংকলিত করা হয়েছে।
  • 'এ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' (১৮০১)।

কেরী সাহেবের মুন্সি বলা হতো রামরাম বসু কে । কারণ, তিনি ১৭৯৩-১৭৯৬ পর্যন্ত উইলিয়াম কেরীকে বাংলা শেখান।

রামরাম বসুর সাহিত্যকর্মসমূহ

  • 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১): এটি বাঙালির লেখা বাংলা অক্ষরে প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ। বাংলা গদ্যে প্রথম জীবনচরিত।
  • 'লিপিমালা' (১৮০২): প্রথম বাংলা পত্রসাহিত্য। এটি ৪০টি লিপি বা চিঠির সংকলন।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের রচনাবলি

রচয়িতা

সাহিত্যকর্ম

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার

[ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে তিনি বেশি পুস্তক রচনাকারী]

'বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২), 'হিতোপদেশ' (১৮০৮), 'রাজাবলী' (১৮০৮), 'বেদান্তচন্দ্রিকা' (১৮১৭), 'প্রবোধচন্দ্রিকা' (১৮৩৩)। (প্রথম ৪টি গ্রন্থ সংস্কৃত থেকে অনূদিত। তবে অনুবাদে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য প্রয়োগ করেছেন)।
রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়'মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)
তারিণীচরণ মিত্র'ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট' (১৮০৩): এটি অনূদিত গ্রন্থ।
চণ্ডীচরণ মুনশী'তোতা ইতিহাস' (১৮০৫): এটি ফারসি 'তোতা কাহিনী'র হিন্দুস্থানী অনুবাদ 'তোতা কহানী অবলম্বনে রচিত।
হরপ্রসাদ রায়'পুরুষ পরীক্ষা' (১৮১৫): এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত বিদ্যাপতির 'পুরুষপরীক্ষা' গ্রন্থের অনুবাদ।
গোলকনাথ শর্মা'হিতোপদেশ' (১৮০২): এটি সংস্কৃত 'হিতোপদেশ' গল্পের বই থেকে অনূদিত গ্রন্থ।
Content added By

হিন্দু কলেজ ও ইয়ংবেঙ্গল

836

বাংলা সাহিত্যের বিকাশে যেসব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার মধ্যে রাজা রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায় এবং ডেভিড হেয়ারের সহায়তায় ২০ জানুয়ারি, ১৮১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতার 'হিন্দু কলেজ' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কলকাতার মধ্যবিত্ত সমাজের সন্তানেরা আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের যথার্থ সুযোগ লাভ করে। এ কলেজের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা প্রবর্তন করা। ১৫ এপ্রিল, ১৮৫৫ সালে হিন্দু কলেজের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং এর স্থলাভিষিক্ত হয় প্রেসিডেন্সি কলেজ। ১৫ জুন, ১৮৫৫ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজের যাত্রা শুরু হয়। হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ শিক্ষক এবং 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা।

  • হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮১৭ সালে।
ইয়ংবেঙ্গল

ইয়ংবেঙ্গল আত্মপ্রকাশ করে ১৮৩১ সালে। যুক্তি ও মানবাধিকারের দীপ্ত বাণীর শপথে ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক। 'আস্তিকতা হোক, নাস্তিকতা হোক, কোন জিনিসকে পূর্ব থেকে গ্রহণ না করা; জিজ্ঞাসা ও বিচার'- এ মন্ত্রে যারা উজ্জীবিত ছিল তারাই ইয়ংবেঙ্গল। ডিরোজিওর আদর্শে অনুপ্রাণিত ইয়ংবেঙ্গল ছাত্রগোষ্ঠী সর্বগ্রাসী ক্ষুধায় ইউরোপীয় ভাবচিন্তাকে আত্মস্থ করেছিলেন। ছাত্র হিসেবে সকলেই ছিলেন প্রতিভাবান, ইংরেজি শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহী এবং ধর্মীয় গোড়ামীর ব্যাপারে অত্যন্ত সমালোচনামুখর। বিবিধ সংবাদপত্র পরিচালনা, পুস্তিকা রচনা, শিক্ষা বিস্তার, বিতর্ক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারে তারা ছিলেন তৎপর।

ইয়ংবেঙ্গলের মুখপত্র / পত্রিকা-

পত্রিকা

সম্পাদক

এনকোয়ারকৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
'জ্ঞানান্বেষণ''জ্ঞানান্বেষণ'
  • ইয়ংবেঙ্গলের প্রতিষ্ঠাতা/ মন্ত্রগুরু: হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৮২৬ সালে এ কলেজে যোগ দেন। ২৩ এপ্রিল, ১৮৩১ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ ডিরোজিওকে পদত্যাগ করতে পত্র দেন এবং ২৫ এপ্রিল, ১৮৩১ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। ডিরোজিও ২৬ ডিসেম্বর, ১৮৩১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
ইয়ংবেঙ্গলের সদস্য:

কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, প্যারীচাঁদ মিত্র, তারাচাঁদ চক্রবর্তী প্রমুখ। এরা সবাই ছিলেন মুক্তচিন্তা দ্বারা উজ্জীবিত। হিন্দু সমাজে বিদ্যমান সামাজিক ও ধর্মীয় কাঠামো এদেরকে বিদ্রোহী করে তুলেছিল। প্রাচীন ও ক্ষয়িষ্ণু প্রথা তথা ধর্মীয় সংস্কার ও সামাজিক শৃঙ্খলমুক্তির উল্লেখযোগ্য প্রয়াস হিসেবে ইয়ংবেঙ্গলের সদস্যগণ গো-মাংস ভক্ষণ ও মদ্যপানে আনন্দবোধ করতেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত হিন্দু কলেজের ছাত্র থাকাবস্থায় ডিরোজিওর আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারকে পদানত করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইউরোপীয় চিন্তা-চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সমাজের ধর্মান্ধতা ও গোড়ামী দূর করার জন্য কলম ধরেন। পরবর্তীতে ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীর সদস্যরা ডিরোজিওর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলে তিনি নব্য ইয়ংবেঙ্গলদের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতাকে কটাক্ষ করে ১৮৫৯ সালে রচনা করেন বিখ্যাত প্রহসন 'একেই কি বলে সভ্যতা'।

Content added By

মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি

717

১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজদ্দৌলার পতনের পর ইংরেজ শাসকদের সঙ্গে পরিপূর্ণ সহযোগিতার জন্য এদেশীয় হিন্দুরা জীবনের বিবিধ ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যক্ষেত্রেও সুযোগ্য স্থান লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল। তাই বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাহিত্যের যে বিচিত্র বিকাশ হয়েছে তা প্রধানত হিন্দু সাহিত্যিকদের প্রচেষ্টার ফল।

আবদুল লতিফ 'মহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' নামে ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে একটি সাহিত্য সমিতি গঠন করেন। মুসলমানেরা ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত হোক, স্বাধীন চিন্তাধারার বিকাশ ও স্বকীয় অবস্থার পর্যালোচনার মাধ্যমে জাতীয় জীবনের উন্নতি সাধন করুক--এই ছিল সমিতির উদ্দেশ্য। এই সমস্ত প্রচেষ্টার ফলেই দেখা যায়, মুসলমানেরা বাংলা সাহিত্যের সাধনায় আত্মনিয়োগ করে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য প্রকাশে একান্তই তৎপর হয়ে ওঠে এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হয়।

Content added By

বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমাজ

826

বাঙালি মধ্যবিত্তের সাহিত্যচর্চা ও সাধনার পীঠভূমি 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৯৫ সালে। সেখানে মুসলমানদের গুরুত্ব উপেক্ষিত হওয়ায় ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'। এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মুহম্মদ মোজাম্মেল হক, কাজী ইমদাদুল হক, মওলানা আকরাম খাঁ, কমরেড মুজাফফর আহমেদ প্রমুখ। এই সমিতির পত্রিকা ছিল বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা। এই সমিতির অফিস ছিল কলকাতার ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে।

Content added By

ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ

857

'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব' স্লোগানকে ধারণ করে চিন্তাচর্চা ও জ্ঞানের জন্য আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি এবং আবহমানকালের চিন্তা ও জ্ঞানের সাথে সংযোগ সাধনের লক্ষ্যে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি 'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠিত হয়।

Key Notes:

  • ১৯১১ সালে 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। কিন্তু এতে মুসলমানদের গুরুত্ব উপেক্ষিত হওয়ায় ১৯২৬ সালে ঢাকায় 'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ এর মাধ্যমে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সুত্রপাত হয় ।
  • 'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর প্রধান লেখক কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হোসেন, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ আব্দুর রশীদ, আবুল ফজল প্রমুখ।
  • ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ সংগঠনের মুখপত্রের নাম শিখা। এটি ১৯২৭ সালে আবুল হোসেনের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সাম্প্রদায়িক
মধ্যপ্রাচ্যমুখী
মুসলিম সম্প্রদায়ের
প্রগতিশীল

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি

740

১৮৬০ সালের সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে নিবন্ধিত একটি অরাজনৈতিক, বেসরকারি ও অলাভজনক সংস্থা বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। এটি এশিয়ার মানুষ ও প্রকৃতি বিষয়ে গবেষণার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭৮৪ সালে কলকাতায়। ভারত বিভাগের পর ৩ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে এর নামকরণ হয় 'পাকিস্তান এশিয়াটিক সোসাইটি'। স্বাধীনতার পর নামকরণ হয় 'বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি'।

  • এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন স্যার উইলিয়াম জোন্স।
  • বাংলাপিডিয়া প্রকাশিত হয় ১৪ খণ্ডে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির উদ্যোগে প্রকাশিত হয়।
  • বাংলাপিডিয়া'র প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম।
  • বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি'র প্রতিষ্ঠাকালীন
    • সভাপতি ছিলেন : আবদুল হামিদ (১৯৫২-৫৩)।
    • সাধারণ সম্পাদক ছিলেন: ড. আহমদ হাসান দানী (১৯৫২-৫৩)।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি'র বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক: অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান ।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির মূল উদ্দেশ্য:

অতীতকাল হতে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সমাজ, দর্শন, অর্থনীতি প্রভৃতি বিষয়ের গবেষণামূলক জ্ঞান উপস্থাপন করা।

Content added By

বাংলা একাডেমি

876

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং এদেশের মুসলিম মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ শতকের প্রথমদিকে বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ সূচিত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও মুসলমানরা ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর। এ অবস্থা অতিক্রম করার প্রয়াসে লেখক-পণ্ডিত-গবেষকদের দৃষ্টি পড়ে বাংলা ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি। ১৯২৫ সালে কলকাতায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ভাষার গবেষণা ও সাহিত্যচর্চার প্রস্তাব করেন। বিভাগোত্তরকালে ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে মূল সভাপতির অভিভাষণে শহীদুল্লাহ একটি একাডেমি গড়ার কথা বলেন। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ফলে বাংলা ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির গবেষণা ও চর্চার কেন্দ্ররূপে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি আরও জোরালো হয়। অবশেষে ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসে (স্থাপিত-১৯০৬) বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় যা উদ্বোধন করেন যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার।

Key Notes:

  • বাংলা ভাষা বিষয়ক বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। এটি ৪টি বিভাগ নিয়ে গঠিত। এটিকে বলা হয় 'জাতির মননের প্রতীক'।
  • বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ সালে। বাংলা একাডেমি শব্দের বানান 'একাডেমী' থেকে 'একাডেমি'তে রূপান্তরিত হয় ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সালে।
  • 'The Bengali Academy Act-1957' আইনে বাংলা একাডেমি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পায় ।
  • বাংলা একাডেমি ভবনের পুরাতন নাম বর্ধমান হাউস।
  • বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৬০ সাল থেকে 'বাংলা একাডেমি পুরস্কার' চালু করা হয়।
  • বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ৬টি।
  • বাংলা একাডেমি'র বানান অভিধানের সম্পাদক জামিল চৌধুরী।

বাংলা একাডেমি'র পত্রিকার নাম

পত্রিকার বিষয়

বাংলা একাডেমি'র প্রথম ও বর্তমান...

বাংলা একাডেমি পত্রিকা (ত্রৈমাসিক)গবেষণামূলকপ্রথম সভাপতিমওলানা আকরম খাঁ
উত্তরাধিকার (মাসিক)সৃজনশীল সাহিত্যপ্রথম পরিচালকড. মুহাম্মদ এনামুল হক
ধান শালিকের দেশ (ত্রৈমাসিক)কিশোর সাহিত্যপ্রথম মহাপরিচালকড. মযহারুল ইসলাম
বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা (ষাণ্মাষিক)বিজ্ঞান বিষয়কপ্রথম মহিলা মহাপরিচালকড. নীলিমা ইব্রাহিম
বার্তা (মাসিক)মুখপত্রবর্তমান সভাপতিআবুল কাসেম ফজলুল হক
বাংলা একাডেমি জার্নাল (ষাণ্মাষিক)-বর্তমান মহাপরিচালকমোহাম্মদ আজম

Content added By

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন বা আদি যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রি)

829

বাংলা সাহিত্যের সামগ্রিক ইতিহাসকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে। এর প্রথম যুগের নাম প্রাচীন যুগ। তবে কেউ কেউ আরও কয়টি নামে এ যুগকে অভিহিত করেছেন। সে নামগুলো হল : আদ্যকাল, গীতিকবিতার যুগ, হিন্দু-বৌদ্ধ যুগ, আদি যুগ, প্রাক-তুর্কি যুগ, গৌড় যুগ ইত্যাদি। তবে প্রাচীন যুগ নামটির ব্যবহার ব্যাপক ও যথার্থ যুক্তিসঙ্গত ।

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ। চর্যাপদের প্রায় সমসাময়িক কালে বাংলাদেশে যে সব সংস্কৃত-প্রাকৃত-অপভ্রংশ সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের প্রত্যক্ষ উপকরণ নয়। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলো সম্পর্কে ১৯০৭ সালের আগে কোন তথ্যই জানা ছিল। না। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সুকুমার সেন
হর প্রসাদ শাস্ত্রী
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ড. মুহম্মাদ শহীদুল্লাহ
সুকুমার সেন
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
হর প্রসাদ শাস্ত্রী
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

বাংলা সংবাদপত্র

1.1k

পৃথিবীর প্রথম সংবাদপত্র ১৫৬০ সালে জার্মান থেকে প্রকাশিত হয়। ১৭০২ সালে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয় বিশ্বের প্রথম দৈনিক পত্রিকা। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ সরকার ১৭৯৫ সালে পত্র-পত্রিকায় প্রথম সেন্সর প্রথা চালু করে।

Key Notes:

  • ভারতবর্ষের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্রের নামঃ জেমস্ অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট' (১৭৮০)। এটি ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়।
  • বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত 'দিগদর্শন' (১৮১৮)।
  • বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত 'সমাচার দর্পণ' (১৮১৮)। এটি সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হয়।
  • বাঙালি কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত 'বাঙ্গাল গেজেট' (১৮১৮)।
  • বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত 'সংবাদ প্রভাকর'। সাপ্তাহিক হিসেরে ১৮৩১ সালে এবং দৈনিক হিসেবে ১৮৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।
  • মুসলমান কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা শেখ আলিমুল্লাহ সম্পাদিত 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' (১৮৩১)
  • বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র গুরুচরণ রায় সম্পাদিত 'রংপুর বার্তাবহ' (১৮৪৭)।
  • ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত 'ঢাকা প্রকাশ' (১৮৬১)।

সাময়িকী/সংবাদপত্র

প্রকাশকাল

সম্পাদক

টীকাভাষ্য

বেঙ্গল গেজেট১৭৮০জেমস অগাস্টাস হিকিভারতবর্ষের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র (ইংরেজিতে)।
দিগদর্শন১৮১৮জন ক্লার্ক মার্শম্যানবাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র।
সমাচার দর্পণ১৮১৮জন ক্লার্ক মার্শম্যানবাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র (সাপ্তাহিক)।
বাঙ্গাল গেজেট১৮১৮গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যবাঙালি কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
সম্বাদ কৌমুদী১৮২১রাজা রামমোহন রায়সামাজিক কুসংস্কার অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশিত হত।
ব্রাহ্মণসেবধি১৮২১
পশ্বাবলী১৮২২বেভারেন্ড লঙ-
সমাচার চন্দ্রিকা১৮২২ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়-
বঙ্গদূত১৮২৯নীলমণি হালদার-
সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক)১৮৩১ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তবাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র।
সংবাদ প্রভাকর (দৈনিক)১৮৩৯
সমাচার সভারাজেন্দ্র১৮৩১শেখ আলিমুল্লাহমুসলমান কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
জ্ঞানান্বেষণ১৮৩১দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়'ইয়ংবেঙ্গল' গোষ্ঠীর মুখপত্র।
তত্ত্ববোধিনী১৮৪৩অক্ষয়কুমার দত্ততত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
রংপুর বার্তাবহ১৮৪৭গুরুচরণ রায়বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
ঢাকা প্রকাশ১৮৬১কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা১৮৬৩কাঙাল হরিনাথকুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র।
বঙ্গদর্শন১৮৭২বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়বাংলা গদ্যের বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
ভারতী১৮৭৭দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর-
সুধাকর১৮৮৯শেখ আব্দুর রহিমমুসলমানদের মহিমা, তত্ত্ব, জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয় এতে আলোচিত হতো
মিহির১৮৯২
হাফেজ১৮৯৭
কোহিনুর১৮৯৮মো: ইয়াকুব আলী চৌধুরীকুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র।
সবুজপত্র১৯১৪প্রমথ চৌধুরীবাংলা সাহিত্যে চলিত রীতি প্রচলনে অবদান রাখে।
সওগাত১৯১৮মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন

১৯২৬ সালে এটি সওগাত নবপর্যায় নামে প্রকাশিত হতে থাকে।

১৯৫২ সাল থেকে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।

মোসলেম ভারত১৯২০মোজাম্মেল হককাজী নজরুলের কাব্য খ্যাতিতে এটি অবদান রাখে।
আঙ্গুর১৯২০ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকিশোর পত্রিকা।
ধূমকেতু১৯২২কাজী নজরুল ইসলামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ পত্রিকায় অভিনন্দন বাণী পাঠিয়েছেন।
লাঙল১৯২৫-
নবযুগ১৯৪১১৯২০ সালে মুজাফফর আহমদ সহযোগে প্রথম প্রকাশিত।
কল্লোল১৯২৩দীনেশরঞ্জন দাশএ পত্রিকাকে ঘিরে একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরি হয়েছিল।
কালিকলম১৯২৬প্রেমেন্দ্র মিত্রকলকাতা থেকে প্রকাশিত সচিত্র মাসিক পত্রিকা।
মাসিক মোহাম্মদী১৯২৭মো: আকরম খাঁ-
শিখা১৯২৭আবুল হোসেন'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের মুখপত্র রূপে প্রকাশিত।
পূর্বাশা১৯৩২সঞ্জয় ভট্টাচার্য-
কবিতা১৯৩৫বুদ্ধদেব বসুত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
দৈনিক আজাদ১৯৩৬মো: আকরম খাঁকলকাতা থেকে প্রকাশিত।
চতুরঙ্গ১৯৩৯হুমায়ুন কবিরঢাকা থেকে প্রকাশিত।
ক্রান্তি১৯৪০রণেশ দাশগুপ্তঢাকা থেকে প্রকাশিত।
বেগম (সাপ্তাহিক)১৯৪৭সুফিয়া কামাল (প্রথম), নুরজাহান বেগমমহিলা সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা।
সমকাল১৯৫৭সিকান্দার আবু জাফরতৎকালীন সময়ের ঢাকার প্রভাবশালী পত্রিকা।
কন্ঠস্বর১৯৬৫আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ-
কালবেলা১৯৬৫জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত-
স্বদেশ১৯৬৯আহমদ ছফা-
শিলালিপি১৯৬৯সেলিনা পারভীন-
শিল্পকলা১৯৭০আবদুল মান্নান সৈয়দ-
কণ্ঠস্বর-আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-
উত্তরাধিকার১৯৭৩এটি বাংলা একাডেমি'র সৃষ্টিশীল সাহিত্যপত্র। ১৯৭৩ সালে মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু হলেও ১৯৮৩ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকায় রূপান্তরিত হয়। ২০০৯ সালে আবার মাসিক পত্রিকা হিসেবে নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে। পরে আবারও ত্রৈমাসিকে রূপান্তরিত হয়।
ধানশালিকের দেশ১৯৭৩এটি কিশোরদের জন্য প্রকাশিত বাংলা একাডেমি'র ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
লোকায়ত১৯৯০১৯৯০ সালে হুগলি জেলার শ্রীরামপুর স্টেশনের ডাউন প্লাটফর্মের হাতে লেখা দেয়াল পত্রিকা 'লোকায়ত'র শুরু। ১৯৯২ সালে মুদ্রিত আকারে আত্মপ্রকাশ।
নারীশক্তি-ডা. লুৎফর রহমাননারী সমাজের প্রগতির লক্ষ্যে প্রকাশিত।
ইত্তেফাক-তফাজ্জল হোসেন (মানিক মিয়া)-
সাহিত্য পত্রিকাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলা বিভাগ)।
ভাষা সাহিত্যপত্রজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলা বিভাগ)।
সাহিত্যিকীরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলা বিভাগ)।
আধুনিক যুগের সূচনায় পত্র-পত্রিকার ভূমিকা:

বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের সূচনার অন্যতম অনুষঙ্গ ছিলো পত্র-পত্রিকা। আধুনিক যুগের প্রতিভূ হলো গদ্য সাহিত্য। প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিষয় ছিল ধর্ম অথবা রাজবন্দনা আর আঙ্গিকে ছিল কেবলই কবিতা। আর গদ্যের বিকাশের সাথে সাথে বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা ঘটে। শ্রীরামপুরের খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকগণ ও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ বাংলা গদ্যের উন্নতিকল্পে প্রভূত পরিশ্রম করে ভূমিকর্ষণ করেছিলেন। সেই কর্ষিত ভূমিতে ফসল ফলানোর উপযোগী আলো-হাওয়া ও জলসিঞ্চনের ব্যবস্থা করেছিল পত্র-পত্রিকাগুলো। এসব সাময়িকপত্র যদি যথাসময়ে গদ্যভাষার বাহন না হয়ে উঠতো, তাহলে বাংলা গদ্য সাহিত্য এতো দ্রুত সমৃদ্ধি লাভ করতো না এবং আধুনিক যুগের সূচনা আরও প্রলম্বিত হতো। তাই গদ্যরীতি গঠনে ও গদ্যসাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনে পত্র-পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য। বিভিন্ন পত্রিকাগোষ্ঠীকে অবলম্বন করেই সেকালে প্রতিভাবান সাহিত্যিকেরা জাতীয় সাহিত্যের ভান্ডার সমৃদ্ধ করে বাংলা সাহিত্যে নতুন রাগিণীর সূচনা ঘটান, যা আধুনিক যুগের সূচনাকে ত্বরান্বিত করে। ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে বাংলা মাসিকপত্র হিসেবে মিশনারিদের পক্ষ থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় 'দিকদর্শন' প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় ব্যবহৃত গদ্যভাষা খুব স্বচ্ছন্দ না হলেও সহজবোধ্য ছিলো, যা গদ্য সাহিত্য বিকাশে ভূমিকা রাখে। ১৮১৮ সালের মে মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় 'সমাচার দর্পণ' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার লেখার ভাষায় সারল্য, তথ্যবোধ ও মাত্রাজ্ঞান বিদ্যমান ছিল। ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নববাবু বিলাস' ও 'নববিবি বিলাস', প্যারীচাঁদ মিত্র ও কালীপ্রসন্ন সিংহের লেখা 'বাবু-বৃত্তান্ত' এর সূচনা এ পত্রিকাতেই। ড. সুকুমার সেন বলেন, 'সাধারণ বাঙ্গালী পাঠক খবরের কাগজের রস এই প্রথম আস্বাদন করিল এবং তাহাতে বাঙ্গালা গদ্যের ঘরোয়া পরিচয়ের সুযোগ লাভ করিল। ………. এই সাময়িকপত্রের মধ্যে অনুশীলিত হইয়াই বাংলা গদ্যের জড়তামুক্তি ঘটিয়াছিল।' রাজা রামমোহন রায়ের সম্পাদনায় ১৮২১ সালে প্রকাশিত হয় 'সম্বাদ কৌমুদী' ও 'ব্রাহ্মণসেবধি' পত্রিকা। এ পত্রিকায় রামমোহন রায় ও অন্যান্য পণ্ডিতগণ লেখালেখি করতেন, যা বাংলা গদ্যসাহিত্য বিকাশের পথ খানিকটা অগ্রসর হয়। বাংলা গদ্য সাহিত্যকে শিশু থেকে যৌবনপ্রাপ্ত করার বিশেষ সহযোগী হিসেবে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা ১৮৩১ সালে প্রথমে সাপ্তাহিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ১৮৩৯ সালে দৈনিকরূপে প্রকাশিত হয়। দীনবন্ধু মিত্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ মূলত এ পত্রিকার মাধ্যমে শুরু হয়। এ পত্রিকা দীর্ঘকাল পাঠকের কাছে নানা ধরনের সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সাহিত্যরস পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করে এসেছিল, যা গদ্যসাহিত্য পরিপূর্ণ বিকাশের পথে সবেগে ধাবিত হয়। এছাড়াও ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীর 'জ্ঞানান্বেষণ', অক্ষয়কুমার দত্ত সম্পাদিত 'তত্ত্ববোধিনী', প্যারীচাঁদ মিত্রের 'মাসিক পত্রিকা', রাজেন্দ্রলাল মিত্রের 'বিবিধার্থ সংগ্রহ' প্রভৃতি পত্রিকা বাংলা গদ্যের বিকাশের পথকে মসৃণ করে এবং এর ফলে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের সূচনাপর্বের সগৌরবে উন্মেষ ঘটে। পরবর্তীতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত 'বঙ্গদর্শন', দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত 'ভারতী' এবং সর্বশেষ প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকা বাংলা গদ্যরীতির বিকাশের মাধ্যমে আধুনিক যুগের পূর্ণতা দানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বঙ্গদর্শন

653

বঙ্গদর্শন উনিশ শতাব্দীতে প্রকাশিত একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বা সাময়িকপত্র। এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম স্থপতি সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। রচনার মান, বৈচিত্র্য, সৌন্দর্য ও রুচির দিক থেকে বাংলা সাহিত্যে এক যুগান্তকারী পত্রিকা। ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের মান এবং অনুশাসন এই পত্রিকার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হতো।
১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্রের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। বিশুদ্ধ সাহিত্য রস পরিবেশনের উদ্দেশ্য নিয়ে পত্রিকাটির যাত্রা শুরু করেছিল। বঙ্কিম এর যাবতীয় চিন্তাভাবনা এই পত্রিকার মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের বেশকিছু উপন্যাস এই পত্রিকার প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর বিষবৃক্ষ, চন্দ্রশেখর, রজনী, কৃষ্ণকান্তের উইল, রাজসিংহ, আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী প্রভৃতি উপন্যাস এই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এর লেখক গোষ্ঠীতে ছিলেন চন্দ্রনাথ বসু, রামপ্রসাদ সেন, অক্ষয় চন্দ্র সরকার, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ।

১২৭৯ বঙ্গাব্দের ১ বৈশাখ (১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দ, ১২ এপ্রিল) তারিখে মাসিক বঙ্গদর্শন পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। সে সময়ে অবিভক্ত বাংলায় কোনো উন্নত মানের সাময়িকপত্র ছিল না। ১২৭৯ বঙ্গাব্দের বৈশাখ থেকে ১২৮২ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাস অবধি এর সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। বঙ্কিমচন্দ্রের প্রধান উপন্যাসগুলি এবং বহু প্রবন্ধ এখানে প্রকাশিত হত। ১২৮৩ বঙ্গাব্দে এর প্রকাশ স্থগিত থাকে। ১২৮৪ বঙ্গাব্দ থেকে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হয় সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায়। শ্রীশচন্দ্র মজুমদার ১২৯০ বঙ্গাব্দের কার্তিক থেকে মাঘ পর্যন্ত ৪টি সংখ্যার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৩০৮ বঙ্গাব্দ থেকে ১৩১২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় বঙ্গদর্শন নবপর্যায়ে ৫ বৎসর প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "চোখের বালি" উপন্যাস এই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

Content added || updated By

কল্লোল

679

১৯২৩ সালে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়। দীনেশরঞ্জন দাশ ছিলেন এর সম্পাদক। এটি রবীন্দ্র-রোমান্টিক সাহিত্যের বিরুদ্ধধারা হিসেবে আধুনিক সাহিত্যের সূচনা হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ পত্রিকার লেখকগণ বয়সে তরুণ, সৃষ্টিতে কূলপ্লাবী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেতনা, ইউরোপীয় সাহিত্যের প্রভাব এ তরুণ লেখকদের লেখনিতে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিল। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু, কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ ছিলেন এ পত্রিকার নিয়মিত লেখক।

Content added By

সমকাল

692

১৯৫৭ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সিকানদার আবু জাফর সম্পাদিত 'সমকাল' সমকালীন সময়ের প্রভাবশালী পত্রিকা। তৎকালীন পাকিস্তানে, বর্তমান বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে 'সমকাল' পত্রিকার ভূমিকা অপরিসীম। ষাটের দশকের সকল সাহিত্যিক এ পত্রিকার লিখতেন। এ পত্রিকার হাত ধরেই অনেক সাহিত্যিক খ্যাতির শীর্ষে আরোহণ করেছেন বা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন।

Content added By

বঙ্গদূত

649

খ্রিষ্টীয় ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা।

১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক বঙ্গদূত পত্রিকা। প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ৯ই মে শনিবার। পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন নীলমণি হালদার। কিছুদিন পর, নীলরত্ন অবসর গ্রহণ করেন। ফলে নতুন সম্পাদক পরিচালক হন ভোলানাথ সেন। ভোলানাথের মৃত্যুর পর মহেশচন্দ্র সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। এর কিছু সংখ্যা প্রকাশের পর, পত্রিকাটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। তবে শেষ সংখ্যা কবে প্রকাশিত হয়েছিল, তা জানা যায় নি।

সূত্র :

বাংলা সাময়িক সাহিত্য (১৮১৮-১৮৬৭)। শ্রীব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ্বভারতী। ১৯৬৪।

Content added By

বাংলা সাহিত্যের শাখা

3.7k

বাংলা সাহিত্যের প্রধান শাখাসমূহকে মূলত পদ্য (কবিতা) ও গদ্য—এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যা সময়ের সাথে বিবর্তিত হয়েছে। প্রধান শাখাগুলোর মধ্যে কবিতা (চর্যাপদ, বৈষ্ণব পদাবলী), উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, এবং ভ্রমণকাহিনী অন্যতম। এছাড়া জীবনী সাহিত্য, রম্যরচনা, ও অনুবাদ সাহিত্যও বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধ শাখা।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ধর্মীয় সংস্কারের কারণে
হৃদয়ের নিবিড় আন্তরিকতার স্পর্শে
সামাজিক যোগাযোগের জন্য
সাম্প্রদায়িক মনোভাবের কারণে
কুলীন কুল সর্বস্ব
কৃষ্ণকুমারী
নীলদর্পণ
জমিদার দর্পণ
খরোষ্ঠী লিপি থেকে
ব্রাহ্মী লিপি থেকে
দেবনাগরী লিপি থেকে
ল্যাটিন লিপি থেকে

বাংলা কবিতা

2.8k

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কাব্য। সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বাংলা কাব্যের সূচনা ঘটে। বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা গীতিকবিতা। উনিশ শতকের গীতিকাব্য ধারার অন্যতম কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী। বাংলা গীতিকবিতার পূর্ণবিকাশ ঘটে রবীন্দ্রনাথের হাতে।

বাংলা কবিতার 'পঞ্চপাণ্ডব' :

বাংলা সাহিত্যে 'কল্লোল' যুগের ত্রিশের দশকের ৫ জন কবি জীবনানন্দ দাশ, বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও অমিয় চক্রবর্তীকে একত্রে 'পঞ্চপাণ্ডব' বলা হয়। এঁরা সবাই রবীন্দ্রসাহিত্য প্রভাব বলয়ের বাইরে গিয়ে আধুনিক কবিতা রচনা করে বাংলা সাহিত্যে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছিলেন বলে এঁদেরকে 'পঞ্চপাণ্ডব' বলা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেতনা, ইউরোপীয় সাহিত্যের প্রভাব এঁদের মনস্তত্ত্বে ভীষণভাবে গ্রোথিত হয়েছিল। তাঁরা বয়সে তরুণ হলেও সৃষ্টিতে ছিলেন কূলপ্লাবী; আধুনিক বাংলা সাহিত্য রচনায় প্রাজ্ঞ। তাঁরা সবাই ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র হয়েও বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা করেছিলেন। অপরদিকে, আধুনিকতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা ও অশ্লীলতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে- এই অভিযোগে 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকাকে কেন্দ্র করে কল্লোল বিরোধী আরেকটি সাহিত্য বলয় সৃষ্টি হয়। এদের নেতৃত্বে ছিলেন মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, নীরদ চৌধুরী প্রমুখ।

Ode : Ode অর্থ গাথা বা গান বা স্তোত্র বা প্রাচীন গ্রিক কবিতা যা গ্রিক সাহিত্য হতে উদ্ভূত। প্রাচীনকালে গ্রীসে রঙ্গমঞ্চে কোরাসে বিভিন্ন সুরে নানা অঙ্গভঙ্গি দ্বারা সংগীত ও নাচের মাধ্যমে যে গান গাওয়া হতো তাকে Ode বলা হতো। বর্তমানকালে প্রশস্তিমূলক গীতিকবিতায় কোন গম্ভীর বিষয়বস্তু বা উপাদানের মাধ্যমে কবির মনের অনুভূতির ভাবমূর্তির প্রকাশকে স্তোত্র কবিতা নামে আখ্যায়িত করা হয়।

Key Notes:

  • আধুনিক যুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্য রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মিনী উপাখ্যান' (১৮৫৮)।
  • আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী।
  • বাংলা কাব্যে আধুনিক যুগের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
  • বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রোহী প্রধান কাব্য 'অগ্নিবীণা' (১৯২২)।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম জীবনীকাব্য 'শ্রী চৈতন্য ভাগবত'।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম ধারা কবিতা। কবিতা দুই প্রকার। যথা:
    ১. তন্ময় কবিতা,
    ২. মন্ময় কবিতা।
  • বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী। মধ্যযুগের কবি চন্দ্রাবতী ছিলেন কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের এবং তাঁর পিতার নাম দ্বিজ বংশীদাস।
  • আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি স্বর্ণকুমারী দেবী।
  • বাংলা কবিতার ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
  • বাংলা কবিতায় মুক্তক ছন্দের প্রবর্তক কাজী নজরুল ইসলাম।
  • বাংলা সাহিত্যের ছান্দসিক কবি আবদুল কাদির।
  • টি.এস এলিয়টের ইংরেজি কবিতা প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এর মাধ্যমে বাঙালি কবিদের আধুনিক কবিতার সাথে পরিচয় ঘটে।
  • বাংলা কাব্যে প্রথম প্রচুর পরিমাণ আরবি ও ফারসি শব্দ ব্যবহার করেন মোহিতলাল মজুমদার এবং পরবর্তীতে কাজী নজরুল ইসলাম।
বিখ্যাত কাব্য ও কবিতা

কবি

কাব্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'কবি-কাহিনী' (১৮৭৮): প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, যা অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 'বনফুল', 'কড়ি ও কোমল', 'সোনার তরী', 'চিত্রা', 'ক্ষণিকা', 'নৈবেদ্য', 'খেয়া', 'গীতাঞ্জলি', 'বলাকা', 'পূরবী', 'শেষলেখা', 'মানসী', 'চৈতালি', 'কল্পনা', 'পত্রপূট', 'সেঁজুতি', 'আকাশ প্রদীপ', 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি', 'পুনশ্চ'।
কাজী নজরুল ইসলাম'অগ্নিবীণা' (সেপ্টেম্বর, ১৯২২): প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 'সন্ধ্যা', 'বিষের বাঁশি', 'প্রলয়শিখা', 'দোলনচাঁপা', 'সঞ্চিতা', 'মরুভাস্কর', 'চিত্তনামা', 'সিন্ধু হিন্দোল', 'চন্দ্রবিন্দু', 'ঝিঙেফুল', 'সাতভাই চম্পা', 'সর্বহারা', 'সাম্যবাদী', 'ভাঙার গান', 'ঝড়', 'ফণিমনসা', 'জিঞ্জির', 'ছায়ানট', 'পূবের হাওয়া', 'চক্রবাক'।
শহীদ কাদরী'উত্তরাধিকার', 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা'।
বিষ্ণু দে'উর্বশী ও আর্টেমিস', 'চোরাবালি', 'সাত ভাই চম্পা'।
দাউদ হায়দার'জন্মই আমার আজন্ম পাপ', 'নারকীয় ভুবনের কবিতা', 'আমি ভাল আছি তুমি'
নবীনচন্দ্র সেন'পলাশীর যুদ্ধ'হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'চিন্তাতরঙ্গিণী'
সমর সেন'কয়েকটি কবিতা'রামেন্দ্রসুন্দরী ত্রিবেদী'জিজ্ঞাসা
আবদুল কাদির'দিলরুবা', 'উত্তর বসন্ত'।সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার‘মহিলা’
দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর'স্বপ্নপ্রয়াণ'বিলহন (কাশ্মিরী কবি'চৌরপঞ্চাশিকা' (বিষয়: অবৈধ প্রণয়)

কবি

কবিতা

কবি

কবিতা

রামনিধি গুপ্তস্বদেশী ভাষাআবুল হোসেনপোস্টার
হরিশ্চন্দ্র মিত্রস্বদেশী ভাষাহুমায়ূন কবিরমেঘনায় ঢল
আবদুল কাদিরজয়যাত্রা
শেখ ফজলল করিমগায়ের ডাক, স্বর্গ ও নরক
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারমিতব্যয়িতা, সমব্যথি
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারপারিব না
রজনীকান্ত সেনস্বাধীনতার সুখ
রজনীকান্ত সেনএই অক্ষরে

কবি

কাব্য

কবিতা

মোহিতলাল মজুমদার'স্বপন পসারী', 'হেমন্ত গোধূলি'।বেদুঈন
গোবিন্দচন্দ্র দাস'প্রেম ও ফুল', 'মগের মুলুক'।জন্মভূমি
যতীন্দ্রমোহন বাগচী'অপরাজিতা', 'নীহারিকা', 'মহাভারতী', 'জাগরণী'।কাজলা দিদি, অন্ধবধূ
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তে'মরীচিকা', 'মরুমায়া', 'মরুশিখা', 'সায়ম', 'ত্রিযামা'।নবান্ন, ডাক হরকরা
বন্দে আলী মিয়া'ময়নামতির চর'আমাদের গ্রাম
অক্ষয়কুমার বড়াল'প্রদীপ', 'এষা', 'শঙ্খ', 'ভুল', 'কনকাঞ্জলি'।মানব-বন্দনা
সুকুমার রায়'আবোল-তাবোল', 'হ-য-ব-র-ল', 'খাই খাই'।শ্রাবণে, ছায়াবাজি
কালিদাস রায়'পর্ণপুট', 'কিশলয়', 'বল্লরী', 'ঋতুমঙ্গল', 'রসকদম্ব'।বাবুরের মহত্ত্ব
রফিক আজাদ'অসম্ভবের পায়ে', 'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া', 'সশস্ত্র সুন্দর'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
আবু হেনা মোস্তফা কামাল'আপন যৌবন বৈরী', 'যেহেতু জন্মান্ধ', 'আক্রান্ত গজল'।ছবি
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান'দুর্লভ দিন', 'শঙ্কিত আলোকে', 'প্রতনু প্রত্যাশা'।শহীদ স্মরণে, ভূমিহীন কৃষিজীবী ইচ্ছে তার
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

স্তবকটি পড়ে নিচের চারটি প্রশ্নের প্রাসঙ্গিক উত্তর দাও

এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- সবচেয়ে সুন্দর করুণ:

সেখানে সবুজ ডাঙা ভ'রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;

সেখানে গাছের নাম কাঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;

সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ;

সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে- সেখানে বরুণ

কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;

সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,

সেখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট তরুণ;

সেখানে লেবুর শাখা নুয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের উপর;

সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;

সিপাহী বিদ্রোহ
পানিপথের ৩য় যুদ্ধ
পলাশীর যুদ্ধ
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
সোনালি অতীত
বিষাদময় রিক্ততা
শৈশবের স্মৃতি
মধুর বর্তমান

সনেট

826

সনেট ইটালিয়ান শব্দ। এর বাংলা অর্থ- চতুর্দশপদী কবিতা। একটি মাত্র ভাব বা অনুভূতি যখন ১৪ অক্ষরের চতুর্দশ পঙ্ক্তিতে (কখনো কখনো ১৮ অক্ষরও ব্যবহৃত হয়) বিশেষ ছন্দরীতিতে প্রকাশ পায়, তাকেই সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা বলে । সনেটের দুটি অংশ। যথাঃ

ক. অষ্টক : প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক বলে।

খ. ষটক : শেষ ৬ চরণকে ঘটক বলে।

বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রচলন ঘটান মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কাব্যনাট্য
কাহিনীকাব্য
সনেট
গীতিনাট্য
ইতালী
ফ্রান্স
জার্মানী
ইংল্যান্ড
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রমথ চৌধুরী
কাজী নজরুল ইসলাম
মাইকেল মধুসূদন দত্ত

অমিত্রাক্ষর ছন্দ

778

কবিতার পক্তির শেষে মিলহীন ছন্দকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ। বলে। অমিত্রাক্ষর ছন্দের কবিতায় চরণের অন্ত্যমিল থাকে। না। এ ছন্দ পয়ারের অপর রূপ। প্রতি পঙ্ক্তিতে ১৪ অক্ষর থাকে, যা ৮+৬ পর্বে বিভক্ত। একে প্রবাহমান অক্ষরবৃত্ত ছন্দও বলে। উদাহরণ-

সম্মুখ সমরে পড়ি, বীর চূড়ামণি
বীর বাহু চলি যবে গেলা যমপুরে
অকালে, কহ, হে দেবি অমৃতভাষিণি
কোন বীরবরে রবি সেনাপতি পদে,
পাঠাইলা, রণে পুনঃ রক্ষাকুলনিধি
রাঘবারি।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত

বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রচলন ঘটান মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

পয়ার ছন্দ
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
স্বরবৃত্ত ছন্দ
মুক্তক ছন্দ

বাংলা নাটক

2.7k

নাটক সাহিত্যতত্ত্বের একটি পারিভাষিক শব্দ। কোনো দ্বন্দ্বমূলক আখ্যান যদি চরিত্রসমূহের সংলাপের মাধ্যমে মূর্ত হয়ে উঠে তাহলে তাকে নাটক বলে। নাটকে কাহিনি থাকে তবে কাহিনির চেয়ে মুখ্য হয়ে ওঠে চরিত্রসমূহের দ্বন্দ্ব। কাহিনি, চরিত্র, ঘটনাসমাবেশ ও সংলাপ হলো নাটকের মূল অঙ্গ।

নাটকঃ

রঙ্গমঞ্চে মানুষের সুখ-দুঃখকে স্বাভাবিক অভিনয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করাকে নাটক বলে। নাটক সংলাপ ও অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে প্রদর্শিত হয়ে থাকে। এর অপর নাম 'দৃশ্যকাব্য'। গদ্যরীতির উৎকর্ষের পরে নাটকের যাত্রা।

নাটক এর প্রকারভেদঃ
বাংলা নাটককে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১. রসপ্রধান:

ক. ট্রাজেডি (কৃষ্ণকুমারী)

খ. কমেডি (চক্ষুদান)

গ. মেলোড্রামা (প্রফুল্ল)

ঘ. ফার্স/প্রহসন (একেই কি বলে সভ্যতা)

২. রূপপ্রধান:

ক. গীতিনাট্য (বাল্মীকি প্রতিভা)

খ. নৃত্যনাট্য (নটীর পূজা)

Key notes:

  • কলকাতার লালবাজারে 'প্লে-হাউজ' এ প্রথম রঙ্গমঞ্চ তৈরি হয় ১৭৫৩ সালে।
  • বাংলা নাটক প্রথম অভিনীত হয় ১৭৯৫ সালে। হেরাসিম লেবেডেফ নামে রুশদেশীয় এক ব্যক্তি প্রথম The Disguise ও Love is the best Doctor নামে দুটি নাটক বাংলায় অনুবাদ করে এদেশীয় পাত্র-পাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
  • বাংলা নাটক প্রথম মঞ্চে অভিনীত হয় ১৮৩১ সালে।
  • প্রথম বাংলা মৌলিক নাটক তারাচরণ শিকদার রচিত 'ভদ্রার্জুন' (১৮৫২)। এ নাটকের মূল বিষয় অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রা হরণের কাহিনি। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে। এটি বাঙালি কর্তৃক রচিত প্রথম কমেডি নাটক।
  • বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ও আধুনিক নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯)। এটি রচিত হয়েছে পুরাণের কাহিনি অবলম্বনে।
  • বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১)। উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে মধুসূদন এ নাটকের কাহিনি সংগ্রহ করেন। চরিত্র: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীমসিং, বিলাসবতী।
  • বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক কমেডি নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'পদ্মাবতী' (১৮৬০)। এ নাটকের ২য় অঙ্কের ২য় গর্ভাঙ্কে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রয়োগ করেন। এটি গ্রিক পুরাণের Apple of Discord অবলম্বনে রচিত।
  • বাংলা ভাষার মুসলমান রচিত প্রথম নাটক মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'বসন্ত কুমারী' (১৮৭৩)। বৃদ্ধ রাজা বীরেন্দ্র সিংহের যুবতী স্ত্রী রেবর্তী সপত্নী পুত্র নরেন্দ্র সিংহকে প্রেম নিবেদন করে প্রত্যাখাত হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে। পরিণামে সমগ্র রাজ পরিবারটি ধ্বংস হয়ে যায়, এটিই এ নাটকের মূল বিষয়।
  • বাংলা ভাষায় মুসলমান চরিত্র অবলম্বনে প্রথম নাটক মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'জমীদার দর্পণ' (১৮৭৩)। অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি এর মূল বিষয়।
  • বাংলা নাট্যসাহিত্যে প্রথম ট্রাজেডি রচনার প্রচেষ্টা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত রচিত 'কীর্তিবিলাস' (১৮৫২)। সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারের কাহিনি অবলম্বনে এটি রচিত। বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্রাজেডির রূপায়ণ এ নাটকের বৈশিষ্ট্য।
  • ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম নাটক দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'নীলদর্পণ' (১৮৬০)। এতে মেহেরপুরের কৃষকদের ওপর নীলকরদের নির্মম নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে। নাটকটি প্রথম মঞ্চায়ন হয় ঢাকায়। এ নাটকের অভিনয় দেখতে এসে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মঞ্চের অভিনেতাদের লক্ষ্য করে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন। মাইকেল মধুসূদন A Native ছদ্মনামে ইংরেজিতে The Indigo Planting Mirror নামে অনুবাদ করেন। চরিত্র: নবীন মাধব, তোরাপ।
  • বাংলা ভাষার প্রথম সাংকেতিক নাটক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শারদোৎসব' (১৯০৮)।
  • ট্রাজেডি, কমেডি ও ফার্সের মূল পার্থক্য জীবনানুভূতির গভীরতায়।

বিখ্যাত নাটক

নাট্যকার

নাটকের নাম

তারাচরণ শিকদার'ভদ্রার্জুন' (১৮৫২): এটি বাঙালি কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক।
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত'কীর্তিবিলাস' (১৮৫২): বাংলা নাট্যসাহিত্যে প্রথম ট্রাজেডি নাটক।
রামনারায়ণ তর্করত্ন'কুলীনকুল সর্বস্ব' (১৮৫৪): এটি কৌলিন্য প্রথা অবলম্বনে রচিত। 'বেণী সংহার', 'যেমন কর্ম তেমন ফল (প্রহসন), 'উভয়সঙ্কট' (প্রহসন)।
মাইকেল মধুসূদন'শর্মিষ্ঠা', 'পদ্মাবতী', 'কৃষ্ণকুমারী', 'মায়াকানন'।
গিরিশচন্দ্র ঘোষ'প্রফুল্ল' (১৮৮৯): লেখকের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বিয়োগান্তক নাটক। 'সীতার বনবাস', 'সীতাহরণ', সিরাজদ্দৌলা ।
দীনবন্ধু মিত্র'নীলদর্পণ': এটি ঢাকার বাংলা প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ। 'কমলে কামিনী', 'জামাই বারিক', 'নবীন তপস্বিনী', 'লীলাবতী'।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

ঐতিহাসিক নাটক: 'সাজাহান', 'নুরজাহান', 'প্রতাপসিংহ', 'দুর্গাদাস', 'মেবারপতন', 'তারাবাঈ', 'তাপসী'।

রোমান্টিক ও পৌরাণিক নাটক: 'সিংহলবিজয়', 'সীতা', 'ভীষ্ম', 'সোহরাব-রুস্তম', 'চন্দ্রগুপ্ত'।

কাব্যনাট্য: 'পাষাণী'।

সামাজিক নাটক: 'পরপারে', 'বঙ্গনারী', 'কল্কি অবতার', 'বিরহ', 'প্রায়শ্চিত্ত', 'আনন্দ বিদায়'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

'বাল্মীকি প্রতিভা': প্রথম প্রকাশিত নাটক। অধিকাংশের মতে, 'রূদ্রচণ্ড'।

রূপক ও সাংকেতিক নাটক: 'ডাকঘর', 'কালের যাত্রা', 'তাসের দেশ', 'রাজা', 'অচলায়তন', 'রক্তকরবী'। নৃত্যনাট্য: 'চিত্রাঙ্গদা', 'চণ্ডালিকা', 'নটীর পূজা', 'শ্যামা'।

কাব্যনাট্য: 'প্রকৃতির প্রতিশোধ', 'মায়ার খেলা', 'বিদায় অভিশাপ', 'রাজা ও রানী'।

অন্যান্য নাটক: 'বিসর্জন', 'চিরকুমার সভা', 'বৈকুণ্ঠের খাতা', 'বসন্ত'।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'ষোড়শী', 'বিজয়া', 'রমা'।
কাজী নজরুল ইসলাম'ঝিলিমিলি': এটি ৩টি নাটকের সংকলন এবং প্রথম নাট্যগ্রন্থ। 'আলেয়া', 'মধুমালা', 'পুতুলের বিয়ে'।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'উজানে মৃত্যু', 'বহিপীর', 'তরঙ্গভঙ্গ', 'সুড়ঙ্গ'।
মুনীর চৌধুরী

'রক্তাক্ত প্রান্তর': এটি তাঁর রচিত প্রথম নাটক। 'কবর': ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

'মানুষ', 'দণ্ডকারণ্য', 'নষ্ট ছেলে', 'চিঠি', 'পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য'।

অমৃতলাল বসু'বিবাহ বিভ্রাট', 'চোরের উপর বাটপারি', 'ডিসমিস', 'কৃপণের ধন' (সবগুলোই প্রহসন)।
সিকান্দার আবু জাফর'সিরাজ-উদ্‌-দৌলা', 'মহাকবি আলাওল'।
মামুনুর রশীদ'গিনিপিগ', 'ওরা কদম আলী', 'ইবলিশ'।
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর'পুরুবিক্রম নাটক', 'কিঞ্চিত জলযোগ' (প্রহসন)।
আব্দুল্লাহ আল মামুন'সুবচন নির্বাসনে', 'কোকিলারা'।
ক্ষীরোদপ্রসাদ'আলিবাবা', 'রঘুবীর'।
তুলশী লাহিড়ী'ছেঁড়াতার', 'পথিক'।
সাঈদ আহমদ'কালবেলা', 'তৃষ্ণায়'।
বিজন ভট্টাচার্য‘নবান্ন’
আনিস চৌধুরী'মানচিত্র', 'এ্যালবাম'।
জিয়া হায়দার‘এলেবেলে’
হানিফ সংকেত'শোধ-বোধ'
মমতাজ উদ্দিন আহমেদ'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা', ‘সুখী মানুষ’
জোবেদা খানম'ওরে বিহঙ্গ'
ইব্রাহীম খলিল‘স্পেনবিজয়ী মুসা’
শাহাদৎ হোসেন'আনারকলি', 'মসনদের মোহ'।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কৃষ্ণকুমারী
শর্মিষ্ঠা
সধবার একাদশী
নীল দর্পণ
তেভাগা আন্দোলন
ভাষা আন্দোলন
মুক্তিযুদ্ধ
নকশাল লাঠি আন্দোলন
শর্মিষ্ঠা
পদ্মাবতী
কৃষ্ণকুমারী
চিত্রাঙ্গদা
কি চাহ হে শঙ্খচিল
বাকি ইতিহাস
চাকা
কবর

সিরাজউদ্দৌলা

2.4k
Please, contribute by adding content to সিরাজউদ্দৌলা.
Content
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ফতেহ চাঁদ
কামাল লোহানী
দিগম্বর রায়
বীরচন্দ্র শেঠ
উইলিয়াম ওয়াটসন
কিল প্যাট্রিক
রবার্ট ক্লাইভ
রজার ড্রেক
হাস্যরসাত্মক
ব্যঙ্গাত্মক
ট্র্যাজেডিধর্মী
বিদ্রূপাত্মক

বাংলা প্রবন্ধ

2.3k

ব্যক্তির চিন্তা যখন সুসংহত গদ্য কাঠামো পায় এবং বিভিন্ন যুক্তি দ্বারা তা প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে প্রবন্ধ বলে। প্রবন্ধের সূচনা হয় উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে। বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।

Key Notes:

  • কোনো বিষয়ের ওপর বুদ্ধিভিত্তিক আলোচনাই প্রবন্ধ।
  • বাংলা প্রবন্ধধারার প্রবর্তক রাজা রামমোহন রায়।
  • কথ্যরীতিতে প্রথম প্রবন্ধ রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র।
  • প্রথম সমাজসংস্কারমূলক প্রবন্ধ রচয়িতা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
  • বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রথম জীবনচরিত রামরাম বসুর 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)। এই বাঙালির লেখা, বাংলা অক্ষরে প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ।
বিখ্যাত প্রবন্ধ

প্রাবন্ধিক

প্রবন্ধ

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'কমলাকান্তের দপ্তর', 'সাম্য', 'লোকরহস্য', 'কৃষ্ণচরিত', 'বিজ্ঞানরহস্য', 'মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

'বিবিধপ্রসঙ্গ' (১৮৮৩): প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

'কালান্তর', 'পঞ্চভূত', 'বিচিত্রপ্রবন্ধ', 'সাহিত্য', 'মানুষের ধর্ম', 'সভ্যতার সংকট'।

কাজী নজরুল ইসলাম

'তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলা' (১৯১৯): প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ।

'রাজবন্দীর জবানবন্দী', 'যুগবাণী', 'রুদ্রমঙ্গল', 'দুর্দিনের যাত্রী'

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'নারীর মূল্য', 'তরুণের বিদ্রোহ'।
মুহম্মদ আবদুল হাই'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব', 'সাহিত্য ও সংস্কৃতি', 'ভাষা ও সাহিত্য'
ড. মুহম্মদ এনামুল হক'আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য': এটি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ সহযোগে রচিত। 'মনীষা মঞ্জুষা'
আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ'পদ্মাবতী', 'সত্যনারায়ণের পুঁথি', 'গোরক্ষ বিজয়'
আব্দুল্লাহ আল মুতী'সাগরের রহস্যপুরী', 'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে', 'রহস্যের শেষ নেই', 'আবিষ্কারের নেশায়'।
বদরুদ্দীন উমর'সংস্কৃতির সংকট', 'সাম্প্রদায়িকতা', 'সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা'।
মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ'নয়া জাতির স্রষ্টা হজরত মোহম্মদ', 'পারস্য প্রতিভা'।
ড. আহমদ শরীফ'বিচিত চিন্তা', 'সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা', 'স্বদেশ অন্বেষা', 'যুগ যন্ত্রণা', 'কালিক ভাবনা', 'বাঙালি ও বাংলা সাহিত্য', 'স্বদেশ চিন্তা', 'বিশ শতকের বাঙালি', 'সংস্কৃতি'।
বিনয় ঘোষ'বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ', 'শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ', 'কালপেঁচার নকশা', 'পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি', 'সাময়িকপত্রে বাংলার সমাজচিত্র', 'কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত', 'নববাবু চরিত্র'।
কালী প্রসন্ন ঘোষ'প্রভাত চিন্তা', 'নিভৃত চিন্তা', 'নিশীথ চিন্তা'।
গোপাল হালদার'সংস্কৃতির রূপান্তর', 'বাঙালির সংস্কৃতির রূপ'।
কামরুল হাসান'আমাদের লোককৃষ্টি' (আমাদের লোকশিল্প)
লুৎফর রহমান'মহৎ জীবন', 'মানব জীবন', 'উন্নত জীবন' (উদ্যম ও পরিশ্রম)।
আবদুস সাত্তার'অরণ্য জনপদে', 'অরণ্য সংস্কৃতি'
মোতাহের হোসেন চৌধুরী'সংস্কৃতি কথা', 'সভ্যতা'।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস'সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু'
গুলবদন বেগম'হুমায়ুন নামা'
জগদীশচন্দ্র বসু'অব্যক্ত'
ড. আনিসুজ্জামান‘স্বরূপের সন্ধানে’
আকবর আলী খান'পরার্থপরতার অর্থনীতি'
ড. মুহম্মদ ইউনুস‘দারিদ্র্যহীন বিশ্বের অভিমুখে’
খান মুহম্মদ মঈনুদ্দিন'যুগস্রষ্টা নজরুল'
যতীন সরকার'সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা'
নীরদচন্দ্র চৌধুরী'আত্মঘাতী বাঙালী'
আনিসুজ্জামান'কাল নিরবধি' (আত্মজীবনী)
নীহাররঞ্জন রায়'বাঙ্গালীর ইতিহাস'
আবদুল হক'চেতনার অ্যালবাম'
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

নারীর কোনো সম্পত্তি আছে কি-না
নারীর অর্থ আছে কি-না
নারীর কোনো স্বাধীনতা আছে কি-না
নারীর সত্যিই কোনো ঘর বা গৃহ আছে কি-না

বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী (বাংলায়)

1.9k

রচয়িতা

ভ্রমণকাহিনি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র', 'জাপান যাত্রী', 'জাভা যাত্রীর পত্র', 'রাশিয়ার চিঠি'
জসীমউদ্দীন'চলে মুসাফির', 'হলদে পরীর দেশ', 'যে দেশে মানুষ বড়'
জসীমউদ্দীন'সাত সাঁতার': এটি আমেরিকার ভ্রমণকাহিনি।
ফজল শামসুজ্জামান'অন্য পৃথিবী': এটি অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণকাহিনি।
ইব্রাহীম খাঁ'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র', 'নয়া চীনে এক চক্কর'
সৈয়দ মুজতবা আলী'দেশে-বিদেশে', 'জলে ডাঙায়'
অন্নদাশঙ্কর রায়‘পথে-প্রবাসে’
আ.ন.ম বজলুর রশীদ'দ্বিতীয় পৃথিবীতে', 'পথ ও পৃথিবী'
ইসমাইল হোসেন সিরাজী'তুরস্ক ভ্রমণ'
ড. মুহম্মদ এনামুল হক'বুলগেরিয়া ভ্রমণ'
এস ওয়াজেদ আলী'মোটরযোগে রাঁচী সফর'
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়'দৃষ্টিপাত'
নির্মলেন্দু গুণ'গীনসবার্গের তীরে', 'ভলগার তীরে'
খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস‘ভাসানী যখন ইউরোপে’
মুহম্মদ আবদুল হাই'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন'
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়'অভিযাত্রিক'
রাহুল সাংকৃত্যায়ন'ভল্লা থেকে গঙ্গা'
শহীদুল্লা কায়সার'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ'
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়'পালামৌ'
সানাউল হক'বন্দর থেকে বন্দরে'
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়'মস্কোতে কয়েক দিন'
Content added By
Content updated By

বিখ্যাত রম্যরচনা (বাংলায়)

865

রম্যরচনা

ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  • নববাবু বিলাস
  • নববিবি বিলাস
  • কলিকাতা কমলালয়
সৈয়দ মুজতবা আলী
  • পঞ্চতন্ত্র
  • চাচা কাহিনী
  • ময়ূরকণ্ঠী
  • টুনিমেম
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • কমলা কান্তের দপ্তর
  • মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত
  • লোক রহস্য
আবুল মনসুর আহমেদ
  • আয়না
  • ফুড কনফারেন্স
  • আসমানী পর্দা
  • গ্যালিভারের সফরনামা
তাজাকলমচেনা মানুষের ইতিকথা
নূরুল মোমেনবহুরূপা
কাজী দীন মোহাম্মদগোলকচন্দ্রের আত্মকথা
মুহাম্মদ আব্দুল হাইতোষামদ ও রাজনীতির ভাষা
Content added By

বাংলা উপন্যাস

3.6k

উপন্যাস সাহিত্যতত্ত্বের একটি পারিভাষিক শব্দ। উপন্যাস হচ্ছে সমষ্টিবদ্ধ মানুষের এমন একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প যেখানে বিচিত্র সব চরিত্র স্বমূর্তিতে অঙ্কিত হয়ে প্রতীকীভাবে জীবনের এক গভীর সত্যের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে। সমসাময়িক সমাজের রঙ্গরসাত্মক চিত্র বাংলা উপন্যাসের প্রাথমিক পর্যায়ে বিশেষ প্রাধান্য লাভ করেছিল।

Key Notes:

  • কথাসাহিত্যঃ কথা সাহিত্য বলতে উপন্যাস ও ছোটগল্পকে বোঝায়। উপন্যাসে ব্যক্তি জীবনের বৃহত্তর পরিসরের পরিচয় রূপলাভকরে কিন্তু ছোটগল্পে কোনো চরিত্রের একটিমাত্র দিকের প্রতিফলন ঘটে।
  • উপন্যাস: লেখকের জীবনদর্শন ও জীবনানুভূতিকে বাস্তবকাহিনি অবলম্বনে শিল্পকর্মে রূপায়ণই উপন্যাস। বাংলা উপন্যাস রচনার সূচনা হয় উনিশ শতকের প্রথমার্ধেই। যা ছিল সামাজিক কাহিনি নির্ভর।
  • ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৭৮৭-১৮৪৮) প্রথম উপন্যাস রচনার প্রাথমিক প্রচেষ্টা চালান । তাঁর রচিত উপন্যাস-
    • 'কলিকাতা কমলালয়' (১৮২৩): এ গ্রন্থে তৎকালীন কলকাতার জীবন ও অনাচারের চিত্র রূপায়িত হয়েছে। এ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে কিভাবে কলকাতায় আসতে হয় এবং সেখানকার অলিগলি খুঁজে নিজের ভাগ্যের সন্ধান করতে হয় তারই সত্যকথন।
    • 'নববাবু বিলাস' (১৮২৫): এ গ্রন্থে কলকাতার বাবু সমাজের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
    • 'নববিবি বিলাস' (১৮৩২): এ গ্রন্থে রুচিহীন নীতিভ্রষ্টতার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। সেকালের বড় লোকেরা অনেকেই রক্ষিতা নিয়ে বাইরে রাত্রি যাপন করত। ফলে তাদের স্ত্রীদের যে পদস্খলন ও শোচনীয় পরিণতি হয়েছিল সেটাই এ গ্রন্থের বিষয়।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস (অবাঙালি কর্তৃক) হ্যানা ক্যাথরিন ম্যালেন্স রচিত 'ফুলমণি ও করুণার বিবরণ' (১৮৫২)। এটি The Last Day of the Week নামে ইংরেজি আখ্যানের ছায়াবলম্বনে রচিত। খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করায় ফুলমনির সুখ এবং যথার্থ খ্রিস্ট ধর্মাচরণ না করায় করুণার দুঃখভোগ, পরে মেম সাহেবের ঈশ্বর প্রেরিত সুপরামর্শে করুণার সুমতি ও সুখের মুখদর্শন এ গ্রন্থের মূল কাহিনি। এটি মূলত খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত হলেও এতে উপন্যাসের কিছু লক্ষণ দেখা যায়।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস (বাঙালি কর্তৃক) প্যারীচাঁদ মিত্র (টেকচাঁদ ঠাকুর) কর্তৃক রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। এটি ইংরেজিতে 'Spoiled Child' নামে অনূদিত। এটি বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস যা তিনি 'টেকচাঁদ ঠাকুর' নামে ১৮৫৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে 'মাসিক' পত্রিকায় লিখতেন। এটি কথ্য ভাষায় লিখিত যা 'আলালি ভাষা' নামে পরিচিত।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ পর্যায়ে উড়িষ্যার অধিকার নিয়ে মোঘল ও পাঠানদের মধ্যে যে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, তারই পটভূমিকা এ উপন্যাসের উপজীব্য। দুর্গেশনন্দিনী অর্থ দূর্গ প্রধানের কন্যা। অন্যতম চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ পর্যায়ে উড়িষ্যার অধিকার নিয়ে মোঘল ও পাঠানদের মধ্যে যে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, তারই পটভূমিকা এ উপন্যাসের উপজীব্য। দুর্গেশনন্দিনী অর্থ দূর্গ প্রধানের কন্যা। অন্যতম চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ' (১৮৭৬)।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন। তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রত্নবর্তী' (১৮৬৯)।

বাংলা সাহিত্যের ত্রয়ী উপন্যাসগুলোঃ

কোনো লেখার তিনটি সিরিজ বা তিনটি পার্ট থাকলে তাকে ত্রয়ী বলে। ইংরেজিতে একে বলে ট্রিলজি। এ তিনটি সিরিজে ধারাবাহিকতা থাকে। আবার প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে পাঠযোগ্য।

ঔপন্যাসিক

ত্রয়ী উপন্যাস

আবু জাফর শামসুদ্দীন'ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান' (১৯৬৩), 'পদ্মা মেঘনা যমুনা' (১৯৭৪), 'সংকর সংকীর্তন' (১৯৮০)।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়'ধাত্রীদেবতা' (১৯৩৯), 'গণদেবতা' (১৯৪২), 'পঞ্চগ্রাম' (১৯৪৩)।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'আনন্দমঠ' (১৮৮২), 'দেবী চৌধুরাণী' (১৮৮৪), 'সীতারাম' (১৮৮৭)।
বিমল মিত্র'সাহেব বিবি গোলাম' (১৯৫৩), 'কড়ি দিয়ে কিনলাম' (১৯৬২), 'একক দশক শতক' (১৯৬৩)।
শওকত আলী'দক্ষিণায়নের দিন' (১৯৮৫), 'কুলায় কালস্রোত' (১৯৮৬), 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' (১৯৮৬)।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'পুতুলনাচের ইতিকথা' (১৯৩৬), 'শহরবাসের ইতিকথা' (১৯৪৬), 'ইতিকথার পরের কথা' (১৯৫২)
প্রেমেন্দ্র মিত্র'পাঁক' (১৯২৬), 'কুয়াশা' (১৯৩০), 'মিছিল' (১৯৩৩)।
হুমায়ূন আহমেদ'জোছনা ও জননীর গল্প' (২০০৪), 'মধ্যাহ্ন' (২০০৮), 'মাতাল হাওয়া' (২০১০)।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়'সেই সময়' (১৯৮১), 'পূর্ব-পশ্চিম' (১৯৮৮), 'প্রথম আলো' (১৯৯৬)।
সমরেশ মজুমদার'উত্তরাধিকার' (১৯৭৯), 'কালবেলা' (১৯৮৩), 'কালপুরুষ' (১৯৮৫)।
তাহমিমা আনাম'এ গোল্ডেন এজ' (২০০৭), 'দ্য গুড মুসলিম' (২০১১), 'দ্য বোনস অব গ্রেস' (২০১৬)।

বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস

ঔপন্যাসিক

উপন্যাস

প্যারীচাঁদ মিত্র'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮): বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

' দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫): এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস।

'কপালকুণ্ডলা', 'মৃণালিনী', 'কৃষ্ণকান্তের উইল', 'ইন্দিরা', 'যুগলাঙ্গুরীয়', 'দেবী চৌধুরাণী', 'রাধারানী', 'সীতারাম', 'রজনী', 'চন্দ্রশেখর', 'আনন্দমঠ', 'রাজসিংহ', 'বিষবৃক্ষ'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' (১৮৮৩): প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। 'চোখের বালি', 'গোরা', 'ঘরে-বাইরে', 'যোগাযোগ', 'শেষের কবিতা', 'দুইবোন', 'চার অধ্যায়', 'মালঞ্চ', 'চতুরঙ্গ', 'রাজর্ষি', 'নৌকাডুবি'।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১৯১৮, ৩য় খণ্ড- ১৯২৭, ৪র্থ খণ্ড- ১৯৩৩): এটি তাঁর আত্মজৈবনিক উপন্যাস।

'গৃহদাহ', 'পথের দাবী', 'পল্লীসমাজ', 'দেবদাস', 'চরিত্রহীন', 'নববিধান', 'দত্তা', 'দেনা-পাওনা', 'পরিণীতা', 'বিরাজ বৌ', 'পণ্ডিত মশাই', 'শেষ প্রশ্ন', 'শেষের পরিচয়'।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়'পথের পাঁচালী' (১৯২৯): এটি তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 'অপরাজিত', 'আরণ্যক', 'আদর্শ হিন্দু হোটেল', 'অনুবর্তন', 'দৃষ্টিপ্রদীপ', 'ইছামতি', 'অশনি সংকেত', 'দেবযান'।
রমেশচন্দ্র দত্ত'বঙ্গবিজেতা' (১৮৭৯), 'মাধবীকঙ্কন' (১৮৭৯), 'জীবনপ্রভাত' (১৮৭৯), জীবনসন্ধ্যা' (১৮৭৯)। প্রথম দুটি উপন্যাসে তিনি সম্রাট আকবর কর্তৃক বাংলা বিজয়, তৃতীয়টিতে আকবরের বিরুদ্ধে রানা প্রতাপ সিংহের সংগ্রাম এবং চতুর্থটিতে শিবাজীর নেতৃত্বে মারাঠা শক্তির অভ্যুদয়ের কাহিনি বর্ণনা করেন। এ চারটি উপন্যাসই ছিল ঐতিহাসিক। চারটির বিষয়ই মোঘল আমলের ১০০ বছরের মধ্যেই ঘটিত। এ জন্য উপন্যাস চারটি একত্রে সংকলিত হয়েছে 'শতবর্ষ' নামে।
ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়'কল্পতরু': এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ উপন্যাস।
ভূদেব মুখোপাধ্যায়'ঐতিহাসিক উপন্যাস' (১৮৫৭): বাংলা সাহিত্যের ঐতিহাসিক উপন্যাসের দ্বিতীয় নিদর্শন।
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরীনওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন'আনোয়ারা' (১৯১৪): এতে বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের পারিবারিক ও সামাজিক চিত্র ফুটে উঠেছে।
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক'জোহরা' (১৯২৬): এতে তৎকালীন মুসলিম সমাজের নারীদের প্রতি অন্যায় ও অত্যাচারের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয়-স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে কন্যার জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তারই সার্থক রূপায়ণ এ উপন্যাস।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়'ধাত্রীদেবতা', 'গণদেবতা', 'পঞ্চগ্রাম', 'একটি কালো মেয়ের কাহিনী', 'হাঁসুলি বাঁকের উপকথা', 'ছবি', 'অরণ্যবহ্নি',' চৈতালি ঘূর্ণি', 'জলসাঘর'।
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'তৃণখণ্ড', 'নিরঞ্জনা', 'ভুবন সোম', 'মহারাণী', 'মানসপুর', 'নবীন দত্ত', 'হরিশ্চন্দ্র', 'কিছুক্ষণ', 'সপ্তর্ষি', 'পীতাম্বরের পুনর্জন্ম', 'কৃষ্ণপক্ষ', 'স্বপ্নসম্ভব', 'কষ্টিপাথর', 'প্রচ্ছন্ন মহিমা', 'তীর্থের কাক, 'রৌরব', 'জলতরঙ্গ', 'প্রথম গরল', 'রঙ্গতুরঙ্গ', 'আকাশবাসী', 'সীমারেখা', 'ত্রিবর্ণ', 'অলংকারপুরী', 'জঙ্গম', 'দ্বৈরথ', 'মৃগয়া', 'নির্মোক', 'মানদণ্ড', 'নবদিগন্ত', 'কষ্টিপাথর', 'পঞ্চপর্ব', 'ডানা'।
কাজী নজরুল ইসলাম'বাঁধনহারা' (১৯২৭): এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। 'কুহেলিকা', 'মৃত্যুক্ষুধা'।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

'জননী' (১৯৩৫): এটি তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস।

'পদ্মানদীর মাঝি', 'পুতুলনাচের ইতিকথা', 'শহরতলী', 'অমৃতস্য পুত্রা', 'অহিংসা', 'আরোগ্য', 'দিবারাত্রির কাব্য', 'সোনার চেয়ে দামি', 'স্বাধীনতার স্বাদ'।

আনোয়ার পাশা'রাইফেল রোটি আওরাত'।
সেলিনা হোসেন'হাঙর নদী গ্রেনেড', 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি', 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি'।
শওকত ওসমান'জননী' (১৯৫৮): প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। 'জাহান্নম হইতে বিদায়', 'দুই সৈনিক', 'নেকড়ে অরণ্য', 'জলাঙ্গী', 'বনি আদম', 'ক্রীতদাসের হাসি', 'সমাগম', 'চৌরসন্ধি', 'রাজা উপাখ্যান', 'পতঙ্গ পিঞ্জর'।
দিলারা হাসেম'ঘর মন ও জানালা', 'আমলকীর মৌ'।
অন্নদাশঙ্কর রায়'সত্যাসত্য': বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস যা ছয় খণ্ডে প্রকাশিত।
শওকত আলী'প্রদোষে প্রাকৃতজন', 'কুলায় কালস্রোত', 'ওয়ারিশ'
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত'কাকজ্যোৎস্না' (১৯৩১), 'বেদে', 'বিবাহের চেয়ে বড়', 'প্রথম কদমফুল'।
আবু জাফর শামসুদ্দীন'পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'দেয়াল'।
স্বর্ণকুমারী দেবী'দীপনির্বাণ', 'মেবার রাজ'।
রশীদ করিম'উত্তম পুরুষ', 'প্রসন্ন পাষাণ'।
কাজী ইমদাদুল হক'আব্দুল্লাহ' (১৯৩৩)
ইমদাদুল হক মিলন'রূপনগর', 'সারাবেলা', 'নদী উপাখ্যান'
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়'বৈতালিক'
প্রমথনাথ বিশী'কেরী সাহেবের মুন্সী', 'লালকেল্লা'।
হুমায়ুন কবির'নদী ও নারী'
অদ্বৈত মল্লবর্মণ'তিতাস একটি নদীর নাম'
ডা. লুৎফর রহমান'সরলা'
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী'বেণের মেয়ে'
জাহানারা ইমাম'অন্যজীবন'
সতীনাথ ভাদুড়ী'জাগরী' (রাজনৈতিক উপন্যাস)
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়'আত্মপ্রকাশ', 'পূর্ব-পশ্চিম'
আব্দুর রাজ্জাক'কন্যাকুমারী'
নুরজাহান বেগম‘আগুনমুখার মেয়ে’
হাসন রাজা'লোকে সিন্ধু'
হাসন রাজা'বটতলার উপন্যাস'
খান মুহম্মদ মঈনুদ্দিন'অনাথিনী'
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ'অনাথিনী'
জরাসন্ধ'ন্যায়দণ্ড'
আকবর হোসেন'দু'দিনের খেলাঘর'
সত্যেন সেন'অভিশপ্ত নগরী', 'পাপের সন্তান'।
সরদার জয়েনউদ্দীন'অনেক সূর্যের আশা', 'বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ'
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়'মানবজমিন'

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

রোহিণী
নবকুমার
কপালকুণ্ডলা
ইন্দ্রনাথ
ফণা বিস্তার করা
সর্পের দাঁত তোলা
মন্ত্র প্রয়োগ
অস্ত্রধারণ

লালসালু

3.3k
Please, contribute by adding content to লালসালু.
Content
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বাংলা ছোট গল্প

2.8k

ছোটগল্প সাহিত্যতত্ত্বের একটি পারিভাষিক শব্দ। ছোটগল্প মানে ছোট গল্প নয়, এ এক অনন্য সাহিত্যকর্ম। বিন্দুর মধ্যে যেমন সিন্ধুর কলতান নিয়ে আসা সহজ কোনো ব্যাপার নয়, তেমনই ক্ষুদ্র কোনো কাহিনিতে মানবজীবনের রূপ ও রহস্যের দ্বার উন্মোচন কষ্টসাধ্য। তারপরও অনন্য কথাশিল্পীরা এই কর্মটি করে পাঠককে অভিভূত করে থাকেন। খণ্ড কাহিনির মধ্যে তাঁরা জীবনের অখণ্ডকে যথার্থভাবে বাণীবদ্ধ করতে সমর্থ হয়েছেন।

রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পগুলোর বৈশিষ্ট্য:

বাংলা ছোটগল্পের সার্থক রূপকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আনন্দময় বৈচিত্র্যে ভরা ছোটগল্প সৃষ্টি তাঁকে বিখ্যাত সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্বজনীন খ্যাতি ও স্বীকৃতি প্রদান করেছে। বাংলার নির্জন প্রান্তর, নদীর তীর, উন্মুক্ত আকাশ, বালুচর, অবারিত মাঠ, ছায়া-সুনিবিড় গ্রামে সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবন, অভাবক্লিষ্ট অথচ শান্ত, সহিষ্ণু গ্রামবাসী ইত্যাদি বিষয় রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি 'সোনার তরী' কাব্যের 'বর্ষাযাপন' কবিতায় ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন।

ছোট প্রাণ ছোট ব্যথা, ছোট ছোট দুঃখ কথা

নিতান্তই সহজ সরল,

সহস্র বিস্মৃতি রাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি

তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।

নাহি বর্ণনার ছটা, ঘটনার ঘনঘটা

নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ

অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে

শেষ হয়েও হইল না শেষ।

১. চরিত্র ও ঘটনা: ছোটগল্পের চরিত্রের সংখ্যা সীমিত এবং একটি বা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গল্পের কাহিনি আবর্তিত হয়।

২. একক অনুভূতি: গল্পের পরিসমাপ্তিতে পাঠকের মনে একটি নির্দিষ্ট অনুভূতি তৈরি হয়, যা ছোটগল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

৩. সংক্ষিপ্ত ও বাহুল্যবর্জিত: ছোটগল্প যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত ও বাহুল্যবর্জিত হয়। কারণ, এতে বিন্দুর মধ্যে অবস্থান করে সিন্ধু, যা ছোটগল্পের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

৪. নাটকীয়তা: ছোটগল্পের শুরু ও শেষের মধ্যে নাটকীয়তা বিদ্যমান থাকে।

৫. অতৃপ্তি: অনেকক্ষেত্রে ছোটগল্প পড়া শেষ হওয়ার পরও পাঠকের মনে অতৃপ্তি থেকে যায়। অর্থাৎ পাঠক আরও কিছু প্রত্যাশা করে, যা ছোটগল্পের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

৬. নির্দিষ্ট দিক: ছোটগল্পে মানুষের জীবনের সামগ্রিক দিককে উপেক্ষা করে একটি বিশেষ দিক অর্থাৎ জীবনের খণ্ডাংশের বর্ণনা বিদ্যমান থাকে।

. উপ-কাহিনি বর্জিত: ছোটগল্পের মধ্যে শাখাকাহিনি বা উপকাহিনি সর্বদা বর্জন করা হয়।

Key Notes:

  • আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল ছোটগল্প।
  • ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য: স্বল্প ভাষায় ও স্বল্প পরিসরে জীবনের খণ্ডাংশের বর্ণনা, প্রারম্ভে ও পরিসমাপ্তিতে নাটকীয়তা।
  • ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর হাতেই ছোটগল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ছোটগল্প

ছোটগল্পকার

ছোটগল্প

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রেম সম্পর্কিত গল্প: 'শেষকথা', 'মধ্যবর্তিনী', 'সমাপ্তি', 'নষ্টনীড়', 'একরাত্রি'।

সমাজ সম্পর্কিত গল্প: 'ছুটি', 'হৈমন্তী', 'পোস্ট-মাস্টার', 'দেনা-পাওনা', 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন', 'কাবুলিওয়ালা'।

অতিপ্রাকৃত গল্প: 'ক্ষুধিত পাষাণ', 'কঙ্কাল', 'নিশীথে', 'জীবিত ও মৃত'।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'মন্দির': প্রথম প্রকাশিত গল্প। 'মহেশ', 'মেজদিদি', 'মামলার ফল', 'বিলাসী'।
কাজী নজরুল ইসলাম'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' (১৯১৯): প্রথম প্রকাশিত রচনা / গল্প। 'রিক্তের বেদন', 'শিউলিমালা', 'পদ্মগোখরা'।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'অতসী মামী' (১৩৩৫): প্রথম প্রকাশিত গল্প। 'প্রাগৈতিহাসিক', 'সরীসৃপ', 'সমুদ্রের স্বাদ', 'বৌ', 'আজকাল পরশুর গল্প', 'ছোট বকুলপুরের যাত্রী', 'ফেরিওয়ালা'।
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র' ঠাকুরমার ঝুলি', 'ঠাকুরদাদার ঝুলি', 'ঠানদিদির থলে', 'দাদা মহাশয়ের থলে', 'সাত ভাই চম্পা'। (এসকল গল্পে রূপকথা-ব্রতকথা স্থান পেয়েছে)।
শওকত ওসমান'জন্ম যদি তব বঙ্গে': এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী', 'পিঁজরাপোল', 'প্রস্তর ফলক'।
হাসান আজিজুল হক'আমরা অপেক্ষা করছি', 'নামহীন গোত্রহীন', 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ', 'শীতের অরণ্য', 'জীবন ঘষে আগুন'।
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়'দেশী ও বিলাতী', 'গল্পাঞ্জলি', 'ষোড়শী', 'গল্পবীথি'।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়'রসকলি', 'ডাকহরকরা'
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়'জিবরাইলের ডানা', 'একই সমতলে'
রাজশেখর বসু'গড্ডলিকা'
সুবোধ ঘোষ'ফসিল', 'অযান্ত্রিক'
সরদার জয়েনউদ্দিন'বেলা ব্যানার্জির প্রেম'
বনফুল'মিনু', 'নিমগাছ', 'তাজমহল'
লীলা মজুমদার‘পাখি’
আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন'নিষিদ্ধশহর', 'নারিন্দালন', 'ওম শান্তি'
সোমেন চন্দ'ইঁদুর'
শাহরিয়ার কবির'একাত্তরের যীশু'
প্রেমেন্দ্র মিত্র'মহানগর', 'পুতুল ও প্রতিমা'।
শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়'রেজিং রিপোর্ট'
হালিমা খাতুন'আষাঢ়ের এক রাতে'
খান মোহাম্মদ ফারাবী'মামার বিয়ের বরযাত্রী'
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কলিমদ্দি দফাদার
বিলাসী
হৈমন্তী
অপরাহ্নের গল্প
একুশের গল্প
পুরুষ শাসিত পরিবারের কাহিনি
যৌতুক প্রথার নির্মম কাহিনি
তৎকালীন যুবকের অসহায়ত্ব
কুসংস্কার

ছন্দ

735

ছন্দ কাব্যের গতিসৌন্দর্য সৃষ্টির প্রধান উপাদান। হাজার বছরের বাংলা কাব্যে কবিরা আবেগ, ভাব ও নান্দনিকতা প্রকাশের জন্য নানা ছন্দ নির্মাণ ও বিকাশ ঘটিয়েছেন। ভারতবর্ষে ছন্দচর্চার সূচনা বৈদিক যুগে; বাল্মীকির অনুষ্টুপ্ ছন্দকে আদি ছন্দ বলা হয়। সংস্কৃত ছন্দের ধারাই পরবর্তীকালে বাংলা ছন্দের ভিত্তি গড়ে তোলে, যদিও বাংলা ছন্দের বিকাশে কবিদের নিজস্ব সৃষ্টিশীলতাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলা কাব্যের ছন্দ প্রধানত তিন প্রকার— মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত। চর্যাপদ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত এই তিন ছন্দই বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ছন্দ। এটি মাত্রার উপর নির্ভরশীল এবং চর্যাপদে এর প্রাথমিক রূপ দেখা যায়। বৈষ্ণব পদাবলিতে এর পরিণত ও বৈচিত্র্যময় ব্যবহার লক্ষণীয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে অক্ষরবৃত্তের প্রভাব থেকে মুক্ত করে এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করেন—এটাই তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান।

স্বরবৃত্ত ছন্দ বাংলা ভাষার ধ্বনিগত স্বভাবের সঙ্গে সবচেয়ে সঙ্গতিপূর্ণ। এটি শ্বাসাঘাতপ্রধান, দ্রুত ও প্রাণবন্ত। লোকগান, বাউল, পাঁচালি, শ্যামাসঙ্গীত ও আধুনিক ছড়ায় এর ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের ধামালি ছন্দকে স্বরবৃত্তের প্রাচীন রূপ হিসেবে ধরা হয়।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ও সর্বাধিক ব্যবহৃত ছন্দ। এটি তানপ্রধান ও গদ্যঘনিষ্ঠ। মধ্যযুগে পয়ার ছন্দের মাধ্যমে এর ব্যাপক ব্যবহার হয়, বিশেষত রামায়ণ, মহাভারত ও মঙ্গলকাব্যে। পয়ার ছন্দের বিভিন্ন রূপ—মহাপয়ার, ভঙ্গপয়ার, তরল পয়ার ইত্যাদি—ক্রমে বিকশিত হয়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের মাধ্যমে অক্ষরবৃত্ত ছন্দে আধুনিক গতি আনেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ও কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা ছন্দের আধুনিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের সৃষ্টিশীল পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলা ছন্দ আরও বিজ্ঞানসম্মত, প্রাণবন্ত ও ভাবপ্রকাশে সক্ষম হয়ে উঠেছে।

Content added By

গ্রন্থ

807
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

জননী
দিবারাত্রির কাব্য
চিহ্ন
পল্লি-সমাজ
জননী
দিবারাত্রির কাব্য
চিহ্ন
পল্লি-সমাজ
জননী
দিবারাত্রির কাব্য
চিহ্ন
পল্লি-সমাজ

কাব্য

1.6k
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

লুইপা
কাহ্নপা
রামাই পণ্ডিত
দৌলত উজির বাহরাম খান
সুকান্ত ভট্টাচার্য
সুফিয়া কামাল
সিকান্দার আবু জাফর
জীবনানন্দ দাশ

চলচ্চিত্র

751

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। অবিভক্ত বাংলার অংশ হিসেবে ১৯১৩ সালে 'মীর কাশিম' নির্মাণের মাধ্যমে এই অঞ্চলে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতার পূর্বে, পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকা কেন্দ্রিক 'ঢালিউড' নামে একটি স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র শিল্প গড়ে ওঠে। 'জাগো হুয়া সাবের', 'সুতরাং', 'নয়নতারা' 'বেহুলা', 'লাল সালু' 'কসাই' , 'মৃত্যুক্ষুধা' , 'জীবন থেকে জীবনে' , 'চাষীর মেয়ে'-এর মতো অসাধারণ সৃষ্টি এই সময়ের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। স্বাধীনতার পর, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নতুন দিগন্ত স্পর্শ করে। 'সূর্য দীঘল বাড়ি', 'জীবনঢুলী', 'গেরিলা' 'যোদ্ধা' 'মাটির ময়না' 'চন্দ্রগ্রহণ' , 'হাজার বছর ধরে' , 'নোয়াখালীর মাঝি' , 'আমার বউ' , 'অন্যরকম ভালোবাসা' , 'চোখের বালি' , 'নীল আকাশের চাঁদনী' এর মতো চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। বর্তমানে, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও, 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার', 'ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব', 'চ্যানেল আই সেরা সিনেমা পুরস্কার', 'বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি' 'বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি' 'বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাসোসিয়েশন' 'বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিষদ'-এর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এর অগ্রগতি ও উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

চলচ্চিত্র তথ্যকণিকা

  • সর্বপ্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয় : ১৮৯৫ সালে
  • সর্বপ্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন : লুমিয়ার ব্রাদার্স (যুক্তরাষ্ট্র)
  • উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের জনক : হীরালাল সেন
  • প্রথম মুসলমান বাঙালী চলচ্চিত্রকার : কাজী নজরুল ইসলাম
  • বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনক : আবদুল জব্বার খান
  • বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার : জহির রায়হান
  • উপমহাদেশের প্রথম নির্বাক চলচ্চিত্র : ১৯০৩ সালে নির্মিত 'আলী বাবা চল্লিশ চোর' । পরিচালক - হীরালাল সেন
  • উপমহাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র : ১৯৩১ সালে নির্মিত 'জামাই ষষ্ঠী' । পরিচালক- অমরেন্দ্রনাথ চৌধুরী
  • বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র : ১৯৫৬ সালে নির্মিত 'মুখ ও মুখোশ' । পরিচালক-আবদুল জব্বার খান এবং এর সংগীত পরিচালক ছিলেন সমর দাস।
  • কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম বাংলাদেশী চলচ্চিত্র : 'মাটির ময়না' । পরিচালক- তারেক মাসুদ
  • অষ্কার পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রথম বাংলাদেশী চলচ্চিত্র : 'মাটির ময়না' (২০০২ সালে)
  • আন্তর্জাতিক পুরষ্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র : 'আগামী’ । পরিচালক- মোরশেদুল ইসলাম
  • ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে 'সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড' হয় : 'শঙ্খনীল কারাগার' । পরিচালক-হুমায়ূন আহমদ
  • ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র : 'ভেজা বিড়াল' পরিচালক - শহীদুল ইসলাম খোকন
  • বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র উৎসবের নাম : ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব, ১৯৩২ সালে
  • বাংলাদেশে প্রথম চলচ্চিত্র উৎসব হয় : ১৯৮১ সালে (ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব)
  • বাংলাদেশে প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব হয় : ১৯৮৮ সালে
  • বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা হল : পিকচার হাউস
  • কাজী নজরুল ইসলাম কোন ছবিতে অভিনয় করেছিলেন : ধ্রুব
  • তারেক মাসুদ নির্মিত স্বল্পদের্ঘ্য চলচ্চিত্র : আদম সুরত
  • বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র : বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিতব্য বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য মনোনীত করা হয়। ভারতের প্রখ্যাত পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার শ্যাম বনেগালকে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি
  • রেহেনা মরিয়ম নূর : ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র রেহানা মরিয়ম নূর। এর পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। এটি একজন সহকারী অধ্যাপকের জীবন সংগ্রামের গল্প। ২০২১ সালের কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে 'আঁ সাতে রিগা' বিভাগে এই সিনেমাটি মনোনয়ন পেয়েছিল।
  • বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি : গাজীপুরে অবস্থিত।

'ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র

চলচ্চিত্রপরিচালকসাল
জীবন থেকে নেয়াজহির রায়হান১৯৭০
বাঙলা ( আহমদ ছফার বিখ্যাত উপন্যাস ‘ওংকার’ অবলম্বনে নির্মিত )শহীদুল ইসলাম খোকন২০০৬
ফাগুন হাওয়ায়তৌকির আহমেদ২০১৯
'ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

চলচ্চিত্রপরিচালকসাল
ওরা ১১ জনচাষী নজরুল ইসলাম১৯৭২
সংগ্রামচাষী নজরুল ইসলাম১৯৭৩
হাঙ্গর নদী গ্রেনেডচাষী নজরুল ইসলাম১৯৯৭
ধ্রুবতারাচাষী নজরুল ইসলাম২০০৬
বাঘা বাঙালিআনন্দ১৯৭২
কার হাসি কে হাসেআনন্দ১৯৭৪
আবার তোরা মানুষ হখান আতাউর রহমান১৯৭৩
এখনও অনেক রাতখান আতাউর রহমান১৯৯৭
ধীরে বহে মেঘনাআলমগীর কবির১৯৭৩
রূপালী সৈকতআলমগীর কবির
নদীর নাম মধুমতিতানভীর মোকাম্মেল১৯৯০
রাবেয়াতানভীর মোকাম্মেল২০০৮
আগুনের পরশমণিহুমায়ূন আহমদ১৯৯৫
শ্যামল ছায়াহুমায়ূন আহমদ২০০৪
রক্তাক্ত বাংলামমতাজ আলী১৯৭২
অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষীসুভাষদত্ত১৯৭২
জয়বাংলাফখরুল আলম১৯৭২
আলোর মিছিলমিতা১৯৭৪
বাংলার ২৪ বছরমোহাম্মদ আলী১৯৭৪
মেঘের অনেক রংহারুনুর রশিদ১৯৭৬
কলমীলতাশহীদুল হক খান১৯৮১
বাঁধনহারাএ.জে. মিন্টু১৯৮১
চিৎকারমতিন রহমান১৯৮১
মাটির ময়নাতারেক মাসুদ২০০২
খেলাঘরমোরশেদুল ইসলাম২০০৬
জয়যাত্রাতৌকির আহমেদ২০০৪
মেহেরজানরুবাইয়াত হোসেন২০১০
খন্ডগল্পবদরুল আলম সৌদ২০১১
আমার বন্ধু রাশেদমোরশেদুল ইসলাম২০১১
গেরিলানাসিরউদ্দীন ইউসুফ২০১১
পিতামাসুদ আখন্দ২০১২
আত্মদানশাহজাহান চৌধুরী২০১২
কারিগরআনোয়ার সাদাত২০১২
খন্ডগল্প ৭১বদরুল অনাম সৌদ২০১২
জীবনঢুলীতানভীর মোকাম্মেল২০১৩
৭১ এর গেরিলামিজানুর রহমান শামীম২০১৩
মেঘমাল্লারজাহিদুর রহিম অঞ্জন২০১৪
অনুক্রোমগোলাম মোস্তফা শিমুল২০১৪
হৃদয়ে ৭১সাদেক সিদ্দিকী২০১৪
৭১ এর মা জননীশাহ আলম কিরণ২০১৪
যুদ্ধশিশুমৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত২০১৪
৭১ এর সংগ্রামমনসুর আলী২০১৫
একাত্তরের ক্ষুদিরামএান্নান হীরা২০১৫
এইতো প্রেমসোহেল আরমান২০১৫
শোভনের স্বাধীনতামানিক মানবিক২০১৫
অনিল বাগচীর একদিনমোরশেদুল ইসলাম২০১৫
লাল-সবুজের সুরমুশফিকুর রহমান গুলজার২০১৬
ভুবন মাঝিফকরুল আরেফিন খান২০১৬
পোস্টমাস্টার ৭১আরিফ খান২০১৮
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

⮚ 'ওরা ১১ জন' ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত (চাষী নজরুল ইসলামের) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীনতার ডাক দেন, এ ছবির গল্পে সেই ঐতিহাসিক ভাষণের কিছু অংশ দেখানো হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

চলচ্চিত্রপরিচালক
হুলিয়াতানভীর মোকাম্মেল
স্মৃতি-৭১তানভীর মোকাম্মেল
জীবনঢুলীতানভীর মোকাম্মেল
আগামীমোরশেদুল ইসলাম
সূচনামোরশেদুল ইসলাম
প্রত্যাবর্তনমোস্তফা কামাল
ধূসর যাত্রাআবু সাইয়িদ
আবর্তনআবু সাইয়িদ
একাত্তরের যীশুনাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু (১৯৯৩)
চাক্কিএনায়েত করিম বাবুল
দূরন্তখান আখতার হোসেন
বখাটেহাবিবুল ইসলাম হাবিব
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র

চলচ্চিত্রপরিচালক
স্টপ জেনোসাইড (Stop Genocide)জহির রায়হান
এ স্টেট ইজ বর্নজহির রায়হান
লিবারেশন ফাইটার্সআলমগীর কবির
একসাগর রক্তের বিনিময়েআলমগীর কবির
মুক্তির গানতারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ (১৯৯৫)
মুক্তির কথাতারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ (১৯৯৯)
নাইন মানথ টু ফ্রীডমএস সুকুদেব
ইনোসেন্ট মিলিয়নসবাবুল চৌধুরী
রিফিউজি-৭১বিনয় রায়
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র

অন্যান্য বিখ্যাত চলচ্চিত্র

চলচ্চিত্রপরিচালক
স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'চাকা'মোরশেদুল ইসলাম
শিশুতোষ চলচ্চিত্র 'দীপু নাম্বার টু'মোরশেদুল ইসলাম
সূর্য দীঘল বাড়িশেখ নিয়ামত শাকের
পদ্মা নদীর মাঝিগৌতম ঘোষ
পলাশী হতে ধানমন্ডিআব্দুল গাফফার চৌধুরী
স্কুলিংতৌকির আহমেদ
অন্যান্য বিখ্যাত চলচ্চিত্র

অস্কারে বাংলাদেশী চলচ্চিত্র

চলচ্চিত্রপরিচালকযততমসাল
মাটির ময়নাতারেক মাসুদ৭৫তম২০০২
শ্যামল ছায়াহুমায়ূন আহমদ৭৮তম২০০৫
নিরন্তরআবু সায়ীদ৭৯তম২০০৬
স্বপ্নডানায়গোলাম রাব্বানী বিপ্লব৮০তম২০০৭
আহাএনামুল করিম নির্ঝর৮১তম২০০৮
বৃত্তের বাইরেগোলাম রাব্বানী বিপ্লব৮২তম২০০৯
থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বারমোস্তফা সারোয়ার ফারুকী৮৩তম২০১০
ঘেটুপুত্র কমলাহুমায়ূন আহমদ৮৫তম২০১২
টেলিভিশনমোস্তফা সারোয়ার ফারুকী৮৬তম২০১৩
জোনাকির আলোখালিদ মাহমুদ (মিঠু)৮৭তম২০১৪
জালালের গল্পআবু শাহেদ ইমন৮৮তম২০১৫
অজ্ঞাতনামাতৌকির আহমেদ৮৯তম২০১৬
খাঁচাআকরাম খান৯০তম২০১৭
ডুবমোস্তফা সরয়ার ফারুকী৯১ তম২০১৮
অস্কারে বাংলাদেশী চলচ্চিত্র
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

হুমায়ুন আহমেদ
চাষী নজরুল ইসলাম
খান আতাউর রহমান
তারেক মাসুদ
হীরালাল
আলমগীর কবীর
জহির রায়হান
সরদার জয়েনউদ্দিন
তারেক মাসুদ
হুমায়ূন আহমেদ
সত্যজিৎ রায়
ঋত্বিক ঘটক
জহির রায়হাল
তারেক মাসুদ
আলমগীর কবির
মাসুদ কবীর

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য

668

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক রচনা

রচয়িতা

রচনার নাম

জহির রায়হান'আরেক ফাল্গুন' (১৯৬৯): ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম উপন্যাস। 'একুশের গল্প' (ছোটগল্প),
'Let there be Light' (চলচ্চিত্র)
হাসান হাফিজুর রহমান'একুশে ফেব্রুয়ারি': বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে ১৯৫৩ সালে সাহিত্য সংকলনটি রচিত হয়।
মাহবুব উল আলম চৌধুরী'কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' (কবিতা): ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম কবিতা।
মুনীর চৌধুরী'কবর' (নাটক)
শওকত ওসমান'আর্তনাদ' (উপন্যাস), 'মৌন নয়' (ছোটগল্প)
আলাউদ্দিন আল আজাদ'স্মৃতিস্তম্ভ' (কবিতা)
আবদুল গাফফার চৌধুরীআমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি .. (একুশের গান)
আবদুল লতিফওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়... (গান)
রাবেয়া খাতুন'প্রথম বধ্যভূমি' (ছোটগল্প)
আবুবকর সিদ্দিকলখার একুশে (ছোটগল্প)
Content added By
Content updated By

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্য

831

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ / রচনা / সাহিত্যকর্ম

উপন্যাস

রচয়িতাউপন্যাস
আনোয়ার পাশা“রাইফেল রোটি আওরাত”- (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ১ম উপন্যাস)
সৈয়দ শামসুল হক“নিষিদ্ধ লোবান” , “নীলদংশন”
শওকত ওসমান“দুই সৈনিক” , “নেকড়ে অরণ্য” , “জাহান্নাম হতে বিদায়” , “জলাঙ্গী” , “ক্রীতদাসের হাসি” , “পিতল পিঞ্জর”
শওকত আলী“যাত্রা”
হুমায়ূন আহম্মেদ১. শ্যামল ছায়া ২. জ্যোছনা ও জননীর গল্প ৩. ১৯৭১ ৪. আগুনের পরশমনি ৫. নির্বাসন
মনের রাখার কৌশল: শ্যামল এবং জোছনা ১৯৭১ সালে দেশকে আগুনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য নির্বাসনে যায় ।
আল মাহমুদ“উপমহাদেশ”
আবু জাফর শামসুদ্দিন“দেয়াল”
রশীদ হায়দার“খাঁচায়”
সরদার জয়েনউদ্দিন“বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ”
সেলিনা হোসেন“হাঙর নদী গ্রেনেড” , “যুদ্ধ”
ইমদাদুল হক মিলন“কালো ঘোড়া”
রাবেয়া খাতুন“ফেরারী সূর্য”
তাহমিনা আনাম“এ গোল্ডেন এজ”
মুহম্মদ জাফর ইকবাল“আমার বন্ধু রাশেদ”: একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক শিশুতোষ উপন্যাস ।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়“একটি কালো মেয়ের কথা”
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়“পূর্ব-পশ্চিম” ['পূর্ব-পশ্চিম' উপন্যাসটিতে বিভাজনপূর্ব বাংলার একটি পরিবার, ১৯৪৭ এর ভারত বিভাগের সময়কার পরিস্থিতি, দেশত্যাগ উদ্বাস্তুদের জীবন, নতুন প্রজন্মের চিন্তাধারা, পশ্চিমবঙ্গের নক্সাল আন্দোলন, এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্থান পেয়েছে।]
মাহমুদুল হক“জীবন আমার বোন”
আমজাদ হোসেন“অবেলায় অসময়”

নাটক

রচয়িতানাটক
সৈয়দ শামসুল হকপায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়: যুদ্ধশেষে মুক্তিবাহিনীর গ্রামে প্রবেশের সময়কার ঘটনা এখানে স্থান পেয়েছে। (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ১ম নাটক)
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহতরঙ্গভঙ্গ
মমতাজ উদ্দিন আহমেদ“কী চাহ শঙ্খচীল” , “বর্ণচোর” , “স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা” , “বকুলপুরের স্বাধীনতা”
আলাউদ্দিন আল আজাদ“নরকে লাল গোলাপ”
নীলিমা ইব্রাহিম“যে অরণ্যে আলো নেই”
আব্দুল্লাহ আল মামুন“আয়নায় বন্ধুর মুখ”
জিয়া হায়দার“পঙ্কজবিভাস”
সাইদ আহমদ“প্রতিদিন একদিন”
রণেশ দাশগুপ্ত“ফেরী আসছে”

প্রবন্ধ

রচয়িতাপ্রবন্ধ
মেজর আব্দুল জলিল“A search for Identity”
মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং“The liberation of Bangladesh”
ডঃ নীলিমা ইব্রাহীম“আমি বীরাঙ্গনা বলছি”
সেলিনা হোসেন“একাত্তরের ঢাকা”
রাবেয়া খাতুন“একাত্তরের নিশান”
আলাউদ্দিন আল আজাদ“ফেরারী ডায়েরী”

সম্পাদিত গ্রন্থ

রচয়িতাগ্রন্থ
হাসান হাফিজুর রহমান”মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসঃ দলিলপত্র ”: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ষোল খন্ডে “বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ” বিষয়ক দলির সংগ্রহের প্রকল্প গৃহীত হয়েছিল ।
শামসুর রাহমান“বাংলাদেশ কথা কয়”
রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম“লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে” , “একাত্তরের বিজয় গাঁথা” , “শেখ মুজিব ও স্বাধীনতা সংগ্রাম” , “মুক্তিযুদ্ধ ও বুদ্ধিজীবী” , “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস” , “প্রতিরোধের প্রথম প্রহর”

স্মৃতিকথা

রচয়িতাগল্প
এম আর আখতার মুকুল“আমি বিজয় দেখেছি”
জাহানারা ইমাম“একাত্তরের দিনগুলি” , “বুকের ভেতর আগুন”
সুফিয়া কামাল“একাত্তরের ডায়েরি”
আলাউদ্দিন আল আজাদ“ফেরারী ডায়েরী”

গল্প

রচয়িতাগল্প
শওকত ওসমান“জন্ম যদি তব বঙ্গে”
রাবেয়া খাতুন“মুক্তিযুদ্ধের গল্প (গল্প সংকলন)”

কবিতা

কবিকবিতা
শামসুর রহমান“স্বাধীনতা তুমি”
অ্যালেন গিনসবার্গ (USA)“সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড”

পত্রসংকলন

রচয়িতাগ্রন্থ
প্রথম আলো ( পত্রিকা ) ও গ্রামীণফোন কোম্পানি“একাত্তরের চিঠি” –বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রামীণফোন ও জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো' যৌথ উদ্যোগে একাত্তরের চিঠি নামের মুক্তিযোদ্ধাদের এ পত্র সংকলনটি প্রকাশ করেছে (প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত)। এতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার স্বজনদের কাছে লিখিত ৮২টি পত্র স্থান পেয়েছে। ২৭মার্চ ২০০৯ বইটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ।

অন্যান্য গ্রন্থ

রচয়িতাগ্রন্থ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান“আমার কিছু কথা”
মোনায়েম সরকার“বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু”
বেগম নুরজাহান“একাত্তরের কথামালা”
এন্থনি মাসকারেনহাস“বাংলাদেশ রক্তের ঋণ” , “দ্য রেইপ অব বাংলাদেশ”
আব্দুল গাফফার চৌধুরী“ইতিহাসের রক্ত পলাশ”
এম আর আখতার মুকুল“ওরা চারজন”

চলচ্চিত্র

প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ও পরিচালক

পরিচালকপ্রামাণ্য চলচ্চিত্র
জহির রায়হান“Stop Genocide (1971)” , “A state is Born (1971)”
বাবুল চৌধুরী“Innocent Millions (1971)”
তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ“মুক্তির গান (১৯৯৫)”
আলমগীর কবির“Liberation Fighters (1972)”

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও পরিচালক

পরিচালকস্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
খান আখতার হোসেন“দুরন্ত”
নাসির উদ্দীন ইউসুফ“একাত্তরের যীশু”
মোস্তফা কামাল“প্রত্যাবর্তন”
সুমন আহমেদ“নীল দংশন”
তানভীর মোকাম্মেল“হুলিয়া” , “জীবনঢুলী”: এই ছবিতে নিম্নবর্ণের দরিদ্র ঢাকি "জীবনকৃষ্ণ দাস" এর জীবন এবং তার এলাকায় ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাযজ্ঞ আবির্ভূত হয়েছে।

পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও পরিচালক

পরিচালকপূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
চাষী নজরুল ইসলাম“ওরা ১১ জন (১৯৭২)” , “হাঙ্গর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭)”
আলমগীর কবির“ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩)”
খান আতাউর রহমান“আবার তোরা মানুষ হ” , “এখনও অনেক রাত (১৯৯৭)”
সুভাষ দত্ত“অরুণোদয়ের অগ্নি সাক্ষী (১৯৭২)”
হুমায়ুন আহমেদ“আগুনের পরশমণি (১৯৯৫)”
গীতা মেহতা“ডেডলাইন বাংলাদেশ (১৯৭২)”
মমতাজ আলী“রক্তাক্ত বাংলা (১৯৭২)”

একাত্তর নামক সকল গ্রন্থ একসাথে দেওয়া হল কনফিউশন দূর করার জন্য

রচয়িতাগ্রন্থ
জাহানারা ইমামএকাত্তরের দিন গুলি (স্মৃতিকথা)
সুফিয়া কামালএকাত্তরের ডায়েরী (স্মৃতিকথা)
সেলিনা হোসেনএকাত্তরের ঢাকা (প্ৰবন্ধ)
রাবেয়া খাতুনএকাত্তরের নিশান
বেগম নূরজাহানএকাত্তরের কথামালা
এম আর আখতার মুকুলএকাত্তরের বর্ণমালা
এম আর আখতার মুকুলবিজয়-৭১
মেজর রফিকুল ইসলামএকাত্তরের বিজয় গাঁথা
গ্রামীণ ফোন ও প্রথম আলো কর্তৃক প্রকাশিতএকাত্তরের চিঠি
শাহরিয়ার কবিরএকাত্তরের যীশু
শামসুল হুদা চৌধুরীএকাত্তরের রণাঙ্গণ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য ও সৃজনশীল কাজের একটি তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি বিভিন্ন লেখকের উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও চলচ্চিত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। মূল লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • আনোয়ার পাশা - "রাইফেল রোটি আওরাত"
  • সৈয়দ শামসুল হক - "নিষিদ্ধ লোবান", "নীলদংশন"
  • শওকত ওসমান - "দুই সৈনিক", "জলাঙ্গী"
  • হুমায়ূন আহম্মেদ - "শ্যামল ছায়া", "১৯৭১"
  • আল মাহমুদ - "উপমহাদেশ"
  • মাহমুদুল হক - "জীবন আমার বোন"
  • জাহানারা ইমাম - "একাত্তরের দিনগুলি"
  • সেলিনা হোসেন - "আমি বীরাঙ্গনা বলছি"

এছাড়াও বিভিন্ন চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে:

  • জহির রায়হান - "Stop Genocide (1971)"
  • এরপর - অন্যান্য পরিচালক এবং চলচ্চিত্রের নাম, যেমন "ওরা ১১ জন", "হাঙ্গর নদী গ্রেনেড"

এই সমস্ত কাজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শোষণ, ত্যাগ ও সংগ্রামের কাহিনী তুলে ধরে এবং দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে সুরক্ষা করে।

Content added By
Content updated By

বাংলায় উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও চরিত্র

930

বিখ্যাত চরিত্র

গ্রন্থকার

গ্রন্থ

চরিত্র

মুকুন্দরাম চক্রবর্তীচণ্ডীমঙ্গলফুল্লরা, ভাঁড়ুদত্ত, ধনপতি সওদাগর, লহনা, খুল্লনা
মাইকেল মধুসূদন দত্তবুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁভক্তপ্রসাদ বাবু
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ফুলের মূল্যম্যাগী
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়পথের পাঁচালীঅপু, দুর্গা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কমলাকান্তের দপ্তরকমলাকান্ত, নসীরাম বাবু, প্রসন্ন গোয়ালিনী, ভীষ্মদেব খোশনবীশ
আলাওলপদ্মাবতীপদ্মাবতী
ভারতচন্দ্রঅন্নদামঙ্গলঈশ্বরী পাটনী
দ্বিজ কানাইমহুয়া পালানদের চাঁদ, মহুয়া
দীনবন্ধু মিত্রনীলদর্পণনবীন মাধব, তোরাপ
সধবার একাদশীনিমচাঁদ, কেনারাম
মীর মশাররফ হোসেনবিষাদ-সিন্ধুইমাম হোসেন, এজিদ
মুনির চৌধুরীরক্তাক্ত প্রান্তরজোহরা, ইব্রাহীম কার্দি
জহির রায়হানহাজার বছর ধরেটুনি, মন্তু
একুশের গল্পতপু, রেণু
নজীবর রহমানআনোয়ারাআনোয়ারা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরছুটিফটিক
কাবুলিওয়ালারহমত, মিনি
শাস্তিচন্দরা
পোস্টমাস্টাররতন
সমাপ্তিমৃন্ময়ী
হৈমন্তীহৈমন্তী, অপু, গৌরীশঙ্কর
নষ্টনীড়চারুলতা, ভূপতি
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তনরাইচরণ
একরাত্রিসুরবালা (নায়িকা)
জীবিত ও মৃতকাদম্বিনী
বিসর্জনজয়সিংহ, রঘুপতি, অপর্ণা
ডাকঘরঅমল
গোরাগোরা, ললিতা, বিনয়
শেষের কবিতাঅমিত, লাবণ্য, শোভনলাল
মালঞ্চআদিত্য, নীরজা, সরলা
চোখের বালিমহেন্দ্র, বিনোদিনী
যোগাযোগমধুসূদন, কুমুদিনী
দুইবোনশর্মিলা, ঊর্মিলা
ঘরে-বাইরেনিখিলেশ, বিমলা
চতুরঙ্গশচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস
চার অধ্যায়অতিন, এলা, ইন্দ্রনাথ
রক্তকরবীরঞ্জন, নন্দিনী
রবিবারঅভীক, বিভা
কানাহরি দত্তমনসামঙ্গলচাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর
বড়ু চণ্ডীদাসশ্রীকৃষ্ণকীর্তনরাধা, কৃষ্ণ, বড়ায়ি
প্যারীচাঁদ মিত্রআলালের ঘরের দুলালঠকচাচা
কালীপ্রসন্ন সিংহহুতোম প্যাঁচার নকশাদনুবানু
মাইকেল মধুসূদন দত্তমেঘনাদবধ কাব্যমেঘনাদ, প্রমীলা, রাবণ
কৃষ্ণকুমারীভিমসিং, বিলাসবতী
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়পদ্মানদীর মাঝিকুবের, মালা, কপিলা, হোসেন মিয়া
পুতুলনাচের ইতিকথাশশী, কুসুম
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়দুর্গেশনন্দিনীআয়েশা, তিলোত্তমা
কপালকুণ্ডলাকপালকুণ্ডলা, নবকুমার
বিষবৃক্ষকুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ
কৃষ্ণকান্তের উইলরোহিণী, গোবিন্দলাল
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়মহেশগফুর, আমিনা
মেজদিদিহেমাঙ্গিনী, কেষ্ট, কাদম্বিনী
বড় দিদিমাধবী, সুরেন্দ্রনাথ
দত্তানরেন, বিজয়া
শ্রীকান্তশ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী, অভয়া, ইন্দ্রনাথ
গৃহদাহসুরেশ, অচলা, মহিম
চরিত্রহীনসতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী
পথের দাবীসব্যসাচী
দেবদাসদেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমুখী
পল্লীসমাজরমা, রমেশ
দেনা-পাওনাজীবানন্দ, ষোড়শী
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহলালসালুমজিদ, জমিলা, আমেনা, রহিমা
চাঁদের অমাবস্যাআরেফ আলী (নায়ক), কাদের
অমৃতলাল বসুবিবাহ বিভ্রাটনন্দলাল
আবু ইসহাকসূর্য দীঘল বাড়ীজয়গুন, হাসু, মায়মুন
শহীদুল্লা কায়সারসারেং বৌকদম সারেং, নবিতুন
সংশপ্তকহুরমতি, লেকু, রমজান, আনোয়ার
শওকত ওসমানক্রীতদাসের হাসিতাতারি, হারুন অর রশিদ
কাজী নজরুল ইসলামবাঁধনহারানুরুল হুদা, মাহবুবা, রাবেয়া
কুহেলিকাজাহাঙ্গীর, হারুন, প্রমথ
মৃত্যুক্ষুধাকুর্শি, প্যাকালে, মেজো বউ
Content added By

সাহিত্যিকদের উপাধি ও ছদ্মনাম

3.1k
বিখ্যাত সাহিত্যিকদের উপাধি

নাম

উপাধি

ঈশ্বরচন্দ্র শর্মাবিদ্যাসাগর, বাংলা গদ্যের জনক, বিরাম/যতি চিহ্নের প্রবর্তক।
জীবনানন্দ দাশতিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি, প্রকৃতির কবি।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সাহিত্য সম্রাট, বাংলার ওয়াল্টার স্কট, বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক।
বিহারীলাল চক্রবর্তীবাংলা গীতিকবিতার জনক, ভোরের পাখি (রবীন্দ্রনাথ তাঁকে এ উপাধি দেন)।
মাইকেল মধুসূদন দত্তবাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার প্রবর্তক, সনেটের প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষরের প্রবর্তক, দত্তকুলোদ্ভব কবি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরবিশ্বকবি (ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় তাঁকে এ উপাধি দেন), কবিগুরু, বাংলা ছোটগল্পের জনক।
সুফিয়া কামালজননী সাহসিকা, বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মহিলা কবি।
কাজী নজরুল ইসলামবিদ্রোহী কবি, জাতীয় কবি
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেননারী জাগরণের অগ্রদূত
আবদুল করিমসাহিত্য বিশারদ
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীস্বপ্নাতুর কবি
গোলাম মোস্তফাকাব্য সুধাকর
গোবিন্দচন্দ্র দাসস্বভাব কবি
জসীমউদ্দীনপল্লীকবি
জাহানারা ইমামশহিদ জননী
মুহম্মদ শহীদুল্লাহভাষাতত্ত্ববিদ
নজিবর রহমানসাহিত্যরত্ন
নূরন্নেছা খাতুনসাহিত্য সরস্বতী
প্যারীচাঁদ মিত্রবাংলা উপন্যাসের প্রতিষ্ঠাতা
প্রমথ চৌধুরীচলিত রীতির প্রবর্তক
সমর সেনআধুনিক যুগের নাগরিক কবি
সুধীন্দ্রনাথ দত্তক্লাসিক কবি
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তযুগসন্ধিক্ষণের কবি
সুকান্ত ভট্টাচার্যকিশোর কবি
সুভাষ মুখোপাধ্যায়পদাতিক কবি
অনন্ত বড়ুবড়ু চণ্ডীদাস
আবদুল কাদিরছান্দসিক কবি
দিলওয়ারগণমানুষের কবি
কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়দাদা মশাই
মধুসূদন মজুমদারদৃষ্টিহীন
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়বাংলার মিল্টন (শেষ জীবনে অন্ধ হন)
বিদ্যাপতিমিথিলার কোকিল, কবিকণ্ঠহার
বিষ্ণু দেমার্কসবাদী কবি
ভারতচন্দ্ররায়গুণাকর, প্রথম নাগরিক কবি
মালাধর বসুগুণরাজ খান
মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকবিকঙ্কন
মুকুন্দদাসচারণকবি
মোজাম্মেল হকশান্তিপুরের কবি
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তদুঃখবাদী কবি
রামনারায়ণতর্করত্ন
আলাওলমহাকবি
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়অপরাজেয় কথাশিল্পী
শামসুর রাহমাননাগরিক কবি
ফররুখ আহমদইসলামী রেনেসাঁর কবি
হাসন রাজামরমি কবি
হাবিবুর রহমানশিশু সাহিত্যিক
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তছন্দের জাদুকর
বাহরাম খানদৌলত উজির
অমৃতলাল বসুরসরাজ
আবদুল হককলম সৈনিক
পঞ্চানন কর্মকারমল্লিক
মোহিতলাল মজুমদারসত্যসুন্দর দাস
শহিদুল জহিরডিমান্ডিং লেখক

সাহিত্যিকদের প্রকৃত নাম ও ছদ্মনাম

প্রকৃত নাম

ছদ্মনাম

প্রকৃত নাম

ছদ্মনাম

আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহশহীদুল্লা কায়সারআবুল কালাম শামসুদ্দীনশামসুদ্দীন আবুল কালাম
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তনীহারিকা দেবীঅমৃতলাল বন্দ্যোপাধ্যায়অমিয়া দেবী
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসমঞ্জু (ডাকনাম)আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহজহির রায়হান
আবু জাফর শামসুদ্দিনঅল্পদর্শীইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়পঞ্চানন
আরজ আলীআরজ আলী মাতুব্বরআলাউদ্দিন আল আজাদবাদশা (ডাকনাম)
কাজী নজরুল ইসলামদুখু মিয়া, নুরুমনোয়ারা বেগম মনিসেলিনা পারভীন
কামদারঞ্জন রায়উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়জয়েনউদ্দিন বিশ্বাসসরদার জয়েনউদ্দিন
মুহম্মদ কাজেম আল কুরায়শীকায়কোবাদমাইকেল মধুসূদন দত্তTimothy Penpoem
মীর মশাররফ হোসেনগাজী মিয়াঁ, উদাসীন পথিককাজী নজরুল ইসলামধূমকেতু
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়বনফুলএম. ওবায়দুল্লাহআসকার ইবনে শাইখ
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কৃচিতপ্রৌঢ়আবদুল মান্নান সৈয়দঅশোক সৈয়দ
অখিল নিয়োগীস্বপনবুড়োঅহিদুর রেজাহাসন রাজা
আবুল হোসেন মিয়াআবুল হাসানঅজিত দত্তরৈবতক
অন্নদাশঙ্কর রায়লীলাময় রায়অমিতাভ চৌধুরীনিরপেক্ষ
গন্ধর্ব নারায়ণদীনবন্ধু মিত্রআবুল ফজলশমসের উল আজাদ
কানাই শেখপাগলা কানাইকামিনি রায়জনৈক বঙ্গমহিলা
নীহাররঞ্জন গুপ্তবানভট্টসুনীল গঙ্গোপাধ্যায়নীললোহিত
গৌরকিশোর ঘোষরূপদর্শীপ্রেমেন্দ্র মিত্রকৃত্তিবাস ভদ্র
মইনুদ্দিন আহমেদসেলিম আল দীনজীবনানন্দ দাশশ্রী, কালপুরুষ
প্যারীচাঁদ মিত্রটেকচাঁদ ঠাকুরসুকুমার রায়উহ্যমান পণ্ডিত
রামমোহন রায়শিবপ্রসাদ রায়প্রমথ চৌধুরীবীরবল
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তঅশীতিপর শর্মাহরিনাথ মজুমদারকাঙাল হরিনাথ
সৈয়দ আলী আহসানচেনাকণ্ঠরোকনুজ্জামানদাদাভাই
সৈয়দ মুজতবা আলীমুসাফির, সত্যপীরসমরেশ বসুকালকূট
রাজশেখর বসুপরশুরামমহাশ্বেতা দেবীসুমিত্রা দেবী
দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরবঙ্গের রঙ্গ দর্শকমনিরুজ্জামানহায়াৎ মাহমুদ
নীলিমা রায় চৌধুরীনীলিমা ইব্রাহিমকালীপ্রসন্ন সিংহহুতোম প্যাঁচা
বিমল ঘোষমৌমাছিচারুচন্দ্র চক্রবর্তীজরাসন্ধ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরভানুসিংহ ঠাকুরজসীমউদ্‌দীনতুজাম্বর আলি
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়অনিলা দেবীনারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়সুনন্দ
স্বামী কালিকানন্দঅবধূতশেখ আজিজুর রহমানশওকত ওসমান
সতীনাথ ভাদুড়ীচিত্রগুপ্তঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তভ্রমণকারী বন্ধু
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়যাযাবরসৈয়দ ওয়ালীউল্লাহআবু শরিয়া
মধুসূদন মজুমদারদৃষ্টিহীন
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

শহিদুল্লাহ কায়সার
শওকত ওসমান
প্রমথ চৌধুরী
সৈয়দ শামসুল হক
প্রমথ চৌধুরী
সৈয়দ মুজতবা আলী
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
শুভো ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রমথ চৌধুরী
মৈনাক
ভানুসিংহ ঠাকুর
তুজম্বার আলী
আতা খাঁ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাজী নজরুল ইসলাম
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

প্রায় একই নামের গ্রন্থ ও রচয়িতা

917

'রত্নবর্তী', 'রত্নাবলী' এবং 'রত্নদীপ'।

  • রত্নবর্তী (উপন্যাস) : মীর মশাররফ হোসেন
  • রত্নাবলী (নাটক) : রামনারায়ণ তর্করত্ন
  • রত্নদীপ (উপন্যাস) : প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়

'মহাশ্মশান', 'মহাপতঙ্গ' এবং 'মহাভারত'।

  • মহাশ্মশান (মহাকাব্য) : কায়কোবাদ
  • মহাভারত (মহাকাব্য) : বেদব্যাস
  • মহাপতঙ্গ (গল্পগ্রন্থ) : আবু ইসহাক

'সাম্য' এবং 'সাম্যবাদী'।

  • সাম্য (প্রবন্ধ) : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • সাম্যবাদী (কাব্যগ্রন্থ) : কাজী নজরুল ইসলাম
  • সাম্যবাদী (পত্রিকা) : খান মুহম্মদ মঈনুদ্দীন

'কৃষ্ণকান্তের উইল' ও 'বৈকুন্ঠের উইল'।

  • কৃষ্ণকান্তের উইল (উপন্যাস) : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • বৈকুণ্ঠের উইল (উপন্যাস) : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

'কৃষ্ণচরিত', 'কৃষ্ণকুমারী', ‘কৃষ্ণপক্ষ’

  • কৃষ্ণচরিত (প্রবন্ধ) : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • কৃষ্ণকুমারী (নাটক) : মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  • কৃষ্ণপক্ষ (গল্পগ্রন্থ) : আবদুল গাফফার চৌধুরী
  • কৃষ্ণপক্ষ (উপন্যাস) : হুমায়ূন আহমেদ

'রজনী' 'শেষ রজনীর চাঁদ' (উপন্যাস)

  • রজনী (উপন্যাস) : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • রজনী (উপন্যাস) : হুমায়ূন আহমেদ
  • শেষ রজনীর চাঁদ' (উপন্যাস): আবদুল গাফফার চৌধুরী

'নীল-দর্পণ', 'জমীদার দর্পণ', 'নীল দংশন', এবং ‘নীললোহিত’

  • নীল-দর্পণ (নাটক) : দীনবন্ধু মিত্র
  • জমীদার দর্পণ (নাটক) : মীর মশাররফ হোসেন
  • নীল দংশন (উপন্যাস) : সৈয়দ শামসুল হক
  • নীললোহিত (গল্প) : প্রমথ চৌধুরী

'পথের পাঁচালী' ও 'পথের দাবী'।

  • পথের পাঁচালী (উপন্যাস): বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  • পথের দাবী (উপন্যাস) : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

'চন্দ্রনাথ' ও 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান'

  • চন্দ্রনাথ (উপন্যাস) : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (উপন্যাস) : আবদুল গাফফার চৌধুরী

'বিধ্বস্ত নীলিমা' ও 'অরণ্যে নীলিমা'

  • বিধ্বস্ত নীলিমা (কাব্যগ্রন্থ) : শামসুর রাহমান
  • অরণ্যে নীলিমা (উপন্যাস) : আহসান হাবীব

‘কবর’

  • কবর (নাটক): মুনীর চৌধুরী
  • কবর (কবিতা): জসীমউদ্‌দীন

'খোয়াবনামা', 'জঙ্গনামা', 'নূরনামা', 'সফরনামা' এবং 'সিকান্দরনামা'

  • খোয়াবনামা (উপন্যাস): আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  • জঙ্গনামা (কাব্যগ্রন্থ) : দৌলত উজির বাহরাম খাননূরনামা
  • (কাব্যগ্রন্থ) : আবদুল হাকিম
  • সফরনামা (প্রবন্ধ) : আবুল ফজল
  • সিকান্দরনামা (কাব্যগ্রন্থ): আলাওল

'অরণ্য বহ্নি', 'অরণ্য গোধূলী', 'অরণ্যে নীলিমা', ‘আরণ্যক’

  • অরণ্য বহ্নি (উপন্যাস) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  • অরণ্য গোধূলী (উপন্যাস): বন্দে আলী মিয়া
  • অরণ্যে নীলিমা (উপন্যাস): আহসান হাবীব
  • আরণ্যক (উপন্যাস) : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

'স্পেনবিজয় কাব্য' ও 'স্পেন বিজয়ী মুসা'

  • স্পেনবিজয় কাব্য (মহাকাব্য) : সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  • স্পেন বিজয়ী মুসা (নাটক): ইব্রাহিম খলিল

'শ্রীকৃষ্ণ বিজয়' 'গোরক্ষ বিজয়', 'গৌরাঙ্গ বিজয়', 'রসুল বিজয়', 'ধর্ম বিজয়' এবং 'সিন্ধু বিজয়'

  • শ্রীকৃষ্ণ বিজয় (নাটক): মালাধর বসু
  • গোরক্ষ বিজয় (কাব্যগ্রন্থ): শেখ ফয়জুল্লাহ
  • গৌরাঙ্গ বিজয় (গ্রন্থ): চূড়ামণি দাস
  • রসুল বিজয় (কাব্যগ্রন্থ): সৈয়দ সুলতান
  • ধর্ম বিজয় (নাটক) : রামনারায়ণ তর্করত্ন
  • সিন্ধু বিজয় (নাটক) : আকবর উদ্দীন

'কাশবনের কন্যা', 'কুচবরণ কন্যা', 'ধানকন্যা'।

  • কাশবনের কন্যা (উপন্যাস): শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  • কুচবরণ কন্যা (কাব্যগ্রন্থ): বন্দে আলী মিয়া
  • ধানকন্যা (গল্প) : আলাউদ্দিন আল আজাদ

'ভবিষ্যতের বাঙালি', 'আত্মঘাতী বাঙালী', 'বাঙালীর ইতিহাস', 'সাবাস বাঙালী' 'বাঙালি ও বাংলা সাহিত্য'

  • ভবিষ্যতের বাঙালি (প্রবন্ধ): এস ওয়াজেদ আলি
  • আত্মঘাতী বাঙালী (প্রবন্ধ): নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  • বাঙালীর ইতিহাস (প্রবন্ধ) নীহাররঞ্জন রায়
  • সাবাস বাঙালী (প্রবন্ধ) : অমৃতলাল বসু
  • বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য (প্রবন্ধ): ড. আহমদ শরীফ

'বাংলা সাহিত্যের কথা', 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত', ‘বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা’

  • বাংলা সাহিত্যের কথা (প্রবন্ধ): ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  • বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা (প্রবন্ধ) সুকুমার সেন
  • বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (প্রবন্ধ): আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
  • বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (প্রবন্ধ): গোপাল হালদার

'বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত', 'ভাষার ইতিবৃত্ত'।

  • বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত (প্রবন্ধ): ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  • বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত (প্রবন্ধ): সুকুমার সেন
  • ভাষার ইতিবৃত্ত (প্রবন্ধ): সুকুমার সেন

'বেদান্তগ্রন্থ', 'বেদান্তসার', ‘বেদান্তচন্দ্রিকা’

  • বেদান্তগ্রন্থ (প্রবন্ধগ্রন্থ) রাজা রামমোহন রায়
  • বেদান্তসার (প্রবন্ধগ্রন্থ) : রাজা রামমোহন রায়
  • বেদান্তচন্দ্রিকা (প্রবন্ধগ্রন্থ): মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার

‘মানচিত্র’

  • মানচিত্র (কাব্যগ্রন্থ) : আলাউদ্দিন আল আজাদ
  • মানচিত্র (নাটক) : আনিস চৌধুরী

'সিরাজদ্দৌলা'

  • সিরাজদ্দৌলা (নাটক): গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  • সিরাজউদ্দৌলা (নাটক): সিকান্দার আবু জাফর

'এলেবেলে'

  • এলেবেলে (নাটক) : জিয়া হায়দার
  • এলেবেলে (রম্যগল্প) : হুমায়ূন আহমেদ

'সঞ্চয়িতা', 'সঞ্চিতা'

  • সঞ্চয়িতা (কাব্য সংকলন): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • সঞ্চিতা (কাব্য সংকলন): কাজী নজরুল ইসলাম

‘দেনাপাওনা’

  • দেনাপাওনা (ছোটগল্প): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • দেনাপাওনা (উপন্যাস): শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

'শেষ লেখা', 'শেষের কবিতা', 'শেষ প্রশ্ন', 'শেষের পরিচয়', 'শেষ বিকেলের মেয়ে' 'শেষ পাণ্ডুলিপি', 'শেষ কথা'

  • শেষ লেখা (কাব্যগ্রন্থ): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • শেষের কবিতা (উপন্যাস): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • শেষ প্রশ্ন (উপন্যাস) : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • শেষের পরিচয় (উপন্যাস): শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • শেষ বিকেলের মেয়ে (উপন্যাস): জহির রায়হান
  • শেষ পাণ্ডুলিপি (উপন্যাস): বুদ্ধদেব বসু
  • শেষ কথা (ছোটগল্প): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

'বসন্ত', ‘বসন্তকুমারী’

  • বসন্ত (নাটক) : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • বসন্তকুমারী (নাটক): মীর মশাররফ হোসেন

'রক্তকরবী', ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’

  • রক্তকরবী (নাটক) : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • রক্তাক্ত প্রান্তর (নাটক): মুনীর চৌধুরী

'রক্তরাগ', ‘পদ্মরাগ’

  • রক্তরাগ (কাব্যগ্রন্থ) : গোলাম মোস্তফা
  • পদ্মরাগ (উপন্যাস) : রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

'রাজবন্দীর জবানবন্দী', ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’

  • রাজবন্দীর জবানবন্দী (প্রবন্ধ): কাজী নজরুল ইসলাম
  • রাজবন্দীর রোজনামচা (স্মৃতিকথা): শহীদুল্লা কায়সার

'মরুভাস্কর'

  • মরুভাস্কর (জীবনীমূলক কাব্য) কাজী নজরুল ইসলাম
  • মরুভাস্কর (জীবনীগ্রন্থ) মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী

'অভিযাত্রিক'

  • অভিযাত্রিক (উপন্যাস): বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  • অভিযাত্রিক (কাব্য) : বেগম সুফিয়া কামাল

'একাত্তরের ডায়েরী', 'একাত্তরের দিনগুলি', 'একাত্তরের কথামালা', 'একাত্তরের বর্ণমালা', 'একাত্তরের নিশান', 'একাত্তরের বিজয় গাঁথা', 'একাত্তরের রণাঙ্গন' এবং ‘একাত্তরের যীশু’

  • একাত্তরের ডায়েরী (স্মৃতিকথা) : বেগম সুফিয়া কামাল
  • একাত্তরের দিনগুলি (স্মৃতিকথা) : জাহানারা ইমাম
  • একাত্তরের কথামালা : বেগম সুফিয়া কামাল
  • একাত্তরের বর্ণমালা : এম. আর. আখতার মুকুল
  • একাত্তরের নিশান : রাবেয়া খাতুন
  • একাত্তরের বিজয় গাঁথা : মেজর রফিকুল ইসলাম
  • একাত্তরের রণাঙ্গন : শামসুল হুদা চৌধুরী
  • একাত্তরের যীশু : শাহরিয়ার কবির

‘পদ্মাবতী’

  • পদ্মাবতী (কাব্যগ্রন্থ) : আলাওল
  • পদ্মাবতী (নাটক) : মাইকেল মধুসূদন দত্ত

'পদ্মানদীর মাঝি', 'পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'পদ্মগোখরা'

  • পদ্মানদীর মাঝি (উপন্যাস): মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  • পদ্মা মেঘনা যমুনা (উপন্যাস): আবু জাফর শামসুদ্দীন
  • পদ্মগোখরা (গল্প): কাজী নজরুল ইসলাম

'পঞ্চতন্ত্র', 'পঞ্চনারী', ‘পঞ্চভূত’

  • পঞ্চতন্ত্র (গল্পগ্রন্থ) : সৈয়দ মুজতবা আলী
  • পঞ্চনারী (কাব্য) : জসীমউদ্দীন
  • পঞ্চভূত (রম্যরচনা) : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

'অন্নদামঙ্গল', 'চণ্ডীমঙ্গল', 'মনসামঙ্গল', 'চৈতন্যমঙ্গল', 'কৃষ্ণমঙ্গল', 'কালিকামঙ্গল', 'ঋতুমঙ্গল', 'ধর্মমঙ্গল', ‘সারদামঙ্গল’

  • অন্নদামঙ্গল (কাব্য) : ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  • চণ্ডীমঙ্গল (কাব্য) : মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  • মনসামঙ্গল (কাব্য) : কানা হরিদত্ত
  • চৈতন্যমঙ্গল (জীবনীকাব্য) : লোচন দাস
  • কৃষ্ণমঙ্গল (কাব্য) : শঙ্কর চক্রবর্তী
  • কালিকামঙ্গল (কাব্য) : রামপ্রসাদ সেন
  • ঋতুমঙ্গল (কাব্য) : কালিদাস
  • ধর্মমঙ্গল (সাহিত্যকর্ম) : ঘনরাম চক্রবর্তী
  • সারদামঙ্গল (কাব্য) : বিহারীলাল চক্রবর্তী

'জননী'

  • জননী (উপন্যাস) : শওকত ওসমান
  • জননী (উপন্যাস) : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

'কামাল পাশা', ‘আনোয়ার পাশা’

  • কামাল পাশা (কবিতা): কাজী নজরুল ইসলাম
  • আনোয়ার (কবিতা): কাজী নজরুল ইসলাম
  • কামাল পাশা (নাটক), আনোয়ার পাশা (নাটক): ইবরাহীম খাঁ

'গীতিগুচ্ছ', 'গীতবিতান, গীতালী, গীতাঞ্জলি', ‘গল্পগুচ্ছ’

  • গীতিগুচ্ছ (কাব্যগ্রন্থ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  • গীতবিতান, গীতালী, গীতাঞ্জলি (কাব্যগ্রন্থ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • গল্পগুচ্ছ (গল্পগ্রন্থ): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

'মৃত্যুক্ষুধা', 'জীবনক্ষুধা'

  • মৃত্যুক্ষুধা (উপন্যাস) : কাজী নজরুল ইসলাম
  • জীবনক্ষুধা (উপন্যাস) : আবুল মনসুর আহমদ

'মরুসূর্য', 'মরুচন্দ্রিকা', 'মরুদুলাল', ‘মরুমায়া, মরুশিখা’

  • মরুসূর্য (কাব্যগ্রন্থ) : আ. ন.ম. বজলুর রশীদ
  • মরুচন্দ্রিকা (কাব্যগ্রন্থ) কাজী কাদের নেওয়াজ
  • মরুদুলাল (গদ্যগ্রন্থ) : গোলাম মোস্তফা
  • মরুমায়া, মরুশিখা (প্রবন্ধ): যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত

'উচ্চ জীবন, উন্নত জীবন, মহৎ জীবন, মহাজীবন, মানবজীবন'

উচ্চ জীবন, উন্নত জীবন, মহৎ জীবন, মহাজীবন, মানবজীবন (প্রবন্ধগ্রন্থ): ডা. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান

‘প্রভাত চিন্তা, নিভৃত চিন্তা, নিশীথ চিন্তা’

প্রভাত চিন্তা, নিভৃত চিন্তা, নিশীথ চিন্তা (গদ্যগ্রন্থ): কালীপ্রসন্ন ঘোষ

'সনেট সঞ্চয়ন, সনেট শতক, সনেটমালা'

সনেট সঞ্চয়ন, সনেট শতক, সনেটমালা (কাব্য): সুফী মোতাহার হোসেন

'ভাষা ও সাহিত্য', 'ভাষা ও সাহিত্য', ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’

  • ভাষা ও সাহিত্য (প্রবন্ধ) : ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  • ভাষা ও সাহিত্য (প্রবন্ধ) : মুহম্মদ আবদুল হাই
  • বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (প্রবন্ধ): ড. দীনেশচন্দ্র সেন

'সমাজ ও সাহিত্য', 'সাহিত্য ও সংস্কৃতি', 'সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জীবন', 'সাহিত্য সম্ভার'

  • সমাজ ও সাহিত্য (প্রবন্ধ) : কাজী আব্দুল ওদুদ
  • সাহিত্য ও সংস্কৃতি (প্রবন্ধ) : মুহম্মদ আবদুল হাই
  • সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জীবন (প্রবন্ধ): আবুল ফজল
  • সাহিত্য সম্ভার (প্রবন্ধ): কাজী দীন মুহম্মদ

'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু', 'সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই', 'সংস্কৃতির রূপান্তর', 'সংস্কৃতি কথা', 'সংস্কৃতির সংকট', ‘বাঙ্গালি সংস্কৃতি প্রসঙ্গ’

  • সংস্কৃতির ভাঙা সেতু (প্রবন্ধ): আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  • সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই (প্রবন্ধ): শওকত ওসমান
  • সংস্কৃতির রূপান্তর (প্রবন্ধ): গোপাল হালদার
  • সংস্কৃতি কথা (প্রবন্ধ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  • সংস্কৃতির সংকট (প্রবন্ধ): বদরুদ্দীন উমর
  • বাঙ্গালি সংস্কৃতি প্রসঙ্গ (প্রবন্ধ): গোপাল হালদার

'আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ', ‘আধুনিক ভাষাতত্ত্ব’

  • আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ (গবেষণাগ্রন্থ) : জগদীশচন্দ্র ঘোষ
  • আধুনিক ভাষাতত্ত্ব (গবেষণাগ্রন্থ) : আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ
Content added By

বিখ্যাত সাহিত্যিকদের পঙ্‌ক্তি ও উৎস

831
Content added By

আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

633

আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা হলো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সাহিত্যিক রূপ, যেখানে লেখক নিজের জীবনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। আত্মজীবনীতে জন্ম থেকে বর্তমান পর্যন্ত সামগ্রিক জীবন (যেমন: রাসুসুন্দরী দেবীর "আমার জীবন") এবং স্মৃতিকথায় জীবনের বিশেষ কোনো অংশ বা স্মৃতির ওপর আলোকপাত করা হয়. এগুলি ব্যক্তিগত অনুভূতি ও ঐতিহাসিক তথ্যের মূল্যবান দলিল।
আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা-র মূল পার্থক্য ও বৈশিষ্ট্য:

আত্মজীবনী (Autobiography): এটি লেখকের সম্পূর্ণ জীবনের একটি সুসংগঠিত, কালানুক্রমিক বিবরণ, যা শৈশব থেকে লেখা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।

স্মৃতিকথা (Memoir): এটি লেখকের স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে কোনো নির্দিষ্ট সময়, পেশা বা ঘটনার ওপর ফোকাস করে লেখা হয়। এটি আত্মজীবনীর চেয়ে কম আনুষ্ঠানিক এবং বেশি আবেগময় ও প্রতিফলিত হতে পারে।

উভয়ই: নিজের লেখা জীবনের গল্প হলেও, এগুলি লেখার ধরণ এবং ব্যাপ্তির কারণে একে অপরের থেকে আলাদা।

Content added By

বাংলা সাহিত্যিক ও সাহিত্যকর্ম

5.3k
Please, contribute by adding content to বাংলা সাহিত্যিক ও সাহিত্যকর্ম.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বিহারীলাল চট্টোপাধ্যায়
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
টেকচাঁদ ঠাকুর
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: সীতার বনবাস
হাসান আজিজুল হক: আগুনপাখি
আল মাহমুদ পরানের গহীন ভিতর
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: সীতারাম
কাজী নজরুল ইসলাম
শামসুর রাহমান
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জসীম উদ্দীন

প্রমথ চৌধুরী

5.5k

প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)

বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী। তীক্ষ্ণ মননশীলতা, বাকচাতুর্যের চমৎকারিত্ব এবং বুদ্ধির অসিচালনা ছিল তাঁর ভাষাগত বিশেষত্ব। তিনি ১৮৯৯ সালে রবীন্দ্রনাথের অগ্রজ বাংলা প্রথম সিভিলিয়ান সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেয়ে ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন। তিনি রবীন্দ্রনাথকে বাংলা গদ্যে চলিত রীতি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেন।

  • প্রমথ চৌধুরী ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রাম।
  • তাকে বলা হয় বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক।
  • প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম-বীরবল।
  • প্রমথ চৌধুরীর প্রথম প্রবন্ধ 'জয়দেব' ১৮৯৩ সালে 'সাধনা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
  • 'হালখাতা' ('ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশ- ১৯০২), এ গদ্য /প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।বাংলা কা
  • ব্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
  • তিনি 'সবুজপত্র' (১৯১৪), 'বিশ্বভারতী পত্রিকা' সম্পাদনা করেন।
  • তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৮ সালে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ করেন। উল্লেখ্য, স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় নিজ মাতার নামে এ পদক প্রবর্তন করেন।
  • তিনি ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬ সালে (১৬ ভাদ্র, ১৩৫৩ বঙ্গাব্দ) শান্তিনিকেতনে মারা যান।

চলিত রীতিতে রচিত তাঁর প্রথম গদ্যরচনাঃ

'হালখাতা' (১৯০২): এটি 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। [বাজারের অধিকাংশ বইয়ে লেখা যে, চলিত ভাষায় রচিত প্রমথ চৌধুরীর প্রথম গ্রন্থ 'বীরবলের হালখাতা'। প্রকৃতপক্ষে এটি হবে 'হালখাতা'। কারণ, 'বীরবলের হালখাতা' প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে আর 'হালখাতা' গদ্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে। (সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান)]। উল্লেখ্য, চলিত ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি? এ প্রশ্নের উত্তরের অপশনে 'হালখাতা' না থাকলে 'বীরবলের হালখাতা' উত্তর দিতে হবে। কারণ, অধিকাংশ প্রশ্নকর্তা বিগত সালের পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো নতুন প্রশ্নে অপশনসহ হুবহু তুলে দেয়।

প্রমথ চৌধুরী রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো:

প্রবন্ধগ্রন্থ: 'তেল-নুন-লড়ি' (১৯০৬), 'বীরবলের হালখাতা' (১৯১৬), 'নানাকথা' (১৯১৯), 'আমাদের শিক্ষা' (১৯২০), 'রায়তের কথা' (১৯২৬), 'নানাচর্চা' (১৯৩২), 'আত্মকথা' (১৯৪৬), 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' (১ম খণ্ড- ১৯৫২, ২য় খণ্ড- ১৯৫৩)।

কাব্যগ্রন্থ: 'সনেট পঞ্চাশৎ' (১৯১৩), 'পদচারণ' (১৯১৯)।

গল্পগ্রন্থ: 'চার ইয়ারি কথা' (১৯১৬), 'আহুতি' (১৯১৯), 'নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ' (১৯৪১)।

প্রবন্ধ: 'যৌবনে দাও রাজটীকা', 'বই পড়া', 'সাহিত্যে খেলা', 'ভাষার কথা'।

'বই পড়া' ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ ২টি অবশ্যই পড়তে হবে। কারণ, এ দুটি প্রবন্ধ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।

বিখ্যাত উক্তি

বই পড়াআমরা সাহিত্যের রস উপভোগ করতে প্রস্তুত নই; কিন্তু শিক্ষার ফল লাভের জন্য আমরা সকলে উদ্বাহু।
ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।
জ্ঞানের ভান্ডার যে ধনের ভান্ডার নয়, এ সত্য তো প্রত্যক্ষ।
যে জাতির জ্ঞানের ভান্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী।
সাহিত্যের মধ্যেই আমাদের জাত মানুষ হবে।
সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
দেহের মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয়, আত্মার মৃত্যুর হয় না।
আমি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিই। লাইব্রেরি হচ্ছে একরকম মনের হাসপাতাল।
খেলা সাহিত্যেযিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন বাঁদরও গড়তে পারেন।
মন উচুতেও উঠতে চায়, নিচুতেও নামতে চায়।
শিল্পরাজ্যে খেলা করবার প্রবৃত্তির ন্যায় অধিকারও বড়ো-ছোটো সকলেরই সমান আছে।
এ পৃথিবীতে একমাত্র খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণ শূদ্রের প্রভেদ নেই।
যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি-পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা।
গীতের মর্মও বোঝেন না, গীতার ধর্মও বোঝেন না।।
সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারো মনোরঞ্জন করা নয়।
কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।
কবির নিজের মনের পরিপূর্ণতা হতেই সাহিত্যের উৎপত্তি।
সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়।
ভাষার কথাভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে।
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কালান্তর
বীরবলের হালখাতা
পান্থজনের কথা
একদা

লোককে শিক্ষা দেয়া

আনন্দ দেয়া

জ্ঞানদান করা

মনোরঞ্জন করা

কাজী নজরুল ইসলাম

3.2k

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬)

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সত্য প্রকাশের দুরন্ত সাহস নিয়ে আমৃত্যু সকল অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার ও প্রতিবাদী। এ জন্য তাঁকে বাংলা সাহিত্যের 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়। আবার একই সাথে কোমল দরদি মন নিয়ে ব্যথিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে থেকেছেন তিনি। এক হাতে বাঁশি আরেক হাতে রণতূর্য নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, আর এসেই প্রচলিত শিল্পধারাসমূহকে পাল্টে দিয়ে নতুন বিষয় ও নতুন শব্দে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে করেছেন সমৃদ্ধতর।

  • কাজী নজরুল ইসলাম ২৪ মে, ১৮৯৯ সালে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন। (কাজী ফকির আহমেদ এর ২য় স্ত্রী জাহেদা খাতুন)। জাহেদা খাতুনের চার পুত্রের অকাল মৃত্যুর পর নজরুলের জন্ম হয় বলে তার নাম রাখা হয়- দুখু মিয়া। বাল্যকালে তাঁকে 'ত্যারা ক্ষ্যাপা' ও 'নজর আলী' নামেও ডাকা হতো। সাহিত্যে তিনি 'নুরু' নামও ব্যবহার করেছেন। মাত্র ৮ বছর বয়সে পিতার মৃত্যু (১৯০৭) হলে তিনি চরম দারিদ্র্যে নিপতিত হন।
  • ১৫ ডিসেম্বর, ১৯২৯ সালে কাজী নজরুল ইসলামকে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে জাতীয় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ অনুষ্ঠানে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় তাঁর সভাপতির ভাষণে নজরুলকে 'প্রতিভাবান বাঙালি কবি' বলে আখ্যায়িত করেন।
  • কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে মুক্তক ছন্দের প্রবর্তক।
  • বাংলা ভাষায় তিনি প্রথম ইসলামি গান ও গজল রচনা করেছেন।
  • ১০ অক্টোবর, ১৯৪২ সালে মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে দূরারোগ্য (পিক্স ডিজিজ) ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ায় এই ঋদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জীবন আমৃত্যু নির্বাক হয়ে যায়।
  • কাজী নজরুল ইসলামের সমগ্র রচনাবলি বাংলা একাডেমি থেকে 'নজরুল রচনাবলি' (২০০৫) নামে ১২ খণ্ডে প্রকাশিত।
  • তিনি ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) সকাল ১০টা ১০মিনিটে মাত্র ৭৭ বছর বয়সে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ইহলোক ত্যাগ করেন। তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে বিকেল ৫.৩০ ঘটিকায় সমাধিস্থ করা হয়।

নজরুল কোন দৈনিক পত্রিকার সান্ধ্য পত্রিকা 'নবযুগ' (১২ জুলাই, ১৯২০) যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন ।

এ পত্রিকা নজরুলের সাথে যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন কমরেড মুজাবপ আহমদ। পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এ.কে ফজলুল হত ১৯৪২ সালে 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকা প্রকাশিত হলে নজরুল ইসলাম এর সম্পাদক নিযুক্ত হন।

অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা 'ধূমকেতু' (১৯২২); 'লাঙল' (১৯২৫) তিনি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন ।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত রচনাবলি

প্রথম প্রকাশিত রচনা/গল্প'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' (১৯১৯)। এটি 'সওগাত' পত্রিকার মে-জুন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
প্রথম প্রকাশিত কবিতা'মুক্তি' (১৯১৯)। এটি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা'র জুলাই-আগস্ট সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ'অগ্নিবীণা' (সেপ্টেম্বর, ১৯২২)। কবি এ কাব্যটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।। কাব্যে মোট ১২টি কবিতা আছে। এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী' ৬ জানুয়ারি, ১৯২২ সালে (২২ পৌষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দ; শুক্রবার) 'সাপ্তাহিক বিজলী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'অগ্নিবীণ কাব্যের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস'।
প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ'তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলা' (১৯১৯)। এটি 'সওগাত পত্রিকার কার্তিক সংখ্যায় (অক্টোবর-নভেম্বর) প্রকাশিত হয়।
প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ
'যুগবাণী' (অক্টোবর, ১৯২২)প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ/ গল্পগ্রন্থ'ব্যথার দান' (১৯২২)
প্রথম প্রকাশিত নাটক
'ঝিলিমিলি' (১৯৩০)প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস'বাঁধনহারা' (১৯২৭)

নজরুলের নিষিদ্ধ গ্রন্থঃ

সাহিত্য সমালোচক শিশির কর 'নিষিদ্ধ নজরুল' নামক গ্রন্থে ৫টি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। যথা: 'যুগবাণী' (নিষিদ্ধ-২৩ নভেম্বর, ১৯২২। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ১৯৪৭), 'বিষের বাঁশি' (নিষিদ্ধ- ২২ অক্টোবর, ১৯২৪। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার-২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫), 'ভাঙার গান' (নিষিদ্ধ- ১১ নভেম্বর, ১৯২৪), 'প্রলয়শিখা' (নিষিদ্ধ- ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০), 'চন্দ্রবিন্দু' (নিষিদ্ধ- ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১)।

*** গ্রন্থ হিসেবে 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি কখনো নিষিদ্ধ হয়নি। এ কাব্যের 'রক্তাম্বরধারিণী মা' কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়। 'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা (২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২) সংখ্যায় রাজনৈতিক কবিতা 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকার এ সংখ্যা নিষিদ্ধ হয় এবং নজরুল ইসলাম গ্রেফতার হন। এ কবিতা রচনার জন্য কলকাতার চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে (ব্রিটিশ সরকার) রাজদ্রোহের অভিযোগে ১৬ জানুয়ারি, ১৯২৩

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থগুলোঃ

কাজী নজরুল ইসলামের মোট কাব্য সংখ্যা ২২টি।

‘দোলনচাঁপা’ (অক্টোবর, ১৯২৩): কাজী নজরুল ইসলাম রাজবন্দি থাকা অবস্থায় কাব্যটি প্রকাশিত হয়। এটি প্রেমের কাব্য। তাঁর স্ত্রী দুলির নামানুসারে এ কাব্যের নামকরণ করেন। এ কাব্যের প্রথম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে'। বেলাশেষে, পূবের হাওয়া, চোখের চাতক, অবেলার ডাক, পূজারিণী ইত্যাদি এ কাব্যের অন্যতম কবিতা ।

‘বিষের বাঁশি’ (আগস্ট, ১৯২৪): ২২ অক্টোবর, ১৯২৪ সালে গ্রন্থটি নিষিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫ সালে। এটি তিনি উৎসর্গ করেন এদেশের নারী অধিকার আন্দোলনের অগ্রনায়িকা মিসেস এম. রহমানকে (মোসাম্মদ মাসুদা খাতুন)।

‘ভাঙার গান' (আগস্ট, ১৯২৪): এটি মেদিনীপুরবাসীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।

‘ছায়ানট' (১৯২৪): এটি উৎসর্গ করেন মুজাফ্ফর আহমদ ও কুতুবউদ্দীন আহমদকে ।

‘চিত্তনামা’ (১৯২৫): দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জীবনীভিত্তিক গ্রন্থ। ১৯২৫ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিঙে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকার্ত কবি অর্ঘ্য, অকাল- সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা লেখেন। ‘ইন্দ্ৰপতন' কবিতায় কবি মহানবীর সাথে চিত্তরঞ্জনকে তুলনা করে কবিতা লেখেন ।

‘জন্মিলে তুমি মোহাম্মদের আগে হে পুরুষবর
কোরানে ঘোষিত তোমার মহিমা হতে পয়গাম্বর।'
এ কবিতাটি প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে মুসলিমরা কবির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে এটির সংশোধিত রূপ প্রকাশ পায়। কাব্যটি উৎসর্গ করেন চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী বাসন্তী দেবীকে। বাসন্তী দেবীকে তিনি মা বলে ডাকতেন ।

‘ঝিঙেফুল' (১৯২৬): শিশুতোষ কাব্য। এটি উৎসর্গ করেন বীর বাদলকে ।

‘সাতভাই চম্পা' (১৯২৬): শিশুতোষ কাব্য । ‘সর্বহারা' (১৯২৬): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা ‘কাণ্ডারী হুশিয়ার'। এটি উৎসর্গ করেন বিরজাসুন্দরী দেবীকে।

‘সিন্ধু হিন্দোল' (১৯২৭): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা ‘দারিদ্র্য’। এটি উৎসর্গ করেন হাবীবুল্লাহ বাহার শামসুন্নাহার মাহমুদকে ।

‘সঞ্চিতা' (১৯২৮): বিভিন্ন কাব্যের বাছাইকৃত কবিতা সংকলন। এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান সংকলিত হয়েছে। তিনি এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন এবং উৎসর্গপত্রে লিখেন : “ বিশ্বকবিসম্রাট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রীশ্রীচরণারবিন্দেষু' ।

‘ চক্রবাক’ (১৯২৯): চট্টগ্রামে অবস্থানকালে লেখা অধিকাংশ কবিতা এতে স্থান পায়। তিনি এটি উৎসর্গ করেন তৎকালিন ঢাকা ইন্টারমেডিয়েট কলেজের (বর্তমান- ঢাকা কলেজ) অধ্যক্ষ সুরেন্দ্রনাথ মৈত্রকে।

‘ সন্ধ্যা' (১৯২৯): এ কাব্যের অন্যতম কবিতা ‘চল্‌ চল্‌ চল্‌’ । ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে যোগদানের জন্য নজরুল ঢাকায় আসেন। তখন তিনি সৈয়দ আবুল হেসেনের সরকারি বাসা বর্ধমান হাউসে (বর্তমান- বাংলা একাডেমি) অবস্থানকালে এ গানটি রচনা করেন। এটি প্রথম ‘নতুনের গান' শিরোনামে ‘শিখা’ পত্রিকায় ১৯২৮ (বাংলা- ১৩৩৫) সালে প্রকাশিত হয়। এটি উৎসর্গ করেন মাদারীপুরের শান্তিসেনাদেরকে। ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ কবিতার / গানের ২১ চরণ বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা হয় ।

‘ প্রলয়শিখা' (১৯৩০): এ কাব্যের জন্য কবি ৬ মাস কারাভোগ করেন।

‘ মরুভাস্কর' (১৯৫০): এটি হযরত মুহাম্মাদ (স) এর জীবনীভিত্তিক গ্রন্থ। এটি ৪টি সর্গে ১৮টি খণ্ড-কবিতা নিয়ে রচিত।

‘শেষ সওগাত' (১৯৫৮): এ কাব্যের ভূমিকা লেখেন প্রেমেন্দ্র মিত্র ।

‘সাম্যবাদী' (ডিসেম্বর, ১৯২৫), ‘ফণি-মনসা' (১৯২৭), ‘ জিঞ্জির' '(১৯২৮), ‘পূবের হাওয়া' (১৯২৫), ‘ নির্ঝর’ (১৯৩৯), ‘নতুন চাঁদ' (১৯৩৯)।

নজরুলের উপন্যাসঃ

জরুলের উপন্যাস ৩টি ‘বাঁধনহারা' (১৯২৭): এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। ১৯২১ সাল থেকে এটি ধারাবাহিকভাবে ‘মোসলেম ভারত' পত্রিকায় ছাপা হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত এ উপন্যাসের কিছু অংশ ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় বাদ পড়ে যায়। পরবর্তীতে তা খুঁজে পাওয়া গেলে ১৯ মে, ২০০৬ সালে দৈনিক 'প্রথম আলো' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থের পত্র সংখ্যা ১৮টি। নুরুর সাথে মাহবুবার প্রণয় এবং বিয়ের উদ্যোগ অনেক এগিয়ে গেলে হঠাৎ নুরু পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন গ্রহণ করে। যদিও এর পেছনে দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালীন কোনো তাগিদ ছিলনা। অনেকের মতে, এ উপন্যাসের নুরুই নজরুল। চরিত্র: নুরুল হুদা, মাহবুবা, সাহসিকা, রাবেয়া।

‘মৃত্যুক্ষুধা' (১৯৩০) : ত্রিশাল গ্রাম ও অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এটি রচিত। এটি ১৯২৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘সওগাত' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩০ সালে। (সুত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান।

‘ কুহেলিকা' (১৯৩১): ১৯২৭ সাল থেকে পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে। এটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কারণ, নায়ক জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে স্বদেশী আন্দোলনকে সশস্ত্র বিপ্লবকে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি- ‘নারী কুহেলিকা, ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কন্টক, রাজপথের দস্যু।'

কাজী নজরুলের গল্পগ্রন্থগুলোঃ

'ব্যথার দান' (ফেব্রুয়ারি, ১৯২২): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ। এতে মোট ৬টি গল্প আছে- ব্যথার দান, হেনা, অতৃপ্ত কামনা, বাদল-বরিষণে, ঘুমের ঘোরে, রাজবন্দীর চিঠি।

'রিক্তের বেদন' (১৯২৫): প্রতিটি গল্পই সমকালীন বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থের গল্পসমূহ হলো: রিক্তের বেদন, বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী, মেহের-নেগার, সাঁঝের তারা, রাক্ষুসী, সালেক, স্বামীহারা, দুরন্ত পথিক। গল্পগুলোর প্রধান বিষয় প্রেম।

'শিউলিমালা' (১৯৩১): এ গ্রন্থের গল্পগুলো হলো: পদ্ম-গোখরো, জিনের বাদশা, অগ্নি-গিরি, শিউলিমালা।

নজরুলের নাট্যগ্রন্থগুলোঃ

'ঝিলিমিলি' (১৯৩০): এটি ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধ ও শিল্পী নামের ৩টি নাটকের সংকলন এবং প্রথম নাট্যগ্রন্থ।

'আলেয়া' (গীতিনাট্য, ১৯৩১); 'পুতুলের বিয়ে' (কিশোর নাটক, ১৯৩৩); 'মধুমালা' (গীতিনাট্য, ১৯৫৯); 'ঝড়' (কিশোর কাব্যনাট্য, ১৯৬০); 'পিলে পটকা পুতুলের বিয়ে' (কিশোর কাব্যনাট্য, ১৯৬৪); 'জাগো সুন্দর' (নাটিকা)।

নজরুল রচিত প্রবন্ধগ্রন্থগুলোঃ

'রাজবন্দীর জবানবন্দী' (০৭/০১/১৯২৩): এটি তিনি জেলে বসে লেখেন। 'ধূমকেতু' পত্রিকায় 'আনন্দময়ীর আগমনে কবিতা প্রকাশিত হলে তা নিষিদ্ধ হয় এবং নজরুলকে গ্রেফতার করা হয়। হুগলী জেলে বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে নজরুল অনির্দিষ্ট কালের জন্য অনশন শুরু করেন। এ অবস্থায় নজরুলকে রবীন্দ্রনাথ টেলিগ্রাম পাঠান- 'Give up hunger strike, our literature claims you', কিন্তু ঠিকানা না থাকায় জেল কর্তৃপক্ষ সে চিঠি রবীন্দ্রনাথের নিকট ফেরত পাঠায়। এ সময়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'বসন্ত' নাটকটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। কুমিল্লার বিরজাসুন্দরী দেবীর অনুরোধে তিনি ৩৯ দিন পর অনশন ভঙ্গ করেন। জেলে থাকা অবস্থায় কর্তৃপক্ষ তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তা মাত্র ৪ পৃষ্ঠায় লিখিতভাবে আদালতে উপস্থাপন করেন, এটাকেই বলা হয় 'রাজবন্দীর জবানবন্দী'। এ প্রবন্ধে তিনি নিজেকে 'বিদ্রোহী কবি' হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন- "শুনেছি, আমার বিচারক একজন কবি। শুনে আনন্দিত হয়েছি। বিদ্রোহী কবির বিচার বিচারক কবির নিকট।” পরবর্তীতে তিনি জেল থেকে ১৫ অক্টোবর, ১৯২৩ সালে মুক্তি পান।

'যৌবনের গান': ১৯৩২ সালে সিরাজগঞ্জে মুসলিম যুব সমাজ কাজী নজরুল ইসলামকে অভিনন্দন জানাতে গেলে তাদের উদ্দেশ্যে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তারই পরিমার্জিত লিখিত রূপ 'যৌবনের গান'।

'যুগবাণী' (১৯২২): এ গ্রন্থের অন্তর্গত প্রবন্ধ 'ভাব ও কাজ', 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন'।

'রুদ্রমঙ্গল' (১৯২৭): রুদ্রমঙ্গল, আমার পথ, মোহরম, বিষ-বাণী, ক্ষুদিরামের মা, ধূমকেতুর পথ, মন্দির ও মসজিদ, হিন্দু-মুসলমান- নামে মোট ৮টি প্রবন্ধ এ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ প্রবন্ধের বিখ্যাত উক্তি- 'আমার কর্ণধার আমি।

আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।'
'দুর্দিনের যাত্রী' (১৯২৬), 'ধূমকেতু' (১৯৬১)।

নজরুলের সংগীতগ্রন্থসমূহঃ

'বুলবুল' (১ম খণ্ড-১৯২৮, ২য় খণ্ড-১৯৫২), 'চোখের চাতক' (১৯২৯), 'সন্ধ্যা' (১৯২৯), 'নজরুল গীতিকা' (১৯৩০), 'নজরুল স্বরলিপি' (১৯৩১), 'চন্দ্রবিন্দু' (১৯৩১), 'সুরসাকী' (১৯৩১), 'বনগীতি' (১৯৩১), 'জুলফিকার' (১৯৩২), 'গুলবাগিচা' (১৯৩৩), 'গানের মালা' (১৯৩৪), 'গীতি শতদল' (১৯৩৪), 'স্বরলিপি' (১৯৩৪), 'সুর-মুকুর' (১৯৩৪), 'রাঙা জবা' (শ্যামা সংগীত, ১৯৬৬)।

মরুভাস্কর (প্রবন্ধ)মো: ওয়াজেদ আলী
মরুভাস্কর (কাব্যগ্রন্থ)কাজী নজরুল ইসলাম
মরুশিখা (কাব্যগ্রন্থ)যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
মরুমায়া (কাব্যগ্রন্থ)যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
মরুসূর্য (কাব্যগ্রন্থ)অ.ন.ম. বজলুর রশীদ
মরুচন্দ্রিকা (কাব্যগ্রন্থ)কাজী কাদের নেওয়াজ
মরুকুসুম (উপন্যাস)শাহাদৎ হোসেন
মরুদুলাল (গদ্যগ্রন্থ)গোলাম মোস্তফা

নজরুলের অনুবাদ গ্রন্থের নামঃ

'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম': ইরানের জীবনবাদী কবি ওমর খৈয়ামের কবিতা অনুবাদ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। ডিসেম্বর, ১৯৫৯ সালে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। সৈয়দ মুজতবা আলী এর ভূমিকা লেখেন।

'কাব্য আমপারা' (১৯৩৩): এ গ্রন্থে কাজী নজরুল ইসলাম পবিত্র কুরআন শরীফের ৩৮টি সুরার অনুবাদ করে তা ছন্দে ছন্দে সাজিয়েছেন।

'দিওয়ানে হাফিজ' (১৯৩০), 'মক্তব সাহিত্য' (১৯৩৫)।

নজরুল পরিচালিত চলচ্চিত্রঃ

'ধূপছায়া' (১৯৩১)। নজরুল অভিনীত চলচ্চিত্র 'ধ্রুব'। কানাডায় নজরুলকে নিয়ে ফিলিপ স্পারেল 'নজরুল' নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

'আনন্দময়ীর আগমনে' (ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় ১৯২২ সালে) কবিতা প্রকাশিত হলে নজরুল গ্রেফতার হন ।

বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। তার রচিত "চল্‌ চল্‌ চল্‌, ঊর্ধগগনে বাজে মাদল" বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে গৃহীত।

নজরুল মস্তিষ্কের ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান ১০ অক্টোবর, ১৯৪২ সালে। মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে।

নজরুলকে বাংলাদেশে আনা হয় ২৪ মে, ১৯৭২ সালে। ১৯৭২ সালের এইদিনে 'জাতীয় কবি' ঘোষণা করা হয়। কাজী নজরুল ইসলামকে 'জাতীয় কবি' হিসেবে ঘোষণার গেজেট জারি করা হয় ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ সালে।

নজরুলকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৬ সালে; মৃত্যুর ছয়মাস পূর্বে।

কাজী নজরুল ইসলাম এর পদকঃ

'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক'- ১৯৪৫ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), 'পদ্মভূষণ'- ১৯৬০ (ভারত সরকার), 'ডি.লিট'- ১৯৬৯ (রবীন্দ্রভারতী), 'ডি.লিট'- ১৯৭৪ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), 'একুশে পদক'- ১৯৭৬ (বাংলাদেশ সরকার)।

বিখ্যাত পঙক্তি

  • কোন কালে একা হয়নি ক' জয়ী পুরুষের তরবারি,
    প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে, বিজয়-লক্ষ্মী নারী। (নারী)
  • তবুও থামে না যৌবন বেগ, জীবনের উল্লাসে। (জীবন-বন্দনা)
  • রমযানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ । (নজরুলগীতি)
  • মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণতূর্য । (বিদ্রোহী)
  • আমি চিরদুর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
    মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!(বিদ্রোহী)
  • আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর ।
    আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাত্রীর। (বিদ্রোহী)
  • আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস, আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ । (বিদ্রোহী)
  • সাম্যের গান গাই- আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই । (নারী)
  • গাহি সাম্যের গান, ধরণীর হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান। (জীবন বন্দনা)
  • গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান। (মানুষ)
  • দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাপার। (কাণ্ডারী হুশিয়ার)
  • কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা,
    দাঁড়ী মুখে সারিগান- লা শরীক আল্লাহ । (খেয়াপারের তরণী)
  • দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে । (আমার কৈফিয়ৎ)
  • ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,
    আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান । (কাণ্ডারী হুশিয়ার)
  • হে দারিদ্র্য তুমি মোরে করেছ মহান।
    তুমি মোরে দানিয়াছ, খ্রীস্টের সম্মান কণ্টক-মুকুট শোভা। (দারিদ্র্য)
  • বউ কথা কও, বউ কথা কও, কও কথা অভিমানিনী,
    সেধে সেধে কেঁদে কেঁদে যাবে কত যামিনী । (নজরুলগীতি)
  • নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ! মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
  • নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে, ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে। (খেয়াপারের তরণী)
  • বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর,
    অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর। (নারী)
  • দেখিনু সেদিন রেলে,
    কুলি বলে এক বাবু সাব তারে ঠেলে দিল নীচে ফেলে । (কুলি-মজুর)
  • কাঁটা-কুঞ্জে বসি তুই গাঁথিবি মালিকা, দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টীকা। (দারিদ্র্য)
  • চাষী ওরা, নয়কো চাষা, নয়কো ছোট লোক ।
  • সাহেব কহেন, “চমৎকার! সে চমৎকার!”
    মোসাহেব বলে, “চমৎকার সে হতেই হবে যে। (সাহেব ও মোসাহেব)
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাজী নজরুল ইসলাম
কবি জসীমউদ্‌দীন
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যথার দান
রুদ্র-মঙ্গল
বাঁধনহারা
রিক্তের বেদন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

1.9k

বিবিসির জরিপে (২০০৪) সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় ২য় স্থান প্রাপ্ত নোবেল জয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা, সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, সুরস্রষ্টা, গায়ক, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা, সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের পথিকৃৎ। ১৯৩০ সালে জার্মানিতে আইনস্টাইনের সাথে সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাতে তিনি দর্শন, মানুষ ও বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেন।

রবীন্দ্রনাথের পরিবারটি পিরালি ব্রাহ্মণ [বিধর্মীদের সংস্পর্শে এসে জাত হারানো ব্রাহ্মণরা হলেন পিরালি ব্রাহ্মণ]। (পারিবারিক উপাধি কুশারি)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বপুরুষ জগন্নাথ কুশারি পিরালি ব্রাহ্মণ মেয়ে বিয়ে করলে হিন্দু ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয় এবং সমাজচ্যুত করা হয়। তার ছেলে পঞ্চানন কুশারি ১৮ শতকের শুরুতে খুলনার দক্ষিণড়িতি থেকে কলকাতার গোবিন্দপুরে এসে জেলে পাড়ার পুরোহিতের কাজ করা শুরু করেন। ফলে অনেকে ঠাকুর বলে ডাকেন। এছাড়াও ইংরেজদের বাণিজ্য তরীতে দ্রব্য উঠা-নামার কাজ করলে ইংরেজরাও তাকে ঠাকুর বলে ডাকতেন। তারই উত্তর প্রজন্ম দ্বারকানাথ ঠাকুর ইংরেজনে কাছ থেকে অর্থের পাশাপাশি 'প্রিন্স' উপাধি লাভ করেন ক্রমান্বয়ে শত বছরের ব্যবধানে জেলে সম্প্রদায়ের পুরোহিত থেকে কলকাতার প্রভাবশালী পরিবারে পরিণত হয়।

ঠাকুর পরিবারে জমিদারি ছিল বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর ও নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার কালিগ্রাম নামক তিনটি জমিদারি ছিল জোড়াসাঁকোর ঠাকুন পরিবারের। এর মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কালিগ্রাম জমিদারির দায়িত্ব পান। ১৩ জুন, ১৮৯১ সালে তিনি জমিদারি দেখাশোনার জন্য কালিগ্রামে প্রথম আসেন ২৭ জুলাই, ১৯৩৭ সালে তিনি শেষবার কালিগ্রামে আসেন এবং কালিগ্রাম ইউনিয়নের পতিসরে অবস্থিত তার পুত্রের নামে 'কালিগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশন' নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নোবেল পুরস্কারের অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন।

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭ মে, ১৮৬১ সালে (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয় ১৯৬১ সালে।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ: প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর; পিতামহি: দিগম্বরী দেবী; পিতা: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর; মাতা: সারদা দেবী। তিনি পিতা-মাতার ১৫জন সন্তানের মধ্যে ১৪তম সন্তান এবং ৮ম পুত্র। রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ফারসি কবি হাফিজ ও শেখ সাদীর অনুরাগী ছিলেন।
  • তিনি ৯ ডিসেম্বর, ১৮৮৩ সালে ঠাকুরবাড়ীর অধস্তন কর্মচারী বেণীমাধব রায় চৌধুরীর কন্যা ভবতারিণী দেবীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর রবীন্দ্রনাথ নাম রাখেন মৃণালিনী দেবী। স্ত্রী ভবতারিণী দেবী খুলনার দক্ষিণডিহি গ্রামের মেয়ে।
  • তিনি 'সাধনা' (১৮৯৪), 'ভারতী' (১৮৯৮), 'বঙ্গদর্শন' (১৯০১), 'তত্ত্ববোধিনী' (১৯১১) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
  • সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে তিনি বিহারীলাল চক্রবর্তীর অনুসারী ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর সাহিত্যে মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব পদাবলি, উপনিষদ, দোঁহাবলি, লালনের বাউল গান ও রামপ্রসাদ সেনের শাক্ত পদাবলির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
  • তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সংকলনের নাম 'সঞ্চয়িতা'।
  • হিন্দু-মুসলমান মিলনের লক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ 'রাখিবন্ধন' উৎসবের সূচনা করেন।
  • ব্রিটিশ সরকার ৩ জুন, ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথকে 'নাইটহুড' বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল, ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তা বর্জন করেন।
  • তিনি ৭ আগস্ট, ১৯৪১ সালে (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৯টি ছদ্মনাম পাওয়া যায়। যথাঃ ভানুসিংহ ঠাকুর, অকপট চন্দ্র ভাস্কর, আন্নাকালী পাকড়াশী, ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, বানীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ, শ্রীমতি কনিষ্ঠা, শ্রীমতি মধ্যমা, দিকশূন্য ভট্টাচার্য, নবীন কিশোর শর্মন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদক:

ডি. লিট- ১৯১৩ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৩৫ (কাশী বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৩৬ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ডি. লিট- ১৯৪০ (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপাধি:

গুরুদেব- মহাত্মা গান্ধী, কবিগুরু- ক্ষিতিমোহন সেন, বিশ্বকবি- ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়।

ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতন (বোলপুরে)। পরবর্তীতে এটি ১৯২১ সালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়' এ রূপান্তরিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত রচনাবলি:

প্রথম প্রকাশিত কবিতা

'হিন্দু মেলার উপহার' (২৫/০২/১৮৭৪): তাঁর মাত্র ১৩ বছর বয়সে কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয় [সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান।]

'অভিলাষ' (১৮৭৪): এটি প্রকাশিত হয় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকায় (সূত্র: বাংলাপিডিয়া)। তিনি মাত্র ৮ বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেছিলেন।

প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ'কবি-কাহিনী' (১৮৭৮), এটি তাঁর ১৭ বছর বয়সে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যের কবিতাগুলি 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
প্রথম অপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ'পৃথ্বীরাজের পরাজয়'। ১২৭৯ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে রবীন্দ্রনাথ তাঁর বাবার সাথে বোলপুর-শান্তিনিকেতনে যান এবং সেখানেই বীররসাত্মক এ কাব্য রচনা করেন। এ কাব্যটি সম্পর্কে তাঁর 'জীবনস্মৃতি'তে বিস্তারিত পাওয়া যায়।
প্রথম প্রকাশিত কবিতার লাইনমীনগণ দীন হয়ে ছিল সরোবরে / এখন তাহারা সুখে জলে ক্রীড়া করে।
প্রথম প্রকাশিত নাটক'বাল্মীকি প্রতিভা' (১৮৮১), এটি তাঁর গীতিনাট্য। অধিকাংশের মতে, রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত নাটক 'রূদ্রচণ্ড' (১৮৮১)। কিন্তু 'রূদ্রচণ্ড' নাটক নয়, নাটিকা। রবীন্দ্রনাথ নিজেই বাল্মীকির ভূমিকায় অভিনয় করেন।
প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' (১৮৮৩), এটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। উৎসর্গ করেন সৌদামিনী দেবীকে।
প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প'ভিখারিণী' (১৮৭৭)
প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ'বিবিধপ্রসঙ্গ' (১৮৮৩)
প্রথম প্রকাশিত রচনা সংকলন'চয়নিকা' (১৯০৯)
প্রথম সম্পাদিত পত্রিকা'সাধনা' (১৮৯৪)
সর্বশেষ প্রকাশিত ছোটগল্প'ল্যাবরেটরী' (১৯৪০)
সর্বশেষ রচিত গল্প'মুসলমানীর গল্প'

বনফুল:

'বনফুল' (১৮৮০): এটি রবীন্দ্রনাথ রচিত প্রথম সম্পূর্ণ কাব্য। কিন্তু প্রকাশের দিক দিয়ে দ্বিতীয়। গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হওয়ার ৪ বছর পূর্বে অর্থাৎ ১৫ বছর বয়সে রচনা করেন। এ কাব্যের কবিতাগুলি ১৮৭৬ সালেই 'জ্ঞানাঙ্কুর' ও 'প্রতিবিম্ব' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৮৮০ সালে। তাই 'বনফুল'কে প্রথম কাব্যগ্রন্থ বলা যায় না। যদিও অনেকে এটিকে প্রথম কাব্যগ্রন্থ বলে থাকেন কিন্তু তা সঠিক নয়। ৮টি সর্গে বিভক্ত এ কাব্যের কবিতায় বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

  • 'গীতাঞ্জলি' কাব্য ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় ।
  • গীতাঞ্জলির অনুবাদ Song Offerings নামে ১৯১২ সালে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয়।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার পাননি। তিনি ১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে নোবেল পুরস্কার পান 'গীতাঞ্জলি'র ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings এর জন্য। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির সময় তাঁর বয়স ছিল ৫২ বছর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম ভারতীয় এবং সাহিত্যে একমাত্র নোবেলজয়ী বাঙালি।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল চুরি হয়ে যায় শান্তি নিকেতন থেকে ২৪ মার্চ, ২০০৪ সালে।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট কাব্যগ্রন্থ ৫৬টি।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট নাটক ২৯টি, কাব্যনাট্য ১৯টি।
  • বাংলা ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • রবীন্দ্রনাথের মোট ছোটগল্প ১১৯টি।
  • রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ গ্রন্থঃ
    'কালান্তর' (১৯৩৭): এটি ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন।
    'পঞ্চভূত' (১৮৯৭): এ প্রবন্ধগুলি 'সাধনা' পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়রি' নামে প্রকাশিত হতো। পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো 'লেখক ভূতনাথ বাবু'।
    'বিচিত্রপ্রবন্ধ' (১৯০৭): এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধ 'লাইব্রেরি'। 'বিবিধ প্রসঙ্গ' (১৮৮৩), 'সাহিত্য' (১৯০৭), 'শিক্ষা' (১৯০৮), 'মানুষের ধর্ম
  • রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণকাহিনিঃ
    'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র (১৮৮১): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত ভ্রমণকাহিনি। এটি চলিত ভাষায় লিখিত।
    'য়ুরোপ প্রবাসীর ডায়রি' (১৮৯১), 'জাভা যাত্রীর পর (১৯২৯), 'জাপান যাত্রী' (১৯১৯), 'রাশিয়ার চিটিং (১৯৩১), 'পারস্যে' (১৯৩৬)।
  • রবীন্দ্রনাথের ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা গ্রন্থের নাম 'শব্দতত্ত্ব' (১৯০৯)।
  • রবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থের নাম 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)। এটি সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে উৎসর্গ করেন।
  • রবীন্দ্রনাথের পত্র সংকলনগুলোঃ
    'ছিন্নপত্র' (১৯১২): এতে মোট ১৫১টি পত্র আছে। এর প্রথম ৮টি পত্র শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে এবং ১৪৩টি স ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা।
    'ভানুসিংহের পত্রাবলী': এটি রানু অধিকারীকে লেখেন।
    'পথে ও পথের প্রান্তে': নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা ।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রকলাঃ
    ৭০ বছর বয়সের পর তিনি ছবি আঁকা শুরু করেন। তার অঙ্কিত ছবি ও স্কেচের সংখ্যা প্রায় ২০০০টি। নিজের আর ছবিগুলোকে তিনি 'শেষ বয়সের প্রিয়া' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
  • রবীন্দ্রনাথের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নামঃ 'জীবনস্মৃতি' (১৯১২): এতে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল থেকে পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত সময়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। 'চরিত্রপূজা' (১৯০৭), 'ছেলেবেলা' (১৯৪০)।
  • রবীন্দ্রনাথের সনেট জাতীয় রচনা বাংলার মাটি বাংলার জল।
  • বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কাজী নজরুল ইসলাম
আলহাজ বাহাদুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শেখ আলী খান

আবুল কাসেম ফজলুল হক

807
Content added By
Content updated By

আবুল ফজল (সাহিত্যিক)

923

সমাজ ও সমকাল সচেতন প্রাবন্ধিক আবুল ফজল কথাশিল্পী হিসেবে প্রসিদ্ধ। স্বদেশপ্রীতি, অসাম্প্রদায়িক জীবনচেতনা, সত্যনিষ্ঠা, মানবতা ও কল্যাণবোধ ইত্যাদি তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রতিপাদ্য বিষয়। রবীন্দ্রনাথের গান পাকিস্তানের আদর্শের পরিপন্থী এই বক্তব্য উপস্থাপন করে পাকিস্তান সরকার ২২ জুন, ১৯৬৭ সালে রেডিও ও টেলিভিশন থেকে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে সরকারের সে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেন।

  • আবুল ফজল ১ জুলাই, ১৯০৩ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি 'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' (১৯২৬) এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং ১৯৩০ সালে এর সম্পাদক নিযুক্ত হন।
  • 'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর মুখপত্র 'শিখা'। এটি ১৯২৭ সালে আবুল হোসেনের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার স্লোগান ছিল- 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'। ১৯৩১ সালে তিনি 'শিখা'র ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন। তিনি ছিলেন 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের অন্যতম কর্ণধার।
  • তিনি 'মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী' নামে খ্যাত।
  • তিনি 'জাতির বিবেক' বলে স্বীকৃতি লাভ করেন।
  • তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (১৯৭৩) এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা ছিলেন (১৯৭৫)।
  • তিনি উপন্যাসে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) ও 'রেখাচিত্র' গ্রন্থের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬) পান।
  • ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন।
  • তিনি ৪ মে, ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামে মারা যান।

আবুল ফজলের উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহঃ

উপন্যাস: ‘রাঙ্গা প্রভাত' (১৯৫৭): এটি প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘চৌচির’ (১৯৩৪), ‘প্রদীপ ও পতঙ্গ' (১৯৪০)।

গল্পগ্রন্থ : ‘মাটির পৃথিবী’ (১৯৪০), ‘মৃতের আত্মহত্যা' (১৯৭৮)।

নাটক : ‘কায়েদে আজম' (১৯৪৬), ‘প্রগতি' (১৯৪৮), ‘স্বয়ম্বরা (১৯৬৬)।

দিনলিপি: ‘রেখাচিত্র' (১৯৬৬), ‘লেখকের রোজনামচা' (১৯৬৯), ‘দুর্দিনের দিনলিপি' (১৯৭২)।

প্ৰবন্ধ: ‘বিচিত্র কথা” (১৯৪০), ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা' (১৯৬১), ‘সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন (১৯৬৫), ‘সমাজ সাহিত্য ও রাষ্ট্র' (১৯৬৮), ‘সমকালীন চিন্তা' (১৯৭০), ‘মানবতন্ত্র’ (১৯৭২), ‘সাহিত্য ও অন্যান্য প্রসঙ্গ' (১৯৭৪), ‘শুভবুদ্ধি’ (১৯৭৪), ‘একুশ মানে মাথা নত না করা' (১৯৭৮), ‘রবীন্দ্র প্রসঙ্গ' (১৯৭৯)।

জীবনী ও স্মৃতিকথা: ‘সাংবাদিক মজিবর রহমান' (১৯৬৭), ‘শেখ মুজিব : তাঁকে যেমন দেখেছি' (১৯৭৮)।

বিখ্যাত গল্প: চোর, বিবর্তন, প্রেম ও মৃত্যু, রহস্যময়ী প্রকৃতি ।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ভাষা আন্দোলন
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
স্বদেশি আন্দোলন

আবদুল গাফফার চৌধুরী

630

আবদুল গাফফার চৌধুরী (১২ ডিসেম্বর ১৯৩৪ – ১৯ মে ২০২২) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী গ্রন্থকার, সাংবাদিক ও কলাম লেখক। তিনি ভাষা আন্দোলনের অমর গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো”র রচয়িতা এবং মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিবনগর সরকারের নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক জয়বাংলার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। তার জন্ম তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির বাকেরগঞ্জ জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়ায় এক ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী বংশে। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন এবং ছাত্রাবস্থায়ই সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সাংবাদিকতায় তার কর্মজীবন শুরু হয় দৈনিক ইনসাফ দিয়ে; পরবর্তীতে দৈনিক সংবাদ, সওগাত, ইত্তেফাক, আজাদ, জেহাদ, পূর্বদেশসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকায় সম্পাদক ও কলামিস্ট হিসেবে কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কলকাতায় অবস্থান করে সাপ্তাহিক জয়বাংলা সম্পাদনা করেন এবং আনন্দবাজার, যুগান্তরে লেখালেখি করেন। স্বাধীনতার পর দৈনিক জনপদ প্রকাশ করেন এবং ১৯৭৪ সাল থেকে দীর্ঘ প্রবাসজীবনে থেকেও বাংলাদেশের প্রধান পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখে যান। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ডানপিটে শওকত, কৃষ্ণপক্ষ, সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর, চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা, শেষ রজনীর চাঁদ, বাংলাদেশ কথা কয়, আমরা বাংলাদেশী নাকি বাঙালি, ইতিহাসের রক্ত পলাশ। তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭), একুশে পদক (১৯৮৩), স্বাধীনতা পুরস্কার (২০০৯), ইউনেস্কো পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন। ২০২২ সালের ১৯ মে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

Content added By

আমীরুল ইসলাম

721
Content added By

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

690

বিবিসির জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় ৮ম স্থান প্রাপ্ত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উনবিংশ শতকের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, গদ্যকার, মানবতাবাদ, কর্মবাদ ও ইহলৌকিক চিন্তা-চেতনার প্রতি আস্থাশীল একজন ক্ষণজন্মা বাঙালি। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে অর্থবহ করে তোলেন। বাংলা গদ্যের সার্থক রূপকার তিনিই।

  • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৮২০ সালে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা ভগবতী দেবী।
  • ঈশ্বরচন্দ্রের পারিবারিক উপাধি- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ছদ্মনাম- কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
  • সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য তিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সে সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন।
  • তিনি ২৯ ডিসেম্বর, ১৮৪১ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান পণ্ডিত হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
  • তার সম্পাদিত পত্রিকা 'সর্বশুভকরী' (১৮৫০)।
  • তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরাম চিহ্নের প্রথম ব্যবহার করেন
  • ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে কলকাতায় মারা যান।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন । তিনি 'বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব' (১৮৫৫), 'বহুবিবাহ রহিয় হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক বিচার' (১৮৭১,৭৩) প্রভৃতি গ্রন্থের মাধ্যমে বিধবা বিবাহের শাস্ত্রীয়তা এবং বহুবিবাহর প্রথার অশাস্ত্রীয়তা প্রমাণ করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় 'বিধব বিবাহ আইন' পাশ হয় ২৬ জুলাই, ১৮৫৬ সালে। এ বছরই ৭ ডিসেম্বর প্রথম কলকাতায় বিধবা বিবাহ হয় সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্নের সাথে কালীমতী দেবীর। তিনি এ বিয়ের যাবতীয় খরচ বহন করেন। ১৮৭০ সালে তাঁর পুত্র নারায়ণচন্দ্রের সাথে ভবসুন্দরী দেবী নামে এক বিধবার বিবাহ দেন।

বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গ্রন্থের নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' (১৮৬৩): এটি একটি শোঁকগাথা। বন্ধুর বালিকা কন্যা প্রভাবতীর মৃত্যুশোকে তিনি এটি রচনা করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'বেতালপঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭): এটি তাঁর প্রথম মুদ্রিত এই এবং এটির প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগের সূচনা ঘটে। এটি হিন্দি ভাষায় লাল্লুজি রচিত 'বৈতাল পচ্চীসী' থেকে অনূদিত। এতে তিনি প্রথম যতি/বিরাম চিহ্নের সফল প্রয়োগ ঘটান।

শকুন্তলাঃ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কালিদাসের সংস্কৃত ভাষার 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নাটকটি অনূদিত করে রচনা করেন 'শকুন্তলা' (১৮৫৪)। এটি অনুবাদ গ্রন্থ হলেও বিদ্যাসাগর কাহিনি নির্মাণ ও ভাষা ব্যবহারে স্বাধীন মত গ্রহণ করে সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গী প্রয়োগ করেন। চন্দ্রবংশীয় রাজা দুষ্মন্ত তপোবনে শিকারে এসে মহর্ষি বিশ্বামিত্রের কন্যা শকুন্তলার প্রণয়ী হন এবং বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। রাজা চিহ্ন হিসেবে শকুন্তলাকে আংটি দিয়ে রাজ্যে ফিরে যান। শকুন্তলার গর্ভে এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়, নাম রাখা হয় ভরত। রাজা রাজকার্যে ব্যস্ত থাকার কারণে শকুন্তলাকে ভুলে যান। পরবর্তীতে দৈব বাণীতে রাজা সব অবগত হয়ে বৃদ্ধ বয়সে ভরতকে রাজ্যশাসনের ভার অর্পণ করেন। গদ্যে রচিত এমন সরল কাহিনি তৎকালে ছিল বিরল, যা বাংলা গদ্যে সাহিত্যের সমৃদ্ধিতে এক অসামান্য ভূমিকা পালন করে।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থগুলোর নামঃ

  • 'জীবনচরিত' (১৮৪৯): এটি চেম্বার্সের বায়োগ্রাফির বঙ্গানুবাদ।
  • 'শকুন্তলা' (১৮৫৪): এটি কালিদাসের সংস্কৃত ভাষার নাটক 'অভিজ্ঞানশকুন্তলম' এর উপাখ্যান ভাগের বাংলা অনুবাদ।
  • 'সীতার বনবাস' (১৮৬০): এটি ভবভূতির 'উত্তররামচরিত' নাটকের প্রথম অঙ্ক ও রামায়ণের উত্তর কাণ্ডের অনুবাদ।
  • 'ভ্রান্তিবিলাস' (১৮৬৯): শেক্সপিয়রের 'Commedy of Errors' এর বাংলা রূপ।
  • 'বাঙালার ইতিহাস' (১৮৭৮): গ্রন্থটি তিনি মার্সম্যানের 'History of Bengal' অবলম্বনে রচনা করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র রচিত শিশুদের জন্য পাঠ্য বই গুলোর নামঃ

  • 'বর্ণপরিচয়' (১ম ও ২য় ভাগ- ১৮৫৫): এটি ক্ল্যাসিকের মর্যাদা লাভ করে।
  • 'বোধোদয়' (১৮৫১): এটি চেম্বার্সের Rudiments of Knowledge অবলম্বনে রচিত।
  • 'কথামালা' (১৮৫৬): এটি ঈশপের Fables অবলম্বনে রচিত।
  • 'আখ্যানমঞ্জরী' (১৮৬৩): এ গ্রন্থের ২য় ভাগ 'প্রত্যুপকার'।
  • 'ঝজুপাঠ' ১৮৫১), 'শব্দমঞ্জরী' (১৮৬৪), 'শ্লোকমঞ্জরী' (১৮৯০)।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থগুলোর নামঃ

  • 'আত্মচরিত' (১৮৯১): বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী। এতে বিদ্যাসাগরের শৈশব জীবনের কথা বিধৃত হয়েছে।
  • 'সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব' (১৮৫৩): বাঙালির লেখা সংস্কৃত সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস।
  • 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩): এটি 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে লেখেন।
  • 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩): এটি 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে লেখেন।
  • 'ব্রজবিলাস' (১৮৮৫): এটি 'কবিকুল তিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে লেখেন।
  • 'বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা' (১৮৮৪): এটি তিনি 'কস্যচিৎ তত্ত্বান্বেষিণ' ছদ্মনামে রচনা করেন।
  • 'রত্নপরীক্ষা' (১৮৮৬): এটি 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো সহচরস্য' ছদ্মনামে লেখেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহ বিষয়ক গ্রন্থের নামঃ

'বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব' (১৮৫৫), 'বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক বিচার' (১৮৭১,৭৩)।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ব্যাকরণ গ্রন্থের নামঃ

'সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা' (১৮৫১), 'ব্যাকরণ কৌমুদী' (১ম ভাগ ও ২য় ভাগ- ১৮৫৩, ৩য় ভাগ- ১৮৫৪, ৪র্থ ভাগ- ১৮৬২)।

Content added By

কাজী আনোয়ার হোসেন

803
Content added By

কাজী মোতাহার হোসেন

655

কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত পরিসংখ্যানবিদ, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও পদার্থবিদ। শক্তিশালী লেখনীর মাধ্যমে তিনি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা যুগিয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানীর আয়োজিত 'কাগমারী সম্মেলন' এ সভাপতিত্ব করেন।

  • কাজী মোতাহার হোসেন ৩০ জুলাই, ১৮৯৭ সালে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে (মাতুলালয়) জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস: বর্তমান রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার বাগমারা গ্রাম।
  • তিনি 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং এ সংগঠনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকার ২য় ও ৩য় সংখ্যার সম্পাদক। সাহিত্য সমাজের নেতৃত্বে পরিচালিত বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
  • তিনি 'বাংলা একাডেমি'র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
  • তিনি ছিলেন উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ দাবাড়ু।
  • কাজী নজরুল ইসলাম তাকে আদর করে 'মোতিহার' নামে ডাকতেন।
  • বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ও ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সনজীদা খাতুন তাঁর মেয়ে।
  • ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ', ১৯৬৬ সালে 'বাংলা একাডেমি পুরস্কার', ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি, ১৯৭৯ সালে 'স্বাধীনতা পুরস্কার' লাভ করেন।
  • ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে 'জাতীয় অধ্যাপক' হিসেবে সম্মানিত করে।
  • তিনি ৯ অক্টোবর, ১৯৮১ সালে মারা যান।

কাজী মোতাহার হোসেন এর সাহিত্যকর্মসমূহঃ

প্রবন্ধ:
'সঞ্চয়ন' (১৯৩৭): এটি তাঁর প্রথম বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন।

'নজরুল কাব্য পরিচিতি' (১৯৫৫), 'সেই পথ লক্ষ্য করে' (১৯৫৮), 'সিম্পোজিয়াম' (১৯৬৫), ‘গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস’ (১৯৭০), 'আলোকবিজ্ঞান' (১৯৭৪), 'ভুলের মূল্য'।

Content added By

কামিনী রায়

721

কামিনী রায় (১৮৬৪-১৯৩৩)

বাঙালি কবি, সমাজকর্মী ও নারীবাদী লেখিকা কামিনী রায় ছিলেন ১৮৮৬ সালে সংস্কৃত ভাষায় স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্রিটিশ ভারতের প্রথম মহিলা ব্যক্তিত্ব। তিনি মাত্র ৮ বছর বয়সে কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। তাঁর কবিতাগুলোয় জীবনের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ-বেদনা সাবলীলভাবে ফুটে উঠেছে।

কামিনী রায় ১২ অক্টোবর, ১৮৬৪ সালে বাসন্ডা, বাকেরগঞ্জ, বরিশালে (বর্তমানে এটি ঝালকাঠি জেলা) জন্মগ্রহণ করেন।

  • তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
  • তিনি ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।
  • তিনি 'নারী শ্রম তদন্ত কমিশন' (১৯২২-২৩) এর সদস্য ছিলেন।
  • তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে হাজারীবাগ, বিহারে মৃত্যুবরণ করেন।

কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থগুলোঃ

'আলো ও ছায়া' (১৮৮৯): এটি তাঁর ১৫ বছর বয়সে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ কাব্যের ভূমিকা লেখেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'সুখ', 'পাছে লোকে কিছু বলে'। 'নির্মাল্য' (১৮৯১), 'পৌরাণিকী' (১৮৯৭), 'মাল্য ও নির্মাল্য' (১৯১৩), 'অশোক সঙ্গীত' (সনেট সংগ্রহ, ১৯১৪), 'অম্বা' (নাট্যকাব্য, ১৯১৫), 'ঠাকুরমার চিঠি' (১৯২৪), 'দীপ ও ধূপ' (১৯২৯), 'জীবন পথে' (১৯৩০), 'একলব্য' 'দ্রোণ-ধৃষ্টদ্যুম্ন', 'শ্রাদ্ধিকী'।

কামিনী রায়ের কবিতাগুলোঃ

'মাতৃপূজা', 'দিন চলে যায়', 'পরার্থে', 'গুঞ্জন'। অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত কবিতা: 'মহাশ্বেতা', 'পুণ্ডরীক'।

কামিনী রায়ের প্রবন্ধ গ্রন্থের নাম 'বালিকা শিক্ষার আদর্শ' (১৯১৮)।

Content added By

বেগম রোকেয়া

687

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২)

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারীবাদী লেখিকা ও মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত। নারীদের কুসংস্কারমুক্ত ও শিক্ষিত করতে এবং সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেছিলেন। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।

  • রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • ১৮৯৭ সালে ১৬ বছর বয়সে উর্দুভাষী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বিপত্নীক সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তিনি রোকেয়া খাতুন এর সাথে স্বামীর নাম সাখাওয়াত হোসেন যোগ করেন এবং আর. এস হোসেন নামে লিখতেন।
  • তিনি মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত ছিলেন তাই তাকে 'মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত' বলা হয়।
  • ১৯০২ সালে তাঁর প্রথম গল্প 'পিপাসা' প্রকাশিত হয় 'নবপ্রভা' পত্রিকায়।
  • তার নামানুসারে 'রোকেয়া হল' নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল আছে।
  • ৩ মে, ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯১০ সালে কলকাতায় গমন করেন এবং নারী মুক্তির লক্ষ্যে তিনি ১৬ মার্চ, ১৯১১ সালে 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' ও ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' (মুসলিম মহিলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন।
  • তিনি ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মারা যান।

বেগম রোকেয়ার উপন্যাস দুটি 'পদ্মরাগ' (১৯২৪), 'Sultana's Dream'- এটি ইংরেজিতে লেখা।

সুলতানার স্বপ্নঃ

বাংলা সাহিত্যে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত 'সুলতানার স্বপ্ন' গ্রন্থটি ইংরেজি 'Sultana's Dream' শিরোনামে রচিত। এখানে মূল চরিত্র Sultana একজন অবরুদ্ধা নারী। গৃহের চতুষ্কোণ হচ্ছে তার বিচরণ ও কর্মক্ষেত্র, বাইরের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকার তার ছিল না। তিনি স্বপ্ন দেখেন, তিনি তার বোন সারার মতো অপরিচিতা এক নারীর সাথে অন্তঃপুর ত্যাগ করে উন্মুক্ত প্রকৃতির মধ্যে ফুল-বাগান দেখতে বের হয়েছেন যাকে স্বপ্নরাজ্য 'Lady Land' বলা হয়েছে। এ গ্রয়ে রোকেয়া একটি নারীবাদী স্বপ্নরাজ্য বা ইউটোপিয়ার বর্তনা দিয়েছেন। এ কল্পরাজ্যে সমাজের সকল কর্মকাণ্ডে নারীর হবেন প্রধান চালিকাশক্তি আর পুরুষরা হবেন গৃহবনী এখানে থাকবে না কোন অপরাধ, প্রচলিত থাকার 'ভালোবাসা ও সত্যের' ধর্ম।

বেগম রোকেয়ার গদ্যগ্রন্থসমূহঃ

'মতিচুর' (১ম খণ্ড- ১৯০৪, ২য় খণ্ড- ১৯২২ 'অবরোধবাসিনী' (১৯৩১)।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত প্রবন্ধ 'নিরীহ বাঙালি' 'চাষার দুক্ষু', 'অর্ধাঙ্গী'।

পদ্মরাগ (উপন্যাস)রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
পদ্ম-গোখরো (গল্প)কাজী নজরুল ইসলাম
পদ্মাবতী (নাটক)মাইকেল মধুসূদন দত্ত
পদ্মাবতী (কাব্য)আলাওল
পদ্মাবতী (সমালোচনামূলক)সৈয়দ আলী আহসান
পদ্মানদীর মাঝি (উপন্যাস)মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
পদ্মা মেঘনা যমুনা (উপন্যাস)আবু জাফর শামসুদ্দীন
Content added By

কালীপ্রসন্ন সিংহ

663

কালীপ্রসন্ন সিংহ (১৮৪০-১৮৭০)

সমকালীন সমাজে কালীপ্রসন্ন সিংহ শিল্পসংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক, বিধবাবিবাহের একনিষ্ঠ প্রবক্তা, অনন্যসাধারণ রাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীনবন্ধুর 'নীলদর্পণ' নাটক ইংরেজিতে অনুবাদ করে ছাপার দায়ে প্রকাশক রেভারেন্ড জেমস লঙ্ নামক এক পাদ্রীকে বিচারালয়ে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ২৪ জুলাই, ১৮৬১ সালে কালীপ্রসন্ন সিংহ বিচারালয়ে উপস্থিত হয়ে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে পরোক্ষভাবে এ নাটকে ব্যক্ত বক্তব্যকে সমর্থন করেন।

  • কালীপ্রসন্ন সিংহ ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪০ সালে উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত সিংহ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি ২৪ জুলাই, ১৮৭০ সালে কলকাতায় মারা যান।

কালীপ্রসন্ন সিংহের সাহিত্যকর্মসমূহ:

'হুতোম প্যাঁচার নকশা' (১৮৬২): এটি রম্য রচনা। তাঁর রচনার রীতিকে 'হুতোমী বাংলা' বলে। এ উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র- দনুবানু।

'সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য অনুবাদ' (১৮৬৬): এটি মহাভারতের আঠার পর্বের গদ্যাকারে অনুবাদ সম্পাদন করেন। অনুবাদটি মহারানি ভিক্টোরিয়াকে উৎসর্গ করেন।

নাটক: 'বাবু' (১৮৫৪- গ্রহসন), 'বিক্রমোবশী' (১৮৫৭-অনুবাদ নাটক) ‘সাবিত্রী সত্যবান’ (১৮৫৮), 'মালতীমাধব' (১৮৫৯- অনুবাদ নাটক)।

কালীপ্রসন্ন সিংহ প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম:

'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' (১৮৫৩) (বঙ্গভাষা অনুশীলনের জন তিনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন], 'বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা' (১৮৫৫) 'বিদ্যোৎসাহিনী রঙ্গমঞ্চ' (১৮৫৬)।

Content added By

কায়কোবাদ

648

মহাকবি কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মুসলমান কবি। বাংলা মহাকাব্যের অস্তোন্মুখ এবং গীতিকবিতার স্বর্ণযুগে তিনি মুসলমানদের গৌরবময় ইতিহাস থেকে কাহিনি নিয়ে 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য রচনা করে দুঃসাহস দেখিয়েছেন, যা তাঁকে গৌরবময় আসনে অলংকৃত করে। তিনি বাংলা মহাকাব্য ধারার কবি হিসেবে খ্যাত।

  • কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকার নবাবগঞ্জের আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ। প্রকৃত নাম মুহম্মদ কাজেম আল কুরায়শী। [সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান।
  • তিনি বাঙালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম মহাকাব্য ও সনেট রচয়িতা। তাঁর কাব্য প্রতিভায় হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের প্রভাব ছিল।
  • তিনি ১৯৩২ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মেলনের মূল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
  • বাংলা কাব্য সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯২৫ সালে নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে 'কাব্যভূষণ', 'বিদ্যাভূষণ', 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি প্রদান করেন।
  • তিনি ২১ জুলাই, ১৯৫১ সালে ঢাকায় মারা যান।

কায়কোবাদের মহাকাব্যের নাম 'মহাশ্মশান' (১৯০৪): এটি পানিপথের ৩য় যুদ্ধের কাহিনি (১৭৬১) অবলম্বনে রচিত।

মহাশ্মশান:

কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য 'মহাশ্মশান' (১৯০৪)। [অধিকাংশ বইয়ে 'মহাশ্মশান' এর প্রকাশসাল দেওয়া হয়েছে ১৯০৫, কিন্তু এটি হবে ১৯০৪ সাল। মোহাম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় মহাকাব্যটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। এটি পানিপথের ৩য় যুদ্ধের কাহিনি (১৭৬১) অবলম্বনে রচিত। এ মহাকাব্য ৮৭০ পৃষ্ঠায় তিন খণ্ডে মোট ৬০টি সর্গে বিভক্ত। পানিপথের এ যুদ্ধে মারাঠাদের সাথে রোহিলা-অধিপতি নজিব-উদ্‌-দৌলা'র শক্তি পরীক্ষা হয়। কবির দৃষ্টিতে এটি উভয়ের শক্তিক্ষয় ও ধ্বংস, এজন্য তিনি একে 'মহাশ্মশান' বলেছেন। এ কাব্যে ঐতিহাসিক-অনৈতিহাসিক দুই ধরনের চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে। প্রশিক্ষিত মুসলিম যোদ্ধা ইব্রাহীম কার্দি মুসলিম শিবিরে চাকরি না পেয়ে মারাঠা কর্তৃক চাকরি পায় এবং সমাদৃত হয়। যুদ্ধ শুরু হলে ইব্রাহীম কার্দির স্ত্রী জোহরা মন্ত্রবেগ ছদ্মনাম ধারণ করে এসে স্বামীকে মুসলিম শিবিরে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করে। ইব্রাহীম কার্দি বিশ্বাসঘাতকতা না করে মারাঠাদের জন্য যুদ্ধে জীবন দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। নায়ক ইব্রাহীম কার্দির মৃত্যু কাব্যটিকে ট্র্যাজিক করে তোলে। মুনীর চৌধুরীর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের কাহিনিও পানিপথের ৩য় যুদ্ধ। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা।

কায়কোবাদের কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম:

  • 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০): এটি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা মাত্র বার বছর বয়সে রচনা করেন এবং তের বছর বয়সে প্রকাশিত হয়।
  • 'অশ্রুমালা (১৮৯৫): এটি গীতিকাব্য। এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'প্রার্থনা'।
  • 'মহরম শরীফ' (১৯৩২): এটি মহাকাব্যোচিত বড় আকারের একটি কাহিনিকাব্য।
  • 'অমিয়ধারা' (১৯২৩): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'সুখ'।
  • 'কুসুমকানন' (১৮৭৩), 'শিবমন্দির' (১৯২১), 'শ্মশানভস্ম' (১৯৩৮)।
  • কায়কোবাদের বিখ্যাত কবিতা 'আযান'।

কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:

'প্রেমের ফুল' (১৯৭০), 'প্রেমের বাণী' (১৯৭০), 'প্রেম পারিজাত' (১৯৭০), 'মন্দাকিনী ধারা (১৯৭১), 'গওস পাকের প্রেমের কুঞ্জ' (১৯৭৯)।

Content added By

জসীম উদ্দীন

741

জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬)

সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার সমর্থক, বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশ আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষক পল্লীকবি জসীমউদ্দীন এর কবি প্রতিভার প্রকাশ ঘটে ছাত্রাবস্থায়। তাঁর রচিত কাব্যগুলোতে গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত চিত্র যে কুশলতার সাথে অঙ্কিত হয়েছে তাতে আধুনিক শিল্প-চেতনার ছাপ সুস্পষ্ট। বাংলার গ্রামীণ জীবনের আবহ, সহজ-সরল প্রাকৃতিক রূপ উপযুক্ত শব্দ, উপমা ও চিত্রের মাধ্যমে তাঁর কাব্যে এক অনন্যসাধারণ মাত্রায় মূর্ত হয়ে উঠে। ষাটের দশকের শেষের দিকে পাকিস্তান সরকার রেডিও ও টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত বন্ধের পদক্ষেপ নিলে তিনি এর তীব্র বিরোধিতা করেন।

  • জসীমউদ্‌দীন ১ জানুয়ারি, ১৯০৩ সালে ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে (মাতুলালয়) জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- ফরিদপুরের গোবিন্দপুর (বর্তমান- আম্বিকাপুর)।
  • প্রকৃত নাম: মোহাম্মদ জসীম উদদীন মোল্লা। ছদ্মনাম: জমীরউদ্দিন মোল্লা।
  • ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর জামাতা।
  • ১৯২১ সালে 'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় 'মিলন গান' কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা।
  • বাংলা একাডেমি ২০১৯ সাল থেকে 'কবি জসীমউদদীন সাহিত্য পুরস্কার' প্রদান করে। প্রথম এ পুরস্কার পান কবি নির্মলেন্দু গুণ।
  • তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি ডি.লিট (১৯৬৯) ও একুশে পদক (১৯৭৬) পান।
  • তিনি ১৩ মার্চ, ১৯৭৬ সালে মারা যান। তাঁর অন্তিম ইচ্ছানুসারে ১৪ মার্চ ফরিদপুরের আম্বিকাপুরে দাদীর কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

কর্মপরিধিঃ

জসীমউদ্দীনকে পল্লীকবি বলা হয় । তিনি এম.এ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ড. দীনেশচন্দ্ৰ সেনের আনুকূল্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লীগীতি সংগ্রাহক পদে নিয়োগ লাভ করেন। তিনি ১৯৩১-১৯৩৭ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে চাকরি করেন। ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬২ সালে প্রচার বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টরের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কবি জসীমউদ্দীন হল' আছে।

তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'মিলন গান' (১৯২১): এটি 'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহঃ

'রাখালী' (১৯২৭): এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ কাব্যের ১৮টি কবিতার মধ্যে অন্যতম কবিতা 'কবর'। এটি কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। জসীমউদ্‌দীন কলেজে অধ্যয়নকালে 'কবর' কবিতা রচনা করে অসাধারণ খ্যাতি অর্জন করেন। যা তাঁর ছাত্রাবস্থায় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

'নক্সীকাঁথার মাঠ' (১৯২৯): এটি কবির শ্রেষ্ঠ কাহিনিকাব্য/গাথাকাব্য। এ গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষার ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের গল্প এবং দ্বিতীয় ভাগে তাদের বিচ্ছেদ। গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এ কাব্যের উপকরণ। ১৯২৮ সালে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার শিলাসী গ্রামে জসীমউদ্‌দীন ময়মনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করতে আসলে রূপাই নামক এক ব্যক্তির সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে। এ ব্যক্তির বাস্তব জীবনীকে কেন্দ্র করে তিনি রচনা করেন 'নক্সীকাঁথার মাঠ'। চরিত্র: সাজু, রুপাই। E. M Milford এটিকে Field of the Embroidery Quilt নামে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।

'বালুচর' (১৯৩০): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'প্রতিদান' ।

'ধানখেত' (১৯৩৩): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'যাব আমি তোমার দেশে'।

'সোজন বাদিয়ার ঘাট' (১৯৩৪): এ কাহিনিকাব্য/ গাথাকাব্যটি ইউনেস্কোর উদ্যোগে 'Gypsy Wharf (১৯৬৯) নামে অনূদিত হয়। চরিত্র: সোজন, দুলী।

'এক পয়সার বাঁশি' (১৯৫৬): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'আসমানী'। আসমানী একটি বাস্তব চরিত্র। ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে জসীমউদ্দীনের বড় ভাই রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে তিনি আসমানীর দেখা পান এবং সেখানেই বসে তিনি 'আসমানী' কবিতাটি রচনা করেন। ৯৭ বছর বয়সে ১৮ আগস্ট, ২০১২ সালে আসমানী মারা যান।

'সূচয়নী' (১৯৬১): এটি তাঁর নির্বাচিত কবিতার সংকলন।

'রূপবতী' (১৯৪৬), 'মা যে জননী কান্দে' (১৯৬৩), 'মাটির কান্না' (১৯৫৮), 'সকিনা' (১৯৫৯)।

তাঁর নাটকসমূহঃ

'বেদের মেয়ে' (১৯৫১): এটি গীতিনাট্য।

'পদ্মাপাড়' (১৯৫০), 'মধুমালা' (১৯৫১), ‘পল্লীবধূ’ (১৯৫৬), 'গ্রামের মায়া' (১৯৫৯), বাঁশের বাঁশি।

তাঁর ভ্রমণকাহিনিসমূহঃ

‘চলে মুসাফির' (১৯৫২), ‘‘হলদে পরীর দেশ” (১৯৬৭), ‘যে দেশে মানুষ বড়' (১৯৬৮), 'জার্মানির শহরে ও বন্দরে’ (১৯৭৬)।

জসীমউদ্দীনের অন্যান্য রচনাবলিঃ

উপন্যাস:

‘ বোবাকাহিনি ' (১৯৬৪): এ উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত। চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।

‘বউটুবানির ফুল’ (১৯৯০): এটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত উপন্যাস ।

শিশুতোষ গ্রন্থ: ‘হাসু' (১৯৩৮), ‘এক পয়সার বাঁশী' (১৯৪৯), ‘ডালিমকুমার' (১৯৫১)।

আত্মজীবনী : ‘জীবনকথা' (১৯৬৪)।

স্মৃতিকথা : ‘যাদের দেখেছি' (১৯৫২), ‘ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়' (১৯৬১)।

গল্পগ্রন্থ: ‘বাঙ্গালীর হাসির গল্প' (১ম খণ্ড- ১৯৬০, ২য় খণ্ড-১৯৬৪)। এ গ্রন্থটি ইউনেস্কোর উদ্যোগে ‘Folk Tales of Bangladesh' নামে অনূদিত হয়।

গানের সংকলন: ‘রঙ্গিলা নায়ের মাঝি' (১৯৩৫), ‘গাঙ্গের পাড়’ (১৯৬৪), ‘জারিগান' (১৯৬৮)।

মধুমালা (নাটক)মধুমালা (নাটক)
মধুমালা (নাটক)কাজী নজরুল ইসলাম

বিখ্যাত কবিতা:

‘কবর’: এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ‘কল্লোল' পত্রিকায়। মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত এ কবিতাটিতে ১১৮টি পঙ্ক্তি আছে। প্রিয়জন হারানোর মর্মান্তিক স্মৃতিচারণ ‘কবর’ কবিতার মূল বিষয়।

‘আসমানী’: কবিতাটি ‘এক পয়সার বাঁশি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। কবির বড় ভাই রাজেন্দ্র সরকারি কলেজের অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদের শ্বশুরবাড়ি ছিল বর্তমান ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে। সেখানে কবি বেড়াতে গিয়ে আসমানীর দেখা পান এবং সেখানে বসেই তিনি ‘আসমানী' কবিতাটি রচনা করেন। ৯৭ বছর বয়সে আসমানী মৃত্যুবরণ করেন ১৮ আগস্ট, ২০১২ সালে ।

‘রাখাল ছেলে’ (রাখালী), ‘ নিমন্ত্রণ ' (ধানক্ষেত), ‘ মুসাফির ’ (বালুচর), ‘চাষার ছেলে’ , ‘পল্লীজননী’।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
পুত্র ও পুত্রবধু
মাতা ও কণ্যা
মাতা ও পুত্
কন্যা ও নাতন
জসীম্টদ্‌দীন
লালনশাহ
ভ্রীলনানন্দ দাশ
চৈতন্যদেব

জহির রায়হান

673

জহির রায়হান (১৯৩৫-১৯৭২)

প্রখ্যাত কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান ছিলেন ভাষাসৈনিক। তিনি প্রত্যক্ষভাবে ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে ও সামরিক জান্তার গণহত্যার চিত্র চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

  • জহির রায়হান ১৯ আগস্ট, ১৯৩৫ সালে ফেনীর মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর প্রকৃত নাম আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। ডাকনাম- জাফর।
  • শহীদুল্লা কায়সার তাঁর ভাই। চিত্রনায়িকা কোহিনুর আক্তার সুচন্দা তার স্ত্রী।
  • জহির রায়হান ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন।
  • ছাত্রজীবনে তিনি সাহিত্য মাসিক 'প্রবাহ' (১৯৫৬) এবং ইংরেজি সাপ্তাহিক 'এক্সপ্রেস' পত্রিকার সম্পাদনা ও প্রকাশনার সাথে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও ১৯৫০ সালে 'যুগের আলো' পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন।
  • ১৯৫১-৫৭ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এ সময় কমরেড মনি সিংহের দেয়া রাজনৈতিক নাম 'রায়হান' গ্রহণ করেন।
  • ১৯৫৬ সালে 'জাগো হুয়া সাবেরা' ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার- ১৯৭২ (মরণোত্তর) পান।
  • তিনি ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লা কায়সারকে খুঁজতে মিরপুরে গিয়ে নিজেই নিখোঁজ হন। তাঁর লাশও পাওয়া যায়নি।

তাঁর উপন্যাসসমূহঃ

'শেষ বিকেলের মেয়ে' (১৯৬০): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। এটি 'সাপ্তাহিক বিজলী' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪): আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ এর প্রতিপাদ্য। তিনি এ উপন্যাসের জন্য ১৯৬৪ সালে 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন। জহির রায়হানের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার সুচন্দা এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন এবং 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার' লাভকরেন। চরিত্র: টুনি, মন্ত্র, মকবুল।

'আরেক ফাল্গুন' (১৯৬৯): ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ সালে বর্তমান শহিদ মিনারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্র/ছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম-প্রণয় ইত্যাদি এ উপন্যাসের মূল বিষয়। এটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।

'আর কত দিন' (১৯৭০): মুক্তিযুদ্ধপূর্ব সময়ের অস্থির সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনমুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা, যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি, শান্তি ও ভালোবাসার জন্য মানুষের চিরন্তন অন্বেষা এ উপন্যাসের মূল উপজীব্য। ইভা ও তপু এ উপন্যাসের শাশ্বত শান্তি ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক।

'একুশে ফেব্রুয়ারি' (১৯৯২): এটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। জহির রায়হান ১৯৭০ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, সে উদ্দেশ্যকেই মূর্ত করে রচনা করেন এ উপন্যাসের কাহিনি। কিন্তু তিনি 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট যোগ করলে, পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে এটি উপন্যাস হিসেবে প্রকাশিত হয়।

'তৃষ্ণা' (১৯৬২), 'বরফ গলা নদী' (১৯৬৯), 'কয়েকটি মৃত্যু' (১৯৬৫)

তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোঃ

'কখনো আসেনি' (১৯৬১): এটি তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র '

সঙ্গম' (১৯৬৪): এটি বাংলাদেশের প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্র 'জীবন থেকে নেয়া' (১৯৭০): এটি ভাষা আন্দোলনভিত্তির চলচ্চিত্র। প্রথম এই চলচ্চিত্রেই জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।

'কাঁচের দেয়াল' (১৯৬৩): এটি নিগার পুরস্কার লাভ করে ।

'বাহানা' (১৯৬৫): এটি ছিল উর্দু ভাষায় নির্মিত এক তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি।

'সোনার কাজল' (১৯৬২), 'বেহুলা' (১৯৬৬), 'আনোয়ারা' (১৯৬৭)।

Stop Genocideঃ

বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার প্রামাণ্যচিত্র। এটি ১৯৭১ সালে জহির রায়হান কলকাতা থেকে তৈরি করেন।

তাঁর গল্পগ্রন্থটির নামঃ

'সূর্যগ্রহণ' (১৯৫৫)।

তাঁর রচিত গল্পসমূহঃ

'সূর্যগ্রহণ': বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত তসলিম নামক যুবকের পরিবারের মর্মবিদারক কাহিনি নিয়ে রচিত ।

'বাঁধ': গ্রামীণ পটভূমিতে পীরদের ভণ্ডামি নিয়ে রচিত।

শেষ সপ্তক (কাব্যগ্রন্থ)রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শেষ লেখা (কাব্যগ্রন্থ)
শেষের কবিতা (উপন্যাস)
শেষরক্ষা (প্রহসন)
শেষকথা (ছোটগল্প)
শেষ প্রশ্ন (উপন্যাস)শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
শেষের পরিচয় (উপন্যাস)
শেষ বিকেলের মেয়ে (উপন্যাস)জহির রায়হান
Content added By

জাহানারা ইমাম

820

শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের আগামী সৈনিক 'শহিদ জননী' জাহানারা ইমাম ছিলেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী। একাত্তরে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র শাফী ইমাম রুমী বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সফল গেরিলা অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে রুমী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন এবং নির্মম নির্যাতনের ফলে মৃত্যুবরণ করেন। রুমীর শহিদ হওয়ার সূত্রেই তিনি 'শহিদ জননী'র মর্যাদায় ভূষিত হন।

  • জাহানারা ইমাম (ডাকনাম: জুড় ৩ মে, ১৯২৯ সালে ভারতের পশ্চিবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বড়ঞ্চা থানার অন্তর্গত সুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর স্বামী প্রখ্যাত স্থপতি শরিফুল আলম ইমামও মুক্তিযুদ্ধের সময় মৃত্যুবরণ করেন।
  • তাঁর নেতৃত্বে ১৯ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট 'একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি' গঠিত হয়।
  • তিনি ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ সালে ৭০টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি'র আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।
  • তিনি 'বাংলা একাডেমি পুরস্কার' (১৯৯১), 'স্বাধীনতা পুরস্কার' (১৯৯৭), 'রোকেয়া পদক' (১৯৯৮) লাভ করেন।
  • তিনি ২৬ জুন, ১৯৯৪ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ডেট্রয়েট, মিশিগান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন। ৫ জুলাই, মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থগুলোঃ

'একাত্তরের দিনগুলি' (১৯৮৬): বইটি ব্যক্তিগত দিনলিপি বা ডায়েরি আকারে লেখা, যার শুরু ১ মার্চ, ১৯৭১ সাল থেকে ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল পর্যন্ত। এ দিনলিপি বা ডায়েরিই ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ সালে 'একাত্তরের দিনগুলি' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা শহরের অবস্থা ও গেরিলা তৎপরতার চিত্র উঠে এসেছে।

'বীরশ্রেষ্ঠ' (১৯৮৫)।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোঃ

'গজকচ্ছপ' (১৯৬৭), 'সাতটি তারার ঝিকিমিকি' (১৯৭৩), 'বিদায় দে মা ঘুরে আসি' (১৯৮৯)।

তাঁর অনুবাদ গ্রন্থগুলোঃ

'জাগ্রত ধরিত্রী' (১৯৬৮), 'নদীর তীরে ফুলের মেলা' (১৯৬৬), 'তেপান্তরের ছোট্ট শহর' (১৯৭১)।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলোঃ

'বুকের ভিতর আগুন' (১৯৯০): মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।

'অন্য জীবন' (১৯৮৫), 'জীবন মৃত্যু', (১৯৮৮), 'শেক্সপীয়রের ট্রাজেডি' (১৯৮৯), 'চিরায়ত সাহিত্য' (১৯৮৯), 'নাটকের অবসান' (১৯৯০), 'নিঃসঙ্গ পাইন' (১৯৯০), 'দুই মেরু' (১৯৯০), 'নয় এ মধুর খেলা' (১৯৯০), 'ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস' (১৯৯১), প্রবাসের দিনগুলি (১৯৯২), 'বাংলা উচ্চারণ অভিধান' (১৩৭৫)।

Content added || updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সুফিয়া কামাল
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সেলিনা হোসেন
জাহানারা ইমাম

জীবনানন্দ দাশ

3.2k

জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪)

তিরিশের দশকের তথাকথিত জনবিচ্ছিন্ন, রবীন্দ্র বলয় ছিন্নকারী ও উত্তরকালের কবিদের উপর সর্বাপেক্ষা প্রভাববিস্তারকারী কবি জীবনানন্দ দাশগুপ্ত। তাঁর রচনায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে। আধুনিক নাগরিক জীবনের হতাশা, নিঃসঙ্গতা, বিষাদ ও সংশয়ের চিত্র তাঁর কবিতায় দীপ্যমান। সাধু ও চলিত ভাষার মিশেল হলো তাঁর কাব্য ভাষার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। বিশ শতকের ষাটের দশকের বাঙালির জাতিসত্ত্বা আন্দোলনে ও ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নিসর্গবিষয়ক কবিতা এদেশের সংগ্রামী জনতাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

  • জীবনানন্দ দাশ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ সালে বরিশালের এক ব্রাহ্ম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। (আদি নিবাস: গাঁওপাড়া গ্রাম, বিক্রমপুর)। ডাকনাম- মিলু।
  • তাঁর মা কুসুমকুমারী দাশ (একজন মহিলা কবি)।
  • ১৯১৯ সালে ব্রাহ্মবাদী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষা আবাহন' প্রকাশিত হয়।
  • তিনি ১৯৪৭ সালে 'দৈনিক স্বরাজ' পত্রিকার সাহিত বিভাগের সম্পাদক ছিলেন।
  • তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি লাভ করেন।
  • ১৯২৫ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে তিনি 'দেশবন্ধুর প্রয়াণে' নামে একটি কবিতা লেখেন। এটি 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
  • তিনি ১৪ অক্টোবর, ১৯৫৪ সালে বালিগঞ্জে ট্রামের দিতে পড়ে আহত হন, পরে ২২ অক্টোবর শম্ভুগঞ্জ পৃষ্ঠা হাসপাতালে মারা যান।

জীবনানন্দ দাশকে রূপসী বাংলার কবি, ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, চিত্ররূপময় কবি। রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি'র কবিতা পাঠ করে বলেছেন 'চিত্ররূপময় কবিতা'; বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দকে দাশকে 'নির্জনতম কবি' এবং অন্নদাশঙ্কর রায় 'শুদ্ধতম কবি' বলে আখ্যায়িত করেন।

জীবনানন্দ দাশের ওপর গবেষণা করেন ক্লিনটন বি. সিলি।

জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থগুলো:

'ঝরাপালক' (১৯২৭; বাংলা: ১৩৩৪): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্য। এ কাব্য রচনায় তিনি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে অনুকরণ করেছেন। এ কাব্যের মাধ্যমে নামের শেষে 'দাশগুপ্ত' এর পরিবর্তে 'দাশ' ব্যবহার করেন। এ কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত আছে।

'ধূসর পাণ্ডুলিপি' (১৯৩৬): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'মৃত্যুর আগে'। এটি বুদ্ধদেব বসুর 'কবিতা' সাহিত্য পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় ছাপা হয়। এ কবিতাটি পাঠ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বুদ্ধদেব বসুকে লেখা এক চিঠিতে 'চিত্ররূপময়' বলে মন্তব্য করেন। কবিতাটির সাথে W. B Yeats এর The Falling of the Leaves's কবিতার মিল আছে।

'বনলতা সেন' (১৯৪২): ৩০টি কবিতার সমন্বয়ে রচিত এ কাব্য। ভারতীয় পুরাণের অন্তর্ভুক্ত বিষয় যেমন বিদিশা, শ্রাবস্তী উঠে এসেছে, তেমনি বেতের ফলের মতো বা পাখির নীড়ের মতো চোখ ইত্যাদি উপমাগুলোর সার্থক প্রয়োগ ঘটিয়েছেন এ কাব্যে। প্রেম ও প্রকৃতি, খণ্ড জীবন ও হতাশা, ক্লান্তি ও অবসাদ, ইতিহাসের বিশাল অনুভূতি ও বর্তমানের ছিন্নভিন্ন অস্তিত্ব, সব কিছুর সমাহার ঘটিয়েছেন তিনি এ কাব্যে। এ কাব্যের 'বনলতা সেন' কবিতাটি তিনি এডগার এলেন পোর 'টু হেলেন' কবিতার অনুকরণে রচনা করেন। এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা: আমি যদি হতাম, হায় চিল, শঙ্খমালা, শিকার, সুদর্শনা, সুরঞ্জনা, সুচেতনা প্রভৃতি।

'রূপসী বাংলা' (১৯৫৭): কবির মৃত্যুর পর এ কাব্যের পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হয়। তিনি এ গ্রন্থটির প্রচ্ছদে নাম রেখেছিলেন 'বাংলার ত্রস্ত নীলিমা'। কিন্তু ১৯৫৭ সালে প্রকাশের সময় এর নামকরণ করা হয় 'রূপসী বাংলা'। কবির ছোটবোন সুচরিতা দাশের সহায়তায় লেখার খাতা থেকে প্রেসকপি তৈরি করেছিলেন কবি ভূমেন্দ্র গুহ। ৬২টি কবিতা সম্বলিত এ কাব্যের বিষয় বাংলার গ্রাম, প্রকৃতি, নদী-নালা, পশু-পাখি, উৎসব ও অনুষ্ঠান। কবিতাগুলো সনেট আকারে লিখিত হলেও কবি তাঁর প্রিয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। এটি তাঁর স্বদেশপ্রীতি ও নিসর্গময়তার পরিচায়ক কাব্য। এ কাব্যের অন্যতম কবিতা 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে'। এ কাব্যের অন্তর্গত 'আবার আসিব ফিরে' কবিতা ।

'মহাপৃথিবী' (১৯৪৪), 'সাতটি তারার তিমির' (১৯৪৮), 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১)।

জীবনানন্দ দাশের উপন্যাসসমূহঃ

'মাল্যবান' (১৯৭৩): উপন্যাসটি কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। দাম্পত্য জীবনের নিষ্ঠুর কাহিনি, সম্পর্কের জটিলতা, পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতাবোধের এক নিষ্ঠুর উপাখ্যানকে ঘিরে এ উপন্যাস রচিত।

'সুতীর্থ' (১৯৭৪), 'কল্যাণী' (১৯৯৯)। [সবকটি উপন্যাস কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত]

জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধঃ

'কবিতার কথা' (১৯৫৫): এ প্রবন্ধের বিখ্যাত উক্তি, 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।'

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অর্কেস্ট্রা
প্রথম পার্থ
উর্বশী ও আর্টেমিস
মহাপৃথিবী
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
স্বদেশপ্রেম
প্রকৃতিপ্রীতি
প্রকৃতির রহস্যময় সৌন্দর্য
ঝরা পালক
মহাপৃথিবী
সাতটি তারার তিমির
নিজ বাসভূমে

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

673

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩)

প্রখ্যাত কবি, গীতিকার ও সুরকার এবং বিশেষভাবে নাট্যকার হিসেবে স্বকীয়তার পরিচয় দিয়েছেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। রবীন্দ্র যুগের হয়েও তিনি তাঁর কবিতায় নতুন আঙ্গিক ও ছন্দে এবং ব্যঙ্গ ও হাস্যরসাত্মকভাবে মৌলিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

  • দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (ডি.এল রায়) নদীয়ার কৃষ্ণনগরে ১৯ জুলাই, ১৮৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি বিখ্যাত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান 'পূর্ণিমা সম্মিলন' (১৯০৫) এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং 'ইভনিং ক্লাব' নামে অপর একটি সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।
  • বাংলা সাহিত্যে প্যারোডি রচনার পথিকৃৎ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
  • তিনি বাংলা সমবেত কণ্ঠসংগীতের প্রবর্তক।
  • তিনি বাংলা নাটকে সার্থক দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টির প্রথম পুরোধা ব্যক্তিত্ব।
  • তিনি ১৭ মে, ১৯১৩ সালে মারা যান।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের প্রথম প্রকাশিত কাব্যের নাম 'আর্যগাথা' (১৮৮২): এটি তাঁর ছাত্রাবস্থায় প্রকাশিত হয়।

মেবার পতন (নাটক)দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
মেবার রাজ (উপন্যাস)স্বর্ণকুমারী দেবী

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কাব্যগ্রন্থগুলো:

'আর্যগাথা' (১ম ভাগ- ১৮৮২, ২য় ভাগ- ১৮৯৩)।

Lyrics of Ind (১৮৮৬): এটি ইংরেজিতে রচিত। 'মন্দ্র' (১৯০২), 'আলেখ্য' (১৯০৭), 'ত্রিবেণী' (১৯১২)।

ব্যঙ্গকবিতা: 'আষাঢ়ে' (১৮৯৯), 'হাসির গান' (১৯০০)।

ডি এল রায়ের নাটকগুলো:

ঐতিহাসিক নাটক:

'সাজাহান' (১৯০৯): সম্রাট শাজাহানের ওপর রচিত প্রথম নাটক। তিনিই প্রথম শাহজাহানকে নিয়ে নাটক লেখেন। 'ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা / তাহার মাঝে আছে দেশ এক- সকল দেশের সেরা; ও সে, স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে-দেশ, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা; / এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি / সকল দেশের রাণী সে যে-আমার জন্মভূমি।'- গানটি এ নাটকের। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক।/১৩তম বিসিএস লিখিত।

'চন্দ্রগুপ্ত' (১৯১১): গ্রিক ও ভারতীয় সম্পর্কের একটি বিশেষ মুহূর্তই এ নাটকের পটভূমি।

'প্রতাপসিংহ' (১৯০৫), 'দুর্গাদাস' (১৯০৬), 'নূরজাহান' (১৯০৮), 'মেবারপতন' (১৯০৮), 'তারাবাঈ' (১৯০৩), 'সিংহল বিজয়' (১৯১৬), 'তাপসী'।

রোমান্টিক ও পৌরাণিক নাটক: 'সীতা' (১৯০২), 'ভীষ্ম' (১৯১৪), 'সোহরাব-রুস্তম' (১৯০৮)।

কাব্যনাট্য: 'পাষাণী' (১৯০০)।

সামাজিক নাটক: 'পরপারে' (১৯১২), 'বঙ্গনারী' (১৯১৬)।

নকশা ও প্রহসন: 'কল্কি অবতার' (১৮৯৫), 'বিরহ' (১৮৯৭), 'একঘরে' (১৮৯৯), 'এ্যহস্পর্শ' (১৯০০), 'প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০২), 'পূনর্জন্ম' (১৯১১), 'আনন্দ বিদায়' (১৯১২)।

Content added By

ধীরেন্দ্রলাল ধর

646
Content added By

সুকুমার রায়

597
সুকুমার রায়

সুকুমার রায় (৩০ অক্টোবর ১৮৮৭ – ১০ সেপ্টেম্বর ১৯২৩)
সুকুমার রায় ছিলেন বাঙালি শিশুসাহিত্যিক, ননসেন্স ছড়ার প্রবর্তক, লেখক, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার এবং সম্পাদক। তিনি জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পুত্র এবং খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের পিতা।

জন্ম ও পরিবার:
কলকাতার দক্ষিণ রাঢ়ী কায়স্থ বংশীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা: উপেন্দ্রকিশোর রায়, মাতা: বিধুমুখী দেবী। দুই ভাই: সুবিনয় রায় ও সুবিমল রায়; তিন বোন: সুখলতা, পুণ্যলতা ও শান্তিলতা।

শিক্ষাজীবন:
প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামে, পরে কলকাতার সিটি স্কুল থেকে এন্ট্রাস পাশ করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯০৬ সালে রসায়ন ও পদার্থবিদ্যায় B.Sc (অনার্স) লাভ করেন। ১৯১১ সালে ইংল্যান্ডে মুদ্রণ ও আলোকচিত্রের উপর উচ্চতর শিক্ষার জন্য যান।

কর্মজীবন:

  • উপেন্দ্রকিশোরের মৃত্যুর পর সন্দেশ পত্রিকার সম্পাদনা ও পারিবারিক ছাপাখানা পরিচালনা করেন।

  • শিশুদের জন্য ননসেন্স ছড়া, গল্প ও প্রবন্ধের মাধ্যমে বাংলা শিশুসাহিত্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন।

  • ‘ননসেন্স ক্লাব’ ও ‘Monday Club’-এর মাধ্যমে সাহিত্যকর্মের সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি করেন।

  • ব্রাহ্মসমাজের সংস্কারপন্থী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

সাহিত্যকর্ম:

  • ননসেন্স ছড়া ও কবিতা:

    • আবোল তাবোল

    • পাগলা দাশু

    • খাই-খাই

    • অবাক জলপান

    • লক্ষ্মণের শক্তিশেল

    • ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক

    • হ য ব র ল

    • শব্দ কল্প দ্রুম

    • বহুরুপী

  • প্রবন্ধ ও অন্যান্য:

    • ভাষার অত্যাচার (১৯১৫)

    • বর্ণমালাতত্ত্ব

    • দেশের-বিদেশের গল্প

    • জীবনের হিসাব (বিদ্যে বোঝাই বাবুমশাই)

    • চলচ্চিত্তচঞ্চরী

মৃত্যু:
১৯২৩ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে কালাজ্বরে (লেইশ্মানিয়াসিস) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন।

Content added By

নির্মলেন্দু গুণ

625

নির্মলেন্দু গুণ (১৯৪৫ - )

বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণ। নারীপ্রেম, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, শ্রেণি-সংগ্রাম, স্বৈরাচার বিরোধিতা ইত্যাদি বিষয় তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু। সমাজকে তিনি তুলে এনেছেন সাহিত্যের আয়নায়।

  • নির্মলেন্দু গুণ ২১ জুন, ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম-রতন / রত্ন/রতু।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮২), একুশে পদক (২০০১) পান।
  • নিজ গ্রাম কাশবনে 'বিদ্যানিকেতন' নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
  • মেট্রিক পাশের আগেই তার প্রথম কবিতা 'নতুন কাণ্ডারী' নেত্রকোনার 'উত্তর আকাশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

নির্মলেন্দু গুণকে কবিদের কবি নামে ডাকা হয় । নির্মলেন্দু গুণ গত শতাব্দীর ষাটের দশকে কবিতা রচনা শুরু করেন। পরের দশকেই তাঁর কবিতা এতটাই প্রভাববিস্তারী হয়ে ওঠে যে, তরুণরা তাঁর কবিতা পড়েই কবি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বোধ করেন। বাংলাদেশে আর কোনো কবি অনুজ কবিদের ওপর এতোটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। সত্তর দশকের অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি নির্মলেন্দু গুণ এর প্রভাবেই কবি হয়েছেন। তাই তাঁকে কবিদের কবি বলা হয়।

তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহঃ

'প্রেমাংশুর রক্ত চাই' (১৯৭০): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।

'ইসক্রা' (১৯৮৪): এ কাব্যে তাঁর রাজনৈতিক কবিতাগুলো স্থান পেয়েছে।

'না প্রেমিক না বিপ্লবী' (১৯৭২), 'কবিতা অমীমাংসিত রমণী' (১৯৭৩), 'দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী' (১৯৭৪), 'চৈত্রের ভালবাসা' (১৯৭৫), 'ও বন্ধু আমার' (১৯৭৫), 'আনন্দ কুসুম' (১৯৭৬), 'বাংলার মাটি বাংলার জল' (১৯৭৮), 'তাঁর আগে চাই সমাজতন্ত্র' (১৯৭৯), 'চাষাভূষার কাব্য' (১৯৮১), 'পৃথিবীজোড়া গান' (১৯৮২), 'অচল পদাবলী' (১৯৮২), 'দূর হ দুঃশাসন' (১৯৮৩), 'মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা' (১৯৮৪), 'শান্তির ডিক্রি' (১৯৮৪), 'প্রথম দিনের সূর্য' (১৯৮৪), 'নেই কেন সেই পাখি' (১৯৮৫), 'নিরঞ্জনের পৃথিবী' (১৯৮৬), 'চিরকালের বাঁশী' (১৯৮৬), 'দুঃখ কোরো না, বাঁচো' (১৯৮৭), 'ধাবমান হরিণের দ্যুতি (১৯৯২), 'অনন্ত বরফবীথি' (১৯৯৩), 'আনন্দ উদ্যান' (১৯৯৫), 'শিয়রে বাংলাদেশ' (১৯৯৮), 'ইয়াহিয়াকাল' (১৯৯৮), 'মুঠোফোনের কাব্য' (২০০৩), 'চির অনাবৃতা হে নগ্নতমা' (২০০৫), 'নিশিকাব্য' (২০০৬), 'কামকানন' (২০০৭)।

তাঁর অন্যান্য রচনাবলিঃ

ছোটগল্প: 'আপনদলের মানুষ' (১৯৭৬), 'অন্তর্জাল' (২০০৫)।

কিশোর উপন্যাস: 'কালো মেঘ' (১৯৮২), 'বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন' (১৯৯৭)।

আত্মজীবনীঃ

'আমার ছেলেবেলা' (১৯৮৮), 'আত্মকথা ১৯৭১ (২০০৮), 'রক্তঝরা নভেম্বর' (১৯৭৫), ‘আমার কন্ঠস্বর’ ।

ভ্রমণকাহিনি: 'ভলগার তীরে' (১৯৮৫), 'গীনসবার্গের সঙ্গে (১৯৯৪), 'আমেরিকায় জুয়াখেলার স্মৃতি' (১৯৯৬), 'শ্রমি দেশে দেশে' (২০০৪)।

কবিতা: 'হুলিয়া', 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো', 'আমাকে কী মাল্য দেবে দাও'।

অনুবাদ কবিতা: 'রক্ত আর ফুলগুলি' (১৯৮৩), 'রাজনৈতিক কবিতা' (১৯৮৬)।

Content added By

ফকির গরীবুল্লাহ

616
শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ (১৬৭০-১৭৭০)

অষ্টাদশ শতাব্দীর পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক ফকির গরীবুল্লাহ (শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ)।

  • ফকির গরীবুল্লাহ আনুমানিক ১৬৭০ সালে হুগলীর বালিয়া পরগনার হাফিজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি দোভাষী পুঁথি সাহিত্যের আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি। [উল্লেখ্য, পুঁথি সাহিত্যের আদি কবি ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা]
  • মর্সিয়া সাহিত্য ধারার প্রধান কবি।
  • তিনি আনুমানিক ১৭৭০ সালে মারা যান।

ফকির গরীবুল্লাহর সাহিত্যকর্মসমূহঃ

'জঙ্গনামা', 'সোনাভান', 'সত্যপীরের পুঁথি', 'ইউসুফ জোলেখা', 'আমীর হামজা' (তিনি এ কাব্যটি জীবদ্দশায় শেষ করে যেতে পারেননি। এটি শেষ করেন সৈয়দ হামজা)।

Content added By

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

749

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪)

বাঙালি নবজাগরণের অগ্রদূত, বাংলা সাহিত্যের সার্থক ঔপন্যাসিক, বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষদের মধ্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অগ্রজ। তিনি ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, ভাষা, সমাজ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে উৎকৃষ্ট প্রবন্ধ রচনা করে বাঙালি জাতিকে চিন্তা-চেতনায় ও মননশীলতায় দীক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। তিনি বাংলা ভাষার তুলনামূলক সমালোচনা ধারার পথ প্রদর্শক এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভাবাদর্শের সমন্বয় সাধনকারী হিসেবে খ্যাত।

  • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ২৬ জুন, ১৮৩৮ সালে (১৩ আষাঢ়, ১২৪৫ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আদিনিবাস: হুগলী জেলার দেশমুখো
    গ্রাম। বঙ্কিমচন্দ্রের পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও মাতা দুর্গাসুন্দরী।
  • 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনির লেখক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় তাঁর ভাই।
  • তিনি ১৮৪৯ সালে মাত্র এগারো বছর বয়সে পাঁচ বছর বয়সী মোহিনীদেবীকে বিয়ে করেন।
  • ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রথম স্নাতকদের মধ্যে তিনি একজন।
  • তিনি ১৮৫৮ সালে যশোরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং পরে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ৩৩ বছর চাকরি করে ১৮৯১ সালে অবসরগ্রহণ করেন। চাকরিসূত্রে খুলনায় ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করে নীলকরদের অত্যাচার দমন করেছিলেন।
  • তিনি ১৮৫২ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
  • বঙ্কিমচন্দ্রের মোট গ্রন্থের সংখ্যা ৩৪টি। তাঁর সাহিত্যিক জীবন মাত্র ২২ বছর।
  • তিনি 'বঙ্গদর্শন' (১৮৭২) পত্রিকা সম্পাদনা (১৮৭২-১৮৭৬) করেন। 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার অন্যতম লেখক ছিলেন- রামকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, অক্ষয়চন্দ্র সরকার এবং হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
  • তিনি বহুমূত্র রোগে আক্রান্ত হয়ে ৮ এপ্রিল, ১৮৯৪ সালে (২৬ চৈত্র, ১৩০০ বঙ্গাব্দ) কলকাতায় মারা যান।

বঙ্কিমচন্দ্রকে যে সকল উপাধি দেয়া হয়:

তিনি সাহিত্য রসবোদ্ধাদের কাছ থেকে সাহিত্যসম্রাট, হিন্দু ধর্মানুরাগীদের কাছ থেকে ঋষি আখ্যা লাভ করেন। তিনি বাংলার স্কট এবং বাংলা উপন্যাসের জনক। ছদ্মনাম-কমলাকান্ত। নিষ্ঠার সাথে ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি স্বরূপ ব্রিটিশ সরকার 'রায়বাহাদুর' (১৮৯১) এবং ১৮৯৪ সালে সি.আই.ই উপাধি প্রদান করে।

বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম 'ললিতা। পুরাকালিক গল্প। তথা মানস' (১৮৫৬)।

বঙ্কিমচন্দ্র রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসের:

'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫): এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৬২ সালে উপন্যাসটি রচনা শুরু করেন এবং ১৮৬৩ সালে খুলনার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনকালে রচনা শেষ করেন। উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালে। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ পর্যায়ে উড়িষ্যার অধিকার নিয়ে মোঘল ও পাঠানদের মধ্যে যে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, তারই পটভূমিকা এ উপন্যাসের উপজীব্য। দিল্লীশ্বরের সেনাপতি মানসিংহের পুত্র কুমার জগৎসিংহ বিষ্ণুপুর থেকে মান্দারণ যাত্রাকালে ঝড়ের কবলে পড়ে শৈলেশ্বর মহাদেবের মন্দিরে আশ্রয় নেন। সেখানে ঘটনাচক্রে মান্দারণ দুর্গাধিপতি মহারাজ বীরেন্দ্র সিংহের কন্যা তিলোত্তমার সাথে সাক্ষাৎ হয়। জগৎসিংহ ও তিলোত্তমা নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখলেও দুজন দুজনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। পরে পাঠান সেনাপতি ওসমান খাঁ সুকৌশলে মান্দারণ দূর্গ দখল করে বীরেন্দ্র সিংহ, স্ত্রী বিমলা ও কন্যা তিলোত্তমাকে বন্দী করে। পাঠান নবাব প্রহসনের বিচারের নামে কতলু খাঁর মাধ্যমে বীরেন্দ্র সিংহকে হত্যা করে। অপরদিকে বিমলা কতলু খাঁকে হত্যা করে স্বামী হত্যার প্রতিশোধ নেয়। পাঠানেরা কুমার জগৎসিংহের মাধ্যমে অম্বররাজ মানসিংহ তথা দিল্লীশ্বরের সাথে সদ্ধি করে। পরিশেষে মান্দারণ পুনরায় স্বাধীন হয় ও দিল্লীশ্বরের প্রধান সেনাপতি অম্বররাজ মানসিংহের মাধ্যমে মহারানি বিমলার হস্তে রাজ্যপাঠ হস্তান্তর করে এবং মহাধুমধামের সাথে কুমারজগৎ সিংহ এবং দুর্গেশনন্দিনীর তিলোত্তমার মিলন ঘটে। দুর্গেশনন্দিনী অর্থ দুর্গ প্রধানের কন্যা। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুমার জগৎসিংহ, ওসমান, আয়েশা, তিলোত্তমা। এ উপন্যাসের প্রতিক্রিয়ায় ইসমাইল হোসেন সিরাজী 'রায়নন্দিনী' উপন্যাস লিখেন।

বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসগুলো:

বঙ্কিমচন্দ্রের মোট উপন্যাস ১৫টি।

Rajmohon's Wife (১৮৬৪): এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস যা ইংরেজিতে রচিত। এটি প্রথম Indian Field পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬): বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্সধারী উপন্যাস। 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' এ উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ। চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালির
'মৃণালিনী' (১৮৬৯): ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে তুর্কি আক্রমণ ও মুসলিম বিজয় এ উপন্যাসের মূল সুর। মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু। কেশরের কন্যা এবং পশুপতির স্ত্রী মনোরমা। এ উপন্যাসে মনোরম চরিত্রের মাধ্যমে বঙ্কিমচন্দ্র ভারতীয় নারীর সনাতনী নীতি। আদর্শ প্রচার করেছেন এবং সমকালীন সতীদাহ প্রথারে নিষিদ্ধ করার আইনকে ব্যঙ্গ করেছেন। তিনি উপন্যাসটি দীনবন্ধু মিত্রকে উৎসর্গ করেন।

'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮): এটি সামাজিক উপন্যাস রোহিণী, ভ্রমর ও গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র বর্ণিত হয়েছে এ উপন্যাসে। গোবিন্দলাল তার স্ত্রী কৃষ্ণকায় ভ্রমরে প্রেমকে উপেক্ষা করে লাস্যময়ী বিধবা রোহিণীর প্রেমে মর হয়। কিছুকাল পরে মোহ কেটে গেলে গোবিন্দলাল অনুভব করে ভ্রমরের ভালোবাসার আকর্ষণ। ফলে, রোহিণী স্বীয় ব্যর্থ জীবনের হাহাকারের জন্য আত্মহত্যা করতে চায় রোহিণীকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সমস্যার রূপায়ণ এ উপন্যাসের মূল সুর। 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩): সামাজিক উপন্যাস। চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।

' ইন্দিরা' (১৮৭৩): এটি ১৮৭২ সালে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ১৮৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। আকারে ছোট হওয়ার কারণে এটি ছোটগল্পের মর্যাদা পেয়েছিল এবং উপন্যাসটিকে আধুনিক ছোটগল্প রচনার প্রথম পরীক্ষা বলা হয়। ইন্দিরা ও তার স্বামী উপেন্দ্র চরিত্রের মাধ্যমে ঔপন্যাসিক মহেশপুর ও মনোহরপুর গ্রামে প্রচলিত বাল্যবিবাহ অর্থাৎ তৎকালীন সমাজচিত্র ও সামাজিক বাস্তবতা উপস্থাপন করার প্রয়াস পেয়েছেন।

'যুগলাঙ্গুরীয়' (১৮৭৪): এটি ঐতিহাসিক অনু-উপন্যাস। এটি প্রথমে ১৮৭৩ সালে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটিকে কেউ বলেন নভেলা, কেউ বলেন বড় গল্প। তবে বঙ্কিম এটিকে বলেছেন উপকথা। 'ইন্দিরা'র পর এ আখ্যানে বঙ্কিমচন্দ্র আবার একই ফর্মচর্চা করেন। বাল্যপ্রেম, বিচ্ছেদ, বিয়ে, বিরহ, মিলন সবমিলিয়ে দুটি মানবচরিত্রকে মিলয়ে দেয় দুটি অঙ্গুরীয় বা আংটি। চরিত্র: হিরন্ময়ী, পুরন্দর।

'চন্দ্রশেখর' (১৮৭৫): উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। প্রতাপ ও শৈবালিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এ উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। চন্দ্রশেখর চরিত্রটিও উপন্যাসের ট্রাজেডি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

'রজনী' (১৮৭৭): এটি ১৮৭৫ সালে প্রথম ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ১৮৭৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ইংরেজ ঔপন্যাসিক লিটন রচিত The Last Days of Pompeii এর 'নিদিয়া' নামক 'কানাফুলওয়ালী' চরিত্র অবলম্বনে এটি রচিত। ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সজনীকান্ত দাসের মতে, 'রজনী বাংলা ভাষায় প্রথম মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণমূলক সামাজিক উপন্যাস।' চরিত্র: রজনী (জন্মান্ধ), লবঙ্গলতা, অমরনাথ ও শচীন্দ্রনাথ।

'আনন্দমঠ' (১৮৮২): এটি ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে রচিত। এ উপন্যাসে মুসলমান সম্পর্কে বক্রোক্তির জবাবে শেখ মুহম্মদ ইদ্রিস আলী 'বঙ্কিম দুহিতা' উপন্যাস রচনা করেন।

'রাজসিংহ' (১৮৮২): এটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। এ উপন্যাসের মূল বিষয় হিন্দুর বাহুবল ও বীরত্ব রূপায়িত করা। রাজস্থানের চঞ্চল কুমারীকে মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের বিবাহ ইচ্ছার ফলে রাজা রাজসিংহের সাথে বিরোধ বাঁধে এবং রাজসিংহের জয় হয়। ফলশ্রুতিতে রাজসিংহ চঞ্চল কুমারীকে লাভ করেন। এটিই এ উপন্যাসের উপজীব্য।

'দেবী চৌধুরাণী' (১৮৮৪): রংপুর অঞ্চলের কৃষক বিদ্রোহ, ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলনের নেত্রী দেবী চৌধুরাণী ছিলেন রংপুরের পীরগাছার জমিদার। ইংরেজ বিরোধী অনেকগুলো সফল অভিযানের পর ১৭৮৩ সালে স্বয়ং ওয়ারেন হেস্টিংসের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি নিহত হন। পরবর্তীতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রংপুর জেলার ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনকালে এ ঘটনা জানতে পারেন এবং রচনা করেন 'দেবী চৌধুরাণী'।

'রাধারাণী' (১৮৮৬): এটি ১৮৭৫ সালে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং ১৮৮৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। রাধারাণী নামক একটি বালিকার বাল্যপ্রেমই এ উপন্যাসের মূল সুর। এটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস নয়, উপন্যাসিকা হিসেবেই পরিচিত।

'সীতারাম' (১৮৮৭): সীতারাম চরিত্রটি ঐতিহাসিক হলেও এতে ঐতিহাসিকতা রক্ষা হয়নি। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর ধর্মতত্ত্বের আলোকে এক হিন্দু ভূ-স্বামীর অধঃপতন বর্ণনা করেছেন।

বঙ্কিমচন্দ্রের ত্রয়ী উপন্যাসগুলো

'আনন্দমঠ' (১৮৮২), 'দেবী চৌধুরানী' (১৮৮৪), 'সীতারাম' (১৮৮৭)।

বঙ্কিমচন্দ্রের প্রবন্ধগুলো

'কমলাকান্তের দপ্তর' (১৮৭৫): এটি ব্যাঙ্গাত্মক রম্য (লঘু রচনা, যা ডিকুইনসির Confession of an English Opium Eater অবলম্বনে রচিত। এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত প্রদ 'বিড়াল' এবং নবম সংখ্যক প্রবন্ধ 'ফুলের বিবাহ'।

'সাম্য' (১৮৭৯): এ গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে ইউরোপে সাম্যচিন্তার ধারার ইতিহাস, সমাজ ও অর্থনৈতিক প্রগতিশীর চিন্তা, সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা কামনা এবং কৃষকদের দুঃখের কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক শোষণকে চিহ্নিত করা প্রভৃতি বিষয় অন্তর্ভুক্ত। এটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

'বিবিধ প্রবন্ধ': এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত সাধু রীতিতে রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধ 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন'

'লোকরহস্য' (১৮৭৪), 'বিজ্ঞানরহস্য' (১৮৭৫), 'বিবিধ সমালোচনা' (১৮৭৬), 'কৃষ্ণচরিত্র' (১৮৮৬), 'ধর্মতন্ন অনুশীলন' (১৮৮৮), 'শ্রীমদ্ভগবদগীতা' (১৯০২), 'মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত' (ব্যঙ্গ)।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
আবুল ফজল
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কাজী নজরুল ইসলাম

বন্দে আলী মিয়া

755

বন্দে আলী মিয়া (১৯০৬-১৯৭৯)

বন্দে আলী মিয়া ছিলেন প্রখ্যাত কবি, ঔপন্যাসিক, শিশু সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিত্রকর। তিনি তাঁর কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপূণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।

  • বন্দে আলী মিয়া ১৫ ডিসেম্বর, ১৯০৬ সালে পাবনার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হল: 'কিশোর পরাগ', 'শিশু বার্ষিকী', 'জ্ঞানের আলো'। তিনি 'ইসলাম দর্শন' (১৯২৫) পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২), একুশে পদক লাভ করেন।
  • তিনি ১৭ জুন, ১৯৭৯ সালে রাজশাহীতে মারা যান ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলোঃ

'ময়নামতির চর' (১৯৩২): ২৬ জুলাই, ১৯৩২ সালে এ কাব্যের ভূমিকা লেখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

'অনুরাগ' (১৯৩২), 'পদ্মা নদীর চর' (১৯৫৩), 'মধুমতীর চর' (১৯৫৩), 'ধরিত্রী' (১৯৭৫)।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোঃ

'চোর জামাই' (১৯২৭), 'মেঘকুমারী' (১৯৩২), 'মৃগপরী' (১৯৩৭), 'বোকা জামাই' (১৯৩৭), 'কামাল আতাতুর্ক' (১৯৪০), 'ডাইনী বউ' (১৯৫৯), 'রূপকথা' (১৯৬০), 'কুঁচবরণ কন্যা' (১৯৬০), 'ছোটদের নজরুল' (১৯৬০), 'শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা' (১৯৬৩)।

তাঁর রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মসমূহঃ

উপন্যাস: 'বসন্ত জাগ্রত দ্বারে' (১৯৩১), 'শেষ লগ্ন' (১৯৪১), 'অরণ্য গোধূলি' (১৯৪৯), 'নীড়ভ্রষ্ট' (১৯৫৮)।

নাটক: 'মসনদ' (১৯৩১)।

গল্পগ্রন্থ: 'তাসের ঘর' (১৯৫৪)।

বিখ্যাত পঙ্ক্তিঃ

  • 'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
    আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইয়াছে প্রাণ।' (আমাদের গ্রাম)
Content added By

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়

597

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল) (১৯ জুলাই ১৮৯৯ – ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯)

পরিচিতি:
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়, সাহিত্যিক ছদ্মনাম বনফুল, ছিলেন বাঙালি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও কবি। তিনি মূলত চিকিৎসক ছিলেন।

জন্ম ও পরিবার:

  • জন্ম: ১৯ জুলাই ১৮৯৯, মণিহারী, বিহার রাজ্য (অবিভক্ত ভারত)

  • আদি নিবাস: শিয়াখালা, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ

  • পিতা: সত্যচরণ মুখোপাধ্যায় (চিকিৎসক), মাতা: মৃণালিনী দেবী

  • অনুজ: অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় (চিত্রপরিচালক)

শিক্ষা ও কর্মজীবন:

  • প্রাথমিক শিক্ষা: মণিহারী স্কুল

  • উচ্চ শিক্ষা: সাহেবগঞ্জ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়, হাজারীবাগ সেন্ট কলম্বাস কলেজ (আই.এস.সি)

  • চিকিৎসা শিক্ষা: কলকাতা মেডিকেল কলেজ, পাটনা মেডিক্যাল কলেজ (এম.বি. ডিগ্রি)

  • পেশা: প্যাথলজিস্ট, ৪০ বছর কর্মজীবন

  • স্থায়ীভাবে কলকাতায় বসবাস: ১৯৬৮

  • মৃত্যু: ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯, কলকাতা

সাহিত্যকর্ম:

  • সাহিত্যিক জীবন: কৈশোর থেকেই লেখা শুরু, ছদ্মনাম বনফুল

  • প্রথম প্রকাশিত কাজ: ১৯১৫, মালঞ্চ পত্রিকায় কবিতা

  • প্রকাশিত রচনা: ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, ১,০০০+ কবিতা, জীবনী ও প্রবন্ধ

  • বিখ্যাত নাটক: শ্রীমধুসূদন

  • রচনাবলী প্রকাশিত: ২২ খণ্ডে

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
বনফুলের কবিতা, ব্যঙ্গ কবিতা, অঙ্গারপণী, চতুর্দশী, করকমলেষু

উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
তৃণখণ্ড, বৈতরণীর তীরে, নিরঞ্জনা, ভুবন সোম, মহারাণী, অগ্নীশ্বর, মানসপুর, এরাও আছে, নবীন দত্ত, হরিশ্চন্দ্র, কিছুক্ষণ, সে ও আমি, সপ্তর্ষি, উদয় অস্ত, পীতাম্বরের পুনর্জন্ম, কৃষ্ণপক্ষ, সন্ধিপূজা, হাটেবাজারে, কন্যাসু, অধিকলাল, গোপালদেবের স্বপ্ন, স্বপ্নসম্ভব, কষ্টিপাথর, দুই পথিক, রাত্রি, পিতামহ, পক্ষীমিথুন, তীর্থের কাক, রৌরব, জলতরঙ্গ, রূপকথা এবং তারপর, প্রথম গরল, রঙ্গতুরঙ্গ, আশাবারি, ঌ, সাত সমুদ্র তেরো নদী, আকাশবাসী, তুমি, অসংলগ্ন, সীমারেখা, ত্রিবর্ণ, অলংকারপুরী, জঙ্গম, অগ্নি, দ্বৈরথ, মৃগয়া, নির্মোক, মানদন্ড, নবদিগন্ত, স্থাবর, ভীমপলশ্রী, পঞ্চপর্ব, লক্ষ্মীর আগমন, ডানা, হাটে বাজারে

উল্লেখযোগ্য নাটক:
শ্রীমধুসূদন, বিদ্যাসাগর, উপাধি

পুরস্কার ও সম্মাননা:

  • পদ্মভূষণ (১৯৭৫)

  • শরৎস্মৃতি পুরস্কার (১৯৫১)

  • রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৬২)

  • বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯৬৭)

  • যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট উপাধি (১৯৭৩)

Content added By

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

1.3k
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০)

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় শরৎচন্দ্রের পরবর্তী ঔপন্যাসিকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর রচিত সাহিত্য মধুর ও কাব্যধর্মী ভাষায় অখণ্ড ও অবিচ্ছিন্ন সত্তায় ধারণ করেছে প্রকৃতি ও নিম্নশ্রেণির মানবজীবন। তাঁর ছোটগল্পগুলোর মধ্যে প্রস্ফুটিত হয়েছে গীতিকবির ব্যক্তিত্ব।

  • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১২ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনার মুরারিপুর গ্রামে (মাতুলালয়) জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুর গ্রাম।
  • তিনি 'চিত্রলেখা' (১৯৩০) পত্রিকা এবং হেমন্তকুমার গুপ্তের সাথে 'দীপক' (১৯৩০), পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
  • ১৯২১ সালে প্রবাসী পত্রিকায় 'উপেক্ষিতা' নামক গল্প প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
  • তিনি ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫০ সালে (১৫ কার্তিক, ১৩৫৭) বিহারের ঘাটশীলায় মারা যান।

তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ

'পথের পাঁচালী' (১৯২৯): এটি তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। এটি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত। মূল চরিত্র: অপু, দুর্গা। উপন্যাসটি তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু ও অক্রুর সংবাদ। সত্যজিৎ রায় এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

'অপরাজিত' (১৯৩১): এটিকে 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড বলা হয়। উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক 'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। গ্রন্থাকারে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে (১৩৩৮)। 'আলোেক সারথী' নামে এ উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল।

উপন্যাসের নায়ক অপুর শৈশব ও কৈশোর জীবন, মা সর্বজয়ার মৃত্যু, অপর্ণার সাথে বিবাহ ও শিশুপুত্র কাজলের মাধ্যমে পুনরায় প্রিয় শৈশবের প্রিয় গ্রাম নিশ্চিন্দিপুরের স্মৃতিমন্থন এ উপন্যাসের মূল কাহিনি। অপরাজিত উপন্যাসের একটি অংশ নিয়েই সত্যজিৎ রায় 'অপুর সংসার' সিনেমা তৈরি করেছেন।

'দৃষ্টিপ্রদীপ' (১৯৩৫): অবাস্তব ও অধিবাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি এর কাহিনি।

'আরণ্যক' (১৯৩৮): এ উপন্যাসে প্রাধান্য পেয়েছে অরণ্যাচারী মানুষের জীবন। ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনাঞ্চলের মানুষের জীবনের সাথে প্রকৃতির সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিচিত্র চরিত্র, তাদের সুখ-দুঃখ, আশা-আনন্দ এ উপন্যাসের মূল কাহিনি।

'আদর্শ হিন্দু হোটেল' (১৯৪০): এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হাজারী ঠাকুরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রাতষ্ঠা লাভএবং মানুষের ভালোবাসা অর্জনের কাহিনিই এ উপন্যাসের মূল বিষয়।

'অনুবর্তন' (১৯৪২): বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তি অভিজ্ঞতার রূপায়ণ এ উপন্যাস। গ্রামের মানুষের মধ্যে সামান্য স্বার্থ নিয়ে দলাদলি এবং পরিণামে ট্র্যাজিক পরিণতিই এ উপন্যাসের মূল সুর।

'দেবযান' (১৯৪৪): এটি প্রেমতত্ত্ব ও পরলোকতত্ত্ব ভিত্তিক উপন্যাস। অবাস্তব ও অধিবাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি এর কাহিনি ও চরিত্রবিন্যাসের নিয়ামক।

'ইছামতি' (১৯৪৯): ইছামতি নদীর তীরবর্তী গ্রামে প্রচলিত সংস্কার ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে নারী জাগরণ, ইংরেজ শাসকদের প্রভাবে কৃষিনির্ভর বাঙালির বাণিজ্য চেতনা এবং নীলচাষের প্রতিবাদ, নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবনকথা এ উপন্যাসের আলেখ্য। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এ উপন্যাসের জন্য 'রবীন্দ্র পুরস্কার' (মরণোত্তর) লাভ করেন।

'অশনি সংকেত' (১৯৫৯): এ উপন্যাসটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট পঞ্চাশের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত। এটি ধারাবাহিকভাবে মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। [বাজারে প্রচলিত বইয়ে বলা হয়েছে যে, ঋত্বিক ঘটক এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। প্রকৃতপক্ষে সত্যজিৎ রায় এ উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৭৩ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেনা। এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য বাংলাদেশের চিত্রনায়িকা ববিতাকে চলচ্চিত্রে ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়া হয়।

'বিপিনের সংসার' (১৯৪১), 'দম্পতি' (১৯৫২)।

পথের পাঁচালী (উপন্যাস)বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
পথের দাবী (উপন্যাস)শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যান্য রচনাবলিঃ

ছোটগল্প:

'আহ্বান': গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনাবনি থেকে সংকলিত। এটি উদার মানবিক সম্পর্কের গল্প মানুষের স্নেহ-মমতা-প্রীতির যে বাঁধন তা ধন-সম্পদে না হৃদয়ের নিবিড় আন্তরিকতার স্পর্শেই গড়ে ওঠে- এটিই 'আহ্বান' গল্পের মূল উপজীব্য। চরিত্র: বুড়ি, গোপাল।

'মেঘমল্লার' (১৯৩১), 'মৌরীফুল' (১৯৩২), 'যাত্রাবদল (১৯৩৪), 'কিন্নর দল' (১৯৩৮), পুঁইমাচা', 'পড়ে পারা (কিশোর গল্প)।

আত্মজীবনী: 'তৃণাঙ্কুর' (১৯৪৩)।

ভ্রমণকাহিনি: 'অভিযাত্রিক', 'বনে পাহাড়ে', 'হে অরণা কথা কও'।

Content added By
Content updated By

বুদ্ধদেব বসু

934

বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪)

বুদ্ধদেব বসু ছিলেন একাধারে কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও সম্পাদক। তিনি তাঁর রচনাতে সর্বপ্রথম কাব্যরীতিতে কথ্যরীতির সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন। বুদ্ধদেবের কাব্যে সমাজচেতনা বিশেষভাবে প্রকাশ না পেলেও বাস্তববাদিতা ও নাগরিক চেতনা প্রকাশে সিদ্ধহস্ত ছিলেন বলেই তাঁকে 'নাগরিক কবি' বলে। ১৯৪২ সালে ফ্যাসীবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের আন্দোলনে যোগদান করেন।

  • বুদ্ধদেব বসু ৩০ নভেম্বর, ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- মুন্সীগঞ্জের মালখানগর।
  • ঢাকার পুরানা পল্টন থেকে তাঁর ও অজিত দত্তের যৌথ সম্পাদনায় সচিত্র মাসিক পত্রিকা 'প্রগতি' (১৯২৭-২৯) ও কলকাতা থেকে তাঁর ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের যৌথ সম্পাদনায় ত্রৈমাসিক 'কবিতা' (১৯৩৫) এবং হুমায়ুন কবিরের সাথে ত্রৈমাসিক 'চতুরঙ্গ' (১৯৩৪) পত্রিকা সম্পাদনা করেন। (জগন্নাথ হলের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন)।
  • রবীন্দ্রনাথের পর বুদ্ধদেব বসুকে 'সব্যসাচী' বলা হয়।
  • তিনি 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' কাব্যনাট্যের জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭), 'স্বাগত বিদায়' গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৭৪) পান এবং পদ্মভূষণ (১৯৭০) উপাধি লাভ করেন।
    তিনি ১৮ মার্চ, ১৯৭৪ সালে মারা যান।

বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডবঃ

আধুনিক বাংলা সাহিত্যে ত্রিশের দশকে 'কল্লোল' (১৯২৩) পত্রিকাকে ঘিরে তরুণ লেখকদের সম্মিলনে একট সাহিত্যবলয় সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে অন্যতম পাঁচজন কবিকে একত্রে পঞ্চপাণ্ডব বলা হয়। এরা হলেন: বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ দর পঞ্চপাণ্ডবগণ রবীন্দ্র প্রভাব বলয়ের বাইরে গিয়ে বাংলা ভাষায় আধুনিক কবিতা সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁরা বাংলা সাহিত্যে প্রথম আধুনিক নবজাগরণের সূচনা করেন। এরা সবাই ছিলেন পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত এবং ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র। অপরদিকে, আধুনিকতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা ও অশ্লীলতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে- এই অভিযোগে 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকাকে কেন্দ্র করে কল্লেখ বিরোধী আরেকটি সাহিত্য বলয় সৃষ্টি হয়। এদের নেতৃত্বে ছিলেন- মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, নীরদ চৌধুরী প্রমুখ।

বুদ্ধদেব বসুর কাব্যগ্রন্থসমূহঃ

'কঙ্কাবতী' (১৯৩৭): এ কাব্যের কবিতাগুলির প্রধান বিষয় প্রেম। 'মর্মবাণী' (১৯২৫), 'বন্দীর বন্দনা' (১৯৩০), 'দময়ন্তী' (১৯৪৩), 'মরচেপড়া পেরেকের গান' (১৯৬৬), 'একদিন: চিরদিন' (১৯৭১), 'স্বাগত বিদায়' (১৯৭১)।

তাঁর উপন্যাসঃ

'একদা তুমি প্রিয়ে' (১৯৩৩): পলাশ ও রেবার প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে জটিল সমস্যার সৃষ্টি বিষয়ক কাহিনি এ উপন্যাসের মূল বিষয়। রেবা নতুনভাবে প্রেমের অভিষেক করতে চায় কিন্তু পলাশ বুঝতে পারে তা সম্ভবপর নয়, এরকম কাহিনি নিয়ে এগিয়ে যায় উপন্যাসের গতি।

তিথিডোর' (১৯৪৯): বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর-নারীর জীবনযাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি, প্রেম ও যৌবনের বন্দনা এ উপন্যাসের মূল সুর। চরিত্র: স্বাতী, সত্যেন।

'সাড়া' (১৯৩০), 'সানন্দা' (১৯৩৩), 'লালমেঘ' (১৯৩৪), 'পরিক্রমা' (১৯৩৮), 'কালো হাওয়া' (১৯৪২), 'নির্জন স্বাক্ষর' (১৯৫১), 'মৌলিনাথ' (১৯৫২), 'নীলাঞ্জনের খাতা' (১৯৬০), 'পাতাল থেকে আলাপ' (১৯৬৭), 'রাত ভরে বৃষ্টি' (১৯৬৭), 'গোলাপ কেন কালো' (১৯৬৮), 'বিপন্ন বিস্ময়' (১৯৬৯)।

তাঁর নাটকঃ

'মায়া-মালঞ্চ' (১৯৪৪), 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' (১৯৬৬), 'কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ' (১৯৬৮)।

বন্দীর বন্দনা (কাব্যগ্রন্থ)বুদ্ধদেব বসু
বন্দী শিবির থেকে (কাব্যগ্রন্থ)শামসুর রাহমান
বন্দীর বাঁশি (কাব্যগ্রন্থ)বেনজীর আহমদ
রাজবন্দীর জবানবন্দী (প্রবন্ধ)কাজী নজরুল ইসলাম
রাজবন্দীর রোজনামচা (প্রবন্ধ)শহীদুল্লা কায়সার
কঙ্কাবতী (কাব্যগ্রন্থ)বুদ্ধদেব বসু
কঙ্কাবতী (উপন্যাস)অন্নদাশঙ্কর রায়

তাঁর অন্যান্য রচনাবলি:

গল্পগ্রন্থ: 'অভিনয়, অভিনয় নয়' (১৯৩০), 'রেখাচিত্র' (১৯৩১), 'হাওয়া বদল' (১৯৪৩), 'হৃদয়ের জাগরণ (১৯৬১), 'ভালো আমার ভেলা' (১৯৬৩), 'প্রেমপত্র' (১৯৭২)।

প্রবন্ধগ্রন্থ: 'হঠাৎ আলোর ঝলকানি' (১৯৩৫), 'কালের পুতুল' (১৯৪৬), 'সাহিত্যচর্চা' (১৯৫৪), 'স্বদেশ ও সংস্কৃতি' (১৯৫৭), 'সঙ্গ, নিঃসঙ্গতা ও রবীন্দ্রনাথ' (১৯৬৩)।

স্মৃতিকথা: 'আমার ছেলেবেলা' (১৯৭৩), 'আমার যৌবন' (১৯৭৬)।

ভ্রমণকাহিনি: 'সব পেয়েছির দেশে' (১৯৪১), 'দেশান্তর' (১৯৬৬)।

সম্পাদনা: 'আধুনিক বাংলা কবিতা' (১৯৬৩)।

কবিতা: 'নদীর স্বপ্ন'।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

শকাব্দের প্রবর্তক
বুদ্ধদেব
ব্রহ্মাবতার
মায়ণ-রচয়িতা

ভারতচন্দ্র, রায়গুনাকর

617

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (১৭১২-১৭৬০)

অষ্টাদশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও মঙ্গলকাব্যের সর্বশেষ শক্তিমান কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। সংস্কৃত, আরবি, ফারসি ও হিন্দুস্তানি ভাষার সংমিশ্রণে আশ্চর্য নতুন এক বাঙ্গি ও প্রাচীন সংস্কৃত ছন্দের অনুকরণে বাংলা কবিতায় নিপুণ ছন্দপ্রয়োগ ছিল তাঁর কাব্যের বৈশিষ্ট্য।

  • ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ১৭১২ সালে হাওড়া জেলার ভুরশুট পরগণার পেঁড়ো (পান্ডুয়া) গ্রামে ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি মাত্র ১৫ বছর বয়সে 'সত্যনারায়ণের পাঁচালী' (১৭২৭) রচনা করেন।
  • তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
  • তাঁর কবিত্ব শক্তিতে মুগ্ধ হয়ে নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি এবং মঙ্গলযুগের শেষ কবি হিসেবে পরিচিত।
  • ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়।
  • তিনি অন্নদামঙ্গল ধারার প্রধান কবি।
  • তিনি ১৭৬০ সালে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের সাহিত্যকর্মসমূহঃ

'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩): এটি তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে রচনা করেন। কাব্যটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি এ কাব্যের দ্বিতীয় অংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।

'সত্য পীরের পাঁচালী' (১৭৩৭-৩৮): এটি তাঁর রচিত অন্যতম গ্রন্থ।

'রসমঞ্জরী', 'নাগাষ্টক', 'গঙ্গাষ্টক', 'চণ্ডীনাটক' (নাটক)।

অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত । এতে দেবী অন্নদার বন্দনা আছে।

'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এ বিখ্যাত উক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত বিখ্যাত 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যে'র চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর।

বিখ্যাত উক্তিঃ

  • ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’
  • ‘নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?’
  • ‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
  • ‘হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।’
  • ‘বড়র পিরীতি বালির বাঁধ। ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষণেকে চাঁদ।’
  • 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'
Content added By

মদন মোহন তর্কালঙ্কার

755

পুরাতন রীতির শেষ কবি, হিন্দু কলেজ ও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক, ভারতীয় উপমহাদেশের পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব, হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রথার অন্যতম উদ্যোক্তা, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মদনমোহন তর্কালঙ্কার লেখ্য বাংলা ভাষার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখে গেছেন।

  • মদনমোহন তর্কালঙ্কার ১৮১৭ সালে নদীয়ার বিল্বগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সংস্কৃত কলেজের সহপাঠী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় কলকাতায় 'সংস্কৃত যন্ত্র' (১৮৪৭) নামক ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এখানেই ভারতচন্দ্রের 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য প্রথম মুদ্রিত হয়।
  • তিনি ১৮৫০ সালে 'সর্ব্ব-শুভঙ্করী' নামক পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যায় স্ত্রীশিক্ষার সমর্থনে দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখে শিক্ষিত সমাজের প্রশংসাভাজন হন।কবি প্রতিভার জন্য সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপকগণ কর্তৃক 'কাব্যরত্নাকর' উপাধি লাভ করেন এবং পরে পাণ্ডিত্যের জন্য 'তর্কালঙ্কার' উপাধি পান।
  • তিনি ৯ মার্চ, ১৮৫৮ সালে কান্দীতে কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমন করেন।

মদনমোহন তর্কালঙ্কারের সাহিত্যকর্মসমূহঃ

'শিশুশিক্ষা' (১ম খণ্ড ও ২য় খণ্ড- ১৮৪৯, ৩য় খণ্ড- ১৮৫০।) এভাবে 'বোধোদয়' নামে ৪র্থ খণ্ড রচনা করেন)। কলকাতা বেথুন কলেজ কর্তৃক 'হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়' (১৮৪৯)
প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি বিনা বেতনে ছাত্রীদের শিক্ষাদান ও শিশুপাঠ্য হিসেবে এ গ্রন্থটি রচনা করেন।

প্রবন্ধ: 'রসতরঙ্গিনী' (১৮৩৪), 'বাসবদত্তা' (১৮৩৬)।

বিখ্যাত পঙ্ক্তিঃ

  • পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল।
    কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল। (পাখি সব করে রব)
  • সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
    সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি। (আমার পণ)
  • লেখাপড়া করে যে,
    গাড়ী ঘোড়া চড়ে সে।
Content added By

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

925

বাংলা সাহিত্যের অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর উপন্যাসে মানুষের অন্তরে তার ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্বাস-সংস্কারের সাথে প্রণয়াকাঙ্ক্ষার যে নিরন্তর দ্বন্দ্ব-সংঘাত, গার্হস্থ্য ও সমাজজীবনের প্রতিচ্ছবি অসাধারণভাবে শিল্প কুশলতার সাথে অঙ্কিত হয়েছে। বাঙালি সমাজে নারীর বঞ্চনা, নারীর দুঃখ তাঁর উপন্যাসের অন্যতম দিক।

  • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৭৬ সালে (৩১ ভাদ্র, ১২৮৩ বঙ্গাব্দ) হুগলীর দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি মাতৃবিয়োগের (১৮৯৫) কারণে চরম অর্থকষ্টে নিপতিত হন এবং ১৯০৩ সালে ভাগ্যান্বেষণে রেঙ্গুন (বার্মা) গমন করেন।
  • তিনি মাঝে মাঝে অনিলা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুরূপা দেবী, পরশুরাম (এটি রাজশেখর বসুরও ছদ্মনাম), শ্রীকান্ত শর্মা ও সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছদ্মনামে লিখতেন।
  • তিনি ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক এবং ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট ডিগ্রী লাভ করেন।
  • তাঁর রচিত উপন্যাসে প্লটের তুলনায় চরিত্রের প্রাধান্য দেখতে পাওয়া যায়। তিনি সমাজে প্রচলিত বর্ণ-বিভাজনকে তাঁর লেখায় প্রশ্রয় দেননি।
  • তিনি ১৬ জানুয়ারি, ১৯৩৮ সালে (২ মাঘ, ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ) পাক নার্সিংহোমে মৃত্যুবরণ করেন।

শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির': গল্পটি প্রথমে তাঁর মামা ও বাল্যবন্ধু সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে 'বসুমতি' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি ১৯০৩ সালে কুন্তলীন পুরস্কার পায়। চরিত্র: অমরনাথ, অপর্ণা, শক্তিনাথ।

শরৎচন্দ্রের উপন্যাসগুলো:

'বড়দিদি' (১৯০৭): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। এটি সরলা দেবী সম্পাদিত 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ পায়। প্রথমে এটির নাম ছিল 'শিশু'। মাধবীর নাম 'বড়দিদি'। চরিত্র: মাধবী, সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, প্রমীলা।

'বিরাজ বৌ' (১৯১৪): উপন্যাসটি 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। সুন্দরী বিরাজ বৌয়ের নানাবিধ সমস্যা উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু। চরিত্র: বিরাজ, নীলাম্বর, পীতাম্বর।

'পরিণীতা' (১৯১৪): বিংশ শতাব্দীর প্রথম সময়ের ভারতের কলকাতার পটভূমিতে উপন্যাসটি রচিত। চরিত্র: ললিতা, গুরুচরণ, আন্নাকালী, চারু, শেখর রায়, মনোরমা, গিরীন।

'পল্লীসমাজ' (১৯১৬): উপন্যাসটি ১৯১৫ সালে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯১৬ সালে ১৯টি পরিচ্ছেদে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকার মালিক গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় অ্যান্ড সন্স উপন্যাসটি প্রকাশ করেন। 'কুঁয়াপুর' নামক গ্রামকে কেন্দ্র করেন বাংলার সামন্ততান্ত্রিক সমাজ-ব্যবস্থা, পল্লিজীবনের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক-যুবতীর সম্পর্ক ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়। রমা ও রমেশের প্রেমের মাঝে এতো তিক্ততা ছিলো যে, রমা মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে রমেশকে জেলে পাঠাতেও দ্বিধা করেনি। এ উপন্যাসের নাট্যরূপ 'রমা' (১৯২৮)। চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণীমাধব, বিশ্বেশ্বরী।

'নিষ্কৃতি' (১৯১৭): এ উপন্যাসের প্রথমাংশ 'ঘরভাঙা' নামে 'যমুনা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ভবানীপুরের চাটুয্যেদের একান্নবর্তী পরিবার এবং সেই পরিবারের সম্পর্কের জটিলতা এ উপন্যাসের মূল বিষয়। চরিত্র: গিরিশ, হরিশ, সিদ্ধেশ্বরী, শৈলজা, রমেশ, নয়নতারা। ১৯৪৪ সালে Deliverance নামে দিলীপকুমার রায়ের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। এটি গল্প আকারে রচিত হলেও পরবর্তীতে শরৎচন্দ্র পরিবর্ধিত করে উপন্যাস আকারে প্রকাশ করেন।

'শ্রীকান্ত' (১ম খণ্ড- ১৯১৭, ২য় খণ্ড- ১৯১৮, ৩য় খণ্ড-১৯২৭, ৪র্থ খণ্ড- ১৯৩৩): এটি তাঁর আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে শরৎচন্দ্র 'শ্রীকান্ত শর্মা' ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। চরিত্র: রাজলক্ষ্মী, ইন্দ্রনাথ, শ্রীকান্ত, অভয়া। ইন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কিশোর চরিত্র।

'দেবদাস (১৯১৭): দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমুখী অন্যতম চরিত্র।

'চরিত্রহীন' (১৯১৭): এটি প্রথমে ধারাবাহিকভাবে 'যমুনা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারী-পুরুষের সমাজ অননুমোদিত সম্পর্ক এ উপন্যাসের মূল বিষয়। চরিত্র: সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী, সরোজিনী।

'দত্তা' (১৯১৮): উপন্যাসটি ১৩২৪-১৩২৫ বঙ্গাদে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। চরিত্র: নরেন, বিজয়া, রাসবিহারী, বনমালী। এ উপন্যাসের নাট্যরূপ 'বিজয়া' (১৯৩৪)

'গৃহদাহ' (১৯২০): এতে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। চরিত্র: সুরেশ, অচলা, মহিম।

'বামুনের মেয়ে' (১৯২০): এ উপন্যাসে তৎকালীন সমাজের জাতিভেদ, কুসংস্কার ও আর্থিক বৈষম্যের বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। চরিত্র: রাসমণি, গোলোক চাটুয্য, জ্ঞানদা।

'দেনা-পাওনা' (১৯২৩): এ উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র: জীবানন্দ, ষোড়শী। উপন্যাসটি 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়

'পথের দাবী' (১৯২৬): এটি রাজনৈতিক উপন্যাস জ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়। চরিত্র: সব্যসাচী।

'বিপ্রদাস' (১৯৩৫): এটি শরৎচন্দ্রের জীবিতাবস্থায় প্রকশি সর্বশেষ গ্রন্থ। উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় চরিত্র: বিপ্রদাস, দ্বিজদাস, বন্দনা।

'শেষ প্রশ্ন' (১৯৩১): এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিতর্কপ্রধান ও সমস্যামূলক উপন্যাস। উল্লেখযোগ্য চরিত্র শিবনাথ-মনোরমা, অজিত-কমল, নীলিমা-আশুবাবু।

'শেষের পরিচয়' (১৯৩৯): এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস এটি শরৎচন্দ্র লেখা শেষ করে যেতে পারেননি। বাকী অংশ রাধারানী দেবী কর্তৃক রচিত। উপন্যাসটি 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

'পণ্ডিত মশাই' (১৯১৪), 'বৈকুণ্ঠের উইল' (১৯১৬) 'অরক্ষণীয়া' (১৯১৬), 'চন্দ্রনাথ' (১৯১৬), 'নববিধান (১৯২৪)।

শরৎচন্দ্রের প্রবন্ধগুলো:

'নারীর মূল্য' (১৯২৩): এটি নারীর সামাজিক অধিকার ও সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত প্রবন্ধ। এটি তিনি 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে রচনা করেন, যা 'যমুনা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। অনিলা দেবী শরৎচন্দ্রের বড় বোনের নাম।

'তরুণের বিদ্রোহ' (১৯২৯): এ প্রবন্ধটি ১৯২৯ সালের ৩০ মার্চ রংপুর বঙ্গীয় যুব সম্মিলনীর অধিবেশনে সভাপতির ভাষণ। এ গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণে 'সত্য ও মিথ্যা' নামে আরো একটি প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

'স্বদেশ ও সাহিত্য' (১৯৩২)।

শরৎচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পগুলো:

'কাশীনাথ' (১৯১৭): সতের বছর বয়সে তিনি সর্বপ্রথম পাঠশালার সহপাঠী কাশীনাথের নামে গল্পটি লিখেন।

'বিলাসী': সাধু রীতিতে রচিত ন্যাড়া নামের এক যুবকের জবানিতে বিবৃত এ গল্পের কাহিনিতে শরৎচন্দ্রের প্রথম জীবনের ছায়াপাত ঘটেছে। গল্পটিতে বর্ণিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব-মানবীর চরিত্রের অসাধারণ প্রেমের মহিমা, যা ছাপিয়ে উঠেছে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা। চরিত্র: বিলাসী, মৃত্যুঞ্জয়, খুড়া, ন্যাড়া।

'মন্দির', 'মহেশ' (চরিত্র: গফুর, আমিনা), 'মামলার ফল', 'সতী', 'অনুরাধা', 'পরেশ', 'অভাগীর স্বর্গ', 'অতিথির স্মৃতি' (দেওঘরের স্মৃতি) ইত্যাদি।

দেনা-পাওনা (ছোটগল্প)রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
দেনা-পাওনা (উপন্যাস)শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

শরৎচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য বড় গল্পগুলো:

'বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য গল্প' (১৯১৪): এটি বিন্দুর ছেলে, রামের সুমতি ও পথনির্দেশ গল্পের সংকলন। এ গল্পগুলি ' যমুনা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

'মেজদিদি' (১৯১৫): এটি মেজদিদি, দর্পচূর্ণ ও আঁধারে আলো গল্পের সংকলন। এ তিনটি গল্পই চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। 'মেজদিদি'র চরিত্র: হেমাঙ্গিনী, কেষ্ট, কাদম্বিনী।

'ছবি' (১৯২০): এটি ছবি, বিলাসী ও মামলার ফল গল্পের সংকলন।

শরৎচন্দ্রের নাটকগুলো:

'ষোড়শী' (১৯২৮), 'রমা' (১৯২৮), 'বিজয়া' (১৯৩৪)।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

রবীন্দ্রনাথ
শরৎচন্দ্র
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
বঙ্কিমচন্দ্র
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বভারতী
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শামসুর রাহমান

875

আধুনিক কবি শামসুর রাহমান, যিনি রোমান্টিকতার সাথে সমাজমনস্কতার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন কাব্যধারার জন্ম দিয়েছেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতাযুদ্ধ ও পরবর্তী সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন তাঁর কবিতাকে করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। নগর জীবনের যন্ত্রণা, একাকিত্ব, পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ইত্যাদি তাঁর কবিতায় লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য।

  • শামসুর রাহমান ২৪ অক্টোবর, (পারিবারিক হিসেবে ২৩ অক্টোবর) ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরার পাড়াতলি গ্রাম।
    শামসুর রাহমানের ডাকনাম- বাচ্চু।
  • ১৯৫৭ সালে সাংবাদিক হিসেবে 'দৈনিক মর্নিং নিউজ'- এ কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে 'দৈনিক পাকিস্তান' পত্রিকায় যোগদান করেন। পরবর্তীতে এটি 'দৈনিক বাংলা' নামে নামকরণ হয়। ১৯৭৭ সালে 'দৈনিক বাংলা' ও সাপ্তাহিক 'বিচিত্রা'র সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে সরকার পরিচালিত 'দৈনিক বাংলা' থেকে পদত্যাগ করেন।
  • মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি কলকাতার 'দেশ' পত্রিকায় 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন।
  • তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় সিন্দাবাদ, চক্ষুষ্মান, লিপিকার, নেপথ্যে, জনান্তিকে, মৈনাক প্রভৃতি ছদ্মনামে সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় লিখতেন।
  • ১৯৪৯ সালে 'সাপ্তাহিক সোনার বাংলা' পত্রিকায় তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।
  • তিনি ১৯৬৩ সালে 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার', ১৯৬৯ সালে 'বাংলা একাডেমি পুরস্কার', ১৯৭৭ সালে 'একুশে পদক' এবং ১৯৯১ সালে 'স্বাধীনতা পুরস্কার' লাভ করেন।
  • শামসুর রাহমান 'নাগরিক কবি' হিসেবে খ্যাত।
  • তিনি ১৭ আগস্ট, ২০০৬ সালে ঢাকার পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। কবির ইচ্ছানুযায়ী ১৮ আগস্ট বনানী কবরস্থানে মায়ের সমাধির মধ্যে সমাহিত করা হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো :

তাঁর মোট কাব্য ৬৫ টি ।

‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' (১৯৬০): এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ।

‘বন্দী শিবির থেকে ’ (১৯৭২): এ কাব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন আবেগ ও প্রত্যাশা প্রাধান্য পেয়েছে। এ কাব্যের মাধ্যমে তিনি কবি খ্যাতি অর্জন করেন।

‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ' (১৯৮২): ১৯৭৫-৮২ সাল পর্যন্ত দেশে সংঘটিত একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান এবং সামরিক শাসনের যুপকাষ্ঠে দেশ ও জনগণের চরম অবস্থার প্রতিফলন আছে এ কাব্যে।

‘রৌদ্র করোটিতে' (১৯৬৩), 'বিধ্বস্ত নীলিমা' (১৯৬৭), ‘নিরালোকে দিব্যরথ’ (১৯৬৮), ‘নিজ বাসভূমে' (১৯৭০), ‘দুঃসময়ের মুখোমুখি' (১৯৭৩), 'ফিরিয়ে নাও ঘাতককাটা' (১৯৭৪), ‘আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি' (১৯৭৪), ‘এক ধরনের অহংকার' (১৯৭৫), ‘আমি অনাহারী' (১৯৭৬), ‘শূন্যতায় তুমি শোকসভা' (১৯৭৭), ‘বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে' (১৯৭৭), ‘প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে' (১৯৭৮), 'প্রেমের কবিতা' (১৯৮১), ‘ইকারুসের আকাশ' (১৯৮২), ‘এক ফোঁটা কেমন অনল' (১৯৮৬), ‘বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়’ (১৯৮৮), ‘হরিণের হাড়' (১৯৯৩), ‘তুমিই নিঃশ্বাস, তুমিই হৃদস্পন্দন' (১৯৯৬), ‘হেমন্ত সন্ধ্যায় কিছুকাল' (১৯৯৭), ‘না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন' (২০০৬)।

তাঁর উপন্যাসগুলো:

‘ অক্টোপাস ' (১৯৮৩), ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ (১৯৮৫), ‘নিয়ত মন্তাজ' (১৯৮৫),‘এলো সে অবেলায়’ (১৯৯৪)।

তাঁর অন্যান্য রচনাবলিঃ

আত্মস্মৃতি: 'স্মৃতির শহর' (১৯৭৯), 'কালের ধূলোয় লেখা' (২০০৪)।

শিশুতোষ: 'এলাটিং বেলাটিং' (১৯৭৫), 'ধান ভানলে কুঁড়ো দেবো' (১৯৭৭), 'লাল ফুলকির ছড়া' (১৯৯৫)।

প্রবন্ধ: 'আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ' (১৯৮৬), 'কবিতা এক ধরনের আশ্রয়' (২০০২)।

বিখ্যাত কবিতা :

‘হাতির শুড়’: ১৯৫৮ সালে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে বিদ্রূপ করে ‘সমকাল' পত্রিকায় এ কবিতাটি লেখেন।

‘টেলেমেকাস’: ১৯৬৬ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে বন্দী হলে তাঁকে উদ্দেশ্য করে তিনি এ কবিতাটি লেখেন।

‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা': ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান পাকিস্তানের সব ভাষার জন্য অভিন্ন রোমান হরফ চালু করার প্রস্তাব করেন। এ ঘটনার ফলে শামসুর রাহমান এ কবিতাটি লেখেন ।

‘আসাদের শার্ট’: ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি গুলিস্তানে একটি মিছিলের সামনে লাঠিতে শহীদ আসাদের শার্ট দিয়ে বানানো পতাকা দেখে আলোড়িত শামসুর রাহমান এ কবিতাটি লেখেন ।

‘স্বাধীনতা তুমি' ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’: মুক্তিযুদ্ধের সময় এপ্রিলের প্রথম দিকে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা দেখে তিনি এ দুটি কবিতা লেখেন।

বিখ্যাত পক্তি

  • পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত জ্বলন্ত,
    ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে, নতুন নিশানা উড়িয়ে,
    দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক এই বাংলায় তোমাকেই আসতেই হবে। (তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা)
  • স্বাধীনতা তুমি, রবী ঠাকুরের অজর কবিতা । (স্বাধীনতা তুমি)
  • স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন। (স্বাধীনতা তুমি)
  • তোমার মুখের দিকে আজ আর যায় না তাকানো, বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা (বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা)
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সাপ্তাহিক সোনার বাংলা
দৈনিক স্বাধীনতা
দৈনিক মর্নিং নিউজ
দৈনিক বাংলা
সাপ্তাহিক সোনার বাংলা
সোনার বাংলা
দৈনিক পাকিস্তান
দৈনিক বাংলা
নাগরিক কবি
গ্রামবাংলার কবি
প্রকৃতির কবি
বিদ্রোহী কবি।
শিক্ষক
সাহিত্য গবেষক
সাংবাদিক
আইনজীবী

শেখ ফজলল করিম

710
Content added By

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

644

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে 'ছন্দের রাজা' ও 'ছন্দের জাদুকর' 'বাস্তববাদী কবি' অভিধায় বিশেষায়িত করা হয়। দেশাত্মবোধ, শক্তির সাধনা ও মানবতার বন্দনা তাঁর কবিতার বিষয়। প্রেম-
প্রকৃতি তাঁর কাব্যের প্রধান পাত্র-পাত্রী ছন্দের ঝংকারে তাঁর কবিতা সমৃদ্ধ হয়।

  • সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮২ সালে নিমতাগ্রাম, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস বর্ধমান জেলার চুপী গ্রাম।
  • 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক অক্ষয় কুমার দত্ত ছিলেন তার পিতামহ।
  • তিনি 'ছন্দের রাজা' ও 'ছন্দের জাদুকর' হিসেবে খ্যাত।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ছন্দের জাদুকর' উপাধিতে ভূষিত করেন।
  • ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
  • তিনি সমাজের তুচ্ছ মানুষকে নিয়ে কবিতা রচনা করে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এ বিষয়ক তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'মেথর'।
  • তাঁর মৃত্যুর পর কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'সত্যেন প্রয়াণ' কবিতাটি লেখেন।
  • তিনি 'বৈদিক গায়ত্রী' ছন্দে বাংলা কবিতা রচনা করেছিলেন। তাঁর রচিত গায়ত্রী ছন্দ এখন 'গৌড়ি গায়ত্রী' নামে পরিচিত। মন্ত্রের ছন্দকে গায়ত্রী বলে।
  • তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯২২ সালে ব্রঙ্কাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের সাহিত্যকর্মসমূহঃ

মৌলিক কাব্য: 'সবিতা' (১৯০০), 'সন্ধিক্ষণ' (১৯০৫), 'বেণু ও বীণা' (১৯০৬), 'হোমশিখা' (১৯০৭), 'ফুলের ফসল' (১৯১১), 'কুহু ও কেকা' (১৯১২), 'তুলির লিখন' (১৯১৪), 'অভ্র-আবীর' (১৯১৬), 'হসন্তিকা' (১৯১৯), 'বেলা শেষের গান' (১৯২৩), 'বিদায় আরতি' (১৯২৪), 'কাব্য সঞ্চয়ন' (১৯৩০)।

অনুদিত কাব্য: 'তীর্থ রেণু' (১৯১০), 'মণি-মঞ্জুষা' (১৯১৫), 'তীর্থ সলিল' (১৯১৮)।

উপন্যাস: 'জনম দুঃখী' (১৯১২- এটি অনুবাদ উপন্যাস)।

নাটক: 'রঙ্গমল্লী' (১৯১৩- এটি অনুবাদ নাটক)।

প্রবন্ধ: 'চীনের ধূপ' (১৯১২- এটি অনুবাদ প্রবন্ধ), 'ছন্দ-সরস্বতী' (১৯১৯)।

Content added By

সিকান্দার আবু জাফর

674

সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯-১৯৭৫)

প্রখ্যাত কবি, সংগীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতিচর্চার যে ধারা গড়ে ওঠে, তিনি ছিলেন তার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। ১৯৬৭ সালের জুন মাসে রবীন্দ্রসংগীত পাকিস্তানের আদর্শের পরিপন্থী- এই বক্তব্য উপস্থাপন করে পাকিস্তান সরকার রেডিও ও টেলিভিশন থেকে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তিনি এর বিরোধিতা করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও বিপ্লবের চেতনাসম্পন্ন অনেক গান রচনা করেন যা জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। তাঁর কবিতায় যুগযন্ত্রণা বলিষ্ঠভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

  • সিকান্দার আবু জাফর ১৯১৯ সালে সাতক্ষীরা (তৎকালীন খুলনা) জেলার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। (আদি নিবাস- পাকিস্তানের পেশোয়ার)
  • প্রকৃত নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহাম্মদ বস্তু সিকান্দার।
  • তিনি কিছুকাল কলকাতার 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
  • তিনি ১৯৬৬ সালে 'বাংলা একাডেমি পুরস্কার' লাভ করেন।
  • ৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

পত্রিকার সাথে যুক্তঃ

'মাসিক সমকাল' (১৯৫৭)- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, 'দৈনিক ইত্তেফাক' (১৯৫৩)- সহযোগী সম্পাদক, 'দৈনিক মিল্লাত' (১৯৫৪)- প্রধান সম্পাদক।

তাঁর সাহিত্যকর্মসমূহঃ

কাব্যগ্রন্থ:

'বাঙলা ছাড়ো': এ কাব্যের কবিতা 'গরবিনী মা-জনী, 'বিধ্বস্ত নীলিমা', 'আর্ত শব্দাবলী', 'নজরুল: জন্মদিনে'।

'মালব কৌশিক' (১৯৬৯)

'প্রসন্ন প্রহর' (১৯৬৫): এ কাব্যের কবিতা 'আলো চাই' 'বৈরীবৃষ্টিতে' (১৯৬৫), 'তিমিরান্তিক' (১৯৬৫), 'কবিতা' (১৯৬৮), 'বৃশ্চিক লগ্ন' (১৯৭১)।

উপন্যাস: 'মাটি আর অশ্রু' (১৯৪২), 'পূরবী' (১৯৪৪), 'নতুন সকাল' (১৯৪৫)। কিশোর উপন্যাস : 'জয়ের পথে' (১৯৪২), 'নবী কাহিনী, (জীবনী-১৯৫১)।

গল্পগ্রন্থ : 'মতি আর অশ্রু' (১৯৪১)।

রূপক নাটক : 'শকুন্ত উপাখ্যান' (১৯৫৮)।

ঐতিহাসিক নাটক : 'সিরাজউদ্দৌলা' (১৯৬৫)।

জীবনী নাটক : 'মহাকবি আলাওল' (১৯৬৫)।

অনুবাদ : 'রুবাইয়াৎ ওমর খৈয়াম' (১৯৬৬), 'সিংয়ের নাটক' (১৯৭১)।

বিখ্যাত গান : 'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই'।

Content added By

সুকান্ত ভট্টাচার্য

875

কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা যেন জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড, যা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিকামী বাঙালির মনে বিশেষ শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। তাঁর কাব্যে অন্যায়-অবিচার, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, বিপ্লব ও মুক্তির আহবান প্রাধান্য পেয়েছে।

  • সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৫ আগস্ট, ১৯২৬ সালে (৩০ শ্রাবণ, ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ) কলকাতার মহিম হালদার স্ট্রিট, কালীঘাটে (মাতুলালয়) জন্মগ্রহণ করেন।
  • পৈতৃক নিবাস গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার উনশিয়া গ্রামে।
  • তিনি বামপন্থি মার্কসবাদী বিপ্লবী কবি হিসেবে খ্যাত হলেও 'কিশোর কবি' হিসেবে পরিচিত।
  • তিনি ছিলেন দৈনিক পত্রিকা 'স্বাধীনতা'র কিশোর সভা অংশের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।
  • তিনি ১৪ মে, ১৯৪৭ সালে (২৯ বৈশাখ, ১৩৫৪ বঙ্গাব্দ) যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে যাদবপুর টিবি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। (তিনি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস জীবিত ছিলেন)।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহঃ

'ছাড়পত্র' (১৯৪৮): এটি কবির মৃত্যুর তিনমাস পরে প্রকাশিত হয়। শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রনা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহ, অনাচার ও বৈষম্যের প্রতিবাদ এ কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু। এ কাব্যের কবিতা: 'ছাড়পত্র', 'আঠারো বছর বয়স', 'প্রার্থী', 'রানার'।

'ঘুম নেই' (১৯৫০), 'পূর্বাভাস' (১৯৫০), 'মিঠেকড়া' (১৯৫১), 'অভিযান' (১৯৫৩), 'হরতাল' (১৯৬২), 'গীতিগুচ্ছ' (১৯৬৫)।

সাহিত্য সংকলন সম্পাদনাঃ

'আকাল' (১৯৪৩): পঞ্চাশের মন্বন্তর এ সংকলন কবিতাগুলোর মূল প্রেরণা। ১৯৬৬ সালে সুভাস মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয় এটি ছিল জীবিত অবস্থায় প্রকাশিত তাঁর একমাত্র গ্রন্থ।

গীতাঞ্জলি (কাব্যগ্রন্থ)রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গীতাঞ্জলি (কাব্যগ্রন্থ)
গীতবিতান (কাব্যগ্রন্থ)
গীতিগুচ্ছ (কাব্যগ্রন্থ)সুকান্ত ভট্টাচার্য

গুরুত্বপূর্ণ পঙ্ক্তিঃ

  • 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানে রুটি'। (হে মহাজীবন)
  • 'কবি সে, ছবি আঁকার অভ্যাস ছিল না ছোট বয়সে, অথচ শিল্পি বলে সে-ই পেল শ্রেষ্ঠ শিল্পীদের সম্মান।' (এক যে ছিল)
  • 'বন্ধু তোমার ছাড় উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ণ কর চিত্ত, বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত'। (উদ্যোগ)
  • 'এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার'। (ছাড়পত্র)
  • 'এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান; জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত ধ্বংসস্তূপ-পিঠে চলে যেতে হবে আমাদের'। (ছাড়পত্র)
  • 'অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি, জন্যেই দেখি ক্ষুব্ধ স্থালি ভূমি'।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বাঙালি জাতীয়তাবাদী কবি
সাম্যবাদী আদর্শের কবি
বৈষ্ঞবীয় আদর্শের কবি
নাগরিক আদর্শের কবি

সুকুমার রায়

708
সুকুমার রায়

সুকুমার রায় (৩০ অক্টোবর ১৮৮৭ – ১০ সেপ্টেম্বর ১৯২৩)
সুকুমার রায় ছিলেন বাঙালি শিশুসাহিত্যিক, ননসেন্স ছড়ার প্রবর্তক, লেখক, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার এবং সম্পাদক। তিনি জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পুত্র এবং খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের পিতা।

জন্ম ও পরিবার:
কলকাতার দক্ষিণ রাঢ়ী কায়স্থ বংশীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা: উপেন্দ্রকিশোর রায়, মাতা: বিধুমুখী দেবী। দুই ভাই: সুবিনয় রায় ও সুবিমল রায়; তিন বোন: সুখলতা, পুণ্যলতা ও শান্তিলতা।

শিক্ষাজীবন:
প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামে, পরে কলকাতার সিটি স্কুল থেকে এন্ট্রাস পাশ করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯০৬ সালে রসায়ন ও পদার্থবিদ্যায় B.Sc (অনার্স) লাভ করেন। ১৯১১ সালে ইংল্যান্ডে মুদ্রণ ও আলোকচিত্রের উপর উচ্চতর শিক্ষার জন্য যান।

কর্মজীবন:

  • উপেন্দ্রকিশোরের মৃত্যুর পর সন্দেশ পত্রিকার সম্পাদনা ও পারিবারিক ছাপাখানা পরিচালনা করেন।

  • শিশুদের জন্য ননসেন্স ছড়া, গল্প ও প্রবন্ধের মাধ্যমে বাংলা শিশুসাহিত্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন।

  • ‘ননসেন্স ক্লাব’ ও ‘Monday Club’-এর মাধ্যমে সাহিত্যকর্মের সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি করেন।

  • ব্রাহ্মসমাজের সংস্কারপন্থী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

সাহিত্যকর্ম:

  • ননসেন্স ছড়া ও কবিতা:

    • আবোল তাবোল

    • পাগলা দাশু

    • খাই-খাই

    • অবাক জলপান

    • লক্ষ্মণের শক্তিশেল

    • ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক

    • হ য ব র ল

    • শব্দ কল্প দ্রুম

    • বহুরুপী

  • প্রবন্ধ ও অন্যান্য:

    • ভাষার অত্যাচার (১৯১৫)

    • বর্ণমালাতত্ত্ব

    • দেশের-বিদেশের গল্প

    • জীবনের হিসাব (বিদ্যে বোঝাই বাবুমশাই)

    • চলচ্চিত্তচঞ্চরী

মৃত্যু:
১৯২৩ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে কালাজ্বরে (লেইশ্মানিয়াসিস) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন।

Content added By

সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ

729

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৯২২-১৯৭১)

বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার, জীবনসন্ধানী ও সমাজ-সচেতন শিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। তিনি ব্যক্তিজীবন ও সমাজসমস্যার প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার, মূল্যবোধের বিপর্যয়, মানসিক স্খলন ও পতনের আলেখ্য উজ্জ্বলভাবে অঙ্কন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি প্রবাসে ইউনেস্কোতে কর্মরত থাকায় স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ার ক্ষেত্রে কাজ করেন।

  • সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৫ আগস্ট, ১৯২২ সালে চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন। আদি নিবাস নোয়াখালী।
  • তিনি 'Contemporary' নামে একটি ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৪৫ সালে কলকাতার 'দৈনিক স্টেটসম্যান' পত্রিকার সহ-সম্পাদক পদে যোগদান করেন।
  • ১৯৫৬ সালে সিডনী দূতাবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় সিডনীর ফরাসী দূতাবাসে কর্মরত অ্যান মারিকে বিবাহ করেন। অ্যান মারি ধর্মান্তরিত হয়ে নাম রাখেন আজিজা মোসাম্মত নাসরিন। যদিও তিনি এ নামে পরিচিত হননি।
  • তিনি 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬১), 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬৫), 'একুশে পদক' (১৯৮৩- মরণোত্তর) পান।
  • তিনি ১০ অক্টোবর, ১৯৭১ সালে প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন। প্যারিসের উপকণ্ঠে মদোঁ-স্যুর বেলভুতে তাকে সমাহিত করা হয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ প্রকাশিত প্রথম গল্পের নাম 'হঠাৎ আলোর ঝলকানি': এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।

তাঁর উপন্যাসসমূহঃ

'লালসালু' (১৯৪৮): এতে গ্রাম-বাংলায় ধর্ম নিয়ে একটি শ্রেণির ব্যক্তিস্বার্থ অর্জন ও নারী জাগরণের চিত্র ফুটে উঠেছে। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে ঢাকার 'কমরেড পাবলিশার্স' থেকে। এর প্রকাশক ছিলেন মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। ১৯৬০ সালে উর্দু ভাষায় 'Lal Shalu' নামে করাচি থেকে প্রকাশিত হয়। অনুবাদক ছিলেন কলিমুল্লাহ। ১৯৬১ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সহধর্মিণী অ্যান-মারি-থিবো L'arbre sans racines নামে ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন, যা প্যারিসের Editions du Seuil প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৬৭ সালে এর ইংরেজি অনুবাদ 'Tree without Roots' নামে লন্ডনের Chatto and Windus Ltd. এটি প্রকাশ করেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ নিজেই এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। পরবর্তীতে এটি জার্মান, চেক, ইন্দোনেশীয় ও জাপানি ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়। ২০০১ সালে উপন্যাসটি তানভীর মোকাম্মেল 'লালসালু' নামে চলচ্চিত্রে রূপদান করেন। এতে মজিদ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ।

'চাঁদের অমাবস্যা' (১৯৬৪): আরেফ আলী নামের এক স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের চেতনাগত জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি এ উপন্যাসের মূল বিষয়। এটি মনঃসমীক্ষণমূলক অস্তিত্ববাদী উপন্যাস। এক জ্যোৎস্না রাতে আরেফ আলী ঘর থেকে বের হয়ে দেখে বাঁশঝাড়ের ভেতর এক নগ্ন যুবতির লাশ পড়ে আছে। পাশে দণ্ডায়মান কাদের মিয়া (আরেফ আলী যে বাড়িতে আশ্রিত সেই বাড়ির মালিক)। কাদেরের সহযোগী হয়ে সে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। কিন্তু এ সত্য কথাটি সে বলতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। একদিকে আশ্রয় হারানোর ভয়, অন্যদিকে সত্য গোপনের যন্ত্রণা। অবশেষে নিজের অস্তিত্বকে বিলীন করে দাদা সাহেব ও আইন কর্তৃপক্ষের নিকট সব সত্য বলে দিয়ে নিজে অস্তিত্ববান হয়ে উঠে। আরেফ আলী চরিত্রের মাধ্যমে উপন্যাসটিতে অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শন রূপায়িত হয়েছে। চরিত্র: আরেফ আলী, কাদের (দরবেশ), আলফাজ উদ্দিন (দাদা সাহেব)।

The Ugly Asian: এটি ইংরেজিতে রচিত। এটি শিবব্রত বর্মণ 'কদর্য এশীয়' (২০০৬) নামে অনুবাদ করেন।

'কাঁদো নদী কাঁদো' (১৯৬৮): ধর্মের নামে আচার-সর্বস্বতা, বিজ্ঞানের নামে অদৃষ্টবাদিতা, বাস্তবতার নামে স্বপ্ন-কল্পনা ইত্যাদির বিরুদ্ধাচরণ, ব্যক্তির সামগ্রিক জীবনের সুখ-দুঃখ ইত্যাদির সার্থক রূপায়ণ এ উপন্যাস। এ মনঃসমীক্ষণমূলক উপন্যাসে ফুটে উঠেছে একদিকে মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনালেখ্য, অন্যদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবনচিত্র। এটি চেতনাপ্রবাহ রীতিতে লেখা। বাংলা সাহিত্যে ওয়ালীউল্লাহ প্রথম চেতনাপ্রবাহ রীতির প্রয়োগ ঘটান।

How to cook beans: এটি ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাস। এটি শিব্রত বর্মণ 'শিম কিভাবে রান্না করতে হয়' নামে অনুবাদ করেন।

তাঁর নাটকসমূহঃ

'বহিপীর' (১৯৬০): এ নাটকে ধর্মকে কিভাবে ভণ্ড বহিপীর নিজের সুবিধার্থে কাজে লাগিয়েছে তাই ফুটে উঠেছে। চরিত্র: বহিপীর, তাহেরা, হাতেম, হাসেম।

'সুড়ঙ্গ' (১৯৬৪): এ নাটকে মানুষের চেতনার গভীরস্থ লোভ, লালসা, ঘৃণা, ঈর্ষাকে রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরেছেন।

'তরঙ্গভঙ্গ' (১৯৬৫): অস্তিত্বের সংকটে নিপতিত মানুষের অন্তর্গত আর্তনাদ শব্দরূপ পেয়েছে এ নাটকে। চরিত্র: আমেনা, মতলুব আলী।

'উজানে মৃত্যু' (১৯৬৬): আধুনিক সভ্যতার অন্তঃসারশূন্যতা, এর ক্লান্তিকর পথপরিক্রমা, নিরাশাবাদী ভাব কিন্তু সুখের জন্য অসীম প্রতীক্ষা, যা শেষ হবার নয়, এগুলোই এ নাটকের বিষয়বস্তু। এটি একটি অ্যাবসার্ড নাটক।

তাঁর গল্পগ্রন্থসমূহঃ

'নয়নচারা' (১৯৫১): এটি তার প্রথম গল্পগ্রন্থ, যা ছাত্রাবস্থায় প্রকাশিত হয়।

'দুই তীর ও অন্যান্য গল্প' (১৯৬৫): এ গ্রন্থের বিখ্যাত গল্প 'একটি তুলসী গাছের কাহিনি'।

'গল্প সমগ্র' (১৯৭২)।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বঙ্গিমেচন্দ্র
প্রমখ চৌধুরী
সৈয়দ ওয়ালাস্টল্লাহ
হুমায়ুন আহমেদ

সৈয়দ মুর্তাজা আলী

676
Content added By

নীলিমা ইব্রাহিম

713
নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১-২০০২)

বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী ড. নীলিমা ইব্রাহিম আমৃত্যু মানুষের শুভ ও কল্যাণী চেতনায় আস্থাশীল ছিলেন। মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধ ছিল তাঁর জীবনদর্শন। ১৯৪৫ সালে নিজের পছন্দে ইন্ডিয়ান আর্মি মেডিকেল কোরের ক্যাপ্টেন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে (বারডেম হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা) বিয়ে করেন। বিয়ের পর নীলিমা রায় চৌধুরী থেকে নীলিমা ইব্রাহিম নামে পরিচিত হন।

  • ড. নীলিমা ইব্রাহিম ১১ অক্টোবর, ১৯২১ সালে (সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান) বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মুলঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ডলি আনোয়ার তাঁর মেয়ে।
  • তিনি বাংলা একাডেমির প্রথম নারী মহাপরিচালক ছিলেন।
  • ১৯৬২-৬৩ সালে 'রঙ্গম' নামে একটি নাট্যসংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), বেগম রোকেয়া পদক (১৯৯৬), একুশে পদক (২০০০), স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১১) লাভ করেন।
  • তিনি ১৮ জুন, ২০০২ সালে মারা যান

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহঃ

প্রবন্ধ: 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' (ফেব্রুয়ারি বইমেলা-১৯৯৪ এবং অখণ্ড প্রকাশ-১৯৯৮। (সূত্র: গ্রন্থটির ভূমিকা অংশে লেখিকার আত্মকথন): এটি মুক্তিযুদ্ধের সত্য কাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস।

'শরৎ প্রতিভা' (১৯৬০), 'বাংলার কবি মধুসূদন' (১৯৬১), 'বাঙালি মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৮৭), 'অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি' (১৯৯৫)।

উপন্যাস: 'বিশ শতকের মেয়ে' (১৯৫৮), 'এক পথ দুই বাঁক' (১৯৫৮), 'কেয়াবন সঞ্চারিণী' (১৯৬২), 'বহ্নিবলয়' (১৯৮৫)।

নাটক: 'দুয়ে দুয়ে চার' (১৯৬৪), 'যে অরণ্যে আলো নেই' (১৯৭৪), 'সূর্যাস্তের পর' (১৯৭৪), 'রোদ জ্বলা বিকেল' (১৯৭৪)।

গল্প: 'রমনা পার্কে' (১৯৬৪)।

আত্মজীবনী: 'বিন্দু-বিসর্গ' (১৯৯১)।

ভ্রমণকাহিনি: 'শাহী এলাকার পথে পথে' (১৯৬৩), 'বস্টনের পথে' (১৯৬৯)।

Content added By

শেখ মুজিবুর রহমান

803

শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ মার্চ ১৯২০ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫)

উপাধি: বঙ্গবন্ধু
পরিচিতি: বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার পিতা, এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা।

জন্ম ও পরিবার

  • জন্ম: ১৭ মার্চ ১৯২০, টুঙ্গিপাড়া, ফরিদপুর জেলা, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলা, বাংলাদেশ)

  • পিতা: শেখ লুৎফুর রহমান

  • মাতা: সায়েরা খাতুন

  • স্ত্রী: বেগম ফজিলাতুন্নেসা

  • সন্তান: হাসিনা, কামাল, জামাল, রেহানা, রাশেল

  • আত্মীয়: শেখ-ওয়াজেদ পরিবার

শিক্ষা

  • ইসলামিয়া কলেজ, কলকাতা

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রাজনৈতিক জীবন

  • ১৯৩৭–১৯৪৭: নিখিল ভারত মুসলিম লীগ

  • ১৯৪৭–১৯৪৯: মুসলিম লীগ

  • ১৯৪৯–১৯৭৫: আওয়ামী লীগ

  • পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় নেতা

  • প্রধান পদসমূহ:

    • প্রথম প্রধানমন্ত্রী: ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ – ২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫

    • রাষ্ট্রপতি: ১১ এপ্রিল ১৯৭১ – ১২ জানুয়ারি ১৯৭২, ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫

    • চেয়ারম্যান: বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ, ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫

অন্যান্য রাজনৈতিক দায়িত্ব

  • বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের উপদেষ্টা (১৯৪৬–১৯৪৮)

  • আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৩–১৯৬৬)

  • পূর্ববঙ্গের কৃষিমন্ত্রী (১৯৫৪)

  • পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (১৯৫৪–১৯৫৮)

  • পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (১৯৫৫–১৯৫৮)

  • পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পমন্ত্রী (১৯৫৬–১৯৫৭)

সাহিত্যকর্ম ও লেখনী

নাম

প্রকাশকাল

প্রকাশনী

বিষয়বস্তু

অসমাপ্ত আত্মজীবনীজুন ২০১২দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডশেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত নিজের জীবনী লিখেছেন। এই গ্রন্থটি ইংরেজিসহ আরও কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়।
কারাগারের রোজনামচামার্চ ২০১৭বাংলা একাডেমিগ্রন্থটি ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে শেখ মুজিবুর রহমানের কারাভোগের দিনলিপি। গ্রন্থটির নামকরণ করেন তার কনিষ্ঠা কন্যা শেখ রেহানা।
আমার দেখা নয়াচীনফেব্রুয়ারি ২০২০বাংলা একাডেমি১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে গণচীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় শান্তি সম্মেলন উপলক্ষে শেখ মুজিবের চীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত।
আমার কিছু কথা২০২০ইতিহাস প্রকাশন

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • জুলিও ক্যুরি শান্তি পুরস্কার (১৯৭৩)

  • স্বাধীনতা পদক (২০০৩)

  • গান্ধী শান্তি পুরস্কার (২০২০)

  • সার্ক সাহিত্য পুরস্কার (২০২৩)


মৃত্যু

  • মৃত্যু: ১৫ আগস্ট ১৯৭৫, ধানমন্ডি, ঢাকা, বাংলাদেশ

  • মৃত্যুর কারণ: সেনা অভ্যুত্থান/গুপ্তহত্যা

  • সমাধি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, গোপালগঞ্জ

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন
পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের জন্মদিন
জননেতা মাওলানা ভাসানীর জন্মদিন
কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন
আবুল ফজল
মাওলানা ভাসানী
শহিদুল্লা কায়সার
শেখ মুজিবুর রহমান
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
তাজউদ্দীন আহমেদ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
কাজী নজরুল ইসলাম

দীনবন্ধু মিত্র

628

দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩)

বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নাটক লেখেন দীনবন্ধু মিত্র। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা রচনা দিয়ে সাহিত্যজীবন শুরু করেন। বাংলার আধুনিক নাট্যধারার প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্তের সমসাময়িক দীনবন্ধু মাইকেল প্রবর্তিত পৌরাণিক বা ঐতিহাসিক নাট্যরচনার পথে না গিয়ে বাস্তবধর্মী সামাজিক নাট্যরচনায় মনোনিবেশ করেন।

  • দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে নদীয়ার চৌবেড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতৃপ্রদত্ত নাম 'গন্ধর্ব নারায়ণ' পরিবর্তন করে নিজে রাখেন 'দীনবন্ধু'।
  • তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' (১৮৪৭) পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যজীবন শুরু করেন।
  • ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, এজন্য সরকার তাঁকে 'রায়বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত করে।
  • তিনি ১ নভেম্বর, ১৮৭৩ সালে মারা যান।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত বিখ্যাত নাটকঃ

'নীলদর্পণ' (১৮৬০): এটি ঢাকার বাংলা প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ। এতে মেহেরপুরের কৃষকদের ওপর নীলকরদের নির্মম নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে। নাটকটি প্রথম মঞ্চায়ন হয় ঢাকায়। দীনবন্ধু মিত্র নাটকটি 'নীলকর-বিষধর-দংশন-কাতর-প্রজানিকর-ক্ষেমঙ্করেণ কেনচিৎ পথিক' ছদ্মনামে রচনা করেন। এ নাটকের অভিনয় দেখতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মঞ্চের অভিনেতাদের লক্ষ্য করে জুত ছুড়ে মেরেছিলেন। নাটকটির ঘটনা, রচনা, মুদ্রণ, প্রকাশ ও প্রথম মঞ্চায়ন সব কিছুই বাংলাদেশে বলে একে 'বাংলাদেশের নাটক' বলা হয়।

দীনবন্ধু মিত্রের অন্যান্য নাটকগুলোঃ

'জামাই বারিক' (১৮৭২): প্রহসনধর্মী নাটকটি ১৪ ডিসেম্বর, ১৮৭২ সালে কলকাতার ন্যাশনাল থিয়েটারে প্রথম মঞ্চই হয়। বিন্দুবাসিনী ও বগলার কলহ এবং দুই স্ত্রীর বৃত্তান্ত এ নাটকের মূল বিষয়। এ নাটকে দেখা যায়, সে সময়কালে দিনের বেলায় স্ত্রীর সাথে জামাইদের দেখা করার কোনো সুযোগ ছিলো না, ফলে রাতে জামাইদের ডাক পড়ত অন্তঃপুরে। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: বিজয়বল্লভ, অভয়কুমার, কামিনী, বগলা, বিন্দুবাসিনী।

' কমলে কামিনী' (১৮৭৩): নাটকটি ২০ ডিসেম্বর, ১৮৭৩ সালে কলকাতার ন্যাশনাল থিয়েটারে প্রথম মঞ্চস্থ হয়। এ নাটকটি কাছাড় অঞ্চলের অভিজাত কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক ভাবে দুর্বল মানুষদের আখ্যান। চরিত্র: সমরকেতু, শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা।

'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩), 'লীলাবতী' (১৮৬৭)।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগুলোঃ

'সুরধুনী কাব্য' (১ম ভাগ- ১৮৭১, ২য় ভাগ- ১৮৭৬), 'দ্বাদশ কবিতা' (১৮৭২)। কাব্যটিতে হিমালয় থেকে গঙ্গাদেবীর সাগরসঙ্গমে যাত্রার ছন্দবদ্ধ বর্ণনা উপস্থাপিত হয়েছে।

দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসনগুলোঃ

'সধবার একাদশী' (১৮৬৬): এটি নব্য ইংরেজি শিক্ষিত যুবকদের মদ্যপান ও বারবনিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে রচিত। এতে তিনটি অঙ্ক আছে।

'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬): প্রহসনটি ১৮৭২ সালে প্রথম অভিনীত হয়। এটি সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে রচিত। এ প্রহসনে বিবাহবাতিকগ্রস্ত এক বৃদ্ধের নকল বিয়ের আয়োজন করে স্কুলের অপরিপক্ক ছেলেরা কিভাবে তাকে নাস্তানুবাদ করে, সে কাহিনিই এ প্রহসনের বিষয়। চরিত্র: নসিরাম, রতা, রাজীব, রাজমণি, কেশব, বৈকুণ্ঠ।

নীলদর্পণ (নাটক)দীনবন্ধু মিত্র
নীলদংশন (উপন্যাস)নীলদংশন (উপন্যাস)
নীললোহিত (গল্প)প্রমথ চৌধুরী

দীনবন্ধু মিত্রের গল্প দুটি হলো 'যমালয়ে জীবন্ত মানুষ' (১২৭৯), 'পোড়া মহেশ্বর' (১২৭৯)।

Content added By

অক্ষয়কুমার বড়াল

750
অক্ষয়কুমার বড়াল (১৮৬০–১৯১৯)

উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকবি অক্ষয়কুমার বড়াল বাংলা গীতিকবিতার ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন। প্রকৃতি, সৌন্দর্যবাদ, কল্পনাপ্রবণ প্রেম, শোক ও মানববন্দনাই ছিল তাঁর কাব্যের মূল উপজীব্য। নারীপ্রেমের শান্তরস ও গভীর আবেগ তাঁর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাংলা গীতিকবিতার ইতিহাসে তিনি ‘বড়াল কবি’ নামে সুপরিচিত।

অক্ষয়কুমার বড়াল ১৮৬০ সালে কলকাতার চোরাবাগানে এক স্বর্ণব্যবসায়ীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম কালীচরণ বড়াল। তাঁদের আদি নিবাস ছিল হুগলী জেলার চন্দননগর।

তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় কলকাতার হেয়ার স্কুলে। তবে পড়াশোনায় তিনি বিশেষ উন্নতি করতে পারেননি এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। যদিও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অগ্রগতি ছিল সীমিত, তবুও সারাজীবন জ্ঞানচর্চায় তিনি নিবেদিত ছিলেন। এই কারণে তাঁকে একজন স্বশিক্ষিত মানুষ বলা যায়।

শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার পর তিনি দিল্লি অ্যান্ড লন্ডন ব্যাংকের হিসাব বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে নর্থ ব্রিটিশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে হিসাব সচিব পদে যোগ দেন এবং সেখান থেকেই অবসর গ্রহণ করেন।

তিনি ১৯ জুন ১৯১৯ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

হেয়ার স্কুলে অধ্যয়নকালে অক্ষয়কুমার বড়াল বিহারীলাল চক্রবর্তীর কবিতায় অনুপ্রাণিত হন। বিহারীলাল ছিলেন বাংলা গীতিকবিতার প্রবর্তক। তাঁর প্রেরণাতেই বড়াল কবিতা রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। বঙ্গদর্শন পত্রিকার ১২৮৯ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘রজনীর মৃত্যু’ প্রকাশিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অক্ষয়কুমার বড়ালকে “বিহারীলালের সাক্ষাৎ ভাবশিষ্য” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কবিতায় নিসর্গপ্রেম, সৌন্দর্যচেতনা ও আবেগের গভীরতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তিনি মৃতা স্ত্রীর স্মৃতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘এষা’ কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন। তিনি ছিলেন মার্জিত রুচির অধিকারী এবং বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাধারার অনুসারী।

সমালোচক সুকুমার সেনের মতে, ছন্দের কৃত্রিম চাতুর্যের প্রতি বেশি ঝোঁক না থাকায় তাঁর ভাবপ্রকাশ হয়েছে স্বতঃস্ফূর্ত। তবে আবেগের তীব্রতায় কোথাও কোথাও ভাষার সংযম বজায় রাখা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।

কাব্যগ্রন্থ

  • প্রদীপ (১৮৮৪)

  • কনকাঞ্জলি (১৮৮৫)

  • ভুল (১৮৮৭)

  • শঙ্খ (১৯১০)

  • এষা (১৯১২)

  • চণ্ডীদাস (১৯১৭)

সম্পাদিত গ্রন্থ

  • রাজকৃষ্ণ রায়ের কবিতা (১৮৮৭)

  • গিরীন্দ্রমোহিনী দাসীর অশ্রুমালা (১৮৮৭)

Content added By

অক্ষয়চন্দ্র সরকার

795

অক্ষয়চন্দ্র সরকার (১৮৪৬–১৯১৭)

ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সমালোচক অক্ষয়চন্দ্র সরকার ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ও সমাজসচেতন ব্যক্তিত্ব। রায়বাহাদুরের পুত্র হয়েও তিনি ছিলেন ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের প্রবল সমর্থক। দেশীয় শিল্পের পুনরুজ্জীবন, স্বদেশী চিন্তা ও স্বায়ত্তশাসনের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের পক্ষে তিনি আজীবন সক্রিয় ছিলেন।

অক্ষয়চন্দ্র সরকার জন্মগ্রহণ করেন ১১ ডিসেম্বর ১৮৪৬ সালে বর্তমান হুগলি জেলার চুঁচুড়ার কদমতলায়। তাঁর পিতা ছিলেন তৎকালীন খ্যাতনামা কবি ও সাহিত্যিক রায়বাহাদুর গঙ্গাচরণ সরকার।

তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা হয় হুগলি কলেজিয়েট স্কুলে এবং পরবর্তীতে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে অধ্যয়ন করেন। কর্মজীবনে প্রথমে বহরমপুরে এবং পরে চুঁচুড়ায় ওকালতি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

প্রথম যৌবনেই তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বঙ্গদর্শন পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। ১৮৭২ সালে বঙ্গদর্শনের প্রথম সংখ্যায় তাঁর ‘উদ্দীপনা’ নামক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়, যা তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

১৮৭২ সালে তিনি মাসিক নবজীবন এবং ১৮৭৩ সালে সাপ্তাহিক সাধারণী পত্রিকা প্রকাশ করেন। নবজীবন পত্রিকাটি ১৮৭৮ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকায় হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, নবীনচন্দ্র সেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর মতো খ্যাতনামা সাহিত্যিকরা নিয়মিত লেখালেখি করতেন। রামেন্দ্রসুন্দরের প্রথম বাংলা রচনাও এই পত্রিকাতেই প্রকাশিত হয়।

চুঁচুড়া থেকে প্রকাশিত সাধারণী পত্রিকার উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক আলোচনা ও হিন্দুসমাজের ভিত্তি দৃঢ় করা। এই পত্রিকায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, যোগেন্দ্রচন্দ্র বসু প্রমুখ প্রথম সারির সাহিত্যিকের লেখা প্রকাশিত হতো।

১৮৭৪ সালে তিনি যুক্তাক্ষরবর্জিত শিশুপাঠ্য কাব্য ‘গোচারণের মাঠ’ এবং একই বছরে ‘শিক্ষানবীশের পদ্য’ কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। সারদাচরণ মিত্রের সহযোগিতায় তিনি ‘প্রাচীন কাব্যসংগ্রহ’ নামে একটি কাব্যসংকলন সম্পাদনা করেন। ১৮৭৪ থেকে ১৮৭৭ সালের মধ্যে খণ্ডে খণ্ডে প্রকাশিত এই সংকলনে বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, গোবিন্দদাস, মুকুন্দ চক্রবর্তী প্রমুখ মধ্যযুগীয় কবিদের কাব্য স্থান পায়।

যদিও তিনি কবিতাও রচনা করেছেন, তবে কবিতার তুলনায় গদ্যরচনাতেই তাঁর খ্যাতি অধিক। ১৮৭৪ সালে রচিত ‘সমাজ সমালোচনা’ এবং মৃত্যুর পরে ১৯২৩ সালে প্রকাশিত ‘রূপক ও রহস্য’ তাঁর গদ্যরচনার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। ১৯০৪ সালে প্রকাশিত ‘বঙ্গভাষার লেখক’ গ্রন্থের ‘পিতাপুত্র’ প্রবন্ধে তিনি পিতা গঙ্গাচরণ সরকার ও নিজের সাহিত্যজীবনের কথা তুলে ধরেন।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে কবি হেমচন্দ্র, সংক্ষিপ্ত রামায়ণ, মোতিকুমারী, মহাপূজা, সনাতনী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি রেন্ট বিল ও এজ অব কনসেন্ট বিল (অ্যাক্ট–১০)-এর বিরুদ্ধে প্রবল ব্রিটিশ-বিরোধী অবস্থান নেন এবং স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহারের সমর্থক ছিলেন। যদিও আদর্শগতভাবে তিনি কংগ্রেসি মধ্যপন্থী ছিলেন। তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনের ষষ্ঠ অধিবেশনের মূল সভাপতি, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি এবং ভারতসভার প্রথম যুগ্ম সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ১৮৮৬ সালের অধিবেশনেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। রায়তদের স্বার্থরক্ষায়ও তিনি বিশেষভাবে সচেষ্ট ছিলেন।

সাহিত্যক্ষেত্রে তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভাবশিষ্য হলেও বঙ্কিমচন্দ্রের মতো দৃঢ়তা ও ঋজুতা তাঁর রচনায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

তিনি ২ অক্টোবর ১৯১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

অক্ষয়কুমার দত্ত

828

বাংলা সাহিত্যে প্রাবন্ধিক হিসেবে সমধিক খ্যাত অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন প্রথম বাঙালি বিজ্ঞানমনস্ক লেখক, সমাজসংস্কারক, শিক্ষাবিদ ও আদি ব্রাহ্মসমাজের প্রধান কর্মপুরুষ। তিনি ১৮৩৮ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সহায়তায় 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় প্রবন্ধ লেখা শুরু করেন।

  • অক্ষয়কুমার দত্ত ১৫ জুলাই, ১৮২০ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার নবদ্বীপের চুপী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' (১৮৪৩) পত্রিকার সম্পাদক। এ পত্রিকাটি ছিল ব্রাহ্ম সমাজের মুখপত্র এবং এর উদ্দেশ্য ছিল ব্রাহ্মসমাজের মাহাত্ম্য প্রচার।
  • তিনি 'দিগদর্শন' (১৮৪২) নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
  • তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সে 'অনঙ্গমোহন' নামে কাব্য রচনা করেন। এটি তাঁর প্রথম রচনা।
  • কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর নাতি।
  • তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে দুর্লভ বৃক্ষচারা সংগ্রহ করে বালিগ্রামের নিজ বাসভবনে 'শোভনোদ্যান' নামে একটি বাগান তৈরি করেন।
  • ১৮ মে, ১৮৮৬ সালে তিনি মারা যান।

অক্ষয়কুমার দত্তের সাহিত্যকর্মসমূহঃ

'ভূগোল' (১৮৪১), 'বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার' (১ম খণ্ড- ১৮৫২, ২য়- খণ্ড ১৮৫৩), 'চারুপাঠ' (১ম খণ্ড- ১৮৫২, ২য় খণ্ড- ১৮৫৪, ৩য় খণ্ড- ১৮৫৯), 'ধর্মনীতি' (১৮৫৫), 'পদার্থবিদ্যা' (১৮৫৬), 'ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়' (১ম খণ্ড- ১৮৭০, ২য় খণ্ড- ১৮৮৩)।

Content added By

অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী

815

অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী (জন্ম: ৭ সেপ্টেম্বর, ১৮৫০- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৮) ছিলেন একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক।

হাওড়ার আন্দুলের স্বনামধন্য ভরদ্বাজ গোত্রীয় দত্তচৌধুরী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী। উনার পিতার নাম মিহিরচন্দ্র চৌধুরী, যিনি দত্তচৌধুরী বংশের ২২তম পুরুষ। সাধারণ্যে ইনি বিশেষ পরিচিত ও সুনাম অর্জন না করলেও তার রচনা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সমসাময়িক সাহিত্যিকদের প্রেরণা ও উৎসাহ যুগিয়েছিল। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম "উদাসিনী", "ভারতগাথা" এবং "সাগরসংগমে"। সঙ্গীতচর্চায় রবীন্দ্রনাথ ও তার ভ্রাতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ অক্ষয়চন্দ্রের সহকর্মী ছিলেন। তৎকালে এম এ পাশ করে তিনি অ্যাটর্নীশিপ পরীক্ষা দেন। তিনি বিখ্যাত "ভারতী" পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ছিলেন।

Content added By

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

778

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত (১৯০৩–১৯৭৬)

কল্লোল যুগের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও সম্পাদক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পর বাংলা সাহিত্যে যে আধুনিকতার ঢেউ ওঠে, তার অন্যতম পুরোধা ছিলেন তিনি। রোমান্টিকতা ও গণচেতনার সমন্বয় তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত জন্মগ্রহণ করেন ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ সালে নোয়াখালীতে। তাঁর পিতা রাজকুমার সেনগুপ্ত নোয়াখালী আদালতের একজন আইনজীবী ছিলেন। যদিও জন্ম নোয়াখালীতে, তাঁদের পারিবারিক আদি নিবাস ছিল বর্তমান মাদারীপুর জেলায়। শৈশব, বাল্যজীবন ও প্রাথমিক শিক্ষা নোয়াখালীতেই সম্পন্ন হয়।

১৯১৬ সালে পিতার মৃত্যুর পর তিনি কলকাতায় তাঁর অগ্রজ জিতেন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের কাছে চলে আসেন। এরপর সাউথ সাবার্বান স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০), সাউথ সাবার্বান কলেজ (বর্তমান আশুতোষ কলেজ) থেকে আই.এ. (১৯২২) এবং ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ বি.এ. (১৯২৪) পাস করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ. (১৯২৬) এবং পরে বি.এল. ডিগ্রি (১৯২৯) লাভ করেন।

১৯২৫ সালে তিনি কল্লোল পত্রিকার প্রকাশনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা কল্লোল যুগের সাহিত্য আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিছুদিন তিনি বিচিত্রা পত্রিকায়ও কাজ করেন। ১৯৩১ সালে অস্থায়ী মুন্সেফ হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীকালে তিনি সাব-জজ, জেলা জজ এবং ল’ কমিশনের স্পেশাল অফিসার পদে উন্নীত হন। ১৯৬০ সালে বিচারবিভাগ থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

১৯২১ সালে প্রবাসী পত্রিকায় নীহারিকা দেবী ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তিনি কবিতা, উপন্যাস ও ছোটগল্প—তিন ক্ষেত্রেই অসামান্য কৃতিত্ব দেখান। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘বেদে’ (১৯২৮) আধুনিক বাংলা উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এই উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিনন্দনপত্র লাভ করেন।

‘কাকজোৎস্না’‘প্রথম কদমফুল’ তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উপন্যাস। বিচারবিভাগে চাকরির সুবাদে বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে ঘুরে তিনি বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের জীবন ঘনিষ্ঠভাবে দেখার সুযোগ পান। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর ছোটগল্পে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘টুটা-ফুটা’ (১৯২৮)। স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘কল্লোল যুগ’ (১৯৫০) বাংলা সাহিত্য ইতিহাসে একটি মূল্যবান দলিল।

তিনি উপন্যাসের আঙ্গিকে আবেগঘন ভাষায় ধর্মগুরুদের জীবনভিত্তিক গ্রন্থও রচনা করেন, যার মধ্যে ‘পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ’‘বীরেশ্বর বিবেকানন্দ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মোটের উপর তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় সত্তরের কাছাকাছি।

উপন্যাস

  • বেদে (১৯২৮)

  • কাকজোৎস্না (১৯৩১)

  • বিবাহের চেয়ে বড় (১৯৩১)

  • প্রাচীর ও প্রান্তর (১৯৩২)

  • প্রথম কদমফুল (১৯৬১)

জীবনীগ্রন্থ

  • পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ (চার খণ্ড, ১৯৫২–১৯৫৭)

  • বীরেশ্বর বিবেকানন্দ (তিন খণ্ড, ১৯৫৮–১৯৬৯)

  • উদ্যত খড়্গ (অখণ্ড সংস্করণ)

  • পরমাপ্রকৃতি শ্রী শ্রী সারদামণি

  • অখণ্ড অমিয় শ্রী গৌরাঙ্গ

স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ

  • কল্লোল যুগ (১৯৫০)

  • জৈষ্ঠের ঝড়

গল্পগ্রন্থ

  • টুটা-ফুটা (১৯২৮)

  • অকাল বসন্ত (১৯৩২)

  • অধিবাস (১৯৩২)

  • যতনবিবি (১৯৪৪)

  • কাঠ খড় কেরোসিন (১৯৪৫)

  • চাষাভুষা (১৯৪৭)

  • সারেঙ (১৯৪৭)

  • হাড়ি মুচি ডোম (১৯৪৮)

  • একরাত্রি (১৯৬১)

কাব্যগ্রন্থ

  • অমাবস্যা (১৯৩০)

  • আমরা (১৯৩৩)

  • প্রিয়া ও পৃথিবী (১৯৩৬)

  • নীল আকাশ (১৯৪৯)

  • আজন্মসুরভী (১৯৫১–৫২)

  • পূর্ব-পশ্চিম (১৯৬৯)

  • উত্তরায়ণ (১৯৭৪)

নাটক

  • একাঙ্ক নাট্য-সংকলন (১৯৪৫)

পুরস্কার

সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৫ সালে

  • জগত্তারিণী পুরস্কার,

  • রবীন্দ্র পুরস্কার

  • শরৎচন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার
    লাভ করেন।

তিনি ২৯ জানুয়ারি ১৯৭৬ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

অজয় ভট্টাচার্য

773

অজয় ভট্টাচার্য (১৯০৬–১৯৪৩)

অজয় ভট্টাচার্য ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, নাট্যকার ও চিত্রপরিচালক। বাংলা চলচ্চিত্র ও সংগীতজগতে তিনি এক স্মরণীয় নাম। হিমাংশু দত্ত, শচীন দেব বর্মন প্রমুখ সুরকারের সুরে এবং বিভিন্ন খ্যাতনামা শিল্পীর কণ্ঠে তাঁর রচিত বহু গান আজও বাংলা সংগীতের অমূল্য সম্পদ। অল্প জীবনকাল হলেও বাংলা গান ও চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অজয় ভট্টাচার্যের জন্ম ৬ জুলাই ১৯০৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের ত্রিপুরার শ্যামগ্রামে। তাঁর পিতা রাজকুমার ভট্টাচার্য কুমিল্লায় ওকালতি করতেন এবং মাতা ছিলেন শশীমুখী দেবী। পিতার কর্মসূত্রে তাঁর পড়াশোনা শুরু হয় কুমিল্লায়, দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য প্রতিষ্ঠিত ঈশ্বর পাঠশালায়

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাহিত্য, সংগীত, গান ও নাট্যচর্চায় পারদর্শিতা অর্জন করেন। পরীক্ষায় ভালো ফল করার সুবাদে কুমিল্লা শহরে তিনি যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯২৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক পশুপতি চট্টোপাধ্যায় ছিলেন তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সহপাঠী।

চলচ্চিত্র ও গ্রামোফোন রেকর্ড—উভয় ক্ষেত্রেই অজয় ভট্টাচার্যের গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বাংলা সবাক চলচ্চিত্রের সূচনালগ্ন থেকেই তাঁর গান শ্রোতাদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে। তিনি প্রায় দুই হাজারেরও বেশি গান রচনা করেন। তাঁর প্রথম লেখা গান ছিল—
‘হাসনুহানা আজ নিরালায় ফুটলি কেন আপন মনে’

তাঁর রচিত গানগুলোর মধ্যে ‘একদিন যবে গেয়েছিল পাখি’, ‘আজো ওঠে চাঁদ’, ‘আমার দেশে যাইও সুজন’, ‘যদি মনে পড়ে সেদিনের কথা’ প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব গান সংকলন আকারেও প্রকাশিত হয়েছে।

গীতিকার হিসেবে সাফল্যের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রের কাহিনি ও সংলাপ রচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ‘অধিকার’, ‘শাপমুক্তি’, ‘নিমাই সন্ন্যাস’, ‘মহাকবি কালিদাস’ প্রভৃতি চলচ্চিত্রে তিনি কাহিনি বা সংলাপ রচনা করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র দুটি হলো ‘অশোক’‘ছদ্মবেশী’

গীতিকার ও চলচ্চিত্রকর্মীর পাশাপাশি অজয় ভট্টাচার্য একজন শক্তিশালী কবিও ছিলেন। তাঁর কবিতায় কল্পনা, আবেগ ও সামাজিক চেতনার প্রকাশ লক্ষ করা যায়।

কাব্যগ্রন্থ

  • রাতের রূপকথা

  • ঈগল ও অন্যান্য কবিতা

  • সৈনিক ও অন্যান্য কবিতা

তিনি মাত্র ৩৭ বছর বয়সে, ২৪ ডিসেম্বর ১৯৪৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। স্বল্পায়ু হলেও বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Content added By

অজয় রায়

746
Content added By

অজিত দত্ত

635
অজিতকুমার দত্ত (১৯০৭–১৯৭৯)

অজিতকুমার দত্ত ছিলেন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ও অধ্যাপক। ত্রিশের দশকের আধুনিক বাংলা কবিতার ধারায় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম এবং কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।

তিনি জন্মগ্রহণ করেন ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৭ সালে ঢাকার বিক্রমপুরে (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ)। পিতা অতুলকুমার দত্তের অকালমৃত্যুর পর সাহিত্যপ্রেমী মা হেমালিনী দেবীর তত্ত্বাবধানে তিনি বড় হন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ও সংস্কৃতে ১৯২৮ সালে বি.এ. এবং ১৯৩০ সালে এম.এ.—উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রিপন স্কুল ও রিপন কলেজে শিক্ষকতা করেন। পরে ইন্ডিয়ান টি মার্কেট এক্সপানশন বোর্ড ও ক্যালকাটা ন্যাশনাল ব্যাংকে দীর্ঘদিন কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে যোগ দেন এবং ১৯৭১ সালে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৩০ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কুসুমের মাস’ প্রকাশিত হয়। তিনি বুদ্ধদেব বসুর সতীর্থ ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে যৌথভাবে ‘প্রগতি’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। কল্লোল পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখির মাধ্যমে তিনি আধুনিক কবিতা ও ছন্দচিন্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা ও শিশুসাহিত্য মিলিয়ে প্রায় ৫০টি প্রবন্ধ রচনা করেন।

কাব্যগ্রন্থ

কুসুমের মাস, পাতাল কন্যা, নষ্ট চাঁদ, পূর্ণনবা, ছড়ার বই, ছায়ার আলপনা, জানালা, কবিতা-সংগ্রহ, শ্রেষ্ঠ কবিতা, সাদা মেঘ কালো পাহাড়।

প্রবন্ধগ্রন্থ

জনান্তিকে, মন পবনের নাও, সরস প্রবন্ধ, বাংলা সাহিত্যে হাস্যরস।

তিনি ৩০ ডিসেম্বর ১৯৭৯ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়

582

অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৩৩–১৯৮৩)

অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বাঙালি নাট্যকার, নাট্য পরিচালক ও অভিনেতা; গণনাট্য ও আধুনিক বাংলা নাটকের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ সালে মানভূম (বর্তমান পুরুলিয়া) জন্ম। ইংরেজিতে অনার্স পাশ (মহারাজা মনীন্দ্রচন্দ্র কলেজ, ১৯৫৭) এবং একই বছর ভারতীয় গণনাট্য সংঘে যোগদান।

১৯৫৪ সালে ‘সংঘাত’ নাটক রচনা। ১৯৬০ সালে নান্দীকার নাট্যগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা। তিন পয়সার পালা নির্দেশনায় বিশেষ খ্যাতি। রচিত নাটক— সেতু বন্ধন, সওদাগরের নৌকা। ১৯৭৭ সালে নান্দীমুখ গোষ্ঠী গঠন (নাটক: পাপপুণ্য)।

চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় ছুটি (১৯৬৫); বাংলা-হিন্দি মিলিয়ে ৬৩টি ছবি। হাটে বাজারে-তে অভিনয় উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যু: ১৩ অক্টোবর ১৯৮৩, কলকাতা।

Content added By

অজিতকুমার গুহ

633
অজিতকুমার গুহ (১৯১৪–১৯৬৯)

অজিতকুমার গুহ ছিলেন বাঙালি শিক্ষাবিদ, লেখক ও বুদ্ধিজীবী; রবীন্দ্রসাহিত্যের বিশিষ্ট অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক।

জন্ম: ১৫ এপ্রিল ১৯১৪, কুমিল্লার সুপারিবাগান। পিতা—নৃপেন্দ্রমোহন গুহ।
শিক্ষা: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আই.এ., বি.এ.; কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম.এ. (১৯৩৯); বি.টি. পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম।

কর্মজীবন: ১৯৪২ সালে শিক্ষকতা শুরু। জগন্নাথ কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (১৯৪৮–১৯৬৮)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন অধ্যাপক (১৯৫৭–৫৮)। পরে টিচার্স ট্রেনিং কলেজের উপাধ্যক্ষ।

সাহিত্য ও মতাদর্শ: শান্তিনিকেতনে অবস্থানকালে রবীন্দ্রসাহিত্যে গভীর দখল অর্জন। রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ সম্পাদনা ও ভূমিকা রচনা। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য পাকিস্তান আমলে দু’বার কারাবরণ। মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিচর্চার প্রবক্তা।

সম্পাদিত গ্রন্থ

মেঘদূত, কৃষ্ণকান্তের উইল, গল্পগুচ্ছ, সোনার তরী, গীতাঞ্জলি।

মৃত্যু: ১২ নভেম্বর ১৯৬৯, কুমিল্লা।
সম্মাননা: মরণোত্তর একুশে পদক (২০১৩)।

Content added By

অজিতকুমার চক্রবর্তী

607

অজিতকুমার গুহ (১৯১৪–১৯৬৯)

অজিতকুমার গুহ ছিলেন বাঙালি শিক্ষাবিদ, লেখক ও বুদ্ধিজীবী; রবীন্দ্রসাহিত্যের বিশিষ্ট অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক।

জন্ম: ১৫ এপ্রিল ১৯১৪, কুমিল্লার সুপারিবাগান। পিতা: নৃপেন্দ্রমোহন গুহ।
শিক্ষা: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ (আই.এ., বি.এ.), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলা এম.এ., ১৯৩৯); বি.টি. পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম।

কর্মজীবন: ১৯৪২ সালে শিক্ষকতা শুরু। জগন্নাথ কলেজে অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (১৯৪৮–১৯৬৮)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন অধ্যাপক (১৯৫৭–৫৮)। টিচার্স ট্রেনিং কলেজে উপাধ্যক্ষ।

সাহিত্য ও মতাদর্শ: শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রসাহিত্যে পারদর্শিতা অর্জন। রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ সম্পাদনা ও ভূমিকা রচনা। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়, পাকিস্তান আমলে দুইবার কারাবরণ। মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিচর্চার প্রবক্তা।

সম্পাদিত গ্রন্থ: মেঘদূত, কৃষ্ণকান্তের উইল, গল্পগুচ্ছ, সোনার তরী, গীতাঞ্জলি।

মৃত্যু: ১২ নভেম্বর ১৯৬৯, কুমিল্লা।
সম্মাননা: মরণোত্তর একুশে পদক (২০১৩)।

Content added By

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

583

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় (৬ নভেম্বর ১৯৩০ (২২শে কার্তিক ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ) - ১৯ জানুয়ারি ২০১৯) ছিলেন এক প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি লেখক।

  • জন্ম: ৬ নভেম্বর ১৯৩০, ঢাকা জেলার রাইনাদি গ্রাম। পিতা: অভিমন্যু বন্দ্যোপাধ্যায়, মাতা: লাবণ্যপ্রভা দেবী।

  • শিক্ষা: কৃষ্ণনাথ কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (বি.কম., বি.টি.)।

  • কর্মজীবন: প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক, সাটুই রাজেন্দ্র নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক, 'যুগান্তর' পত্রিকায় সাংবাদিক।

  • সাহিত্যকর্ম:

    • প্রথম গল্প: কার্ডিফের রাজপথ, প্রথম উপন্যাস: সমুদ্র মানুষ (১৯৫৮, মানিক স্মৃতি পুরস্কার)

    • জনপ্রিয় সিরিজ: নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে (৪ খণ্ড)

    • অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ও গল্প: অলৌকিক জলযান, ঈশ্বরের বাগান, একজন দৈত্য একটি লাল গোলাপ, সমুদ্র মানুষ, দুটি ভারতবর্ষ প্রভৃতি।

  • পুরস্কার: মানিক স্মৃতি (১৯৫৮), বিভূতিভূষণ স্মৃতি (১৯৯১), বঙ্কিম পুরস্কার (১৯৯৮), সাহিত্য অকাদেমি (২০০১), শরৎ পুরস্কার (২০০৫) ইত্যাদি।

  • মৃত্যু: ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, কলকাতা (৮৫ বছর)।

Content added By

অতুলপ্রসাদ সেন

652

অতুলপ্রসাদ সেন (২০ অক্টোবর ১৮৭১ – ২৬ আগস্ট ১৯৩৪)

  • জাতি: ভারতীয় বাঙালি গীতিকার, সুরকার ও গায়ক।

  • জন্ম: ২০ অক্টোবর ১৮৭১, ঢাকার মাতুলালয়।

  • শিক্ষা: প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা; লন্ডনে ব্যারিস্টারি।

  • বিবাহ: মামাতো বোন হেমকুসুমের সঙ্গে বিয়ে, স্কটল্যান্ডে আইনসিদ্ধ।

  • কর্মজীবন: কলকাতা ও রংপুরে আইনজীবী; পরে লক্ষ্ণৌয়ে আউধ বার অ্যাসোসিয়েশন ও কাউন্সিলের সভাপতি।

  • সঙ্গীত ও সাহিত্য:

    • বাংলা গানের ঠুংরি, দাদরা ও রাগধর্মী ঢঙ্গের প্রবর্তক।

    • প্রধান গান: উঠ গো ভারত-লক্ষ্মী, বলো বলো বলো সবে, মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!

    • গানের সংখ্যা: ২০৬; উল্লেখযোগ্য ৫০–৬০ গান জনপ্রিয়।

    • গানের ধারা: দেশপ্রেম, ভক্তি ও প্রেম; বেদনার প্রভাব দেখা যায়।

    • গ্রন্থ: গীতিপুঞ্জ (১৯৩১), কাকলি (স্বরলিপিসহ)।

  • সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদান: বঙ্গ-সাহিত্য সম্মিলনের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক, স্থানীয় জনকল্যাণে অর্থ ব্যয়।

  • মৃত্যু: ২৬ আগস্ট ১৯৩৪, লক্ষ্ণৌ। সমাধিস্থল: গাজীপুরের কাওরাইদ।

Content added By

অতুলচন্দ্র গুপ্ত

669
Content added By

অদ্বৈত মল্লবর্মণ

656

মালো বংশের সন্তান অদ্বৈত মল্লবর্মণ ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। ব্যক্তিগত জীবনের প্রগাঢ় অভিজ্ঞতা, সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির প্রভাববলে সমাজের নিচু শ্রেণির মানুষের চালচিত্র সার্থকভাবে উপস্থাপন করেছেন তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মে। তিনি শৈশবে পিত-মাতৃহীন হন এবং গ্রামের মালোদের চাঁদার টাকায় পড়ালেখা করেন।

  • অদ্বৈত মল্লবর্মণ ১ জানুয়ারি, ১৯১৪ সালে গোকর্ণ গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দরিদ্র ধীবর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি মাসিক 'ত্রিপুরা' পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৩৬ সালে নরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রতিষ্ঠিত এবং প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় প্রকাশিত 'নবশক্তি' পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৪৫ সালে 'সাপ্তাহিক দেশ' পত্রিকায় সম্পাদকের সহকারী হিসেবে যোগ দেন এবং আমৃত্যু এ পদে বহাল ছিলেন। সহকারী সম্পাদক: নবযুগ, কৃষক, যুগান্তর, মাসিক মোহাম্মদী।
  • তাঁর জীবদ্দশায় 'দলবেঁধে', 'ভারতের চিঠি: পার্ল বাককে', 'এক পয়সার একটি' (১৯৪৪) প্রকাশিত হয়।
  • তিনি মাত্র ৩৭ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে কলকাতার নারকেলডাঙ্গার ষষ্ঠীপাড়ার নিজ বাড়িতে মারা যান।

তাঁর উপন্যাসগুলোঃ

'তিতাস একটি নদীর নাম' (১৯৫৬): এটি ১৯৪৫ সালে প্রথমে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কয়েকটি অধ্যায় মুদ্রিত হওয়ার পর এ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যায়। পরে বন্ধুবান্ধব ও পাঠকদের আগ্রহের কারণে পুনরায় কাহিনিটি লেখেন। লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে এটি ৪ খণ্ডে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত তিতাস নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের দরিদ্র, শ্রমজীবী 'মালো' সম্প্রদায়ের আশা-নিরাশা, আনন্দ-বেদনা, শ্রম-বিশ্রাম, সংকীর্ণতা ও ঔদার্যকে লেখক এ উপন্যাসে শিল্পরূপ দিয়েছেন। জীবিকার জন্য তারা দিনরাত পরিশ্রম করলেও প্রাচুর্যের আলো কখনোই তাদের জীবনে প্রবেশ করে না। এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র রক্তমাংসময় কোনো ব্যক্তি নয়, তিতাস নদী। কিশোর, কিশোরের স্ত্রী, সুবল, বাসন্তী প্রভৃতি চরিত্রগুলো তিতাসকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। ১৯৬৩ সালে উৎপল দত্ত উপন্যাসটির নাট্যরূপ দেন। ঋত্বিক ঘটক ১৯৭৩ সালে এ উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

'সাদা হাওয়া' (১৯৯৬), 'রাঙ্গামাটি' (১৯৯৭), 'জীবনতৃষা' (অনূদিত), 'নয়াবসত'।

Content added By

অনিতা অগ্নিহোত্রী

632
Content added By

অনিল মুখার্জি

665
Content added By

অনির্বাণ

678
Content added By

অনীশ দেব

667
Content added By

অনুরূপা দেবী

700
Content added By

অন্নদাশঙ্কর রায়

764

অন্নদাশঙ্কর রায় (১৫ মার্চ ১৯০৪ – ২৮ অক্টোবর ২০০২) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, লেখক ও ছড়াকার। তিনি উড়িষ্যার ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা নিমাইচরণ রায় ঢেঙ্কানল রাজস্টেটে কর্মরত ছিলেন এবং মাতা হেমনলিনী কটকের প্রখ্যাত পালিত বংশের কন্যা। অন্নদাশঙ্করের শিক্ষাজীবন পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় এবং তিনি ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে আই.সি.এস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে ইংল্যান্ডে সরকারি খরচে দুই বছর শিক্ষালাভ করেন। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মার্কিন কন্যা অ্যালিস ভার্জিনিয়া অনফোর্ডকে বিবাহ করেন, যিনি লীলা রায় নামে পরিচিত এবং তার অনেক বাংলা লেখা ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। সরকারি চাকরিতে তিনি কুষ্টিয়া, নদীয়া, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার হাকিম ও জজ পদে নিযুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের বিচার বিভাগের সেক্রেটারি হন। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অবসর নেন। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় বাংলা আকাদেমির প্রথম সভাপতি হন।

অন্নদাশঙ্করের সাহিত্যকর্মে উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও আত্মজীবনী অন্তর্ভুক্ত। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে সত্যাসত্য, যার যেথা দেশ, অজ্ঞাতবাস, কঙ্কাবতী, দুঃখমোচন, মর্ত্যের স্বর্গ, অপসারণ, আগুন নিয়ে খেলা, অসমাপিকা, পুতুল নিয়ে খেলা, না। প্রবন্ধগুলোর মধ্যে রয়েছে তারুন্য, আমরা, জীবনশিল্পী, ইশারা, জীয়নকাঠি, দেশকালপাত্র, প্রত্যয়, নতুন করে বাঁচা, আধুনিকতা, পারী, শিক্ষার সংকট, চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, সাতকাহন, আত্মজীবনী, বিনুর বই, পথে প্রবাসে, জাপানে। ছোটগল্প ও গল্পের মধ্যে রয়েছে প্রকৃতির পরিহাস, দু কান কাটা, হাসন শখী, মন পাহন, যৌবন জ্বালা, কামিনি কাঞ্চন, রুপের দায়

অন্নদাশঙ্কর রায় বহু পুরস্কারে ভূষিত হন, যেমন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬২), আনন্দ পুরস্কার (১৯৮৩ ও ১৯৯৪), বিদ্যাসাগর পুরস্কার, শিরোমণি পুরস্কার (১৯৯৫), রবীন্দ্র পুরস্কার, নজরুল পুরস্কার, বাংলাদেশের জেবুন্নিসা পুরস্কার। এছাড়াও তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী পদক, দেশিকোত্তম সম্মান এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডিলিট) উপাধি পান। তিনি ২৮ অক্টোবর ২০০২ মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

অন্নদাচরণ খাস্তগীর

615
Content added By

অবধূত

668
Content added By

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

641

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ আগস্ট ১৮৭১ – ৫ ডিসেম্বর ১৯৫১) ছিলেন একজন খ্যাতিমান ভারতীয় বাঙালি চিত্রশিল্পী, নন্দনতাত্ত্বিক এবং লেখক। তিনি প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের প্রপৌত্র এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র। শৈশব থেকেই শিল্পকলার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন এবং ১৮৮১–১৮৮৯ পর্যন্ত সংস্কৃত কলেজে অধ্যয়ন করেন। ১৮৯৬ সালে কলকাতা আর্ট স্কুলের সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম এই মর্যাদা পান। তিনি পশ্চিমা শিক্ষার সঙ্গে ভারতীয় রীতির সংমিশ্রণে চিত্রকলা সৃষ্টি করেন; উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণলীলা সিরিজ, শাজাহান, শেষযাত্রা, বুদ্ধ, সুজাতা, ঋতুসঙ্ঘ, ওমর খৈয়াম, বসন্তের হিমালয়, আরব্যপোন্যাসের গল্প, কবিকঙ্কন চন্ডী, প্রত্যাবর্তন, বজ্রমুকুট এবং কচদেবযানি। সাহিত্যকর্মে প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ছাব্বিশ এবং গল্প, কবিতা, চিঠিপত্র, শিল্প আলোচনা, যাত্রাপালা ও পুথিসহ রচনার সংখ্যা প্রায় তিনশত্তর। উল্লেখযোগ্য রচনা: শকুন্তলা, ক্ষীরের পুতুল, রাজ কাহিনী, ভারত শিল্প, ভূতপতরীর দেশ, নালক, বাংলার ব্রত, পথে বিপথে, খাজাঞ্চির খাতা, প্রিয় দর্শিকা, চিত্রাক্ষর, বসন্তের হিমালয়, বাগেশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী, বুড়ো আংলা, ঘরোয়া, জোড়াসাঁকোর ধারে, আপন কথা, সহজ চিত্র শিক্ষা, ভারত শিল্পের ষড়ঙ্গ, আলোর ফুলকি, ভারত শিল্পে মূর্তি, মাসি, একে তিন তিনে এক, শিল্পায়ন, মারুতির পুঁথি, রং বেরং। যাত্রাপালা ও পুথি রচনার মধ্যে রয়েছে অরণ্যকান্ত পালা, কঞ্জুশের পালা, কাক ও পানির পালা, ঋষিযাত্রা, মারুতির পুঁথি, চাইবুড়োর পুঁথি। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৫ ডিসেম্বর ১৯৫১ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

অমর মিত্র

682
Content added By

অমলেন্দু দে

713
Content added By

অমিতাভ ঘোষ

627
Content added By

অমিতাভ চৌধুরী

585
Content added By

অমিতাভ দাশগুপ্ত

705
Content added By

অমূল্যকুমার দাশগুপ্ত

549
Content added By

অমিয় চক্রবর্তী

640

ত্রিশের দশকের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি অমিয় চক্রবর্তী। বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান ছিল রবীন্দ্র প্রভাব বলয়ের বাইরে এবং কবিতা ছাড়াও তিনি পরিচিত ছিলেন গদ্যশিল্পী হিসেবে। আধুনিক ভাব, দর্শন ও রসের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সংযোজন ঘটিয়েছেন। মরমী সুর ও আধ্যাত্মিকতাও তাঁর কবিতার অন্যতম বিষয়

  • অমিয় চক্রবর্তী ১০ এপ্রিল, ১৯০১ সালে হুগলীর শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি পঞ্চপাণ্ডবদের একজন এবং রবীন্দ্রোত্তর যুগের অন্যতম আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত।
  • তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব (১৯২৬-৩৩) ছিলেন।
  • তিনি ড্যানিশ কন্যা হিয়োর্ডিস সিগার্ডকে বিয়ে করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ বিদেশিনী নববধুর নাম দিয়েছেন 'হৈমন্তী'।
  • তিনি ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), পদ্মভূষণ উপাধি (১৯৭০) পান।
  • তিনি ১২ জুন, ১৯৮৬ সালে শান্তিনিকেতনে মারা যান।

তাঁর কাব্যগুলোঃ

‘ একমুঠো ” (১৯৩৯): বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে মানুষের ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, তেমনি মানুষের মনোজাগতিক চিন্তাতেও বাড়ছে জটিলতা। কবি এ কাব্যে সময়কে বিবেচনায় এনে মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন ।

' কবিতাবলী ' (১৯২৫), ' উপহার ' (১৯২৭), ‘ খসড়া ’ (১৯৩৮), ‘মাটির দেয়াল' (১৯৪২), ‘অভিজ্ঞান বসন্ত’ (১৯৪৩), ‘ দূরবাণী ’ (১৯৪৩), ‘ পারাপার' (১৯৫৩), ‘ পালাবদল' (১৯৫৫), ‘ঘরে ফেরার দিন' (১৯৬১), ‘হারানো অর্কিড’ (১৯৬৬), ‘পুষ্পিত ইমেজ' (১৯৬৭), ‘অনিঃশেষ’ (১৯৭৬)।

তাঁর বিখ্যাত কবিতা:

‘ বাংলাদেশ’: এটি ‘অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত। এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। এতে উল্লেখ আছে পদ্মা, যমুনা নদী ও প্রকৃতির কথা ।

Content added By

অমিয়ভূষণ মজুমদার

604
Content added By

অমৃতলাল বসু

685
Content added By

অমর্ত্য সেন

645

অমর্ত্য সেন : অমর্ত্য সেন ১৯৩৩ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলায়। তিনি দুর্ভিক্ষ, মানব উন্নয়ন তত্ত্ব, জনকল্যাণ অর্থনীতি ও গণদারিদ্রের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ বিষয়ে গবেষণা এবং উদার রাজনৈতিক অবদান রাখার জন্য ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। অমর্ত্য সেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। তিনি বর্তমানে ভারতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য।
নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির দিক থেকে তিনি দ্বিতীয় বাঙালি, উপমহাদেশে ষষ্ঠ এবং ২২তম এশীয়। তিনি অর্থনীতিতে নোবেল জয়ী প্রথম এশীয়। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Poverty and Famine', 'The Idea of Justice', 'Identity and Violence: The illusion of destiny', 'The Country of First boys'

Content added By

অরবিন্দ পোদ্দার

589
Content added By

অরুণ মিত্র

613
Content added By

অরুণ রায়

732
Content added By

অরুণকুমার মিত্র

642
Content added By

অরূপরতন ভট্টাচার্য

561
Content added By

অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

559
Content added By

অশোকবিজয় রাহা

632
Content added By

অশোক মিত্র

668
Content added By

অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

587
Content added By

অসীম সাহা

702
Content added By

আকবর হোসেন (সাহিত্যিক)

723
Content added By

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

604

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭)

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী আখতারুজ্জামান ইলিয়াস মূলত নিরীক্ষাপ্রবণ শিল্পী। তাঁর গল্পগুলোতে পুরান ঢাকার প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রচিত। অনাহার, অভাব, দারিদ্র্য ও শোষণের শিকার হয়ে যারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে, সেসব অবহেলিত মানুষের জীবনাচরণ তাঁর গল্প ও উপন্যাসে উজ্জ্বলভাবে অঙ্কিত ।

  • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার গোটিয়া গ্রামে (মাতুলালয়) জন্মগ্রহণ করেন।
  • পৈতৃক নিবাস চেলোপাড়া, বগুড়া। ডাকনাম- মঞ্জু।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮২), একুশে পদক (মরণোত্তর)- ১৯৯৯ পান।
  • তিনি ১৯৬৫ সালে জগন্নাথ কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ঢাকা কলেজে আমৃত্যু অধ্যাপনা করেন।
  • তিনি ৪ জানুয়ারি, ১৯৯৭ সালে ক্যান্সার রোগে আক্রন্ত হয়ে মারা যান।

তাঁর উপন্যাস দুটি যথা:

‘চিলেকোঠার সেপাই' (১৯৮৭): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। এটি উনসত্তরের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত। চরিত্র: ওসমান, খিজির, আনোয়ার ।

‘খোয়াবনামা’ (১৯৯৬): এতে গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ তেভাগা আন্দোলন, ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। কাৎলাহার বিলের দু'ধারের চাষী-মাঝিদের জীবনচরিত এ উপন্যাসের উপজীব্য।

গল্পগ্রন্থঃ

‘অন্যঘরে অন্যস্বর' (১৯৭৬): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫ সালে রচিত নিরুদ্দেশ যাত্রা, উৎসব, প্রতিশোধ, যোগাযোগ, ফেরারী, অন্যঘরে অন্যস্বর ইত্যাদি গল্প নিয়ে তিনি এ গল্পগ্রন্থটি প্রকাশ করেন। এ গল্পগ্রন্থে প্রথমবারের মতো পুরনো ঢাকার জনজীবন বিশেষত্ব পেয়েছে।

‘খোঁয়ারি’ (১৯৮২), ‘দুধেভাতে উৎপাত' (১৯৮৫), ‘দোজখের ওম' (১৯৮৯)

গল্পঃ

‘রেইনকোট’ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), ‘জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), ‘ফোঁড়া’ (মার্কসীয় তত্ত্বভিত্তিক), ‘মিলির হাতে স্টেনগান' (স্বাধীনতা পরবর্তী বিশৃঙ্খল বাংলাদেশের প্রকৃত রূপ রূপায়িত)।

প্রবন্ধগ্রন্থঃ

'সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু' (১৯৯৮): এতে ২২টি প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত আছে।

Content added By

আজিজুর রহমান

792
Content added By

আজিজুল হাকিম

688
Content added By

আতিকুল হক চৌধুরী

658
Content added By

আনিস চৌধুরী

635
Content added By

আনিসুজ্জামান

722

বাংলাদেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও মনস্বী অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক সম্মান, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়াও তিনি উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেছেন শিকাগো ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তিনি দীর্ঘকাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। আনিসুজ্জামান উচ্চমানের গবেষণা ও সাবলীল গদ্য রচনার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক (২০১৮) ছিলেন।

  • আনিসুজ্জামান ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় (পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট গ্রাম) জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর পিতার নাম ডা. এ.টি.এম মোয়াজ্জেম ও মাতার নাম সৈয়দা খাতুন।
  • তিনি দাউদ পুরস্কার (১৯৬৫), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭০), একুশে পদক (১৯৮৫), আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃক প্রদত্ত আনন্দ পুরস্কার (১৯৯৩, ২১০৭), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিলিট (২০০৫), ভারত সরকারের পদ্মভূষণ (২০১৪), স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৫), ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী পদকসহ (২০১৮) বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
  • তিনি ১৪ মে, ২০২০ সালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সাহিত্যকর্মসমূহঃ

'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪), 'মুসলিম বাংলার সাময়িক পত্র' (১৯৬৯), 'স্বরূপের সন্ধানে' (১৯৭৬), 'আঠারো শতকের চিঠি' (১৯৮৩), 'পুরোনো বাংলা গদ্য' (১৯৮৪), 'বাঙালি নারী সাহিত্যে ও সমাজে' (২০০০), 'বাঙালি সংস্কৃতি ও অন্যান্য', 'ইহজাগতিকতা ও অন্যান্য', 'সংস্কৃতি ও সংস্কৃতি সাধক', 'চেনা মানুষের মুখ', 'আমার একাত্তর' (১৯৯৭), 'আমার চোখে' (১৯৯৯), 'কাল নিরবধি' (২০০৩), 'বাংলাদেশের উৎসব' (২০০২৮), 'মুক্তির সংগ্রাম' (২০১২), 'বিপুলা পৃথিবী' (২০১৫)।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ 'জাদুঘরে কেন যাব'। রচনাটি 'ঐতিহ্যায়ন' নামক স্মারক পুস্তিকা থেকে সংকলিত।

আনিসুজ্জামানের 'কাল নিরবধি'ঃ

আনিসুজ্জামানের 'কাল নিরবধি' (২০০৩) একটি স্মৃতিকথা। এটি ২১ নভেম্বর, ১৯৯৭ থেকে ২৮ আগস্ট, ১৯৯৮ পর্যন্ত 'ভোরের কাগজ' পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে এবং ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ থেকে ৮ মার্চ, ২০০২ পর্যন্ত 'প্রথম আলো' পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এ স্মৃতিকথার শুরু আনিসুজ্জামানের পূর্বপুরুষের জীবন বৃত্তান্ত দিয়ে এবং শেষ হয় মুক্তিযুদ্ধের সূচনার মাধ্যমে।

Content added By

আনিসুল হক

696

আনিসুল হক (জন্ম: ৪ মার্চ ১৯৬৫, নীলফামারী) একজন বাংলাদেশী কবি, লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক। তিনি বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক এবং কিশোর আলোর সম্পাদক পদে কর্মরত। মুক্তিযুদ্ধকালীন সত্যঘটনা নিয়ে তার লেখা ‘মা’ উপন্যাসটি বিশেষ জনপ্রিয় এবং এটি ইংরেজি ও ওড়িয়া ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি রংপুর জিলা স্কুল থেকে ১৯৮১ সালে এসএসসি এবং রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন, এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ে বিভাগে যোগদান করেন, কিন্তু অল্পকালের মধ্যে সাংবাদিকতায় চলে আসেন। তিনি ১৯৮৭ সালে সাপ্তাহিক দেশবন্ধু, ১৯৮৯ সালে সাপ্তাহিক পূর্বাভাস, ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক খবরের কাগজ এবং ১৯৯৩–১৯৯৮ পর্যন্ত দৈনিক ভোরের কাগজের সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাহিত্যকর্মের মধ্যে গল্পে ‘যে স্বপ্ন দেখতে জানতো’, ‘আজকালকার ভালোবাসার গল্প’, ‘অসমাপ্ত চুম্বনের ১২ বছর পর’, কবিতায় ‘খোলা চিঠি সুন্দরের কাছে’, ‘আমি আছি আমার অনলে’, ‘জলরংপদ্য’, ‘তোমাকে ভাবনা করি’, উপন্যাসে ‘মা’, ‘বীর প্রতীকের খোঁজে’, ‘নিধুয়া পাথার’, ‘আয়েশামঙ্গল’, ‘ফাঁদ’, ‘খেয়া’, ‘ভালোবাসা আমি তোমার জন্য কাঁদছি’, নাটকে ‘নাল পিরান’, ‘করিমন বেওয়া’, ‘প্রত্যাবর্তন’, ‘সাঁকো’, ‘মেগা সিরিয়াল ৫১বর্তী’, ব্যঙ্গাত্মক রচনায় ‘গদ্যকার্টুন’, ‘কথাকার্টুন’, ‘গণতান্ত্রিক ফ্যান্টাসি’, ‘রাজা যায় রানি আসে’, ‘ছাগলতন্ত্র’, ‘অশ্বডিম্ব’, ‘হাসতে হাসতে খুন’ উল্লেখযোগ্য। তিনি সিনেমার জন্যও কাজ করেছেন, যেমন ‘ব্যাচেলর’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘বৃত্তের বাইরে’ ও ‘স্বপ্নডানায়’। আনিসুল হক পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ টিভি নাট্যকার পুরস্কার, টেনাশিনাস পদক, খুলনা রাইটার্স ক্লাব পদক, কবি মোজাম্মেল হক ফাউন্ডেশন পুরস্কার, বাংলা একাডেমী পুরস্কার (২০১২), আনন্দ আলো শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০১৯) সহ বিভিন্ন সম্মাননা।

Content added By

আনোয়ার পাশা

660

রবীন্দ্র সাহিত্যের অনুরাগী ভক্ত ও প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক। তাঁর সাহিত্যকর্মে ফুটে উঠেছে দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা। আমৃত্যু তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক।

  • আনোয়ার পাশা ১৫ এপ্রিল, ১৯২৮ সালে ডবকাই গ্রাম, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।
  • রাজশাহী কলেজে বিএ অধ্যয়নকালে 'হাস্নাহেনা' শিরোনামে তাঁর একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।
  • তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (মরণোত্তর) পান।
  • ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে পাক-বাহিনী (আল বদর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা থেকে তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে মিরপুর বধ্যভূমিতে হত্যা করে।

তাঁর সাহিত্যকর্মসমূহঃ

উপন্যাস:
'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩): এটি মুক্তিযুদ্ধের উপর রচিত প্রথম উপন্যাস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবে আনোয়ার পাশা এপ্রিলে এটি রচনা শুরু করেন এবং রূপ মাসে সমাপ্ত করেন। ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে এ উপন্যাসে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনের মাধ্যমে ঔপন্যাসিক নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন।

'নীড় সন্ধানী' (১৯৬৮), 'নিশুতি রাতের গাথা' (১৯৬৮)

'নীড় সন্ধানী' (১৯৬৮), 'নিশুতি রাতের গাথা' (১৯৬৮)

কাব্য : 'নদী নিঃশেষিত হলে' (১৯৭০), 'সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী' (১৯৭৪)।

Content added By

আফজাল চৌধুরী

661

আফজাল চৌধুরী (১৯৪২-২০০৪) বাংলা সাহিত্যের ষাটের দশকের অন্যতম প্রধান কবি। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ "কল্যাণব্রত" প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। "সাহিত্যের টাইরেসিয়াস" খ্যাত এই দূরদর্শী কবি আত্মিক দিক দিয়ে নিপীড়িত বিশ্বের সকল মানুষের পক্ষে ছিলেন অত্যন্ত সোচ্চার।

সাহিত্যকর্ম

কাব্যগ্রন্থঃ

কল্যাণব্রত(১৯৬৯), হে পৃথিবী নিরাময় হও(১৯৭৯), শ্বেতপত্র(১৯৮৩), সামগীত দুঃসময়ের(১৯৯১) , শবেমেহেরের ছুটি(২০০৫), নয়া পৃথিবীর জন্য (২০০৬), বিশ্বাসের দিওয়ান (২০০৭), এই ঢাকা এই জাহাঙ্গীরনগর (২০১১), বন্দী আরাকান ও অন্যান্য কবিতা (২০১৭), অন্য গোলার্ধে হৃদয় (অপ্রকাশিত) ইত্যাদি।

প্রবন্ধগ্রন্থঃ

  • ঐতিহ্যচিন্তা ও রসুল প্রশস্তি(১৯৭৯)
  • তাঁর কাব্যালোকে সৈয়দ আলী আহসান(২০১২)
  • সিলেটে সুফি সাধনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০১৩)
  • মক্কার পথ:মোহাম্মদ আসাদের মহাজীবন (২০১৫)
  • প্রতিশ্রুত কথকতা(অপ্রকাশিত)
  • কবিতার সংসারে জটিলতা(অপ্রকাশিত)
  • সমকালীন সাহিত্যের ধারা (অপ্রকাশিত)
  • নান্দনিক ভুবন

অনুবাদঃ

  • বার্নাবাসের বাইবেল(১৯৯৬)
  • জালালুদ্দীন রুমির কবিতা(২০১৩)
  • আলী শরীয়তির কবিতা ইত্যাদি।

নাটক

  • সিলেট বিজয় (২০০৫)
  • বাঁশি

সম্পাদনাঃ

  • আফগানিস্তানঃ আমার ভালোবাসা ( কবি আল মাহমুদ সহযোগে)
  • ঐতিহ্য( ত্রৈমাসিক সাহিত্যপত্রিকা)।

পুরস্কার/সম্মাননা

  • মহাকবি সৈয়দ সুলতান সাহিত্য পুরস্কার
  • রাগীব রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার (২০০১)
  • কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার (২০০৪)
  • বিএনএসএ পুরস্কার ইত্যাদি।

কবি আফজাল চৌধুরী ২০০৪ সালের ৯ জানুয়ারি পরলোকগমন করেন।

Content added By

আবু ইসহাক

1.8k
আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩)

প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক আবু ইসহাক ছিলেন জীবনসন্ধানী লেখক। তাঁর রচনার মূল বিষয় ছিল বিশ্বযুদ্ধ, দূর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্থ নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র, যা তিনি নির্মোহ দৃষ্টিতে উপস্থাপন করেছেন।

  • আবু ইসহাক ১ নভেম্বর, ১৯২৬ সালে শরিয়তপুরের নডিয়া উপজেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৪০ সালে 'রসের জলসায়' গল্পটি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
  • ১ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালে এনএসআই এর খুলনা বিভাগের প্রধানের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমির 'সমকালিন বাংলা ভাষার অভিধান' (১৯৯৩) সম্পাদনা করেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৩), একুশে পদক (১৯৯৭) পান।
  • চাকরি জীবনের শেষ পর্যায়ে খুলনার খালিশপুর এলাকায় 'সূর্যদীঘল বাড়ি' নামে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন।
  • তিনি ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩ সালে ঢাকায় মারা যান।

তাঁর উপন্যাসগুলোঃ

'সূর্য দীঘল বাড়ী' (১৯৫৫): এটি প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। পঞ্চাশের মন্বন্তর, দেশ বিভাগ, স্বাধীনতার আনন্দ ও বেদনাসহ বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এ উপন্যাস। এপ্রিল, ১৯৮৯ সালে এর কিশোর সংস্করণ প্রকাশিত হয়। প্রধান চরিত্র: জয়গুন।

'পদ্মার পলিদ্বীপ' (১৯৮৬): এটির প্রথম ১৬টি অধ্যায় ১৯৭৪-৭৬ পর্যন্ত 'মুখর মাটি' নামে বাংলা একাডেমির 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। এর অনেক পরে তিনি উপন্যাসটি ৩২টি অধ্যায়ে সমাপ্ত করে ১৯৮৬ সালে 'পদ্মার পলিদ্বীপ' নামে প্রকাশ করেন। এ উপন্যাসের একদিকে রয়েছে পদ্মাতীর কেন্দ্রীক চরের অধিবাসীর জীবনসংগ্রাম, পদ্মার বুকে জেগে উঠা চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাত, অন্যদিকে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় গ্রামীণ বা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনের দুর্বিষহ দিনাতিপাত। চরিত্র: ফজল, এরফান মাতব্বর, জরিনা।

'জাল' (১৯৮৮): এটি গোয়েন্দা কাহিনি ভিত্তিক উপন্যাস।

তাঁর অন্যান্য সাহিত্যকর্মসমূহঃ

'মহাপতঙ্গ' (১৯৬৩): এ গল্পটিতে একজোড়া চড়ুই পাখির জবানিতে একদিকে বিজ্ঞানের আশীর্বাদ, অন্যদিকে অভিশাপের কথা বিধৃত হয়েছে। এ গল্পের ইংরেজি অনুবাদ Dragon Fly এর নাট্যরূপের জন্য 'সুইজারল্যান্ড আন্তর্জাতিক পুরস্কার' লাভ করেন।

'অভিশাপ' (১৯৪০): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প। যা কাজী নজরুল ইসলামের 'নবযুগ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

'বনমানুষ': ১৯৪৬ সালে হিন্দু-মুসলিম ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে গল্পটি রচিত।

'হারেম' (১৯৬২), 'জোঁক' (ছোটগল্প)।

নাটক: 'জয়ধ্বনি'

স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ: 'স্মৃতিবিচিত্রা'

Content added By
Content updated By

আবু জাফর শামসুদ্দীন

643
Content added By
Content updated By

আবু রুশদ

665
Content added By
Content updated By

আবু হেনা মোস্তফা কামাল

644
Content added By
Content updated By

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

789
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১)

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত। তাঁর কবিতায় আবহমান বাংলার ছবি পাওয়া যায়। তাঁর কবিত সূচনা ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এবং বিকাশ ঘটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সামি জনজীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং স্বপ্ন-বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে ।

  • আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৪ সালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
  • তিনি বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব এবং এরশাদ সরকারের কৃষি মন্ত্রী ছিলেন।রাশেদ খান মেনন তাঁর ভাই এবং সেলিমা রহমান একমাত্র বোন ।
  • ‘পদাবলি’ নামে কবিদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৯), একুশে পদক (১৯৮৫) পান ।
  • তিনি ১৯ মার্চ, ২০০১ সালে মারা যান।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ গুলো:

‘সাতনরী হার’ (১৯৫৫): এটি তাঁর প্রথম কাব্য ।

‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' (১৯৮১): বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন। এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', ‘কোন এক মাকে' (কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা), ‘মাগো ওরা বলে'। এতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে।

‘কখনো রং কখনো সুর' (১৯৭০), ‘কমলের চোখ' (১৯৭৪), ‘সহিষ্ণু প্রতীক্ষা' (১৯৮২), ‘বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা' (১৯৮৩), ‘আমার সময়’ (১৯৮৭), ‘নির্বাচিত কবিতা' (১৯৯১), ‘আমার সকল কথা’ (১৯৯৩), ‘মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ' (২০০২)।

Content added By

আবু হাসান শাহরিয়ার

592
Content added By

আবুবকর সিদ্দিক

638
Content added By

আবুল কালাম শামসুদ্দীন

761
শামসুদ্দীন আবুল কালাম (১৯২৬-১৯৯৭)

বাংলাদেশের একটি বিশেষ এলাকার জীবনপ্রবাহকে শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম প্রাণবন্তরূপে পরিবেশন করে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। নিম্নবর্গের শ্রমজীবী মানুষ ছিল তাঁর সাহিত্যের প্রধান উপজীব্য এবং এসকল মানুষের প্রতি ছিল প্রগাঢ় সহানুভূতি। তাঁর গল্প-উপন্যাসে সমকালীন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট চিত্রিত হয়েছে।

  • শামসুদ্দীন আবুল কালাম আগস্ট, ১৯২৬ সালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটির কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন। 'দৈনিক আজাদ' পত্রিকার সম্পাদকের নাম তাঁর নামের সাথে মিলে যাওয়ায় তিনি ১৯৫৫ সালে পত্র-পত্রিকায় ঘোষণা দিয়ে 'শামসুদ্দীন আবুল কালাম' নামে পরিচিত হন।
  • তিনি 'মাহেনও' (১৯৪৯) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
  • তিনি ১৯৯৪ সালে 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' পান।
  • তিনি ১০ জানুয়ারি, ১৯৯৭ সালে ইতালির রোমে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে ঢাকায় সমাহিত করা হয়।

তাঁর উপন্যাসগুলোঃ

'আলমনগরের উপকথা' (১৯৫৪): সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের দ্বন্দ্বের ফলে গণচেতনার প্রকাশই এ উপন্যাসের মূল বিষয়।

'কাশবনের কন্যা' (১৯৫৪): এ উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত। এ গ্রামে দুঃখ-দারিদ্র্য থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার। চরিত্র: শিকদার, হোসেন, মেহেরজান, জোবেদা।

কাশবনের কন্যা (উপন্যাস)শামসুদ্দীন আবুল কালাম
কুঁচবরণ কন্যা (কাব্যগ্রন্থ)কুঁচবরণ কন্যা (কাব্যগ্রন্থ)
ধানকন্যা (গল্প)আলাউদ্দিন আল আজাদ

'জায়জঙ্গল' (১৯৭৩): এতে সুন্দরবনের জনবিরল বনজঙ্গলঘেরা পরিবেশ চিত্রায়িত হয়েছে। উপন্যাসের পটভূমি সুন্দরবন হলেও চরিত্রগুলো এ অঞ্চলের নয়, সবাই সেটেলার। জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের চাপে তারা পিতৃপুরুষের নিবাসভূমি ছেড়ে সমুদ্র তীরবর্তী শ্বাপদসংকুল সুন্দরবন অঞ্চলে বাস করতে বাধ্য হয়েছে।

'সমুদ্র বাসর' (১৯৮৬): বৃহত্তর বরিশাল জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রতীরবর্তী জনজীবনকে কেন্দ্র করে রচিত এ উপন্যাস।

'দুই মহল' (১৯৫৫), 'জীবনকাব্য' (১৯৫৬), "কাঞ্চনমালা' (১৯৬১), 'মনের মতো ঠাঁই' (১৯৮৫), 'যার সাথে যার' (১৯৮৬), 'নবান্ন' (১৯৮৭), 'কাঞ্চনগ্রাম' (১৯৯৮)।

তাঁর গল্পগ্রন্থসমূহ

'অনেক দিনের আশা' (১৯৫২): এ গ্রন্থের গল্প 'মৌসুম'। 'ঢেউ' (১৯৫৩), 'পথ জানা নেই' (১৯৫৩), 'দুই হৃদয়ের তীর' (১৯৫৫), 'শাহের বানু' (১৯৫৭), 'পুঁই ডালিমের কাব্য' (১৯৮৭)।

Content added By

আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ

668
Content added By

আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া

857
Content added By

আবুল কাসেম (ভাষা সৈনিক)

762
Content added By

আবুল বাশার

680
Content added By

আবুল হাসান

587

আবুল হাসান (১৯৪৭-১৯৭৫)

আবুল হাসান ষাটের দশকের একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত। আত্মগত দুঃখবোধ, মৃত্যুচেতনা, বিচ্ছিন্নতাবোধ, নিঃসঙ্গচেতনা, স্মৃতিমুগ্ধতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর কবিতায় সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

  • আবুল হাসান ৪ আগস্ট, ১৯৪৭ সালে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নিগ্রামে (মাতুলালয়) জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস: ঝনঝনিয়া গ্রাম, নাজিরপুর, পিরোজপুর।
  • তাঁর প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।
  • তিনি ১৯৬৯ সালে 'ইত্তেফাক' পত্রিকায় বার্তা বিভাগে যোগ দেন। পরবর্তীতে 'গণবাংলা'র সহকারী সাহিত্য সম্পাদক (১৯৭৩), দৈনিক 'গণকণ্ঠ' পত্রিকার সহসম্পাদক (১৯৭৪) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • তিনি ১৯৭০ সালে এশীয় কবিতা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৫, মরণোত্তর), একুশে পদক (১৯৮২, মরণোত্তর) পান।
  • তিনি ২৬ নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

তাঁর প্রকাশিত সাহিত্যসমূহ:

কাব্যগ্রন্থ: রাজা যায় রাজা আসে' (১৯৭২), 'যে তুমি হরণ করো' (১৯৭৪), 'পৃথক পালঙ্ক' (১৯৭৫)।

কাব্যনাট্য : 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)- এটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।

গল্প সংকলন: 'আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ' (১৯৯০)।

Content added By

আবুল হোসেন

684
Content added By

আবুল হুসেন

639

আবুল হুসেন (১৮৯৬ - ১৫ অক্টোবর ১৯৩৮) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতীয় লেখক, চিন্তাবিদ ও সমাজসংস্কারক।

১৯৩২ সালে তিনি শিক্ষকতা ত্যাগ করে কলকাতা হাই কোর্টে আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। বাংলার আইন সভায় গৃহীত ওয়াকফ আইনের মূল খসড়া তিনি প্রণয়ন করেছিলেন।

বাংলার মুসলিমদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে আবুল হুসেন লেখালেখি করেছেন। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ১৯২৬ সালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠিত হয়। তিনি এতে অংশ নিয়েছিলেন। সংগঠনের মুখপত্ররূপে প্রকাশিত শিখা পত্রিকার সম্পাদনায় তিনি জড়িত ছিলেন।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: *বাঙালী মুসলমানদের শিক্ষাসমস্যা (১৯২৮)

  • মুসলিম কালচার (১৯২৮)
  • বাঙলার নদীসমস্যা
  • শতকরা পঁয়তাল্লিশ জের
  • সুদ-রিবা ও রেওয়াজ
  • নিষেধের বিড়ম্বনা
  • Helots of Bengal
  • Religion of Helots of Bengal,
  • Development of Muslim Law in British
  • কৃষকের আর্তনাদ
  • কৃষকের দুর্দশা
  • কৃষি বিপ্লবের সূচনা''

তাঁর মৃত্যুর পর বাংলা একাডেমি আবুল হুসেন রচনাবলী নামে তাঁর রচনাসমগ্র প্রকাশ করে।

মৃত্যু

আবুল হুসেন ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

আবুল মনসুর আহমেদ

579

আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯)

আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন সাহিত্যিক ও সফল সাংবাদিক। খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্বরাজ দলের অন্যতম কর্মী ছিলেন।
নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসুর কংগ্রেসের আন্দোলনে যোগ দেন। পাকিস্তান সরকার বেতার ও টিভিতে রবীন্দ্রসংগীতকে পাকিস্তানের আদর্শের পরিপন্থী বলে প্রচার করলে তিনি সে সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন দান করেন। সমকালীন সমাজজীবনে বিরাজমান অন্যায় অত্যাচারের চিত্র তিনি ব্যঙ্গরসাত্মক ভাষার মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। তাঁর ব্যঙ্গধর্মী রচনায় সমাজের মুখোশধারী মানুষের অন্তরের রূপ সার্থকভাবে উন্মোচিত হয়েছে।

  • আবুল মনসুর আহমদ ৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি ইংরেজি দৈনিক The Daily Star পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামের পিতা এবং 'A Golden Age' এর লেখিকা তাহমিমা আনামের দাদা।
  • তিনি 'দৈনিক কৃষক' (১৯৩৮) ও 'দৈনিক ইত্তেহাদ' (১৯৪৬) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং 'ছোলতান' (১৯২৩) ও 'মোহাম্মদী' (১৯২৩) পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন।
  • তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি (১৯৫৩-৫৮), যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রণেতা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ছিলেন। ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমান খানের মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী ও ১৯৫৬-৫৭ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ছিলেন।
  • বিদ্রূপাত্মক রচনার জন্য তিনি বিখ্যাত।
  • তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬০) পান।
  • তিনি ১৮ মার্চ, ১৯৭৯ সালে ঢাকায় মারা যান।

আবুল মনসুর আহমদের উপন্যাসসমূহঃ

'সত্যমিথ্যা' (১৯৫৩): এটি Johan Bojer এর 'The Power of a lie' গ্রন্থের বাংলা ভাবানুবাদ।

'জীবনক্ষুধা' (১৯৫৫): বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের শিক্ষিত বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্তের আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও লালিত আদর্শের সাথে বাস্তবতার যে দ্বন্দ্ব, তারই প্রতিফলন এ উপন্যাস। এ উপন্যাসের নায়ক হালিম মুসলিম মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি।

'আবে হায়াত' (১৯৬৮): গ্রামের পির পরিবারের সন্তান হামিদ ডাক্তার হিসেবে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়। মুখে সে জনদরদী হলেও প্রকৃতপক্ষে সে অর্থলিপ্স। বাইরে বিজ্ঞানমনস্ক হলেও ভিতরে সে আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী। প্রাক্তন বিবাহিত সহপাঠী রাজিয়াকে বিয়ে করার জন্য সে বিজ্ঞানের খোলস ছেড়ে আধ্যাত্মিকতার পথ বেছে নেয়, এখানেই তাঁর মুখোশ উন্মোচিত হয়। এ সব নিয়েই রচিত 'আবে-হায়াত'।

আবুল মনসুর আহমদের গল্পগ্রন্থসমূহঃ

'আয়না' (১৯৩৫): এটির ভূমিকা লেখেন কাজী নজরুল ইসলাম। মুখবন্ধে নজরুল লেখেন, 'যে সমস্ত মানুষ হরেক রকমের মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।' হুজুরে কেবলা, গো-দেওতা-কা দেশ, নায়েবে নবী, লীডরে কওম, মুজাহেদীন, বিদ্রোহী সংঘ, ধর্মরাজ্য- এই সাতটি গল্প নিয়ে রচিত 'আয়না' গল্পগ্রন্থ। আবুল মনসুর আহমদের 'বিদ্রোহী সংঘ' ব্যতীত অন্যান্য সব গল্পে ধর্মান্ধ ও ধর্মব্যবসায়ীদের স্বরূপ তুলে ধরেছেন।

'ফুড কনফারেন্স' (১৯৪৪): ১৩৫০ সালের দুর্ভিক্ষের করুণ চিত্র এতে প্রতিফলিত।

'আসমানী পর্দা' (১৯৬৪)।

আবুল মনসুর আহমদের অন্যান্য গ্রন্থসমূহঃ

প্রবন্ধ:

'বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' (১৯৮২): ৪২টি নিবন্ধের সমন্বয়ে গ্রন্থিত এ প্রবন্ধগ্রন্থটির ৩৯টি নিবন্ধ ১৯৭২-৭৩ সালে 'দৈনিক ইত্তেফাক' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে নিবন্ধগুলো একত্র করে আবুল মনসুর আহমদের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে 'আহমদ পাবলিশিং হাউস' থেকে 'বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' নামে প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থের নিবন্ধগুলো পাঁচমিশালি হলেও প্রত্যেকটির মূল বক্তব্য অভিন্ন। প্রবন্ধগুলোয় প্রাধান্য পেয়েছে নানান দিক থেকে উদ্ভূত জাতীয় সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের পথ-নির্দেশনা। উল্লেখযোগ্য নিবন্ধ: 'গণতন্ত্র, সমাজবাদ ও শ্রেণীসংগ্রাম', 'আমাদের কাজ শেষ হয় নাই, শুরু হইয়াছে মাত্র', 'রাষ্ট্র পরিচালনায় যৌবনের অধিকার স্বীকৃতি', 'স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের আর্থিক পুননির্মাণ', 'পাট বাঁচিলে আমরা বাঁচিব : এ কথা আজো সত্য', 'প্রথম নির্বাচনেই সংবিধানকে সফল করিতে হইবে', 'গণতন্ত্রী সমাজবাদী রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা' প্রভৃতি।

'পাক-বাংলার কালচার' (১৯৬৬)।

শিশু সাহিত্য:

'গালিভারের সফরনামা' (১৯৫৯): এটি শিশু বিষয়ক সাহিত্য। এটি Jonathan Swift এর Guliver's Travels অবলম্বনে রচিত।

'মুসলমানী কথা' (১৯২৪): ইসলামের নবী-রাসুলদের কাহিনিভিত্তিক কিশোর গ্রন্থ।

'ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া' (১৯৪৯), আদুভাই (গল্প)।

আত্মজীবনী: 'আত্মকথা' (১৯৭৮)

রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:

'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' (১৯৬৯), 'শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু' (১৯৭২)।

জীবনক্ষুধা (উপন্যাস)আবুল মনসুর আহমদ
মৃত্যুক্ষুধা (উপন্যাস)কাজী নজরুল ইসলাম
Content added By

আবদুর রউফ চৌধুরী

631

আব্দুর রউফ চৌধুরী (মার্চ ১, ১৯২৯ - ফেব্রুয়ারি ২৩, ১৯৯৬) একজন বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক। তিনি একজন স্বল্পপ্রজ লেখক ছিলেন। পাঁচটি উপন্যাস, চারটি গল্পগ্রন্থ, চারটি প্রবন্ধ সংকলন, ১০টি গবেষণা ও ইতিহাস গ্রন্থ, ছয়টি ইসলাম বিষয়ে মৌল ও অনুবাদ রচনা, অন্যান পাঁচটি গ্রন্থ, দুটো কবিতাগ্রন্থ এই নিয়ে তার রচনাসম্ভার। বাস্তবতার নিপুণ চিত্রণ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক জ্ঞান, গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও সূক্ষ্ম কৌতুকবোধ তার রচনাকে দিয়েছে ব্যতিক্রমী সুষমা। বাংলা সাহিত্যে তিনি প্রশংসিত বাংলাদেশী লেখক।

উপন্যাস

  • পরদেশে পরবাসী
  • নতুন দিগন্ত
  • সাম্পান ক্রুস
  • অনিকেতন
  • মা

ছোট গল্প সংকলন

  • গল্পসম্ভার (১০টি গল্প)
  • বিদেশী বৃষ্টি (১০টি গল্প)
  • গল্পভুবন (১০টি গল্প)
  • গল্পসল্প (১০টি গল্প)

প্রবন্ধ সংকলন

  • প্রবব্ধগুচ্ছ (১৬টি প্রবন্ধ)
  • নজরুল : নন্দনের অন্দরমহল
  • রবীন্দ্রনাথ : চির-নূতনের দিল ডাক

গবেষণা ও ইতিহাস

  • ফরাসি বিপ্লব
  • ১৯৭১ (দুই খণ্ড)
  • একটি জাতিকে হত্যা
  • স্বায়ত্তশাসন, স্বাধিকার ও স্বাধীনতা
  • যুগে যুগে বাংলাদেশ
  • বিপ্লব ও বিপ্লবীদের কথা (পাঁচ খণ্ড)
  • মহান একুশে
  • কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলস
  • বাইবেলে নবী মোহাম্মদ সা.
  • আরব জাতির ইতিহাস
  • ধর্মের নির্যাস
  • মুক্তিসংগ্রাম সমগ্র
  • ইসলামি রাচনাসমগ্র

হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার (মরণোত্তর) (২০০১)

Content added By

আবদুল কাদির

631
Content added By

আবদুল জব্বার (জ্যোতির্বিজ্ঞানী)

562

মোহাম্মদ আবদুল জব্বার ছিলেন বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার অগ্রদূত। তিনিই প্রথম বাংলায় আকাশের তারাসমূহের ছক প্রস্তুত করেন এবং তাঁর পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের প্রথম খ-গোলক নির্মিত হয়। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন এবং বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জন্ম ও মৃত্যু
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার জন্মগ্রহণ করেন ১ জানুয়ারি ১৯১৫ সালে, পাবনা জেলার সুজানগর থানার গোপালপুর গ্রামে। তিনি ২০ জুলাই ১৯৯৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

রচনাবলি

  • বিশ্ব রহস্যে নিউটন ও আইনস্টাইন (১৯৪২)

  • খগোল পরিচয় (১৯৬৫)

  • তারা পরিচিতি (১৯৬৭)

  • প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যা (১৯৭৩)

  • বিশ্ব ও সৌরজগৎ (১৯৮৬)

  • আকাশ পট (১৯৮৯)

  • টেক্সট বুক অব ইন্টারমিডিয়েট স্ট্যাটিসটিক্স

  • টেক্সট বুক অব ইন্টারমিডিয়েট ডাইনামিক্স

  • টেক্সট বুক অব ডিফারেনশিয়াল ক্যালকুলাস

  • টেক্সট বুক অব ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাস

Content added By

আবদুল জব্বার (সাহিত্যিক)

608

আবদুল জব্বার ছিলেন একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। দারিদ্র্যপীড়িত সাধারণ মানুষের জীবন, বিশেষত বাংলার পল্লীজীবনের বাস্তব ও মমতাময় রূপায়ণ তাঁর সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ফিচারধর্মী রচনায় ও কথাচিত্রে তিনি বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি ‘অশোক’ ও ‘ফিরদৌসী’ ছদ্মনামেও লিখতেন।

জন্ম ও মৃত্যু
আবদুল জব্বার জন্মগ্রহণ করেন ৩০ এপ্রিল ১৯৩৪ সালে, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সাতগাছিয়া থানার নোদাখালি গ্রামে। তিনি ৩০ নভেম্বর ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

সাহিত্যকর্ম / রচনাবলি

উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থ

  • অশান্ত ঝিলাম

  • মোঘল প্রেমকথা

  • ভরা কটাল

  • মরিয়মের কান্না

  • ইলিশমারির চর

  • পল্লীর পদাবলী (১৯৭৫)

  • রূপের আগুন

  • মাতালের হাট

  • মুখের মেলা

  • ঝিনুকের নৌকা

  • বিদ্রোহী বাসিন্দা

  • মাটির কাছাকাছি

ফিচারধর্মী গ্রন্থ

  • বাংলার নৈবেদ্য

  • গ্রাম গঞ্জের পথে পথে

Content added By

আবদুল মান্নান সৈয়দ

657

আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০)

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, জগন্নাথ কলেজের সাবেক অধ্যাপক আবদুল মান্নান সৈয়দ ছিলেন বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, গবেষক ও সাহিত্য সম্পাদক। রবীন্দ্রোত্তরকালে বাংলা সমালোচনা সাহিত্যে তিনি ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে দেশের প্রধান কবিদের সবাই যখন 'জাতীয় কবিতা পরিষদ' গঠন করে এরশাদের বিরুদ্ধে লেখনী ধারণ করেন, তখন তিনি এরশাদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত 'এশীয় কবিতা উৎসব'- এ একাধিকবার যোগদান করেন। জনশ্রুতি আছে, এরশাদ ঐ সময় যে কবিতাগুলি নিজের নামে দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করতেন সেগুলোর রচয়িতা ছিলেন আবদুল মান্নান সৈয়দ।

  • আবদুল মান্নান সৈয়দ ৩ আগস্ট, ১৯৪৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণার ইছামতি নদীর তীরে জালালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দেশ বিভাগের পর ঢাকার কুলি রোডে (বর্তমান গ্রীন রোড) স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
  • তিনি 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনামে লিখতেন এবং 'পরাবাস্তব কবি' হিসেবে খ্যাত।
  • তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম 'পোয়েট ইন রেসিডেন্ট'।
  • তিনি কবি জীবনানন্দ দাশ ও কাজী নজরুল ইসলামের উপর গবেষণার প্রবাদ পুরুষ হিসেবে খ্যাত।
  • ১৯৫৯ সালে ইত্তেফাক পত্রিকার সাহিত্য বিভাগে 'সোনার হরিণ' কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে কবিতার জগতে আত্মপ্রকাশ করেন।
  • তিনি 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৮১), 'নজরুল পুরস্কার' (১৯৯৮), 'নজরুল পদক' (২০০১) ও একুশে পদক পান।
  • তিনি ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১০ সালে মারা যান।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:

কাব্য:

‘জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ' (১৯৬৭), 'জ্যোৎস্না রৌদ্রের চিকিৎসা' (১৯৬৯), 'ও সংবেদন ও জলতরঙ্গ' (১৯৭৪), ‘কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড' (১৯৮২), ‘পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি' (১৯৮৩), ‘পরাবাস্তব কবিতা' (১৯৮৪), 'মাছ সিরিজ' (১৯৮৪), ‘সকল প্রশংসা তাঁর' (১৯৯৩), 'নীরবতা গভীরতা দুই বোন বলে কথা' (১৯৯৭)।

উপন্যাস:

‘পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী' (১৯৭৪), ‘কলকাতা’ (১৯৮০), ‘অ-তে অজগর' (১৯৮২), ‘পোড়ামাটির কাজ’ (১৯৮২), ‘গভীর গভীরতর অসুখ' (১৯৮২), ‘ক্ষুধা প্রেম আগুন' (১৯৯৪), ‘শ্রাবন্তীর দিনরাত্রি' (১৯৯৮), ‘হে সংসার হে লতা'।

গল্পগ্রন্থ:

‘একরাত্রি': এক কাজ পাগল কেরানীর নিষ্ঠাময় চাকরী জীবনের গল্প । ‘মার্চ’: পরাবাস্তব চেতনা ভিত্তিক গল্প । ‘সত্যের মত বদমাশ' (১৯৬৮), 'চলো যাই পরোক্ষে (১৯৭৩), ‘মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা' (১৯৭৭), ‘নেকড়ে হায়েনা ও তিন পরী' (১৯৯৭), ‘অমরতার জন্য মৃত্যু'।

কাব্যনাট্য:

‘চাকা' (১৯৮৫), ‘কবি ও অন্যরা' (১৯৯৬)।

প্রবন্ধ:

‘দশ দিগন্তের দ্রষ্টা’, ‘করতলে মহাদেশ’, ‘আমার বিশ্বাস’, ‘ছন্দ’।

স্মৃতিকথা :

‘আমার বিশ্বাস' (১৯৮৮), ‘স্মৃতির নোটবুক' (২০০১), ‘ভেসেছিলাম ভাঙা ভেলায়' (২০০৯), 'মিটিলনা সাধ ভালবাসিয়া তোমায়' (২০১২)।

প্রবন্ধ গবেষণা:

‘শুদ্ধতম কবি' (১৯৭২), ‘নজরুল ইসলাম : কবি ও কবিতা' (১৯৭৭), ‘নজরুল : কালজ কালোত্তর' (১৯৮৭), ‘আধুনিক সাম্প্রতিক' (২০০১)।

Content added By

আব্দুস সেলিম

587
Content added By

আবদুল হক (প্রাবন্ধিক)

696
Content added By

আবদুল হক চৌধুরী

833
Content added By

আবদুল হাই শিকদার

639

আবদুল হাই শিকদার (জন্ম ১৯৫৭) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ। তিনি মূলত কবি হিসেবেই অধিক পরিচিত। মানবতা, স্বাধীনতা, জাতীয়তাবাদ, প্রেম, প্রকৃতি ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব তাঁর কবিতার প্রধান অনুষঙ্গ। লেখনীতে জাতিসত্তা ও বিশ্বমানবতার প্রকাশের কারণে তাঁকে ‘জাতিসত্তার কবি’ বলা হয়। সাহিত্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি গণমাধ্যম, গবেষণা ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুসন্ধানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

জন্ম
আবদুল হাই শিকদার জন্মগ্রহণ করেন ১ জানুয়ারি ১৯৫৭ সালে, কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদীর তীরে দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামে।

রচনাবলি

কাব্যগ্রন্থ

  • আশি লক্ষ ভোর (১৯৮৭)

  • আগুন আমার ভাই (১৯৯১)

  • রেলিঙ ধরা নদী (১৯৯২)

  • মানব বিজয় কাব্য (১৯৯২)

  • এই বধ্যভূমি একদিন স্বদেশ ছিলো (১৯৯৭)

  • লোডশেডিং নামিয়াছে (২০০১)

  • দুধকুমারের জানালাগুলি (২০০১)

  • সুন্দরবন গাথা (২০০৩)

  • শ্রেষ্ঠ কবিতা (২০০৬)

  • কসম (২০১০)

  • নদীর মেয়ে বাংলাদেশ (২০১৮)

  • ইশক আবাদ (২০২২)

  • কবিতাসমগ্র (অখণ্ড)

প্রবন্ধ

  • বাংলাদেশের পথ

  • জানা অজানা মওলানা ভাসানী

  • বাংলা সাহিত্য : কোলাহলের বাইরে

  • জ্যোতির্ময় জিয়া এবং কালো মেঘের দল

  • তুমি রুমি

গল্প

  • শুকুর মামুদের চুয়াত্তর ঘাট

ভ্রমণকাহিনি

  • কবিতার্থ চুরুলিয়া

  • ফিরে ফিরে আসি

  • ভ্রমণ সমগ্র

শিশুতোষ সাহিত্য

  • কিশোর মওলানা ভাসানী

  • বাঘ বাহাদুর

  • দারুণ সুন্দর সুন্দরবন

  • ছড়া সমগ্র

নজরুল বিষয়ক গ্রন্থ

  • কবিতীর্থ চুরুলিয়া

  • বিশ্বময় নজরুল

  • সার্বজনীন নজরুল

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০০৩)

  • নতুন গতি সাহিত্য পুরস্কার, ভারত (২০১০)

  • চুরুলিয়া নজরুল একাডেমি পুরস্কার, ভারত (২০০৬)

  • কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার (২০০৬)

  • জিরো পয়েন্ট সম্মাননা, ভারত (২০০৬)

  • জাতীয় প্রেস ক্লাব সম্মাননা (২০০৩, ২০০৮)

  • শহীদ জিয়া স্মৃতি পুরস্কার (২০০৩)

  • মনিরউদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পদক (২০০২)

  • জাতীয় নজরুল সমাজ পদক (২০০১)

  • হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড (২০২১)

  • শহীদ জিয়া স্মৃতি সম্মাননা (২০২২)

Content added By

আবদুল হাকিম

586

আবদুল হাকিম (১৬২০-১৬৯০)

সপ্তদশ শতকের মুসলিম কবি আবদুল হাকিম। মধ্যযুগে মুসলমানগণ বাংলাকে নিজেদের ভাষা মনে না করে ফারসি-আরবি-উর্দুকে আপন ভাষা মনে করতো। এই পরভাষাপ্রীতিকে আঘাত করার জন্য তিনি বিভিন্ন শ্লেষমূলক কবিতা রচনা করেন। তিনি সমাজের সার্বিক কল্যাণে বিশ্বাসী ছিলেন এবং সে লক্ষ্যে বিভিন্ন গ্রন্থে আদর্শ জীবন গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।

  • আবদুল হাকিম ১৬২০ সালে সন্দ্বীপের সুধারাম/ নোয়াখালী জেলার বাবুপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি ১৬৯০ সালে মারা যান।

আবদুল হাকিম এর ৮টি কাব্য পাওয়া গেছে। । 'ইউসুফ জোলেখা', 'নূরনামা', 'দোররে মজলিশ', 'লালমতী সয়ফুলমুলক', 'হানিফার লড়াই', 'শিহাবুদ্দীন নামা', 'নসীহৎনামা', 'কারবালা ও শহরনামা'।

নূরনামা গ্রন্থঃ

'নূরনামা' ফারসি নীতিকাব্য 'নূরনামাহ' অবলম্বনে রচিত। বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির 'নূরনামা' কাব্যটি বিশেষ প্রশংসিত। এ কাব্যের কবিতা 'বঙ্গবাণী'তে কবির মাতৃভাষার প্রতি প্রেম ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের পরিচয় ফুটে উঠেছে।

কিতাব পড়িতে যার নাহিক অভ্যাস।

সে সবে কহিল মোতে মনে হাবিলাষ।।

তে কাজে নিবেদি বাংলা করিয়া রচন।

নিজ পরিশ্রম তোষি আমি সর্বজন।।

যেই দেশে যেই বাক্য কহে নরগণ।

সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জনা।।

যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।

সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়ায়।

নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশ ন যায়। (বঙ্গবাণী)

Content added By

আবদুল্লাহ আল মামুন

678

আবদুল্লাহ আল মামুন (১৯৪২-২০০৮)

আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা ও প্রখ্যাত নাট্যকার। তিনি সাম্রাজ্যবাদী নাটক রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশের সমসাময়িক পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বিপক্ষে তিনি জীবনভর নাট্য রচনা অব্যাহত রাখেন।

  • আবদুল্লাহ আল মামুন ১৩ জুলাই, ১৯৪২ সালে জামালপুর সদরের আমড়া পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি নাট্যসংগঠন 'থিয়েটার' এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
  • তিনি জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (১৯৯১-২০০১) এবং শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (২০০১) ছিলেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৪), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
  • তিনি ২১ আগস্ট (বৃহস্পতিবার), ২০০৮ সালে মারা যান।

তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।

তাঁর রচিত নাটকসমূহঃ

‘সুবচন নির্বাসনে’ (১৯৭৪): স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সমাজে যে মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা দেয়, তাকে কেন্দ্র করেই এ নাটকটি রচিত।

‘এখনও ক্রীতদাস' (১৯৮৪): এ নাটকে ঢাকা শহরের ‘গলাচিপা’ বস্তির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত। এতে পুরুষতান্ত্রিক, পুঁজিতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

‘কোকিলারা' (১৯৯০): ঢাকা গাইড হাউস মিলনায়তনে ১৯ জানুয়ারি, ১৯৮৯ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয় এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ সালে। এ নাটকটি তিন কোকিলার কাহিনি। প্রথম কোকিলা সরল বালিকা, চোর সাব্যস্ত হয়ে শেষে আত্মহত্যা করে। দ্বিতীয় কোকিলা নিরীহ প্রাণী, স্বামীর ভোগপণ্যরূপে মধ্যবিত্ত সংসারে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যায়। তৃতীয় কোকিলা প্রতিবাদী, সমাজের অন্যায় ও অমানবিকতার বিপক্ষে সে সর্বদা সোচ্চার। । বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রূপ তিন কোকিলা। এটি এক চরিত্রনির্ভর নাটক। ফেরদৌসী মজুমদার কোকিলা নামে এই একক অভিনয় করেন।

‘এখন দুঃসময়' (১৯৭৫): বন্যা দুর্গত একটি গ্রামের পটভূমিতে নাটকটি রচিত।

‘এবার ধরা দাও' (১৯৭৭), ‘শাহজাদীর কাল নেকাব' (১৯৭৮), ‘চারিদিকে যুদ্ধ’ (১৯৮৩), ‘মেরাজ ফকিরের মা' (১৯৯৭)।

তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:

‘মানব তোমার সারা জীবন' (১৯৮৮), ‘আহ দেবদাস’ (১৯৮৯), ‘তাহাদের যৌবনকাল' (১৯৯১), ‘হায় পার্বতী’ (১৯৯১), ‘এই চুনীলাল’ (১৯৯৩), ‘গুন্ডাপাণ্ডার বাবা' (১৯৯৩), ‘খলনায়ক’ (১৯৯৭)

Content added By

আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন

573

আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন (১ জানুয়ারি ১৯৩০ – ৩০ নভেম্বর ১৯৯৮) ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞান লেখক, বিজ্ঞান কর্মী ও সরকারি কর্মকর্তা। তিনি আবদুল্লাহ আল-মুতী নামেই সমধিক পরিচিত। সহজ ভাষায় বিজ্ঞানকে সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনন্য। বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণে বিশেষ ভূমিকার জন্য তিনি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো কলিঙ্গ পুরস্কার লাভ করেন।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন
আবদুল্লাহ আল-মুতীর জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে। তাঁর পিতা শেখ মইন শরফুদ্দিন এবং মাতা হালিমা শরফুদ্দিন। ১৯৪৫ সালে ঢাকার মুসলিম হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কলকাতা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ১৯৪৭ সালে আইএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৫২ সালে পদার্থবিদ্যায় সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬০ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় এমএ এবং ১৯৬২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবন
তিনি কর্মজীবন শুরু করেন রাজশাহী কলেজে শিক্ষক হিসেবে। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৮৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন। রেডিও ও টেলিভিশনে বিজ্ঞানভিত্তিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি ও বিজ্ঞান শিক্ষা সমিতিসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।

রচনাবলি

বিজ্ঞান ও শিশুতোষ গ্রন্থ (নির্বাচিত)

  • এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে

  • অবাক পৃথিবী

  • আবিষ্কারের নেশায়

  • রহস্যের শেষ নেই

  • সাগরের রহস্যপুরী

  • এ যুগের বিজ্ঞান

  • বিচিত্র বিজ্ঞান

  • বিজ্ঞানের বিস্ময়

  • তারার দেশের হাতছানি

  • মহাকাশে কী ঘটছে

  • আজকের বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ

শিক্ষাবিষয়ক গ্রন্থ

  • শিক্ষা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

  • শিক্ষা ও বিজ্ঞান : নতুন দিগন্ত

  • আমাদের শিক্ষা কোন পথে

অনুবাদ গ্রন্থ (নির্বাচিত)

  • আকাশের সঙ্গে মিতালী

  • মহাবীর পরমাণু

  • আলো

  • তাপ

  • পরমাণুর রাজ্যে

সম্পাদনা

  • বাংলা একাডেমির বিজ্ঞান বিশ্বকোষ (প্রধান সম্পাদক)

  • শিশু একাডেমির শিশু বিশ্বকোষ (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ)

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • ইউনেস্কো কলিঙ্গ পুরস্কার (১৯৮৩)

  • বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৫)

  • একুশে পদক (১৯৮৫)

  • স্বাধীনতা পদক (১৯৯৫)

  • কুদরাত-ই-খুদা স্বর্ণপদক (১৯৭৯)

  • জিয়াউর রহমান জাতীয় পুরস্কার (১৯৮১)

  • শিশু একাডেমি পুরস্কার

  • আবুল মনসুর আহমদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৫)

  • কাজী মাহবুব উল্লাহ স্বর্ণপদক (১৯৮৭)

Content added By

আবদুশ শাকুর

620
Content added By

আবিদ আজাদ

771
Content added By

আবিদ আনোয়ার

636
Content added By

আরজ আলী মাতুব্বর

678
Content added By

আমজাদ হোসেন

731
Content added By

আলী আনোয়ার

622
Content added By

আলী ইমাম

656
Content added By

আল মাহমুদ

699

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ। প্রথম পর্যায়ে তিনি গ্রামবাংলার গণমানুষের প্রবহমান জীবনধারা ও তার পটভূমি থেকে কাব্য রচনার উপাদান সংগ্রহ করেন, পরবর্তীতে তাঁর কবিতায় শহুরে জীবনের ছায়াপাত ঘটে। তিনি কবিতায় বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য ও লোকশব্দ ব্যবহারে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) প্রতিষ্ঠিত ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ প্রকাশিত হলে তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হন। ১৯৭৪ সালে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে এ পত্রিকা বন্ধ করা হয় এবং সম্পাদককে গ্রেফতার করা হয় । জেলে থাকাকালে তিনি মার্কসবাদী আদর্শকে পরিত্যাগ করে ইসলামি আদর্শ গ্রহণ করেন ।

  • আল মাহমুদ ১১ জুলাই, ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর প্রকৃত নাম মির আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ।
  • তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা- মাধ্যমিক পাস।
  • বঙ্গবন্ধুর সুপারিশে তিনি শিল্পকলা একাডেমির অফিসার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৯৩ সালে পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত 'দৈনিক কর্ণফুলি' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৮), একুশে পদক (১৯৮৬), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯০) পান।
  • তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে শুক্রবার রাত ১১:০৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:

'লোক লোকান্তর' (১৯৬৩): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।

'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩): এটির প্রথমে নাম ছিলো 'অবগাহনের শব্দ'। পরে তিনি এটির নামকরণ করেন 'সোনালী কাবিন'। গ্রামীণ আবহে রচিত ৪৪টি কবিতার সংকলনে এ কাব্যগ্রন্থে তাঁর কবি প্রতিভা নিশ্চিত হয়েছে। এতে প্রকাশ পেয়েছে বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ও গ্রামীণ আবহ। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। এ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ 'গোল্ডেন কাবিন' নামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যের অন্যতম কবিতা 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা'।

'কালের কলস' (১৯৬৬), 'মায়াবী পর্দা দুলে উঠো' (১৯৭৬), 'অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না' (১৯৮০), 'বখতিয়ারের ঘোড়া' (১৯৮৫), 'আরব্য রজনীর রাজহাঁস' (১৯৮৭), 'প্রহরান্তে পাশফেরা' (১৯৮৮), 'একচক্ষু হরিণ' (১৯৮৯), 'মিথ্যাবাদী রাখাল' (১৯৯৩), 'আমি দূরগামী' (১৯৯৪), 'হৃদয়পুর' (১৯৯৫), 'দোয়েল ও দয়িতা' (১৯৯৬), 'দ্বিতীয় ভাঙ্গন' (২০০০), 'নদীর ভিতরে নদী' (২০০১), 'উড়ালকাব্য' (২০০৩), 'না কোনো শূন্যতা মানি না' (২০০৪), 'বিরামপুরের যাত্রী' (২০০৫), 'তোমার জন্য দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী' (২০০৫), 'তুমিই তৃষ্ণা তুমিই পিপাসার জল' (২০০৭), 'সেলাই করা মুখ' (২০০৮), 'পিপাসার বালুচরে' (২০০৮), 'প্রেমপত্র পল্লবে' (২০০৯), 'তোমার রক্তে তোমার গন্ধে' (২০১১), 'পাখির কথায় পাখা মেললাম' (২০১২), 'ইতিহাস দেখো বাঁক ঘুরে গেছে ফের ইতিহাসে' (২০২০)।

আল মাহমুদ রচিত কিশোর সাহিত্য:

'পাখির কাছে ফুলের কাছে' (১৯৮০): এ কিশোর সাহিত্যের কবিতা 'বোশেখ', 'একুশের কবিতা'। 'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন।

আল মাহমুদ রচিত উপন্যাসগুলো:

'ডাহুকী' (১৯৯২): এটি তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি অতৃপ্ত দাম্পত্য বিষয়ক কাহিনি। চরিত্র: আতিকা, কেরামত।

'কাবিলের বোন' (১৯৯৩): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। পাঁচ পর্বে বিভক্ত এ উপন্যাসে পূর্ব পাকিস্তানে নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে। চরিত্র: কাবিল, রোকসানা।

'উপমহাদেশ' (১৯৯৩): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। যুদ্ধের ভয়াবহতা, হিংস্রতা, যুদ্ধের মাঝে প্রেম, দেশপ্রেম-সবকিছুরই প্রতিচ্ছবি এ উপন্যাস। চরিত্র: হাদী মীর, হামিদা, আনিস, নন্দিনী, সীমা।

'কবি ও কোলাহল' (১৯৯৩), 'পুরুষ সুন্দর' (১৯৯৪), 'আগুনের মেয়ে' (১৯৯৫), 'নিশিন্দা নারী' (১৯৯৫), 'মরু মূষিকের উপত্যকা' (১৯৯৫; কিশোর উপন্যাস), 'যে পারো ভুলিয়ে দাও' (১৯৯৫), 'পুত্র' (২০০০), 'চেহারার চতুরঙ্গ' (২০০১), 'কলঙ্কিনী জ্যোতির্বলয়' (২০০৩), 'ধীরে খাও অজগরী' (২০০৪), 'যে যুদ্ধে কেউ জেতেনি' (২০০৬), 'তুহিন তামান্না উপাখ্যান' (২০০৭), 'তুষের আগুন' (২০০৮), 'জীবন যখন বাঁক ঘোরে' (২০১৮), 'সহোদরা' (২০২০), 'রাগিনী' (২০২০)।

তাঁর গল্পগ্রন্থসমূহ:

'পানকৌড়ির রক্ত' (১৯৭৫), 'সৌরভের কাছে পরাজিত' (১৯৮২), 'গন্ধবণিক' (১৯৮৮), 'ময়ূরীর মুখ' (১৯৯৪), 'নদীর সতীন' (২০০৪), 'ছোট-বড়' (২০০৫), 'চারপাতার প্রেম' (২০০৯), 'সপ্তর্ষী' (২০১৪), 'জলবেশ্যা ও তাহারা' (২০১৫), 'প্রিয় পঞ্চমী' (২০১৬)।

আল মাহমুদ রচিত অন্যান্য সাহিত্য:

আত্মজীবনী:

'যেভাবে বেড়ে উঠি' (১৯৯৭), 'বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ' (২০০৭)।

প্রবন্ধ:

'দিনযাপন' (১৯৯০), 'কবির আত্মবিশ্বাস' (১৯৯১), 'নারী নিগ্রহ' (১৯৯৭), 'কবিতার জন্য বহুদূর' (১৯৯৭), 'কবিতার জন্য সাত সমুদ্র' (১৯৯৯), 'কবির সৃজন বেদনা' (২০০৫), 'সময়ের সাক্ষী' (২০০৫), ‘বারো মাস তেরো পার্বন (২০০৮)’, 'দশ দিগন্তে উড়াল' (২০০৯), 'কবির কররেখাং (২০০৯), 'কবির মুখ' (২০১৫)।

সম্পাদনা:

'কাফেলা', 'দৈনিক গণকণ্ঠ', 'দৈনিক কর্ণফুলী'।

বিখ্যাত পঙ্ক্তি:

  • আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
    হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।' (নোলক)
  • নারকেলের ঐ লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল
    ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে ঠান্ডা ও গোলগাল।
    ছিটকিনিটা আস্তে খুলে পেরিয়ে গেলাম ঘর
    ঝিমধরা এই মস্ত শহর কাঁপছিলো থরথর।
    (পাখির কাছে ফুলের কাছে)
Content added By

আল মুজাহিদী

664
Content added By

আলাউদ্দিন আল আজাদ

966
আলাউদ্দিন আল আজাদ (১৯৩২-২০০৯)

পঞ্চাশের দশকের প্রখ্যাত কবি, ঔপন্যাসিক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল অধ্যাপক আলাউদ্দিন আল আজাদ। তাঁর উপন্যাসে মানুষের জীবনের আশা, সঙ্কট, আনন্দ ও বেদনা পরিস্ফুট হয়েছে। তাঁর কবিতায় মার্কসবাদী চেতনার কথা থাকলেও এতে রোমান্টিক আবেগ অক্ষুণ্ণ থেকেছে। নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতির সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন। তিনি এরশাদ সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা ছিলেন।

  • আলাউদ্দিন আল আজাদ ৬ মে, ১৯৩২ সালে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • প্রকৃত নাম আলাউদ্দিন, ডাকনাম- বাদশা।
  • তিনি ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর উদ্যোগেই প্রথম প্রকাশিত হয় 'একুশের প্রথম বুলেটিন'।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪), ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬৫), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার' (১৯৭৭), একুশে পদক (১৯৮৬) লাভ করেন।
  • তিনি ৩ জুলাই, ২০০৯ সালে মারা যান (সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান।

তাঁর গল্পগ্রন্থসমূহঃ

‘জেগে আছি’ (১৯৫০): এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ । ‘ধানকন্যা’ (১৯৫১), ‘অন্ধকার সিঁড়ি' (১৯৫৩), ‘মৃগনাভি’ (১৯৫৩), ‘উজান তরঙ্গে' (১৯৬৩), ‘যখন সৈকত’ (১৯৬৭), ‘আমার রক্ত স্বপ্ন আমার' (১৯৭৫), ‘জীবনজমিন’ (১৯৮৮)।

তাঁর উপন্যাসসমূহ:

‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' (১৯৬০) : এটি মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস। মাতৃত্বের গভীর ও আবেগী প্রকাশ এবং সাংসারিক জীবনের আকুতি এ উপন্যাসের বিষয়। এটি ‘বসুন্ধরা’ নামে চলচ্চিত্রায়িত করেন সুভাষ দত্ত যা ১৯৭৭ সালে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার' লাভ করে। এটি বুলগেরীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে ‘পোত্রেৎ‍ দুবাতসাৎ ত্ৰি' নামে।

‘কর্ণফুলী' (১৯৬২): এটি পাহাড়-সমুদ্রঘেরা উপজাতীদের জীবনচিত্র নিয়ে রচিত। আদিবাসী তরুণী রাঙ্গামিলার প্রণয়ে আকৃষ্ট হয় চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী বাঙালি ইসমাইল। প্রেমিক দেওয়ান পুত্র, জলি, রমজানদের জীবন-যাপন, প্রণয় ইত্যাদি এ উপন্যাসের মূল বিষয়।

‘ক্ষুধা ও আশা' (১৯৬৪): এতে রূপায়িত হয়েছে যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষপীড়িত সামাজিক অবস্থায় সংগ্রামী মানুষের চিত্র।

‘শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন' (১৯৬২), 'খসড়া কাগজ' (১৯৮৬), ‘শ্যামল ছায়ার সংবাদ' (১৯৮৬), ‘জ্যোৎস্নার অজানা জীবন' (১৯৮৬), ‘যেখানে দাঁড়িয়ে আছি' (১৯৮৬), ‘স্বাগতম ভালোবাসা' (১৯৯০), ‘অপর যোদ্ধারা’ (১৯৯২), ‘পুরানা পল্টন' (১৯৯২), ‘অন্তরীক্ষে বৃক্ষরাজী' (১৯৯২), ‘স্বপ্নশিলা’ (১৯৯২), ‘ক্যাম্পাস' (১৯৯৪), ‘প্রিয় প্রিন্স' (১৯৯৫), ‘কালো জ্যোৎস্নায় চন্দ্রমল্লিকা' (১৯৯৬), ‘বিশৃঙ্খলা’ (১৯৯৭)।

তাঁর অন্যান্য রচনাবলিঃ

‘ মানচিত্র' (১৯৬১): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা ‘ স্মৃতিস্তম্ভ' (স্মৃতির মিনার ভেঙ্গেছে তোমার / ভয় কি বন্ধু), যা ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে পাকিস্তানি পুলিশ কর্তৃক শহিদ মিনার ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে তিনি রচনা করেন ।

‘ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ' (১৯৬২), ‘লেলিহান পাণ্ডুলিপি' (১৯৭৫), ‘সাজঘর' (১৯৯০), ‘চোখ' (১৯৯৬)।

মানচিত্র (কাব্যগ্রন্থআলাউদ্দিন আল আজাদ
মানচিত্র (নাটক)আনিস চৌধুরী

নাটক: 'মরক্কোর জাদুঘর' (১৯৫৯), 'মায়াবী প্রহর (১৯৬৩), 'ধন্যবাদ' (১৯৬৫), 'নিঃশব্দ যাত্রা' (১৯৭২) 'ধন্যবাদ' (১৯৬৫), 'নরকে লাল গোলাপ' (১৯৭২)।

কাব্যনাট্য:

‘ইহুদির মেয়ে' (১৯৬২), ‘রঙ্গিন মুদ্রারাক্ষস' (১৯৯৪)।

গল্প:

‘জমা খরচ’: এ গল্পটি সিলেটের চা বাগানের কুলি- কামিনদের জীবনকাহিনি নিয়ে রচিত ।

‘যখন সৈকত’: এ গল্পে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর সন্দেহ এবং তা থেকে জিঘাংসার সৃষ্টির স্বরূপ বর্ণিত হয়েছে।

Content added By

আলাওল

693

মহাকবি আলাওল ছিলেন বাঙালি পণ্ডিত কবি। বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের ধর্মীয় বিষয়বস্তুর গতানুগতিক পরিসীমায় রোমান্টিক প্রণয়কাব্যধারা প্রবর্তনকারী হিসেবে মুসলমান কবিদের অবদান সর্বজনস্বীকৃত। তিনি রাজসভার কবি হিসেবে আবির্ভূত হলেও মধ্যযুগের সকল বাঙালি কবির মধ্যে 'শিরোমণি আলাওল' রূপে আরবি, ফারসি ও হিন্দি সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও ভাববৈচিত্র্য অবলম্বনে কাব্য রচনায় এক নতুন যুগের সূচনা করেন।

  • আলাওল ১৬০৭ সালের দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর জোবরা গ্রাম / ফরিদপুরের ফতেয়াবাদ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
  • আলাওলের পিতা ফতেয়াবাদের শাসনকর্তা মজলিস কুতুবের অমাত্য ছিলেন। জলপথে ফতেয়াবাদ থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে আলাওল ও তাঁর পিতা পর্তুগিজ জলদস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত হন এবং ঘটনাস্থলে তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়ে আরাকান রাজ্যে উপস্থিত হন।
  • আলাওল আরাকানে প্রথমে রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহী পরে সেনাবাহিনীর চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
  • আরাকানের প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুর আলাওলকে কাব্য রচনায় উৎসাহিত করেন।
  • তিনি 'লোরচন্দ্রাণী ও সতীময়না' (১৬৫৯) কাব্যের ৩য় খণ্ড রচনা করেন। ১ম ও ২য় খণ্ড রচনা করেন দৌলত কাজী।
  • তিনি ১৬৮০ সালে মারা যান।

'পদ্মাবতী' কাব্য:

'পদ্মাবতী' (১৬৪৮) মহাকবি আলাওলের প্রথম রচনা, যা ইতিহাস আশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য। মালিক মুহম্মদ জায়সীর হিন্দি ভাষায় রচিত 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি আলাওল মাগন ঠাকুরের অনুপ্রেরণায় 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন। পদ্মাবতী কাব্য দুটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্ব হচ্ছে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে আছে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজীর ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ। এ কাব্যে হিরামন নামে একটি শুকপাখির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এ কাব্যে কবির নাগরিক শিক্ষা, রুচির বৈদগ্ধ্য রূপ, ভাবের গভীরতা, ভাষা ও অলংকার প্রয়োগে বুদ্ধিদীপ্ততার পরিচয় পাওয়া যায় বলে 'পদ্মাবতী'কে আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা বলা হয়। এ কাব্যে তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু পরিচয় বিধৃত রয়েছে। এ কাব্যের বিখ্যাত পঙ্ক্তি- 'তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।'

'পদ্মাবতী' কাব্যের অন্যতম খণ্ড 'ঋতু বর্ণন' এর পঙ্ক্তি:

প্রথমে বসন্ত ঋতু নবীন পল্লব।

দুই পক্ষ আগে পাছে মধ্যে সুমাধব ।।

মলয়া সমীর হৈলা কামের পদাতি।

মুকুলিত কৈল তবে বৃক্ষ বনস্পতি।।

আলাওলের কাব্যসমূহ

গ্রন্থ

প্রকাশকাল

উৎস

পৃষ্ঠপোষক

পদ্মাবতী১৬৪৮পদুমাবৎ (মালিক মুহম্মদ জায়সী)কোরেশী মাগন ঠাকুর
রওনকলিকা আনন্দবর্মা১৬৫৯মৌলিক (লোরচন্দ্রাণী ও সতীময়নার উত্তরাংশ)শ্রীমন্ত সোলেমান
তোহফা (নীতিকাব্য)১৬৬৪তুহফ-ই নসাঈহ (ইউসুফ গদা)শ্রীমন্ত সোলেমান
হপ্তপয়কর১৬৬৫হফত্ পয়কর (নিজামী)সৈয়দ মুহম্মদ খান
সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল১৬৬৯সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (গাওয়াসী)মাগন ঠাকুর
সিকান্দরনামা১৬৭৩সিকান্দরনামা (নিজামী)নবরাজ মজলিস
রাগতালনামামৌলিক--
পদাবলীমৌলিক--
শিরী খুসরুমৌলিক--

Content added By

আশরাফ সিদ্দিকী

739
Content added By

আশাপূর্ণা দেবী

610
Content added By

আশুতোষ চৌধুরী

657
Content added By

আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

624
Content added By

আসকার ইবনে শাইখ

678
Content added By

আসাদ চৌধুরী

598
Content added By

আসাদ্দর আলী

746
Content added By

আহমদ শরীফ

691

আহমদ শরীফ (১৯২১-১৯৯৯)

ড. আহমদ শরীফ ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ। তাঁর লেখার প্রধান এলাকা ছিল বাংলাদেশ, বাঙালি সমাজ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য। বাংলাদেশ ও বাঙালি সত্তার স্বরূপ সন্ধানে তিনি ছিলেন আমৃত্যু অনুসন্ধিৎসু। ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ, সেনাশাসন, স্বৈরাচার এবং স্বাধীনতার শত্রুদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন তৎপর। ১৯৭১ এর মার্চে পাকিস্তানি অপশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে উজ্জীবিত হওয়ার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পূর্ব বাংলার লেখকদের শপথবাক্য পাঠ করান।

  • ড. আহমদ শরীফ ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯২১ সালে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • চট্টগ্রামের মুসলমানদের মধ্যে প্রথম এন্ট্রাস পাশ করা বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ছিলেন তাঁর চাচা।
  • তিনি 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক।
  • তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), একুশে পদক (১৯৯১) পান এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি. লিট ডিগ্রি (১৯৯৩) লাভ করেন।

ড. আহমদ শরীফের প্রবন্ধগ্রন্থসমূহের নাম:

'বিচিত চিন্তা' (১৯৬৮), 'সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা' (১৯৬৯), 'স্বদেশ অন্বেষা' (১৯৭০), 'জীবনে সমাজে সাহিতা (১৯৭০), 'যুগ যন্ত্রণা' (১৯৭৪), 'কালিক ভাবনা' (১৯৭৪), 'মধ্যযুগের সাহিত্য সমাজ ও সংস্কৃতির রূপ' (১৯৭৭), 'বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য' (১ম খণ্ড-১৯৭৮, ২য় খণ্ড ১৯৮৩), 'সময় সমাজ মানুষ' (১৯৯৫), 'স্বদেশ চিন্তা (১৯৯৭), 'বিশ শতকের বাঙালি' (১৯৯৮), 'সংস্কৃতি।

তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থসমূহের নাম:

'লায়লী মজনু' (১৯৫৭), 'রসুল বিজয়' (১৯৬৪) 'চন্দ্রাবতী' (১৯৬৭), 'সিকান্দারনামা' (১৯৭৭), 'নবী বংশ' (১৯৭৮), 'রসুল চরিত' (১৯৭৮)।

তিনি ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯ সালে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি এক উইল (১৯৯৫) করে নিজের মৃত্যু-উত্তর চক্ষু ও দেহ 'বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ'কে দান করে যান। এ উইল কমিটির আহবায়ক ছিলেন নাট্যকার মামুনুর রশীদ।

Content added By

আহমাদ মোস্তফা কামাল

587
Content added By

আহমেদ ছফা

620

আহমদ ছফা (১৯৪৩-২০০১)

বিশিষ্ট লেখক, চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক আহমদ ছফার রচনায় প্রাধান্য পেয়েছে জাতিসত্তার পরিচয়। জীবদ্দশায় তিনি তাঁর প্রথাবিরোধী, নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গীর জন্য বুদ্ধিজীবী মহলে বিশেষ পরিচিত ছিলেন।

  • আহমদ ছফা ৩০ জুন, ১৯৪৩ সালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাকে স্বাধীন করার প্রত্যয়ে 'লেখক সংগ্রাম শিবির' গঠন করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা 'প্রতিরোধ' প্রকাশ করেন।
  • ১৯৮০ সালে কাঁটাবন বস্তিতে তিনি 'শিল্পী সুলতান কর্ম ও শিক্ষাকেন্দ্র' চালু করেন।
  • তিনি 'উত্থানপর্ব', 'দাবানল' (এটি তিনি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে কলকাতা থেকে প্রকাশ করেন) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
  • তিনি একুশে পদক (মরণোত্তর) পান।
  • তিনি ২৮ জুলাই, ২০০১ সালে মারা যান।

তাঁর উপন্যাসসমূহঃ

'সূর্য তুমি সাথী' (১৯৬৭): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।

'‘ ওঙ্কার ' (১৯৭৫) : এটি ৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা স্বাধীন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি উত্থানের এক মনোজ্ঞ রূপায়ণ। উপন্যাসের নায়ক আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সাথে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে একধরনের ক্ষমতা লাভ করে। এ কাহিনিসূত্র ধরেই উপন্যাসের কাহিনি গতি লাভ করেছে। এখানে আইয়ুব খানের তথাকথিত সামরিক শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।

‘একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন' (১৯৮৮): আইয়ুব খান থেকে শুরু করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রচিত।

‘মরণ বিলাস' (১৯৯০): রাত ১২:১৩ মিনিট থেকে ভোর পর্যন্ত একান্ত সাগরেদ মাওলা বক্সের কাছে একজন মুমূর্ষু রাজনীতিবিদের সরল স্বীকারোক্তিতে ব্যক্ত হয় রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতন, সিঁড়ি বেয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কাহিনি। একই সাথে নেতার করুণ মিনতিও প্রকাশিত হয়েছে।

‘ অলাতচক্র' (১৯৯৩): উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারতে অভিবাসী বাঙালিদের নিয়ে রচিত। প্রেমের কাহিনি হলেও এতে ধ্বনিত হয়েছে উদ্বাস্তু বাঙালিদের দৈন্যদশা।

‘গাভী বিত্তান্ত” (১৯৯৫) : এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের প্রেক্ষাপটে রচিত ব্যাঙ্গাত্নক রচনা। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিসি মিঞা মোহাম্মদ আবু জোনায়েদ (প্রতীকী চরিত্র) ।

‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' (১৯৯৬): উপন্যাসটি ‘প্রাণপূর্ণিমার চান’ নামে সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয় ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' ।

‘বিহঙ্গ পুরাণ” (১৯৮৬), ‘পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ' (১৯৯৬)।

তাঁর প্রবন্ধগুলো:

‘জাগ্রত বাংলাদেশ” (১৯৭১): এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্ৰথম গ্ৰন্থ ৷

‘যদ্যপি আমার গুরু' (১৯৯৭): এটি জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক প্রসঙ্গে রচিত।

‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস' (১৯৭২), ‘বাংলা ভাষা : রাজনীতির আলোকে’ (১৯৭৫), ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা' (১৯৭৭), 'বাঙালি মুসলমানের মন' (১৯৮১), ‘রাজনীতির লেখা’ (১৯৯৩), ‘সংকটের নানা চেহারা' (১৯৯৬), ‘বাঙালি জাতি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র' (২০০১), ‘উপলক্ষের লেখা’ (২০০১), ‘সেইসব লেখা' (২০০৮)

তাঁর অন্যান্য রচনাবলি:

গল্প :

‘নিহত নক্ষত্র' (১৯৬৯)

কবিতা :

‘জল্লাদ সময়’ (১৯৭৪), ‘দুঃখের দিনে দোহা' (১৯৭৫), ‘একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা' (১৯৭৭), ‘লেনিন ঘুমোবে এবার' (১৯৯৯)।

অনুবাদ :

‘তানিয়া’ (১৯৬৭), ‘ফাউস্ট' (১৯৮৬)।

শিশুতোষ :

‘দোলা আমার কনক চাপা' (১৯৬৮), 'গোঁ-হাকিম' (১৯৭৭)।

ইতিহাস গ্রন্থ :

‘সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস' (১৯৭৯)

Content added By

আহসান হাবীব

744

পঞ্চাশের দশকের অন্যতম আধুনিক কবি আহসান হাবীব। তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু ছিল বস্তুনিষ্ঠতা ও বাস্তব জীবনবোধ। তাঁর মানুষের সংগ্রামী চেতনা ও সমকালীন যুগ-যন্ত্রণা শিল্পসম্মতভাবে কবিতায় গ্রামীণ ঐতিহ্যমণ্ডিত সামাজিক বাস্তবতা, মধ্যবিত্ত পরিস্ফুট হয়েছে। ২২ জুন, ১৯৬৭ সালে সরকার বেতার ও টেলিভিশন থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে সরকারের সে সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে বিবৃতি দেন। ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ সালে এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক বৃদ্ধিজীবী সমাবেশে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন।

আহসান হাবীব ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ সালে পিরোজপুরের শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান তাঁর সন্তান।

তিনি ১৯৬৪ সালে দৈনিক পাকিস্তান (পরবর্তীতে দৈনিক বাংলা) পত্রিকার সাহিত্যপাতার সম্পাদক হিসেবে ২১ বছর দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী সম্পাদক: 'দৈনিক তকবীর' (১৯৩৭), 'মাসিক বুলবুল' (১৯৩৭-৩৮), 'মাসিক সওগাত' (১৯৩৯-৪৩: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক)। দৈনিক আজাদ, মাসিক মোহাম্মদী, দৈনিক কৃষক, দৈনিক ইত্তেহাদ, সাপ্তাহিক প্রবাহ প্রভৃতি পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন।

  • সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তার প্রথম প্রবন্ধ 'ধর্ম' প্রকাশিত হয়।
  • ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'মায়ের কবর পাড়ে কিশোর' পিরোজপুর সরকারি স্কুল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
  • তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১), একুশে পদক (১৯৭৮) পান।
  • তিনি ১০ জুলাই, ১৯৮৫ সালে মারা যান।

তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যের নাম

  • 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭): এতে গ্রাম ও নগর উভয়কেন্দ্রিক কবিতা বিদ্যমান। তাঁর কবিতায় ব্যঙ্গের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠতা ও বাস্তব জীবনবোধ ফুটে উঠেছে।

আহসান হাবীবের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহের নামঃ

'ছায়াহরিণ' (১৯৬২): এ কাব্যে ঐতিহ্য আশ্রয়ী কবি বণিক সভ্যতার রুদ্র রূপ দেখিয়েছেন। তিনি গ্রামীণ অনুষঙ্গে স্থিত হতে চেয়েছেন।

'সারা দুপুর' (১৯৬৪): এটি আহসান হাবীবের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।

'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' (১৯৮৫): এ কাব্যের কবিতা ' সেই অস্ত্র। 'আশায় বসতি' (১৯৭৪), 'মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬), 'দু'ই হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০), 'প্রেমে কবিতা' (১৯৮১)।

অরণ্যবহ্নি (উপন্যাস)তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
বহ্নিবলয় (উপন্যাস)ড. নীলিমা ইব্রাহীম
বহ্নিবলয় (উপন্যাস)বন্দে আলী মিয়া
আরণ্য নীলিমা (উপন্যাস)আহসান হাবীব
বিধ্বস্ত নীলিমা (কাব্যগ্রন্থ)শামসুর রাহমান
বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ (উপন্যাস)সরদার জয়েনউদ্দিন

তাঁর অন্যান্য রচনা সমূহের নামঃ

উপন্যাস : 'আরণ্য নীলিমা' (১৯৬২): উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী তার স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকট এ উপন্যাসের উপজীব্য।

'রানী খালের সাঁকো' (১৯৬৫), 'জাফরানী রং পায়রা'।

শিশুতোষ: 'ছোটদের পাকিস্তান' (১৯৫৪), 'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' (১৯৭৭), 'ছুটির দিন দুপুরে' (১৯৭৮), 'মেলা (কবিতা), 'আমি কোনো আগন্তুক নই' (কবিতা)।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কাজী নজরুল ইসলাম
আহসান হাবীব
শহীদ কাদরী
শামসুর রহমান

আ. ন. ম. বজলুর রশীদ

695
Content added By

এখলাসউদ্দিন আহমদ

670
Content added By

এ এম হারুন-অর-রশিদ

767
Content added By

এম আর আখতার মুকুল

759
Content added By

ইবরাহীম খাঁ

632
Content added By

ইমদাদুল হক মিলন

753

ইমদাদুল হক মিলন (১৯৫৫-)

বাংলাদেশের একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ইমদাদুল হক মিলন। তিনি গল্প, উপন্যাস ও নাটক- এই তিন শাখাতেই জনপ্রিয় রচনা উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় 'সজনী' নামে ছোট গল্পের মাধ্যমে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং 'কিশোর বাংলা' পত্রিকায় শিশুতোষ গল্প লিখে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন।

  • ইমদাদুল হক মিলন ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৫ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- লৌহজং থানার পয়সা গ্রামে।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯২) এবং একুশে পদক (২০১৯) পান।

ইমদাদুল হক মিলনের সাহিত্যকর্মসমূহ:

উপন্যাস:

‘যাবজ্জীবন' (১৯৭৬): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ।

‘কালোঘোড়া' (১৯৯১): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ।

‘নূরজাহান' (১৯৯৫): এপার-ওপার বাংলার ব্যাপক জনপ্রিয় উপন্যাস ।

‘দুঃখ কষ্ট’ (১৯৮২), ‘ও রাধা ও কৃষ্ণ’ (১৯৮২), ‘এক দেশ' (১৯৮৩), ‘প্রিয় নারী জাতি' (১৯৮৪), 'ভূমিপুত্র’ (১৯৮৫), ‘পরবাস' (১৯৮৭), ‘নায়ক’ (১৯৮৮), ‘সারাবেলা’ (১৯৮৮), 'রূপনগর' (১৯৮৮), ‘কথা ছিলো’ (১৯৮৮), ‘দুজনে' (১৯৮৮), ‘রাজাকারতন্ত্র' (১৯৮৯), ‘বালকের অভিমান' (১৯৮৯), ‘বন মানুষ' (১৯৮৯), ‘স্বপ্ন’ (১৯৮৯), ‘মহাযুদ্ধ' (১৯৮৯), 'কোন কাননের ফুল' (১৯৯০), ‘সুদূরতমা’ (১৯৯১), ‘আশায় আশায় থাকি' (১৯৯২), ‘বাঁকা জল’ (১৯৯৩), ‘মানুষজন’ (১৯৯৪), ‘আছ তুমি হৃদয় জুড়ে' (১৯৯৬), 'সুচরিতাসু' (১৯৯৭), 'যুবরাজ' (১৯৯৭), 'মৌসুমী' (১৯৯৮), ‘রহস্যময়ী' (১৯৯৯), ‘তখন ছিলাম আমি' (২০০০), 'এসো' (২০০১), 'জান' (২০০২), ‘কুসুমের মতো মেয়েরা' (২০০৩), ‘বন্ধুয়া' (২০০৪), ‘তুমিই’ (২০০৫), ‘অপরবেলা’ (২০০৬)।

গল্পগ্রন্থ:

‘নিরন্নের কাল’ (১৯৭৯), ‘হে প্রেম' (১৯৮৩), ‘তাহারা’ (১৯৮৬), ‘মর্মবেদনা' (১৯৮৮), 'প্রেম নদী’ (১৯৮৮), ‘ফুলের বাগানে সাপ' (১৯৮৩), ‘আহারী' (১৯৮৪), ‘বারো রকমের মানুষ' (১৯৮৮)

ছোটগল্প:

‘রাজার চিঠি’, ‘মানুষ কাঁদছে’, ‘নেতা যে রাতে নিহত হলেন' ।

আত্মজীবনী: 'কেমন আছ সবুজ পাতা' (২০১২)।

Content added By

ইসমাইল হোসেন সিরাজী

687

ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০-১৯৩১)

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী যৌবনকালে অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করতেন এবং কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ধর্মীয় চেতনায় প্রভাবিত হয়ে মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী হিসেবে পরিচিত হন। মুসলমানদের নবজাগরণ ও দেশমাতৃকার স্বাধীনতা অর্জনই ছিল তাঁর জীবনের লক্ষ্য। এ কারণেই তিনি জাতীয় জাগরণমূলক কাব্য সৃষ্টিতে ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত এবং কাজী নজরুল ইসলামের পূর্বসূরি। মুসলমানদের অন্ধকারকালে তাঁর কাব্য এবং অনলবর্ষী বক্তৃতা মুসলিম জাতিকে যেমন অনুপ্রাণিত করেছে, তেমনি আলোর পথ দেখিয়েছে। তিনি সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তাঁর রচিত গদ্য ছিল সংস্কৃতবহুল এবং কবিতা ক্লাসিক রীতির।

  • সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৩ জুলাই, ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে নামের সাথে 'সিরাজী' যুক্ত হয়।
  • তিনিই প্রথম সাহিত্যিক, যিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগে কারাদণ্ড ভোগ করেন।
  • তিনি 'মাসিক নূর' (১৯১৯) ও 'সাপ্তাহিক সুলতান' (১৯২৩) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
  • বলকান যুদ্ধের (১৯১২) সময় তুরস্ককে সাহায্য করার জন্য ভারতবর্ষ থেকে মেডিকেল টিম পাঠানো হয়। এ টিমে থেকে তিনি আহত সৈনিকদের সেবা করার জন্য তুরস্কের সুলতান কর্তৃক 'গাজী' উপাধি লাভ করেন।
  • তিনি ১৭ জুলাই, ১৯৩১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

ইসমাইল হোসেনের কাব্যগ্রন্থসমূহঃ

'অনল প্রবাহ' (১৯০০): এটি তাঁর প্রথম রচনা যা সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয় এবং ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারের অভিযোগে তার ২ বছরের (১৯১০-১২) কারাদণ্ড হয়।

'স্পেন বিজয় কাব্য' (১৯১৪): এটি স্পেনের সম্রাট রডরিকের সাথে মুসলিম বীর তারেকের সংগ্রাম কাহিনি নিয়ে রচিত মহাকাব্য। এ কাব্যের মাধ্যমে মুসলিমদের অতীত বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস নতুন করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

'আকাঙ্ক্ষা' (১৯০৬), 'উদ্বোধন' (১৯০৭), 'উচ্ছ্বাস' (১৯০৭), 'নব উদ্দীপনা' (১৯০৭)।

ইসমাইল হোসেনের উপন্যাসসমূহঃ

'রায়নন্দিনী' (১৯১৮): বঙ্কিমচন্দ্রের 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের নায়ক হিন্দু এবং নায়িকা মুসলমান। দুই ধর্মের অবৈধ সম্পর্কের রচনার কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রচনা করেন 'রায়নন্দিনী'। এর নায়ক মুসলিম এবং নায়িকা হিন্দু। এ উপন্যাসে তিনি দেখান যে, হিন্দু নায়িকা কেদার রায়ের কন্যা স্বর্ণময়ী মুসলিম নায়ক ঈশা খাঁর প্রেমেই পড়েনি, বরং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়েও করেছেন। 'রায়নন্দিনী' উপন্যাস হিসেবে সফল না হলেও প্রতিক্রিয়া হিসেবে সফল।

'তারা-বাঈ' (১৯১৮), 'ফিরোজা বেগম' (১৯২৩), 'নূরউদ্দিন' (১৯২৩), 'জাহানারা' (১৯৩১)।

ইসমাইল হোসেনের অন্যান্য রচনাবলিঃ

প্রবন্ধ: 'স্বজাতি প্রেম' (১৯০৯), 'তুর্কি নারী জীবন' (১৯১৩), 'মহানগরী কর্ডোভা' (১৯১৩), 'আদব কায়দা শিক্ষা' (১৯১৪), 'স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা' (১৯১৬), 'সুচিন্তা' (১৯১৬)।

ভ্রমণকাহিনি: 'তুরস্ক ভ্রমণ' (১৯১০): এ গ্রন্থে তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি তুরস্ক ভ্রমণকালে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন, এ গ্রন্থে সেসবের বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন।

সঙ্গীত গ্রন্থ: 'প্রেমাঞ্জলি' (১৯১৬): এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের প্রতিযোগী হিসেবে রচিত সঙ্গীত গ্রন্থ।
'সঙ্গীত সঞ্জীবনী' (১৯১৬)।

Content added By

উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

557
Content added By

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

729

যুগসন্ধিক্ষণের কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, দেশ ও সমাজভাবনা তাঁর রচনারীতির বিশেষত্ব। তাঁর হাত ধরেই বাংলা কবিতা মধ্যযুগের গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিকতার রূপ পেয়েছে। বাংলা সাহিত্যে দুই যুগের মিলনকারী হিসেবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

  • ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ৬ মার্চ, ১৮১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার শিয়ালডাঙ্গার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • ছদ্মনাম ‘ভ্রমণকারী বন্ধু’
  • তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি, গুপ্ত কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত।
  • যুগসন্ধিক্ষণের সময়কাল ১৭৬০-১৮৬০ সাল।
  • তিনি ২৩ জানুয়ারি, ১৮৫৯ সালে মারা যান।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 'সংবাদ প্রভাকর' (২৮ জানুয়ারি, ১৮৩১): এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক। তিনি যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুর ও প্রেমচান তর্কবাগিশের আনুকূল্যে পত্রিকাটি প্রকাশ করেন। পত্রিকাটি ১৮৩১ সালে সাপ্তাহিক এবং ১৪ জুন, ১৮৩৯ সালে দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এটি ছিল বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা।

'সংবাদ রত্নাবলী' (১৮২৫), 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' (১৮৪৭)

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত বিখ্যাত কবিতাগুলোঃ স্বদেশ, তপসে মাছ, কে, বাঙালি মেয়ে, নীলকর, আনারস।

ঈশ্বরচন্দ্র রচিত সাহিত্যকর্মসমূহঃ

'প্রবোধ প্রভাকর' (১৮৫৮): এটি কবিতার সংকলন।

'হিত প্রভাকর' (১৮৬১): এটি গদ্যে ও পদ্যে রচিত বিশেষ ধরনের গল্প।

'বোধেন্দু বিকাশ' (১৮৬৩): এটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত নাটক।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়। ১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর মাধ্যমে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে এবং ১৮০১ সাল থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ শুরু হলেও বাংলা কাব্যসাহিত্যে ১৮৬১ সালে 'মেঘনাদবধ' প্রকাশিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে আধুনিকতা শুরু হয়নি। এই একশ (১৭৬০-১৮৬০) বছর কাব্যে আধুনিকতায় পৌঁছার প্রচেষ্টা চলেছে মাত্র। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত মধ্যযুগের দেব-দেবীর কাহিনি বর্জন করে ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ছোট ছোট কবিতা লেখা শুরু করেন। তাঁর কবিতায় সমাজচেতনা থেকে শুরু করে দেশাত্মবোধ পর্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠে। আবার তাঁর কবিতায় কবিয়াল ও শায়েরদের রচনার ঢং, পয়ার ও ত্রিপদীর ব্যবহারও লক্ষণীয়। তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য-বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা-বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ করা যায় বলে তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বিখ্যাত পঙ্ক্তিঃ

  • কতরূপ স্নেহ করি, দেশের কুকুর ধরি,
    বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া। (স্বদেশ)
  • নগরের লোক সব এই কয়মাস।
    তোমার কৃপায় করে মহাসুখে বাস। (তপসে মাছ)
  • তুমি মা কল্পতরু,
    আমরা সব পোষাগরু। (নীলকর)
Content added By

ওমর আলী

712
Content added By

ওয়াসি আহমেদ

582
Content added By

ওয়াহিদুল হক

642
Content added By

কবীর চৌধুরী

649
Content added By

কমলকুমার মজুমদার

602
Content added By

করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়

591
Content added By

কাজী আবদুল ওদুদ

803

কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪-১৯৭০)

প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ কাজী আবদুল ওদুদ ছিলেন মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। আধুনিক বাংলা সাহিত্যধারায় আবদুল ওদুদের প্রধান পরিচয় চিন্তাশীল লেখক হিসেবে। ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। সাহিত্য সমাজের 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকায় লেখার জন্য নওয়াব পরিবার কর্তৃক নিগৃহীত হন এবং ঢাকা ত্যাগ করে কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। সাহিত্য সমাজের নেতৃত্বে পরিচালিত বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। রবীন্দ্র-বিশ্লেষক হিসেবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

  • কাজী আবদুল ওদুদ ২৬ এপ্রিল, ১৮৯৪ সালে রাজবাড়ী (তৎকালীন ফরিদপুর) জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাময়িক 'সংকল্প' (১৯৫৪) পত্রিকার সম্পাদক এবং 'তরুণ পত্র' (১৯৬৫) পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন।
  • তিনি 'ব্যবহারিক শব্দকোষ' (১৯৫৩) নামে একটি অভিধান সংকলন করেন।
  • তিনি ১৯ মে, ১৯৭০ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী আবদুল ওদুদের সাহিত্যকর্মসমূহঃ

উপন্যাস:

‘নদীবক্ষে' (১৯১৮) উপন্যাসটি তাঁর ছাত্রাবস্থায় প্রকাশিত হয়। গ্রামীণ সমাজের কলহ, বিবাদ, দ্বন্দ্ব আবার মিলনের কথা চারটি কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে এ উপন্যাসটির আখ্যানভাগ এগিয়ে চলেছে। এ উপন্যাসে কাজী আবদুল ওদুদ দেখিয়েছেন গ্রামের মুসলিমরা ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিন্তু ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি তাদের মাঝে নেই। লালু ও মতির প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক ব্যাপক আকর্ষণীয়। কাজী আবদুল ওদুদ বাংলাদেশের শাশ্বত ধর্মবোধকেই এখানে তুলে ধরেছেন। এ উপন্যাসে অন্ত্যজ চাষি মুসলিম জীবনের যে নির্ভরযোগ্য চিত্র উল্লেখ আছে, তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও আকৃষ্ট করেছিল।
‘আজাদ' (১৯৪৮)।

প্রবন্ধ: ‘শাশ্বতবঙ্গ' (১৯৫১), এটি আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন। ‘শাশ্বতবঙ্গ' এর প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রবন্ধগুলোতে লেখক বৃহৎ বাংলা ও ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের বুদ্ধির মুক্তি ঘটাতে চেয়েছেন এবং শিক্ষিত সমাজের অসাবধানতায় জাতির কতটুকু বিড়ম্বনা ঘটতে পারে, সে আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন। তিনি এখানে অবিভক্ত বাংলা প্রত্যাশা করেছিলেন।
‘বাঙালার জাগরণ’ (১৯৫৬) : এটি ১৯৫৬ সালে ‘বিশ্বভারতী’তে প্রদত্ত বক্তৃতাবলির সংকলন ।
‘রবীন্দ্রকাব্য পাঠ' (১৯২৭), ‘সমাজ ও সাহিত্য' (১৯৩৪), ‘হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ' (১৯৩৬), 'কবিগুরু গোটে (১৯৪৬, এটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত), ‘নজরুল প্রতিভা (১৯৪৯), ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ' (১ম খণ্ড- ১৯৬২, ২য় খণ্ড ১৯৬৯), ‘মোহাম্মদ ও ইসলাম' (১৯৬৬)।

নাটক : 'পথ ও বিপথ' (১৯৩৯), 'মানব বন্ধু' (১৯৪১)।

গল্পগ্রন্থ: 'মীর পরিবার' (১৯১৮)- এটি তার ছাত্রাবস্থায় প্রকাশিত হয়। 'তরুণ' (১৯৪৮)।

Content added By

কাজী ইমদাদুল হক

848

ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙালি লেখক ও শিক্ষাবিদ কাজী ইমদাদুল হক বাংলার মুসলিম সমাজের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে সাহিত্যকর্মে নিয়োজিত হন। তিনি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা' (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।

  • কাজী ইমদাদুল হক ৪ নভেম্বর, ১৮৮২ সালে খুলনার গদাইপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি 'শিক্ষক' (১৯২০) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এটি তিন বছর চালু ছিলো।
  • তিনি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র (১৯১১) স্থপতি ছিলেন।
  • ১৯২১ সালের মে মাসে ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড স্থাপিত হলে তিনি এর সেক্রেটারি পদে যোগদান করেন।
  • অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সহিত শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব পালন করায় সরকার তাঁকে 'খান সাহেব' (১৯১৯) ও 'খান বাহাদুর' (১৯২৬) উপাধিতে ভূষিত করেন।
  • তিনি ২০ মার্চ, ১৯২৬ সালে কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় মারা যান। কলকাতার গোরা কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

ইমদাদুল হকের সাহিত্যকর্মসমূহঃ

  • উপন্যাস: 'আবদুল্লাহ' (১৯৩৩)।
  • কাব্য: 'আঁখিজল' (১৯০০), 'লতিকা' (১৯০৩-এটি অপ্রকাশিত)।
  • প্রবন্ধ: 'মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা' (১৯০৪), 'ভূগোল শিক্ষা প্রণালী' (১৯১৩), 'প্রবন্ধমালা' (১৯১৮)।
  • শিশুতোষ গ্রন্থ: 'নবীকাহিনী' (১৯১৭), 'কামারের কাণ্ড' (১৯১৯)।
Content added By

কাজী কাদের নেওয়াজ

643
Content added By

কাজী দীন মুহাম্মদ

646

ডক্টর কাজী দীন মুহাম্মদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন বরেণ্য ভাষাতত্ত্ববিদ ও সাহিত্যিক। তিনি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ভাষাতত্ত্ব ও ইসলামী সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণায় তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

জন্ম ও মৃত্যু
ডক্টর কাজী দীন মুহাম্মদ জন্মগ্রহণ করেন ১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৭ সালে, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর পিতা কাজী আলীম উদ্দীন এবং মাতা মোসাম্মৎ কাওসার বেগম। তিনি ২৮ অক্টোবর ২০১১ সালে ৮৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

শিক্ষাজীবন
তিনি ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজে (বর্তমানে কবি নজরুল সরকারি কলেজ) পড়াশোনা করেন। ১৯৪৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন
পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬২ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ১৯৭৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।

রচনাবলি

ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক গ্রন্থ (নির্বাচিত)

  • বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (৪ খণ্ড)

  • সাহিত্য শিল্প

  • সাহিত্য সম্ভার

  • সেকালের সাহিত্য

  • একালের সাহিত্য

  • ভাষাতত্ত্ব

  • লোকসাহিত্যে ধাঁধা ও প্রবাদ

  • মানবমর্যাদা

  • সংস্কৃতি ও আদর্শ

  • জীবন সৌন্দর্য

ইসলাম ও ধর্মীয় বিষয়ক রচনা

  • সুফিবাদ ও আমাদের সমাজ

  • সুফিবাদের গোড়ার কথা

  • ইসলামি সংস্কৃতি

  • বাংলাদেশে ইসলামের আবির্ভাব

  • মহানবীর বাণী শতক

  • ছোটদের হযরত মুহাম্মদ (সা.)

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ

  • দি ভার্বাল স্ট্রাকচার ইন কলোকুয়াল বেঙ্গলি

  • নাস্তিকতা ও আস্তিকতা

  • সুখের লাগিয়া

  • শিক্ষা

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • বাংলাদেশ দায়েমী কমপ্লেক্স পুরস্কার (১৯৮৯)

  • বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন পুরস্কার (১৯৯০)

  • Distinguished Leadership Award (American Biographical Institute)

  • পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর স্বর্ণ ফলক, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা (২০০২)

  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রকল্প স্বর্ণপদক (২০০৩)

  • কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার (২০০৪)

  • ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার (২০০৭)

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯তম ব্যাচের পক্ষ থেকে গুণীজন সম্মাননা

Content added By

কামাল চৌধুরী

651
Content added By

কালকূট

599
Content added By

কালাম আজাদ

685
Content added By

কালিচন্দ্র রায় চৌধুরী

604
Content added By

কালিদাস রায়

675

কালিদাস রায় (২২ জুন ১৮৮৯ — ২৫ অক্টোবর ১৯৭৫) ছিলেন রবীন্দ্রযুগের বিশিষ্ট রবীন্দ্রানুসারী কবি, প্রাবন্ধিক ও পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা। গ্রামবাংলার রূপকল্প, বৈষ্ণবপ্রাণতা ও সংযত তত্ত্বপ্রবণতা তাঁর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে সাহিত্যচর্চা করেন এবং বাংলা কাব্যধারায় একটি স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তোলেন।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন
কালিদাস রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৯ সালের ২২ জুন বর্ধমান জেলার কড়ুই গ্রামে। তিনি চৈতন্যদেবের জীবনীকার লোচনদাসের বংশধর। শৈশবকাল কেটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর শহরে। সেখান থেকেই তিনি বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং পরবর্তীতে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।

কর্মজীবন
১৯১৩ সালে রংপুর জেলার উলিপুর মহারাণী স্বর্ণময়ী হাইস্কুলে সহশিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে সাত বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২০ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বড়িশা হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। এরপর রায়বাহাদুর দীনেশচন্দ্র সেনের সহায়তায় কলকাতার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৫২ সালে অবসর গ্রহণ পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন।

সাহিত্যকর্ম
কালিদাস রায় রবীন্দ্রভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে কাব্যচর্চা শুরু করেন। পরবর্তীতে কবিতা, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও শিশু সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ‘বেতালভট্ট’ ছদ্মনামে রচিত তাঁর রসরচনাগুলি পাঠকমহলে বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

কাব্যগ্রন্থ

  • কুন্দ (১৯০৭)

  • কিশলয় (১৯১১)

  • পর্ণপুট (১৯১৪, ১৯২১)

  • ব্রজবেণু (১৯১৬)

  • বল্লরী (১৯১৫)

  • ক্ষুদকুঁড়া (১৯২২)

  • রসকদম্ব (১৯২৩)

  • লাজাঞ্জলি (১৯২৪)

  • হৈমন্তী (১৯৩৫)

  • বৈকালী (১৯৪০)

  • গাথাঞ্জলি (১৯৫৮)

  • সন্ধ্যামণি (১৯৫৮)

  • পূর্ণাহুতি (১৯৬৮)

  • দিন ফুরানোর গান (১৯৮৪)

  • তথাগত (১৯৯৪)

প্রবন্ধগ্রন্থ

  • পদাবলী সাহিত্য

  • প্রাচীন বঙ্গ সাহিত্য পরিচয়

  • সাহিত্য প্রসঙ্গ

  • প্রাচীন বঙ্গসাহিত্য

  • শরৎ সাহিত্য

  • চাণক্য সংহিতা

  • চালচিত্র

  • রঙ্গচিত্র

শিশু সাহিত্য

  • গাথাঞ্জলি (১৯৬১)

  • গাথাকাহিনী (১৯৬৪)

  • তৃণদল (১৯৭০)

  • গাথামঞ্জরী (১৯৭৪)

  • মণীষী বন্দনা (১৯৭৬)

  • গাথাবলী (১৯৭৮)

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • রংপুর সাহিত্য পরিষদ প্রদত্ত ‘কবিশেখর’ উপাধি (১৯২০)

  • কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯৫৩)

  • কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সরোজিনী স্বর্ণপদক

  • বিশ্বভারতীর ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি

  • পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৬৩)

  • রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি (১৯৭১)

মৃত্যু
কালিদাস রায় ১৯৭৫ সালের ২৫ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে তাঁর নিজ বাসভবন ‘সন্ধ্যার কুলায়’ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Content added By

কালীনাথ দত্ত

676
Content added By

কাহ্নপা

606

চর্যাদের কবিদের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচয়িতা হলেন কাহ্নপা । চর্যাপদে তাঁর পদের সংখ্যা ১৩টি। তিনি কাহ্নপা, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্ন, কানু, কাহ্নিল, কৃষ্ণচর্য প্রভৃতি নামে পরিচিত ছিলেন। এ নামগুলো তার রচিত পদগুলোর ভূমিকায় পাওয়া গিয়েছে। কাহ্নপার জীবনকালের শেষ সীমা ৮৪০ খ্রিষ্টাব্দ। তাঁর জন্ম উড়িষ্যায় হলেও তিনি বিহারে বসবাস করতেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের যোগী ছিলেন। তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীতশাস্ত্র উভয়দিকেই দক্ষ ছিলেন । তিনি ডোম্বীর প্রেমে পড়ে নিজের সাধনা জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন বলে তার রচনা হতে জানা যায় (১০ নং পদ)। চর্যাপদের ১৩নং ও ১৮নং পদে তার বিবাহের সংবাদ রয়েছে। চর্যাপদ ছাড়া তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেন । তিনি দেবপালের রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন ।

Content added By

কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার

647
Content added By

কেতকী কুশারী ডাইসন

719
Content added By

কুমুদরঞ্জন মল্লিক

721
Content added By

কোরেশী মাগন ঠাকুর

750

রোসাঙ্গ রাজসভার বাঙালি কবি ও সিদ্দিক বংশজাত কোরেশী মাগন ঠাকুর মধ্যযুগের অন্যতম কবি। তিনি রোসাঙ্গরাজ সাদ উমাদার ও তাঁর পুত্র চন্দ্র সুধর্মার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

  • কোরেশী মাগন ঠাকুর আনুমানিক ১৬০০ সালে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার চক্রশালা (মতান্তরে আরাকান) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • ডাকনাম মাগন। উপাধি: ঠাকুর (আরাকানি রাজাদের সম্মানিত উপাধি)।
  • তাঁর পিতা বড়াই ঠাকুরও আরাকান রাজসভার মন্ত্রী ছিলেন।
  • মহাকবি আলাওল তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় 'পদ্মাবতী' ও 'সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল' কাব্য রচনা করেন।
  • তিনি ১৬৬০ সালে মারা যান।

কোরেশী মাগন ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থের নাম 'চন্দ্রাবতী': এটি লোককাহিনি আশ্রিত রোমান্টিক প্রণয়কাব্য।

Content added By

কৃত্তিবাস ওঝা

698

কৃত্তিবাস ওঝা (১৩৮১-১৪৬১)

মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের পনের শতকের প্রধান কবি ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি কত্তিবাস ওঝা। তিনি বাল্মীকির রামায়ণের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। মৈথিলি ব্রাহ্মণদের অসমিয়া ভাষায় ওঝা বলা হয়। ওঝা শব্দটি এসেছে 'উপাধ্যায়' থেকে।

  • কৃত্তিবাস ওঝা আনুমানিক ১৩৮১ সালে রাজশাহী জেলার প্রেমতলীতে / পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার নবদ্বীপের অন্তর্গত ফুলিয়া গ্রামের মুখুটি বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
  • কৃত্তিবাসের পদবী মুখোপাধ্যায়। পিতামহ প্রদত্ত নাম কৃত্তিবাস।
  • কৃত্তিবাস সম্পর্কে মাইকেল মধুসূদন দত্ত বলেছেন, "কৃত্তিবাস 'কীর্তিবাস কবি', এ বঙ্গের অলঙ্কার।"
  • তিনি আনুমানিক ১৪৬১ সালে মারা যান।

কৃত্তিবাসের রামায়ণের বিস্তারিত আলোচনাঃ

গৌড়েশ্বরের আদেশে কৃত্তিবাস ওঝা প্রথম 'রামায়ণ' সহজবোধ্য বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন। এটি পয়ার ছন্দে রচিত। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্য নাম 'শ্রীরাম পাঁচালী'। এটি 'কৃত্তিবাসী রামায়ণ' নামেও পরিচিত। এর মাধ্যমে অনুবাদ সাহিত্যের সূচনা হয়। ১৮০২ সালে উইলিয়াম কেরির সহায়তায় শ্রীরামপুর মিশনের প্রেস থেকে এটি পাঁচখণ্ডে মুদ্রিত হয়। কৃত্তিবাসের রামায়ণ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘প্রাচীন বাঙালি সমাজই আপনাকে ব্যক্ত করিয়াছে।’

Content added By

কৃষ্ণদয়াল বসু

671
Content added By

কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়

625
Content added By

ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ

544
Content added By

খান মোহাম্মদ ফারাবী

653
Content added By

খেলারাম চক্রবর্তী

671
Content added By

খান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন

672
Content added By

গগন হরকরা

552
Content added By

গজেন্দ্রকুমার মিত্র

573
Content added By

গিরিশচন্দ্র ঘোষ

637

পবিত্র কোরআন বাংলায় প্রথম অনুবাদকারী গিরিশচন্দ্র সেন (ভাই)। বাঙালি মুসলিমদের জন্য মুসলিম ধর্মগ্রন্থ বঙ্গানুবাদ ও মহাপুরুষদের জীবনী রচনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন। ধর্মচর্চা যে শুধু আপনধর্মের গুণকীর্তন ও মাহাত্ম্য বর্ণনা নয়, পরধর্ম ও মতের ভালো দিকগুলোর প্রকাশ ও উন্মোচন, গিরিশচন্দ্র তা দেখিয়েছেন।

  • গিরিশচন্দ্র সেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচদোনা গ্রামে ১৮৩৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি ১৮৮১-৮৬ সালে পবিত্র কোরআন অনুবাদ করেন।
  • তিনি 'মহিলা' (১৮৯৫) পত্রিকার সম্পাদক এবং 'সুলভসমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক ছিলেন।
  • তিনি ১৫ আগস্ট, ১৯১০ সালে মারা যান।

গিরিশচন্দ্র সেন ব্রাহ্মধর্ম ধর্মের অনুসারী ছিলেন । ১৮৭১ সালে কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা লাভ করেন। ব্রাহ্মসমাজ তাঁর কর্মনিষ্ঠায় মুগ্ধ হয়ে তাকে 'ভাই' উপাধিতে ভূষিত করেন।

গিরিশচন্দ্র সেনের সাহিত্যকর্মসমূহঃ

'তাপসমালা' (১৮৮০-১৮৯৬): এটি ফারসি ভাষায় রচিত মাওলানা ফরিদুদ্দিন আক্তারের 'তাজকেরাতুল আওলিয়া' অবলম্বনে রচিত। এতে ৯৬ জন ওলি-আওলিয়ার জীবন কাহিনি বর্ণিত। এটি বাংলা সাহিত্যে সুফী-দরবেশদের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত প্রথম গ্রন্থ।

'মহাপুরুষ চরিত' (১৮৮২-১৮৮৭): এটি তাঁর মৌলিক গ্রন্থ।

'গোলেস্তাঁ ও বুস্তার হিতোপাখ্যানমালা': এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত ছিল। গ্রন্থটি তৎকালীন পূর্ববঙ্গ ও আসামের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি ছিল।

'হাদিস বা মেসকাত মসাবিহের' (১৮৯২-১৮৯৮), 'তত্ত্বরত্নমালা', 'বনিতা বিনোদন', 'রামকৃষ্ণ পরমহংসের উক্তি ও জীবনী'।

Content added By

গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী

715
Content added By

গুণময় মান্না

577
Content added By

গোপাল হালদার

814
Content added By

গোবিন্দচন্দ্র দাস

685

গোবিন্দদাস (১৫৩৪-১৬১৩)

কবি বিদ্যাপতির ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ চৈতন্যোত্তরকালে খ্যাতি অর্জনকারী কবিদের একজন গোবিন্দদাস। গোবিন্দদাসের কবিত্বগুণের সাথে বিদ্যাপতির ভাবের বিশেষ মিলের কারণে কবি বল্লভদাস তাকে 'বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য' অভিধা প্রদান করেন। তাঁর পদাবলিতে রাধা চরিত্রের সুষ্ঠু বিকাশ ও পরিণতি লক্ষ করা যায়। প্রথম জীবনে তিনি শাক্ত ধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। ৪০ বছর বয়সে বৈষ্ণবগুরু শ্রীনিবাস আচার্যের কাছ থেকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নেন।

  • গোবিন্দদাস মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকটবর্তী তেলিয়াবুধুরি গ্রামে আনুমানিক ১৫৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
  • গোবিন্দদাসের আসল পদবি 'সেন'।
  • গোবিন্দদাসকে বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য বলা হয়।
  • তাঁর কবিতায় মুগ্ধ হয়ে শ্রীনিবাস আচার্য গোবিন্দদাসকে 'কবিরাজ' উপাধি প্রদান করেন।
  • তাঁর পদাবলিতে মুগ্ধ হয়ে জীব গোস্বামী তাকে 'কবিন্দ্র' উপাধি প্রদান করেন।
  • 'গীতগোবিন্দ' তার বিখ্যাত পদাবলি।
  • তিনি আনুমানিক ১৬১৩ সালে মারা যান।

গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'। তিনি এটি রচনা করেন রাজা সন্তোষদত্তের অনুরোধে। এ গ্রন্থে তার পারিবারিক পরিচিতি পাওয়া যায়।

গোবিন্দদাসের শ্রেষ্ঠত্বঃ

তিনি মূলত পূর্বরাগ, অভিসার, মান, মাথুর প্রভৃতি পর্যায়ের পদকর্তা এবং অলঙ্কার শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তিনি অভিসার পদ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। সমালোচকরা তাকে অভিসার পর্যায়ে 'রাজাধিরাজ' নামে অভিহিত করেছেন। তার নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।

বিখ্যাত পঙ্ক্তিঃ

  • যাঁহা যাঁহা নিকসয়ে তনু তনু জ্যোতি।
    তাঁহা তাঁহা বিজুরি চমকময় হোতি ॥
  • ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি / অবনী বহিয়া যায়।
    ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিল্লোলে / মদন মুরুছা পায়।।
  • নন্দ নন্দন চন্দ চন্দন / গন্ধ নিন্দিত অঙ্গ।
    জলদ সুন্দর কম্বু কন্ধর / নিন্দি সিন্ধুর ভঙ্গ।।

Content added By

গোলাম মোস্তফা

848

গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪)

পাকিস্তান আদর্শে বিশ্বাসী গোলাম মোস্তফা গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ হলেও কবি হিসেবে তিনি অধিক সমাদৃত। তাঁর কাব্যের মূল বিষয় ইসলাম ও প্রেম। পাকিস্তান আন্দোলনের পটভূমিকায় তিনি প্রচুর পরিমাণ ইসলামি ও পাকিস্তান প্রীতিমূলক সংগীত রচনা করেন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে তিনি উর্দুকে সমর্থন করেন।

  • গোলাম মোস্তফা ১৮৯৭ সালে (৭ পৌষ, ১৩০৪ বঙ্গাব্দ) ঝিনাইদহের শৈলকূপার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • বিখ্যাত পাপেট নির্মাতা চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ার তাঁর ছেলে এবং ২০০৭ সালে প্রথম বাংলাদেশী অস্কারজয়ী নাফিস বিন জাফর তাঁর নাতি।
  • স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তাঁর 'আদ্রিয়ানোপল উদ্ধার' কবিতাটি মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
  • পূর্ববঙ্গ সরকার কর্তৃক গঠিত ভাষা সংস্কার কমিটির (১৯৪৯) সচিব ছিলেন।
  • তিনি যশোর সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কাব্য সুধাকর (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক সিতারা-ই ইমতিয়াজ (১৯৬০) উপাধিতে ভূষিত হন।
  • তিনি ১৩ অক্টোবর, ১৯৬৪ সালে ঢাকায় মারা যান।

গোলাম মোস্তফার সাহিত্যকর্মসমূহঃ

কাব্যগ্রন্থ:

'রক্তরাগ' (১৯২৪): এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ কাবাট প্রকাশিত হলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "তব নব প্রভাতে। রক্তরাগখানি মধ্যাহ্নে জাগায় যেন জ্যোতিময় বাণী। এ কবিতার মাধ্যমে অভিনন্দন জানান।

'বুলবুলিস্তান' (১৯৪৯): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'জীবন বিনিময়'।

'খোশরোজ' (১৯২৯), 'কাব্যকাহিনী' (১৯৩২), 'সাহারা' (১৯৩৬), 'হাস্নাহেনা' (১৯৩৮), 'তারানা-ই-পাকিস্তান (১৯৫৬), 'বনি আদম' (১৯৫৮), 'গীতিসঞ্চয়ণ' (১৯৬৮)।

উপন্যাস: 'রূপের নেশা' (১৯২০): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।

'ভাঙ্গা বুক' (১৯২১), 'একমন একপ্রাণ'।

জীবনীগ্রন্থ: 'বিশ্বনবী' (১৯৪২): এটি মহানবী (স) ও সার্থক জীবনী গ্রন্থ। 'মরুদুলাল' (১৯৪৮)।

গদ্যগ্রন্থ: 'ইসলাম ও কমিউনিজম' (১৯৪৬), 'ইসলাম ও জিহাদ' (১৯৪৭), 'আমার চিন্তাধারা' (১৯৫২)।

Content added By

গৌড় অভিনন্দ

690
Content added By

ঘনরাম চক্রবর্তী

620
Content added By

চন্দ্রাবতী

665

চন্দ্রাবতী (১৫৫০-১৬০০)

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধান বাঙালি ও প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী। ষোড়শ শতাব্দীর সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁর রচনায় প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর রচিত রামায়ণে লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।

  • চন্দ্রাবতী ১৫৫০ সালে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার মাইজকাপন ইউনিয়নের পাতোয়ারি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
  • ড. আহমদ শরীফের মতে, চন্দ্রাবতী বাংলা সাহিত্যের ২য় মহিলা কবি। প্রথম মহিলা কবি চৈতন্যদেবের সময়ের মাধবী।
  • চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়।
  • মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে ৩ জন মহিলা কবির নাম পাওয়া যায়। এরা হলেন: চন্দ্রাবতী, চৈতন্যদেবের সময়ের মাধবী এবং চণ্ডীদাসের সাধনসঙ্গীনী রামী বা রজকিনী।
  • তিনি আনুমানিক ১৬০০ সালে কিশোরগঞ্জে মারা যান।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যসমূহঃ

'রামায়ণ' (অনূদিত), 'মলুয়া', 'দস্যু কেনারামের পালা'। তার রচনাসমূহ ২১টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক চন্দ্রাবতী। ড. দীনেশ চন্দ্র সেন ১৯৩২ সালে চন্দ্রাবতীর রামায়ণ প্রকাশ করেন। লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদানের কারণে এ কাব্যটি বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।

চন্দ্রাবতী রচিত রামায়ণঃ

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা কবি চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা। বাল্যসখা জয়ানন্দের সাথে প্রণয় বিয়ের পিঁড়িতে গড়ায়। কিন্তু জয়ানন্দ মুসলমান মেয়ের রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করে। পরে অনুতপ্ত হয়ে চন্দ্রাবতীর কাছে ফিরে এসে প্রত্যাখ্যাত হয়ে নদীতে লাফিয়ে প্রাণ বিসর্জন দেয়। শোক ভুলে থাকতে পিতার আদেশে চন্দ্রাবতী শিবপূজা করেন আর রামায়ণ রচনা করেন। তার রচিত রামায়ণে রামকে অপ্রধান চরিত্র করে সীতাকে মুখ্য করে নারী জীবনের সুখ-দুঃখকে প্রতিভাত করেন। চন্দ্রাবতী গ্রাম্য রামকথার ওপর নির্ভর করে মেয়েলি রীতিতে পালা রচনা করেছিলেন বলে তাতে অনুবাদ সাহিত্যের বৈশিষ্ট্যের চেয়ে লোকসাহিত্যের লক্ষণ বেশি ফুটে উঠেছে। তার ভাষা, বর্ণনা ও বাগভঙ্গিমা নারীসুলভকোমলতায় পূর্ণ, প্রায় ছত্রেই ছড়ার সুর অনুভব করা যায়। চন্দ্রাবতী রচিত রামায়ণের কোন পুঁথি পাওয়া যায়নি। চন্দ্রকুমার দে সাহিত্যপত্রিকা 'মহিলাকণ্ঠ' থেকে এটি সংগ্রহ করেন এবং ১৯৩২ সালে ড. দীনেশ চন্দ্র সেন পূর্ববঙ্গ গীতিকায় তা প্রকাশ করেন। চন্দ্রাবতী রচিত রামায়ণ কোন ধর্মগ্রন্থ নয়; গ্রামীণ নারী জীবনের আনন্দ-বেদনার গল্প।

Content added By

চণ্ডীদাস

625

পূর্ব বাংলার বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাস ছিলেন জাতিতে ব্রাহ্মণ। তাঁর আরাধ্য দেবতার নাম বাশুলী বা বিশালাক্ষী। তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি অর্থাৎ চৌদ্দ শতকের শেষার্ধ থেকে পনের শতকের প্রথমার্ধ সময়ের কবি ছিলেন। তিনি বড়ু চণ্ডীদাস থেকে পৃথক কবি ছিলেন এ কথা নিশ্চিত।

  • বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি চণ্ডীদাস।
  • চণ্ডীদাস সহজিয়াপন্থী কবি ছিলেন।
  • তিনি পূর্বরাগ পর্যায়ের পদ রচনায় পাণ্ডিত্য দেখিয়েছেন।
  • চৈতন্যদেব তাঁর পদাবলি শুনে বিমোহিত হয়েছিলেন।

চণ্ডীদাসঃ

চণ্ডীদাস ছিলেন বৈষ্ণব কবি, সহজিয়াপন্থী ও বাশুলি দেবীর ভক্ত। তিনি বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি। শিক্ষিত বাঙালি বৈষ্ণব সাহিত্যের রস ও আনন্দের সংবাদ পেয়েছে চণ্ডীদাসের পদাবলি থেকে। চৈতন্যদেব তাঁর পদাবলি শুনে বিমোহিত হয়েছিলেন। তিনি পূর্বরাগ পর্যায়ের পদ রচনায় পাণ্ডিত্য দেখিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে 'দুঃখবাদী কবি' বলেছেন।

Key Notes:

  • চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকে সম্পূর্ণ পৌরাণিক ভূমিকায় স্থাপন করেছেন। তিনি রাধার চরিত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে বিচ্ছেদের বেদনাকে তীব্রতর করে রূপায়িত করেছেন।
  • চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, 'চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি- এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি।' এছাড়াও তিনি চণ্ডীদাসকে 'দুঃখবাদী কবি' বলেছেন।
  • চণ্ডীদাসকে প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয় । তিনি 'শুনহ মানুষ ভাই / সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
  • বিখ্যাত উক্তি: ঘর হইতে আঙিনা বিদেশ।

  • সই কেমনে ধরিব হিয়া
    আমার বঁধুয়া আন বাড়ী যায়
    আমার আঙিনা দিয়া।
  • এমন পিরিতি কভু নাহি দেখি শুনি।
    পরানে পরান বান্ধা আপনা আপনি।।
  • সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।
    কাণের ভিতরে দিয়া মরমে পশিল গো ।।
  • 'শুনহ মানুষ ভাই,
    সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই।'
  • যথা তথা যাই আমি যত দূর পাই।
    চাঁদ মুখের মধুর হাসে তিলেকে জুড়াই ॥
  • ঘর কৈনু বাহির, বাহির কৈনু ঘর।
    পর কৈনু আপন, আপন কৈনু পর ॥
  • সই কে বলে পিরিতি ভাল।
    হাসিতে হাসিতে পিরিতি করিয়া কান্দিতে জনম গেল ॥
  • এ ধন যৌবন বড়ায়ি সবঈ অসার।
    ছিণ্ডিআঁ পেলাইবোঁ গজমুকুতার হার ॥
  • বিধিরে কি দিব দোষ করম আপনা।
    সুজনে করিনু প্রেম হইল কুজনা ॥
  • বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে।
    দেখা না হইত পরান গেলে ॥
  • কি মোহিনী জান বঁধু কি মোহিনী জান।
    অবলার প্রাণ নিতে নাহি তোমা হেন ।
  • ঘরের বাহিরে দণ্ডে শতবার।
    তিলে তিলে আসে যায় ।।
  • বঁধু কি আর বলিব আমি।
    মরণে জীবনে জনমে জনমে / প্রাণনাথ হৈও তুমি ॥
  • কানুর পিরিতি চন্দনের রীতি ঘষিতে সৌরভময়।
    ঘষিতে আনিয়া হিয়ায় লইতে দহন দ্বিগুণ হয় ॥
  • কলঙ্কের ডালি মাথায় করিয়া আনল ভেজাই ঘরে।
  • তোমার লাগিয়া কলঙ্কের হার গলায় পরিতে সুখ।
  • চোরের মা যেন পোয়ের লাগিয়া ফুকরি কাঁদিতে নারে।
Content added By

চণ্ডীচরণ মুনশী

730
Content added By

চিত্তরঞ্জন মাইতি

619
Content added By

জগদীশ গুপ্ত

600

জগদীশ গুপ্ত / জগদীশ চন্দ্র সেনগুপ্ত (৫ জুলাই ১৮৮৬ — ১৫ এপ্রিল ১৯৫৭) ছিলেন ভারত উপমহাদেশের একজন বরেণ্য বাঙালি ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার। যদিও তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক, সাহিত্যিক জীবনের শুরুতে কবিতা লিখেছেন এবং একটি কবিতা সংকলন প্রকাশ করেছেন।

শৈশবকাল ও শিক্ষা
জগদীশ গুপ্ত জন্মগ্রহণ করেন ফরিদপুর জেলার খোর্দ মেঘচারমি গ্রামে। পিতা কৈলাশচন্দ্র গুপ্ত কুষ্টিয়া আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। শৈশবকাল কেটেছে কুষ্টিয়ায়। তিনি কুষ্টিয়া হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯০৫ সালে কলকাতা সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং পরবর্তীতে কলকাতা রিপন কলেজে ভর্তি হন। ১৯০৭ সালে এফ.এ পরীক্ষা দিয়ে কলেজের পাঠ ত্যাগ করেন। পরে কলকাতা কমার্শিয়াল ইন্সটিটিউট থেকে শর্টহ্যান্ড ও টাইপরাইটিং শিক্ষা গ্রহণ করেন।

কর্মজীবন
১৯০৮ সালে বীরভূম জেলার সিউড়ি জজকোর্টে টাইপিস্ট হিসেবে চাকরি শুরু করেন। কিছু বছর চাকরি করার পর উড়িষ্যার সম্বলপুরে একজিকিউটিভ এঞ্জিনিয়ারের অফিসে যোগ দেন। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় চাকরি ত্যাগ করেন। এরপর কলকাতায় “জাগো’স ইঙ্ক” নামে ফাউন্টেনপেনের কালি তৈরির কারখানা চালান, যা সফল হয়নি। ১৯২৭ সালে বোলপুরের চৌকি আদালতে আবারো টাইপিস্ট হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ বছর চাকরি করার পর ১৯৪৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর কলকাতায় চলে যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

সাহিত্যকর্ম
কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর তিনি ছোটগল্প ও উপন্যাসে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান অর্জন করেন। ‘বিজলী’, ‘কালিকলম’, ‘কল্লোল’ প্রভৃতি পত্রিকায় তার গল্প প্রকাশিত হয়। গল্পের ক্ষেত্রে গভীর জীবনবোধ, চরিত্রচিত্রণ ও মনোবিশ্লেষণ তার রচনাকে সমৃদ্ধ করেছে। সামাজিক অন্যায়ের চেয়ে ভাগ্য ও দুঃখময়তা তার গল্পের কেন্দ্রবিন্দু।

গল্পগ্রন্থ

  • বিনোদিনী (১৩৩৪)

  • রূপের বাহিরে (১৩৩৬)

  • শ্রীমতি (১৩৩৭)

  • উদয়লেখা (১৩৩৯)

  • শশাঙ্ক কবিরাজের স্ত্রী (১৩৪১)

  • মেঘাবৃত অশনি (১৩৫৪)

  • স্বনির্বাচিত গল্প (১৩৫৭)

উপন্যাস

  • অসাধু সিদ্ধার্থ (১৩৩৬)

  • লঘুগুরু

  • দুলালের দোলা (১৩৩৮)

  • নিষেধের পটভূমিকায় (১৩৫৯)

  • কলঙ্কিত তীর্থ (১৩৬৭)

  • রোমন্থন

কবিতা-সঙ্কলন

  • অক্ষরা

মৃত্যু
জগদীশ গুপ্ত ১৫ এপ্রিল ১৯৫৭ সালে ইন্তেকাল করেন।

Content added By

জয়দেব

767
Content added By

জয় গোস্বামী

635

জয় গোস্বামী

জন্ম: ১০ নভেম্বর ১৯৫৪
দেশ: ভারত (পশ্চিমবঙ্গ)
পেশা: আধুনিক কবি, সাহিত্যিক
ভাষা: বাংলা

জয় গোস্বামী বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে আবির্ভূত একজন গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক বাঙালি কবি। তিনি বাংলা ভাষার উত্তর-জীবনানন্দ পর্বের অন্যতম জনপ্রিয় কবি হিসাবে পরিচিত। তার কবিতা চিত্রকল্প, উপমা এবং উৎপ্রেক্ষায় সমৃদ্ধ।

জীবনী

জয় গোস্বামী কলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় পরিবার রানাঘাটে চলে আসে। তার পিতা মধু গোস্বামী ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী রাজনীতিতে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি আট বছর বয়সে পিতৃহারা হন। তার মা শিক্ষকতা করে তাঁকে লালন পালন করেন। প্রথম কবিতা লিখেছেন ১৩–১৪ বছর বয়সে এবং ১৬–১৭ বছর বয়সে নিয়মিত কবিতা লিখতে শুরু করেন।

সত্তরের দশকে তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং স্থানীয় সাময়িকী ও সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশ করেন। প্রথম কাব্য সংকলন ‘ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বহু কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে ‘ঘুমিয়েছো, ঝাউপাতা’, ‘বজ্র বিদ্যুৎ ভর্তি খাতা’, ‘পাতার পোশাক’, ‘পাগলী, তোমার সঙ্গে’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

জয় গোস্বামী বলেন, “আমার প্রতিদিনের জীবনে মনের ভেতর যে ভাষা জন্মায়, সেই অভিজ্ঞতাকে ভাষা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমার জীবন হচ্ছে ধারাবাহিক বিচ্ছেদের মালা গাঁথার ইতিহাস।” তার প্রিয় কবি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শঙ্খ ঘোষ।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ (নির্বাচিত)

  • ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ (১৯৭৬)

  • আলেয়া হ্রদ (১৯৮১)

  • উন্মাদের পাঠক্রম (১৯৮৬)

  • ভূতুমভগবান (১৯৮৮)

  • ঘুমিয়েছো, ঝাউপাতা? (১৯৮৯)

  • বজ্র বিদ্যুৎ ভর্তি খাতা (১৯৯৫)

  • ওঃ স্বপ্ন (১৯৯৬)

  • পাতার পোশাক (১৯৯৭)

  • বিষাদ (১৯৯৮)

  • সূর্য পোড়া ছাই (১৯৯৯)

  • জগৎবাড়ি (২০০০)

  • প্রেতপুরুষ ও অনুপম কথা (২০০৪)

  • দগ্ধ (২০২২)

  • শান্তি (২০২৩)

উপন্যাস ও অন্যান্য রচনা

  • হৃদয়ে প্রেমের শীর্ষ (১৯৯৪)

  • মনোরমের উপন্যাস (১৯৯৪)

  • সেইসব শেয়ালেরা (১৯৯৪)

  • সুড়ঙ্গ ও প্রতিরক্ষা (১৯৯৫)

  • রৌদ্রছায়ার সংকলন (১৯৯৮)

  • সংশোধন বা কাটাকুটি (২০০১)

  • সাঁঝবাতির রূপকথারা (২০০১)

  • দাদাভাইদের পাড়া, ব্রহ্মরাক্ষস, সব অন্ধকার ফুলগাছ, এক প্রৌঢ়ের জবানবন্দি

  • গোসাইবাগান ১–৩, মধুদি, টাকা

প্রবন্ধগুচ্ছ

  • নির্বাচিত সাক্ষাৎকার - জয় গোস্বামী

  • অর্থহারা একমুষ্ঠি বালি

  • ভগ্নাংশ নির্ণয়

  • জয়ের সুভাষ, জয়ের সুনীল

  • খাদ, জয়ের শক্তি

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • আনন্দ পুরস্কার (১৯৯০, ১৯৯৮)

  • সাহিত্য অকাদেমী পুরস্কার (২০০০)

  • পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমি অনিতা-সুনিল বসু পুরস্কার

  • ভারতীয় ভাষা পরিষদ (২০১০)

  • রচনা সমগ্র পুরস্কার (২০১১)

  • বঙ্গবিভূষণ (২০১২)

  • বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্মৃতি পুরস্কার (পাতার পোশাক কাব্যগ্রন্থ, ১৯৯৭)

Content added By

জয়েন উদ্দীন

567
Content added By

জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী

744
Content added By

জ্ঞান দাস

667

চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি জ্ঞানদাস। তিনি চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন। চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাসের পদের মধ্যে যথেষ্ট সাদৃশ্য আছে। জ্ঞানদাস ছিলেন শিল্পী এবং চণ্ডীদাস ছিলেন সাধক। তিনি বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায় রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুইশ পদ রচনা করেন।

  • আনুমানিক ১৫৬০ সালে বর্ধমান জেলার কাঁদড়া গ্রামে কবি জ্ঞানদাসের জন্ম।
  • তিনি শ্রীমঙ্গল, মঙ্গল ঠাকুর বা মদনমঙ্গলা নামেও পরিচিত ছিলেন।
  • তিনি নিত্যানন্দ শাখার একজন বৈষ্ণব ছিলেন। নিত্যানন্দ মারা গেলে তার স্ত্রী জাহ্নবী দেবীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।
  • তিনি জাহ্নবী দেবীর সাথে কাটোয়া ও খেতুরীর বৈষ্ণব কবিসম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। এখানে তিনি গোবিন্দ দাস ও বলরাম দাসের সাথে পরিচিত হয়েছেন।

জ্ঞানদাস রচিত দুটি বৈষ্ণব গীতিকাব্য 'মাথুর' ও মুরলীশিক্ষা'।

জ্ঞানদাস শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা, নৌকাবিলাস ও দানখণ্ড প্রভৃতি বিষয়ে কবিতা লিখতেন। পদ রচনার সময় তিনি রাখ কৃষ্ণের কিশোর-কিশোরী বয়সকে প্রাধান্য দিতেন।

বিখ্যাত পঙ্ক্তিঃ

  • রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
    প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর ॥
  • ‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।’
Content added By

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর

616

পরিচিতি:
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাঙালি নাট্যকার, সংগীতস্রষ্টা, সম্পাদক ও চিত্রশিল্পী। তিনি বাংলা নাট্য ও সংগীতচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং ছোট ভাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিভার বিকাশে সহায়ক ছিলেন।

জন্ম:
কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুর। ছোট ভাই ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

রচনাবলি ও পুরস্কার:

  • নাটক:

    • ইতিহাসভিত্তিক: পুরু-বিক্রম (১৮৭৪), সরোজিনী (১৮৭৫), অশ্রুমতী (১৮৭৯), স্বপ্নময়ী (১৮৮২)

    • হাস্যরসাত্মক: কিঞ্চিৎ জলযোগ (১৮৭৩), এমন কর্ম আর ক'রব না (১৮৭৭), হঠাৎ নবাব (১৮৮৪), অলীক বাবু (১৯০০)

  • সংগীত:

    • বিনাবাদিনী ম্যাগাজিন (১৮৭৯)

    • ভারতীয় সঙ্গীত সমাজ প্রতিষ্ঠা (১৮৯৭)

    • রবীন্দ্রনাথের মায়ের খেলা নৃত্যনাট্যের ২০টি সুরের রচয়িতা

  • অনুবাদ:

    • কালিদাস: অভিজ্ঞান শকুন্তলম, মালবিকাগ্নিমিত্র

    • শূদ্রক: মৃচ্ছকটিকম

    • মার্কাস অরেলিয়াস: Meditations

    • শেক্সপিয়ার: জুলিয়াস সিজার

    • বাল গঙ্গাধর তিলক: শ্রীমদ্ভগবদগীতা

  • চিত্রকর্ম:

    • রবীন্দ্রনাথ ও পরিবারের পোর্ট্রেট এবং প্রায় ২০০০ স্কেচ, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত

মৃত্যু:
১৯২৫ সালের ৪ মার্চ, রাঁচিতে।

Content added By

ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়

586
Content added By

ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ

654
Content added By

তপন চক্রবর্তী

799
Content added By

তপন রায়চৌধুরী

670
Content added By

তপোবিজয় ঘোষ

648
Content added By

তরু দত্ত

588
Content added By

তসলিমা নাসরিন

593
Content added By

তাজুল মোহম্মদ

627
Content added By

তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়

602
Content added By

তারাপদ রায়

613
Content added By

তারাপদ সাঁতরা

697
Content added By

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

1.1k
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১)

তিরিশের দশকের প্রতিনিধি স্থানীয় কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর রচিত উপন্যাসগুলোতে রাঢ় অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মানব চরিত্রের নানান জটিলতা ও নিগূঢ় রহস্য নিপুণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। কলেজে পাঠকালে (১৯২১) অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য কারাভোগ করেন।

  • তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ২৩ আগস্ট, ১৮৯৮ সালে বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
  • ১৯৫২ সালে তিনি বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং আট বছর বিধানসভা ও ছয় বছর রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন।
  • তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
  • তিনি ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সালে কলকাতায় মারা যান। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার শোকবার্তা প্রেরণ করে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসসমূহ:

'চৈতালি ঘূর্ণি' (১৯৩১): এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।

'ধাত্রীদেবতা' (১৯৩৯): এটি প্রথমে ‘জমিদারের মেয়ে’ নামে 'বঙ্গশ্রী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে শনিবারের চিঠি পত্রিকায় 'ধাত্রীদেবতা' নামে প্রকাশিত হয়। এক ক্ষয়িষ্ণু জমিদার বংশকে কেন্দ্র করে দেশের সমাজ ও রাজনৈতিক জীবনের নানা আন্দোলন ও পরিবর্তন এ উপন্যাসের উপজীব্য।

'কালিন্দী' (১৯৪০): নদীর বুকের একটি চরকে কেন্দ্র করে বিবদমান দুই জমিদার পরিবারের দীর্ঘস্থায়ী সামন্ততান্ত্রিক বিরোধ, শিল্পপতি ও জমিদারের দ্বন্দ্বে জমিদারের পরাজয় এ উপন্যাসের মূল সুর। এ উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

'কবি' (১৯৪২): ডোম সম্প্রদায়ের নিতাই এক যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ক উপাখ্যানই এ উপন্যাসের মূল বিষয়। 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এত ছোট কেনে? এই ভবনে।' এ উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি। উল্লেখ্য, 'কবি' নামে হুমায়ূন আহমেদও উপন্যাস রচনা করেছেন।

'গণদেবতা' (১৯৪২): প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতের গ্রামীণ সমাজে ক্ষয়িষ্ণু সামন্তবাদের সাথে নব্যধনবাদের দ্বন্দ্ব এ উপন্যাসের নির্যাস।

'আরোগ্য নিকেতন' (১৯৫৩): এটি 'সঞ্জীবন ফার্মাসী' শিরোনামে ১৯৫২ সালে শারদীয় আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের নায়ক প্রাচীনপন্থী কবিরাজ জীবনমহাশয় ও নব্যশিক্ষিত ডাক্তার প্রদ্যোতের সাথে আদর্শিক সংঘাত এবং প্রাচীনবিদ্যা ও নবীন শিক্ষার টানাপোড়েন এ উপন্যাসের মূল কাহিনি। এ উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

'যতিভঙ্গ' (১৯৬২): অবাঙালি যুবতী রৌশনকে নিয়ে লেখা আধুনিক নারীর জীবনজিজ্ঞাসা ও মূল্যবোধ, নগরকেন্দ্রিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যা এ উপন্যাসের উপজীব্য।

'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬): এটি আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহের কাহিনি নিয়ে রচিত।

'১৯৭১' (১৯৭২): ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস '১৯৭১'। 'সুতপার তপস্যা' ও 'একটি কালো মেয়ের কথা' নামে দুটি কাহিনির সংযোগে রচিত '১৯৭১' উপন্যাসটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। 'একটি কালো মেয়ের কথা' অংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র নাজমার মাধ্যমে একাত্তরের হাজার হাজার নারীর চরিত্র পরিস্ফুটিত হয়েছে। এ অংশে ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধ সময়কালে গ্রামীণ জীবনের চালচিত্র, বাংলাদেশিদের ত্যাগ ও সংগ্রামের অনন্যতা। ১৯৬৫ সালের পর থেকে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে বিস্তৃত গোপন রাজনৈতিক তৎপরতাকে উপজীব্য করে রচনা করেন 'সুতপার তপস্যা' অংশটি।

'জলসাঘর' (১৯৪২), 'পঞ্চগ্রাম' (১৯৪৩), 'অভিযান' (১৯৪৬), 'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' (১৯৪৭), 'পঞ্চপুণ্ডলী' (১৯৫৬), 'রাধা' (১৯৫৭), 'সুতপার তপস্যা'।

বৃহৎ মানবগোষ্ঠী ও তাদের সমাজের সামগ্রিক রূপ এ উপন্যাসে অঙ্কিত হয়েছে সার্থকভাবে। কোপাই নদীর বৃত্তাকার ধরনের বাঁক নারীর গলার অলংকার হাঁসুলীর মতোই। এই বাঁকে বাঁশ-বেতের গভীর জঙ্গলে বাস করে কাহাররা (পালকী বাহক)। চরিত্র: করালি, বনোয়ারী।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস 'ধাত্রীদেবতা' (১৯৩৯), 'গণদেবতা' (১৯৪২), 'পঞ্চগ্রাম' (১৯৪৩)।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্পসমূহ

'রসকলি' (১৯২৮): এটি তাঁর রচিত প্রথম ছোটগল্প যা ১৯২৮ সালে 'কল্লোল' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

'জলসাঘর' (১৯৩৭): এটি ১১টি গল্পের সংকলন।

'বেদেনী' (১৯৪০), 'পাষাণপুরী', 'তারিণী মাঝি 'নীলকণ্ঠ', 'ছলনাময়ী', 'ডাক হরকরা', 'বেদে', 'পটুয়া 'মালাকার', 'লাঠিয়াল', 'চৌকিদার', 'অগ্রদানী'।'

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যান্য সাহিত্যকর্মসমূহঃ

নাটক: 'পথের ডাক' (১৯৪৩), 'দুই পুরুষ' (১৯৪৩), 'দীপান্তর' (১৯৪৫)।

প্রহসন: চকমকি (১৯৪৫)।

কাব্যগ্রন্থ: 'ত্রিপত্র' (১৯২৬), এর মাধ্যমে তাঁর সাহিত্য সাধনার হাতেখড়ি।

ভ্রমণকাহিনি: 'মস্কোতে কয়েক দিন' (১৯৫৯)।

Content added By
Content updated By

তাহমিমা আনাম

643
Content added By
Content updated By

তিলোত্তমা মজুমদার

747

তিলোত্তমা মজুমদার (জন্ম: ১১ জানুয়ারি ১৯৬৬) একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, কবি, গীতিকার এবং প্রবন্ধকার। তিনি বাংলা ভাষাতে সাহিত্যচর্চা করেন।

প্রথম জীবন
তিলোত্তমা মজুমদারের জন্ম হয় উত্তরবঙ্গে। তার ছোটবেলা কাটে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার অন্তর্গত কালচিনির চা বাগানে। তিনি কালচিনি চা-বাগানে ইউনিয়ন একাডেমি স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৫ তে স্নাতক স্তরে পড়তে আসেন কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে।

সাহিত্য জীবন

১৯৯৩ সাল থেকে তিনি লেখালেখি শুরু করেন। তার প্রথম লেখা ছাপা হয় কালচিনির উন্মেষ পত্রিকায়। তার প্রথম উপন্যাস "ঋ" যা প্রকাশিত হয়েছিল "একালের রক্তকরবী" পত্রিকার পূজাসংখ্যায়।

তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে আছে -

  • বসুধারা
  • রাজপাট
  • মানুষশাবকের কথা
  • চাঁদের গায়ে চাঁদ
  • শামুকখোল

পুরস্কার

তিনি "বসুধারা" উপন্যাসের জন্য আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।[৪] এছাড়াও তিনি পেয়েছেন "শৈলজানন্দ স্মৃতি পুরস্কার" ও "শরৎ স্মৃতি পুরস্কার"।

Content added By

ত্রিদিব মিত্র

639
Content added By

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

693
Content added By

দিদারুল আলম

654
Content added By

দিব্যেন্দু পালিত

666
Content added By

দিলওয়ার

621
Content added By

দীনেশ দাশ

644
Content added By

দীনেশচন্দ্র সেন

635

দীনেশচন্দ্র সেন (রায়বাহাদুর) (৩ নভেম্বর ১৮৬৬ – ২০ নভেম্বর ১৯৩৯)

পরিচিতি:
দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্য বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলো’ এবং এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসচর্চায় তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্বীকৃত।

জন্ম:
১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলা প্রদেশের অবিভক্ত ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ মহাকুমার বগজুরি গ্রামে সম্ভ্রান্ত বাঙালি বৈদ্যব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ঈশ্বরচন্দ্র সেন ঢাকার মানিকগঞ্জ আদালতের উকিল, মাতা রূপলতা দেবী।

শিক্ষা ও কর্মজীবন:

  • জগন্নাথ স্কুল থেকে এনট্রান্স (১৮৮২), ঢাকা কলেজ থেকে এফ.এ (১৮৮৫) পাস।

  • ১৮৮৯ সালে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ বি.এ ডিগ্রি লাভ।

  • কর্মজীবন শুরু করেন সিলেটের হবিগঞ্জ স্কুলে (১৮৮৭), পরে কুমিল্লার শম্ভুনাথ ইনস্টিটিউশন (১৮৮৯) ও ভিক্টোরিয়া স্কুল (১৮৯০)-এর প্রধান শিক্ষক।

  • ১৯০৯–১৯১৩: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রিডার’ পদে কর্মরত।

  • ১৯১৩: ‘রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলো’ নির্বাচিত। ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

সাহিত্য ও গবেষণা:

  • গ্রামবাংলার পুঁথি সংগ্রহের মাধ্যমে ১৮৯৬ সালে “বঙ্গভাষা ও সাহিত্য” প্রকাশ।

  • ১৯১১: “হিস্ট্রি অব বেঙ্গলি লিটেরেচার” প্রকাশ, সর্বমহলের প্রশংসা অর্জন।

  • মৈমনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা সম্পাদনা।

  • গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ:

    • বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১ম ও ২য় খণ্ড, ১৮৯৬)

    • তিন বন্ধু (১৯০৪), রামায়ণী কথা (১৯০৪)

    • বেহুলা (১৯০৭), সতী (১৯০৭), ফুল্লরা (১৯০৭)

    • সুবিখ্যাত বৃহৎবঙ্গ (১ম ও ২য় খণ্ড, ১৯৩৫)

    • মৈমনসিংহ গীতিকা, পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা

উপাধি ও সম্মাননা:

  • ১৯২১: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট ডিগ্রি

  • ১৯২১: ব্রিটিশ ভারত সরকার কর্তৃক “রায়বাহাদুর” উপাধি

  • ১৯৩১: “জগত্তারিণী স্বর্ণপদক” বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ

মৃত্যু:
১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর কলকাতার বেহালায় মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

560
Content added By

দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য

676
Content added By

দুলেন্দ্র ভৌমিক

693
Content added By

দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ

627
Content added By

দেওয়ান নুরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী

631
Content added By

দেবী রায়

757
Content added By

দেবেশ রায়

618
Content added By

দেবেন্দ্রনাথ সেন

713
Content added By

দৌলত উজির বাহরাম খান

759

ষোল শতকের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার মুসলিম কবি দৌলত উজির বাহরাম খান। তিনি আরবি ও ফারসি ভাষা এবং ইসলামী ধর্মশাস্ত্রের মতো হিন্দু ধর্মশাস্ত্র ও সংস্কৃত ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। 'লায়লী-মজনু' কাব্যের মতো বিশ্বখ্যাত বিরহকথা নিয়ে মানবিক প্রেমবোধকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলা ভাষায় প্রথম কাব্য তিনি রচনা করেন।

  • দৌলত উজির বাহরাম খান চট্টগ্রামের ফতেহবাদ /জাফরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর পিতা চট্টলাধিপতির উজির মোবারক খান।
  • তাঁর প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন / বাহরাম খান। উপাধি: দৌলত উজির।

দৌলত উজির বাহরাম খান কাব্যসমূহ:

'জঙ্গনামা' বা 'মঞ্জুল হোসেন': এটি তার রচিত প্রথম কাব্য। কারবালার বিষাদময় কাহিনি অবলম্বনে এটি রচনা করেন।

'লায়লী-মজনু' (১৫৪৩-৫৩), 'ইমাম-বিজয়'।

'লায়লী-মজনু' অনুবাদ করেন দৌলত উজির বাহরাম খান। তিনি পারসিয়ান কবি জামির 'লায়লা ওয়া মজনুন' থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন। এর উৎস আরবি লোকগাঁথা।

'লায়লী-মজনু' কাব্যের পরিচয়:

দৌলত উজির বাহরাম খান পারসিয়ান কবি নিজামির আরবি লোকগাঁথা 'লায়লা ওয়া মজনুন' থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন। দৌলত উজির এটির ভাবানুবাদকালে স্বাধীন কল্পনা ও উপস্থাপনায় প্রচুর সংস্কৃত শব্দ, উপমা, রূপকের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। এটি আদি রসাত্মক এবং এখানে আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। আমীর পুত্র কয়েস বাল্যকালে বণিক কন্যা লায়লীর প্রেমে পড়ে মজনু বা পাগল নামে খ্যাত হয়। লায়লীও মজনুর প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করে। কিন্তু উভয়ের মিলনের পথে আসে প্রবল বাধা। লাইলীর অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায় কিন্তু মনে থেকে যায় মজনুর অস্তিত্ব। অপরদিকে মজনু পাগলরূপে বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে থাকে। তাদের দীর্ঘ বিরহজীবনের অবসান ঘটে মৃত্যুর মাধ্যমে। এই মর্মস্পর্শী বেদনাময় কাহিনি অবলম্বনে লায়লী-মজনু কাব্য রচিত।

Content added By

দৌলত কাজী

670

সপ্তদশ শতকের আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি এবং লৌকিক কাহিনির আদি রচয়িতা দৌলত কাজী। তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি ও ব্রজবুলি ভাষায় বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি তাঁর রচনায় রামায়ণ, মহাভারত ও বৈষ্ণব পদাবলি থেকে অনুষঙ্গ ব্যবহারে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তিন ক্ল্যাসিক ও রোমান্টিক রীতির সংমিশ্রণের মাধ্যমে রূপকথাকে রোমান্টিক কাহিনিতে পরিণত করেছিলেন।

  • দৌলত কাজী আনুমানিক ১৬০০ সালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কাজী পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি বাংলা কাব্যে ধর্মনিরপেক্ষ প্রণয়কাহিনির পথিকৃৎ।
  • তিনি ১৬৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে আরাকানের আকিয়াবে সমাহিত করা হয়।

আরাকান রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী। তিনি লৌকিক কাহিনির প্রথম রচয়িতা। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যের নাম 'লোরচন্দ্রাণী ও সতীময়না'। এটি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য অবলম্বনে তিন খণ্ডে রচিত। আরাকানের রাজা সুধর্মের সমর সচিব আশরাফ খানের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি এটি রচনা করেন। এ কাব্যের ৩য় খণ্ড রচনাকালে তিনি মৃত্যুবরণ করলে প্রায় ২০ বছর পর ১৬৫৯ সালে মহাকবি আলাওল এটির রচনা সমাপ্ত করেন।

Content added || updated By

দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ

624
Content added || updated By

দ্বিজ বংশী দাস

768
Content added || updated By

দ্বিজেন শর্মা

611

দ্বিজেন শর্মা (২৯ মে ১৯২৯ – ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭)

পরিচিতি:
দ্বিজেন শর্মা ছিলেন একজন বাংলাদেশী প্রকৃতিবিদ, জীববিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান লেখক। তিনি দীর্ঘদিন নটর ডেম কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন এবং কলেজের প্রাকৃতিক পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

জন্ম ও শৈশব:
১৯২৯ সালের ২৯ মে সিলেট বিভাগের বড়লেখা থানার শিমুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ভিষক চন্দ্রকাণ্ড শর্মা ছিলেন কবিরাজ, মা মগ্নময়ী দেবী সমাজসেবী। শৈশবেই পাথারিয়া পাহাড়ের জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়ে প্রকৃতির প্রতি তাঁর প্রেম জন্ম নেয়।

শিক্ষা ও কর্মজীবন:

  • গ্রামের পাঠশালা এবং করিমগঞ্জ পাবলিক হাইস্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা।

  • কলকাতা সিটি কলেজ থেকে স্নাতক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (১৯৫৮)।

  • ১৯৫৮–১৯৬২: বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে শিক্ষক।

  • ১৯৬২–১৯৭৪: নটর ডেম কলেজে শিক্ষকতা।

  • ১৯৭৪–১৯৯১: সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কোতে প্রকাশনা সংস্থায় অনুবাদক ও লেখক।

  • মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে মানুষের সেবায় সক্রিয় ভূমিকা পালন।

ব্যক্তিগত জীবন:

  • ১৯৬০ সালে দেবী চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহ। এক ছেলে, এক মেয়ে।

  • রবীন্দ্রসঙ্গীতভক্ত, তরুণদের সঙ্গে আড্ডা পছন্দ করতেন।

প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ (নির্বাচিত):

  • শ্যামলী নিসর্গ (১৯৮০, ১৯৯৭, ২০১৫)

  • সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণী বিন্যাস (১৯৮০)

  • ফুলগুলি যেন কথা (১৯৮৮, ২০০৪)

  • গাছের কথা ফুলের কথা (১৯৯৯)

  • এমি নামের দুরন্ত মেয়েটি (১৯৯৫, ১৯৯৯)

  • নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা (২০০০)

  • সমাজতন্ত্রে বসবাস (১৯৯৯)

  • জীবনের শেষ নেই (১৯৮০, ২০০০)

  • বিজ্ঞান ও শিক্ষা: দায়বদ্ধতার নিরিখ (২০০৩)

  • ডারউইন ও প্রজাতির উত্‍পত্তি (১৯৯৭)

  • বাংলা বৃক্ষ (২০০১)

  • সতীর্থ বলয়ে ডারইউন (১৯৭৪, ১৯৮৪, ১৯৯৯)

পুরস্কার ও সম্মাননা:

  • ড. কুদরত-এ খুদা স্বর্ণপদক (চট্টগ্রাম বিজ্ঞান সমিতি, ১৯৮৬)

  • বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৭)

  • এম নুরুল কাদের শিশু-সাহিত্য পুরস্কার (২০০০)

  • প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক (প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-চ্যানেল আই, ২০১১)

  • একুশে পদক (২০১৫)

  • প্রথম আলো বর্ষসেরা বই (প্রথম আলো)

  • এছাড়াও বাংলাপিডিয়ার জীববিদ্যা বিভাগের অনুবাদক ও সম্পাদক (২০০১-২০০৩), বাংলা একাডেমীর সম্মানিত ফেলো

মৃত্যু:
২০১৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

Content added By

দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর

610

দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১১ মার্চ ১৮৪০ – ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬)

পরিচিতি:
দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, সঙ্গীতকার, দার্শনিক, গণিতজ্ঞ ও চিত্রশিল্পী। তিনি বাংলা সংকেত লিপি (শর্ট হ্যান্ড) এবং স্বরলিপি রচনার অগ্রপথিক ছিলেন। পারিবারিকভাবে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড়োদাদা।

জন্ম ও পরিবার:

  • জন্ম: ১১ মার্চ ১৮৪০, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, কলকাতা।

  • পিতা: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাতা: ঘটকুমারী।

  • স্ত্রীবিয়োগ: যৌবনে ঘটে, পরে বিপত্নীক জীবনযাপন।

শিক্ষা ও কর্মজীবন:

  • প্রাথমিক শিক্ষা গৃহশিক্ষকের নিকট, পরে সেন্ট পল’স স্কুল ও হিন্দু কলেজে অধ্যয়ন।

  • আদি ব্রাহ্মসমাজের আচার্য (১৮৬৬-৭১)।

  • তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা সম্পাদনা (১৮৮৪–১৯০৯), হিতবাদী পত্রিকা প্রতিষ্ঠা।

  • বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি (১৮৯৭–১৯০০)।

সাহিত্যচর্চা ও দর্শন:

  • প্রথম অবদান: কালিদাসের মেঘদূত অনুবাদ (১৮৬০)।

  • উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: স্বপ্নপ্রয়াণ (১৮৭৫)।

  • দর্শনগ্রন্থ: তত্ত্ববিদ্যা (৩ খণ্ড, ১৮৬৬–৬৯), অদ্বৈত মতের সমালোচনা (১৮৯৬), আর্যধর্ম ও বৌদ্ধধর্মের ঘাত-প্রতিঘাত (১৮৯৯)।

  • বাংলা সংকেত লিপি ও স্বরলিপির প্রচলন।

  • হিন্দুমেলার জন্য দেশাত্মবোধক গান রচনা।

শান্তিনিকেতন:

  • জীবনের শেষ ২০ বছর শান্তিনিকেতনে জ্ঞানচর্চা ও লেখালিখিতে ব্যয়।

  • আশ্রমিকদের সঙ্গে হাস্যোদ্দীপক ছড়া রচনা ও প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব।

  • রবীন্দ্রনাথ, মহাত্মা গান্ধী ও অন্যান্য বিদ্বানদের সঙ্গে সংলাপ।

প্রধান রচনাবলি (বাংলা ও ইংরেজি):

  • বাংলা: ভ্রাতৃভাব (১৮৬৩), স্বপ্নপ্রয়াণ (১৮৭৫), সোনার কাঠি রূপার কাঠি (১৮৮৫), অদ্বৈত মতের সমালোচনা (১৮৯৬), ব্রহ্মজ্ঞান ও ব্রহ্মসাধনা (১৯০০) ইত্যাদি।

  • ইংরেজি: বাক্সমিতি (১৯১৩), অন্টোলজি (১৮৭১) ও জ্যামিতি-সংক্রান্ত গ্রন্থ।

  • অন্যান্য: জ্ঞানাঙ্কুর, তত্ত্ববোধিনী, ভারতী, সাধনা, পত্রিকায় প্রকাশিত অজস্র রচনা।

উত্তরপুরুষ:

  • পাঁচ পুত্র: দীপেন্দ্রনাথ, অরুণেন্দ্রনাথ, নীতীন্দ্রনাথ, সুধীন্দ্রনাথ, কৃপেন্দ্রনাথ।

  • উল্লেখযোগ্য: সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর (লেখক), দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (রবীন্দ্রসংগীতের প্রধান স্বরলিপিকার), সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব), পৌত্রী লতিকা (শর্মিলা ঠাকুরের মাতামহী)।

মৃত্যু:

  • ১৯ জানুয়ারি ১৯২৬, কলকাতা।

Content added By

ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

578
Content added By

ধ্রুব এষ

792
Content added By

নবকুমার বসু

683
Content added By

নবনীতা দেবসেন

751
Content added By

নবারুণ ভট্টাচার্য

587
Content added By

নবীনচন্দ্র দাশ (কবি)

663
Content added By

নবীনচন্দ্র সেন

579
Content added By

নরেন্দ্রনাথ মিত্র

635
Content added By

নরেন্দ্র দেব

668
Content added By

নলিনী দাশ

693
Content added By

নসরুল্লাহ খাঁ

634
Content added By

নাজমুন নেসা পিয়ারি

733
Content added By

নাদিরা মজুমদার

578
Content added By

নাসির আহমেদ (কবি)

665
Content added By

নারায়ণ দেব

577
Content added By

নারায়ণ সান্যাল

574
Content added By

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

627
Content added By

নাসরীন জাহান

657
Content added By

নিমাই ভট্টাচার্য

570
Content added By

নিশিকান্ত রায় চৌধুরী

637
Content added By

নিয়াজ জামান

669
Content added By

নীরদচন্দ্র চৌধুরী

626
Content added By

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

699
Content added By

নীলমণি মুখোপাধ্যায়

604
Content added By

নীহাররঞ্জন গুপ্ত

687
Content added By

নীহাররঞ্জন রায়

634
Content added By

নুরুন নবী

699
Content added By

নুরুল মোমেন

632

প্রখ্যাত নাট্যকার নূরুল মোমেন সমকালীন সমাজের অসঙ্গতি ও দ্বন্দ্বসমূহ ব্যঙ্গরসের মাধ্যমে নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরেন। সামাজিক সঙ্কটের পটভূমিকায় অন্তর্দ্বন্দ্বমূলক নাট্যচরিত্র অঙ্কন করে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে বিবৃতি দেন।

  • নুরুল মোমেন ২৫ নভেম্বর, ১৯০৬ সালে বর্তমান ফরিদপুরের (তৎকালীন যশোর) আলফাডাঙ্গার বুড়োইচ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • মাত্র ১০ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কবিতা 'সন্ধ্যা' ধ্রুবতারা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।
  • তিনি সাহিত্যাঙ্গনে 'নাট্যগুরু' হিসেবে সমধিক পরিচিত।
  • তিনি রম্যসাহিত্য রচয়িতা হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১), একুশে পদক (১৯৭৮) পান এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৭) উপাধি লাভ করেন।
  • তিনি ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ সালে ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত নাটকগুলোঃ

'রূপান্তর' (১৯৪৭): এটি তাঁর রচিত প্রথম নাটক। এটি ঢাকা বেতারে প্রচারিত হয়েছিল।

'নেমেসিস' (১৯৪৮): এটি ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।

'নয়া খান্দান' (১৯৬২): আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের কাছে বংশমর্যাদার চেয়ে সুরুচিই বরং কাম্য। এই সুশিক্ষাই বর্তমান যুগের নতুন বা নয়া খান্দান হিসেবে বিবেচিত। বংশমর্যাদা ও এ নিয়ে আভিজাত্যের প্রতি শ্লেষ ব্যক্ত হয়েছে এ নাটকে।

'আলোছায়া' (১৯৬২): ভালোমন্দের প্রতীক আলোছায়া। ভালোমন্দের দ্বন্দ্ব ছিল, আছে ও থাকবে। ভালো বা আলোর প্রভাব যার মধ্যে আছে সেই স্মরণীয় থাকবে, কালো বা ছায়ার প্রাধান্যধারীরা বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাবে, এটিই এ নাটকের বিষয়। চরিত্র: জামিল, জাহানারা, সুলতান।

'শতকরা আশি' (১৯৬৭), 'আইনের অন্তরালে' (১৯৬৭), 'যেমন ইচ্ছা তেমন' (১৯৭০)।

তাঁর রচিত রম্যগ্রন্থসমূহঃ

'বহুরূপী' (১৯৫৮), 'নরসুন্দর' (১৯৬১), 'হিং টিং ছট' (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড-১৯৭০)।

Content added By

নূরজাহান বোস

641
Content added By

পূরবী বসু

612
Content added By

প্যারীচাঁদ মিত্র

604
প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪-১৮৮৩)

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী প্যারীচাঁদ মিত্র বাংলার নবজাগরণের অন্যতম অগ্রদূত এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক। তিনি ছিলেন ইয়ংবেঙ্গলের ভাবগুরু ডিরোজিওর শিষ্য। তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহের বিরোধিতা করেন এবং বিধবা বিবাহ সমর্থন করতেন। স্ত্রী শিক্ষার প্রচারে যথেষ্ঠ সক্রিয় ছিলেন।

  • প্যারীচাঁদ মিত্র ২২ জুলাই, ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি 'প্যারীচাঁদ মিত্র অ্যান্ড সন্স' (১৮৫৫) নামক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী এবং 'বেঙ্গল টি কোম্পানি' ও 'ডারাং টি কোম্পানি' বোর্ডের ডিরেক্টর ছিলেন।
  • তার ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর। বাংলা ভাষায় তাঁর কৃতিত্বের জন্য পাদ্রি লঙ সাহেব তাঁকে 'ডিফেন্স অব বেঙ্গল' নামে ডাকতেন। প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন ইয়ংবেঙ্গলের ভাবগুরু ডিরোজিওর শিষ্য।
  • রাধানাধ শিকদার সহযোগে তাঁর সম্পাদিত ও প্রকাশিত পত্রিকা 'মাসিক' (১৮৫৪)।
  • প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয়।
  • তিনি ২৩ নভেম্বর, ১৮৮৩ সালে কলকাতায় মারা যান।

প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮): এটি ইংরেজিতে Spoiled Child নামে অনূদিত। এটি বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস যা তিনি 'টেকচাঁদ ঠাকুর' নামে ধারাবাহিকভাবে 'মাসিক' পত্রিকায় লিখতেন। এটি কথ্য ভাষায় লিখিত যা 'আলালী ভাষা' নামে পরিচিত। এ জন্য তাঁকে 'বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ' বলা হয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ উপন্যাসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আলালের ঘরের দুলালঃ

প্যারীচাঁদ মিত্র কর্তৃক রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। এটি ইংরেজিতে Spoiled Child নামে অনূদিত। এটি বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস যা তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর নামে ১৮৫৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে 'মাসিক' পত্রিকায় লিখতেন। এটি কথ্য ভাষায় লিখিত যা 'আলালি ভাষা' নামে পরিচিত। ধনাঢ্য বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে মিশে এবং শিক্ষার প্রতি পিতার অবহেলার কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। পিতার মৃত্যুর পর সব সম্পত্তির বিনাশ সাধন করার পর তার বোধোদয় ঘটে। ফলে হৃদয়-মন পরিবর্তিত হওয়ায় সে সৎ ও ধর্মনিষ্ঠ হয়। এ উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র: মোকাজান মিঞা বা ঠক চাচা। ঠক চাচা চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি প্রাণময়তা নিয়ে এক জীবন্ত চরিত্র। অন্যান্য চরিত্র: ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর।

প্যারীচাঁদ মিত্রের অন্যান্য গ্রন্থগুলো;

'মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়' (১৮৫৯) 'রামারঞ্জিকা' (১৮৬০), 'গীতাঙ্কুর' (১৮৬১), 'যৎকিঞ্চিৎ (১৮৬৫), 'অভেদী' (১৮৭১), 'ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত' (১৮৭৮), 'এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদের পূর্বাবস্থা (১৮৭৮), 'আধ্যাত্মিকা' (১৮৮০), 'বামাতোষিণী' (১৮৮১)।

প্যারীচাঁদ মিত্রের কৃষিবিষয়ক গ্রন্থগুলোঃ

'কৃষিপাঠ' (১৮৬১), 'Agriculture in Bengal' (১৮৮১)

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে রচিত তাঁর প্রবন্ধের নাম The Zamindar and Royats. এতে তিনি গরিব চাষিদে রক্ষাকবচ হিসেবে 'পঞ্চায়েত' ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি করেন ।

Content added By

প্রচেত গুপ্ত

759
Content added By

প্রফুল্ল রায়

692

প্রফুল্ল রায় (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ – ১৯ জুন ২০২৫)

পরিচিতি:
প্রফুল্ল রায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সমসাময়িক প্রধান সাহিত্যিক। তিনি বিশেষভাবে উপন্যাস ও ছোটগল্পে দক্ষ ছিলেন এবং বাস্তব জীবন ও সামাজিক অভিজ্ঞতার শক্তিশালী চিত্রায়ণে খ্যাত।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন:

  • জন্ম: ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪, ঢাকা জেলায়, অবিভক্ত ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)।

  • দেশ বিভাজনের পর ১৯৪৭ সালে ভারতে স্থানান্তরিত হন।

  • শৈশব ও কৈশোরে সারা দেশ ভ্রমণ এবং নাগাল্যান্ডের আদিবাসীদের সঙ্গে বসবাস, যা তার লেখায় প্রভাব ফেলেছে।

শিক্ষা ও বসবাস:

  • স্বাধীন ভারতের পর কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস।

  • সাহিত্যচর্চা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তার লেখনী গড়ে ওঠে।

সাহিত্যকর্ম:

  • রচনাগুলি শহুরে ও গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করে।

  • প্রথম উপন্যাস: পূর্ব পার্বতী (১৯৫৭, নাগাল্যান্ডে রচিত)।

  • গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস: কেয়া পাতার নৌকো (২০০৩), শতধারায় বয়ে যায় (২০০৮), উত্তাল সময়ের ইতিকথা (২০১৪), নোনা জল মিঠে মাটি (বাং ১৩৬৬)।

  • ত্রয়ী উপন্যাস: কেয়া পাতার নৌকো, শতধারায় বয়ে যায়, উত্তাল সময়ের ইতিকথা একত্রে একটি ধারাবাহিক ত্রয়ী রচনা।

  • ১৯৯২ সালে সংবাদ প্রতিদিন-এর সাহিত্য বিভাগের প্রথম সম্পাদক।

  • স্মৃতিকথা: যখন যা মনে পড়ে (২০১৩-১৫, সংবাদ প্রতিদিনের রবিবার বিভাগে প্রকাশিত)।

রূপান্তর ও চলচ্চিত্রায়ন:

  • তার গল্প ও উপন্যাস অবলম্বনে ৪৫টির মতো টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক নাটক ও ফিচার ফিল্ম নির্মিত।

  • উল্লেখযোগ্য: পিঞ্জর (১৯৭১), বাঘবন্দী খেলা (১৯৭৫), মোহনার দিকে (১৯৮৪), আদমি আউর আউরত (১৯৮৪), একান্ত আপন (১৯৮৭), চরাচর (১৯৯৪), টার্গেট (১৯৯৭), মন্দ মেয়ের উপাখ্যান (২০০৩), ক্রান্তিকাল (২০০৫)।

  • কেয়া পাতার নৌকা উপন্যাস অবলম্বনে ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ ও ভারতীয় চ্যানেল জি বাংলায় সম্প্রচার।

পুরস্কার ও সম্মাননা:

  • সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার: ক্রান্তিকাল (২০০৩)

  • বঙ্কিম পুরস্কার: আকাশের নিচে মানুষ (১৯৮৫)

  • পাবলিশার্স এন্ড বুক সেলার্স গিল্ডের লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট

  • অন্যান্য: শরৎস্মৃতি, বি কে জে এ ইত্যাদি।

প্রধান রচনাবলি (নির্বাচিত):
পুরুষোত্তম, আমাকে দেখুন, পূর্ব পার্বতী, প্রতিধ্বনি, সসাগরা, আগুনের কাছাকাছি, জগৎ সংসার, মধ্যবর্তিনী, কিন্নরী, ভাতের গন্ধ, সীমারেখা মুছে যায়, মানুষের যুদ্ধ, স্বর্গের এক বাসিন্দা, কেয়াপাতার নৌকো (অখণ্ড) (২০২৩), শতধারায় বয়ে যায়, উত্তাল সময়ের ইতিকথা, ছিন্নমূলের ঘরবসত (অগ্ৰন্থিত), সিন্ধুপারের পাখি, প্রস্তুতি পর্ব, আবিষ্কার, পিতৃভূমি, আঁধারে ধূপের গন্ধ, জলের রেখা, শতবর্ষের যুদ্ধ, অদ্বিতীয়া, রণসজ্জা, দায়দায়িত্ব, রথযাত্রা, ইচ্ছাপূরণ, যখন যা মনে পড়ে (২০১৬)।

মৃত্যু:

  • ১৯ জুন ২০২৫।

Content added By

প্রবোধকুমার সান্যাল

606
Content added By

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়

640
Content added By

প্রেমেন্দ্র মিত্র

647

তিরিশোত্তর আধুনিক সাহিত্য আন্দোলনের স্থপতিদের অন্যতম প্রখ্যাত কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক প্রেমেন্দ্র মিত্র ছিলেন 'কল্লোল' গোষ্ঠীর লেখক। পরা-বাস্তবভিত্তিক গণমানুষের প্রতি
সংবেদনশীল যে সাহিত্যধারা কল্লোলগোষ্ঠী সৃষ্টি করতে গল্প-উপন্যাসে। তিনি জীবনের দুঃখ ও হতাশাকে রূপায়ণে কুশলতার পরিচয় প্রদান করেছেন। তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরাগ।

  • প্রেমেন্দ্র মিত্র সেপ্টেম্বর, ১৯০৪ সালে কাশীতে জন্মগ্রহণ করেন।
  • সাহিত্য সাধনার প্রথম পর্বে 'কৃত্তিবাস ভদ্র' ছদ্মনামে লিখতেন। তার সৃষ্ট একটি জনপ্রিয় চরিত্র 'ঘনাদা'।
  • তিনি 'কল্লোল' (১৯২৩) পত্রিকায় লেখালেখি করতেন এবং 'বাংলার কথা', 'বঙ্গবাণী', 'সংবাদ' পত্রিকায় সম্পাদকীয় বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন।
  • শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও মুরলীধর বসু সহযোগে 'কালি কলম' (১৯২৬) পত্রিকা প্রকাশ করেন।
  • ৩ মে, ১৯৮৮ সালে পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় মারা যান।

প্রেমেন্দ্র মিত্রের সাহিত্যকর্মসমূহঃ

কাব্যগ্রন্থ:

প্রথমা (১৯৩২): এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতার বই।

'সম্রাট' (১৯৪০), 'ফেরারী ফৌজ' (১৯৪৮), 'সাগর থেকে ফেরা' (১৯৫৬), 'হরিণ চিতা চিল' (১৯৫৯), 'কখনো মেঘ'।

উপন্যাস: পাঁক' (১৯২৬), 'কুয়াশা' (১৯৩০), 'মিছিল' (১৯৩৩), 'উপনয়ন' (১৯৩৪), 'আগামীকাল' (১৯৩৪), 'প্রতিশোধ' (১৯৪১), 'প্রতিধ্বনি ফেরে', 'মনুদ্বাদশ'।

গল্পগ্রন্থ: 'পঞ্চশর' (১৯২৯), 'বেনামী বন্দর' (১৯৩০), 'পুতুল ও প্রতিমা' (১৯৩২), 'মৃত্তিকা' (১৯৩২), 'অফুরন্ত' (১৯৩৫), 'ধূলিধূসর' (১৯৪৩), 'মহানগর' (১৯৪৩), 'জলপায়রা' (১৯৫৭), 'নানা রঙে বোনা' (১৯৬০)।

Content added By

প্রভাতরঞ্জন সরকার

626
Content added By

ফকরুল আলম

678
Content added By

ফজল শাহাবুদ্দীন

593
Content added By

ফররুখ আহমদ

678
ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪)

চল্লিশের দশকে আবির্ভূত শক্তিমান কবিদের অন্যতম ফরুখ আহমদ ছিলেন ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি। তাঁর রচিত কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব-ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগ নৈপুণ্য, বিষয়বস্তু ও আঙ্গিকের অভিনবত্বে তাঁর রচিত কবিতা বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে।

  • ফররুখ আহমদ ১০ জুন, ১৯১৮ [১০ জুলাই, ১৯১৮: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান] সালে মাগুরা জেলার (তৎকালীন যশোর) শ্রীপুর উপজেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
    প্রকৃত নাম সৈয়দ ফরুখ আহমদ। দাদী ডাকতেন রমজান নামে।
  • তাঁকে ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি, ইসলামি রেনেসাঁর কবি বলা হয়।
  • তাঁর উপাধি: মুসলিম রেনেসাঁর কবি।
  • তিনি 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং ঢাকা বেতারের 'স্টাফ রাইটার' হিসেবে কাজ করেছেন।
  • ১৯৩৭ সালে 'বুলবুল' পত্রিকায় তাঁর প্রথম কবিতা 'রাত্রি' এবং 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় 'পাপজন্ম' কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
  • তিনি ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে বাংলার পক্ষে এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য, বিবৃতি প্রদান করেন এবং কবিতা রচনা করেন।
  • ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকার রেডিও ও টেলিভিশনে রবীন্দ্র সংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তিনি এ সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬০), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৭৭), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮০) পান।
  • তিনি ১৯ অক্টোবর, ১৯৭৪ সালে ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহঃ

কাব্যগ্রন্থ:

'সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪): ১৯টি কবিতার সমন্বয়ে এটি কবির প্রথম প্রকাশিত ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। মুসলিম জাগরণের লক্ষ্যে এ কাব্যের কবিতাগুলি লিখিত। সেজন্য কবি বঙ্গীয় শব্দ ও অনুষঙ্গ ত্যাগ করে গ্রহণ করেছেন আরব্য উপন্যাস, ইরান-আরবের সংস্কৃতি ও পুরাণকথা। বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন। ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কাব্যটির মূল সুর। বিখ্যাত উর্দু কবি আল্লামা ইকবালকে তিনি কাব্যটি উৎসর্গ করেন। এ কাব্যটি প্রকাশে অর্থায়ন করেন কবি বেনজির আহমেদ।
'সাত সাগরের মাঝি' ও 'পাঞ্জেরি' এ কাব্যের কবিতা।

'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১): এটি কাব্যনাট্য।

'হাতেমতায়ী' (১৯৬৬): এটি কাহিনিকাব্য, এর জন্য তিনি ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

'মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩): এটি তাঁর সনেট সংকলন। এ সনেটের অন্তর্ভুক্ত কবিতা 'বৃষ্টি'।

'কাফেলা' (১৯৮০): এ কাব্যের কবিতা ‘পদ্মা’

'নতুন কবিতা' (১৯৫০), 'সিরাজাম মুনীরা' (১৯৫২), 'ধোলাই কাব্য' (১৯৬৩), 'হাবেদা মরুর কাহিনী' (১৯৮১), 'সিন্দাবাদ' (১৯৮৩), 'দিলরুবা' (১৯৯৪)।

'হরফের ছড়া' (১৯৬৯): এটি শিশুতোষ বিষয়ক গ্রন্থ। হরফ বা বর্ণ দিয়েই ভাষার শুরু। যারা ভাষা লিখতে ও পড়তে শিখবে হরফ তাদের জন্য। ভাষা যত সহজ, সুরেলা ও বৈচিত্র্যময় হবে, ততই শিশুদের ভাষা শিক্ষার আগ্রহ তৈরি হবে। ফলে অল্পদিনেই তারা বর্ণ শেখার মাধ্যমে ভাষা আয়ত্ত করতে পারবে। সে লক্ষ্যে কবি প্রতিটি হরফ বা বর্ণ দিয়ে ছড়া রচনা করেছেন। এ ছড়াগুলোর সামষ্টিক রূপায়ণ 'হরফের ছড়া'।

'নতুন লেখা' (১৯৬৯), 'চাঁদের আসর' (১৯৭০), 'ছড়ার আসর' (১৯৭০), 'ফুলের জলসা' (১৯৮৫)।

কবিতা:
'উপহার': এ কবিতাটি তিনি নিজের বিয়ে উপলক্ষে লিখেন। এটি পরবর্তীতে 'সওগাত' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

'স্মরণী': এ কবিতাটি তিনি আল্লামা ইকবালের স্মরণে লিখেন।

'পাঞ্জেরী': পাঞ্জেরী ফারসি শব্দ। এর বাংলা অর্থ জাহাজের অগ্রভাগে রক্ষিত পথনির্দেশক আলোকবর্তিকা বা আলোকবর্তিকাধারী ব্যক্তি। এটি তিনি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। ইংরেজ শাসনের যাতাকলে পিষ্ট ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নেতাকে পাঞ্জেরী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। 'পাঞ্জেরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

Content added By

ফয়েজ আহমেদ

621
Content added By

ফারুক মঈনউদ্দীন

681
Content added By

ফালগুনী রায়

621
Content added By

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়

627
Content added By

বদরুদ্দীন উমর

565
Content added By

বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর

586
Content added By

বড়ু চণ্ডীদাস

650
Content added By

বাণী বসু

632
Content added By

বাসন্তী দুলাল নাগচৌধুরী

650
Content added By

বিজয় গুপ্ত

653
Content added By

বিজয়চন্দ্র মজুমদার

663
Content added By

বিজয়া মুখোপাধ্যায়

610
Content added By

বিনয় মুখোপাধ্যায়

587
Content added By

বিনয় মজুমদার

779
Content added By

বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

596

বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় (২৪ অক্টোবর ১৮৯৪ – ৩০ জুলাই ১৯৮৭)

পরিচিতি:
বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ও ছোট গল্পকার। তিনি কৌতুক, রঙ্গরস এবং শিশু সাহিত্যেও দক্ষ ছিলেন।

জন্ম ও শিক্ষা:

  • জন্ম: ২৪ অক্টোবর ১৮৯৪, পান্ডুল, দ্বারভাঙ্গা জেলা, বিহার

  • পিতা: বিপিনবিহারী মুখোপাধ্যায়

  • আদি নিবাস: চাতরা, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ

  • শিক্ষা: দ্বারভাঙ্গা পীতাম্বরী বিদ্যালয়, দ্বারভাঙ্গা রাজ স্কুল (ম্যাট্রিক), রিপন কলেজ (আই এ), পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় (বি.এ.)

কর্মজীবন:

  • ইন্ডিয়ান নেশন পত্রিকার কার্যাধ্যক্ষ

  • দ্বারভাঙ্গা মহারাজের সচিব

  • শিক্ষকতা: ১৯১৬–১৯৪২, বিভিন্ন স্কুল ও ধনী পরিবারের গৃহ-শিক্ষক

  • সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি শিক্ষকতা ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত ছিলেন

সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
নীলাঙ্গুরিয়, স্বর্গাদপিগরীয়সী (৩ খণ্ড), নবসন্নাস, কাঞ্চন-মূল্য, নয়ন বৌ, রিকসার গান, মিলনান্তক, পঙ্ক পল্বল, ঊর্মি আহ্বান, অযাচী অন্ধানে, তোমারি ভরসা, উত্তরায়ণ, গোল গোবিন্দের কড়চা, রূপ হল অভিশাপ, কদম, এবার প্রিয়ংবদা

গল্পসংকলন:
রানুর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগ, বর্ষায়, বরযাত্রী, চৈতালী, অতঃকিম, হৈমন্তী, কায়কল্প, দৈনন্দিন, হাতেখড়ি, কথাচিত্র, লঘুপাক, রূপান্তর, বাস্তব অবাস্তব, হাসি ও অশ্রু, মানস মিছিল, আনন্দনট, পরিচয়, কন্যা সুশ্রী স্বাস্থ্যবতী

নাটক:
বিশেষ রজনী, গণশার বিয়ে

রম্যভ্রমণধর্মী রচনা:
দুয়ার হতে অদূরে, কুশী প্রাঙ্গনের চিঠি, একই পথের দুই প্রান্তে, অযাত্রার জয়যাত্রা

শিশু সাহিত্য:
পোনুর চিঠি, কৈলাশের পাঠরানী, হেসে যাও, দুষ্টুলক্ষ্মীদের গল্প, কিশোর রচনাসম্ভার

কাব্য ও আত্মজীবনী:
পৃথ্বীরাজ, জীবন তীর্থ

সম্মাননা ও পুরস্কার:

  • ডি.লিট, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়

  • জগত্তারিণী সুবর্ণপদক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

  • আনন্দ পুরস্কার, ১৯৫৮

  • রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৭২ (এবার প্রিয়ম্বদা গ্রন্থের জন্য)

  • শরৎ পুরস্কার, ১৯৮৭ (কাঞ্চন-মূল্য গ্রন্থের জন্য)

Content added By

বিদ্যাপতি

632

বিদ্যাপতি (১৩৮০-১৪৬০)

মিথিলার রাজসভার কবি, বৈষ্ণব কবি ও পদসঙ্গীত ধারার রূপকার বিদ্যাপতি। তিনি বাঙালি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান দখল করে আছেন। বিদ্যাপতির রচিত পদ চৈতন্যদেব বিশেষভাবে শ্রবণ করতেন। তাঁর কৌলিক উপাধি ঠক্কর বা ঠাকুর।

  • বিদ্যাপতি আনুমানিক ১৩৮০ সালে মিথিলার দ্বারভাঙ্গা জেলার সীতাময়ী মহকুমার বিসফী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি পদাবলির প্রথম কবি।
  • তিনি মিথিলার রাজা কীর্তি সিংহ কর্তৃক সভাপণ্ডিত নিযুক্ত হন এবং রাজা দেব সিংহ ও শিব সিংহের রাজসভার কবি ছিলেন।
  • তিনি মৈথিলি, অবহটঠ ও সংস্কৃত ভাষায় পদ রচনা করেন।
  • তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ রচনা।
  • বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশ পদ ব্রজবুলি ভাষায় রচিত।
  • বিদ্যাপতির উপাধি 'কবিকণ্ঠহার' (রাজা শিবসিংহ কর্তৃক), 'মৈথিল কোকিল', 'অভিনব জয়দেব', 'নব কবিশেখর', 'কবিরঞ্জন', 'পণ্ডিত ঠাকুর', 'সদুপাধ্যায়', 'রাজপণ্ডিত'।
  • তাঁর রচিত কাব্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'রাজকন্ঠের মণিমালা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর কবিতা সম্পর্কে বলেছেন, ‘বিদ্যাপতির কবিতা স্বর্ণহার, বিদ্যাপতির গান মুরজবীণাসঙ্গিনী স্ত্রীকণ্ঠগীত।’
  • তিনি আনুমানিক ১৪৬০ সালে মারা যান।
  • ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, ১৩৯০-১৪৯০ সালের মধ্যেই বিদ্যাপতির জীবন আবর্তিত হয়েছে।
  • ড. আহমদ শরীফ বলেন, বিদ্যাপতি ১৩৬০-৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৪৫৫ সালের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন।

ব্রজবুলিঃ

ব্রজবুলি হলো বাংলা ও মৈথিলি ভাষার সংমিশ্রণে তৈরি একপ্রকার কৃত্রিম কবিভাষা। মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এ ভাষার স্রষ্টা। এ ভাষা কখনো মানুষের মুখের ভাষা ছিল না; সাহিত্যকর্ম ব্যতীত অন্যত্র এর ব্যবহার নেই। এতে কিছু হিন্দি শব্দ আছে। ড. সুকুমার সেনের মতে, 'অবহট্ট থেকে ব্রজবুলির উৎপত্তি হয়েছে।' এ ভাষায় চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, গোবিন্দ দাস, জ্ঞানদাস বিভিন্ন বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। বিদ্যাপতি ছিলেন বৈষ্ণব পদাবলির অবাঙালি কবি।

মৈথিল কোকিলঃ

মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়। তিনি পদাবলির আদি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তিনি বাংলা সাহিত্যে একটি পঙ্ক্তি না লিখেও বাংলায় স্মরণীয় কবি। তিনি ব্রজবুলি ভাষায় রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক পদ রচনা করেন।

বৈষ্ণব পদাবলি ধারায় বিদ্যাপতির বিশেষত্বঃ

মধ্যযুগের সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বৈষ্ণব পদাবলির বিখ্যাত কবি ও পদসঙ্গীত ধারার রূপকার বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন মিথিলার রাজসভার কবি। তিনি ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেন। ব্রজবুলি হলো বাংলা ও মৈথিলি ভাষার সংমিশ্রণে তৈরি একপ্রকার কৃত্রিম কবিভাষা। তাঁর কাব্যে অলৌকিক প্রেমকাহিনিকে মানবিক প্রেমকাহিনি হিসেবে রূপ দিয়েছেন। তিনিই প্রথম কাম-প্রেমরসের বিচিত্র বর্ণালি জগৎ তৈরি করেন। তাঁর রচিত রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক প্রেমলীলা পদের মধ্যে রাধার বয়ঃসন্ধি, অভিসার, আক্ষেপানুরাগ, বিরহ ও ভাবসম্মিলনের পদগুলো বিশেষ উৎকর্ষপূর্ণ। রাধা-কৃষ্ণ প্রেমলীলা বিষয়ক যে উৎকৃষ্ট পদাবলি রচনা করেছেন তাই তাকে অমরতা দান করেছে।

বিদ্যাপতির সাহিত্যকর্মসমূহঃ

গ্রন্থ

বর্ণনা

কীর্তিলতাকীর্তিসিংহের আদেশে অপভ্রংশ (অবহট্‌ঠ) ভাষায় রচিত ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ।
কীর্তিপতাকারূপনারায়ণের আদেশে অবহট্‌ঠ ভাষায় রচিত ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ।
পুরুষপরীক্ষাশিবসিংহের আদেশে সংস্কৃত ভাষায় রচিত মণীষা ও শিল্পকৃতির সমন্বয়রূপ কথাসাহিত্য।
দানবাক্যাবলীনরসিংহ পত্নী ধীরমতির আদেশে রচিত পাণ্ডিত্য বিচার সম্বলিত স্মৃতিগ্রন্থ।
লিখনাবলীদ্রোণবারের রাজা পুরাদিত্যের আদেশে রচিত অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ।
বিভাগসারদর্পনারায়ণ নরসিংহের আদেশে রচিত পাণ্ডিত্য বিচার সম্বলিত স্মৃতিগ্রন্থ।
গঙ্গাবাক্যাবলীপৌরাণিক হিন্দুর পূজা ও সাধনপদ্ধতির সঞ্চয়ন।
দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণীকংসনারায়ণ ধীরসিংহ ও ভৈরবসিংহের আদেশে রচিত পৌরাণিক হিন্দুর পূজা ও সাধনপদ্ধতির সঞ্চয়ন।
বর্ষক্রিয়াপৌরাণিক হিন্দুর পূজা ও সাধনপদ্ধতির সঞ্চয়ন।
শৈবসর্বস্বসারপদ্মসিংহ ও তৎপত্নী বিশ্বাসদেবীর আদেশে রচিত।
ভূপরিক্রমাগরুড়নারায়ণ দেবসিংহের আদেশে রচিত ভৌগোলিকের তীর্থ পরিক্রমা।
গোরক্ষবিজয়নাটক

বিদ্যাপতির উক্তি

  • এ সখি হামারি দুঃখের নাহি ওর। এ ভরা বাদর মাহ ভাদর / শূন্য মন্দির মোর ।।
  • নব অনুরাগিণী রাধা।/ কিছু নাহি মান এ বাধা।।
  • কি কহব রে সখি আনন্দ ওর। চিরদিনে মাধব মন্দিরে মোর।।
Content added By

বিমল কর

614
Content added By

বিমল ঘোষ

625
Content added By

বিমল মিত্র

666
Content added By

বিষ্ণু দে

692

প্রখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক ও চিত্রসমালোচক বিষ্ণু দে ছিলেন কল্লোল সাহিত্য গোষ্ঠীর অন্যতম লেখক। তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য মিথের সাথে মার্কসীয় তত্ত্বকে সাহিত্যে উপস্থাপন করেছেন বলে তাকে 'মার্কসিস্ট' কবি বলা হয়। তিরিশের কাব্যধারায় বিষ্ণুদের মধ্যেই প্রথম রাবিন্দ্রিক কাব্যবলয় অতিক্রমের সার্থক প্রয়াস লক্ষ করা যায়। তিনি মার্কসীয় তত্ত্বকে জীবনাবেগ ও শিল্পসম্মত করে উপস্থাপনার ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেন।

  • বিষ্ণু দে ১৮ জুলাই, ১৯০৯ সালে কলকাতার পটলডাঙ্গায় জনন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'পরিচয়' (১৯৩১) পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন।
  • তিনি চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় 'সাহিত্যপত্র' (১৯৪৮) নামে পত্রিকা প্রকাশ করেন। এছাড়াও 'নিরুক্তা' নামেও একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
  • তিনি 'সাহিত্য আকাদেমী পুরস্কার' (১৯৫৫) এবং 'স্মৃতিসত্তা ভবিষ্যৎ' কাব্যগ্রন্থের জন্য 'জ্ঞানপীঠ' (১৯৭২) পুরস্কার পান।
  • তিনি ৩ ডিসেম্বর, ১৯৮২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

বিষ্ণু দে'র কাব্যগ্রন্থগুলো:

. 'উর্বশী ও আর্টেমিস' (১৯৩৩): সনাতন রোমান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে'র প্রথম কাব্যগ্রন্থ এটি। তিনি ঐতিহ্য সচেতন ছিলেন বলে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগের মাধ্যমে আর্টেমিসের চিত্রকল্পে সাথে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।

'তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ' (১৯৫৮): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'একটি কাফি'।

'চোরাবালি' (১৯৩৭), 'সাতভাই চম্পা' (১৯৪৪), 'সন্দীপেচর' (১৯৪৭), 'নাম রেখেছি কোমল গান্ধার' (১৯৫০) 'স্মৃতিসত্তা ভবিষ্যৎ' (১৯৬৩), 'সেই অন্ধকার চাই (১৯৬৭), 'রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশে' (১৯৭৩), 'দিবানিশি (১৯৭৬), 'চিত্ররূপমত্ত পৃথিবীর' (১৯৭৬), 'উত্তরে বায়ে মৌন' (১৯৭৭), 'আমার হৃদয়ে বাঁচো' (১৯৮২)।

বিষ্ণু দে'র অন্যান্য সাহিত্যকর্মঃ

প্রবন্ধ: 'রুচি ও প্রগতি' (১৯৪৬), 'সাহিত্যের ভূমিজর (১৯৫২), ‘এলোমেলো জীবন ও শিল্প সাহিত্য’ 'সাধারণের রুচি' (১৯৭৫)।

অনুবাদ: 'এলিয়টের কবিতা' (১৯৫০)।

স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ: 'এই জীবন'।

Content added By

বিহারীলাল চক্রবর্তী

700

বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫-১৮৯৪)

আধুনিক গীতিকবিতার কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী। কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস বিশুদ্ধভাবে তাঁর কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে। সৌন্দর্যপিয়াসী প্রকৃতি প্রেমিক কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর কবিতায় সমাজ-সমকাল ও সমকালীন সমস্যাবলি প্রাধান্য পায়নি। মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রকৃতির রস আস্বাদন করেছেন যেভাবে, সেই মুগ্ধতার প্রকাশ ঘটেছে তাঁর কবিতায়। তাঁর কবিতার চরণে চরণে ঢেউ তুলেছে নূপুর-নিক্বণ। রবীন্দ্রনাথের মতে, 'বাংলা ভাষার একমাত্র কবি বিহারীলালই প্রথম নিভৃতে বসে নিজের ছন্দে নিজের মনের কথা লিখেছেন।'

  • বিহারীলাল চক্রবর্তী ২১ মে, ১৮৩৫ সালে কলকাতার জোড়াবাগান অঞ্চলের নিমতলায় জন্মগ্রহণ করেন। আদি নিবাস- ফরাসডাঙ্গায়।
  • তাঁর পারিবারিক পদবি- চট্টোপাধ্যায়।
  • গীতিকবিতার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের গুরু- বিহারীলাল চক্রবর্তী।
  • তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা। এ জন্য রবীন্দ্রনাথ তাকে 'ভোরের পাখি' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন
  • তিনি 'পূর্ণিমা' (১৮৫৯), 'সাহিত্য সংক্রান্তি' (১৮৬৩), 'অবোধ বন্ধু' (১৮৬৮) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
  • তিনি ২৪ মে, ১৮৯৪ সালে কলকাতায় মারা যান।

যে কবিতায় কবির একান্ত ব্যক্তিগত কামনা-বাসনা ও আনন্দবেদনা প্রাণের অন্তঃস্থল থেকে আবেগকম্পিত সুরে অখণ্ড ভাবমূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করে তাকে 'গীতিকবিতা' বলে। আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার সূত্রপাত টপ্পাগান থেকে। বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে গীতিকবিতা রচনা করে নতুন এক ধারা সৃষ্টি করেন বলেই তাকে 'ভোরের পাখি' বলা হয়।

বিহারীলাল রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহঃ

'বঙ্গসুন্দরী' (১৮৭০): এটি তাঁর প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ।

'সাধের আসন' (১৮৮৯): 'সারদামঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট 'সাধের আসন'। বিহারীলালের 'সারদামঙ্গল' কাব্য পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৌদি কাদম্বরী দেবী নিজের হাতে একটা আসন বুনে কবিকে উপহার দিয়েছিলেন। আসনের উপর প্রশ্নচ্ছলে কার্পেটের অক্ষরে লেখা ছিল 'সারদামঙ্গল' কাব্যের কয়েকটা লাইন। এর উত্তরে কবি রচনা করেন একটি কাব্য। কাদম্বরী দেবীর উপহারের কথা স্মরণ করেই বিহারীলাল এ কাব্যের নামকরণ করেন 'সাধের আসন'।

'স্বপ্নদর্শন' (১৮৫৮), 'সঙ্গীত শতক' (১৮৬২), নিসর্গ সন্দর্শন' (১৮৭০), 'বন্ধু বিয়োগ' (১৮৭০), 'প্রেম প্রবাহিণী' (১৮৭০), 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯), 'নিসর্গ সঙ্গীত' (১৮৮১), 'মায়াদেবী' (১৮৮২), 'দেবরাণী' (১৮৮২), 'বাউলবিংশতি' (১৮৮৭), 'ধূমকেতু' (১৮৯৯)।

সারদামঙ্গল

বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)। এটি পাঁচ খণ্ডে স্তবকময় মাধুর্যপূর্ণ ভাষায় রচিত। এ কাব্যে দেখা যায়, শুরুতে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব এবং হিমালয়ের উদার প্রকৃতির মধ্যে প্রশান্তি লাভ এবং সবশেষে হিমালয়ের পূর্ণভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র। শেলির মতো বিহারীলালও তাঁর প্রিয়তমার মধ্যে সারদাকে অন্বেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ বিরহের পর হিমাদ্রি শিখরে ভাব-সম্মিলনের চিত্র অংকন করে কবি কাব্যের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

Content added By

বুদ্ধদেব গুহ

621

বুদ্ধদেব গুহ (২৯ জুন ১৯৩৬ – ২৯ আগস্ট ২০২১)

পরিচিতি:
বুদ্ধদেব গুহ একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক, মূলত বন, অরণ্য ও প্রকৃতি বিষয়ক রচনার জন্য পরিচিত। তার স্ত্রী ছিলেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়িকা ঋতু গুহ।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন:

  • জন্ম: ২৯ জুন ১৯৩৬, কলকাতা

  • শৈশব: বরিশাল ও রংপুর

  • শিক্ষা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ

কর্মজীবন:

  • পেশা: চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট

  • কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ড ও আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের উপদেষ্টা

  • পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বনবিভাগ, নন্দন উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য

  • নিজস্ব বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকা, ছবি আঁকা ও রবীন্দ্রসঙ্গীত গান

সাহিত্য ও অবদান:
বুদ্ধদেব গুহ অরণ্যপ্রেমিক এবং প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক ছিলেন। তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাস ও গল্পে প্রকৃতি, বন এবং মানুষের সম্পর্কের চিত্র উঠে এসেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি হলো:

  • উপন্যাস: বাবলি, মাধুকরী, কোজাগর, হলুদ বসন্ত, একটু উষ্ণতার জন্য, কুমুদিনী, খেলা যখ, ঋজুদা, জঙ্গলমহল, আয়নার সামনে, অভিল্বাহিক, অববাহিকা, অবরোহী, অদ্ভুত লোক, আলোকঝারি, অনুসন্ধান, বাজে চন্দনপুরের কড়চা, বাসনাকুসুম, বাতি ঘর, ছৌ, কুমুদিনী, পাখসাট, গুঞ্জা ফুলের মালা, জগমগি, যাওয়া-আসা ইত্যাদি

  • শিশু সাহিত্য: ঋজুদার সঙ্গে জঙ্গলে (ঋজুদা চরিত্র)

  • তাঁর গল্প ও উপন্যাস থেকে বহু চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিক নির্মিত হয়েছে, যেমন 'ডিকশনারি'

পুরস্কার ও সম্মাননা:

  • আনন্দ পুরস্কার, ১৯৭৬ ('হলুদ বসন্ত' জন্য)

  • শিরোমণি পুরস্কার

  • শরৎ পুরস্কার

জীবনাবসান:
২৯ আগস্ট ২০২১, দক্ষিণ কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমে হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যু। মৃত্যুকালে দুই কন্যা রেখে গেছেন।

Content added By

বেলাল চৌধুরী

662
Content added By

বেনজির আহমেদ

618
Content added By

ভগীরথ মিশ্র

613
Content added By

মঈদুল হাসান

595
Content added By

মঈনুল আহসান সাবের

711
Content added By

মঈনুস সুলতান

726
Content added By

মকবুলা মনজুর

632
Content added By

মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়

608
Content added By

মণিভূষণ ভট্টাচার্য

607
Content added By

মণীন্দ্র গুপ্ত

596
Content added By

মণীন্দ্র রায়

555
Content added By

মণীশ ঘটক

549
Content added By

মতি নন্দী

540
Content added By

মতিউর রহমান মল্লিক

737
Content added By

মতিউল ইসলাম

624
Content added By

মনজুরে মওলা

622
Content added By

মঞ্জু সরকার

606
Content added By

মন্দাক্রান্তা সেন

519
Content added By

মনিরউদ্দীন ইউসুফ

628
Content added By

মনোজ বসু

606
Content added By

মনোজ মিত্র

601
Content added By

মনোরঞ্জন ব্যাপারী

603
Content added By

মনোমোহন বসু

594
Content added By

মফিদুল হক

628
Content added By

মবিনউদ্দিন আহমদ

556
Content added By

মমতাজউদ্দীন আহমেদ

663
Content added By

মমতাজুর রহমান তরফদার

639
Content added By

মলয় রায়চৌধুরী

609
Content added By

মহাদেব সাহা

667
Content added By

মহাশ্বেতা দেবী

619
Content added By

মহীউদ্দিন

601
Content added By

মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত

599
Content added By

ময়ুখ চৌধুরী

674
Content added By

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

879

মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩)

উনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য রচয়িতা। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক, প্রথম আধুনিক কবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার প্রথম রচয়িতা, সার্থক ট্রাজেডির প্রথম রচয়িতা, প্রথম প্রহসন রচয়িতা, পুরাণকাহিনির ব্যত্যয় ঘটিয়ে আধুনিক সাহিত্যরস সৃষ্টির প্রথম শিল্পী এবং পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যধারার সংমিশ্রণে নতুন ধরনের মহাকাব্য রচয়িতা।

  • মাইকেল মধুসূদন দত্ত ২৫ জানুয়ারি, ১৮২৪ সালে যশোর জেলার কেশবপুরের কপোতাক্ষ নদীর তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তার পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ও মাতা জাহ্নবী দেবী।
  • তিনি ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪৩ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ওল্ড মিশন চার্চে পাদ্রী ডিলট্রির কাছে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেন। এদিন থেকে তার নামের আগে 'মাইকেল' শব্দটি যোগ হয়। তাঁর ধর্মান্তরণ সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ফলে তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেন। হিন্দু কলেজে খ্রিষ্টানদের অধ্যয়ন নিষিদ্ধ বলে তিনি এ কলেজ থেকে (১৮৪৩) বিতাড়িত হন।
  • ছাত্রজীবনে তিনি নারী শিক্ষার উপর ইংরেজি কবিতা রচনা করে 'বেঙ্গল স্পেকটেটর', 'লিটার‍্যারি গেজেট', 'লিটার‍্যারি ব্লসম কমেট' পত্রিকায় প্রকাশ করেন।
  • মাদ্রাজে অবস্থানকালে তিনি কিছুদিন 'হিন্দু ক্রোনিকল' পত্রিকায় সম্পাদকের কাজ করেন।
  • তিনি কলকাতার আলিপুর হাসপাতালে ২৯ জুন, ১৮৭৩ সালে মারা যান।

মধুসূদন দত্তকে 'দত্ত কুলোদ্ভব' কবি বলা হয় তার কারণঃ

কুল অর্থ বংশ এবং উদ্ভব অর্থ উৎপত্তি বা জন্ম। 'দত্ত কুলোদ্ভব' মানে দত্ত বংশে উৎপত্তি বা জন্ম। খ্রিস্টীয় আঠার শতকে যশোরের সাগরদাঁড়ী গ্রামের প্রতাপশালী ব্যক্তি ছিলেন রামনিধি দত্ত। তাঁর চার পুত্রের মধ্যে কনিষ্ঠ ছিলেন রাজনারায়ণ দত্ত। তিনি পেশায় ছিলেন উকিল এবং জমিদারীতেও ছিল ব্যাপক সুনাম। এ দত্ত বংশে জন্মের কারণে মাইকেল মধুসূদনকে 'দত্ত কুলোদ্ভব' কবি বলা হয়।

মধুসূদনের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম The Captive Lady (১৮৪৯): ইংরেজিতে লিখিত। তিনি Timothy Penpoem ছদ্মনামে মাদ্রাজের 'হিন্দু ক্রোনিকল', 'মাদ্রাজ সার্কুলার', ও 'স্পেকটেটর' পত্রিকায় কবিতা লিখতেন।

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট কবিতার নাম 'বঙ্গভাষা': এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে অষ্টক ও ষটকে বিভক্ত। কবিতাটিতে কবির বক্তব্য হলো- মাতৃভাষার প্রতি উপেক্ষার অনুতাপ। এটির প্রথমে নাম ছিল 'কবি মাতৃভাষা'।

মধুসূদনের প্রথম প্রকাশিত বাংলা গ্রন্থের নামঃ

'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯): বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক তিনি ১৮৫৮ সালে কলকাতার পাইকপাড়ার রাজানে অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য নাটকটি রচন করেন এবং তাদের অনুপ্রেরণা ও অর্থায়নে জানুয়ারি, ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। মহাভারতের দেবযানী-যযাতি উপাধার অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে এটি রচিত। চরিত্র: যযাতি দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী। এটি মহাক কালিদাসকে উৎসর্গ করেন।

কৃষ্ণচরিত (প্রবন্ধ)বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কৃষ্ণপক্ষ (গল্পগ্রন্থ)আবদুল গাফফার চৌধুরী
কৃষ্ণপক্ষ (উপন্যাস)হুমায়ূন আহমেদ
কৃষ্ণকুমারী (নাটক)মাইকেল মধুসূদন দত্ত
কন্যাকুমারী (উপন্যাস)আবদুর রাজ্জাক

মধুসূদনের অন্যান্য নাটকগুলোর নাম

'পদ্মাবতী' (১৮৬০): বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি এ নাটকের ২য় অঙ্কের ২য় গর্ভাঙ্কে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্ প্রয়োগ করেন। এটি গ্রিক পুরাণের Apple of Discord অবলম্বনে রচিত। গ্রিক পুরাণের দেবী জুনো, প্যালেস ও ভেনাস এ নাটকে রূপায়িত হয়েছেন শচী, মুরজা ও রতি নামে। হেলেন ও প্যারিস হয়েছেন পদ্মাবতী ও ইন্দ্রনীল নামে। তিন দেবীর মধ্যে রতিকে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী নির্বাচন করায় অন্য দুই দেবী ইন্দ্রনীলের উপর রুষ্ট হন। ফলে ইন্দ্রনীলের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। পরে দেবী রতির প্রচেষ্টায় ইন্দ্রনীল উদ্ধার হন এবং বিচ্ছিন্ন স্ত্রী পদ্মাবতীর সাথে মিলন ঘটে।

'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১): বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি।

'মায়াকানন' (১৮৭৪): এটি তাঁর রচিত সর্বশেষ বিয়োগান্তর নাটক। বেঙ্গল থিয়েটারের কর্ণধার শরৎচন্দ্র ঘোষের অনুরোধে তিনি নাটকটি রচনা শুরু করেন। কিন্তু শেষ করতে পারেননি। এটি সমাপ্ত করেন ভুবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায় মাইকেলের মৃত্যুর পরে এ নাটকটি প্রকাশিত হয়।

মধুসূদনের কাব্যগ্রন্থগুলোর নামঃ

'তিলোত্তমাসম্ভব' (১৮৬০): এটি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ। মহাভারতের সুন্দ-উপসুন্দ কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাহিনিকাব্য। এটি যতীন্দ্রমোহন বাগচীকে উৎসর্গ করেন।

'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' (১৮৬৬): বাংলা সাহিত্যের প্রথম
সনেট সংকলন। এতে মোট ১০২টি সনেট কবিতা আছে। মাইকেল ইতালিয় কবি পেত্রার্ক ও শেক্সপিয়রের অনুকরণে এগুলো রচনা করেন। এ সনেট সংকলনের বিখ্যাত কবিতা
'কপোতাক্ষ নদ' ।

'বীরাঙ্গনা' (১৮৬২): বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য (অমিত্রাক্ষর)। এতে মোট ১১টি পত্র আছে। দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলা, দশরথের প্রতি কৈকেয়ী, সোমের প্রতি তারা উল্লেখযোগ্য পত্র। এটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে উৎসর্গ করেন। এটি করুণ রসের পত্রকাব্য।

'ব্রজাঙ্গনা' (১৮৬১): কাব্যটির প্রথমে নাম ছিল 'রাধা বিরহ'। পরবর্তীতে এটির নামকরণ হয় 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য (মিত্রাক্ষর)। রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক বৈষ্ণব পদাবলির আধুনিক পরিণতি এ কাব্য।

'Visions of the Past' (১৮৪৯): কাব্যটি তিনি মাদ্রাজে অবস্থানকালে ইংরেজিতে রচনা করেন।

মাইকেল মধুসূদনের মহাকাব্যের

'মেঘনাদবধ কাব্য' (১৮৬১): এটি রামায়ণের কাহিনি অবলম্বনে বীর রসের অমিত্রাক্ষর ছন্দে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য প্রভাবের সংমিশ্রণে রচিত বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রথম, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সার্থক মহাকাব্য। এটি প্রথম ইংরেজিতে অনুবাদ করেন রাজনারায়ণ বসু। এটি উৎসর্গ করেন এ গ্রন্থটির মুদ্রণের ব্যয়বহনকারী রাজা দিগম্বর মিত্রকে। প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা। ['মেঘনাদবধ কাব্য' কোন রসের কাব্য? এটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক আছে। মধুসূদন কাব্যের শুরুতেই দেবী বন্দনায় বলেছেন, 'গাইব, মা, বীর রসে ভাসি, মহাগীত।' যদিও শেষ পর্যন্ত এটিতে করুণ রসই প্রাধান্য পেয়েছে। তারপরও পরীক্ষায় এরকম প্রশ্ন আসলে উত্তর বীর রস দিতে হবে]

'হেক্টরবধ' (১৮৭১): এটি হোমারের 'ইলিয়াড' এর বঙ্গানুবাদ। এটি অসমাপ্তভাবেই প্রকাশিত হয়। এটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়।

'মেঘনাদবধ কাব্য'র মোট সর্গ ৯টি। যথা: ১ম- অভিষেক, ২য়- অস্ত্রলাভ, ৩য়- সমাগম, ৪র্থ- অশোক বন, ৫ম-উদ্যোগ, ৬ষ্ঠ- বধ (বধো), ৭ম- শক্তিনির্ভেদ, ৮ম-প্রেতপুরী, ৯ম- সংক্রিয়া।

মধুসূদনের প্রহসনগুলোর নামঃ

'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' (১৮৫৯, সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান): বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন। প্রথমে এটির নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'। এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূল কাহিনি। মূল চরিত্র বুড়ো জমিদার ভক্তপ্রসাদ বাবু। কথায় কথায় ধর্মের কথা বলেন। কিন্তু পাড়ার মেয়েদের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকান। তাকে শিক্ষা দেয়ার জন্য পাড়ার কয়েকজন ছেলে ফন্দি আটেন। রাতের অন্ধকারে হানিফের সুন্দরী স্ত্রী ফাতেমার মাধ্যমে ভক্ত প্রসাদকে শিবমন্দিরে ডেকে এনে উত্তম-মধ্যম দিয়ে উচিত শিক্ষা প্রদান করেন।

'একেই কি বলে সভ্যতা' (১৮৫৯, সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান): নব্য ইংরেজি শিক্ষিত যুবকদের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের কাহিনিই এ প্রহসনের মূল সুর। কলকাতার আধুনিকতার আলোকে নবকুমার শিক্ষিত হচ্ছে। তার পিতা একজন পরম বৈষ্ণব সাধক। ফলে তিনি বৃন্দাবনেই থাকেন। একসময় তিনি কলকাতায় বসবাস শুরু করেন। এই সুযোগে নবকুমার কলকাতার নব্যশিক্ষিত যুবকদের নিয়ে 'জ্ঞানতরঙ্গিনী সভা' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। যার উদ্দেশ্য মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গলাভ। নবকুমার অধিক রাতে মদ্যপান করে মাতাল হয়ে ঘরে ফিরলে তার বাবা অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং কলকাতার বসতি উঠিয়ে নিতে মনস্থ করেন। এটিই এ প্রহসনের মূল বক্তব্য।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
কাজী নজরুল ইসলামের
রাজা রামমোহন রায়ের
মাইকেল মধুসূদন দত্তের
হিন্দু কলেজ
সংস্কৃত কলেজ
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
প্রেসিডেন্সি কলেজ
১৯৪২ সালে নবম শ্রেণিতে
১৯৪৩ সালে অষ্টম শ্রেণিতে
১৯৪৩ সালে সপ্তম শ্রেণিতে
১৯৪২ সালে সপ্তম শ্রেণিতে

মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

541
Content added By

মান্নান হীরা

546
Content added By

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

1.3k
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬)

তিরিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর গল্প ও উপন্যাসগুলোতে স্বতন্ত্র ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্য উজ্জ্বল। বিজ্ঞানমনস্ক এ লেখক মানুষের মনোজগৎ তথা অন্তর্জীবনের রূপকার হিসেবে সার্থকতা দেখিয়েছেন। শরৎচন্দ্র ও কল্লোল গোষ্ঠীর লেখকদের পর বাংলা সাহিত্যে বস্তুতান্ত্রিকতা ও মনোবিশ্লেষণে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় অগ্রগণ্য।

  • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯ মে, ১৯০৮ সালে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরের মালবদিয়া গ্রাম।
  • তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। ডাক নাম মানিক। জন্মপঞ্জিকায় নাম অধরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • তিনি প্রথমদিকে ফ্রয়েডীয়, পরবর্তীতে মার্কসিজম মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। মার্কসবাদী ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
  • তিনি ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করে সদস্যপদ লাভ করেন।
  • তিনি 'নাবারুণ' পত্রিকার সম্পাদক ও 'বঙ্গশ্রী' পত্রিকার সহসম্পাদক ছিলেন।
  • লেখালেখিই ছিল তার প্রধান পেশা ও নেশা। এ জন্য তাকে 'কলম পেশা মজুর' বলা হয়।
  • তিনি ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৬ সালে মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম প্রকাশিত গল্প

'অতসী মামী' (১৩৩৫ বঙ্গাব্দ): এটি ডিসেম্বর, ১৯২৮ এবং জানুয়ারি, ১৯২৯ সালে পৌষ সংখ্যা 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ গল্পেই তিনি মানিক নামটি প্রথম ব্যবহার করেছেন। ফলে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাউনিতে প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় নামটি ঢাকা পড়ে যায়।

মানিকের উপন্যাসসমূহ

'জননী' (১৯৩৫): এটি তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি নারীর জননী-জীবনের নানা স্তর এবং সন্তানের সঙ্গে জননীর সম্পর্কের সূক্ষ্ম মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস। চরিত্র: শ্যামা।

'পদ্মানদীর মাঝি' (১৯৩৬): জেলেদের দৈনন্দিন জীবনের চালচিত্র এর উপজীব্য। চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, হোসেন মিয়া। উর্দু কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের চিত্রনাট্যে ১৯৫৮ সালে এ.জে কারদার পরিচালিত উর্দু ছবি 'জাগো হুয়া সাবেরা' নামে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। এটি নিয়ে গৌতম ঘোষ ১৯৯২ সালে 'পদ্মানদীর মাঝি' নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

'পুতুলনাচের ইতিকথা' (১৯৩৬): মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের গাওদিয়া গ্রামের সাধারণ মানুষ নিয়ে এ উপন্যাসের পটভূমি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে বাঙালি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের অন্তর্গত টানাপোড়েন ও অস্তিত্ব সংকট শশী চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত। লোকায়ত ভাষায় প্রেম নিবেদন করে কুসুম, কিন্তু শশীর কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ায় অর আত্মিক মৃত্যু ঘটে। এ উপন্যাসে বিভিন্ন চরিত্র ক্রিয়ান্ট থাকলেও তারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়াতে পারেনি পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়েছে। এটি মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস। চরিত্র: শশী, কুসুম।

'অমৃতস্য পুত্রা' (১৯৩৮): এটি পারিবারিক ও দাম্পত্র সমস্যামূলক উপন্যাস।

'শহরতলী' (১৯৪০): নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমিকশ্রেণির মানুষে জীবনের কাহিনি ও সেইসাথে প্রবৃত্তির নিরাবরণ প্রকাশ। মানুষের আচরণের বলিষ্ঠতা ও কপটতা, ঈর্ষার রূপায়ণ এ উপন্যাসের মূল সুর।

'অহিংসা' (১৯৪১): মানুষ যে অজ্ঞাতসারে অনেক অহিংস কাজ করে অথবা হিংসার সাথে অহিংসা যে মানুষের ময়ে জড়িত থাকতে পারে, এটি নিয়েই উপন্যাসের কাহিনি বিস্তৃত।

'আরোগ্য' (১৯৫৩): 'সামাজিক কারনেই মানুষ মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়' এ তত্ত্বকে ধারণ করেই তিনি রান করেন এ উপন্যাসটি।

'দিবারাত্রির কাব্য' (১৯৩৫), 'শহরবাসের ইতিকথা (১৯৪৬), 'চিহ্ন' (১৯৪৭), 'চতুষ্কোণ' (১৯৪৮), 'জীয়ন্ত (১৯৫০), 'সোনার চেয়ে দামী' (১৯৫১), 'স্বাধীনতার স্বাদ (১৯৫১), 'ইতিকথার পরের কথা' (১৯৫২), 'হরা (১৯৫৪), 'হলুদ নদী সবুজ বন' (১৯৫৬), 'মাশুল' (১৯৫৬)

'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের পরিচয়:

পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবনকে ভিত্তি করে মামিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন বিখ্যাত উপন্যাস 'পদ্মানদীর মাঝি' (১৯৩৬)। যৌনাকাঙ্ক্ষার সাথে উদরপূর্তির সমসাথ ভিত্তিতে তিনি এ উপন্যাসটি রচনা করেন। উপন্যাসট ১৯৩৪ সাল থেকে সঞ্জয় ভট্টাচার্যের কুমিল্লার 'পূর্বাশ' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। প্রকৃতি ও মানুষের হাতে নির্যাতিত পদ্মা তীরবর্তী কেতুপুর গ্রামের ধীবর সম্প্রদায়ের ছোট ছোট সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, রিরংসা, অসহায়তা ও আত্মরক্ষার তীব্র জৈবিক ইচ্ছার কাহিনি, গরীব মানুষের বেঁচে থাকার আগ্রহ ও সাহস, সেই সাথে হোসেন মিয়াঁ নামক এক রহস্যময় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি এ উপন্যাসটির মূল বিষয়।

মানিকের গল্পগ্রন্থসমূহ:

'অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প' (১৩৩৫ বঙ্গাব্দ), 'প্রাগৈতিহাসিক' (১৯৩৭), ‘মিহি ও মোটা কাহিনী’ (১৯৩৮), 'সরীসৃপ' (১৯৩৯), 'সমুদ্রের স্বাদ' (১৯৪৩), 'বৌ' (১৯৪৩), 'ভেজাল' (১৯৪৪), 'হলুদ পোড়া' (১৯৪৫), 'আজকাল পরশুর গল্প' (১৯৪৬), 'ছোট বকুলপুরের যাত্রী' (১৯৪৯), 'ফেরিওয়ালা' (১৯৫৩)।

মানিকের অন্যান্য রচনাবলি:

গল্প:

'মাসি-পিসি': গল্পটি কলকাতার 'পূর্বাশা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার পিতৃমাতৃহীন এক তরুণীর করুণ জীবনকাহিনি নিয়ে রচিত গল্প। চরিত্র: আহাদি, মাসি, পিসি, জগু, কৈলাশ, রহমান।

'প্রাগৈতিহাসিক' (চরিত্র: ভিখু, পাঁচি), 'আত্মহত্যার অধিকার', 'মমতাদি' (সরীসৃপ), 'তৈলচিত্রের ভূত' (কিশোর গল্প)।

প্রবন্ধ: 'লেখকের কথা' (১৯৫৭)।

নাটক: 'ভিটেমাটি' (১৯৪৬)।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

প্রবোধকুমার মুখোপাধ্যায়
সুবোধকুমার মুখোপাধ্যায়
বরুণকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রদীপকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
মানিক দত্ত
মানিক কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
মানিক সেন.

মালাধর বসু

549

বুদ্ধদেব গুহ (২৯ জুন ১৯৩৬ – ২৯ আগস্ট ২০২১)

পরিচিতি:
বুদ্ধদেব গুহ একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক, মূলত বন, অরণ্য ও প্রকৃতি বিষয়ক রচনার জন্য পরিচিত। তার স্ত্রী ছিলেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়িকা ঋতু গুহ।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন:

  • জন্ম: ২৯ জুন ১৯৩৬, কলকাতা

  • শৈশব: বরিশাল ও রংপুর

  • শিক্ষা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ

কর্মজীবন:

  • পেশা: চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট

  • কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ড ও আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের উপদেষ্টা

  • পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বনবিভাগ ও নন্দন উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য

  • নিজস্ব বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকা, ছবি আঁকা ও রবীন্দ্রসঙ্গীত গান

সাহিত্য ও অবদান:
বুদ্ধদেব গুহ অরণ্যপ্রেমিক ও প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক ছিলেন। তার উপন্যাস ও গল্পে প্রকৃতি, বন এবং মানুষের সম্পর্কের চিত্র উঠে এসেছে।

  • উপন্যাস: বাবলি, মাধুকরী, কোজাগর, হলুদ বসন্ত, একটু উষ্ণতার জন্য, কুমুদিনী, খেলা যখ, ঋজুদা, জঙ্গলমহল, আয়নার সামনে, অভিল্বাহিক, অববাহিকা, অবরোহী, অদ্ভুত লোক, আলোকঝারি, অনুসন্ধান, বাজে চন্দনপুরের কড়চা, বাসনাকুসুম, বাতি ঘর, ছৌ, কুমুদিনী, পাখসাট, গুঞ্জা ফুলের মালা, জগমগি, যাওয়া-আসা ইত্যাদি

  • শিশু সাহিত্য: ঋজুদার সঙ্গে জঙ্গলে (ঋজুদা চরিত্র)

তার গল্প ও উপন্যাস থেকে বহু চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিক নির্মিত হয়েছে, যেমন 'ডিকশনারি'।

পুরস্কার ও সম্মাননা:

  • আনন্দ পুরস্কার, ১৯৭৬ ('হলুদ বসন্ত' জন্য)

  • শিরোমণি পুরস্কার

  • শরৎ পুরস্কার

জীবনাবসান:
২৯ আগস্ট ২০২১, দক্ষিণ কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমে হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যু। মৃত্যুকালে দুই কন্যা রেখে গেছেন।

Content added By

মাহবুব আলম

625
Content added By

মাহবুব উল আলম চৌধুরী

559
Content added By

মাহবুব তালুকদার

650
Content added By

মাহবুবুল হক

600
Content added By

মাহবুব সাদিক

582
Content added By

মাহফুজুর রহমান

590
Content added By

মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা

829
Content added By

মাহমুদুল হক

625

মাহমুদুল হক (১৯৪১-২০০৮)

  • বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান কথাশিল্পী মাহমুদুল হক ১৬ নভেম্বর, ১৯৪১ সালে বারাসাত, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি 'অগ্রগামী' সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
  • তিনি ১৯৭৭ সালে 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' লাভকরেন।
  • তিনি ২১ জুলাই, ২০০৮ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাসসমূহঃ

'জীবন আমার বোন' (১৯৭২): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর ঠিক আগের অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৭মার্চের ঢাকা শহরের সমাজ ও রাজনীতির উত্তেজনা জায়গা করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল কবির খোকার বয়ানের মাধ্যমে। খোকার তিনবোন রঞ্জু, মঞ্জু ও অঞ্জু। বাঞ্ছারামপুরে মামারবাড়ির পুকুরে ডুবে মৃত্যু ঘটে অঞ্জু ও মঞ্জুর। আত্মমগ্ন, বেখেয়ালি ও বোহেমিয়াম খোকাকে ভালোবাসায় আগলে রাখে ছোটবোন রঞ্জু। খোকা একমাত্র বোন রঞ্জুর জন্যই বেঁচে থাকতে চায়। নীলাভাবি চরিত্রটি খোকার কামের বস্তু ব্যতীত আর কোনোভাবেই উপন্যাসে প্রতিভাত হয়নি। ঔপন্যাসিকের মতে, 'নীলাভাবির শরীরই পৃথিবীতে খোকার কাছে সবচেয়ে লোভনীয় বস্তু।' খোকার প্রণয়প্রার্থী খালাত বোন বেলী, লুলু চৌধুরী, রাজীব, মুরাদ এ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র।

'অনুর পাঠশালা' (১৯৬৭): এটি সামাজিক বিভাজন কেন্দ্রীক উপন্যাস। চরিত্র: অনু ও সরদাসী।

'কালো বরফ' (১৯৭৭): এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত। উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে। চরিত্র: আব্দুল খালেক।

'খেলাঘর' (১৯৮৮): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব। ২০০৬ সালে উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ন করা হয়।

'নিরাপদ তন্দ্রা' (১৯৬৮), 'অশরীরী' (১৯৭৯), 'চিক্কোর কাবুক' (শিশুতোষ উপন্যাস, ১৯৭৯), 'পাতালপুরী' (১৯৮১), 'মাটির জাহাজ' (১৯৭৭)।

মাহমুদুল হক রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মঃ

গল্পগ্রন্থ:

'প্রতিদিন একটি রুমাল' (১৯৯৪), 'মানুষ মানুষ খেলা' (২০০৯), 'পদ্য লেখার জোরে' (ছোটগল্প)।

অনুবাদগ্রন্থ:

'শ্বাপদ' (১৯৭০), 'যুদ্ধ যখন শেষ হলো' (১৯৭২)।

প্রবন্ধ:

'বিড়ালের মামী', 'ভয়াবহ কবরখানা', 'মোহিনী হীরকের কাহিনী', 'কি লিখবে'।

Content added By

মাহাবুব উল আলম

640
Content added By

মিন্নাত আলী

575
Content added By

মিরজা আবদুল হাই

638
Content added By

মিহির সেনগুপ্ত

683
Content added By

মীর মশাররফ হোসেন

660

মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১১)

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম উল্লেখযোগ্য মুসলিম সাহিত্যিক বা গদ্য লেখক, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন। তিনি কাব্য, নাটক, প্রহসন, উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনা করে আধুনিক বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত সমৃদ্ধ ধারা প্রবর্তন করেন। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সমন্বয়ধর্মী ধারার প্রবর্তক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

  • মীর মশাররফ হোসেন ১৩ নভেম্বর, ১৮৪৭ সালে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • ছদ্মনাম গাজী মিয়া।
    তাঁর সাহিত্য গুরু কাঙাল হরিনাথ।
  • ১৯ মে, ১৮৬৫ সালে মশাররফ হোসেনের সাথে নাদির হোসেনের সুন্দরী কন্যা লতিফননেসার বিবাহ স্থির হয়। কিন্তু বিয়ের রাতে নাদির হোসেন কর্তৃক কন্যা বদল করে ডা কুরূপা ও বুদ্ধিহীনা কন্যা আজিজননেসার সাথে মশাররণে বিবাহ সম্পন্ন হয়। তাই দাম্পত্য জীবনে তিনি সুখী হননি ফলে তিনি বিবি কুলসুমকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।
  • তিনি কলকাতার 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' (১৮৬৩) পত্রিকায় সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতেন।
  • তিনি 'আজিজননেহার' (১৮৭৪) ও 'হিতকরী' (১৮৯০) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
  • তিনি ১৯ ডিসেম্বর, ১৯১১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (১৯১৮-উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা), (১৯১২- বাংলা একাডেনি চরিতাভিধান)

মীর মশাররফের উপন্যাসসমূহ:

'রত্নবর্তী' (১৮৬৯): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস।

'বিষাদসিন্ধু' (১৮৮৫-৯১): এটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস যা তিন খণ্ডে বিভক্ত। যথা: মহররম পর্ব, উদ্ধার পর্ব, এজিদবধ পর্ব। এতে উপসংহারসহ ৬৩টি অধ্যায় রয়েছে। এটি ইতিহাস, উপন্যাস, সৃষ্টিধর্মী রচনা ও নাটক ইত্যাদি সাহিত্যের বিবিধ সংমিশ্রণে রোমান্টিক আবেগ মাখানো এক মহাকাব্যিক উপন্যাস। হিজরি ৬১ সালের মহররম মাসে ইসলামের সর্বশেষ নবী হযরত মুহম্মদ (স.) এর দৌহিত্র ইমাম হাসান ও হোসেনের সাথে উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালার প্রান্তরে যুদ্ধ এর বিষয়বস্তু। এ উপন্যাসের একটি অংশ 'কারবালার প্রান্তর'।

'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০): এটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। তিনি এটি 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে রচনা করেন। এর প্রথম খণ্ডে আছে নীলকর কেনির অত্যাচার ও কৃষক ভূস্বামীদের প্রতিরোধের মুখে মি. কেনির শোচনীয় পরাজয় এবং দ্বিতীয় খণ্ডে আছে ঔপন্যাসিকের ব্যক্তি জীবনের আলেখ্য।

'তাহমিনা' (১৮৯৭)।

রত্নবর্তী (উপন্যাস)মীর মশাররফ হোসেন
রত্নাবলী (নাটক)রামনারায়ণ তর্করত্ন
রত্নদ্বীপ (উপন্যাস)প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
রত্নপরীক্ষা (গদ্যগ্রন্থ)ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

মীর মশাররফের নাটকসমূহ:

'বসন্তকুমারী' (১৮৭৩): এটি বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম নাটক। বৃদ্ধ রাজা বীরেন্দ্র সিংহের যুবতী স্ত্রী। রেবতী সপত্নী পুত্র নরেন্দ্র সিংহকে প্রেম নিবেদন করে প্রত্যাখাত হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে। পরিণামে সমগ্র রার্ড পরিবারটি ধ্বংস হয়ে যায় অর্ধাৎ সকলের মৃত্যু ঘটে- এটিই এ নাটকের মূল বিষয়। মশাররফ এটি নওয়াব আব্দুল লতিফ কে উৎসর্গ করেন।

'বেহুলা গীতাভিনয়' (১৮৮৯): গদ্যে-পদ্যে রচিত এ নাটকে ইংরেজ শাসকদের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করে তাদের প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

'জমীদার দর্পণ' (১৮৭৩), 'নিয়তি কি অবনতি' (১৮৮৯) 'টালা অভিনয়' (১৮৯৭)।

'এ নাটকের কিছুই সাজানো নয়, প্রচলিত সমাজের অবিকল ছবি' তুলে ধরা হয়েছে। অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি এর মূল বিষয়।

মীর মশাররফের আত্মজীবনীসমূহঃ

'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' (১৮৯৯): এটি আত্মজীবনীমূলক ব্যঙ্গাত্মক রচনা। লেখক 'ভেড়াকান্ত' ছদ্মনামে ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অনাচার, অন্যায়, সামাজিক দুর্নীতি এবং এ সমাজভুক্ত মানুষের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণের চিত্রই এখানে চিত্রিত করেছেন।

'আমার জীবনী' (১৯১০): লেখকের আঠারো বছরের জীবন কাহিনি এতে অন্তর্ভুক্ত।

'কুলসুম জীবনী' (১৯১০): এটি লেখকের দ্বিতীয় স্ত্রী কুলসুমকে কেন্দ্র করে লিখিত।

মীর মশাররফের প্রহসনসমূহ:

'এর উপায় কি' (১৮৭৫): বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম প্রহসন। উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হয়েছিল, তারই চিত্র এ প্রহসন।

'ভাই ভাই এইতো চাই' (১৮৯৯), 'ফাঁস কাগজ' (১৮৯৯), 'বাঁধা খাতা' (১৮৯৯)।

মীর মশাররফের কাব্যসমূহ:

'গোরাই ব্রীজ বা গৌরী সেতু' (১৮৭৩), 'পঞ্চনারী' (১৮৯৯), 'প্রেম পারিজাত' (১৮৯৯), 'মদিনার গৌরব' (১৯০৬), 'মোসলেম বীরত্ব' (১৯০৭), 'বাজীমাৎ' (১৯০৮)।

মীর মশাররফের গানের সংকলনের নাম 'সংগীত লহরী' (১৮৭৭)।

মীর মশাররফের প্রবন্ধ:

'গো-জীবন' (১৮৮৯): কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে যে কোনো কারণেই হোক গো-হত্যা অনুচিত। হিন্দু-মুসলিম এই দুই ধর্মের অনুসারীদের একত্র করার প্রয়াসে তিনি এটি রচনা করেন। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে মামলায় জড়িয়ে পড়তে হয়। 'এসলামের জয়' (১৯০৮)।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী
মীর মশাররফ হোসেনের জীবনী
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী
কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী

মুকুন্দ দাস

741

মুকুন্দদাস (১৮৭৮–১৯৩৪)

পরিচিতি:
মুকুন্দদাস একজন প্রখ্যাত চারণকবি। তিনি ঢাকার বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর। রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকটে দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস। এরপর গুরুপ্রদত্ত এ নামেই তিনি সর্বসাধারণের কাছে পরিচিত হন।

জন্ম ও পরিবার:
মুকুন্দদাসের পিতামহ ছিলেন একজন মাঝি। তাঁর পিতা গুরুদয়াল বরিশালে ডেপুটি আদালতে আরদালির কাজ করতেন। এই কারণে পরিবার বরিশালে স্থায়ী হন।

শিক্ষা:
মুকুন্দদাস বরিশাল জেলা স্কুল ও ব্রজমোহন স্কুলে এন্ট্রান্স পর্যন্ত পড়াশোনা করেন, কিন্তু চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি।

সাহিত্য ও কর্মজীবন:
উনিশ বছর বয়সে বীরেশ্বর গুপ্তের কীর্তন শুনে তিনি কীর্তনদলে যোগ দেন। পরে নিজেই একটি দল গঠন করে সঙ্গীতচর্চায় মনোনিবেশ করেন।

বরিশালে চলমান ব্রিটিশবিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সময়, কংগ্রেসনেতা অশ্বিনী কুমার দত্তের নিকটে স্বদেশী মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে তিনি দেশাত্মবোধক গান ও যাত্রাপালা রচনা ও পরিবেশন করতে থাকেন।

  • তাঁর গান বরিশাল হিতৈষী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

  • ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয় গানসংকলন মাতৃপূজা

ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদমূলক গানে (‘ছিল ধান গোলা ভরা/ শ্বেত ইঁদুরে করল সারা’) তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন বছর কারাদণ্ড ভোগের পর জরিমানা দিয়ে মুক্ত হন।

মুকুন্দদাস ১৯২২ সালের অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনে দেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা রচনা ও পরিবেশন করে জনসাধারণকে উদ্দীপিত করেন।

সৃষ্টিকর্ম:
সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। কিছু গ্রন্থ তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়, বাকিগুলি মৃত্যুর পরে।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি:
মুকুন্দদাস সারাজীবন সাতশত মেডেল ও বহু পুরস্কার লাভ করেন। তবে ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয়।

Content added By

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

727

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি। তিনি মূলত চন্ডীমঙ্গল রচনার জন্য পরিচিত। তার পৈতৃক নিবাস পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার দামুন্যা গ্রাম। পিতা ছিলেন হূদয় মিশ্র এবং মাতা দৈবকী।

জন্ম ও পরিবার:
মুকুন্দরামের পরিবার বর্ধমান জেলার দামুন্যায় বসবাস করত। তার পূর্বপুরুষ মাধব ওঝাকে দেবতা শিবের উপাসনার তীর্থস্থলে জমি-জমার দেখাশোনার জন্য নিযুক্ত করা হয়। মুকুন্দরাম জগন্নাথ মহামিশ্রের সন্তান ও গুণরাজ মিশ্রের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন। পরিবার কৃষি নির্ভর ব্রাহ্মণ পরিবার।

জীবনপথ ও দুর্গতি:
রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে মুকুন্দরাম, তার পরিবার ও সহকর্মীরা গ্রাম ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। অস্থায়ীভাবে বালিয়া গ্রামে বসবাসের পর দেবী চন্ডী স্বপ্নে তাকে পাঁচালি রচনা করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আড়রা গ্রামে যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতায় চন্ডীমঙ্গল রচনা করেন। তাঁর সাহিত্যের জন্য তাকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

সাহিত্যকর্ম:
মুকুন্দরামের প্রধান সৃষ্টি হলো চন্ডীমঙ্গল, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে একটি অনন্য সৃষ্টি। কাব্যটি তিনটি অংশে বিভক্ত:

  1. দেবী চন্ডী ও পৌরাণিক কাহিনী

  2. শিকারী কালকেতু ও তার স্ত্রী ফুল্লরার জীবন

  3. পদ্মফুলের উপবেশনরত দেবতার শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী সাগরে আবির্ভাব এবং বণিকদের ব্যবসা

কাব্যে সমকালীন সমাজ, দরিদ্র ও ধনী উভয় শ্রেণীর জীবন এবং যৌথ পরিবারের সমস্যাগুলো বাস্তবতার সঙ্গে ফুটে উঠেছে। মুকুন্দরামের সাহিত্য দুঃখবাদের সঙ্গে আশাবাদের মিশ্রণ ঘটিয়েছে।

অর্জন ও স্বীকৃতি:

  • চন্ডীমঙ্গল কাব্যটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ ও অভিনব রচনা হিসেবে বিবেচিত।

  • মুকুন্দরামের চরিত্র ও রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য এবং সমাজ জীবনের সমন্বিত চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।

গবেষণামূলক তথ্য:

  • চৌদ্দ শতকের পূর্বে বাংলার নিম্নবর্গের মানুষ হিন্দু বা মুসলিম ধর্ম অনুসারী ছিল না।

  • এই সমাজের দরিদ্র ব্রাহ্মণরা পাঁচালির প্রধান রচয়িতা ও ধর্মান্তরের মাধ্যমে সমাজে স্থান পেয়েছিলেন।

  • মুকুন্দরামের চন্ডীমঙ্গল এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

Content added By

মুনতাসীর মামুন

608
Content added By

মুন্সী রইসউদ্দীন

556
Content added By

মুনির চৌধুরী

887
মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১)

বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, অসাধারণ বক্তা, সৃজনশীল নাট্যকার, তীক্ষ্ণধী সমালোচক ও সফল অনুবাদক মুনীর চৌধুরী। সাহিত্য, ধ্বনিতত্ত্বের গবেষণা ও তুলনামূলক সমালোচনায় তিনি রেখে গেছেন অনন্য পাণ্ডিত্য ও উৎকর্ষের ছাপ। তিনি বাংলাদেশের আধুনিক নাটক ও নাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ।

  • মুনীর চৌধুরী ২৭ নভেম্বর, ১৯২৫ সালে মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার গোপাইরবাগ গ্রামে।
  • পুরো নাম আবু নায়ীম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী তার ভাই এবং ফেরদৌসী মজুমদার তার বোন।
  • ২২ জুন, ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও বেতারমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন জাতীয় পরিষদে এক বিবৃতিতে রেডিও ও টেলিভিশন থেকে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে সে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেন।
  • ১৯৬৮ সালে বাংলা বর্ণমালা সংস্কার পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন।
  • তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২), দাউদ পুরস্কার (১৯৬৫) পান। তিনি ১৯৬৬ সালে 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' খেতাব লাভ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৭১ এর মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক আহূত অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে এ খেতাব বর্জন করেন।
  • ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে স্বাধীনতাবিরোধী আলবদর বাহিনী তাঁকে ধরে নিয়ে যায় এবং আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রথম বাংলা টাইপ রাইটার নির্মাণ করেন মুনীর চৌধুরী। এটি 'মুনীর অপটিমা' নামে পরিচিত। ১৯৬৫ সালে এটি উদ্ভাবন করেন।

তাঁর রচিত নাটকগুলোঃ

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ (১৯৬২): এটি তাঁর রচিত প্রথম নাটক। ১৭৬১ সালের পানিপথের ৩য় যুদ্ধের কাহিনি এর উপজীব্য। নাট্যকার ইতিহাস থেকে এর কাহিনি গ্রহণ করেননি, কায়কোবাদ রচিত ‘মহাশ্মশান’ থেকে এর কাহিনি গ্রহণ করেছেন। এই নাটকটির জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। চরিত্র: জোহরা, ইব্রাহীম কার্দি।

‘কবর' (১৯৬৬): এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত। মুনীর চৌধুরী ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার কারণে ১৯৫২-৫৪ সাল পর্যন্ত কারাভোগ করেন। বামপন্থী লেখক রণেশ দাশগুপ্তের অনুরোধে মুনীর চৌধুরী এ নাটকটি ১৯৫৩ সালের ১৭ জানুয়ারি কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় রচনা করেন। ১৯৫৩ সালে কারাগারেই ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় ফণী চক্রবর্তীর নির্দেশনায় রাজবন্দীদের দ্বারা এটি প্রথম মঞ্চায়ন করা হয় কারাভ্যন্তরেই। এটি একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম নাটক। ১৯৫৬ সালে প্রথম প্রকাশ্যে নাটকটি মঞ্চস্থ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি সংসদের একুশ উদযাপন উপলক্ষে । ১৯৫৫ সালের আগস্ট মাসে ‘দৈনিক সংবাদ' পত্রিকার ‘আজাদী সংখ্যায় প্রথম ছাপা হয়। পরবর্তীতে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনের দ্বিতীয় সংস্করণে নাটকটি পুনর্মুদ্রিত হয়।

'মানুষ' (১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে রচিত। নাট্যকার এখানে ধর্মের ঊর্ধ্বে মানবিকতাকে স্থান দিয়েছেন।

‘নষ্ট ছেলে' (১৯৫০): এটি রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক ।

‘দণ্ডকারণ্য' (১৯৬৬): এতে তিনটি নাটক আছে। যথা: দণ্ড,দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য।

‘রাজার জন্মদিন' (১৯৪৬), 'চিঠি' (১৯৬৬), “পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য' (১৯৬৯)।

তাঁর অনূদিত নাটকগুলো:

‘কেউ কিছু বলতে পারে না' (১৯৬৭): এটি জর্জ বার্নাড শ'র You never can tell এর অনুবাদ ।

‘রূপার কৌটা' (১৯৬৯): এটি গলস ওয়ার্দির The Silver Box থেকে অনূদিত ।

‘মুখরা রমণী বশীকরণ' (১৯৭০): এটি শেক্সপিয়রের Taming of the Shrew এর অনুবাদ ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগুলো:

‘মীর মানস' (১৯৬৫): এর জন্য তিনি ১৯৬৫ সালে দাউদ পুরস্কার লাভ করেন।

‘তুলনামূলক সমালোচনা' (১৯৬৯), ‘বাংলা গদ্যরীতি' (১৯৭০)।’

Content added By
Content updated By

মুশাররাফ করিম

601
Content added By
Content updated By

মুস্তফা নুরুল ইসলাম

619
Content added By
Content updated By

মুহাম্মদ আবদুর রশিদ সিদ্দিকী

653
Content added By
Content updated By

মুহম্মদ আবদুল হাই

712

মুহম্মদ আবদুল হাই (১৯১৯-১৯৬৯)

বাংলা ভাষার অন্যতম ধ্বনিবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক আবদুল হাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বাংলা বিভাগের প্রথম মুসলিম ছাত্র। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর শাসকশ্রেণীর বিরূপ মনোভাবের কারণে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সঙ্কটের মধ্যে পড়ে। আরবি হরফে বাংলা লেখন, আরবি-ফারসি-উর্দু শব্দের অধিক প্রয়োগ, বাংলা সাহিত্য থেকে 'হিন্দুয়ানী' বিষয় বর্জন, ১৯৬৭ সালে রেডিও, টেলিভিশনে রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রচার বন্ধ, এমনকি কাজী নজরুল ইসলামের শ্যামা সঙ্গীত প্রচাররোধ ইত্যাদি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড শুরু হয়। আবদুল হাই পেশাগত দায়িত্ব ও নৈতিক অঙ্গীকার থেকে এসকল প্রতিরোধ করার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই ছিলেন প্রথম মুসলিম ছাত্র আবদুল হাই ২৬ নভেম্বর, ১৯১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রানিনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

  • তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত 'সাহিত্য পত্রিকা' (১৯৫৬) এর সম্পাদক ছিলেন।
  • তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ধ্বনিবিজ্ঞান' (১৯৫২) নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল: A Study of Nasal and Nasalization in Bengali.
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬১) পান।
  • তিনি ৩ জুন, ১৯৬৯ সালে মালিবাগে রেল ক্রসিং এ কাটা পরে মারা যান।

তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থসমূহঃ

'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (১৯৬৮): এ গ্রন্থ তিনি সৈয়দ আলী আহসান সহযোগে রচনা করেন।

'সাহিত্য ও সংস্কৃতি' (১৯৫৪), 'তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা' (১৯৫৯), 'ভাষা ও সাহিত্য' (১৯৬০), 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' (১৯৬৪)।

তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি গ্রন্থের নাম 'বিলাতে সাড়ে সাত'শ দিন' (১৯৫৮)। এ ভ্রমণকাহিনির অংশবিশেষ 'বিলাতের প্রকৃতি'।

Content added By

মুহম্মদ আসাদ্দর আলী

578
Content added By

মুহম্মদ এনামুল হক

638

মুহম্মদ এনামুল হক (১৯০২-১৯৮২)

প্রখ্যাত গবেষক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ এনামুল হক বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম পণ্ডিত ব্যক্তি। তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য সত্যানুসন্ধান ও বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা। তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের লুপ্তপ্রায় পাণ্ডুলিপির সন্ধান দেন। ১৯৪৭ সালে নভেম্বর মাসে 'পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার পরিপ্রেক্ষিতে উর্দু ও বাংলা' নামক প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, 'বাংলাকে ছাড়িয়া উর্দুকে রাষ্ট্রভাষারূপে পূর্ব পাকিস্তানবাসী গ্রহণ করিলে, তাহাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মৃত্যু অনিবার্য।'

  • মুহম্মদ এনামুল হক ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯০২ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বখতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনিই সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি' অভিধা প্রদান করেছিলেন।
  • তিনি ১৯৫৬ সালের ডিসেম্বরে নবগঠিত 'বাংলা একাডেমি'র প্রথম পরিচালক ছিলেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন (১৯৭৫-৭৬)।
  • তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৪), একুশে পদক (১৯৭৯) পান। [বাংলা একাডেমি তাঁর নামে 'মুহম্মদ এনামুল হক সাহিত্য পদক' চালু করে।]
  • তিনি ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ সালে ঢাকার পিজি হাসপাতালে মারা যান।

তাঁর সাহিত্যকর্মসমূহ:

প্রবন্ধ: 'আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯৩৫)- এটি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সহযোগে রচনা করেন।

'বঙ্গে সুফী প্রভাব' (১৯৩৫), 'বাঙলা ভাষার সংস্কার' (১৯৪৪), 'ব্যাকরণ মঞ্জরী' (১৯৫২), 'মুসলিম বাঙালা সাহিত্য' (১৯৫৭), 'বাংলাদেশের ব্যবহারিক অভিধান' (১৯৭৪), 'মনীষা মঞ্জুষা' (১ম খণ্ড- ১৯৭৫, ২য় খণ্ড-১৯৭৬)।

ভ্রমণকাহিনি : 'বুলগেরিয়া ভ্রমণ' (১৯৭৮)।

গীতি সংকলন : 'আবাহন' (১৯২০-২১)।

কবিতা সংকলন: 'ঝর্ণাধারা' (১৯২৮)।

Content added By

মুহম্মদ কবির

559
Content added By

মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা

584

মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা একজন বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও লেখক। তিনি জৈব রসায়ন, বিজ্ঞানচর্চা ও প্রযুক্তি শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। জন্ম বীরভূম জেলার মাড়গ্রামে।

শিক্ষা:

  • প্রাথমিক: মাড়গ্রাম এম.ই. স্কুল ও উডবার্ন স্কুল, কলকাতা

  • ১৯১৮: কলকাতা মাদ্রাসা, ম্যাট্রিক (প্রথম বিভাগ)

  • ১৯২৪: প্রেসিডেন্সি কলেজ, এম.এসসি (রসায়ন), স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত

  • ১৯২৯: লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়, ডি.এসসি (Stainless Configuration of Multiplanmet Ring)

কর্মজীবন:

  • ১৯৩১: প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়নের প্রভাষক

  • ১৯৩৬: বিভাগীয় প্রধান

  • ১৯৪২–১৯৪৪: ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ

  • ১৯৪৭–১৯৪৯: পূর্ব পাকিস্তান সরকারের জনশিক্ষা পরিচালক

  • ১৯৪৯: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞান উপদেষ্টা

  • ১৯৫২–১৯৫৫: মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান

  • ১৯৫৫: পূর্বাঞ্চলীয় গবেষণাগারের প্রথম পরিচালক (ঢাকা)

  • ১৯৬৬: কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান

  • ১৯৭২: জাতীয় শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট)

  • ১৯৭৫: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর

গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অবদান:

  • প্রধান গবেষণা ক্ষেত্র: জৈব রসায়ন

  • বনৌষধি, পাট, লবণ, কাঠকয়লা, মৃত্তিকা ও খনিজ পদার্থের উপর গবেষণা

  • স্থানীয় উদ্ভিদ থেকে ঔষধ ও জৈব রাসায়নিক উপাদান নিষ্কাশন

  • ১৮টি বৈজ্ঞানিক পেটেন্ট আবিষ্কার

  • উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন: পারটেক্স (পাটকাঠি থেকে), আখের রস ও গুড় থেকে মল্ট ভিনেগার, পাট ও পাটকাঠি থেকে রেয়ন ও কাগজ

বিজ্ঞান ও শিক্ষা সম্প্রসারণ:

  • বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা জনপ্রিয়করণে অবদান

  • বাংলা বই: বিজ্ঞানের সরস কাহিনী, জৈব রসায়ন (চার খণ্ড), বিজ্ঞানের সূচনা, পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প সম্ভাবনা, পরমাণু পরিচিতি ইত্যাদি

  • প্রকাশিত পত্রিকা: পুরোগামী বিজ্ঞান (১৯৬৩), বিজ্ঞানের জয়যাত্রা (১৯৭২)

স্বাধীনতা ও জাতীয় অবদান:

  • স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা

  • বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে অবদান

সম্মাননা ও পুরস্কার:

  • পাকিস্তান সরকার: তমঘা-ই-পাকিস্তান, সিতারা-ই-ইমতিয়াজ

  • বাংলাদেশ সরকার: একুশে পদক (১৯৭৬), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৮৪)

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: সম্মানসূচক ডক্টরেট

জীবনাবসান:

  • মৃত্যু: ৩ নভেম্বর ১৯৭৭, ঢাকা

Content added By

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

610

জাফর ইকবাল (১৯৫২- )

বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক ও কলাম লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এবং রম্য ম্যাগাজিন 'উম্মাদ' এর সম্পাদক ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবের সহোদর। তিনি সুদীর্ঘ ১৮বছর ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং বেল কমিউনিকেশন্সে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করে ১৯৯৪ সালে দেশে ফিরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি তড়িৎ কৌশল বিভাগের প্রধান।

  • ড. জাফর ইকবাল ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৫২ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর বাবা শহীদ ফয়জুর রহমান ও মা আয়েশা খাতুন।
  • তিনি বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি লেখা ও জনপ্রিয়করণের পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত।
  • তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (২০০৪) পান।

তাঁর প্রকাশিত প্রথম সায়েন্স ফিকশন গল্পের নাম:

তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্মসমূহ:

গল্পগ্রন্থ: 'একজন দুর্বল মানুষ' (১৯৯২), 'ছেলেমানুষী' (১৯৯৩), 'মধ্যরাত্রিতে তিন দূর্ভাগা তরুণ' (২০০৪)।

উপন্যাস: 'আকাশ বাড়িয়ে দাও' (১৯৮৭), 'বিবর্ণ তুষার' (১৯৯৩), 'দুঃস্বপ্নের দ্বিতীয় প্রহর' (১৯৯৪), 'মহব্বত আলীর একদিন' (২০০৬)।

বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ :

'জলজ' (২০০০): ৫টি গল্পের সমন্বয়ে রচিত এ গ্রন্থের অন্যতম গল্প 'মহাজাগতিক কিউরেটর'।

‘কপোট্রনিক সুখ দুঃখ' (১৯৭৬), ‘মহাকাশে মহাত্রাস' (১৯৭৭), ‘ক্রুগো' (১৯৮৮), 'বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা আবিষ্কার' (১৯৯২), 'নিঃসঙ্গ গ্রহচারী' (১৯৯৪), নগ্ন নগ্ন তিন শূন্য তিন (১৯৯৬), অতিমানবী' (১৯৯৮), ফিনিক্স' (২০০০), ‘অবনীল’ (২০০৪), জলমানব (২০০৭), অক্টোপাসের চোখ (২০০৯), 'প্রডিজি' (২০১১), ব্লাকহোলের বাচ্চা (২০১০)।

শিশুতোষ গ্রন্থ :

সাগরের যত খেলনা (২০০২), রতন ' (২০০৮), ‘ ঘাসফড়িং (২০০৮), 'ভূতের বাচ্চা কটকটি' (২০০১)।

কিশোর সাহিত্য:

“হাতকাটা রবিন' (১৯৭৬), দীপু নাম্বার টু (উপন্যাস) (১৯৮৪): (এ উপন্যাস অবস্থানে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়), আমার বন্ধু রাশেদ (১৯৯৪): (এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়), 'বুবনের বাবা' (১৯৯৮), 'কাজলের দিনরাত্রি (২০০২), নাট বল্টু (২০০৮), ' রাশা (২০১০), ' ইস্টিশন' (২০১৩)

ভ্রমণকাহিনিঃ

'আমেরিকা' (১৯৯৭), “তোমাদের প্রশ্ন আমার উত্তর' (২০০৪), 'রঙিন চশমা' (২০০৭)

বিজ্ঞান বিষয়ক রচনা:

'দেখা আলো না দেখা রূপ (১৯৮৬), "নিউরণে অনুরণন' (২০০২), আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড : প্রশ্ন ও উত্তর" , "থিউরী অফ রিলেটিভিট “

কলাম সংকলন:

‘সাদাসিদে কথা' (১৯৯৫- চলমান)।

ভৌতিক রচনা:

‘প্রেত' (১৯৮৩), ‘পিশাচিনী' (১৯৯২), ‘নিশিকন্যা' (২০০৩), ‘ছায়ালীন’ (২০০৬), ‘দানব’ (২০০৯)

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রচনা: 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস' (২০০৯), 'ছোটদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস'।

Content added By

মুহম্মদ নুরুল হুদা

652
Content added By

মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন

580
Content added By

মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক

683
Content added By

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

579

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন একাধারে বহুভাষাবিদ, পণ্ডিত, সাহিত্যিক, ধর্মবেত্তা ও শিক্ষাবিদ। বাংলা সাহিত্য সম্পর্কিত গবেষণার জন্য তাঁর নাম এদেশের সাহিত্যের ইতিহাসে অত্যুজ্জ্বল হয়ে আছে। সে জন্য তাঁকে 'জ্ঞানতাপস' অভিধায় অভিহিত করা হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রভাষা বিতর্ক শুরু হলে তিনি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে জোরালো মত দেন। মধ্যজীবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ভাষাতত্ত্বচর্চা বাদ দিয়ে ইসলাম চর্চা ও তা প্রসারে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।

  • ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১০ জুলাই, ১৮৮৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আকিকাকৃত নাম মুহম্মদ ইব্রাহিম। পরবর্তীতে তাঁর মা হুরুন্নেসা সে নাম পরিবর্তন করে রাখেন মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
  • বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও কার্টুনিস্ট মর্তুজা বশীর (১৯৩২-২০২০) তার ছেলে।
  • তিনি 'আঙুর' (১৯২০- শিশু পত্রিকা), 'দি পিস' (১৯২৩-ইংরেজি মাসিক পত্রিকা), 'বঙ্গভূমিক' (১৯৩৭- মাসিক সাহিত্য পত্রিকা), 'তকবীর' (১৯৪৭- পাক্ষিক পত্রিকা) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন এবং 'আল এসলাম' (১৯১৫) পত্রিকার সহসম্পাদক ছিলেন।
  • তিনি ১৯ জানুয়ারি, ১৯২৬ সালে ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কর্তৃক আয়োজিত প্রতিষ্ঠা সভার সভাপতি ছিলেন।
  • তিনি মোট ২৬টি ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন, এর মধ্যে ১৮টি ভাষায় ছিল তার অগাধ পাণ্ডিত্য।
  • তিনি ১ জুলাই, ১৯৬০ সালে 'পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান' প্রকল্পের সম্পাদক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৩ সালে 'পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান' এর কাজ সম্পন্ন করেন।
  • তিনি ১ জুলাই, ১৯৬০ সালে 'পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান' প্রকল্পের সম্পাদক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৩ সালে 'পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান' এর কাজ সম্পন্ন করেন।
  • তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম 'ইমেরিটাস অধ্যাপক' পদ লাভ করেন।
  • তিনি ১৩ জুলাই, ১৯৬৯ সালে মারা যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়। ঐ বছরই 'ঢাকা হল' এর নাম পরিবর্তন করে 'শহীদুল্লাহ হল' নাম রাখা হয়।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কর্মজীবনঃ

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ২ জুন, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র (৪ সেপ্টেম্বর, ১৯১১) সম্পাদক (১৯১১-১৫)। ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমি কর্তৃক 'বাংলা পঞ্জিকা তারিখ বিন্যাস' কমিটির সভাপতি, বাংলা একাডেমি'র ইসলামি বিশ্বকোষ প্রকল্পের (১৯৬৪) সম্পাদক এবং পাকিস্তান এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ ও অধ্যাপক আবুল কাশেম সহযোগে মিরপুর বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৪৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংল বিভাগের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন এবং কলা অনুষদের ডিন ছিলেন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর গবেষণামূলক গ্রন্থগুলোঃ

'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' (১৯৬৫): এটি বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত। এটি বাংলা ভাষার প্রথম আঞ্চলিক অভিধান। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ।

Buddhist Mystic Songs (১৯৬০): এটি ‘চর্যাপদ’ বিষয়ক গবেষণা গ্রন্থ।

'সিদ্ধা কানুপার গীত ও দোহা' (১৯২৬), 'ভাষা ও সাহিয়া (১৯৩১), 'বাংলা সাহিত্যের কথা' (১ম খণ্ড- ১৯৫৩, স খণ্ড- ১৯৬৫), 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' (১৯৩৬), 'বৌদ্ধ মর্মবানী গান' (১৯৬০), 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৬৫)।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সাহিত্যকর্মসমূহঃ

'পল্লিসাহিত্য': ১৯৩৮ সালে কিশোরগঞ্জ জেলায় পুর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী'র একাদশ অধিবেশন সভাপতি হিসেবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ যে অভিভাষণ দেন তারই লিখিত রূপ প্রবন্ধটি।

'Traditional Culture in East Pakistan': ১৯৬৩ সালে তিনি এটি মুহম্মদ আবদুল হাই সহযোগে রচনা করেন 'ইকবাল' (১৯৪৫), 'Essays on Islam' (১৯৫ 'আমাদের সমস্যা' (১৯৪৯), 'বাংলা আদব কি ভারিন (১৯৫৭)।

অনুবাদ গ্রন্থ: 'দীওয়ানে হাফিজ' (১৯৩৮), 'মহানবী (১৯৪০) 'অমিয়শতক' (১৯৪০), 'বাণী শিকওয়াহ' (১৯৪২), জাওয়াব-ই-শিকওয়া' (১৯৪২), 'রুবাইয়াত-ই-ওমর খ্যায়াম' (১৯৮২) 'বাইঅতনামা' (১৯৪৮), 'বিদ্যাপতি শতক' (১৯০৪/'কুরআন প্রসঙ্গ' (১৯৬২), 'মহররম শরীফ' (১৯৮২) 'অমর কাব্য' (১৯৬৩), 'ইসলাম প্রসঙ্গ' (১৯৬৩)।

সম্পাদিত গ্রন্থ: 'পদ্মাবতী' (১৯৫০), 'প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শের নবী' (১৯৫২)।

গল্পগ্রন্থ: 'রকমারি' (১৯৩১)।

গল্প: 'সততার পুরস্কার'।

শিশুতোষ গ্রন্থ: 'ছোটদের রসুলুল্লাহ' (১৯৬২), 'সেকালের রূপকথা (১৯৬৫), 'শেষ নবীর সন্ধানে'।

বিখ্যাত উক্তি: ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোন আদর্শের কথা নয়, এটি বাস্তব কথা।’

'যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সে দেশে গুণীজন জন্মাতে পারে না।'

Content added By

মুহাম্মদ আকরাম খাঁ

649

মোহাম্মদ আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮)

মোহাম্মদ আকরম খাঁ ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ। অনগ্রসর মুসলমান সমাজের নবজাগরণের উদ্যোগ তাঁর প্রবন্ধ সাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রবীন্দ্র বিতর্কে তিনি ছিলেন পাকিস্তানের পক্ষে। মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।

  • মোহাম্মদ আকরম খাঁ ৭ জুন, ১৮৬৮ সালে হাকিমপুর, চব্বিশ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
  • কলকাতা থেকে মাসিক 'মোহাম্মদী' (১৯০৩) পত্রিকা সম্পাদনা করেন। এ পত্রিকাটি ১৯০৮ সালে সাপ্তাহিকে পরিণত হয় এবং ১৯২১ সালে দৈনিকে রূপান্তরিত হয়। ১৯২৭ সালের ৬ নভেম্বরে দ্বিতীয় পর্যায়ে সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'মোহাম্মদী' প্রকাশ করেন।
  • ১৯১৩ সালে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান 'আঞ্জুমানে ওলামা' গঠন করেন। এর মুখপত্র ছিল মাসিক 'আল এসলাম' (১৯১৫) পত্রিকা ।
  • তিনি 'দৈনিক জামানা' (১৯২০) ও 'দৈনিক সেবক' (১৯২১) পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 'দৈনিক সেবক' পত্রিকায় 'অগ্রসর' শিরোনামে অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে সম্পাদকীয় লেখার জন্য এক বছরের কারাদণ্ড (১৯২১) ভোগ করেন এবং এ পত্রিকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
  • 'আজাদ' (৩১ অক্টোবর, ১৯৩৬) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর সাংবাদিক জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। ১৯৪০ সালে স্বাস্থ্যহানির জন্য এ পত্রিকার দায়িত্বভার অর্পণ করেন আবুল কালাম শামসুদ্দীনের ওপর। ১৯৪৮ সালে এ পত্রিকা কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
  • তিনি ১৮ আগস্ট, ১৯৬৮ সালে ঢাকার বংশালে আহলে হাদীস মসজিদে নামাজরত অবস্থায় মারা যান। ঐ মসজিদের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলোঃ

'মোস্তফা চরিত' (১৯২৩): এটি হযরত মুহম্মদ (স.) এর জীবনীভিত্তিক সীরাতগ্রন্থ।
'মোসলেম বাংলার সামাজিক ইতিহাস' (১৯৬৫),
'আমপারার বঙ্গানুবাদ',
'সমস্যা ও সমাধান'
মুক্তি ও ইসলাম'।

Content added By

মুহাম্মদ নুরুল হক

641
Content added By

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

569
Content added By

মোফাজ্জল করিম

630
Content added By

মোহাম্মদ নজিবর রহমান

544

নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন (১৮৬০-১৯২৩)

মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন বাংলা ভাষার একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, যিনি উনবিংশ শতাব্দীতে সাহিত্য জগতে প্রবেশ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাঁকে উনবিংশ শতাব্দীর বিকাশোন্মুখ মধ্যবিত্ত মুসলমান সমাজের প্রতিনিধি গণ্য করা হয়।

  • নজিবর রহমান ১৮৬০ সালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চরবেলতৈল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত হন।
  • তিনি ১৮ অক্টোবর, ১৯২৩ সালে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে মারা যান।

তাঁর উপন্যাসসমূহ:

'আনোয়ারা' (১৯১৪), 'প্রেমের সমাধি' (১৯১৫), 'চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি' (১৯১৭), 'পরিণাম' (১৯১৮), 'গরিবের মেয়ে' (১৯২৩), 'দুনিয়া আর চাই না' (১৯২৪), 'মেহেরুন্নিসা'।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থসমূহ:

'বিলাতী বর্জন রহস্য' (১৯০৪), 'সাহিত্য প্রসঙ্গ' (১৯০৪)।

Content added By

মোহাম্মদ সাদিক

661
Content added By

মৃণাল সেন

592
Content added By

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার

710
Content added By

মৈত্রেয়ী দেবী

600
Content added By

মোজাম্মেল হোসেন মিন্টু

769
Content added By

মোতাহের হোসেন চৌধুরী

701

মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে খ্যাত মোতাহের হোসেন চৌধুরী। তিনি ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। তাঁর প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

  • মোতাহের হোসেন চৌধুরী ১৯০৩ সালে নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
  • তাঁর 'রবীন্দ্রনাথ ও বৈরাগ্যবিলাস' প্রবন্ধটি 'শিখা'র পঞ্চম বর্ষে প্রকাশিত হয়।
  • তিনি ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৬ সালে চট্টগ্রামে মারা যান।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলোরঃ

'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮): তিনি এ প্রবন্ধ গ্রন্থে সংস্কৃতি সম্পর্কে ধর্মনিরপেক্ষ ও মানববাদী সংজ্ঞার্থ প্রদান করেছেন এবং সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন। এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধ 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব 'জীবন ও বৃক্ষ'।

'সভ্যতা' (১৯৬৫): এটি ক্লাইভ বেল এর Civilization গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

'সুখ' (১৯৬৮): এটি বাট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

'লাইব্রেরি': এ প্রবন্ধটির মূলকথা হলো মানুষকে বইপাঠে উদ্বুদ্ধ করে পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় উৎসাহী করে তোলা।

বিখ্যাত উক্তিঃ 'ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার, আর কালচার শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।' (সংস্কৃতি কথা)।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ভাষা আন্দোলনের
জাতীয় আন্দোলনের
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের
স্বাধীনতা আন্দোলনের

মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী

657
Content added By

মোবারক হোসেন খান

658
Content added By

মোবাশ্বের আলী

573
Content added By

মোহাম্মদ আবদুল কাইউম

630
Content added By

মোহাম্মদ আবদুল জববার

550

মোহাম্মদ আবদুল জব্বার বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার অগ্রদূত। তিনিই প্রথম বাংলায় আকাশের তারাসমূহের ছক তৈরি করেন এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের প্রথম খ-গোলক (celestial globe) নির্মিত হয়। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

জন্ম ও শৈশব:

  • জন্ম: ১ জানুয়ারি, ১৯১৫, গোপালপুর গ্রাম, সুজানগর, পাবনা

  • পরিবারের অবস্থান: দুই বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ

  • প্রাথমিক শিক্ষা: গোপালপুর পাঠশালা ও নিশ্চিন্তপুর উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়

  • মধ্যশিক্ষা: সাতবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯৩২ সালে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হিসেবে ম্যাট্রিক পাস

  • কলেজ: ১৯৩২–৩৪, কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ, আই.এসসি. (প্রথম স্থান)

  • বি.এসসি. গণিতে অনার্সসহ উত্তীর্ণ; পরে এম.এসসি. (প্রথম বিভাগ, প্রথম স্থান)

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা:

  • কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা-বৃত্তি এবং অবৈতনিক প্রভাষক

  • লন্ডন ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে দেশে ফিরে আসতে হয়

  • গণিত এবং বিশুদ্ধ গণিতের বিভিন্ন গবেষণায় অংশগ্রহণ; কয়েকটি গবেষণাপত্র প্রকাশ

কর্মজীবন:

  • ১৯৪১–৪৩: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, গণিত বিভাগে প্রভাষক

  • চট্টগ্রাম কলেজ ও প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিত বিভাগে কাজ

  • ১৯৪৮–১৯৬২: আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, গণিত বিভাগের প্রধান

  • ১৯৬২: কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হলে প্রথম রেজিস্ট্রার

  • ১৯৬৮–১৯৮০: ছাত্রকল্যাণ পরিচালক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

  • ১৯৮০: অবসর গ্রহণ

  • ১৯৮৪: প্রথম ‘ড. রশীদ অধ্যাপক’ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনঃনিয়োগ

জ্যোতির্বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক অবদান:

  • প্রথম বাংলায় আকাশের তারাসমূহের ছক তৈরি

  • বাংলাদেশের প্রথম খ-গোলকের (celestial globe) পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধান

  • ১৯৬২–৮২: তার আঁকা তারা চিত্র ‘রাতের আকাশ’ নামে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত

  • বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান শিক্ষাকে জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

প্রকাশিত গ্রন্থ ও রচনাবলী (সংখ্যাগত):

  • বিশ্ব রহস্যে নিউটন ও আইনস্টাইন (১৯৪২)

  • খগোল পরিচয় (১৯৬৫)

  • তারা পরিচিতি (১৯৬৭)

  • প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যা (১৯৭৩)

  • বিশ্ব ও সৌরজগৎ (১৯৮৬)

  • আকাশ পট (১৯৮৯)

  • গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার শিক্ষামূলক পাঠ্যপুস্তক

পুরস্কার ও সম্মাননা:

  • ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৫)

  • বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩)

  • বাংলা একাডেমির ফেলো (১৯৮৪)

  • ড. কুদরত-এ-খুদা স্মৃতি পদক (১৯৮৫)

  • একুশে পদক (১৯৮৫)

  • ব্রুনো পদক (১৯৯০)

জীবনাবসান:

  • মৃত্যু: জুলাই ২০, ১৯৯৩, পার্কিনসন্স রোগে আক্রান্ত

Content added By

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী

843
Content added By

মোহাম্মদ কায়কোবাদ

606
Content added By

মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন

592
Content added By

মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন

563
Content added By

মোহাম্মদ নুরুল হুদা

577
Content added By

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান

728
Content added By

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিয়া

525
Content added By

মোহাম্মদ রফিক

622
Content added By

মোহিতলাল মজুমদার

570

মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন বাংলা ভাষার কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যসমালোচক। প্রথম জীবনে কবিতা লিখলেও পরবর্তী জীবনে সাহিত্যসমালোচক হিসেবে তিনি প্রধানত খ্যাতি অর্জন করেন।

জন্ম ও শিক্ষা:

  • জন্ম: ২৬ অক্টোবর, ১৮৮৮, কাচঁড়াপাড়া, নদীয়া

  • পৈতৃক নিবাস: বলাগড়, হুগলি

  • শিক্ষা: ১৯০৮ সালে কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন

কর্মজীবন:

  • ১৯০৮–১৯২৮: ক্যালকাটা হাইস্কুলে শিক্ষক

  • ১৯১৪–১৯১৭: সেটলমেন্ট বিভাগে কানুনগো পদে কর্মরত

  • ১৯২৮–১৯৪৪: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের লেকচারার

সাহিত্যচর্চা:

  • সাহিত্য শুরু: মানসী পত্রিকার মাধ্যমে

  • অন্যান্য প্রকাশমাধ্যম: ভারতী, শনিবারের চিঠি

  • কবিতা: তরুণ মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বেদনা, স্বপ্নবিহবল ভাবনার প্রতিফলন

  • শৈলী:

    • নিজস্ব কাব্যাদর্শ, সৌন্দর্যবোধ ও আধ্যাত্মিক চিন্তা

    • ভাবসাধনায় দেহবাদী মনোভাব

    • বাংলা কাব্যে বিদেশী শব্দ, বিশেষত আরবি ও ফারসি ব্যবহার

    • রবীন্দ্রকাব্য সম্বন্ধে রসজ্ঞ ও মর্মজ্ঞ

সমালোচনা ও প্রাবন্ধিক কর্মকাণ্ড:

  • রবীন্দ্রবিরোধী মনোভাব: শনিবারের চিঠি দলের সঙ্গে যুক্ত

  • সমালোচনামূলক ছদ্মনাম: ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’

  • বাংলা সাহিত্যে শিল্প ও সাহিত্য সংক্রান্ত সমস্যার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা

প্রকাশিত গ্রন্থ (উল্লেখযোগ্য):

  • স্বপন পসারী (১৯২১)

  • স্মরগরল (১৯৩৬)

  • আধুনিক বাংলা সাহিত্য (১৯৩৬)

  • বাংলা কবিতার ছন্দ (১৯৪৫)

  • কবি শ্রীমধুসূদন (১৯৪৭)

  • সাহিত্য বিচার (১৯৪৭)

  • বাংলা ও বাঙালী (১৯৫১)

  • কবি রবীন্দ্র ও রবীন্দ্রকাব্য (২ খন্ড, ১৯৫২, ১৯৫৩)

  • বঙ্গদর্শন পত্রিকা (তৃতীয় পর্যায়, সম্পাদনা)

মৃত্যু:

  • মৃত্যু: ১৯৫২

Content added By

মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ্

576
Content added By

মোহাম্মদ মোদাব্বের

622

মোহাম্মদ মোদাব্বের (৬ অক্টোবর ১৯০৮ – ২১ এপ্রিল ১৯৮৪)

পরিচিতি:
মোহাম্মদ মোদাব্বের ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও সমাজসেবক। শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৫ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

জন্ম ও শিক্ষা:

  • জন্ম: ৬ অক্টোবর, ১৯০৮

  • স্থান: হাড়োয়া গ্রাম, বশিরহাট, চব্বিশ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ

  • শিক্ষা: ১৯২২ সালে স্যার আর.এন. মুখার্জী বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ

সাংবাদিকতা জীবন:

  • ১৯২৮–১৯৩২: সাপ্তাহিক ও দৈনিক দ্য মুসলমান

  • ১৯৩৩: নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ফরওয়ার্ড পত্রিকা

  • ১৯৩৫: সাপ্তাহিক মোহাম্মাদী

  • ১৯৩৬: দৈনিক আজাদ, বার্তা সম্পাদক

  • ১৯৪৮: দৈনিক ইত্তেহাদ

  • ১৯৪৯–১৯৬৫: ঢাকায় প্রকাশিত পাকিস্তান (অর্ধসাপ্তাহিক), সম্পাদক

  • ১৯৫১: দৈনিক মিল্লাত, প্রধান সম্পাদক

  • ১৯৫৮: জুনিয়র রেডক্রস পত্রিকা, সম্পাদক

  • এছাড়া, তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক মুকুল এর সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ছিলেন

শিশুসাহিত্য ও অন্যান্য রচনাবলী:

শিশুসাহিত্য:

  • হীরের ফুল (১৯৩০)

  • তাকডুমাডুম (১৯৩০)

  • মিসেস লতা সান্যাল ও আরও অনেকে (১৯৩৩)

  • কিসসা শুনো (১৯৫০)

  • গল্প শুনো (১৩৭১ বা)

  • ডানপিটের দল (১৯৬২)

ভ্রমণ কাহিনী:

  • জাপান ঘুরে এলাম (১৯৫৯)

  • প্রবাল দ্বীপে (১৯৬৪)

স্মৃতি কাহিনী:

  • সাংবাদিকের রোজনামচা (১৯৭৭)

  • ইতিহাস কথা কয়

জীবনী:

  • আনলো যারা জীয়ন কাঠি (১৯৪৬)

সাধারণ জ্ঞান:

  • সন্ধানী আলো (১৯৪৩)

মৃত্যু:

  • ২১ এপ্রিল, ১৯৮৪

পুরস্কার ও সম্মাননা:

  • ১৯৬৫: বাংলা একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার

  • ১৯৭৯: একুশে পদক

Content added By

মোহাম্মদ লুতফর রহমান

573
Content added By

মৌলভী আবদুল করিম

779
Content added By

যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত

619
Content added By

যতীন্দ্রমোহন বাগচী

641

যতীন্দ্রমোহন বাগচী (২৭ নভেম্বর ১৮৭৮ – ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮)

যতীন্দ্রমোহন বাগচী ছিলেন একজন বাঙালি কবি ও সম্পাদক। তিনি নদিয়া জেলার জমশেরপুরের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ছিল হুগলির বলাগড় গ্রামে। প্রথম ডিগ্রি তিনি কলকাতার ডাফ কলেজ (বর্তমান স্কটিশ চার্চ কলেজ) থেকে গ্রহণ করেন।

কর্মজীবন:
যতীন্দ্রমোহন কর্মজীবন শুরু করেন সারদাচরণ মিত্রের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে। পরে কলকাতা কর্পোরেশনে, নাটোর মহারাজের ব্যক্তিগত সচিব ও জমিদারির সুপারিনটেন্ডেন্ট, কর কোম্পানি ও এফ.এন. গুপ্ত কোম্পানির ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন।

সাহিত্য জীবন:
তিনি বহু সাহিত্যিক পত্রিকায় অবদান রেখেছেন। ১৯০৯–১৯১৩ পর্যন্ত মানসী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯২১ ও ১৯২২ সালে যমুনা পত্রিকার যুগ্ন সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৭–১৯৪৮ পর্যন্ত পূর্বাচল পত্রিকার মালিক ও সম্পাদক ছিলেন। তার রচনায় রবীন্দ্র সাহিত্যের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তাকে রবীন্দ্র পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

শৈশব ও কবিতা বৈশিষ্ট্য:
যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কবিতায় গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য ও পল্লী-প্রীতির প্রতিফলন লক্ষণীয়। গ্রাম জীবনের সাধারণ সুখ-দুঃখকে তিনি সরল ও সহৃদয় ভাষায় প্রকাশ করেছেন।

প্রকাশিত সাহিত্যকর্ম:

কাব্যগ্রন্থসমূহ:

  • লেখা (১৯০৬)

  • রেখা (১৯১০)

  • অপরাজিতা (১৯১৫)

  • বন্ধুর দান (১৯১৮)

  • জাগরণী (১৯২২)

  • নীহারিকা (১৯২৭)

  • মহাভারতী (১৯৩৬)

কাব্যমালঞ্চ:

  • নাগকেশর

  • পাঁচজন্য

  • পথের সাথী

কবিতা:

  • কাজলাদিদি

  • শ্রিকল

  • অন্ধ বধূ

  • হাট

উপন্যাস:

  • পথের সাথী

মৃত্যু:
যতীন্দ্রমোহন বাগচী ১৯৪৮ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য

584
যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য (১৯০৫ – ১৯৯০)

যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এবং বাংলা সাহিত্য গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

জন্ম ও পরিবার:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সিঙ্গেরকাছ গ্রামে ১৯০৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা যামিনীকামৎ ভট্টাচার্য এবং মা মোক্ষকা দেবী।

শিক্ষা ও কর্মজীবন:
আজীবন সাহিত্য গবেষণা এবং লুপ্তপ্রায় পুঁথিপত্র, গ্রন্থ ও সাময়িকপত্রের বিপুল ভান্ডার গড়ে তোলেন। এই সংগ্রহশালা বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাতীয় শিক্ষাপরিষদ’-এর অধীনে ‘যতীন্দ্রমোহন সংগ্রহশালা’ নামে পরিচিত।

রচনাবলি:

  • বাংলা পুঁথির তালিকা সমন্বয়

  • গোপাল ঠাকুরের পদাবলি

  • বাঙালার বৈষ্ণব ভাবাপন্ন মুসলমান কবি

  • বাঙলা অভিধান গ্রন্থের পরিচয়

  • শ্রীহট্টের ভট্টসঙ্গীত

পুরস্কার ও সম্মাননা:

  • খোজাস্তা আকতর বানু সোহরাওয়ার্দি স্বর্ণপদক (১৯৪৫)

মৃত্যু:
১৯৯০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

যোগীন্দ্রনাথ সরকার

550
Content added By

যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি

610
Content added By

রওশন ইজদানী

633
Content added By

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়

558
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (২১ ডিসেম্বর ১৮২৭ – ১৩ মে ১৮৮৭)

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও প্রবন্ধকার। তিনি ইংরেজি, সংস্কৃত ও প্রাচীন উড়িয়া সাহিত্যে পারদর্শী ছিলেন এবং স্বদেশপ্রেমিক রচনায় বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন।

জন্ম ও পরিবার:
১৮২৭ সালে মাতুলালয়, বর্ধমান জেলার কালনার সন্নিকটস্থ হুগলী জেলার বাকুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম রামনারায়ণ এবং মাতার নাম হরসুন্দরী দেবী।

শিক্ষাজীবন:
বাকুলিয়ার স্থানীয় পাঠশালা ও মিশনারী স্কুলে পড়াশোনা শেষে হুগলি মহসিন কলেজে শিক্ষালাভ করেন।

কর্মজীবন:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সহায়তায় সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় সাহিত্য রচনা শুরু করেন। ১৮৫৫ সালে এডুকেশন গেজেট পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৫২–১৮৫৬ সালে মাসিক সংবাদ সাগর এবং বার্তাবহ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৮৬০ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা করার পর আয়কর অ্যাসেসর, ডেপুটি কালেক্টর ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে চাকরি করেন। ১১ এপ্রিল ১৮৮৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

রচনাসমগ্র:

  • কাব্যগ্রন্থ:

    • পদ্মিনী উপাখ্যান (১৮৫৮)

    • কর্মদেবী (১৮৬২)

    • শূরসুন্দরী (১৮৬৮)

    • কাঞ্চীকাবেরী (১৮৭৯)

    • ভেক-মূষিকের যুদ্ধ (১৮৫৮) – হোমারের কাব্যের অনুবাদ

    • নীতি কুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) – সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অনুবাদ

  • সংবাদপত্র ও সম্পাদকীয় কাজ:

    • উৎকল দর্পণ – উড়িয়া ভাষার সংবাদপত্র এবং প্রবন্ধ

    • কলিকাতা কল্পলতা – কলকাতার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস

    • কবি মুকুন্দরামের কবিকঙ্কন চন্ডী – সম্পাদনা

সাহিত্য বৈশিষ্ট্য:
স্বদেশপ্রেম, সংস্কৃত ও উড়িয়া সাহিত্যের অনুবাদ, এবং ইংরেজি প্রভাবিত বাংলা সাহিত্যে পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত।

মৃত্যু:
১৩ মে ১৮৮৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

রজনীকান্ত সেন

625
Content added By

রকিব হাসান

554
Content added By

রফিক আজাদ

611

রফিক আজাদ (১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪১ – ১২ মার্চ ২০১৬) ছিলেন একজন বাংলাদেশি আধুনিক কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ষাটের দশকে সাহিত্যিকভাবে খ্যাতি অর্জন করেন এবং ২০১৩ সালে সাহিত্যে একুশে পদক লাভ করেন।

জন্ম ও পরিবার:
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার গুণগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দুই ভাই-এক বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন।

শিক্ষাজীবন:
শৈশব থেকেই কবিতা ও সাহিত্যে আগ্রহী ছিলেন। বিভিন্ন স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং কৈশোরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মননশীলতা বিকশিত হয়।

কর্মজীবন:
১৯৭২–১৯৮৪ পর্যন্ত বাংলা একাডেমির পত্রিকা উত্তরাধিকার এর সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থায় কাজ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ:
১৯৭১ সালে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কাদেরিয়া বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ:
অসম্ভবের পায়ে, সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে, চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া, এক জীবনে, প্রেমের কবিতাসমগ্র প্রভৃতি।

পুরস্কার ও সম্মাননা:
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), একুশে পদক (২০১৩)সহ বিভিন্ন সাহিত্যিক ও মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা লাভ করেন।

মৃত্যু:
৫৮ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২০১৬ সালের ১২ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

রফিকুর রশীদ

616
Content added By

রফিকুল হক

557
Content added By

রবীন্দ্র গুহ

610
Content added By

রমাপদ চৌধুরী

530
Content added By

রমেশচন্দ্র মজুমদার

535
Content added By

রণেশ দাশগুপ্ত

627
Content added By

রহীম শাহ

586
Content added By

রাজশেখর বসু

669
Content added By

রাণী চন্দ

698
Content added By

রাধাগোবিন্দ নাথ

626
Content added By

রাধারমণ দত্ত

630
Content added By

রাবেয়া খাতুন

594

বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। সামাজিক কুসংস্কার, নারীর অনগ্রসরতা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে লেখনী ধারণ করেন। তিনি বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ লেখক শিবির ও বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

  • রাবেয়া খাতুন ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ সালে ঢাকার বিক্রমপুরে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর গ্রামে।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৩), একুশে পদক (১৯৯৩), স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৭) পান।
  • তিনি ৩ জানুয়ারি, ২০২১ সালে ঢাকায় মারা যান।

তাঁর উপন্যাসসমূহঃ

‘‘অনন্ত অন্বেষা” (১৯৬৭): হাওয়াই জাহাজে আকাশচারী পেশায় রত মানুষের জীবনচিত্র এর মূল বিষয়। ‘মেঘের পরে মেঘ’: এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এ উপন্যাস অবলম্বনে চাষী নজরুল ইসলাম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

‘মধুমতি' (১৯৬৩), ‘মন এক শ্বেতী কপোতী' (১৯৬৭), ‘সাহেব বাজার’ (১৯৬৯), ‘ফেরারী সূর্য’ (১৯৭৪), ‘নীল নিশীথ' (১৯৮৩), ‘বায়ান্ন গলির এক গলি' (১৯৮৪), ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’, ‘একাত্তরের নিশান' ।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ: 'একাত্তরের নয় মাস' (১৯৯০)।

তাঁর উপন্যাস নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রঃ

'মধুমতি', 'মেঘের পরে মেঘ', ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’

একাত্তরের যিশু (উপন্যাস)শাহরিয়ার কবির
একাত্তরের গেরিলা (উপন্যাস)জহিরুল ইসলাম
একাত্তরের রণাঙ্গন (উপন্যাস)শামসুল হুদা
একাত্তরের বিজয়গাঁথা (উপন্যাস)মেজর রফিকুল ইসলাম
একাত্তরের নিশান (উপন্যাস)রাবেয়া খাতুন
একাত্তরের সাহিত্য (উপন্যাস)বশির আল হেলাল
একাত্তরের ঢাকা (উপন্যাস)সেলিনা হোসেন
একাত্তরের কথামালা (উপন্যাস)বেগম নূরজাহান
একাত্তর কথা বলে (উপন্যাস)মনজুর আহমদ
Content added By

রামনিধি গুপ্ত

558
Content added By

রামপ্রসাদ সেন

561
Content added By

রাশীদুল হাসান

612
Content added By

রাশেদ রউফ

624
Content added By

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

705

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত। মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা প্রভৃতি তাঁর কবিতায় বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

  • রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৬ অক্টোবর, ১৯৫৬ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক বাড়ী বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার মিঠেখালী গ্রামে।
  • সামরিক স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিকতা বিরোধী কবিদের সংগঠন 'জাতীয় কবিতা পরিষদ' এর প্রতিষ্ঠাকালীন যুগা-সম্পাদক ছিলেন।
  • 'সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট' প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা।
  • বিতর্কিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার স্ত্রী। [বিবাহ-১৯৮১, বিচ্ছেদ-১৯৮৮]
  • তিনি প্রতিবাদী রোমান্টিক কবি হিসেবে খ্যাত।
  • তিনি ২১ জুন, ১৯৯১ সালে মারা যান।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:

'ছোবল' (১৯৮৬): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা ‘মিছিল’ 'উপদ্রুত উপকূল' (১৯৭৯), 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' (১৯৮১) 'মানুষের মানচিত্র' (১৯৮৬), 'গল্প' (১৯৮৭), মৌরি মুখোশ' (১৯৯০)।

তাঁর অন্যান্য সাহিত্যকর্মসমূহ:

কাব্যনাট্য : 'বিষ বিরিক্ষের বীজ' (১৯৯২)।

ছোটগল্প : 'সোনালি শিশির'।

বিখ্যাত গান: 'ভাল আছি ভাল থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।'

বিখ্যাত কবিতা: 'বাতাসে লাশের গন্ধ' (জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন)

Content added By

রূপরাম চক্রবর্তী

549
Content added By

রেজাউদ্দিন স্টালিন

634
Content added By

রোকনুজ্জামান খান

697
Content added By

লালন শাহ

589
লালন সাঁই (১৭৭২-১৮৯০)

মানবতার বাহক লালন শাহ্ বাউল সাধক ও বাউল কবি হিসেবে খ্যাত। প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালাভ না করলেও নিজের সাধনায় হিন্দু-মুসলমান শাস্ত্র সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান ও ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধি মুক্ত এক সর্বজনীন ভাবরসে ঋদ্ধ বলে তাঁর রচিত গান বাংলায় হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।

  • লালন শাহ্ অক্টোবর, ১৭৭২ সালে (১ কার্তিক, ১১৭৯) ঝিনাইদহের হরিশপুর গ্রামে / কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালির ভাঁড়ারা গ্রামে এক হিন্দু কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
  • কথিত আছে যে, তিনি কোন এক সময় এক বাউল দলের সঙ্গী হয়ে গঙ্গাস্নানে যান। পথিমধ্যে বসন্ত রোগাক্রান্ত হলে সঙ্গীরা তাঁকে নদীর তীরে ফেলে যান। সিরাজ শাহ নামক জনৈক বাউল সাধক তাঁকে কুড়িয়ে নেন এবং তার কাছে লালিত-পালিত হন।
  • লালন সাঁই এর পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল লালনচন্দ্র কর।
  • লালনের একমাত্র যে স্কেচটি প্রচলিত সেটি অঙ্কন করেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • সিরাজ শাহের মৃত্যুর পর তিনি কুষ্টিয়ার ছেউরিয়া গ্রামে আখড়া স্থাপন করেন।
  • তিনি আধ্যাত্মিক ও মরমি রসব্যঞ্জনায় সমৃদ্ধ বাউল সংগীতের জন্য বিখ্যাত।
  • লালনকে বিশ্বসমাজে পরিচিত করণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
  • রবীন্দ্রনাথ লালনের ২৯৮টি গান সংগ্রহ করে সংরক্ষিত করেন।
  • 'UNESCO' বাউল গানকে ২৫ নভেম্বর, ২০০৫ সালে 'A Masterpiece of the Oral and Intangible Heritage of Humanity' বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।
  • ২০০৮ সালে ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত Intergovernmental Committee'র তৃতীয় অধিবেশনে বাংলাদেশের বাউল সংগীতকে 'Intangible Cultural Heritage of Humanity' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
  • তিনি ১৭ অক্টোবর, ১৮৯০ সালে (১লা কার্তিক, ১২৯৭বঙ্গাব্দ) মারা যান।

বাউল গানঃ

বাউল গান এক ধরনের আধ্যাত্ম্য বিষয়ক গান। বাংলার পল্লীগীতির বিশেষধারার নাম বাউলগান। পণ্ডিতদের মতে, সতের শতকে বাংলাদেশে বাউল মতের উদ্ভব হয়েছে। সতের শতকে উদ্ভব হলেও উনিশ শতকে শ্রেষ্ঠ সাধক লালন ফকির বাউল গানকে জনপ্রিয় করে তোলেন। তিনি অসংখ্য বাউল গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। তাঁর রচিত গানগুলোকে লালন গীতি বা লালন সঙ্গীত বলে। লালনরে বিশ্বসমাজে পরিচিত করণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অগ্রণী ভূমিক পালন করেন। রবীন্দ্রনাথ লালনের ২৯৮টি গান সংগ্রহ করে সংরক্ষিত করেন এবং এরমধ্যে ২০টি গান তিনি 'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

বিখ্যাত গানের কিছু লাইন

  • খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়…
  • মিলন হবে কত দিনে…
  • আমি অপার হয়ে বসে আছি…
  • সময় গেলে সাধন হবে না…
  • কেউ মালা কেউ তসবি গলায়…
  • আপন ঘরে বোঝাই সোনা পরে করে লেনা দেনা…
Content added By

লীলা মজুমদার

778

লীলা মজুমদার (২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯০৮ – ৫ এপ্রিল ২০০৭)

পরিচিতি:
লীলা মজুমদার ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি লেখিকা, শিশুসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। তাঁর সাহিত্যিক জীবন প্রায় আট দশকের। তিনি বাংলায় গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও অনুবাদসহ নানারকম সাহিত্যকর্মে অবদান রেখেছেন।

জন্ম ও পরিবার:

  • জন্ম: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮, কলকাতা

  • পিতামাতা: প্রমদারঞ্জন রায় ও সুরমাদেবী

  • সম্পর্ক: সুকুমার রায়ের খুড়তুতোবোন, সত্যজিৎ রায়ের পিসিমা

শিক্ষা ও ব্যক্তিজীবন:

  • শৈশব: শিলঙে কেটেছে, লরেটো কনভেন্টে শিক্ষা

  • বিশ্ববিদ্যালয়: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরাজীতে সর্বোচ্চ নম্বর

  • বিবাহ: ১৯৩৩ সালে ডাঃ সুধীর কুমার মজুমদারের সঙ্গে

  • সন্তান: এক পুত্র (ডাঃ রঞ্জন মজুমদার) ও এক কন্যা (কমলা চট্টোপাধ্যায়)

  • কর্মজীবন: ১৯৫৬ সালে কলকাতা বেতারে যোগদান; ১৯৭৫ সাল থেকে শান্তিনিকেতন, বিশ্বভারতী ইংরেজি শিক্ষক

সাহিত্যকর্ম:

শিশু সাহিত্য:

  • হলদে পাখির পালক

  • টং লিং

  • পদিপিসির বর্মি বাক্স

  • নাকু গামা

  • সব ভুতুড়ে

  • মাকু

  • গল্পসল্প

  • সোনালি রুপালি

অন্যান্য:

  • আত্মজীবনী: পাকদণ্ডী (১৯৭৭–৭৮), আর কোনখানে (রবীন্দ্র পুরস্কার ১৯৬৯)

  • স্মৃতিকথা: এই যে দেখা

  • রম্যরচনা: খেরোর খাতা

বড়দের জন্য সাহিত্য ও অন্যান্য গল্প:

  • বদ্যিনাথের বড়ি, দিন দুপুরে, ছোটোদের শ্রেষ্ঠ গল্প, মনিমালা, বাঘের চোখ, বক ধার্মিক, টাকার গাছ, লাল নীল দেশলাই, বাঁশের ফুল, ময়না, শালিখ, ভূতের বাড়ি, আগুনি বেগুনি, টিপুর উপর টিপুনি, পটকা চোর, আষাঢ়ে গল্প, চিচিং ফাঁক, যে যাই বলুক, ছোটদের তাল বেতাল, বাতাস বাড়ি, বাঘ শিকারি বামন, শিবুর ডায়েরি, ফেরারি, নেপোর বই, শ্রীমতি, চিনা লণ্ঠন, মনি মানিক, নাটঘর, কাগ নয়, বক বধ পালা, মেঘের সারি ধরতে নারি, পরি দিদির বর, পেশা বদল, ঈলশে ঘাই, পাগলা পাগলদের গল্প, কুড়ি, ছাগলা পাগলা

পুরস্কার ও সম্মাননা:

  • আনন্দ পুরস্কার

  • ভারত সরকারের শিশু সাহিত্য পুরস্কার

  • সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার (১৯৫৯, ‘বক বধপালা’ নাটকের জন্য)

  • রবীন্দ্র পুরস্কার

  • বিদ্যাসাগর পুরস্কার

  • ভুবনেশ্বরী পদক

  • ভুবনমোহিনী দাসী সুবর্ণ পদক

  • দেশিকোত্তম

  • ডি-লিট, ইত্যাদি

Content added By

লোকনাথ ভট্টাচার্য

690
Content added By

শওকত আলী

694

শওকত আলী (১৯৩৬-২০১৮)

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শওকত আলী বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে গল্প ও উপন্যাস লিখে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রাই হচ্ছে তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু। বাংলাদেশের আঞ্চলিক জীবনের অন্ত্যজ শ্রেণির জীবনচিত্র অঙ্কনে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

  • শওকত আলী ১২ জানুয়ারি, ১৯৩৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
  • ছাত্রজীবনে তাঁর প্রথম লেখা গল্প কলকাতার 'নতুন সাহিত্য' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
  • ১৯৯৩ সালে সরকারি সংগীত কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৮), ফিলিপস্ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬- এয়ী উপন্যাসের জন্য), একুশে পদক (১৯৯০) পান।
  • তিনি ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮ সালে বৃহস্পতিবার ৮:১৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

শওকত আলীর উপন্যাসসমূহ:

‘পিঙ্গল আকাশ' (১৯৬৩): এ উপন্যাসে নারীহৃদয়ের আশা- আকাঙ্ক্ষার ও ব্যর্থতার পরিচয় ফুটে উঠেছে।

‘যাত্রা” (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান ।

‘প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪): সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের সমকালীন পটভূমিতে এর কাহিনি বিস্তৃত। অত্যাচারী সামন্তবর্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অন্ত্যজ হিন্দু ও বৌদ্ধদের দল। সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন বিশেষ করে আর্য ও অনার্য মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অসাম্য এ উপন্যাসের বিষয়।

‘কুলায় কালস্রোত' (১৯৮৬): রাখী নামের শিক্ষিত একজন নারীর ব্যক্তিজীবন রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্ষত-বিক্ষত হয়। শেষ পর্যন্ত মুক্তির উদ্দেশ্যে সে ঢাকা ছেড়ে মফস্বল শহর ঠাকুরগাঁও- এর দিকে যাত্রা করে। মূলত এটি ১৯৬৫- ৬৯ সালের সময়কার উত্তাল রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে ব্যক্তিজীবন বিপর্যয়ের উপাখ্যান।

‘ ওয়ারিশ ' (১৯৮৯): মানব সভ্যতার ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ রঞ্জু চরিত্রের মাধ্যমে লেখক প্রকাশ করেছেন।

‘উত্তরের খেপ' (১৯৯২): ট্রাক ড্রাইভার বাবা ও বিহারী মায়ের সন্তান হায়দারের সাথে বিয়ে হয় বড়লোকের নাতনি মরিয়মের। এর কিছুদিন পরেই আবার মরিয়মের বিয়ে হয় কুচক্রীর সাথে। তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে আগমন ঘটে মিঠুর, কাহিনি মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। আমাদের গ্রামীণ বাস্তবতার উজ্জ্বল রূপ এ উপন্যাস।

‘দক্ষিণায়নের দিন' (১৯৮৫), 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' (১৯৮৬), ‘যেতে চাই' (১৯৮৮), ‘বাসর মধুচন্দ্রিমা' (১৯৯০), ‘হিসাব-নিকাশ’ (১৯৯৮), ' দলিল ' (২০০১), ‘উত্তরের ছাপ’ (২০০২), ‘ বসত', 'স্থায়ী ঠিকানা' , 'কোথায় আমার ঘরবাড়ি’ , ‘ ত্রিপদী ’, ‘দুই রকম’, ‘ পতন ’, ‘ভিতরগড়ের তিন মূর্তি' (কিশোর উপন্যাস)

শওকত আলীর গল্পসমূহ:

‘উন্মুল বাসনা’ (১৯৬৮), ‘লেলিহান স্বাদ’ (১৯৭৮), ‘শুন হে লক্ষিন্দর' (১৯৮৮), ‘বাবা আপনে যান’ (১৯৯৪)।

শওকত আলীর ত্রয়ী উপন্যাস :

‘দক্ষিণায়নের দিন’, ‘কুলায় কালস্রোত’, ‘পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' ।

Content added By

শওকত ওসমান

725

বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক শওকত ওসমানের সাহিত্যকর্মে তাঁর তীক্ষ্ণ সমাজসচেতন ও প্রগতিশীল ভাবধারার শৈল্পিক ফসল। মুক্তিযুদ্ধ ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে তিনি ছিলেন উচ্চকিত কন্ঠের অধিকারী।

১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় ৫ বছর কলকাতায় নির্বাসনে ছিলেন। ১৯৫৮ সাল থেকে তিনি ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং ১৯৭২ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

  • শওকত ওসমান ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ সালে হুগলীর সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
  • বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান তাঁর ছেলে।
  • প্রয়াত হুমায়ুন আজাদ শওকত ওসমানকে 'অগ্রবর্তী আধুনিক মানুষ' নামে অভিহিত করেন।
  • জীবনের শেষ প্রান্তে আত্মজীবনী 'রাহনামা' লেখা শুরু করেন কিন্তু শেষ করতে পারেননি।
  • তিনি কিছুদিন 'কৃষক' পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৭) পান।
  • তিনি ১৪ মে, ১৯৯৮ সালে ঢাকায় মারা যান।

শওকত ওসমানের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থঃ

'জননী' (১৯৫৮): এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস। সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা গোপনে যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারেন, শওকত ওসমান সে কথাই এ উপন্যাসে ব্যক্ত করেছেন। মহেশডাঙ্গার দরিয়াবিবি সন্তান মোনাদি'কে আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয়। ইয়াকুবের ঔরষে তার গর্ভে সন্তান এলেও সামাজিক সকল বিপত্তি এড়িয়ে অসীম মমতায় তাকে লালন-পালন করে। এ উপন্যাসে ফুটে উঠেছে মুসলিম সমাজের শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবানদের স্বার্থপরতা, গ্রামের দরিদ্র মানুষদের পারস্পরিক বিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। ওসমান জামাল এটি ইংরেজিতে 'জননী' (১৯৯৩) নামেই অনুবাদ করে অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশ করেন। চরিত্র: দরিয়া বিবি, আজহার, মোনাদি, ইয়াকুব, চন্দ্রকোটাল।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহঃ

'জাহান্নম হইতে বিদায়' (১৯৭১): 'দেশ' পত্রিকার সম্পাদক শ্রী সাগরময় ঘোষের অনুরোধে শওকত ওসমান উপন্যাসটি সাতটি পর্বে সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সালে কলকাতায় বসে লেখেন। 'দেশ' পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সময়কার চালচিত্র ফুটে উঠেছে। কেন্দ্রীয় চরিত্র: শিক্ষক গাজী রহমান।

'দুই সৈনিক' (১৯৭৩), 'নেকড়ে অরণ্য' (১৯৭৩), 'জলাঙ্গী' (১৯৭৬)।

জননী (উপন্যাস)শওকত ওসমান
জননী (উপন্যাস)মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

তাঁর অন্যান্য উপন্যাসসমূহ:

'বনি আদম': এটি ১৯৪৬ সালে দৈনিক আজাদের সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।

'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২): এটি তাঁর প্রতীকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি আরব্য রজনী 'আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা' এর শেষ গল্প 'জাহাকুল আবদ' এর অনুবাদ কিন্তু সর্বাংশে নয়। এ উপন্যাসে বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদের মাধ্যমে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে। বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাঁধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দী ও অত্যাচার করে। তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়। এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক। এর জন্য ১৯৬৬ সালে তিনি 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন। কবির চৌধুরী এটি ইংরেজিতে 'এ স্লেভ লাফস' (১৯৭৬) নামে অনুবাদ করে দিল্লি থেকে প্রকাশ করেন।

'আর্তনাদ' (১৯৮৫): ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। চরিত্র: জাফর আলী।

'সমাগম' (১৯৬৭), 'চৌরসন্ধি' (১৯৬৮), 'রাজা উপাখ্যান' (১৯৭১), 'পতঙ্গ পিঞ্জর' (১৯৮৩), 'রাজপুরুষ' (১৯৯২)।

তাঁর অন্যান্য রচনাবলি:

নাটক: 'আমলার মামলা' (১৯৪৯), 'কাঁকড়মনি' (১৯৫২), 'তস্কর ও লস্কর' (১৯৫৩), 'বাগদাদের কবি' (১৯৫৩), 'জন্ম জন্মান্তর' (১৯৬০), 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' (১৯৯০)।

গল্প:

'জন্ম যদি তব বঙ্গে' (১৯৭৫): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক।

'তোলপাড়': মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প।

'সৌদামিনী মালো': গল্পে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিয়ত মানবাত্মার যে অবমাননা চলছে, তারই চিত্র ফুটে উঠেছে।

'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' (১৯৯০): এর জন্য তিনি ১৯৯১ সালে ফিলিপস পুরস্কার পান।

'পিঁজরাপোল' (১৯৫১), 'জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প' (১৯৫২), 'প্রস্তর ফলক' (১৯৬৪), 'নেত্রপথ' (১৯৬৮), 'মনিব ও তাহার কুকুর' (১৯৮৬), 'পুরাতন খঞ্জর' (১৯৮৭)।

প্রবন্ধ: 'ভাব ভাষা ও ভাবনা' (১৯৭৪), 'সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই' (১৯৮৫), 'মুসলিম মানসের রূপান্তর' (১৯৮৬)।

শিশুতোষ: 'ওটেন সাহেবের বাংলো' (১৯৪৪), 'মস্কুইটোফোন' (১৯৫৭), 'ক্ষুদে সোশালিস্ট' (১৯৭৩), 'পঞ্চসঙ্গী' (১৯৮৭)।

রম্যরচনা: 'নিজস্ব সংবাদদাতা প্রেরিত' (১৯৮২)।

স্মৃতিকথা: 'স্বজন সংগ্রাম' (১৯৮৬), 'কালরাত্রি খণ্ডচিত্র' (১৯৮৬), 'অনেক কথন' (১৯৯১), 'মুজিবনগর' (১৯৯৩), 'অস্তিত্বের সঙ্গে সংলাপ' (১৯৯৪), 'সোদরের খোঁজে স্বদেশের সন্ধানে' (১৯৯৫), 'মৌলবাদের আগুন নিয়ে খেলা' (১৯৯৬), 'আর এক ধারাভাষ্য' (১৯৯৬)।

অনুবাদ: 'নিশো' (১৯৪৮-৪৯), 'লুকনিতশি' (১৯৪৮), 'বাগদাদের কবি' (১৯৫৩), 'টাইম মেশিন' (১৯৫৯), 'ডাক্তার আবদুল্লাহর কারখানা' (১৯৭৩), 'সন্তানের স্বীকারোক্তি' (১৯৮৫)।

Content added By

শক্তি চট্টোপাধ্যায়

697
Content added By

শঙ্করীপ্রসাদ বসু

596
Content added By

শঙ্কু মহারাজ

626
Content added By

শঙ্খ ঘোষ

804
Content added By

শক্তিপদ রাজগুরু

568
Content added By

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

590
Content added By

শংকর

646
Content added By

শঙ্কর সেনগুপ্ত

887
Content added By

শচীন্দ্রনাথ বসু

627
Content added By

শহীদ আখন্দ

640
Content added By

শহীদুল জহির

646

শহীদুল জহির (১৯৫৩-২০০৮)

বাংলা সাহিত্যে ম্যাজিক রিয়েলিজম বা জাদুবাস্তবতার প্রবর্তক ও কিমান্ডিং লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন শহীদুল জহির। স্বকীয় ভাষাবিন্যাস ও রীতি ব্যবহার করে বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি যোগ করেছেন স্বতন্ত্র রীতি-পদ্ধতি, যা 'শহীদুল জহিরীয়' ধারা বা প্রবণতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য স্বদেশ, হাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তাঁর গল্প-উপন্যাসে রাজাকার ও সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর কদর্য নৃশংস চিত্র বিস্তার লাভকরেছে এবং একই সাথে ফুটে উঠেছে জীবনবোধ।

  • শহীদুল জহির ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৩ সালে পুরান ঢাকার নারিন্দায় (ভূতের গলি) জন্মগ্রহণ করেন। প্রকৃত নাম: মোহাম্মদ শহীদুল হক। পৈতৃক নিবাস: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার হাশিল গ্রামে।
  • ১৯৭৪ সালে তাঁর প্রথম গল্প 'ভালবাসা' সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
  • তিনি ২৩ মার্চ ২০০৮ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:

গল্পগ্রন্থ: 'ভালবাসা' (১৯৮৫), 'পারাপার' (১৯৮৫), 'কাঠুরে ও দাঁড়কাক' (১৯৯২), 'কাঁটা' (১৯৯৫), 'ডুমুরখেকো মানুষ' (২০০০), 'আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই' (২০০০), 'এই সময়' (২০০০), 'চতুর্থ মাত্রা' (২০০০), 'ইন্দুর-বিলাই খেলা' (২০০২), 'কোথায় পাব তারে' (২০০৪), 'ডলু নদীর হাওয়া' (২০০৪), 'মহল্লায় বান্দর, আব্দুল হালিমের মা এবং আমরা' (২০০৪), 'মাটি ও মানুষের রং', 'তোরাব সেখ, 'ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে'।

উপন্যাস:

'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' (১৯৮৭): এটি বাংলাদেশেরস্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিকে ধারণ করে রচিত নাতিদীর্ঘ উপন্যাস। এ উপন্যাসে তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতের ঘটনাবলির মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে রাজাকারদের পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়নকে তুলে ধরেছেন। ২০২২ সালে উপন্যাসটি 'লাইফ অ্যান্ড পলিটিক্যাল রিয়ালিটি : টু নভেলাস শিরোনামে ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়। এ উপন্যাসের আলোকে সৈয়দ জামিল আহমেদ একই শিরোনামে একটি মঞ্চ নাটক তৈরি করেন।

'উড়াল' (১৯৮৩), 'চন্দন বনে' (১৯৮৪), 'সে রাতে পূর্ণিমা ছিল' (১৯৯৫), 'মুখের দিকে দেখি' (২০০৬), 'আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু' (২০০৯), 'মেহেরনি'।

Content added By

শহীদুল্লা কায়সার

640

সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানে সাম্যাবস্থা আনয়নের প্রচেষ্টার অন্যতম অগ্রদূত শহীদুল্লা কায়সার। বামপন্থী রাজনীতির সমর্থক হিসেবে তিনি শ্রমিক-জনতার দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য সক্রিয় সংগ্রামের ওপর গুরুত্ব দিতেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন এবং ৩ জুন গ্রেফতার হয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করে মুক্তি পান। তাঁর রচিত উপন্যাসে উজ্জ্বলভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বাঙালি জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও সংগ্রামী চেতনা।

শহীদুল্লা কায়সার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৭ সালে ফেনীর তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

কথাসাহিত্যিক জহির রায়হান তাঁর ভাই এবং অভিনেত্রী শমী কায়সার তাঁর মেয়ে।

তিনি মার্কসবাদ-লেনিনবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে 'গণতান্ত্রিক যুবলীগ' গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

১৯৪৯ সালে 'সাপ্তাহিক ইত্তেফাক' পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৮ সালে 'দৈনিক সংবাদ' এর সহকারী সম্পাদক নিযুক্ত হন। এতে দেশপ্রেমিক ছদ্মনামে 'রাজনৈতিক পরিক্রমা' ও বিশ্বকর্মা ছদ্মনামে 'বিচিত্র কথা' শিরোনামে উপসম্পাদকীয় লিখতেন।

১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর এদেশীয় দোসর আলবদর বাহিনীর সদস্যগণ তাঁকে ঢাকার কায়েতটুলির বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তাঁর উপন্যাসঃ

'সারেং বৌ' (১৯৬২): এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস। এতে সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। কদম সারেং জাহাজের নাবিক। সৎ ও সরল বলে সহকর্মীদের মতো বাড়ি-গাড়ি করতে পারেননি, কিন্তু অভাব-অনটনের মধ্যেও ছিলো সুখের সংসার। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মাদক পাচারের অপরাধে জেলে যেতে হয়। দীর্ঘদিন কদম সারেং নিখোঁজ থাকায় যুবতী স্ত্রী নবিতুন ডুবে যায় দারিদ্র্যের করালগ্রাসের অন্তরালে এবং নিপতিত হয় লোলুপ সমাজপতিদের শিকারের কবলে। কিন্তু আদর্শনিষ্ঠ নবিতুন সব কিছু পরাজিত করে। প্রবল ঝড়ের পর সারেং ফিরে আসলে পিপাসিত কদম সারেংকে ধর্মীয় বিধি লংঘন করে নবিতুন নিজের দুগ্ধ পান করিয়ে সুস্থ করে তোলে। 'সারেং বৌ' উপন্যাসে সব সংস্কার তুচ্ছ করে মানবতাবোধকে জয়ী করা হয়েছে। উপন্যাসটির জন্য তিনি 'আদমজী পুরস্কার' (১৯৬২), 'বাংলা একাডেমি পুরস্কার' (১৯৬২) লাভ করেন।
চরিত্র: কদম সারেং, নবিতুন।

'সংশপ্তক' (১৯৬৫): এর অর্থ- নিশ্চিত পরাজয় জেনেও যারা যুদ্ধ চালিয়ে যায়। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: হুরমতি, লেকু, রমজান।

তাঁর অন্যান্য রচনাঃ

স্মৃতিকথা : 'রাজবন্দীর রোজনামচা' (১৯৬২)।

ভ্রমণকাহিনি : 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' (১৯৬৬)।

Content added By

শহীদ কাদরী

681

শহীদ কাদরী (১৯৪২-২০১৬)

স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি শহীদ কাদরী। বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহে। ১৯৪৭ পরবর্তী বাঙালি কবিদের তিনি নাগরিক জীবন সম্পর্কিত শব্দ চয়নের মাধ্যমে বাংলা কবিতায় নাগরিকতা ও আধুনিকতাবোধের সূচনা করেছিলেন।

  • শহীদ কাদরী ১৪ আগস্ট, ১৯৪২ সালে কলকাতার পার্কস্ট্রিটে জন্মগ্রহণ করেন।
  • শহীদ কাদরী মূলত ষাটের দশকের কবি ছিলেন।
  • তাঁর প্রথম কবিতা 'এই শীতে' বুদ্ধদেব বসুর 'কবিতা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং সেদিনই তাঁর মা মৃত্যুবরণ করেন।
  • তিনি ১৯৭৩ সালে 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' এবং ২০১১ সালে 'একুশে পদক' লাভ করেন।
  • তিনি ২৮ আগস্ট, ২০১৬ সালে নিউইয়র্কের হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার শেষ ইচ্ছানুযায়ী ঢাকায় সমাহিত করা হয়।

শহীদ কাদরী রচিত গ্রন্থসমূহঃ

‘উত্তরাধিকার’ (১৯৬৭): এ কাব্যে মোট ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কবিতাগুলোর প্রতি পঙ্ক্তিতে তিনি দৃশ্যমান বস্তুকে দেখেছেন প্রবল অন্তরঙ্গে, মননের শাসনে ও আবেগের প্রাবল্যের যৌথ প্রচেষ্টায়। বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে। এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা ‘বৃষ্টি বৃষ্টিতে'।

‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' (১৯৭৪), 'কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই' (১৯৭৮), 'আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও' (২০০৯)।

বিখ্যাত পঙ্ক্তি: “ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবে। যাতে সেনাবাহিনী গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে...

কবিতা: 'ব্ল‍্যাক-আউটের পূর্ণিমায়'।

Content added By

শাকুর মজিদ

669
Content added By

শান্তনু কায়সার

654

শান্তনু কায়সার (৩০ ডিসেম্বর ১৯৫০ – ১২ এপ্রিল ২০১৭)

পরিচিতি:
বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক। ২০১৪ সালে প্রবন্ধে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

জন্ম ও পরিবার:

  • জন্ম: ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫০, চাঁদপুর জেলা, ফরিদগঞ্জ, সাচনমেঘ গ্রাম

  • পিতামাতা: সিরাজুল হক (পিতা), মাকসুদা খাতুন (মাতা)

শিক্ষা ও কর্মজীবন:

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি বিভাগে স্নাতকোত্তর

  • অধ্যাপনা করেছেন: কুমিল্লা সরকারি কলেজ, জামালপুর জাহেদা সাফির মহিলা কলেজ, লক্ষ্মীপুর চর আলেকজান্ডার কলেজ

  • এছাড়াও অধ্যাপনা করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে

  • অবসর গ্রহণের পর কুমিল্লা নগরীতে বসবাস ও লেখালেখিতে মনোনিবেশ

সাহিত্যকর্ম:

কবিতা:

  • রাখালের আত্মচরিত

  • শুভ সুবর্ণ জয়ন্তী

ছোটগল্প:

  • ফুল বাসে

  • পাখি ডাকে

  • অর্ধ শতাব্দী

উপন্যাস:

  • শকুন

নাটক:

  • তুমি

  • নাট্যত্রয়ী

প্রবন্ধ:

  • শওকত ওসমান

  • বঙ্কিমচন্দ্র

  • তৃতীয় মীর

  • গভীর গভীরতর অসুখ, গদ্যসত্তার জীবনানন্দ

সম্পাদনা:

  • খান মোহাম্মদ ফারাবী রচনাসমগ্র

মৃত্যু:

  • ১২ এপ্রিল ২০১৭

পুরস্কার ও সম্মাননা:

  • প্রত্যাশা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯০)

  • আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৫)

  • অদ্বৈত মলস্নবর্মণ স্মৃতি পুরস্কার, ভারত (১৯৯৯)

  • কুমিল্লার অদ্বৈত মল্লবর্মণ পুরস্কার (২০১৩)

  • জীবনানন্দ পুরস্কার (২০১৩)

  • বাংলা একাডেমি পুরস্কার (২০১৪)

  • কুমিল্লার কাগজ পুরস্কার (২০০৫)

স্মৃতিঃ
‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রবর্তন করা হয়েছে। এই পুরস্কার প্রতিবছর জন্মদিনে (৩০ ডিসেম্বর) ঘোষণা ও প্রয়াণ দিবসে (১১ এপ্রিল) বিজয়ীদের হাতে প্রদান করা হয়।

Content added By

শান্তিরঞ্জন ভট্টাচার্য

719
Content added By

শামসুদ্দীন আবুল কালাম

922
Content added By

শাহ মুহম্মদ সগীর

721

শাহ মুহম্মদ সগীর মধ্যযুগের প্রথম মুসলমান কবি হলেও মধ্যযুগের কবিদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন বলে তাঁকে প্রাচীন কবি বলা হয়। তিনি মূলত প্রাকৃত ভাবাপন্ন কবি। তাঁর কবিতায় আরবি ও ফারসি ভাষার ব্যবহারও লক্ষণীয়। তাঁর কাব্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কতিপয় শব্দের ব্যবহার লক্ষ করে ড. মুহম্মদ এনামুল হক তাঁকে চট্টগ্রামের অধিবাসী বলে বিবেচনা করেছেন।

  • শাহ মুহম্মদ সগীর আনুমানিক ১৪ শতকের শেষ থেকে ১৫ শতকের শুরুতে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
  • তিনি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম বাঙালি মুসলিম কবি।
  • গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে সগীর রচনা করেন 'ইউসুফ জোলেখা'

'ইউসুফ জোলেখা' অনুবাদ করেন শাহ মুহম্মদ সগীর। তিনি ফারসি (পারস্য) কবি আবদুর রহমান জামী রচিত 'ইউসুফ ওয়া জুলায়খা' থেকে বাংলায় 'ইউসুফ জোলেখা' নামে অনুবাদ করেন। এ কাব্যের পটভূমি ইরান।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম বাঙালি মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তিনি কাব্যচর্চায় গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন এবং তাঁর রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রি.) পারসি কবি আবদুর রহমান জামী রচিত 'ইউসুফ ওয়া জুলায়খা' থেকে বাংলায় 'ইউসুফ-জোলেখা' নামে অনুবাদ করেন। কোরআন ও বাইবেলের নৈতিক উপাখ্যান হিসেবে 'ইউসুফ জোলেখা'র কাহিনি বর্ণিত আছে। তৈমুস বাদশার কন্যা জোলেখার আজিজের সাথে বিবাহ হলেও ক্রীতদাস ইউসুফের (নবী) প্রতি প্রেমাসক্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু ইউসুফ (আঃ) তা এড়িয়ে যান। বিভিন্ন ঘটনার পরিক্রমায় ইউসুফ মিশরের অধিপতি হন এবং জোলেখার প্রতি তার মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে শেষে ধর্মান্তরের মাধ্যমে ইউসুফ-জোলেখার মিলন ঘটে । সুফিবাদীরা ইউসুফকে পরমাত্মা এবং জোলেখাকে জীবাতা হিসেবে উপস্থাপন করেন।

Content added By

শাহরিয়ার কবির

635
Content added By

শাহাদাৎ হোসেন

717
Content added By

শাহাদুজ্জামান

597
Content added By

শাহেদ আলী

659
Content added By

শিবকালী ভট্টাচার্য

617
Content added By

শিবনারায়ণ রায়

616

শিবনারায়ণ রায় (২০ জানুয়ারি ১৯২১ – ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৮)

পরিচিতি:
বিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি চিন্তাবিদ, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ এবং সাহিত্য সমালোচক। রাডিকাল মানবতাবাদী ও যুক্তিবাদী চিন্তাধারার পরিচিত মুখ।

জন্ম ও পরিবার:

  • জন্ম: ২০ জানুয়ারি ১৯২১, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

  • পিতা: উপেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষণ শাস্ত্রী, খ্যাতনামা সংস্কৃতবিদ

  • মাতা: রাজকুমারী রায়চৌধুরী, লেখিকা

  • পৈতৃক যোগ: পূর্ববঙ্গের বাকেরগঞ্জ জেলার রায়েরকাঠি রাজবংশ

  • ধর্ম: হিন্দু পরিবারের জন্ম হলেও জীবদ্দশায় নাস্তিক ও মানবতাবাদী

শিক্ষা:

  • ১৯৪২: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ., রেজিনা গুহ স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত

কর্মজীবন:

  • ১৯৪৫: কলকাতার সিটি কলেজে অধ্যাপনা শুরু

  • ১৯৬০: বোম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরাজী ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক

  • ১৯৬৩: অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতবিদ্যা বিভাগের প্রধান

  • ১৯৮১: অবসরে যান; ভারততত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান

  • দেশে ফেরার পর বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবনের অধ্যক্ষ

  • রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান

দর্শন ও ভাবধারা:

  • বিপ্লবী মানবেন্দ্রনাথ রায়ের অনুরাগী

  • নাস্তিক, যুক্তিবাদী ও মানবতাবাদী

  • মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষপুষ্ট

  • রবীন্দ্রচর্চায় বিশিষ্ট রসবেত্তা

  • রাডিক্যাল হিউম্যানিস্ট সংস্থার প্রাণপুরুষ

রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থসমূহ:

  • সাহিত্যচিন্তা

  • নায়কের মৃত্যু

  • কবির নির্বাসন ও অন্যান্য ভাবনা

  • রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপিয়র ও নক্ষত্রসংকেত

  • খাড়াইয়ের দিকে

  • স্বদেশ, স্বকাল, স্বজন

  • বিবেকী বিদ্রোহের পরম্পরা

  • বাঙালিত্বের খোঁজে ও অন্যান্য আলোচনা

  • প্রবাসের জার্নাল

  • মৌমাছিতন্ত্র

  • স্রোতের বিরুদ্ধে

  • গণতন্ত্র, সংস্কৃতি ও অবক্ষয়

  • রেনেসাঁস, লাঠি থেকে লাটাই, মাইকেল!মাইকেল!, কথারা তোমার মন

  • প্রবন্ধ ও গবেষণা: বিপ্লবী মানবেন্দ্রনাথ রায়ের জীবনী ও নির্বাচিত রচনা

শেষ জীবন ও মৃত্যু:

  • শেষদিন: শান্তিনিকেতন, বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু

  • মরদেহ চিকিৎসার জন্য দেহদান

  • মৃত্যু: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৮

Content added By

শিবনাথ শাস্ত্রী

624
Content added By

শিতালং শাহ

609
Content added By

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

548
Content added By

শুভাগত চৌধুরী

599
Content added By

শেখ ভানু

640
Content added By

শেখ মুত্তালিব

568
Content added By

শেখ ওয়াজেদ আলি

717

সরকারি কর্মকর্তা (ম্যাজিস্ট্রেট) এস. ওয়াজেদ আলি ছিলেন একজন উদার ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব। তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যে তিনি সাম্প্রদায়িকতামুক্ত দেশ গঠনের জন্য হিন্দু-মুসলিম ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান সম্বলিত সাহিত্য রচনায় প্রবৃত্ত হন। তিনি পরপর দুবার 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র সভাপতি ছিলেন।

  • এস. ওয়াজেদ আলি ৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৯০ সালে হুগলীর শ্রীরামপুরের বড়তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত মাসিকের নাম 'গুলিস্তা' (১৯২৫)।
  • তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্পগ্রন্থের নাম 'গুলদাস্তা' (১৯২৭)।
  • তিনি ১০ জুন, ১৯৫১ সালে কলকাতায় মারা যান।

সাহিত্যিক উপাদানসাহিত্যিক তথ্য
জন্মএস. ওয়াজেদ আলি ৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৯০ সালে হুগলীর শ্রীরামপুরের বড়তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
সম্পাদনাতাঁর প্রকাশিত ও সম্পাদিত মাসিকের নাম ‘গুলিস্তা’ (১৯২৫)।
প্রথম গল্পগ্রন্থতাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্পগ্রন্থের নাম ‘গুলদাস্তা’ (১৯২৭)।
সাহিত্যকর্ম

তাঁর প্রকাশিত সাহিত্যকর্মসমূহ:

গল্প: ‘মাশুকের দরবার' (১৯৩০), ‘দরবেশের দোয়া’ (১৯৩১), ‘বাদশাহী গল্প’ (১৯৪৪), ‘গল্পের মজলিস' (১৯৪৪), ‘ভাঙ্গাবাঁশী'।

ঐতিহাসিক উপন্যাস: ‘গ্রানাডার শেষ বীর' (১৯৪০)।

প্ৰবন্ধ:

‘অতীতের বোঝা’ (১৯১৯): এটি তাঁর প্রথম প্রবন্ধ যা প্রমথ চৌধুরীর ‘সবুজপত্র' পত্রিকায় ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়।
‘ভবিষ্যতের বাঙালি' (১৯৪৩): এটি সাম্প্রদায়িকতামুক্ত দেশ গঠনের জন্য হিন্দু-মুসলিম ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান সম্পর্কিত। এ গ্রন্থে তিনি বাংলাভাষীদের রাষ্ট্রগঠন সম্পর্কে ইঙ্গিত প্রদান করেন।
‘জীবনের শিল্প' (১৯৪১),
‘প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
‘আকবারের রাষ্ট্রসাধনা' (১৯৪৯),
‘মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ’,
‘ইকবালের পয়গাম' ।

ভ্রমণকাহিনি: ‘পশ্চিম ভারত' (১৯৪৮), ‘মোটরযোগে রাঁচি সফর' (১৯৪৯)।

Content added By

শেখ রেয়াজউদ্দীন আহমদ

646
Content added By

শেখ হবিবর রহমান

575
Content added By

শৈলন ঘোষ

599
Content added By

শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

547
Content added By

শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

561
Content added By

শিবরাম চক্রবর্তী

569
Content added By

সজনীকান্ত দাস

638
Content added By

সতীকান্ত গুহ

617
Content added By

সতীনাথ ভাদুড়ী

612
Content added By

সত্যজিৎ রায়

681

সত্যজিৎ রায় (১৯২১-১৯৯২) ছিলেন একজন বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা। চলচ্চিত্র নির্মাণের বাহিরে তিনি ছিলেন একাধারে কল্পকাহিনী লেখক, প্রকাশক, চিত্রকর এবং গ্রাফিক্স নকশাবিদ। তিনি উপমহাদেশের প্রথম অস্কার বিজয়ী। বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় চরিত্র ফেলুদা তাঁর অমর সৃষ্টি। তিনি ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের একমাত্র সন্তান। কলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায়।

চলচ্চিত্র :

  • পথের পাঁচালী: চলচ্চিত্রটি লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট বিভাগে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড (১৯৯২), কান চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কার লাভ করে।
  • অপরাজিত
  • অপুর সংসার [এই তিনটি চলচ্চিত্রকে একত্রে অপু ত্রয়ী বলা হয়]
  • অশনি সংকেত
  • হীরক রাজার দেশে
  • চারুলতা
  • গুপী গাইন বাঘা বাইন

পুরস্কার :

  • অস্কার
  • ডক্টরেট (Oxford University)
  • দাদাসাহেব ফালকে
  • ভারতরত্ন
Content added By

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

658

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৪-১৮৮৯)

সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সহোদর সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সাংবাদিক, লেখক ও পণ্ডিত। একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইনে বিশেষ ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তাঁর মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ দেয়। তিনি সামাজিক অসাম্য ও সাংস্কৃতিক অনগ্রসরতা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন।

  • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালে চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি Bengali Ryots: Their Rights and Liabilities (১৮৬৪) নামক গ্রন্থ লিখে খ্যাতি অর্জন করেন।
  • 'ভ্রমর' (১৮৭৪-৭৫), 'বঙ্গদর্শন' (১৮৭৭-৮২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
  • তিনি ১৮৮৯ সালে মারা যান।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্মসমূহঃ

  • উপন্যাস: 'কন্ঠমালা' (১৮৭৭), 'জলপ্রতাপ চাঁদ' (১৮৮৩), 'মাধবীলতা' (১৮৮৪)।
  • গল্পগ্রন্থ: 'রামেশ্বরের অদৃষ্ট' (১৮৭৭), 'দামিনী'।
  • প্রবন্ধ: 'যাত্রা' (১৮৭৫), 'সৎকার ও বাল্য বিবাহ'।
  • ভ্রমণকাহিনি: 'পালামৌ' (১৮৮০-৮২)।
Content added By

সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়

529
Content added By

সন্ধ্যাকর নন্দী

648
Content added By

সমরেশ বসু

566

সমরেশ বসু (১৯২৪–১৯৮৮)

জন্ম: ১১ ডিসেম্বর ১৯২৪
মৃত্যু: ১২ মার্চ ১৯৮৮
জন্মনাম: সুরথনাথ বসু
পরিচিতি: সমরেশ বসু
ছদ্মনাম: কালকূট, ভ্রমর
জাতীয়তা: ভারতীয়
পিতা: মোহিনীমোহন বসু
মাতা: শৈবালিনী বসু
শৈশব-কৈশোর: বিক্রমপুর (বাংলাদেশ), নৈহাটি (কলকাতার উপকণ্ঠ)


কর্মজীবন ও রাজনৈতিক জীবন

  • ১৯৪৩–১৯৪৯: ইছাপুর বন্দুক কারখানিতে কর্মরত

  • কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য; ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে জড়িত

  • ১৯৪৯–১৯৫০: রাজনৈতিক কারণে কারাবাসে ছিলেন, যেখানে রচনা করেন প্রথম উপন্যাস ‘উত্তরঙ্গ’

  • কারাবাস থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লেখালেখিকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ


সাহিত্যিক অবদান

  • উপন্যাস: ১২০টি উপন্যাস রচনা করেছেন

    • উল্লেখযোগ্য: নয়নপুরের মাটি (১৯৫২), উত্তরঙ্গ (১৯৫১), শ্রীমতি কাফে (১৯৫৩), বাঘিনী (১৯৬০), শেষ দরবার (১৯৬৩)

  • ছোটগল্প: ২০০টি প্রকাশিত

    • উল্লেখযোগ্য: মরশুমের একদিন (১৯৫৩), অকালবৃষ্টি (১৯৫৩), ষষ্ঠ ঋতু (১৯৫৬), মনোমুকুর (১৯৫৮), উত্থান (১৯৬৬)

  • কিশোর ও কিশোর উপন্যাস:

    • জনপ্রিয় চরিত্র: গোগোল

    • উল্লেখযোগ্য: গোগোলের কীর্তি, গোয়ায় গোগোলের প্রথম কীর্তি, গোরক্ষনাথবাবুর নোটবুক

  • নাটক: যেমন লেবার অফিসার / প্রেত (জেলবন্দি অবস্থায় রচিত)

  • প্রবন্ধ সংকলন: নিজেকে জানার জন্যে


পুরস্কার ও সম্মাননা

  • ১৯৫৯: আনন্দ পুরস্কার – শ্রীমতী কাফে

  • ১৯৮০: সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার – শাম্ব (কালকূট ছদ্মনামে)

  • ১৯৮৫: সন্তোষকুমার ঘোষ স্মৃতি পুরস্কার

  • ১৯৮৬: শিরোমণি পুরস্কার (এশিয়ান পেন্টস)

  • ১৯৯৩: মরণোত্তর আনন্দ পুরস্কার – দেখি নাই ফিরে


সাহিত্য শৈলী ও থিম

  • সামাজিক, রাজনৈতিক, শ্রমজীবী মানুষের জীবন

  • যৌনতা, মানবীয় মনস্তত্ত্ব, ভ্রমণধর্মী অভিজ্ঞতা

  • ছদ্মনামে বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত:

    • কালকূট: তীব্র, বিষাক্ত অভিজ্ঞতা এবং সমাজবিরোধী চিন্তা

    • ভ্রমর: ভ্রমণধর্মী, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা

Content added By

সমরেশ মজুমদার

713
২০১৫ সালে সমরেশ মজুমদার

সমরেশ মজুমদার (১৯৪২–২০২৩)

জন্ম: ১০ মার্চ ১৯৪২ (২৬ ফাল্গুন ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), গয়েরকাটা, পশ্চিমবঙ্গ
মৃত্যু: ৮ মে ২০২৩
পিতা: কৃষ্ণদাস মজুমদার
মাতা: শ্যামলী দেবী
জাতীয়তা: ভারতীয়
পেশা: কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, টেলিভিশন কাহিনিকার
বিশেষণ: ‘আরবান লেখক’ – শহরকেন্দ্রিক জীবনের বর্ণনায় পারদর্শী


শিক্ষা

  • প্রাথমিক শিক্ষা: ভবানী মাস্টারের পাঠশালা, গয়েরকাটা

  • বিদ্যালয়: জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল

  • স্নাতক: বাংলা, স্কটিশ চার্চ কলেজ, কলকাতা

  • স্নাতকোত্তর: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়


কর্মজীবন ও সাহিত্য চর্চা

  • আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত

  • গ্রুপ থিয়েটার এবং মঞ্চনাটক: প্রথম লেখা “অন্যমাত্রা” (মঞ্চনাটক হিসেবে)

  • প্রথম প্রকাশিত গল্প: “অন্যমাত্রা” – দেশ পত্রিকা, ১৯৬৭

  • প্রথম উপন্যাস: “দৌড়” (দেশ, ১৯৭৫)

  • গল্প, উপন্যাস, কিশোর সাহিত্য ও গোয়েন্দা কাহিনির পাশাপাশি টেলিভিশন চিত্রনাট্য রচনা


উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম

উপন্যাস:

  • উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ (ট্রিলজি)

  • সাতকাহন, তেরো পার্বণ, স্বপ্নের বাজার, উজান, গঙ্গা, ভিক্টোরিয়ার বাগান, আট কুঠুরি নয় দরজা, অনুরাগ

গল্পসংকলন:

  • একশো পঞ্চাশ, জীবনের যৌবন, বড় পাপ হে, বিনিসুতোয়, মানুষের মা, শরণাগত

কিশোর ও গোয়েন্দা সাহিত্য:

  • অর্জুন চরিত্রে জনপ্রিয়

  • ছোটগল্প ও উপন্যাসের মাধ্যমে শিশু পাঠকদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়


পুরস্কার ও সম্মাননা

  • আনন্দ পুরস্কার – ১৯৮২

  • সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার – ১৯৮৪

  • বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি, দিশারী ও চলচ্চিত্র প্রসার সমিতি – শ্রেষ্ঠ স্ক্রিপ্ট রাইটার – ১৯৮২

  • বঙ্কিম পুরস্কার – ২০০৯

  • বঙ্গবিভূষণ – ২০১৮, পশ্চিমবঙ্গ সরকার

জীবনধারা ও সাহিত্যিক শৈলী

  • শহর ও নগর জীবনের আলোকপাত

  • চা বাগান ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন চিত্রায়িত

  • গল্প বলার ভঙ্গি গতিশীল ও পাঠককেন্দ্রিক

  • ভ্রমণ, মানবীয় সম্পর্ক, দৈনন্দিন জীবনের দিক-দর্শন উপস্থাপন

Content added By

সমরেন্দ্রনাথ সেন

604
Content added By

সমর সেন

630

সমর সেন (১০ অক্টোবর ১৯১৬ – ২৩ আগস্ট ১৯৮৭)
সমর সেন একজন উল্লেখযোগ্য বাংলাভাষী স্বাধীনতা-উত্তর কালের ভারতীয় কবি ও সাংবাদিক। তিনি শিক্ষাবিদ দীনেশচন্দ্র সেনের পৌত্র।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন:
কলকাতার বাগবাজারে ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম অরুণচন্দ্র সেন। আদি নিবাস ঢাকার সুয়াপুর। ১৯৩২ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৩৬ সালে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে ইংরাজী সাহিত্যে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন এবং ১৯৩৮ সালে ইংরাজী ভাষা ও সাহিত্যের এম.এ পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন।

কর্মজীবন:
কিছু সময় অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর পুরো জীবন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্টেটসম্যান পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন। ১৯৫৭ সালে রাশিয়ান সাহিত্য অনুবাদের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নে যান। পরে হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ডনাও পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। নিজ প্রতিষ্ঠিত ইংরেজি পত্রিকা ফ্রন্টিয়ার-এর সম্পাদক হিসেবে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কাজ করেছেন।

কাব্যবিষয় ও বৈশিষ্ট্য:
৭১ বছরের জীবনে মাত্র ১২ বছর (১৯৩৪–১৯৪৬) কাব্যসাধনা করেন। নগর জীবনের ক্লেদ ও ক্লান্তি, মধ্যবিত্ত জীবনের প্রতি অবজ্ঞা এবং সংগ্রামী গণচেতনাকে তিনি কবিতায় তুলে ধরেছেন। রোমান্টিকতা বর্জিত, তীক্ষ্ণ ভাষায় লেখা তার কবিতা সাহিত্যজগতে আলাদা স্থান অধিকার করেছে। স্বাধীনোত্তর কালে বিপ্লবী বামপন্থী চিন্তাধারার সমর্থক ছিলেন।

কাব্যগ্রন্থ:

  • কয়েকটি কবিতা (১৯৩৭)

  • গ্রহণ (১৯৪০)

  • নানা কথা (১৯৪২)

  • খোলা চিঠি (১৯৪৩)

  • তিন পুরুষ (১৯৪৪)

  • সমর সেনের কবিতা (কবিতাসংগ্রহ, ১৯৫৪)

গদ্যগ্রন্থ:

  • বাবু বৃত্তান্ত (আত্মজীবনী, ১৯৭৮)

মৃত্যু: ২৩ আগস্ট, ১৯৮৭

Content added By

সমীর রায়চৌধুরী

613
Content added By

সমুদ্র গুপ্ত

687
Content added By

সাদাত হোসাইন

677
২০২৩ সালে সাদাত হোসাইন

সাদাত হোসাইন (জন্ম: ২১ মে ১৯৮৪)
সাদাত হোসাইন একজন বাংলাদেশী কবি, ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। নিজেকে গল্পকার হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন:
ঢাকার মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

কর্মজীবন:
ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ করার সময় ২০১৩ সালে তার প্রথম বই গল্পছবি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ছোটগল্প ও উপন্যাসের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনের জন্য নিয়মিত ছোটগল্প লিখেন।

উপন্যাস:

  • আমার আর কোথাও যাওয়ার নেই (২০১৪)

  • আরশিনগর (২০১৫)

  • অন্দরমহল (২০১৬)

  • মানবজনম (২০১৭)

  • নিঃসঙ্গ নক্ষত্র (২০১৮)

  • নির্বাসন (২০১৯)

  • অর্ধবৃত্ত (২০২০)

  • মেঘেদের দিন (২০১৯)

  • তোমার নামে সন্ধ্যা নামে (২০২০)

  • শেষ অধ্যায় নেই (২০২০)

  • ছদ্মবেশ (২০২০)

  • মরণোতম (২০২০)

  • স্মৃতিগন্ধা (২০২১)

  • বিভা ও বিভ্রম (২০২১)

  • সে এখানে নেই (২০২১)

  • ইতি স্মৃতিগন্ধা (২০২২)

  • প্রিয়তম অসুখ সে (২০২২)

গল্প:

  • গল্পছবি (২০১২)

  • জানালার ওপাশে (২০১৩)

কবিতা:

  • যেতে চাইলে যেও (২০১৫)

  • আমি একদিন নিখোঁজ হবো (২০১৭)

  • কাজল চোখের মেয়ে (২০১৮)

  • তোমাকে দেখার অসুখ (২০২০)

  • প্রণয়ে তুমি প্রার্থনা হও (২০২১)

চলচ্চিত্র:

  • পূর্ণদৈর্ঘ্য: গহীনের গান (২০১৯) – চিত্রনাট্য ও পরিচালনা

  • স্বল্পদৈর্ঘ্য: বোধ, দ্য সুজ (জুতা)

  • তথ্যচিত্র: কিংবদন্তি সৈয়দ আবদুল হাদী – চিত্রনাট্য ও পরিচালনা

পুরস্কার ও সম্মাননা:

  • শ্রেষ্ঠ পরিচালক, বাংলাদেশ শর্ট অ্যান্ড ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০১৬

  • চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড

  • SBSP-RP ফাউন্ডেশন সাহিত্য পুরস্কার

  • হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯

  • চোখ সাহিত্য পুরস্কার ১৪২৬

  • শুভজন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯

  • মার্ভেল অফ টুমরো ইনফ্লুয়েন্সার্স অ্যাওয়ার্ড ২০২১ (লেখক)

  • কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার ২০২১

Content added By

সাবিরিদ খান

694
Content added By

সুকুমার সেন

712

সুকুমার সেন (১৬ জানুয়ারি ১৯০০ – ৩ মার্চ ১৯৯২)

সুকুমার সেন ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্যবিশারদ। তিনি বৈদিক ও ধ্রুপদী সংস্কৃত, পালি, প্রাকৃত, বাংলা, আবেস্তা এবং প্রাচীন পারসিক ভাষায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব এবং পুরাণতত্ত্বেও তিনি তার বৈদগ্ধ প্রদর্শন করেছেন।

জন্ম ও পরিবার:
কলকাতার গোয়াবাগানের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।

  • পিতা: হরেন্দ্রনাথ সেন (বর্ধমান কোর্টের আইনজীবী)

  • মা: নলিনী দেবী

  • পৈতৃক নিবাস: বর্ধমান জেলার গোতান গ্রাম

শিক্ষাজীবন:

  • ১৯১৭: বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল, প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষা উত্তীর্ণ।

  • ১৯১৯: বর্ধমান রাজ কলেজ, I.A. পরীক্ষায় লেটার সহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ।

  • ১৯২১: কলকাতার সংস্কৃত কলেজ, B.A. পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে দ্বিতীয় স্থান।

  • ১৯২৩: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে M.A. প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান।

  • ১৯২৫: "Syntax of Vedic Prose" থিসিসের মাধ্যমে প্রেমচাঁদ-রায়চাঁদ বৃত্তি লাভ।

  • ১৯২৬: প্রথম গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত এশিয়াটিক সোসাইটি জার্নালে।

কর্মজীবন ও অবদান:

  • মধ্য ও আধুনিক বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক পদবিচারের উপর গবেষণা করে P.H.D. ডিগ্রি অর্জন।

  • প্রায় ১২,০০০ পুঁথি পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করেছেন।

  • জয়দেবের গীতগোবিন্দম্ কাব্যের প্রাচীন পুঁথি আবিষ্কার ও সম্পাদনা।

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যায় বিশেষ অবদান।

প্রধান গ্রন্থসমূহ:

  • ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্যকর্ম:

    • ভাষার ইতিবৃত্ত

    • Women's Dialect in Bengali

    • বাংলা স্থাননাম

    • রামকথার প্রাক-ইতিহাস

    • ভারত-কথার গ্রন্থিমোচন

    • A History of Brajabuli Literature

    • বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস (৫ খণ্ড)

    • বঙ্গভূমিকা

    • ইসলামি বাংলা সাহিত্য

    • কলিকাতার কাহিনী

    • ক্রাইম কাহিনীর কালক্রান্তি

    • বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা

    • বাঙ্গালা সাহিত্যে গদ্য

    • দিনের পরে দিন যে গেল (আত্মজীবনীমূলক)

    • ভারতীয় আর্য সাহিত্যের ইতিহাস

    • মধ্যযুগের বাংলা ও বাঙালী

সম্মাননা:

  • ১৯৬৪: রবীন্দ্র পুরস্কার (ভারতীয় আর্য সাহিত্যের ইতিহাসের জন্য)

  • এশিয়াটিক সোসাইটি ‘যদুনাথ সরকার পদক’

  • রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র ‘রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য’ উপাধি

  • ১৯৬৬ ও ১৯৮৪: আনন্দ পুরস্কার

  • ১৯৯০: পদ্মভূষণ (ভারত সরকার)

মৃত্যু:
১৯৯২ সালের ৩ মার্চ সুকুমার সেন মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

সুখময় ভট্টাচার্য

622
Content added By

সুচিত্রা ভট্টাচার্য

602
Content added By

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

622

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০)

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসী কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

  • সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ৩০ অক্টোবর, ১৯০১ সালে কলকাতার হাতিবাগানে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি 'সবুজপত্র', 'দৈনিক ফরওয়ার্ড', 'দি স্টেটসম্যান' ও 'লিটারেরি' পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।
  • তিনি 'পরিচয়' (১৯৩১) নামে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা। সম্পাদক ছিলেন। তিনি প্রায় ১২ বছর এ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।
  • তিনি ক্লাসিক কবি হিসেবে খ্যাত এবং বাংলা পঞ্চপাণ্ডবের একজন ।
  • তিনি ২০ জুন, ১৯৬০ সালে মারা যান।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহের নামঃ

‘ তন্বী’ (১৯৩০): এটি তার প্রথম কাব্য, যা তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য। ঋণ শোধের জন্য নয়, ঋণ স্বীকারের জন্য।’

‘ অর্কেস্ট্রা' (১৯৩৫): এ কাব্যের ২৫টি কবিতাই প্রেমের। প্রেমের নায়ক ভোগসর্বস্বতার শেষ পর্যায়ে ক্লান্তিবোধ করেছেন। ভেবেছেন দেহজ মিলনে যে তৃপ্তি, তারও এক সময় অবসান ঘটে, কিন্তু স্মৃতি বড় নির্মম। তাই সর্বত্রই এই স্মৃতি রোমন্থন দেখা যায়। যেমন-
‘একটি কথার দ্বিধা থর থর চূড়ে, ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী'।

‘ ক্রন্দসী' (১৯৩৭): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা ‘উটপাখি” (অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?)

‘ প্রতিধ্বনি' (১৯৫৪): এটি অনূদিত। ইউরোপের বিভিন্ন কবির কবিতার অনুবাদ ।

‘উত্তর ফাল্গুনী' (১৯৪০), ' সংবর্ত' (১৯৫৩),‘ প্রতিদিন’ (১৯৫৪), ' দশমী' (১৯৫৬)।

তাঁর রচিত অন্যান্য রচনাঃ

প্রবন্ধ: 'কাব্যের মুক্তি'- একে আধুনিক বাংলা কবিতার ইশতেহার হিসেবে গণ্য করা হয়।

গদ্যগ্রন্থ: 'স্বগত' (১৯৩৮), 'কুলায় ও কালপুরুষ' (১৯৫৭)।

Content added By

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

614

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (২৬ নভেম্বর ১৮৯০ – ২৯ মে ১৯৭৭)

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি ভাষাতত্ত্বজ্ঞ, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ, ধ্বনিবিজ্ঞান, প্রাচীন ভাষা ও তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে বিশেষ অবদান রেখেছেন।

জন্ম ও পরিবার:

  • জন্ম: ২৬ নভেম্বর ১৮৯০, হাওড়া জেলার শিবপুর, পশ্চিমবঙ্গ

  • পিতা: হরিদাস চট্টোপাধ্যায় (ইংরেজদের সদাগরি অফিসের কেরানি)

শিক্ষাজীবন:

  • ১৯০৭: মতিলাল শীল ফ্রি স্কুল, এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ৬ষ্ঠ স্থান

  • ১৯০৯: স্কটিশ চার্চ কলেজ, F.A. পরীক্ষায় ৩য় স্থান

  • ১৯১১: প্রেসিডেন্সি কলেজ, ইংরেজিতে B.A. (সম্মানসহ ১ম স্থান)

  • ১৯১৩: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, M.A. ইংরেজি (১ম স্থান)

  • ১৯১৮: সংস্কৃত শেষ পরীক্ষা উত্তীর্ণ, প্রেমচাঁদ-রায়চাঁদ বৃত্তি ও জুবিলি গবেষণা পুরস্কার

  • ১৯১৯-২১: লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধ্বনিবিজ্ঞানে ডিপ্লোমা এবং D.Litt. (ইন্দো-আরিয়ান ফিললজি)

  • প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাতত্ত্ব, প্রাচীন ভাষা, গ্রিক ও লাতিন ভাষা ও এশিয়াটিক ভাষাতত্ত্বে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণ

কর্মজীবন:

  • কলকাতা বিদ্যাসাগর কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির অধ্যাপক

  • কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘ ৩০ বছর কর্মরত

  • ১৯৫২ সালে এমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে পুনঃনিযুক্ত

রচনাবলী ও বৈজ্ঞানিক অবদান:

  • দি অরিজিন এন্ড ডেভেলপম্যান্ট অব দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ (৩ খণ্ড)

  • বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার

  • কিরাত জনকৃতি

  • ভারত-সংস্কৃতি (১৯৪৪)

  • বাঙ্গালা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা (১৯২৯)

  • পশ্চিমের যাত্রী (১৯৩৮)

  • জাতি সংস্কৃতি সাহিত্য (১৯৩৮)

  • ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা (১৯৪৪)

  • সংস্কৃতি কী

  • দ্বীপময় ভারত (১৯৬৫)

  • রবীন্দ্র সঙ্গমে (১৯৬৫)

  • শ্যামদেশ (১৯৬৫)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সান্নিধ্য:

  • ১৯২৭ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণসঙ্গী ছিলেন

  • ভ্রমণকালে বালি, জাভা, কুয়ালালামপুর, মালাক্কা, পেনাং, সিয়াম ও সিঙ্গাপুরে ছিলেন

  • এই সফরের অভিজ্ঞতা যাত্রী গ্রন্থে লিপিবদ্ধ

সম্মাননা ও খ্যাতি:

  • ১৯৩৫: রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো

  • ১৯৪৮: সাহিত্য বাচস্পতি উপাধি (হিন্দি ভাষায়)

  • ১৯৫০: লন্ডন সোসাইটি অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের সদস্য

  • ১৯৫২–৫৮: পশ্চিমবঙ্গ বিধান পরিষদের অধ্যক্ষ

  • ১৯৫৫: অসলোর নরওয়েজিয়ান অ্যাকাডেমির সদস্য

  • ১৯৬৩: পদ্মবিভূষণ (ভারত সরকার)

  • ১৯৬৬: ভারতের জাতীয় অধ্যাপক

  • ১৯৬৯: সাহিত্য অকাদেমি সভাপতি

  • কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি লাভ

মৃত্যু:
২৯ মে ১৯৭৭, ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ।

Content added By

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

684
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন বিশ শতকের শেষভাগে সক্রিয় একজন প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক। তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসেবে বাংলা সাহিত্যে অজস্র স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন। আধুনিক বাংলা কবিতার জীবনানন্দ-পরবর্তী প্রধান কবি এবং শিশুসাহিত্যে “কাকাবাবু-সন্তু” সিরিজের রচয়িতা হিসেবে সুপরিচিত। তিনি নীললোহিত, সনাতন পাঠক, নীল উপাধ্যায় ইত্যাদি ছদ্মনামে রচনা করেছেন।


জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

  • জন্ম: ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪, মাদারীপুর, বাংলাদেশ (ডাসার উপজেলা, মাইজপাড়া গ্রাম)

  • ৪ বছর বয়সে কলকাতায় আসেন

  • বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক, মা চাইতেন ছেলে শিক্ষক হোক না

  • পড়াশোনা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

শৈশব শিক্ষার প্রভাব:
সুনীলের পিতা তাকে টেনিসনের কবিতা অনুবাদ করার নিয়মিত অভ্যাস করান। এই অনুবাদের অভ্যাস থেকেই তার সাহিত্যিক যাত্রা শুরু।


সাহিত্যিক জীবন

  • প্রথম কাব্যগ্রন্থ: একা এবং কয়েকজন (১৯৫৮)

  • প্রথম উপন্যাস: আত্মপ্রকাশ (১৯৬৬)

  • উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: অরণ্যের দিনরাত্রি, প্রতিদ্বন্দ্বী, সেই সময়, অর্ধেক জীবন, পূর্ব-পশ্চিম, অর্জুন, প্রথম আলো, ভানু ও রাণু, মনের মানুষ ইত্যাদি

  • ছদ্মনাম নীললোহিতের মাধ্যমে সাহিত্যে একটি বিশেষ চরিত্রকেন্দ্রিক স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেন

  • শিশুসাহিত্যে কাকাবাবু-সন্তু সিরিজের জনপ্রিয় রচয়িতা

  • কবিতা: আধুনিক ও রোমান্টিক কবি, জীবনানন্দ পরবর্তী বাংলা কবিতার প্রধান কণ্ঠস্বর

  • গল্প ও প্রবন্ধ: শাজাহান ও তার নিজস্ব বাহিনী, আলোকলতার মূল, আমার জীবনানন্দ আবিষ্কার ইত্যাদি


টিভি ও চলচ্চিত্র

  • অরণ্যের দিনরাত্রি (সত্যজিৎ রায় পরিচালিত), প্রতিদ্বন্দ্বী, হঠাৎ নীরার জন্য চলচ্চিত্রায়িত

  • কাকাবাবু চরিত্রের চারটি গল্প চলচ্চিত্রায়িত: সবুজ দ্বীপের রাজা, কাকাবাবু হেরে গেলেন?, মিশর রহস্য, পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক


সম্মাননা

  • ১৯৭২ ও ১৯৮৯: আনন্দ পুরস্কার

  • ১৯৮৫: সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার

  • ২০০২: কলকাতার শেরিফ নির্বাচিত

  • ২০০৫ থেকে প্রতি বছর সুনীল সাহিত্য পুরস্কার প্রদান


মৃত্যু

  • মৃত্যু: ২৩ অক্টোবর ২০১২, হৃদ্‌যন্ত্রজনিত কারণে

  • শেষকৃত্য: ২৫ অক্টোবর ২০১২, কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ব্যবস্থাপনায়


প্রধান রচনাবলী

উপন্যাস:
ঐতিহাসিক, সেই সময়, প্রথম আলো, একা এবং কয়েকজন, পূর্ব-পশ্চিম, অর্ধেক জীবন, অরণ্যের দিনরাত্রি, অর্জুন, স্বর্গের নিচে মানুষ, রাধাকৃষ্ণ, প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

কবিতা:
কবিতা সমগ্র (৫ খণ্ড), আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি, একা এবং কয়েকজন, হঠাৎ নীরার জন্য, রাত্রির রদেভূ, স্মৃতির শহর, বাতাসে কিসের ডাক ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
শাজাহান ও তার নিজস্ব বাহিনী, আলোকলতার মূল, গল্প সমগ্র (৪ খণ্ড), পঞ্চাশটি প্রিয় গল্প, সুনীলের সেরা ১০১

নাটক:
প্রাণের প্রহরী, রাজা রাণী ও রাজসভায় মাধবী, মালঞ্চমালা, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজী

ছড়া:
ছড়া (২০১২)

অন্যান্য প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথা:
আমার জীবনানন্দ আবিষ্কার, ইতিহাসে স্বপ্নভঙ্গ, তাকাতে হয় পিছন ফিরে, সনাতন পাঠকের চিন্তা, সম্পাদকের কলমে, সৃষ্ট চরিত্র

Content added By

সুরমা জাহিদ

611
Content added By

সুফিয়া কামাল

829

সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯)

বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি, লেখিকা, সমাজসেবক, নারীবাদী ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ সুফিয়া কামাল। তাঁর কবিতার বিষয় প্রেম, প্রকৃতি, ব্যক্তিগত অনুভূতি, বেদনাময় স্মৃতি, জাতীয় উৎসবাদি, স্বদেশানুরাগ, ধর্মানুভূতি এবং মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর দমননীতির অংশ হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করলে তিনি তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

সুফিয়া কামাল ২০ জুন, ১৯১১ সালে বরিশালের শায়েস্তাবাদের রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- কুমিল্লা।

তিনি 'মহিলা পরিষদ' (১৯৭০) এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বর্তমানে এর নাম 'বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ'।

তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক মহিলা কবি সুফিয়া কামাল। তিনি 'জননী সাহসিকা' নামে পরিচিত।

তিনি ছিলেন রবীন্দ্র কাব্যধারার গীতিকবিতা রচয়িতা।

তিনি শিশুদের সংগঠন 'কচিকাঁচার মেলা' (১৯৫৬) প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬২), 'একুশে পদক' (১৯৭৬), 'বেগম রোকেয়া পদক' (১৯৯২), 'স্বাধীনতা পুরস্কার' (১৯৯৭) পান।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম ছাত্রী হলের নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামে 'বেগম সুফিয়া কামাল হল'।

সুফিয়া কামাল ১৯১৮ সালে কলকাতায় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'রোকেয়া হল' এর নামকরণ করা হয়।

তিনি ২০ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে মারা যান। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম নারী যাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

মাত্র বার বছর বয়সে মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। তখন নাম হয় সুফিয়া এন হোসেন। ১৯৩২ সালে নেহাল হোসেন যক্ষ্মা রোগে মারা গেলে ১৯৩৯ সালে তিনি চট্টগ্রামের লেখক কামালউদ্দিন আহমদকে বিয়ে করেন। তখন থেকে সুফিয়া কামাল নাম ব্যবহার করেন।

এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল তাঁর মেয়ে।

সুফিয়া কামাল রচিত প্রথম সাহিত্যকর্মের নাম

'সৈনিক বধূ' (১৯২৩): এটি তাঁর প্রথম গল্প, যা বরিশালের 'তরুণ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

'বাসন্তী' (১৯২৬): এটি তাঁর প্রথম কবিতা, যা 'সওগাত' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোঃ

'সাঁঝের মায়া' (১৯৩৮): এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্য। এর মুখবন্ধ লিখে দেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৮৪ সালে এটি রুশ ভাষায় সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়।

এ কাব্যের কবিতা: 'তাহারেই পড়ে মনে', 'রূপসী বাংলা'।

'উদাত্ত পৃথিবী' (১৯৬৪): এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'জাগো তবে অরণ্য কন্যারা', 'আমার দেশ'।

'মোর জাদুদের সমাধি পরে' (১৯৭২): এ কাব্যের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে লেখা।

'মায়া কাজল' (১৯৫১), 'মন ও জীবন' (১৯৫৭), 'শান্তি ও প্রার্থনা' (১৯৫৮), 'দিওয়ান' (১৯৬৬), 'অভিযাত্রিক' (১৯৬৯), 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' (১৯৭০)।

অভিযাত্রিক (কাব্য)

সুফিয়া কামাল

অভিযাত্রিক (উপন্যাস

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য রচনাবলিঃ

শিশুতোষ গ্রন্থ: 'নওল কিশোরের দরবারে' (১৯৮২): এ গ্রন্থের কবিতা 'সাম্য' (মিলিত সেবা ও সাম্য প্রীতিতে)।

'ইতল বিতল' (১৯৬৫)

গল্প : 'কেয়ার কাঁটা' (১৯৩৭)।

ভ্রমণকাহিনি: 'সোভিয়েতের দিনগুলো' (১৯৬৮)।

আত্মজীবনী : 'একালে আমাদের কাল' (১৯৮৮)।

স্মৃতিকথা : 'একাত্তরের ডায়েরী' (১৯৮৯)।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সুবিমল বসাক

685
Content added By

সুবিমল মিশ্র

674
Content added By

সুবোধ ঘোষ

618
Content added By

সুব্রত বড়ুয়া

658
Content added By

সুভাষ মুখোপাধ্যায়

636
Content added By

সুশান্ত মজুমদার

714
Content added By

সুশোভন সরকার

703
Content added By

সেলিনা পারভীন

646

সেলিনা পারভীন (৩১ মার্চ ১৯৩১ – ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১)

সেলিনা পারভীন ছিলেন একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক এবং স্বাধীনতার সময়কার বুদ্ধিজীবী। তিনি সাপ্তাহিক বেগম, ললনা, এবং শিলালিপি পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অংশ হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দালাল আল বদর কর্তৃক অপহৃত হয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। তার মৃতদেহ রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পাওয়া যায়।


জন্ম ও শৈশব

  • জন্ম: ৩১ মার্চ ১৯৩১, ফেনী, বাংলাদেশ

  • পিতা: মোঃ আবিদুর রহমান (শিক্ষক)

  • শৈশব থেকেই সাহিত্যে অনুরাগী, ষষ্ঠ শ্রেণিতে গল্প ও কবিতা লেখা শুরু করেন

  • মাত্র ১৪ বছর বয়সে প্রথম বিবাহ, যা ১০ বছর স্থায়ী হয়

  • পরবর্তীতে আবার পড়াশোনা চালিয়ে যান, যদিও মেট্রিকুলেশনে কৃতকার্য হননি


কর্মজীবন

  • ১৯৪৫ সাল থেকে লেখালেখি শুরু

  • ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের হল পরিচালক

  • পরে ললনা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন বিভাগের দায়িত্বে নিযুক্ত

  • ১৯৬৯ সালে বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের সাহায্যে প্রকাশ করেন শিলালিপি পত্রিকা

  • শিলালিপি: স্বাধীনতার পক্ষে এবং বুদ্ধিজীবীদের লেখা সম্বলিত, পাকিস্তান সরকার দ্বারা বারবার নিষিদ্ধ বা পুনর্নির্দেশিত


মুক্তিযুদ্ধে অবদান

  • ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ

  • ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় বাসা থেকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, ঔষধ ও অর্থ দিয়ে সহায়তা প্রদান

  • বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের সাহচর্য ও সহযোগিতা করেছিলেন


হত্যা

  • ১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১, সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা: পাকিস্তানি বাহিনী ও আল বদর সদস্যরা তার বাসায় প্রবেশ করে অপহরণ

  • ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১: রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্যাতনপূর্বক হত্যা

  • ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৭১: আজিমপুর কবরস্থানে শহিদদের জন্য সংরক্ষিত স্থানে সমাহিত


সেলিনা পারভীনের স্মৃতি

  • স্বাধীনতার জন্য তার সাহসী অবদান এবং সাংবাদিকতায় অদম্য নিষ্ঠার জন্য আজও তাকে স্মরণ করা হয়

  • শিলালিপি পত্রিকা এবং মুক্তিযুদ্ধের সহায়তার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন মর্যাদাপূর্ণ নারী হিসেবে স্থান অধিকার করেছেন

Content added By

সেলিনা হোসেন

712

সেলিনা হোসেন (১৯৪৭ - )

সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক। সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের সামগ্রিকতা তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয়। অবরুদ্ধ সমাজের মানুষের মুক্তিচিন্তা ও মুক্তির আকুতিকে তাঁর লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন।

  • সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরের সিরোইলে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রাম।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ঢাকার 'পূবালী' পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প প্রকাশিত হয়।
  • তিনি ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমির গবেষণা সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি বাংলা একাডেমির পরিচালক নিযুক্ত হন এবং ২০০৪ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
  • তিনি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দুই বছরের জন্য নিয়োগ পান।
  • বাংলা একাডেমির 'ধান শালিকের দেশ' পত্রিকাটি প্রায় ২০ বছর সম্পাদনা করেন।
  • তিনি ১৯৮০ সালে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭)’ লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধসমূহ:

‘স্বদেশে পরবাসী’ (১৯৮৫), ‘একাত্তরে ঢাকা' (১৯৯০), ‘নির্ভয় করো হে’ (১৯৯৮), ‘মুক্ত করো ভয়’ (২০০২), ‘ঘর গেরস্থির রাজনীতি' (২০০৭)।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থসমূহ:

‘উৎস থেকে নিরন্তর' (১৯৬৯): এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্পগ্রন্থ। ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি বিষয় এ গল্পগ্রন্থের গল্পের বিষয়।

‘পরজন্ম’ (১৯৮৬), ‘মানুষটি’ (১৯৯৩), “মতিজানের মেয়েরা’ (১৯৯৫), ‘অনূঢ়া পূর্ণিমা' (২০০০), ‘নারীর রূপকথা' (২০০৭)।

তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:

'জলোচ্ছ্বাস' (১৯৭২): দক্ষিণ বাংলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা, কাজল নদীর কূলে প্রতিকূল প্রকৃতি ও সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামশীল মানুষের জীবনধারা এ উপন্যাসের আলেখ্য।

'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন।

'যাপিত জীবন' (১৯৮১): এ উপন্যাসে ১৯৪৭-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের যাবতীয় ঘটনা কেন্দ্রীয় চরিত্র জাফর এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): এ উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ। চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।

'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত। 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' (১৯৮৯): নাচোলের তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত।

'কাকতাড়ুয়া' (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি।

'যুদ্ধ' (১৯৯৮): ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। এ উপন্যাসে ১১ নম্বর সেক্টরের নারী মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবির প্রসঙ্গ এসেছে।

'কাঠকয়লার ছবি' (২০০১): এটি চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে রচিত।

'আগস্টের একরাত' (২০১৩): এটি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের হত্যাকাণ্ডের পটভূমিতে রচিত মানবিক ট্রাজেডির উপাখ্যান। ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে ইতিহাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারে ৬১ জন সাক্ষী আদালতে যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, তারই পূর্ণাঙ্গ রূপ উপন্যাসটি।

'মগ্ন চৈতন্যে শিস' (১৯৭৯), 'নীল ময়ূরের যৌবন' (১৯৮২), 'চাঁদবেনে' (১৯৮৪), 'কালকেতু ও ফুল্লরা' (১৯৯২), 'ভালোবাসা প্রীতিলতা' (১৯৯২), 'পদশব্দ' (১৯৯২), 'টানাপোড়েন' (১৯৯৪), 'লারা' (২০০০), 'মোহিনীর বিয়ে' (২০০২), 'আণবিক আঁধার' (২০০৩), 'ঘুমকাতুরে ঈশ্বর' (২০০৪), 'মর্গের নীল পাখি' (২০০৫), 'অপেক্ষা' (২০০৭), 'পূর্ণছবির মগ্নতা' (২০০৮), 'যমুনা নদীর মুশায়রা' (২০০৯), 'গেরিলা ও বীরাঙ্গনা' (২০১৪)।

ত্রয়ী উপন্যাস: 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' (১ম খণ্ড- ১৯৯৪, ২য় খণ্ড-১৯৯৫, ৩য় খণ্ড- ১৯৯৬)। এ উপন্যাসটি রচিত হয়েছে ১৯৪৭-৭৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৮ বছরের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমিতে।

'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসঃ

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে যশোরের কালীগঞ্জের একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে সেলিনা হোসেন এ উপন্যাসটি রচনা করেন। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বুড়ি'র অল্পবয়সে বিয়ে হয় বিপত্নীক চাচাত ভাই গফুরের সাথে। গফুরের আগের ঘরের দুই ছেলে সলীম ও কলীম এবং বুড়ির নিজের বাক্ ও শ্রুতি প্রতিবন্ধী ছেলে রইসকে নিয়ে তার সংসার। এরই মধ্যে মারা যায় গফুর। দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। সলীম যুদ্ধে যায়। কলীমকে পাকিস্তানী সৈন্য ও দোসররা সলীমের চোখের সামনে নির্মমভাবে হত্যা করে। এমন পরিস্থিতিতে একদিন হাফেজ ও কাদের দুই মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করতে করতে শত্রুপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে আশ্রয় নেয় বুড়ির ঘরে। বুড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের প্রতিবন্ধী সন্তান রইসকে তুলে দেয় বন্দুকের নলের মুখে।

Content added By

সৈয়দ আলী আহসান

607
সৈয়দ আলী আহসান (১৯২২-২০০২)

সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী। তিনি ইকবাল ও ইলিয়ট এর নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ করেন; একদিকে ইসলামি ভাব ও বিষয় নিয়ে, অন্যদিকে লেনিন ও সামাজিক প্রসঙ্গ নিয়ে কবিতা রচনা করেন। ভাববস্তুতে ঐতিহ্য সচেতনতা, সৌন্দর্যবোধ ও দেশপ্রীতি ছিল তাঁর কবিতার বৈশিষ্ট্য। তিনি জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন।

  • সৈয়দ আলী আহসান ২৬ মার্চ, ১৯২২ সালে যশোরের (বর্তমান মাগুরা) আলোকদিয়া নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
  • মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক হিসেবে 'চেনাকণ্ঠ' ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমির পরিচালক (১৯৬০-৬৬) ছিলেন।
  • ১৯৩৭ সালে আরমানিটোলা বিদ্যালয়ে পড়ার সময় স্কুল ম্যাগাজিনে 'The Rose' নামে একটি ইংরেজি কবিতা ছাপা হয়।
  • তিনি 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬৭), 'একুশে পদক' (১৯৮৩), 'স্বাধীনতা পুরস্কার' (১৯৮৮) পান।
  • ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে 'জাতীয় অধ্যাপক' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
  • তিনি ২৫ জুলাই, ২০০২ সালে ঢাকায় মারা যান।

তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোঃ

কাব্যগ্রন্থ: 'অনেক আকাশ' (১৯৫৯), 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' (১৯৬৪), 'সহসা সচকিত' (১৯৬৫), 'আমার প্রতিদিনের শব্দ' (১৯৭৪), 'উচ্চারণ' (১৯৬৮), 'সমুদ্রেই যাব (১৯৮৭), 'রজনীগন্ধা' (১৯৮৮), 'প্রেম যেখানে সর্বস্ব'।

প্রবন্ধ: 'গল্পসঞ্চয়ন' (১৯৫৩)- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সহযোগে সম্পাদনা, 'নজরুল ইসলাম' (১৯৫৪)-সমালোচনা গ্রন্থ, 'কবিতার কথা' (১৯৫৭), 'কবি মধুসূদন (১৯৫৭), 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (১৯৫৬)- মুহম আবদুল হাই সহযোগে, 'সাহিত্যের কথা' (১৯৬৪) 'পদ্মাবতী' (১৯৬৮), 'মধুমালতি' (১৯৭২)।

অনুবাদগ্রন্থ: 'ইডিপাস' (১৯৬৩), 'হুইটম্যানের কবিতা' (১৯৬২)

শিশুতোষ : 'কখনো আকাশ' (১৯৮৪)।

আত্মজীবনী : 'আমার সাক্ষ্য' (১৯৯৪)।

Content added By

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী

599
Content added By

সৈয়দ মুজতবা আলী

674

প্রখ্যাত রম্য রচয়িতা, আজিজুল হক কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মুজতবা আলী কর্মসূত্রে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের স্ফূরণ ঘটিয়েছেন তাঁর বিভিন্ন রচনায়। সাহিত্যিক রসবোধ, বিচিত্র জীবনপ্রবাহের নানা অনুষঙ্গ কৌতুক ও ব্যঙ্গ রসাবৃত করে উপস্থাপন তাঁর রচনার মূখ্য প্রবণতা। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে তাঁর ছিল বিশেষ পাণ্ডিত্য। তিনি প্রায় ১৮টি ভাষা জানতেন। ফলে তাঁর রচনায় প্রচুর আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহার করতেন।

  • সৈয়দ মুজতবা আলী ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯০৪ সালে করিমগঞ্জ, সিলেটে ব্রিটিশ ভারতে সিলেট আসামের অন্তর্ভুক্ত ছিল, সুতরাং পরীক্ষায় জন্মস্থানের নাম আসামও থাকতে পারে। সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান। জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- হবিগঞ্জের (মৌলভীবাজার) উত্তরসূর গ্রাম।
  • তিনি ছিলেন মধ্যযুগের কবি সৈয়দ সুলতানের বংশধর।
  • তিনি কাবুলের কৃষিবিজ্ঞান কলেজে ফারসি ও ইংরেজি ভাষার প্রভাষক (১৯২৭) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে বরোদা কলেজের তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক পদে যোগদান (১৯৩৫), বগুড়া আজিজুল হক কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান (১৯৪৯), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান (১৯৫০) এবং সর্বশেষ বিশ্বভারতীর রিডার হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৬৫ সালের ৩০ জুন অধ্যাপনার কর্ম থেকেঅবসর গ্রহণ করেন।
  • আনন্দবাজার পত্রিকায় 'সত্যপীর' ও হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকায় 'রায়পিথোরা' নামে উপসম্পাদকীয় রচনা করতেন।
  • তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন।
  • তিনি ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে ঢাকায় মারা যান।

মুজতবা আলীর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনির নাম 'দেশে-বিদেশে' (১৯৪৯): এটি তাঁর প্রথম গ্রন্থ। এতে কাবুল শহরের কাহিনি স্থান পেয়েছে। এ গ্রন্থের অন্যতম পরিচ্ছেদ 'প্রবাস বন্ধু' ও 'গন্তব্য কাবুল'।

'জলে ডাঙায়' (১৯৬০): এটি একাধারে ভ্রমণকাহিনি ও শিশু-কিশোর উপন্যাস। এ গ্রন্থের অংশবিশেষ কাহিনি 'নীল নদ আর পিরামিডের দেশ'।

মুজতবা আলীর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মসমূহঃ

উপন্যাস: 'অবিশ্বাস্য' (১৯৫৪), 'শবনম' (১৯৬০), 'শহর-ইয়ার' (১৯৬৯), 'তুলনাহীনা'।

রম্যরচনা:

'পঞ্চতন্ত্র' (১৯৫২), 'ময়ূরকণ্ঠী' (১৯৫২), 'বড়বাবু' (১৯৬৫), 'কত না অশ্রুজল' (১৯৭১)।

ছোটগল্প: 'চাচা-কাহিনী' (১৯৫২), 'টুনিমেম' (১৯৬৩), 'রসগোল্লা' [মূলগল্প: ইংরেজি Custom Housel. 'পাদটীকা', 'রাজা-উজির', 'ধূপছায়া'।]

দেশে-বিদেশে (ভ্রমণকাহিনি)সৈয়দ মুজতবা আলী
পথে-প্রবাসে (ভ্রমণকাহিনি)অন্নদাশঙ্কর রায়
পঞ্চতন্ত্র (রম্যগল্প)সৈয়দ মুজতবা আলী
পঞ্চভূত (প্রবন্ধ)রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
Content added By

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

617
Content added By

সৈয়দ শামসুল হক

764

বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে সক্রিয় প্রখ্যাত সাহিত্যিক সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। ষাট-সত্তরের দশকে যখন যৌনতা চরম লজ্জার বিষয় তখনই তিনি যৌনগন্ধী সাহিত্য রচনা করেন। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাকে 'সব্যসাচী লেখক' বলা হয়।

  • সৈয়দ শামসুল হক ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • প্রখ্যাত লেখিকা ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক তাঁর স্ত্রী।
  • তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (কবির ইচ্ছানুযায়ী কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে তাকে সমাহিত করা হয়)

তাঁকে সব্যসাচী লেখক নামে অভিহিত করা হয়। সব্যসাচী অর্থ- যার ডান বাম দুই হাত সমানভাবে চলে। যে লেখক সাহিত্যের সকল শাখায় অবাধ বিচরণ করেন, তাকেই সব্যসাচী লেখক বলে। কিন্তু সে বিচারে সৈয়দ শামসুল হক সব্যসাচী লেখক নন। তিনি ও তাঁর সাহিত্যানুরাগী ব্যক্তিবর্গ তাকে সব্যসাচী লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে, সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম দিককার গ্রন্থগুলো তাঁর ভাইয়ের লক্ষ্মীবাজারের সব্যসাচী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হতো। সে দিক থেকেই তাকে সব্যসাচীর লেখক বলা হয়।

তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' পান (এ পুরস্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে কম বয়সী)। এছাড়াও তিনি ‘আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬৯), ‘একুশে পদক' (১৯৮৪), ‘স্বাধীনতা পুরস্কার' (২০০০) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো:

‘দেয়ালের দেশ': এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস । “নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ‘গেরিলা' নামে চলচ্চিত্রায়িত করেন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ ।

‘নীলদংশন' (১৯৮১): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ।

‘খেলারাম খেলে যা' (১৯৭৯) : আত্মসুখ সন্ধানী ও ভোগবাদী চেতনার চরিত্র বাবর আলীর মস্তিষ্ককোষে ক্রিয়াশীল ফ্রয়েডীয় লিবিডোর একাধিপত্যের কাহিনি এর বিষয়। যৌন সুরসুরি এ উপন্যাসে বিদ্যমান থাকায় একে ‘পিনআপ নভেল' বলা হয়। এ ধরনের উপন্যাসকে হুমায়ুন আজাদ ‘অপন্যাস’ বলেছেন।

‘এক মহিলার ছবি’ (১৯৫৯), ‘অনুপম দিন' (১৯৬২), ‘সীমানা ছাড়িয়ে' (১৯৬৪), ‘দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' (১৯৮৪), ‘আয়না বিবির পালা' (১৯৮৫), ‘স্তব্ধতার অনুবাদ' (১৯৮৭), ‘বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ' (১৯৮৯), ‘ত্রাহি’ (১৯৮৯), 'তুমি সেই তরবারি' (১৯৮৯), ‘মৃগয়ায় কালক্ষেপণ’ , ‘অন্য এক আলিখান’ , ‘একমুঠো জন্মভূমি' , ‘আলোর জন্য’ , ‘রাজার সুন্দরী' ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:

‘পরানের গহীন ভিতর' (১৯৮০): এটি আঞ্চলিক ভাষারীতিতে রচিত। ‘একদা এক রাজ্যে' (১৯৬১), ‘বিরতিহীন উৎসব' (১৯৬৯), ‘বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা' (১৯৭০), 'প্রতিধ্বনিগণ' (১৯৭৩), ‘অপর পুরুষ' (১৯৭৮), ‘আমি জন্মগ্রহণ করিনি' (১৯৯০), ‘ধ্বংসস্তূপে কবি ও নগর' (২০০৯), ‘নাভিমূলে ভষ্মাধার'

কাব্যনাট্য:

‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' (১৯৭৬) : এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য। এর রচনাকাল ১ মে থেকে ১৩ জুন, ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড শহরে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে মুক্তিবাহিনীর গ্রামে প্রবেশের ঘটনা এ নাটকে স্থান পেয়েছে।

‘নূরলদীনের সারা জীবন' (১৯৮২) : ১৭৮৩ সালের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সামন্তবাদ বিরোধী কৃষক নেতা নূরলদীনের সংগ্রাম নিয়ে রচিত এ নাটক। এ নাটকের বিখ্যাত উক্তি- ‘জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়'।

‘গণনায়ক’ (১৯৭৬), ‘এখানে এখন' (১৯৮৮), ‘ঈর্ষা’

প্রবন্ধঃ

‘হৃৎকলমের টানে' (১৯৯১)

শিশুতোষঃ

‘সীমান্তের সিংহাসন’, ‘আনু বড় হয়', ‘হডসনের বন্দুক'

‘তাস' (১৯৫৪), ‘শীত বিকেল' (১৯৫৯), ‘রক্তগোলাপ' (১৯৬৪), ‘আনন্দের মৃত্যু' (১৯৬৭), ‘প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান' (১৯৮২), ‘জলেশ্বরীর গল্পগুলো' (১৯৯০)।

Content added || updated By

সৈয়দ শাহনুর

662
Content added || updated By

সৈয়দ সুলতান

758

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগীয় কবি, বাংলা সুফী সাহিত্য ধারায় উল্লেখযোগ্য কবি, শাস্ত্রবিদ ও পীর সৈয়দ সুলতান। তিনি কাহিনিকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন এবং সুফি ভাবধারায় কাব্য রচনায় মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।

  • সৈয়দ মিনা ওরফে সৈয়দ সুলতান ১৫৫০ সালে হবিগঞ্জ জেলার লস্করপুর (প্রাচীন তরফ রাজ্যের রাজধানী) গ্রামে/চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার চক্রশালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • তিনি লস্করপুর গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে 'সুলতানশী হাবেলী' নামে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন এবং এ বাড়িতে বসেই সাহিত্যচর্চা করেন।
  • সৈয়দ সুলতানের রচনাবলি সম্পাদনা করেন ড. আহমদ শরীফ।
  • তিনি আনুমানিক ১৬৪৮ সালে মারা যান।

সৈয়দ সুলতানের গ্রন্থগুলো:

'নবীবংশ' (১৫৮৪): এটি আরবি কবি সা'লাবি কর্তৃক আরবি ভাষায় রচিত 'কাসাসুল আম্বিয়া' কাব্যের অনুসরণে রচিত। এটি দুটি খণ্ডে হযরত মুহম্মদ (স.) এর জীবনীকাব্য। এ কাব্যে হিন্দু দেবদেবীর (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, হরি, শিব, মহেশ্বর, বামন, রাম, কৃষ্ণ) উল্লেখ থাকলেও ইসলামের মাহাত্ম্য বর্ণনাই কবির উদ্দেশ্য ছিল। এ কাব্যের ২য় খণ্ডের নাম 'রসুল চরিত'। মধ্যযুগে রচিত হযরত মুহম্মদ (স.) এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী হিসেবে 'রসুল চরিত'ই শ্রেষ্ঠ কাব্য। এ কাব্যের শেষাংশে উল্লেখ আছে শবে মিরাজের ইতিহাস।

'শব-ই-মিরাজ', 'রসুল বিজয়', 'জ্ঞানপ্রদীপ', 'জ্ঞানচৌতিশা', 'জয়কুম রাজার লড়াই', 'ইবলিশনামা', 'মারফতী গান', 'পদাবলি', 'ওফাৎ-ই-রসুল'।

Content added By

সৈয়দ হামজা

635
Content added By

হর্ষ দত্ত

608
Content added By

হরিশ চন্দ্র মিত্র

690
Content added By

হাবীবুর রহমান

591
Content added By

হাসন রাজা

729

হাছন রাজা (২১ ডিসেম্বর ১৮৫৪ – ৭ ডিসেম্বর ১৯২২)

হাছন রাজা ছিলেন বাংলাদেশের একজন মরমী কবি ও বাউল শিল্পী। তিনি লালন শাহ-এর ধারাবাহিক পথিকৃৎ হিসেবে সমাদৃত। হাছন রাজার মরমী সাধনা দর্শনচেতনার সাথে সঙ্গীতের অনন্য সংযোগ ঘটিয়েছে। তার গান ও সাধনা জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে সর্বমানবিক চেতনার প্রতিফলন ঘটায়।


জীবনী

  • জন্ম ও পরিবার: হাছন রাজার জন্ম ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা নদীর তীরে লক্ষণছিরি (লক্ষণশ্রী) গ্রামে। তিনি জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলেন। তাঁর পূর্বপুরুষরা হিন্দু ছিলেন এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করেন।

  • শৈশব ও শিক্ষা: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ না করলেও হাছন রেজা ছিলেন স্বশিক্ষিত। তিনি সহজ-সরল ভাষায় সহস্রাধিক মরমী গান রচনা করেছেন।

  • যৌবনকাল ও বৈরাগ্য: প্রথম যৌবনে তিনি ভোগবিলাসী ছিলেন। পরবর্তীতে আধ্যাত্মিক স্বপ্ন ও বাস্তব ঘটনার প্রভাবে (যেমন ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে পোষা হাতির মৃত্যু) হাছন রাজার জীবনে বৈরাগ্য ও মরমী ভাবের সূচনা হয়। বিলাসবিলাসী জীবন পরিত্যাগ করে তিনি মানবসেবা ও জীবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।


সঙ্গীত সাধনা

হাছন রাজার গান ও সাধনার মূল বৈশিষ্ট্য:

  • ঈশ্বানুরক্তি, জগৎ জীবনের অনিত্যতা, মানুষের প্রমোদমত্তার প্রতি সচেতনতা

  • হিন্দু ও মুসলিম ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়

  • আঞ্চলিক শব্দ, গ্রামীণ সাবলীল ভাষা এবং লোকধারার ব্যবহার

  • 'হাছন উদাস' গ্রন্থে ২০৬টি গান সংকলিত, এছাড়া অন্যান্য পত্রপত্রিকায় আরও গান প্রকাশিত

  • প্রধান গ্রন্থসমূহ:

    • হাছন উদাস – সংকলিত গানসমূহ

    • শৌখিন বাহার

    • হাছন বাহার

কিছু জনপ্রিয় গান

  • "লোকে বলে বলেরে, ঘরবাড়ি ভালা নাই আমার"

  • "মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দী হইয়ারে"

  • "আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপরে"

  • "আমি যাইমুরে আল্লার সঙ্গে"

  • "একদিন তোর হইব রে মরন রে হাছন রাজা"


রবীন্দ্রনাথের মন্তব্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হাছন রাজার গানের দর্শনচিন্তাকে সমাদৃত করেছেন। ১৯২৫ সালের Indian Philosophical Congress-এ তিনি হাছন রাজার দুটি গান উদ্ধৃত করে পূর্ববঙ্গের গ্রামীণ দর্শনের প্রশংসা করেছেন।


মৃত্যু

হাছন রাজা ৬ ডিসেম্বর ১৯২২ সালে মৃত্যু বরণ করেন। তার সমাধি সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার গাজীর দরগায় অবস্থিত।

Content added By

হাসান আজিজুল হক

703

হাসান আজিজুল হক (১৯৩৯-২০২১)

বাংলাদেশের ছোটগল্পের ধারায় অত্যন্ত শক্তিমান লেখকরূপে স্বীকৃত হাসান আজিজুল হক। বস্তুবাদী চিন্তা-চেতনার আলোকে তিনি সমাজ জীবনের অবক্ষয়, সাম্প্রদায়িকতা, নিম্ন মধ্যবিত্ত জীবনের প্রকৃত রূপ, হতাশা ও দারিদ্র্যের নিখুঁত চিত্র নির্লিপ্ত শিল্পীর মত অঙ্কন করেছেন।

  • হাসান আজিজুল হক ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • রাজশাহী কলেজে পড়াকালীন ভাঁজপত্র 'চারপাতা'য় আমের মাহাত্ম্যবিষয়ক তাঁর প্রথম লেখা ছাপা হয়।
  • তিনি 'অসীমান্তিক' (১৯৯৮) নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
  • তিনি 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৭০), 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬৭), 'একুশে পদক' (১৯৯৯), 'আনন্দ পুরস্কার' (২০০৭) পান।
  • তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন এবং ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বঙ্গবন্ধু চেয়ার' পদের জন্য মনোনীত হন।
  • তিনি ১৫ নভেম্বর, ২০২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থগুলো:

‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ' (১৯৬৭): দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিচরিত্রের নৈতিক স্খলন, সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্ট কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত হয় ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থ ।

‘নামহীন গোত্রহীন' (১৯৭৫): এ গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক।

‘আমরা অপেক্ষা করছি' (১৯৮৮): এ গল্পগ্রন্থের গল্পগুলোতে নিম্ন মধ্যবিত্ত জীবনের চিত্র, দারিদ্র্যের কষাঘাতে বিবর্ণ নর- নারীর প্রেমহীনতা, অসুস্থ রাজনীতির কালো থাবায় সন্তানহারা পিতার শোক ইত্যাদি বিষয় ফুটে উঠেছে।

‘সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য' (১৯৬৪), ‘জীবন ঘষে আগুন’ (১৯৭৩), ‘পাতালে হাসপাতালে' (১৯৮১), ‘রাঢ়বঙ্গের গল্প’ (১৯৯১), ‘রোদে যাবো' (১৯৯৫), ‘মা মেয়ের সংসার’ (১৯৯৭), ‘বিধবাদের কথা ও অন্যান্য গল্প' (২০০৭)।

তাঁর প্রকাশিত উপন্যাসগুলোঃ

‘ আগুনপাখি ' (২০০৬): হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ 'আগুনপাখি' উপন্যাস। চরিত্র: মেঝ বউ।

‘সাবিত্রী উপাখ্যান' (২০১৩): ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন, ভারতের প্রথম নির্বাচন, ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি গঠন, জমিদারি ও মহাজনি প্রথা, ব্রাহ্মণধর্মীয় এক নারী ধর্ষণ নিয়ে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত এ উপন্যাস।

‘ বৃত্তায়ন’ (১৯৯১), ‘ শিউলি' (২০০৬), ‘ শামুক' (২০১৫)।

তাঁর অন্যান্য রচনাবলি:

প্রবন্ধ :

‘কথাসাহিত্যের কথকতা' (১৯৮১), ‘অপ্রকাশের ভার’ (১৯৮৮), 'চিন্তন কণা'।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক :

‘একাত্তর-করতলে ছিন্নমাথা ।

নাটক :

‘চন্দর কোথায়'।

শিশুসাহিত্য :

‘লালঘোড়া আমি' (১৯৮৪), 'ফুটবল থেকে সাবধান' (১৯৯৮)।

আত্মজীবনী :

'ফিরে যাই, ফিরে আসি’, ‘উঁকি দিয়ে দিগন্ত।

Content added By

হাসান ফকরী

610
Content added By

হাসান হাফিজুর রহমান

762

হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২-১৯৮৩)

বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমান। তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মে জনজীবনের প্রত্যাশা, যন্ত্রণা, প্রতিবাদ ও মানুষের সংগ্রামী জীবনচেতনার প্রকাশ ঘটেছে। ১৯৬৭-তে পাকিস্তানি শাসকচক্র কর্তৃক বাংলা বর্ণমালা ও বানান সংস্কার এবং পাকিস্তানের আদর্শ পরিপন্থী বলে রেডিও-টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধের ঘৃণ্য চক্রান্তের প্রতিবাদে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

  • হাসান হাফিজুর রহমান ১৪ জুন, ১৯৩২ সালে জামালপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রাম।
  • ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ঐ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'অমর একুশে' প্রকাশিত হয়।
  • ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি ছিল বাংলা ৮ই ফাল্গুন। তিনি ১৯৫২ সালে 'বেগম' পত্রিকায়, ১৯৫৩ সালে 'সওগাত' পত্রিকায় এবং ১৯৫৫ সালে 'দৈনিক ইত্তেহাদ' পত্রিকায় এবং ১৯৬৫ সালে 'দৈনিক পাকিস্তান' পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • ১৯৭১ সালে কমিল্লার এক গ্রাম থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেন।
  • তিনি 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬৭), 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৭১), 'একুশে পদক'-মরণোত্তর (১৯৮৪) লাভ করেন।
  • তিনি ১৭ জানুয়ারি হার্ট, লিভার ও কিডনির চিকিৎসার জন্য রাশিয়া গমন করেন এবং ১ এপ্রিল, ১৯৮৩ সালে মস্কোতে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি সম্পাদনা করেন:

'একুশে ফেব্রুয়ারি' (১৯৫৩): এটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন। 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি এতে প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছিল, তাদের স্মরণে এ সংকলনটি ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত হয় এবং প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যেই পাকিস্তান সরকার এটি নিষিদ্ধ করেন। এ সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নক্শা ও ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২জন লেখকের রচনা রয়েছে। এটি পুঁথিঘর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় এবং এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।

'বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র' (১৯৮২-৮৩)-১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প' এর প্রধান নিযুক্ত হন। তাঁর সম্পাদনায় এটি ১৫ খণ্ডে ১৯৮২-৮৩ সালে প্রকাশিত হয়।

তাঁর কাব্যসমূহ:

'বিমুখ প্রান্তর' (১৯৬৩): এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্য।

'অমর একুশে' এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

'যখন উদ্যত সঙ্গীন' (১৯৭২): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্য।

এ কাব্যের বিখ্যাত কবিতা 'তোমার আপন পতাকা'।

'আর্ত শব্দাবলী' (১৯৬৮), 'অন্তিম শরের মতো' (১৯৬৮), 'শোকার্ত তরবারী' (১৯৮২), 'ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী' (১৯৮৩)।

প্রবন্ধ:

‘আধুনিক কবি ও কবিতা' (১৯৬৫), ‘মূল্যবোধের জন্য' (১৯৭০), ‘আলোকিত গহবর' (১৯৭৭), ‘সাহিত্য প্রসঙ্গ' (১৯৭৩)।

Content added By

হাসিরাশি দেবী

632
Content added By

হায়াৎ মামুদ

828
Content added By

হিমানী বন্দ্যোপাধ্যায

659
Content added By

হুমায়ুন আজাদ

771

হুমায়ুন আজাদ (১৯৪৭-২০০৪)

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ ছিলেন প্রথাবিরোধী লেখক। ধর্মীয় মৌলবাদীদের মুখোশ উন্মোচন, লৈঙ্গিক বৈষম্যে বিশ্বাসহীন, রাজনৈতিক অসাম্যের প্রতি শ্লেষ এবং সমালোচনামূলক বক্তব্যের জন্য আশির দশক থেকে পাঠকগোষ্ঠীর ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

  • হুমায়ুন আজাদ ২৮ এপ্রিল, ১৯৪৭ সালে বিক্রমপুরের রাঢ়িখালে জন্মগ্রহণ করেন।
  • পিতৃপ্রদত্ত নাম হুমায়ুন কবির। ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮ সালে নাম পরিবর্তন করে হুমায়ুন আজাদ নাম গ্রহণ করেন। তিনি আমৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার অধ্যাপক ছিলেন।
  • তিনি 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৮৬), 'একুশে পদক' (২০১২, মরণোত্তর) লাভ করেন।
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঘাতকদের হামলার শিকার হন। সুস্থ হয়ে ৭ আগস্ট, ২০০৪ সালে বিখ্যাত কবি হাইনরিশ হাইনের ওপর গবেষণা বৃত্তি নিয়ে জার্মানী গমন করেন।
  • তিনি ১১ আগস্ট, ২০০৪ সালে জার্মানির মিউনিখে মৃত্যুবরণ করেন। ১২ আগস্ট তার রুম থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ:

'অলৌকিক ইস্টিমার' (১৯৭৩): এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্য। তিনি এটি ১৯৬৮-৭২ এর প্রতিটি রাতদিনগুলোর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।

'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' (১৯৮৫): তিনি কাব্যটি হুমায়ূন আহমেদ ও ইমদাদুল হক মিলনকে উৎসর্গ করেন।

'কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' (১৯৯৮): তিনি কাব্যটি তাঁর 'প্রিয় মৃতদের জন্য' উৎসর্গ করেন।

'জ্বলো চিতাবাঘ' (১৯৮০), 'যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল' (১৯৮৭), 'আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে' (১৯৯০), 'পেরোেনার কিছু নেই' (২০০৪)।

তাঁর উপন্যাসসমূহ:

'আব্বুকে মনে পড়ে' (১৯৮৯): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস। এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ১৯৭১ সালের চার বছরের এক শিশু। যার মানসপটে বার বার ভেসে ওঠে যুদ্ধ করতে যাওয়া তার বাবার স্মৃতি।

'পাক সার জমিন সাদ বাদ' (২০০৪): বাংলাদেশে যখন মৌলবাদের থাবা ভয়ানকভাবে বিস্তার করে, তখন তিনি এটি রচনা করেন। এ গ্রন্থে লেখক ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতাকারী রাজনৈতিক দল 'জামায়াতে ইসলামী'কে ফ্যাসিবাদী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে এর কঠোর সমালোচনা করেন।

'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪), 'সব কিছু ভেঙ্গে পড়ে' (১৯৯৫), 'মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ' (১৯৯৬), 'যাদুকরের মৃত্যু' (১৯৯৬), 'রাজনীতিবিদগণ' (১৯৯৮), 'কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ' (১৯৯৯), 'নিজের সঙ্গে নিজের জীবনের মধু' (২০০০), 'ফালি ফালি করে কাটা চাঁদ' (২০০১), 'শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা' (২০০২), '১০,০০০ এবং আরো একটি ধর্ষণ' (২০০৩), 'একটি খুনের স্বপ্ন' (২০০৪)।

তাঁর অন্যান্য রচনাবলি:

সমালোচনা প্রবন্ধ:

'নারী' (১৯৯২): এটি বহুল আলোচিত-সমালোচিত নারীবাদী গবেষণামূলক গ্রন্থ। ১৯৯৫-২০০০ সাল পর্যন্ত এটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছিলো।

'নিবিড় নীলিমা' (১৯৯২), 'মাতাল তরণী' (১৯৯২), 'নরকে অনন্ত ঋতু' (১৯৯২), জলপাই রঙের অন্ধকার' (১৯৯২), 'রবীন্দ্রপ্রবন্ধ: রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা (১৯৯৩), 'শামসুর রাহমান: নিঃসঙ্গ শেরপা' (১৯৯৩), 'সীমাবদ্ধতার সূত্র'

(১৯৯৩), 'আধার ও আধেয়' (১৯৯৩), 'আমার অবিশ্বাস' (১৯৯৭), 'মহাবিশ্ব' (২০০০), 'দ্বিতীয় লিঙ্গ' (২০০১, মূল: সিমোন দ্য বোভোয়ার), 'আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম' (২০০৩)।

কিশোর সাহিত্য:

'কতো নদী সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী' (১৯৮৭): এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধ 'বাংলা ভাষার জন্মকথা', 'বাঙলা শব্দ'।

'লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী' (১৯৭৬), 'ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না' (১৯৮৫), 'আব্বুকে মনে পড়ে' (১৯৮৯), 'বুক পকেটে জোনাকি পোকা' (১৯৯৩), 'আমাদের শহরে একদল দেবদূত (১৯৯৬), গন্ধরাজ (২০০৩), 'Our Beautiful Bangladesh' (২০০৪)।

কবিতা:

'ফাগুন মাস': ভাষা আন্দোলনকেন্দ্রিক কবিতা।

ভাষাতত্ত্ব: 'Pronominalization in Bengali' (১৯৮৩), 'বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্র' (১৯৮৩), 'বাক্যতত্ত্ব (১৯৮৪) 'বাঙলা ভাষা' (প্রথম খণ্ড-১৯৮৪, দ্বিতীয় খণ্ড-১৯৮৫), 'তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষা বিজ্ঞান' (১৯৮৮), 'অর্থবিজ্ঞান' (১৯৯৯)।

অন্যান্য সাহিত্যকর্ম: সাক্ষাৎকার (১৯৯৪), আততায়ীদের সঙ্গে কথোপকথন (১৯৯৫), বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময়।

Content added By

হুমায়ুন কবীর

611
Content added By

হুমায়ূন আহমেদ

672

হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২)

বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যিক হিসেবে সমধিক খ্যাত। আধুনিক ঔপন্যাসিকদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক জনপ্রিয়। তাঁর সংলাপপ্রধান গল্প ও উপন্যাসে খুব অল্প বাক্যে তিনি একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারতেন এবং অতিবাস্তব বিষয়গুলি এমনভাবে অনায়াসে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করতেন যেন মনে হয় যাদু বাস্তবতা। যথেষ্ট সমাজসচেতন হয়েও তাঁর রচনায় কোনো রাজনৈতিক প্রণোদনা নেই।

  • হুমায়ূন আহমেদ ১৩ নভেম্বর, ১৯৪৮ সালে কৃষ্ণপক্ষের শনিবার রাত ১০.৩০ মিনিটে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস নেত্রকোনার কুতুবপুর।
  • তাঁর ডাক নাম কাজল। পিতৃপ্রদত্ত নাম শামসুর রহমান।
  • কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব তাঁর ভাই।
  • তিনি পলিমার কেমিস্ট্রি বিষয়ের উপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভকরেন।
  • তিনি ১৯৭৩ সালে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভৌতরসায়নের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে যোগ দেন।
  • বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথিকৃৎ হুমায়ূন আহমেদ। ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা' (১৯৭৩) প্রথম বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্য।
  • হুমায়ুন আহমেদ এর সৃষ্ট লজিক ও অ্যান্টি লজিক নিয়ে কাজ করা দুটি অমর চরিত্র মিসির আলী ও হিমু। মিসির আলী বাস্তববাদী, যুক্তিনির্ভর ও রহস্যময় চরিত্র। মিসির আলী চরিত্রের প্রথম উপন্যাস 'দেবী' (১৯৮৫)। হিমুর আসল নাম হিমালয়। পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবী তার পোশাক। নব্বইয়ের দশকে ‘ময়ূরাক্ষী' (১৯৯০) উপন্যাসের মধ্য দিয়ে হিমুর আত্মপ্রকাশ ।
  • গাজীপুরের ‘নুহাশ পল্লী' তাঁর নির্মিত বাগানবাড়ি।
  • তিনি ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৮১), ‘একুশে পদক' (১৯৯৪) লাভ করেন ।

তাঁর উপন্যাসসমূহ:

‘নন্দিত নরকে' (১৯৭২): এটি প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হলেও তাঁর লেখা দ্বিতীয় উপন্যাস। ১৯৭০ সালে তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে অধ্যয়নরত এবং হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র, তখন তিনি এটি রচনা করেন। এটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক আহমদ ছফার উদ্যোগে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় এবং এ উপন্যাসটির ভূমিকা স্বপ্রণোদিত হয়ে লিখে দেন অধ্যাপক আহমদ শরীফ। চরিত্র: রাবেয়া।

‘শঙ্খনীল কারাগার’ (১৯৭৩): বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের প্রভাষক থাকাকালে তিনি এ উপন্যাসটি রচনা করেন।

‘কোথাও কেউ নেই' (১৯৯২) : চরিত্র- বাকের ভাই ।

‘কে কথা কয়' (২০০৬): উপন্যাসটি অটিজম নিয়ে রচিত। এ উপন্যাসে গণিতে আগ্রহী দশ-এগারো বছর বয়সী অটিস্টিক শিশু কমল ও ২৭ বছর বয়সী বেকার যুবক মতিন নামের চরিত্রকে কেন্দ্র করে একটি শিশুর আত্মানুসন্ধান ও সত্যান্বেষণের প্রয়াস লক্ষ করা যায়। উপন্যাসের শেষে কমল সত্যান্বেষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং মতিন সত্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করে। উজবেক কবি নদ্দিউ নতিম নামে এক কাল্পনিক চরিত্রও রয়েছে।

'দেয়াল' (২০১২) : এটি রাজনৈতিক উপন্যাস। (সর্বশেষ উপন্যাস)

‘আমার আছে জল' (১৯৮৫), 'নিশিথিনী' (১৯৮৭), ‘সম্রাট’ (১৯৮৮), 'রজনী' (১৯৮৯), 'বহুব্রীহি' (১৯৯০), 'এইসব দিনরাত্রি' (১৯৯০), 'ময়ূরাক্ষী' (১৯৯০), ‘অয়োময়’ (১৯৯০), ‘শ্রাবণ মেঘের দিন' (১৯৯৪), ‘গৌরিপুর জংশন' (১৯৯৫), ‘কবি' (১৯৯৬), ‘দূরে কোথাও' (১৯৯৭), ‘ইস্টিশন' (১৯৯৯), ‘বৃষ্টিবিলাস' (২০০০), ‘নক্ষত্রের রাত’ (২০০৩), ‘এপিটাফ' (২০০৪), ‘লীলাবতী' (২০০৫), 'মধ্যাহ্ন' (২০০৮), ‘মাতাল হাওয়া' (২০১০) বাদশাহ নামদার, অপেক্ষা, আমার শাদা বাড়ি, যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ ।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহঃ

'আগুনের পরশমণি' (১৯৮৬): ঢাকায় গেরিলা অপারেশন,গেরিলাদের গোপন তৎপরতা, স্বাধীনতা সমর্থনকারী ও বিরোধিতাকারী চরিত্রের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে এ উপন্যাসে। এ উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা শহরের একটি বাড়ি। মতিন সাহেব তার স্ত্রী সুরমা, দুই মেয়ে রাত্রি আর অপালা, গৃহকর্মী বিন্তিকে নিয়ে থাকেন এ বাড়িতে। তাদের বাসায় সাময়িক সময়ের জন্য থাকতে আসেন মতিন সাহেবের বন্ধুর ছেলে বদিউল আলম বদি। সে একজন মুক্তিযোদ্ধা। রাত্রি প্রথমদিকে বদিকে অপছন্দ করলেও শেষে ভালোবেসে ফেলেন। একদিন পাক বাহিনির সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে আহত হয় বদি। কারফিউ থাকার কারণে বদিকে ডাক্তারের কাছে নেয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। ভোর হলে নিতে পারবে বদিকে ডাক্তারের কাছে। শুরু হয় অপেক্ষমান এক রজনীর। এভাবেই শেষ হয় উপন্যাসের কাহিনি। উপন্যাসটির চলচ্চিত্ররূপ আটটি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

'১৯৭১' (১৯৮৬): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

'জোছনা ও জননীর গল্প' (২০০৪): উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাসের বর্ণনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উঠে এসেছে এ উপন্যাসটিতে। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, মুক্তিযুদ্ধের বিবরণ, ঐতিহাসিক চরিত্র ও তার ভূমিকা, ঔপন্যাসিকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে উপন্যাসটি।

'শ্যামল ছায়া' (২০০৩): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭১ সালের মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে থাকে। এমনই একদল আশ্রয় সন্ধানীর পলায়নের কাহিনি উপন্যাসটির মূল বিষয়। ২০০৪ সালে উপন্যাসটি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 'সূর্যের দিন', 'সৌরভ', 'নির্বাসন', 'অনিল বাগচীর একদিন'।

তাঁর যে সকল উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র চিত্রায়িত হয়ঃ

'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৯২), 'আগুনের পরশমণি' (১৯৯৪), 'শ্রাবণ মেঘের দিন' (১৯৯৯), 'দুই দুয়ারী' (২০০০), 'চন্দ্রকথা (২০০৩), 'শ্যামল ছায়া' (২০০৪), 'দূরত্ব' (২০০৬), 'নন্দিত নরকে' (২০০৬), 'নিরন্তর' (২০০৬), 'নয় নম্বর বিপদ সংকেত' (২০০৬), 'দারুচিনি দ্বীপ' (২০০৭), 'সাজঘর' (২০০৭), 'আমার আছে জল' (২০০৮), 'প্রিয়তমেষু' (২০০৯), 'ঘেঁটুপুত্র কমলা' (২০১২-এটি তাঁর নির্মিত সর্বশেষ চলচ্চিত্র), 'অনিল বাগচীর একদিন' (২০১৫- এটি তাঁর মৃত্যুর পরে নির্মিত হয়)। [ব্রাকেটে দেয়া সালগুলো চলচ্চিত্র নির্মিত হওয়ার সময়কাল, উপন্যাস প্রকাশের সাল নয়]

তাঁর যে সকল উপন্যাস অবলম্বনে নাটক চিত্রায়িত হয়:

'প্রথম প্রহর', 'এইসব দিনরাত্রি', 'বহুব্রীহি', 'কোথাও কেউ নেই', 'নক্ষত্রের রাত', 'অয়োময়', 'আজ রবিবার', 'নিমফুল', 'তারা তিনজন', 'আমরা তিনজন', 'মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম', 'সবুজ সাথী', 'উড়ে যায় বকপক্ষী', 'এই মেঘ এই রৌদ্র'।

তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থসমূহ:

'আমার ছেলেবেলা' (১৯৯১), 'বলপয়েন্ট' (২০০৯), 'কাঠপেন্সিল' (২০১০), 'রংপেন্সিল' (২০১১), 'লীলাবতীর মৃত্যু' (২০১৪)।

রজনী (উপন্যাস)বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
রজনী (উপন্যাস)হুমায়ূন আহমেদ
দেয়াল (উপন্যাস)হুমায়ূন আহমেদ
দেয়াল (উপন্যাস)আবু জাফর শামসুদ্দীন
এলেবেলে (রম্যগল্প)হুমায়ুন আহমদ
এলেবেলে (নাটক)জিয়া হায়দার

তাঁর গল্পগ্রন্থসমূহ:

'এলেবেলে' (রম্য), 'আনন্দবেদনার কাব্য', 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' (গল্প)।

'দেয়াল' উপন্যাসঃ

জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ এর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিত্তিক উপন্যাস 'দেয়াল' (২০১২)। এটি তাঁর রচিত সর্বশেষ উপন্যাস যা লেখকের মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থাকারে প্রকাশের পূর্বেই এটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় এবং তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে এর কিছু অংশ পরিমার্জন করে প্রকাশ করা হয়। এ উপন্যাসে লেখার মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতির চরিত্র ও ঘটনাবলি নিজ ভাষা ও কল্পনাপ্রসূত ঢঙে চিত্রায়িত করেছেন। এখানে লেখক বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে সমসাময়িকভাবে নিজেকেও উপস্থাপন করেছেন উল্লেখযোগ্য চরিত্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, খালেদ মোশাররফ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, অর্থের তাহের, অবন্তি, চা বিক্রেতা কাদের বাঙ্গালি।

Content added By

হুমায়ূন কবীর ঢালী

701

হুমায়ূন কবীর ঢালী (জন্ম: ১ এপ্রিল ১৯৬৬)

হুমায়ূন কবীর ঢালী বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক। তিনি দেশি শিশুসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং তার লেখা শিশুসাহিত্য বিদেশেও প্রশংসিত হয়েছে। তার বই গ্রিস, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা, এবং ওড়িয়া ভাষায়ও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন

হুমায়ূন কবীর ঢালী জন্মগ্রহণ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইলে। তার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুর জেলার সিকিরচর গ্রামে। কলেজ জীবন থেকেই তিনি লেখালেখি শুরু করেন, মূলত প্রেমভিত্তিক উপন্যাস লিখেছিলেন। পরে শিশুসাহিত্যিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।

সাহিত্যিক কর্ম

তিনি প্রায় নব্বইটি বই রচনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলী:

  • শিশুসাহিত্য ও গল্প: পিতাপুত্র, বিশটি কিশোর গল্প, একাত্তরের মিলিটারি ভূত, ক্লাসমেট, লজিংবাড়ি, এক যে ছিল হাঙ্গর, কালোমূর্তি রহস্য, কাব্য ও অ্যাঞ্জেলের বন্ধুরা, আলাভোলা ছেলেবেলা, ডিয়াওয়ালা, দুষ্ট ছেলের গল্প, কাকের ছা কঙ্কাবতী, কিশোরসমগ্র ১, ২, টিয়া পাখির জন্মদিনে, The birthday gift, A cowboy & a magic mango tree, নীলগ্রহের রহস্য, নীলচরের ভূত, পারিকন্যা, বিলাইসমগ্র, আয় ফিরে যাই, উড়ে যাই দূরে যাই, তোমার চোখের জল, যুদ্ধরোদন

  • ভ্রমণকাহিনি: জার্নি টু তাজমহল, বাঙালের আমেরিকা দর্শন, ব্রিজ টু কানাডা

  • সম্পাদিত বই: মাকে নিয়ে একশ ছড়া, পাখির গল্প পাখির ছড়া

তার লেখা A Cowboy And A Magic Mango Tree গ্রিসের স্কুল পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

পুরস্কার ও সম্মাননা

শিশুসাহিত্যিক হিসেবে হুমায়ূন কবীর ঢালী অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক (২০০৬)

  • সালেহীন মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড (২০০৬)

  • কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ স্মৃতি স্বর্ণপদক (২০০৭)

  • চিলড্রেন অ্যান্ড উইমেন ভিশন ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড (২০০৭)

  • নওবাব ফয়ুজুন্নেসা স্বর্ণপদক (২০০৮)

  • পদক্ষেপ শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০১১)

  • মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড (২০১২)

  • এম নূরুল কাদের ফাউন্ডেশন শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০১৩)

  • লোকছড়া ফাউন্ডেশন কলম সৈনিক পুরস্কার (২০১৩)

  • কবি সংসদ বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০১৩)

  • বিশাল বাংলা সাহিত্য পুরস্কার (২০১৬)

  • এবিটিভি মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড সম্মাননা (২০১৬)

  • সাহিত্য দিগন্ত লেখক পুরস্কার (২০১৭)

  • ঝুমঝুমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০১৮)

  • রংপুর বিভাগীয় সাহিত্য পরিষদ সম্মাননা (২০১৯)

  • সাহিত্য পরিষদ সম্মাননা, চাঁদপুর (২০১৮)

  • চোখ সাহিত্য পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত (২০১৩)

  • তোরষা সাহিত্য সম্মাননা, কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত (২০২০)

  • সাহিত্য সম্মাননা, ভুবনেশ্বর, ওডিশা, ভারত (২০১৯)

Content added By

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

600
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৯০৩)

মাইকেল মধুসূদন দত্তের পরবর্তীকালে সর্বাধিক খ্যাতিমান কবি ছিলেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মহাকাব্যের মধ্য দিয়ে তৎকালীন ইংরেজ শাসিত ভারতীয়দের, বিশেষত বাঙালি শিক্ষিত মহলে স্বদেশপ্রেমের উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

  • হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ১৭ এপ্রিল, ১৮৩৮ সালে হুগলি জেলার গুলিটা রাজবল্লভহাট গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- হুগলীর উত্তর পাড়া।
  • জীবন সায়াহ্নে তিনি অন্ধ হয়ে যান এবং চরম দারিদ্র্যের মুখে পতিত হয়ে ২৪ মে, ১৯০৩ সালে কলকাতার খিদিরপুরে মারা যান।

হেমচন্দ্র রচিত কাব্যগ্রন্থ সমূহের নাম:

  • 'চিন্তাতরঙ্গিণী' (১৮৬১): এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্য। এ কাব্য প্রতিবেশী এক বন্ধুর আত্মহত্যার ঘটনা অবলম্বনে রচিত। 'নলিনীবসন্ত' (১৮৬৪): এটি শেক্সপিয়রের The Tempest অবলম্বনে রচিত।
  • 'ছায়াময়ী' (১৮৮০): এটি দান্তের 'The Divine Comedy' অনুসারে রচিত।
  • 'কবিতাবলী' (১৮৭০): এটি খণ্ড কবিতার সংকলন),
  • 'বীরবাহু' (১৮৬৪), 'আশাকানন' (১৮৭৬), 'দশমহাবিদ্যা' (১৮৮২), 'চিত্তবিকাশ' (১৮৯৮)।

হেমচন্দ্র রচিত মহাকাব্যের নাম:

'বৃত্রসংহার' (১৮৭৫-৭৭): হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত দুই খণ্ডে বিভক্ত জনপ্রিয় আখ্যানকাব্য 'বৃত্রসংহার' (১ম খণ্ড-১৮৭৫, ২য় খণ্ড- ১৮৭৭), যা মহাকাব্য হিসেবে পরিচিত। হিন্দু জাতীয়তাবোধ প্রকাশের লক্ষ্যে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি অবলম্বনে তিনি এ মহাকাব্য রচনা করেন। বৃত্র নামক অসুর কর্তৃক স্বর্গবিজয় এবং দেবরাজ ইন্দ্র কর্তৃক স্বর্গের অধিকার পুনঃস্থাপন ও বৃত্রাসুরের নিধন এ মহাকাব্যের মূল বিষয়।

হেমচন্দ্র রচিত কবিতাসমূহ:

জীবন-সঙ্গীত: কবিতাটি মার্কিন কবি Henry Wadsworth Longfellow-র A Psalm of life শীর্ষক ইংরেজি কবিতার ভাবানুবাদ। নেতিবাচকতা পরিহারপূর্বক মহামানবের পদচিহ্ন অনুসরণ করে জীবনপাঠের দীক্ষা গ্রহণের কথা কবিতাটিতে প্রকাশিত হয়েছে।

'ভারতসঙ্গীত', 'ভারতবিলাপ', 'গঙ্গার উৎপত্তি', 'পদ্মের মৃণাল', 'ভারতকাহিনী', 'অশোকতরু', 'কুলীন কন্যাগণের আক্ষেপ'।

Content added By

হেমেন্দ্র কুমার রায়

640
Content added By

ইব্রাহিম খাঁ

609

প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ (১৮৯৪-১৯৭৮)

প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ মুসলিম পুনর্জাগরণের লেখক হিসেবে খ্যাত। সাহিত্যের সকল শাখায় তিনি স্বচ্ছন্দে সফলতার সাথে অবাধ বিচরণ করে অবিভক্ত বাংলার অনগ্রসর বাঙালি মুসলমান সমাজের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনের পুনর্জাগরণের প্রয়াস গ্রহণ করেছেন। ২২ জুন, ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকার রেডিও টেলিভিশনে রবীন্দসংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে সে সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।

  • প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার ভূয়াপুর থানার বিরামদী (বর্তমান- শাবাজনগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • করটিয়া সাদাত কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার মুসলমানদের মধ্যে তিনিই প্রিন্সিপাল। এজন্য তার নামের পূর্বে প্রিন্সিপাল যোগ হয়ে প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম
    তিনি মুসলিম পূনর্জাগরণবাদী লেখক হিসেবে খ্যাত খাঁ হিসেবে পরিচিত হন।
  • 'আল হেলাল সাহিত্য সমিতি' গঠনের মাধ্যমে তিনি তরুণদের সাহিত্য চর্চায় উৎসাহিত করেন। মুসলিম সমাজের উন্নয়নের চিন্তা করে তিনি কাজী নজরুল ইসলামকে একটা চিঠি লেখেন এবং দীর্ঘ তিন বছর পর নজরুল সেই চিঠির উত্তর দেন।
  • ব্রিটিশ সরকার তাকে 'খান সাহেব' ও 'খান বাহাদুর' উপাধি দেন কিন্তু ব্রিটিশ সরকার মুসলিম বিদ্বেষী হওয়ায় তিনি এ উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন।
  • তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে বিবৃতি প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে এ মহান যুদ্ধে পাক বাহিনীর নৃশংসতার প্রতিবাদে তিনি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রদত্ত 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন।
  • তিনি 'বাংলা একাডেমি পুরস্কার' (১৯৬৩), 'একুশে পদক' (১৯৭৬) পান।
  • তিনি ২৯ মার্চ, ১৯৭৮ সালে মারা যান।

ইব্রাহীম খাঁর নাটকগুলোঃ

'কামাল পাশা' (১৯২৭), 'আনোয়ার পাশা' (১৯৩০), 'কাফেলা' (১৯৫০), 'ঋণ পরিশোধ' (১৯৫৫), 'ভিত্তি বাদশা' (১৯৫৭)।

ইব্রাহীম খাঁর অন্যান্য রচনাবলিঃ

উপন্যাস: 'বৌ বেগম' (১৯৫৮), এটি তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস।

গল্পগ্রন্থ: 'আলু বোখরা' (১৯৬০), 'উস্তাদ' (১৯৬৭), 'দাদুর আসর' (১৯৭১), 'সোনার শিকল', 'মানুষ'।

স্মৃতিকথা: 'বাতায়ন' (১৯৭৪), 'লিপি সংলাপ'।

ভ্রমণকাহিনি: ‘ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' (১৯৫৪), ‘নয়া চীনে এক চক্কর', 'বেদুঈনদের দেশে' (১৯৫৬)।

শিশু সাহিত্য: ‘ব্যাঘ্র মামা' (১৯৫১), ‘শিয়াল পণ্ডিত' (১৯৫২), ‘নিজাম ডাকাত' (১৯৫০), ‘ছোটদের মহানবী' (১৯৬১), ‘ইতিহাসের আগের মানুষ' (১৯৬১), ‘গল্পে ফজলুল হক’ (১৯৭৭), ‘ছোটদের নজরুল'।

Content added By

সাহিত্যিকদের জন্ম / জন্মসাল

1k
Please, contribute by adding content to সাহিত্যিকদের জন্ম / জন্মসাল.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সাহিত্যিকদের মৃত্যু / মৃত্যু সাল

980
Please, contribute by adding content to সাহিত্যিকদের মৃত্যু / মৃত্যু সাল.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...